সূরাঃ হোজ্বরাত

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সম্মুখে তোমরা অগ্রবর্তী হইও না, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০২⇒ হে বিশ্বাসীবৃন্দ, সংবাদবাহকের ধ্বনির উপর স্বীয় ধবনিকে উন্নত করিও না, এবং তোমাদের ক্রিয়াপুঞ্জ বিফল না হয় উদ্দেশ্যে তোমাদের পরস্পরের প্রতি উচ্চ কথা বলার ন্যায় তাহার প্রতি তোমার কথা উচ্চ বলিও না, এবং তোমরা জানিতেছ না।

আয়াতঃ ০৩⇒ নিশ্চয় যাহারা ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষের নিকটে স্বীয় ধবনিকে বিনম্র করে তাহারাই ইহারা হয় যে, পরমেশ্বর তাহাদের অন্তরকে বিষয়-নিবৃত্তির জন্য পরীক্ষা করিয়াছেন, তাহাদের নিমিত্ত ক্ষমা ও মহাপুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় যাহারা কুটিরের পশ্চাদ্ভাগ হইতে তোমাকে ডাকে, তাহাদের অধিকাংশেই বুঝে না।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং তাহাদের নিকটে তোমার আগমন করা পর্যন্ত যদি তাহারা ধৈর্য ধারন করিত তাহা হইলে তাহাদের জন্য মঙ্গল ছিল, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়াবান।

আয়াতঃ ০৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ যদি তোমাদের নিকটে কোন দুর্বৃত্ত লোক সংবাদ আনয়ন করে তবে অনুসন্ধান করিও, এরুপ যেন না হয় যেন তোমরা অজ্ঞানতাবশতঃ কোন দলে বিপদ উপস্থিত কর, যাহা করিলে পরে তৎসম্বন্ধে অনুতপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ০৭+০৮⇒ এবং জানিও, তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষ আছে, যদি অধিকাংশ কার্যে সে তোমাদের আজ্ঞাবহ হয়, তবে তোমরা অবশ্য দুঃখে পড়; কিন্তু ঈশ্বর তোমাদের সম্বন্ধে বিশ্বাস ভালোবাসেন ও তোমাদের অন্তরে তাহা সজ্জিত করিয়াছেন, এবং তিনি তোমাদিগের সম্বন্ধে অধর্ম ও দুরাচার এবং অবাধ্যতাকে ঘৃণিত করিয়াছেন, ইহারাই তাহারা যে, ঈশ্বরের কৃপা ও দান অনুসারে পথপ্রাপ্ত, এবং পরমেশ্বর জ্ঞানময় কৌশলময়।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যদি বিশ্বাসীদিগের দুই দল পরস্পর যুদ্ধ করে, পরে তোমরা উভয়ের মধ্যে সম্মিলন স্থাপন কর, অনন্তর যদি তাহাদের এক অন্যের প্রতি অন্যায়াচরণ করে, তবে যে অন্যায় করিয়াছে যে পর্যন্ত সে ঈশ্বরের আজ্ঞার দিকে ফিরিয়া (না) আইসে, সে পর্যন্ত তাহার সঙ্গে তোমরা সংগ্রাম কর, পরে যদি ফিরিয়া আইসে তবে উভয়ের মধ্যে ন্যায়ানুসারে সন্ধি স্থাপন কর, এবং বিচার কর, নিশ্চয় ঈশ্বর বিচারকদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ১০⇒ বিশ্বাসীগণ পরস্পর ভ্রাতা ভিন্ন নহে, অতএব আপন ভ্রাতৃবর্গের মধ্যে তোমরা সম্মিলন স্থাপন কর, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, সম্ভবতঃ তোমরা দয়া প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, একদল অন্য দলকে যেন উপহাস না করে, হয় তো উহারা তাহাদিগ অপেক্ষা উত্তম হয়, এবং নারীগণ অন্য নারীগণকে যেন (উপহাস না করে) হয় তো উহারা তাহাদিগ অপেক্ষা উত্তম হয়, এবং তোমরা আপনাদের পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করিও না ও পরস্পরকে নীচ উপাধিযোগে ডাকিও না, বিশ্বাস লাভের পর উন্মার্গচারী (বলা) দুর্নাম হয়, যাহারা পুনর্মিলিত না হইয়াছে, পরে ইহারাই সেই অত্যাচারী।

আয়াতঃ ১২⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা বাহুল্য কল্পনা হইতে নিবৃত্ত থাক, নিশ্চয় কোন কোন কল্পনা পাপ, এবং অনুসন্ধান লইও না ও আপনাদের পরস্পরের দোষ গোপনে আলোচনা করিও না, তোমাদের কোন ব্যক্তি কি আপন মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষন করিতে ভালবাসো? তাহা হইলে তোমরা তাহার প্রতি অসন্তুষ্ট হইবে; এবং ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, নিশ্চয় ঈশ্বর পুনর্মিলনকারী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৩⇒ হে লোক সকল, নিশ্চয় আমি তোমাদিগকে এক পুরুষ ও এক নারী হইতে সৃজন করিয়াছি, এবং তোমাদিগকে বহু সম্প্রদায় ও পরিবারে বিভক্ত করিয়াছি, যেন তোমরা পরস্পরকে চিনিও লও, নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সমধিক গৌরবান্বিত, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানী তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ১৪⇒ আরব্য যাযাবরগণ বলিল, “আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম”; তুমি বল, “তোমরা বিশ্বাস কর নাই, কিন্তু বল, এসলাম ধর্ম গ্রহণ করিলাম, এবং এক্ষনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস প্রবেশ করে নাই, এবং যদি তোমরা ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অনিগত হও, তবে তিনি তোমাদিগের কর্মপুঞ্জের কিছুই ন্যুন করিবেন না, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু”।

আয়াতঃ ১৫⇒ যাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, তৎপর সন্দেহ করে নাই, এবং ঈশ্বরের পথে স্বীয় ধন ও স্বীয় জীবন দ্বারা সংগ্রাম করিয়াছে, তাহারা বিশ্বাসী এতদ্ভিন্ন নহে; ইহারাই তাহারা যে সত্যবাদী হয়।

আয়াতঃ ১৬⇒ তুমি বল, “তোমরা কি স্বীয় ধর্ম ঈশ্বরকে জ্ঞাপন করিতেছ? এবং পরমেশ্বর স্বর্গলোকে যে কিছু আছে ও পৃথিবীতে যে কিছু আছে জ্ঞাত আছেন ও ঈশ্বর সর্বজ্ঞ”।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা যের মোসলমান হইয়াছে তজ্জন্য তোমার প্রতি উপকার স্থাপন করিতেছেন, যেহেতু যদি তোমরা সত্যবাদী হো তবে জানিও বিশ্বাস দ্বারা তিনি তোমাদিগকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ১৮⇒ নিশ্চয় পরমেশ্বর স্বর্গ ও মর্তের রহস্য জানিতেছেন, এবং ঈশ্বর তোমরা যাহা করিয়া থাক তাহার দ্রষ্টা।