সূরাঃ হুদ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ০১⇒ (এই) এক গ্রন্থ যে ইহার নিদর্শন সকল দৃঢ়ীকৃত হইয়াছে, তৎপর নিপুন তত্তজ্ঞ (ঈশ্বরের) নিকট হইতে বিভক্তিকৃত হইয়াছে।

আয়াতঃ০২⇒ এই তোমরা পরমেশ্বর ব্যতীত অন্যের অর্চনা করিও না, নিশ্চয় আমি তাঁহার নিকট হইতে তোমাদিগের জন্য ভয়প্রদর্শক সুসংবাদদাতা (আগত)।

আয়াতঃ০৩⇒ এবং এই তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তৎপর তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, তিনি তোমাদিগকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম ফলে ফলভোগী করিবেন, এবং প্রত্যেক গৌরবশালী ব্যক্তিকে তাঁহার গৌরব প্রদান করিবেন, যদি তোমরা অগ্রাহ্য কর, তবে নিশ্চয় আমি তোমাদের সম্বন্ধে মহাদিনের শাস্তির আশঙ্কা করিতেছি।

আয়াতঃ০৪⇒ ঈশ্বরের দিকে তোমাদিগের প্রত্যাবর্তন, এবং তিনি সকল পদার্থের উপর ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ০৫⇒ জানিও যে, নিশ্চয় তাহারা আপন অন্তরকে কুঞ্চিত করে, তাহাতে তাহা হইতে লুক্কায়িত হইতে চাহে, জানিও যখন তাহারা স্বীয় বস্ত্র সকল (মস্তকে) জড়িত করে, তখন তাহারা যাহা লুক্কায়িত করে ও যাহা ব্যক্ত করিয়া থাকে তিনি তাহা জ্ঞাত হোন, নিশ্চয় তিনি আন্তরিক বিষয়ের জ্ঞাতা।

আয়াতঃ০৬⇒ এবং পৃথিবীতে এমন কোন স্থলচর নাই যে, ঈশ্বর উপর ব্যতীত তাহার উপজীবিকার নির্ভর, তিনি তাহার (মনুষ্যের) অবস্থানভূমি ও অর্পণভূমি অবগত আছেন, সকলই উজ্জল গ্রন্থে (লিপি) আছে।

আয়াতঃ০৭⇒ এবং তিনিই যিনি স্বর্গ ও মর্ত ছয় দিনে সৃজন করিয়াছেন, কার্যতঃ তোমাদের মধ্যে কে অত্যুত্তম ইহা পরীক্ষা করিতে তাঁহার সিংহাসন জলের উপর ছিল, যদি তুমি (হে মোহাম্মদ) বল যে, নিশ্চয় তোমরা মৃত্যুর পরে সমুত্থাপিত হইবে, তবে অবশ্য ধর্মদ্রোহীগণ বলিবে যে, ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ০৮⇒ এবং যদি আমি কোন নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাহাদিগ হইতে শাস্তি ক্ষান্ত রাখি তবে তাহারা অবশ্য বলিবে যে, কিসে তাহা বদ্ধ রাখিয়াছে? জানিও, যে দিবস (তাহা) তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইবে তাহাদিগ হইতে ফিরাইয়া লওয়া হইবে না, এবং যৎপ্রতি তাহারা উপহাস করিতেছিল, তাহা তাহাদিগকে আবেষ্টন করিবে।

আয়াতঃ০৯⇒ এবং যদি আমি মনুষ্যকে আপনা হইতে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তৎপর তাহা হইতে তাহা ছিনিয়া লই, তখন নিশ্চয় সে নিরাশ ও কৃতঘ্ন হয়।

আয়াতঃ১০⇒ এবং যদি আমি সে প্রাপ্ত হইয়াছে যে দুঃখ তাহার পর তাহাকে সুখ আস্বাদন করাই, তবে সে অবশ্য বলিবে যে, “আমা হইতেই অশুভ সকল দূর হইয়াছে”; নিশ্চয় সে আহ্লাদিত ও গর্বিত হয়।

আয়াতঃ১১⇒ যাহারা ধৈর্যধারন ওপ সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা ব্যতীত; ইহারাই, ইহাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ১২⇒ কেন তাহার প্রতি ধন অবতারিত হইল না, অথবা তাঁহার সঙ্গে দেবতা উপস্থিত হইল না, এই যে তাহারা বলে পরে তাহাতে বা তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করা গিয়াছে তুমি তাহার কোনটির পরিহারক হও, এবং তদ্দারা বা তোমার অন্তর সংকুচিত হয়, তুমি (পাপীদিগের) ভয় প্রদর্শক বৈ নহ, এবং ঈশ্বর সকল পদার্থের উপর কার্যসম্পাদক।

আয়াতঃ১৩⇒ তাহারা কি বলে যে, তাহাকে (কোরআনকে) রচনা করিয়াছে, তুমি বল তবে তোমরা তাহার সদৃশ নিবদ্ধ দশটি সূরা উপস্থিত কর,যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে ঈশ্বর ব্যতীত যাহাকে ক্ষমতা হয় আহ্বান কর।

আয়াতঃ১৪⇒ অনন্তর যদি তাহারা তোমাদিগকে (হে মোসলমান) গ্রাহ্য না করে তথাপি তোমরা জানিও যে, ইহা (কোরআন) ঈশ্বরের জ্ঞানসহ অবতারিত হইয়াছে, এবং (জানিও) যে, তিনি ভিন্ন ঈশ্বর নাই, পরন্তু তোমরা কি মোসলমান?

আয়াতঃ১৫⇒ যে সকল ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তাহার শোভা আকাঙ্ক্ষা করে আমি তাহাদের প্রতি তাহাদিগের কর্ম (কর্মফল) এস্থানেই পূর্ণ করিব, এবং তাহারা এস্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ১৬⇒ ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য পরলোকে অগ্নি ভিন্ন নাই, এস্থানে তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা প্রনষ্ট হইয়াছে, এবং যাহা করিতেছিল তাহা মিথ্যা হইয়াছে।

আয়াতঃ১৭⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের নিদর্শনেতে স্থিত, সে কি (পার্থিব জীবনের প্রার্থীদিগের সদৃশ?) এবং তাঁহা হইতে আগত সাক্ষী ইহার অনুসরণ করে ও ইহার পূর্ব হইতে মুসার গ্রন্থ ইহার অগ্রবর্তী ও অনুগ্রহরুপে আছে, ইহারা এতৎপ্রতি (কোরআনের প্রতি) বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং সম্প্রদায় সকলের যে ব্যক্তি ইহার বিরোধী, পরে তাহার জন্য অগ্নি অঙ্গীকৃত, অতএব ইহার প্রতি সন্দিগ্ধ হইও না, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের ইহা (এই অঙ্গীকার) সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ১৮⇒ যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে তাহা অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী কে? তাহারা পণ প্রতিপালকের নিকটে আনীত হইবে, এবং সাক্ষীগণ বলিবে যে, “যাহারা আপন প্রতিপালকের সম্বন্ধে অসত্য বলিয়াছে ইহারাই তাহারা;” জানিও অত্যাচারীদিগের প্রতি ঈশ্বরের অভিসম্পাত হয়।

আয়াতঃ১৯⇒ যাহারা ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করে ও তাহাতে কুটিলতা ইচ্ছা করে, তাহারা পরলোকেও সেই কাফের থাকে।

আয়াতঃ২০⇒ তাহারা পৃথিবীতে (ঈশ্বরের) পরাভবকারী হয় না, এবং তাহাদের জন্য ঈশ্বর ভিন্ন কোন বন্ধু নাই, তাহাদের নিমিত্ত শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে, তাহারা শুনিতে সুক্ষম নহে ও দর্শন করিতেছে না।

আয়াতঃ২১⇒ যাহারা স্বীয় জীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করিয়াছে, ইহারাই তাহারা, তাহারা যাহা বন্ধন (প্রতিমাপূজাদি) করিতেছিল তাহাদিগ হইতে উহা বিলুপ্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ২২⇒ নিঃসন্দেহে যে, তাহারাই স্বীয় পরলোকে ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ২৩⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, এবং স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি দীনতা প্রকাশ করিয়াছে তাহারা স্বর্গলোকনিবাসী, তাহারা তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ২৪⇒ এই দুই দলের ভাব অন্ধ ও বধির দ্রষ্টা ও শ্রোতার সদৃশ, উভয়ে কি তুল্য? অনন্তর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ২৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি নূহাকে তাহার সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরন করিয়াছিলাম, ( সে বলিয়াছিল) “নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট ভয় প্রদর্শক।

আয়াতঃ২৬⇒ যেন তোমরা ঈশ্বর ব্যতীত (অন্যের) অর্চনা না কর, নিশ্চয় আমি “তোমাদের সম্বন্ধে দুঃখকর দিবসের শাস্তিকে ভয় করি”।

আয়াতঃ২৭⇒ অনন্তর তাহার দলের যে সকল প্রধান পুরুষ ধর্মদ্রোহী ছিল, তাহারা বলিল যে, “আমরা আমাদের ন্যায় মনুষ্য ভিন্ন তোমাকে দেখিতেছি না, এবং যাহারা আমাদের মধ্যে বাহ্যদর্শী নিকৃষ্ট তাহারা ব্যতীত (কেহ) তোমার অনুসরণ করিতেছে দেখিতেছি না, এবং আমরা দেখিতেছি না যে, আমাদের উপরে তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠতা আছে, বরং আমরা তোমাদিগকে মিথ্যাবাদী মনে করিতেছি”।

আয়াতঃ২৮⇒ সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কি দেখিয়াছ যে, আমি আপন প্রতিপালকের নিদর্শনে স্থিতি করিলে ও তাঁহার নিকট হইতে আমার প্রতি করুণা বিতরিত হইয়া থাকিলে তোমাদের সম্বন্ধে (যাহা) গোপন করা হইয়াছে আমরা কি তাহা (গ্রাহ্য করিতে) তোমাদিগকে বাধ্য করিব? যেহেতু তোমরা তাহার অবজ্ঞাকারী।

আয়াতঃ২৯⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, তৎসম্বন্ধে আমি তোমাদের নিকটে ধন প্রার্থনা করি না, ঈশ্বরের নিকটে বৈ আমার পুরস্কার নাই, যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে আমি তাহাদের বহিষ্কারী নহি, নিশ্চয় তাহারা স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী, কিন্তু আমি তোমাদিগকে এমন এক দল দেখিতেছি যে, মূর্খতা করিতেছ।

আয়াতঃ৩০⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, যদি আমি তাহাদিগকে বহিষ্কৃত করি তবে ঈশ্বরের (শাস্তি) হইতে কে আমাকে রক্ষা করিবে? অনন্তর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ৩১⇒ এবং আমি তোমাদিগকে বলিতেছি না যে, আমার নিকটে ঈশ্বরের ভান্ডার ও আমি গুপ্ত বিষয় জানি, এবং আমি বলিতেছি না যে, নিশ্চয় আমি দেবতা ও আমি বলিতেছি না যে, তোমাদের চক্ষু যাহাদিগকে নিকৃষ্ট দেখিতেছে পরমেশ্বর তাহাদিগের প্রতি কখনো কোন কল্যাণ বিধান করিবেন না, তাহাদের অন্তরে যাহা আছে পরমেশ্বর তাহার উত্তম জ্ঞাতা, (তাহাদিগকে ধর্মোপদেশ না দিলে) নিশ্চয় আমি তখন অত্যাচারীদিগের অন্তর্গত হইব”।

আয়াতঃ৩২⇒ তাহারা বলিল, “হে নূহা, তুমি আমাদের সঙ্গে সত্যই বিতণ্ডা করিলে, অবশেষে আমাদের বিতণ্ডা বৃদ্ধি করিলে, পরে তুমি আমাদের সঙ্গে যে (শাস্তির) অঙ্গীকার করিয়াছ যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও তবে তাহা আমাদিগের নিকটে উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ৩৩⇒ সে বলিল, “যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকটে তাহা উপস্থিত করিবেন ইহা বৈ নহে, তোমরা (তাঁহার) নির্যাতনকারী নও।

আয়াতঃ৩৪⇒ যদি আমি ইচ্ছা করি যে, তোমাদিগকে উপদেশ দান করি, ঈশ্বর তোমাদিগকে বিভ্রান্ত করিতে ইচ্ছা করিয়া থাকিলে আমার উপদেশ তোমাদিগকে উপকৃত করিবে না, তিনি তোমাদের প্রতিপালক, তাঁহার দিকেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে”।

আয়াতঃ৩৫⇒ (হে মোহাম্মদ) তাহারা কি বলে যে, ইহা (কোরআন) রচনা করা হইয়াছে? বল, যদি আমি ইহা রচনা করিয়া থাকি, তবে আমার প্রতি আমার অপরাধ, এবং তোমরা যে অপরাধ করিতেছ তাহা হইতে আমি মুক্ত।

আয়াতঃ৩৬⇒ এবং নূহার প্রতি এই প্রত্যাদেশ করা গেল যে, নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহারা ব্যতীত  তোমার দলের ইহারা কখনো বিশ্বাস স্থাপন করিবে না। অনন্তর ইহারা যাহা করিতেছে তজ্জন্য তুমি দুঃখিত হইও না।

আয়াতঃ৩৭⇒ এবং তুমি আমার দৃষ্টিগোচরে ও আমার আজ্ঞানুসারে নৌকা নির্মাণ কর, এবং যাহারা অন্যায় করিয়াছে তাহাদের সঙ্গে কথা কহিও না, নিশ্চয় তাহারা নিমগ্ন হইবে।

আয়াতঃ৩৮⇒ এবং সে নৌকা প্রস্তুত করিতে লাগিল ও যখন তাঁহার দলের প্রধান পুরুষগণ তাঁহার নিকটে উপস্থিত হইত তখন তাঁহার প্রতি উপহাস করিত; সে বলিত, “যদি তোমরা আমাদের প্রতি উপহাস কর তবে নিশ্চয় তোমরা যেমন উপহাস করিতেছ, আমরাও তোমাদের প্রতি উপহাস করিব”।

আয়াতঃ৩৯⇒ অনন্তর যাহার প্রতি শাস্তি উপস্থিত হইবে, যাহাকে লাঞ্ছিত করিবে, এবং যাহার প্রতি নিত্য শাস্তি অবতীর্ণ হইবে, সত্বর তোমরা তাহাকে জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ৪০⇒ যে পর্যন্ত না আমার আজ্ঞা উপস্থিত হইল, এবং চুল্লী উচ্ছসিত হইল সে পর্যন্ত আমি বলিলাম যে, তুমি ইহার মধ্যে প্রত্যেকের জোড়া এবং যাহার সম্বন্ধে পূর্বে কথা হইয়া গিয়াছে সে ভিন্ন আপন স্বগণদিগকে ও বিশ্বাসীদিগকে উঠাও, তাঁহার সঙ্গে অল্প লোক ব্যতীত বিশ্বাস স্থাপন করে নাই।

আয়াতঃ৪১⇒ এবং সে বলিল, “ইহাতে আরোহণ কর, ঈশ্বরের নামে ইহার গতি ও স্থিতি, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল দয়ালু।“

আয়াতঃ৪২⇒ এবং তাহাদের সহকারে তাহা পর্বততুল্য তরঙ্গের মধ্যে চলিতেছিল, এবং নূহা স্বীয় পুত্রকে যে কুলে ছিল ডাকিয়া বলিল, “হে আমার পুত্র, আমার সঙ্গে আরোহণ কর, এবং ধর্মদ্রোহীদিগের সঙ্গে থাকিও না”।

আয়াতঃ৪৩⇒ সে বলিল, “আমি সত্বর পর্বতের দিকে আশ্রয় লইতেছি উহা জল হইতে আমাকে রক্ষা করিবে,” (নূহা) বলিল, “অনুগৃহীত ব্যক্তি ব্যতীত অদ্য ঈশ্বরের (শাস্তির) আজ্ঞা হইতে রক্ষাকারী কেহ নাই; তাহাদের উভয়ের মধ্যে তরঙ্গ আবরণ হইল, অনন্তর সে জলমগ্ন হইল।

আয়াতঃ৪৪⇒ এবং বলা হইল, “হে পৃথিবী, তুমি স্বীয় সলিলপুঞ্জকে গ্রাস কর, ওহে আকাশ, তুমি নিবৃত্ত হও এবং জল শুষ্ক হইল ও কার্য সমাপ্ত হইল, এবং জুদিগিরিতে (নৌকা) স্থির হইল, এবং অত্যাচারী লোকদিগকে “দূর হউক” বলা হইল।

আয়াতঃ৪৫⇒ পরে নূহা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকিল, পরে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমার পুত্র আমার স্বগণস্মবন্ধীয়, নিশ্চয় তোমার অঙ্গীকার সত্য, এবং তুমি আজ্ঞাদাতাদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আজ্ঞাদাতা।

আয়াতঃ৪৬⇒ তিনি বলিলেন, “হে নূহা, নিশ্চয় সে তোমার স্বগণ সম্বন্ধীয় নহে, নিশ্চয় তাহার কার্য অযোগ্য, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই, তুমি তাহা আমার নিকটে প্রার্থনা করিও না, সত্যই আমি তোমাকে উপদেশ দিতেছি যে, তুমি মূর্খদিগের অন্তর্গত হইতে (নিবৃত্ত) হও”।

আয়াতঃ৪৭⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, সত্যিই আমি তোমার শরণাপন্ন হইতেছি যে, যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নাই আমি তোমাকে তাহার প্রশ্ন করিয়াছি, যদি তুমি আমাকে ক্ষমা না কর ও আমাকে দয়া না কর আমি ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইব।“

আয়াতঃ৪৮⇒ বল হইল, “হে নূহা, আমা হইতে শান্তি সহকারে ও তোমার প্রতি এবং তোমার সঙ্গে যাহারা আছে তাহাদিগ হইতে (উৎপন্ন) মণ্ডলী সকলের প্রতি সমুন্নতি সহকারে তুমি নামিয়া এস, এবং (পরে) অনেক মণ্ডলী হইবে যে, অবশ্য আমি তাহাদিগকে ফলভোগী করিব, তৎপর আমা হইতে দুঃখজনক শাস্তি তাহাদের প্রতি উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ৪৯⇒ ইহা গুপ্ততত্ত্ব, তোমার প্রতি আমি ইহা প্রত্যাদেশ করিলাম, তুমি ও তোমার দল ইতিপূর্বে যাহা জানিতে না, ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ধর্মভীরুদিগের জন্য (শুভ) পরিণাম।

আয়াতঃ৫০⇒ এবং আদ জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা হুদ (প্রেরিত হইয়াছিল) সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, পরমেশ্বরকে অর্চনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, তোমরা অসত্য বন্ধনকারী ব্যতীত নহ।

আয়াতঃ৫১⇒ হে আমার সম্প্রদায়, আমি এই (প্রচার) বিষয়ে তোমাদের নিকটে পুরস্কার প্রার্থনা করিতেছি না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার নিকটে ব্যতীত আমার পুরস্কার নাই, পরন্তু তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ৫২⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তৎপর তাঁহার প্রতি প্রত্যাবর্তিত হও, তোমাদের উপরে তিনি বর্ষণকারী মেঘ প্রেরন করিবেন ও তোমাদিগকে তোমাদের শক্তির উপর অধিক শক্তি দিবেন, অপরাধী হইয়া ফিরিয়া যাইও না।

আয়াতঃ৫৩⇒ তাহারা বলিল, “হে হুদ, তুমি আমাদের নিকটে কোন প্রমান উপস্থিত কর নাই, তোমার কথানুসারে আমরা আপন উপাস্যদিগকে বর্জন করিব না ও আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসী নহি।

আয়াতঃ৫৪⇒ আমাদের পরমেশ্বরদিগের কেহ তোমাকে পীড়া দিয়াছে ইহা ভিন্ন আমরা বলিতেছি না;” সে বলিল, “নিশ্চয় আমি ঈশ্বরকে সাক্ষী করিতেছি ও তোমরা সাক্ষী থাক যে, সত্যই তোমরা যাহাকে অংশী করিতেছ আমি তাহা হইতে বিমুক্ত।

আয়াতঃ৫৫⇒ অনন্তর তোমরা সকলে আমার প্রতি ছলনা করিও, তৎপর আমাকে অবকাশ দিও না।

আয়াতঃ৫৬⇒ সত্যই আমি স্বীয় প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বরের প্রতি নির্ভর স্থাপন করিয়াছি, (এমন) কোন স্থলচর নাই যে, তিনি ব্যতীত (অন্যে) তাহার মস্তক ধারন করিয়া আছে, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সরলপথে আছেন।

আয়াতঃ৫৭⇒ অনন্তর যদিচ তোমরা অগ্রাহ্য করিলে তথাপি নিশ্চয় আমি যৎ সহ তোমাদের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি তাহা তোমাদের নিকটে প্রচার করিলাম, এবং আমার প্রতিপালক তোমরা ভিন্ন অন্য দলকে স্থলাভিষিক্ত করিবেন, এবং তোমরা তাঁহার কিছুই অপকার করিতে পারিবে না, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সকল পদার্থের সংরক্ষক।

আয়াতঃ৫৮⇒ এবং যখন আমার আজ্ঞা উপস্থিত হইল তখন আমি হুদকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল তাহাদিগকে আপনার দয়াতে উদ্ধার করিলাম, এবং কঠিন শাস্তি হইতে তাহাদিগকে বাঁচাইলাম।

আয়াতঃ৫৯⇒ এই আদজাতি, তাহারা আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকলকে অস্বীকার করিয়াছিল ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের বিরোধী হইয়াছিল, এবং তাহারা প্রত্যেক দুর্দান্ত শত্রুতাকারীদিগের আজ্ঞার অনুসরণ করিয়াছিল।

আয়াতঃ৬০⇒ এবং এই পৃথিবীতে ও কেয়ামতের দিনে তাহাদিগের পশ্চাতে অভিসম্পাত প্রেরিত হইয়াছে, জানিও নিশ্চয় আদজাতি স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিদ্রোহীতা করিয়াছে, জানিও, হুদের দল যে আদ ছিল তাহাদের জন্য অভিসম্পাত আছে।

আয়াতঃ৬১⇒ এবং সমুদ জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা সালেহ (প্রেরিত হইয়াছিল) সে বলিয়াছিল যে, “হে আমার সম্প্রদায়, ঈশ্বরকে অর্চনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত কোন ঈশ্বর নাই, তিনি তোমাদিগকে ভূমি হইতে সৃজন করিয়াছেন এবং তথায় তোমাদিগকে অধিবাসী করিয়াছেন, অতএব তাঁহার নিকটে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, তৎপর তাঁহার প্রতি প্রত্যাগমন কর, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সত্ত্বর প্রার্থনা গ্রহণকারী।

আয়াতঃ৬২⇒ তাহারা বলিল, “হে সালেহ, সত্যই তুমি ইতিপূর্বে আমাদের মধ্যে আশান্বিত ছিলে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাদিগকে অর্চনা করিয়াছেন, তাহাদিগকে আমরা অর্চনা করিতেছি, তুমি কি তাহাদিগকে তাহা (করিতে) নিষেধ করিতেছ? তুমি যে সংশয়ৎপাদক বিষয়ের প্রতি আমাদিগকে আহ্বান করিতেছ, তাহাতে নিশ্চয় আমরা সন্দিগ্ধ”।

আয়াতঃ৬৩⇒ সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কি দেখিয়াছ যে, আমি আপন প্রতিপালকের কোন নিদর্শনে স্থিতি করি ও তাঁহা হইতে আমার প্রতি কোন কৃপা প্রদত্ত হয় (সেই অবস্থায়) যদি আমি তাঁহার অবাধ্য হই, তবে ঈশ্বর হইতে (ঈশ্বরের শাস্তি হইতে) আমাকে কে সাহায্য দান করিবে? অনন্তর তোমরা ক্ষতি ভিন্ন আমার সম্বন্ধে বৃদ্ধি করিতেছ না।

আয়াতঃ৬৪⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, এই ঐশ্বরিক উষ্ট্রী তোমাদের জন্য নিদর্শন, অবশেষে ইহাকে ছাড়িয়া দেও, সে ঈশ্বরের ভূমিতে ভক্ষন করিতে থাকুক, এবং কোন অনিষ্টের জন্য তাহাকে স্পর্শ করিও না, তবে ত্বরিত শাস্তি তোমাদিগকে আক্রমণ করিবে।“

আয়াতঃ৬৫⇒ অনন্তর তাহারা তাহার (উষ্ট্রীর) পদ ছেদন করিল, তৎপর সে (সালেহ) বলিল, “তিন দিবস স্বীয় গৃহে তোমরা ফলভোগী হও, ইহা সত্য অঙ্গীকার”।

আয়াতঃ৬৬⇒ পরে যখন আমার আদেশ উপস্থিত হইল তখন আমি সালেহকে ও যাহারা তাহার সঙ্গে বিশ্বাসী হইয়াছিল তাহাদিগকে স্বকীয় দয়াতে রক্ষা করিলাম ও সেই দিবসের দুর্গতি হইতে (রক্ষা করিলাম), নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সেই শক্তিশালী বিজয়ী।

আয়াতঃ৬৭⇒ এবং যাহারা অত্যাচার করিয়াছিল ভীষন নিনাদ তাহাদিগকে আক্রমণ করিল, অনন্তর তাহারা আপন গৃহে অধোভাবে মৃত্যুগ্রস্থ হইয়া প্রাতঃকাল করিল।

আয়াতঃ৬৮⇒ যেন তাহারা সেই স্থানে ছিল না, জানিও, নিশ্চয় সমুদ স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিদ্রোহীতা করিয়াছে, জানিও “দূর হউক” (অভিসম্পাত) সমুদের প্রতি হইয়াছে।

আয়াতঃ৬৯⇒ এবং সত্যসত্যই আমার প্রেরিতগণ সুসংবাদ সহ এব্রাহিমের নিকট আসিয়াছিল, তাহারা বলিয়াছিল, “সেলাম” সেও বলিয়াছিল, “সেলাম” তৎপর সে গোবৎস ভাজা আনয়ন করিতে বিলম্ব করে নাই।

আয়াতঃ৭০⇒ অনন্তর যখন দেখিল যে, তাহাদের হস্ত তৎপ্রতি (ভোজ্যের প্রতি) সংলগ্ন হয় না, তখন তাহাদিগকে অপরিচিত জানিল, এবং তাহাদিগ হইতে মনে ভয় পাইল, তাহারা বলিল, “ভীত হইও না, নিশ্চয় আমরা লুতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি।“

আয়াতঃ৭১⇒ এবং তাহার স্ত্রী দন্ডায়মান ছিল, তাহাতে সে হাস্য করিল, অনন্তর আমি সেই প্রেরিতগণ যোগে তাহাকে এসহাকের ও এসহাকের অন্তে ইয়াকুবের উৎপত্তির সুসংবাদ দান করিলাম।

আয়াতঃ৭২⇒সে বলিল, “হায়, আমার প্রতি আক্ষেপ। আমি কি প্রসব করিব? আমি বৃদ্ধা এবং আমার স্বামী বৃদ্ধ, নিশ্চয় এই ব্যাপার আশ্চর্য”।

আয়াতঃ৭৩⇒ তাহারা বলিল, “তোমরা কি ঈশ্বরের কার্যে আশ্চর্যানিত হও? হে গৃহস্থ, তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের দয়া ও তাঁহার প্রসন্নতা আছে, নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত, গৌরবান্বিত”।

আয়াতঃ৭৪⇒ অনন্তর যখন এব্রাহিম হইতে ভয় বিদূরিত হইল ও তাঁহার নিকটে সুসমাচার উপস্থিত হইল, তখন সে আমাদের সঙ্গে লুতীয় সম্প্রদায়ের বিষয়ে বিতর্ক করিতে লাগিল।

আয়াতঃ৭৫⇒ নিশ্চয় এব্রাহিম ধৈর্যশালী, দয়ালু, (ঈশ্বরের প্রতি) প্রত্যাবর্তক।

আয়াতঃ৭৬⇒ (তাহারা বলিল) “হে এব্রাহিম, ইহা হইতে তুমি নিবৃত্ত হও, বস্তুতঃ তোমার প্রতিপালকের আজ্ঞা উপস্থিত হইয়াছে,  নিশ্চয় তাহারাই যে তাহাদের প্রতি অনিবার্য শাস্তি আসিতেছে”।

আয়াতঃ৭৭⇒ যখন আমার প্রেরিত গণ লুতের নিকটে উপস্থিত হইল, এবং বলিল, এই দিবস সুকঠিন।

আয়াতঃ৭৮⇒ এবং তাহার নিকটে তাহার সম্প্রদায় তৎপ্রতি ধাবমান হইয়া উপস্থিত হইল, পূর্বে তাহারা দুষ্কর্ম সকল করিতেছিল, সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, ইহারা আমার কন্যা, ইহারা তোমাদের জন্য বিশুদ্ধ, অতএব ঈশ্বরকে ভয় কর, আমার অভ্যাগতদিগের সম্বন্ধে তোমরা আমাকে লাঞ্ছিত করিও না, তোমাদের মধ্যে কি সুপথগামী পুরুষ নাই?

আয়াতঃ৭৯⇒ তাহারা বলিল, “সত্যসত্যই তুমি জানিয়াছ যে, তোমার কন্যাগণের প্রতি আমাদিগের কোন স্বত্ব নাই, এবং আমরা যাহা চাহিতেছি নিশ্চয় তুমি তাহা জানিতেছ”।

আয়াতঃ৮০⇒ সে বলিল, “যদি তোমাদের প্রতি আমার ক্ষমতা থাকিত, অথবা আমি দৃঢ়স্তম্ভ আশ্রয় করিতে পারিতাম” (তবে যাহা করিবার করিতাম)।

আয়াতঃ৮১⇒ (স্বর্গীয় দূতগণ) বলিল, “হে লুত, নিশ্চয় আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত, তোমার প্রতি কখনো ইহারা পহুঁছিতে পারিবে না, অনন্তর তুমি রজনীর একভাগে তোমার স্বগণদিগকে লইয়া চলিয়া যাও, তোমার ভার্যার প্রতি ভিন্ন তোমাদের কেহ যেন ফিরিয়া না চায়, তাহাদের প্রতি যাহা সঙ্ঘটিত হইবে নিশ্চয় উহা তাহার প্রতিও সঙ্ঘটনীয়, সত্যই তাহাদিগের নির্ধারিত কাল প্রাতঃকাল, প্রাতঃকাল কি নিকটে নয়?

আয়াতঃ৮২⇒ যখন আমার আজ্ঞা উপস্থিত হইল, তখন আমি তাহার (সেই নগরের) উন্নতিকে তাহার অবনতি করিলাম, এবং যদুপরি মৃৎকঙ্কররুপে পরস্পর সংযুক্ত প্রস্তর সকল বর্ষণ করিলাম।

আয়াতঃ৮৩⇒ (ইহা) তোমার প্রতিপালকের নিকটে চিহ্নীকৃত হইয়াছে, এবং ইহা অত্যাচারীগণ হইতে দূরে নহে।

আয়াতঃ৮৪⇒ এবং আমি মদয়ন জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা শোঅয়বকে (পাঠাইয়াছিলাম) সে বলিয়াছিল যে, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা পরমেশ্বরকে অর্চনা কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন উপাস্য নাই, তুল ও পরিমাণকে ন্যুন করিও না, নিশ্চয় আমি তোমাদিগকে সম্পদশালী দেখিতেছি, এবং নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি আবেষ্টনকারী দিনের শাস্তিকে  ভয় করিতেছি।

আয়াতঃ৮৫⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, ন্যায়ানুসারে তুল ও পরিমাণকে পূর্ণ কর, লোকদিগকে তাহাদের (প্রাপ্য) বস্তু সকল অল্প দিও না, উপদ্রবকারী হইয়া পৃথিবীতে অহিতাচরণ করিও না।

আয়াতঃ৮৬⇒ যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে ঈশ্বরের রক্ষিত (লভ্য) তোমাদের জন্য উত্তম, আমি তোমাদের সম্বন্ধে রক্ষক নহি”।

আয়াতঃ৮৭⇒ তাহারা বলিল, “হে শোঅয়ব, তোমার উপাস্য কি তোমাকে আদেশ করিতেছে যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাকে অর্চনা করিয়াছে আমরা তাহাকে অথবা আমাদের সম্পত্তি সম্বন্ধে যাহা আমরা চাহিতেছি তাহা পরিত্যাগ করি? নিশ্চয় তুমি গম্ভীর বিজ্ঞ”।

আয়াতঃ৮৮⇒ সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, যদি আমি স্বীয় প্রতিপালকের নিদর্শনে স্থিতি করিয়া থাকি, এবং তিনি স্বতঃ উৎকৃষ্ট উপজীবিকারুপে উপজীবিকা আমাকে দিয়া থাকেন তোমরা কি দেখিলে যে, (এ অবস্থায়) প্রত্যাদেশের অন্যথাচরণ করা আমার উচিত? আমি ইচ্ছা করি না যে, যে বিষয়ে তোমাদিগকে বারন করিতেছি তৎসম্বন্ধে তোমাদের সঙ্গে বিরুদ্ধাচরণ করি, এবং যতদূর পারি শুভাচরণ করিব বৈ ইচ্ছা করি না, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে বৈ আমার যোগ নাই, তাঁহার প্রতি আমি নির্ভর করি ও তাঁহার দিকে আমি প্রত্যাগমন করি।

আয়াতঃ৮৯⇒ এবং হে আমার মণ্ডলী, নূহীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বা হুদীয় সম্প্রদায়ের প্রতি কিংবা সালেহীয় সম্প্রদায়ের প্রতি যাহা ঘটিয়াছে তাহা তোমাদের প্রতি সংঘটিত হয়, আমার বিপক্ষতা তোমাদের সম্বন্ধে তৎকারন না হউক, এবং লুতোয় সম্প্রদায় তোমাদিগ হইতে দূরে নহে।

আয়াতঃ৯০⇒ এবং তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তৎপর তাঁহার দিকে ফিরিয়া আইস, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক দয়ালু প্রেমিক”।

আয়াতঃ৯১⇒ তাহারা বলিল, “হে শোঅয়ব, তুমি যাহা বলিতেছ তাহার অধিকাংশ আমরা বুঝিতেছি না, এবং সত্যই আমাদের মধ্যে তোমাকে আমরা দুর্বল দেখিতেছি এবং যদি তোমার স্বগণ না থাকিত তবে নিশ্চয় তোমাকে প্রস্তরাহত করিতাম, তুমি আমাদের মধ্যে গৌরবান্বিত নও”।

আয়াতঃ৯২⇒ হে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, আমার স্বগণ কি তোমাদের নিকটে ঈশ্বর অপেক্ষা প্রিয়তর? তোমরা তাঁহাকে (ঈশ্বরকে) স্বীয় পৃষ্ঠের পশ্চাতে গ্রহণ করিয়াছ, সত্যই আমার প্রতিপালক তোমরা যাহা করিতেছ তাহার আবেষ্টনকারী।

আয়াতঃ৯৩⇒ এবং হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বভূমিতে কার্য করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও কার্যকারক, সত্বর তোমরা জানিতে পাইবে সে কোন ব্যক্তি যে তাহার নিকটে তাহাকে লাঞ্ছিত করিতে শাস্তি উপস্থিত হইবে, এবং কোন ব্যক্তি মিথ্যাবাদী, এবং তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারী”।

আয়াতঃ৯৪⇒ এবং যখন আমার আজ্ঞা উপস্থিত হইল তখন আমি শোঅয়বকে ও যাহারা তাহার সঙ্গে বিশ্বাসী হইয়াছিল তাহাদিগকে আপন দয়াতে রক্ষা করিলাম, এবং যাহারা অত্যাচার করিয়াছিল তাহাদিগকে মহাশব্দ আক্রমণ করিল, অনন্তর তাহারা স্বীয় গৃহে অধোমুখে (মৃত হইয়া) প্রাতঃকাল করিল।

আয়াতঃ৯৫⇒ যেন, তাহারা সেই স্থানে কখনো ছিল না, জানিও, যেমন সমুদ বহিষ্কৃত হইয়াছিল তদ্রূপ মদয়নদিগের জন্য বহিষ্কৃতি।

আয়াতঃ৯৬+৯৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি স্বীয় নিদর্শন ও উজ্জল অলৌকিকতাসহ মুসাকে ফেরওন ও তাহার প্রধান পুরুষদিগের প্রতি প্রেরন করিয়াছিলাম, পরে তাহারা ফেরওনের আজ্ঞায় অনুসরণ করিয়াছিল, ফেরওনের আদেশ সত্য পথে ছিল না।

আয়াতঃ৯৮⇒ পুনরুত্থানের দিবসে সে আপন দলের অগ্রগামী হইবে, অনন্তর তাহাদিগকে অগ্নিতে আনয়ন করিবে, সেই উপস্থিতির ভূমি কুৎসিত ভূমি।

আয়াতঃ৯৯⇒ এবং ইহলোকে ও পুনরুত্থানের দিবসে অভিসম্পাত তাহাদের অনুসরণ করিল, সেই প্রদত্ত (অভিসম্পাত) কুৎসিত দান।

আয়াতঃ১০০⇒ ইহাই গ্রাম সকলের কতক সংবাদ যাহা তোমার নিকটে বর্ণন করিতেছি, তাহার কোনটি প্রতিষ্ঠিত কোনটি উন্মুলিত।

আয়াতঃ১০১⇒ তাহাদিগের প্রতি আমি অত্যাচার করি নাই, কিন্তু তাহারা স্বীয় জীবনের প্রতি প্রতি অত্যাচার করিয়াছে, অনন্তর যখন তোমার প্রতিপালকের (শাস্তির) আজ্ঞা উপস্থিত হইল ঈশ্বর ভিন্ন যাহাদিগকে তাহারা আহ্বান করিতেছিল তাহাদের সেই উপাস্যগণ তখন তাহাদের হইতে কিছুই নিবারন করিল না, এবং তাহারা তাহাদের বিনাশ ভিন্ন (কিছুই) বৃদ্ধি করে নাই।

আয়াতঃ১০২⇒ এবং যখন তিনি গ্রাম সকল আক্রমণ করেন এদিকে তাহা অত্যাচারী, তখন এই প্রকার তোমার প্রতিপালকের আক্রমণ হয়, নিশ্চয় তাহার আক্রমণ কঠিন দুঃখজনক।

আয়াতঃ১০৩⇒ নিশ্চয় যে ব্যক্তি অন্তিম দন্ডকে ভয় করিয়াছে তাহার জন্য ইহাতে একান্ত নিদর্শন আছে, এই এক দিন যে, তৎজন্য মনুষ্য একত্রীকৃত হইবে ও এই একদিন যে, (সমুদায়) উপস্থিকৃত হইবে।

আয়াতঃ১০৪⇒ আমি এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈ তাহা স্থগিত রাখি না।

আয়াতঃ১০৫⇒ যে দিন আসিবে তাহাতে কোন ব্যক্তি তাঁহার আদেশ ভিন্ন কথা কহিবে না, অনন্তর তাহাদের মধ্য কেহ ভাগ্যহীন ও কেহ ভাগ্যবান হইবে।

আয়াতঃ১০৬⇒ কিন্তু যাহারা ভাগ্যহীন হইল, তৎপর তাহারা অগ্নিতে রহিল, তথায় তাহাদের জন্য উচ্চানুচ্চ আর্তনাদ হইল।

আয়াতঃ১০৭⇒ তোমার প্রতিপালকের অন্য (ইচ্ছা) হওয়া ব্যতীত যে পর্যন্ত স্বর্গ ও পৃথিবীর স্থিতি সে পর্যন্ত তথায় তাহারা নিত্যস্থায়ী, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা করেন তাঁহার সম্পাদক।

আয়াতঃ১০৮⇒ কিন্তু যাহারা ভাগ্যবান পরে তাহারা স্বর্গোদ্যানে থাকিবে, তোমার প্রতিপালকের (অন্য) ইচ্ছা হওয়া ব্যতীত যে পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি সে পর্যন্ত তাহারা তথায় নিত্যস্থায়ী, (তাঁহার) অবিচ্ছিন্ন দান হইবে।

আয়াতঃ১০৯⇒ অনন্তর ইহারা যাহাকে অর্চনা করে তৎপ্রতি তুমি নিঃসন্দেহ হইও, ইহাদের পূর্ব হইতে ইহাদের পিতৃপুরুষগণ  যেরুপ অর্চনা করিত ইহারা তদ্রূপ বৈ অর্চনা করিতেছে না, এবং নিশ্চয় আমি তাহাদের লভ্যাংশ অক্ষতভাবে তাহাদিগকে সম্যক দিয়া থাকি।

আয়াতঃ১১০⇒ সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি, অনন্তর তাহাতে পরিবর্তন করা হইয়াছে, এবং যদি তোমার প্রতিপালকের এক বাক্য যে পূর্বে হইয়াছে তাহা না হইত তবে অবশ্য তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করা যাইত, সত্যই তাহারা ইহার সম্বন্ধে অস্থিরতাজনক সন্দেহের মধ্যে আছে।

আয়াতঃ১১১⇒ এবং নিশ্চয় যখন (সমুত্থাপিত হইবে) তখন তোমার প্রতিপালক প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহাদের কার্য সকলের (বিনিময়) সম্যক দান করিবেন, তাহারা যাহা করিতেছে নিশ্চয় তিনি তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ১১২⇒ অতএব তুমি (হে মোহাম্মদ) যেরুপ আদিষ্ট হইয়াছ (তাহাতে) স্থির থাক ও তোমার সঙ্গে যাহারা প্রত্যাবর্তিত আছে (স্থির থাকুক) এবং তোমরা (হে বিশ্বাসীগণ) অবাধ্য হইও না, নিশ্চয় তোমরা যাহা করিতেছ তিনি তাহার দ্রষ্টা।

আয়াতঃ১১৩⇒ এবং যাহারা অন্যায় করিয়াছে তাহাদের প্রতি তোমরা অনুরাগী হইও না, তবে অগ্নি তোমাদিগকে গ্রাস করিবে, এবং ঈশ্বর ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন বন্ধু নাই, পরে তোমরা সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ১১৪⇒ এবং দিবার দুইভাগে ও রজনীর কিছুকাল উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ, নিশ্চয় কল্যাণ সকল অকল্যাণ সকলকে দূর করে, উপদেশ গ্রহীতাদিগের জন্য ইহাই উপদেশ।

আয়াতঃ১১৫⇒ এবং ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ঈশ্বর হিতকারীদিগের পুরস্কার নষ্ট করেন না।

আয়াতঃ১১৬⇒ অনন্তর গ্রাম সকলের তোমাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানবানদিগের মধ্য হইতে যাহাদিগকে আমি রক্ষা করিয়াছি তাহাদিগের অল্প সংখ্যক ব্যতীতকেন অন্যে পৃথিবীতে উপদ্রব নিবারন করে নাই? অত্যাচারীগণ যাহার মধ্যে সুখ পাইয়াছে তাহার অনুসরণ করিয়াছে, তাহারা অপরাধী ছিল।

আয়াতঃ১১৭⇒ এবং তোমার প্রতিপালক (এরুপ) নহেন যে, গ্রাম সকলকে তন্নিবাসীগণ সাধুস্বত্বে অন্যায়পূর্বক বিনাশ করেন।

আয়াতঃ১১৮+১১৯⇒ এবং যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করিতেন তবে অবশ্য সমুদায় লোককে এক সম্প্রদায় করিতেন, যাহাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালক অনুগ্রহ করিয়াছেন তাহারা ব্যতীত (সকলে) সর্বদা বিরুদ্ধাচারী থাকিবে, ইহারি জন্য তাহাদিগকে তিনি সৃজন করিয়াছেন, এবং তোমার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ হইল যে, অবশ্য আমি দৈত্য ও মনুষ্য সমুদায়ের দ্বারা নরকলোক পূর্ণ করিব।

আয়াতঃ১২০⇒ এবং আমি তোমার নিকটে (হে মোহাম্মদ) প্রেরিত-পুরুষদিগের সংবাদাবলী সমুদায় বর্ণন করিতেছি; এই বিষয় দ্বারা তোমার অন্তঃকরণ স্থির করিতেছি এতন্মধ্যে তোমার প্রতি সত্য ও উপদেশ এবং বিশ্বাসীদিগের জন্য স্মরণীয় (বিষয়) উপস্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ১২১⇒ তুমি অবিশ্বাসীদিগকে বল যে, তোমরা আপন স্থলে কার্য কর, নিশ্চয় আমরাও কার্যকারক।

আয়াতঃ১২২⇒ এবং তোমরা প্রতীক্ষা কর, নিশ্চয় আমরাও প্রতীক্ষাকারী।

আয়াতঃ১২৩⇒ এবং স্বর্গ ও পৃথিবীর নিগুঢ় তত্ত্ব ঈশ্বরের জন্য এবং তাঁহার দিকে সমস্ত কার্যের প্রত্যাবর্তন, অতএব তাঁহাকে অর্চনা কর ও তাঁহার প্রতি নির্ভর কর, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক তোমার প্রতিপালক তাহা অজ্ঞাত নহেন।