সূরাঃ হাম সজ্বদা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম

আয়াতঃ ০২⇒ দাতা দয়ালু ঈশ্বর হইতে অবতারণ।

আয়াতঃ ০৩+০৪⇒ এই গ্রন্থ যে, ইহার বচন সকল আরব্য কোরআনের অবস্থায় বিভক্ত করা হইয়াছে, জ্ঞান রাখে এমন জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শক, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশেই অগ্রাহ্য করিয়াছে, অনন্তর তাহারা শ্রবন করে না।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং তাহারা বলে, “তুমি যাহার প্রতি আহ্বান করিয়া থাক তাহা হইতে আমাদের অন্তর আবরণের মধ্যে আছে, এবং আমাদের কর্ণে গুরুভার, আমাদের মধ্যে ও তোমার মধ্যে আচ্ছাদন আছে, অনন্তর তুমি কার্য করিতে থাক, আমরাও কার্যকারক”।

আয়াতঃ ০৬+০৭⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমি তোমাদের ন্যায় মনুষ্য এতদ্ভিন্ন নহে, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হইতেছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র ঈশ্বর, অতএব তাঁহার দিকে সরল ভাবে থাক ও তাহা হইতে ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং অংশীবাদীদিগের ও যাহারা জকাত দান করে না তাহাদের প্রতি আক্ষেপ, তাহারা পরকালকে অগ্রাহ্য করে।

আয়াতঃ ০৮⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও শুভ কর্ম সকল করিয়াছে তাহাদের জন্য অনিবার্য পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ০৯⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, (হে মোহম্মদ) দুই দিবসে যিনি পৃথিবী সৃজন করিয়াছেন তাঁহার প্রতি কি তোমরা অবজ্ঞা করিতেছ, এবং তাঁহার সদৃশ নিরূপণ করিতেছ? ইনিই জগতের প্রতিপালক হন।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং তিনি তথায় (পৃথিবীতে) তাহার উপরিভাগে পর্বত সকল সৃজন করিয়াছেন ও তন্মধ্যে আশীর্বাদ রাখিয়াছেন, এবং তথায় চারি দিবসের মধ্যে জীবিকা সকল নিরূপণ করিয়াছেন, জিজ্ঞাসুদিগের জন্য (উত্তর) তুল্য হইয়াছে।

আয়াতঃ ১১⇒ তৎপর তিনি আকাশে আরোহণ করিলেন, উহা ধূমময় ছিল, অনন্তর তাহাকে ও পৃথিবীকে বলিলেন, “তোমরা সহর্ষে বা বিমর্ষে এস,” উভয়ে বলিল, “আমরা সহর্ষে সমাগত হইলাম”।

আয়াতঃ ১২⇒ পরে তিনি দুই দিবসের মধ্যে তাহাদিগকে সপ্ত স্বর্গরুপে নির্ধারিত করিলেন ও প্রত্যেক স্বর্গের প্রতি তাহার কার্য অনুপ্রাণন করিলেন, এবং আমি পৃথিবীর আকাশকে দীপাবলি দ্বারা (নক্ষত্রমণ্ডল দ্বারা) শোভিত করিলাম ও রক্ষা করিলাম, পরাক্রমশালী জ্ঞানময় (ঈশ্বরের) এই নিরূপণ।

আয়াতঃ ১৩⇒ পরে যদি তাহারা অস্বীকার করে তবে তুমি বলিও, “আমি তোমাদিগকে আদ ও সমুদের সদৃশ আকাশের বজ্রাঘাতের ভয় প্রদর্শন করিতেছি”।

আয়াতঃ ১৪⇒ যখন তাহাদের নিকটে প্রেরিতপুরুষগণ তাহাদের সম্মুখ ভাগ দিয়া ও তাহাদের পশ্চাদ্ভাগ দিয়া উপস্থিত হইল তখন (বলিয়াছিল) “ঈশ্বর ব্যতীত (অন্যের) পূজা করিও না;” তাহারা বলিল, “আমাদের প্রতিপালক ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে দেবতাদিগকে অবতারণ করিবেন, অতএব তোমরা যৎসহ প্রেরিত হইয়াছ নিশ্চয় আমরা তদ্বিষয়ে অবিশ্বাসী”।

আয়াতঃ ১৫⇒ কিন্তু আদ জাতি পরে পৃথিবীতে নিরর্থক অহংকার করিয়াছিল, এবং তাহারা বলিয়াছিল, “পরাক্রমে কে আমাদিগ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ”? তাহারা কি দেখে নাই যে, সেই ঈশ্বর যিনি তাহাদিগকে সৃজন করিয়াছেন, তিনি তাহাদিগের অপেক্ষা পরাক্রমে শ্রেষ্ঠ, এবং তাহারা আমার নিদর্শন সকলকে অগ্রাহ্য করিতেছিল।

আয়াতঃ ১৬⇒ পরে আমি দুর্দিনে তাহাদের প্রতি প্রবল বায়ু প্রেরণ করিয়াছিলাম, যেন পার্থিব জীবনে তাহাদিগকে দুর্গতির শাস্তি আস্বাদন করায়, এবং নিশ্চয় পারলৌকিক শাস্তি অধিকতর দুর্গতিজনক ও তাহাদিগকে সাহায্য দান করা হইবে না।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যে সমুদজাতি ছিল, পরে আমি তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করিয়াছিলাম, অবশেষে তাহারা পথ প্রদর্শনের উপর অন্ধতা স্বীকার করিল, অনন্তর তাহারা যাহা করিতেছিল তজ্জন্য তাহাদিগকে লাঞ্ছনার শাস্তিস্বরূপ বজ্র আক্রমণ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল ও ধর্মভীরু হইতেছিল, তাহাদিগকে আমি বাঁচাইয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যে দিবস ঈশ্বরের শত্রুগণ নরকানলের দিকে সমুত্থাপিত হইবে তখন তাহারা নিবারিত হইবে।

আয়াতঃ ২০⇒ এ পর্যন্ত, যখন তাহারা তাহার নিকটে উপস্থিত হইবে তখন তাহারা যাহা করিয়াছিল, তদ্বিষয়ে তাহাদের সম্বন্ধে তাহাদের কর্ণ ও তাহাদের চক্ষু এবং তাহাদের চর্মাবলী সাক্ষ্য দান করিবে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তাহারা স্বীয় স্পর্শেন্দ্রিয় সকলকে বলিবে, “কেন তোমরা আমাদের সম্বন্ধে সাক্ষ্য দান করিলে”? তাহারা বলিবে, “যিনি প্রত্যেক বস্তুকে বাকপটু করিয়াছেন সেই ঈশ্বরই আমাদিগকে বাকপটু করিয়াছেন;” এবং তিনি তোমাদিগকে প্রথমবার সৃজন করিয়াছেন ও তাহার অভিমুখে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ২২⇒ তোমাদের সম্বন্ধে তোমাদের শ্রোত্র ও তোমাদের নেত্র এবং তোমাদের ত্বক যে সাক্ষ্য দান করে তোমরা তাহা হইতে লুক্কায়িত থাকিতে পারিতেছ না, কিন্তু মনে করিয়াছ যে, তোমরা যাহা করিতেছিলে ঈশ্বর তাহার অধিকাংশই জানেন না।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং তোমাদের ইহা কল্পনা, তোমরা যে কল্পনা আপন প্রতিপালক সম্বন্ধে করিতেছিলে ইহা তোমাদিগকে বিনাশ করিল, অনন্তর তোমরা ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইলে।

আয়াতঃ ২৪⇒ পরিশেষে যদি তাহারা ধৈর্য ধারন করে তথাপি অগ্নি তাহাদের স্থান হইবে, এবং যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে তথাপি তাহারা ক্ষমাপ্রাপ্তদিগের অন্তর্গত হইবে না।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং আমি তাহাদের জন্য সহচর সকল নির্ধারণ করিয়াছিলাম, পরে তাহারা তাহাদের সম্মুখে ও তাহাদের পশ্চাতে যাহা তাহাদের জন্য সজ্জিত করিয়াছিল, তাহাদের পূর্ববর্তী মানব ও দানবমণ্ডলীর প্রতি (শাস্তির) বাক্য যাহা হইয়াছিল তাহাদের প্রতি তাহা প্রমানিত হইল, নিশ্চয় তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছিল।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিল, “তোমরা এই কোরআন শ্রবন করিও না, ইহার (পাঠের) মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল বাক্য বল, সম্ভবতঃ তোমরা জয় লাভ করিবে”।

আয়াতঃ ২৭⇒ অনন্তর যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগকে আমি অবশ্য কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাইব, এবং তাহারা যাহা করিতেছিল অবশ্য তাহাদিগকে তাহার অশুভ বিনিময় দান করিব।

আয়াতঃ ২৮⇒ ঈশ্বরের শত্রুদিগের এই অগ্নি বিনিময় হয়, তথায় তাহাদের চিরনিবাস হইবে, তাহারা যে আমার নিদর্শনাবলীকে অগ্রাহ্য করিতেছিল, তদনুরুপ তাহাদিগের বিনিময় হইবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, দানব ও মানবজাতির যাহারা আমাদিগকে পথভ্রান্ত করিয়াছে তাহাদিগকে আমাদের নিকটে প্রদর্শন কর, আমরা তাহাদিগকে আপন পদতলে স্থাপন করিব, তাহাতে তাহারা নিকৃষ্টতর হইবে”।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় যাহারা বলিয়াছে যে, “আমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বর, তৎপর স্থির রহিয়াছে, (মৃত্যুকালে) তাহাদের নিকটে দেবগণ অবতরণ করে, (বলে) “ভয় করিও না, ও দুঃখ করিও না, তোমাদিগকে যে বিষয়ে অঙ্গীকার করা যাইতেছে সেই স্বর্গের বিষয়ে তোমরা সন্তুষ্ট থাক।

আয়াতঃ ৩১⇒ ঐহিক জীবনে এবং পরলোকে আমরা তোমাদের বন্ধু, এবং সে স্থানে তোমাদের জীবন যাহা চাহে তাহা আছে, এবং তোমরা যাহা প্রার্থনা কর সে স্থানে তাহা আছে”।

আয়াতঃ ৩২⇒ ক্ষমাশীল দয়ালু (ঈশ্বর হইতে) ভোজ্যসামগ্রী হয়।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের দিকে (লোকদিগকে) আহ্বান করিয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, এবং বলিয়াছে যে, নিশ্চয় আমি মোসলমানদিগের অন্তর্গত হই, বাক্যানুসারে তাহা অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ?

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং শুভ ও অশুভ তুল্য নয়, যাহা অতীব শুভ তদ্দারা তুমি (হে মোহম্মদ) অশুভকে দূর কর, (এরুপ করিলে) পরে সেই ব্যক্তি যে তোমার ও তাহার মধ্যে শত্রুতা আছে অকস্মাৎ যেন সে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়।

আয়াতঃ ৩৫⇒  এবং যাহারা ধৈর্য ধারন করে তাহাদিগকে ভিন্ন এই (প্রকৃতি) সংলগ্ন করা হয় না ও যাহারা মহা সৌভাগ্যশালী তাহাদিগকে ব্যতীত ইহা সংলগ্ন করা হয় না।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যদি শয়তান হইতে তোমার প্রতি কুমন্ত্রণা প্রয়োজিত হয় তবে ঈশ্বরের আশ্রয় প্রার্থনা করিও, নিশ্চয় তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৩৭⇒ দিবা ও রাত্রি এবং চন্দ্র-সূর্য তাঁহার নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত, তোমরা সূর্য ও চন্দ্রের উদ্দেশ্যে প্রণাম করিও না; যিনি ইহাদিগকে সৃজন করিয়াছেন যদি তোমরা তাঁহার পূজা করিতেছ, তবে সেই ঈশ্বরকে নমস্কার করি।

আয়াতঃ ৩৮⇒ পরন্তু যদি তাহারা অহংকার করে (কি ভয়) পরে যাহারা তোমার প্রতিপালকের নিকটে আছে তাহারা অহর্নিশি তাঁহার স্তব করিয়া থাকে, এবং তাহারা শ্রান্ত হয় না।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং তাঁহার নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত যে, তুমি দেখিয়া থাক ভূমি কর্ষিত হয়, পরে যখন আমি তাহার উপর বারিবর্ষণ করি তখন (উদ্ভিদুদগম বশতঃ) স্পন্দিত হয়, এবং (উদ্ভিদ) সমুদগত হয়, নিশ্চয় যিনি তাহাকে জীবিত করিলেন তিনি মৃতসঞ্জীবক, নিশ্চয় তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৪০⇒ নিশ্চয় যাহারা আমার নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে কুটিলতা করে তাহা আমার নিকটে গুপ্ত থাকে না, অনন্তর যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিনে নিরাপদে উপস্থিত হয় সে শ্রেষ্ঠ, না যে ব্যক্তি অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হইয়া থাকে, সে? তোমরা যাহা ইচ্ছা কর করিতে থাক, নিশ্চয় তোমরা যাহা কর তিনি তাহার দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৪১⇒ নিশ্চয় যাহারা উপদেশকে (কোরআনকে) যখন তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছে অগ্রাহ্য করিয়াছে (তাহা গুপ্ত নহে) এবং নিশ্চয় উহা সম্মানিত গ্রন্থ।

আয়াতঃ ৪২⇒ তাহাতে কোন অসত্য তাহার প্রতি (কোরআনের প্রতি) তাহার সম্মুখ ও তাহার পশ্চাৎ হইতে উপস্থিত হয় না, প্রশংসিত বিজ্ঞানময় (ঈশ্বর) হইতে তাহা অবতারিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তোমাকে (হে মোহম্মদ) তোমার পূর্বে প্রেরিতপুরুষদিগকে যাহা বলা হইয়াছে তদ্ভিন্ন বলা যাইতেছে না, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল ও দুঃখজনক শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং যদি আমি তাহাকে আজমী ভাষার কোরআন করিতাম, তাহা হইলে নিশ্চয় তাহারা বলিত, “কেন তাহার আয়ত সকল অভিব্যক্ত করা হয় নাই? কি আজমী (ভাষা) ও আরব্য (লোক)”? তুমি বল, (হে মোহম্মদ) যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে উহা তাহাদের জন্য পথ প্রদর্শন ও স্বাস্থ্য, এবং যাহারা বিশ্বাস করে না তাহাদের কর্ণে ভার হয়, এবং উহা তাহাদের নিকটে অন্ধতা, তাহারা (ঈদৃশ) যেন দূর হয় দেশ হইতে (তাহাদিগকে) আহ্বান করা যাইতেছে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি, অনন্তর তন্মধ্যে বিপর্যয় করা হইয়াছে, এবং যদি (হে মোহম্মদ) তোমার প্রতিপালকের বাক্য পূর্বে প্রচার না হইত তবে তাহাদের মধ্যে অবশ্য বিচার নিষ্পত্তি করা যাইত, এবং নিশ্চয় তাহারা তৎপ্রতি গভীর সন্দেহের মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ যে ব্যক্তি সৎকর্ম করিয়াছে পরে তাহা তাহার জীবনের জন্য হয়, এবং যে ব্যক্তি কুকর্ম করিয়াছে পরে (তাহার মন্দফল) তাহার উপরেই, এবং তোমার প্রতিপালক দাসদিগের সম্বন্ধে অত্যাচারী নহেন।

আয়াতঃ ৪৭⇒ কেয়ামতের জ্ঞান তাঁহার প্রতিই প্রত্যর্পিত হয়, এবং তাঁহার জ্ঞান ব্যতীত কোন ফল আপন আবরণ হইতে উন্মুক্ত হয় না ও কোন নারী গর্ভ ধারন করে না ও প্রসব করে না, এবং যে দিবস তিনি তাহাদিগকে ডাকিয়া বলিবেন, “আমার অংশিগণ কোথায়”? তাহারা বলিবে, “তোমাকে জ্ঞাপন করিয়াছি যে, আমাদিগের এ বিষয়ে কোন সাক্ষী নাই”।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং ইতিপূর্বে তাহারা যাহা অর্চনা কৃত তাহাদিগ হইতে তাহা লুক্কায়িত হইল, এবং তাহারা মনে করিল যে, তাহাদের কন্য কোন পলায়নের স্থান নাই।

আয়াতঃ ৪৯⇒ মনুষ্য শুভ প্রার্থনায় পরিশ্রান্ত হয় না, এবং যদি অশুভ তাহাকে আশ্রয় করে তবে নিরাশ হতাশ্বাস হয়।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং তাহাকে যে দুঃখ আশ্রয় করিয়াছে তাহার পর যদি আমি আপন সন্নিধান হইতে কোন করুণা তাহাকে ভোগ করাই, তবে সে অবশ্য বলিবে, “ইহা আমার জন্যই ও আমি মনে করি না যে, কেয়ামত স্থিতি করিবে, এবং যদি আমি স্বীয় প্রতিপালকের দিকে ফিরিয়া আসি, তবে নিশ্চয় আমার জন্য তাঁহার নিকটে কল্যাণ আছে,” অবশ্য আমি কাফেরদিগের তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা জ্ঞাপন করিব, এবং অবশ্য আমি তাহাদিগকে গুরুতর শান্তি ভোগ করাইব।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং যখন আমি মনুষ্যের প্রতি সম্পদ দান করি তখন সে বিমুখ হয় ও আপন পার্শ্ব সরাইয়া থাকে, এবং যখন তাহাকে অকল্যাণ আশ্রয় করে তখন সে প্রচুর প্রার্থনাকারী হয়।

আয়াতঃ ৫২⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) তোমরা কি দেখিতেছ? যদি ঈশ্বরের নিকট হইতে (কোরআন) হয়, তাহার পর তোমরা তৎপ্রতি বিদ্রোহাচরণ করিয়া থাক, তবে যে ব্যক্তি মহা বিরুদ্ধভাবেতে আছে তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী?

আয়াতঃ ৫৩⇒ শীঘ্র আমি চতুর্দিকে ও তাহাদের জীবনের মধ্যে আমার নিদর্শন সকল প্রদর্শন করিব, এ পর্যন্ত, তাহাদের জন্য প্রকাশিত হইবে না, ইহা সত্য, তোমার প্রতিপালক কি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে সাক্ষী?

আয়াতঃ ৫৪⇒ জানিও নিশ্চয় তাহারা স্বীয় প্রতিপালকের সাক্ষাৎকার বিষয়ে সন্ধিগ্ধ, জানিও নিশ্চয় তিনি সর্ববিষয়ে আবেষ্টনকারী।