সূরাঃ হদিদ

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ যাহা স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছে তাহা ঈশ্বরকে স্তব করিতেছে, এবং তিনি পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ০২⇒ তাঁহারই স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব, তিনি বাঁচান ও মারেন, এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

আয়াতঃ ০৩⇒ তিনি (সর্বাপেক্ষা) প্রথম ও অন্তিম বাহ্য ও গুপ্ত, এবং তিনি সর্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ০৪⇒ তিনিই যিনি ষষ্ঠ দিবসে স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন, তৎপর উচ্চ স্বর্গের উপর স্থিতি করিয়াছেন, পৃথিবীতে যাহা উপস্থিত হয় ও যাহা তাহা হইতে বাহির হইয়া থাকে, এবং যাহা আকাশ হইতে অবতারিত হয় ও যাহা তথায় সমুত্থিত হইয়া থাকে তিনি জ্ঞাত হন, এবং যে স্থানে তোমরা থাক তিনি তথায় তোমাদের সঙ্গে থাকেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক পরমেশ্বর তাহার দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ০৫⇒ স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁহারই, এবং ঈশ্বরের দিকেই ক্রিয়া সকল প্রত্যাবর্তিত হয়।

আয়াতঃ ০৬⇒ তিনি রাত্রিকে দিবার মধ্যে প্রবেশিত করেন ও দিবাকে রাত্রির মধ্যে প্রবেশিত করিয়া থাকেন, এবং তিনি অন্তরের রহস্যবিৎ।

আয়াতঃ ০৭⇒ তোমরা (হে লোক সকল) ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, এবং যে বিষয়ে তোমাদিগকে তিনি উত্তরাধিকারী করিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় করিতে থাক, অনন্তর তোমাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও (সদ) ব্যয় করিয়াছে তাহাদের জন্য মহা-পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং তোমাদের কি হইয়াছে যে, তোমরা ঈশ্বর ও প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেছ না? তিনি তোমাদিগকে স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতে ডাকিতেছেন, এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে সত্যই তোমাদিগ হইতে তিনি অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৯⇒ তিনি যিনি স্বীয় দাসের প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী প্রেরন করেন যেন তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে জ্যোতির দিকে বাহির করে, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদের প্রতি কৃপাবান দয়ালু।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং তোমাদের কি হইয়াছে যে, ঈশ্বরের পথে ব্যয় করিতেছ না? এবং স্বর্গ ও পৃথিবীর অধিকার ঈশ্বরেরই, যে ব্যক্তি জয়লাভের পূর্বে দান করিয়াছে ও সংগ্রাম করিয়াছে সে তোমাদের তুল্য নয়, ইহারা পদানুসারে যাহারা পশ্চাৎ ব্যয় করে ও যুদ্ধ করিয়া থাকে তাহাদিগের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এবং পরমেশ্বর প্রত্যেকের সঙ্গে উত্তম অঙ্গীকার করিয়াছেন ও তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১১⇒ সে কে যে ঈশ্বরকে উত্তম ঋণে ঋণ দান করে? অনন্তর তিনি তাহার জন্য দ্বিগুণ করেন, এবং তাহার নিমিত্ত মহা পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ১২⇒ (স্মরণ কর) যে দিন তুমি (হে মোহম্মদ) বিশ্বাসী পুরুষ বিশ্বাসিনী নারীদিগকে দেখিবে যে, তাহাদের জ্যোতি তাহাদের সম্মুখে ও তাহাদের দক্ষিন দিকে সঞ্চরণ করিতেছে (বলা হইবে) “তোমাদের প্রতি সুসংবাদ সকল প্রবাহিত হয়, তথায় তোমরা চিরনিবাসী হইবে, ইহাই সেই মহা কৃতার্থতা”।

আয়াতঃ ১৩⇒ যে দিবস কপট পুরুষ ও কপট নারীগণ বিশ্বাসীদিগকে বলিবে, “আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, তোমাদের জ্যোতি হইতে আমরা জ্যোতি আকর্ষণ করিব;” তখন বলা হইবে, “তোমরা আপনাদের পশ্চাদ্ভাগে ফিরিয়া যাও, পরে জ্যোতি অন্বেষণ করিও”। অনন্তর তাহাদের মধ্যে এক প্রাচীর স্থাপিত হইবে, তাহার এক দ্বার থাকিবে, তাহার (প্রাচীরের) অভ্যন্তরভাগে কৃপা ও তাহার বহির্দেশে তাহার সম্মুখ দিকে শাস্তি থাকিবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ তাহারা তাহাদিগকে (বিশ্বাসীদিগকে) ডাকিয়া বলিবে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না”? তাহারা বলিবে, “হ্যাঁ ছিলে, কিন্তু তোমরা আপনাদের জীবনকে বিপদগ্রস্থ করিয়াছ ও (আমাদের অকল্যাণ) প্রতীক্ষা করিয়াছ; এবং সন্দেহ করিয়াছ ও বাসনা সকল তোমাদিগকে এত দূর প্রতারিত করিয়াছ; এবং সন্দেহ করিয়াছ ও বাসনা সকল তোমাদিগকে এত দূর প্রতারিত করিয়াছ যে, ঈশ্বরের আদেশ উপস্থিত হইল, আর প্রতারক (শয়তান) ঈশ্বরের (আদেশ) সম্বন্ধে তোমাদিগকে প্রতারিত করিল।

আয়াতঃ ১৫⇒ অনন্তর অদ্যকার দিনে তোমাদিগ হইতে ও যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগ হইতে অপরাধের বিনিময় গ্রহণ করা হইবে না, তোমাদিগের আশ্রয়স্থান অগ্নি, উহাই তোমাদিগের বন্ধু, এবং (উহা) বিগর্হিত প্রত্যাবর্তনভূমি”।

আয়াতঃ ১৬⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদের জন্য কি সময় আসে নাই যে, ঈশ্বরের ও যে সত্য অবতীর্ণ হইয়াছে তাহার প্রসঙ্গে তাহাদিগের অন্তঃকরণ নম্র হয়, এবং পূর্বে যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদান করা হইয়াছে তাহাদের অনুরুপ না হয়? অনন্তর তাহাদের সম্বন্ধে কাল দীর্ঘ হইয়াছে, অবশেষে তাহাদের অন্তঃকরণ কঠিন হইয়া গিয়াছে, এবং তাহাদিগের অধিকাংশ পাষণ্ড।

আয়াতঃ ১৭⇒ জানিও নিশ্চয় পরমেশ্বর পৃথিবীকে তাহার মৃত্যুর পর জীবিত করিয়া থাকেন, সত্যই আমি তমাদের জন্য নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করিয়াছি, ভরসা যে, তোমরা জ্ঞান লাভ করিবে।

আয়াতঃ ১৮⇒ নিশ্চয় ধর্মার্থদাতা পুরুষ ও ধর্মার্থদাত্রী নারীগণ বস্তুতঃ পরমেশ্বরকে উত্তম ঋণে ঋণ দান করিয়াছে, তাহাদিগকে দ্বিগুণ দেওয়া হইবে, এবং তাহাদের জন্য মহা পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ইহারাই তাহারা যে, সত্যবাদী ও স্বীয় প্রতিপালকের সন্নিধানে ধর্মযুদ্ধে নিহত, তাহাদের জন্য তাহাদের পুরস্কার ও তাহাদের জ্যোতি আছে, এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও আমার নিদর্শনাবলীর প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ইহারাই নরকলোক নিবাসী।

আয়াতঃ ২০⇒ তোমরা জানিও যে, পার্থিব জীবনে ক্রীড়া ও আমোদ সৌন্দর্য-ঘটা ও আপনাদের মধ্যে গর্ব হয়, এবং ধন ও সন্তান-সন্ততিতে বৃদ্ধি হয়; তাহা বারিবর্ষণ সদৃশ, (তদ্দারা) যে অঙ্কুরোদগম হয় কৃষকদিগকে আনন্দিত করে, তৎপর তাহা শুষ্ক হয়, পরে তাহাকে তুমি পাণ্ডুবর্ণ দেখিয়া থাক, তৎপর চূর্ণীকৃত হয়; পরলোকে কঠিন শাস্তি আছে, এবং ঈশ্বরের প্রসন্নতা ও ক্ষমা আছে, এবং পার্থিব জীবন প্রতারণার সামগ্রী ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ২১⇒ স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও সেই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের তুল্য যাহার বিস্তৃতি সেই স্বর্গলোকের দিকে তোমরা অগ্রসর হও, যাহারা ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহা তাহাদের জন্য রক্ষিত, ইহাই ঈশ্বরের করুণা, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে দান করিয়া থাকেন, এবং পরমেশ্বর মহা কৃপাবান।

আয়াতঃ ২২⇒ এমন কোন বিপদ ধরাতলে ও তোমাদের জীবনে উপস্থিত হয় না যে, তাহা উপস্থিত করিবার পূর্বে তাহা গ্রন্থে লিখিত হয় নাই, নিশ্চয় ইহা ঈশ্বরের সম্বন্ধে সহজ।

আয়াতঃ ২৩⇒ যেন তাহাতে তোমরা যাহা নষ্ট হইয়াছে তৎসম্বন্ধে শোক না কর, এবং যাহা তোমাদের প্রতি সমাগত হইয়াছে তৎসম্বন্ধে আহ্লাদিত না হও, ঈশ্বর সমুদায় গর্বিত আত্মাভিমানীকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ২৪⇒ যাহারা কৃপণতা করে ও লোকদিগকে কৃপণ হইতে আদেশ করিয়া থাকে, এবং যে ব্যক্তি বিমুখ হয়, পরে নিশ্চয় সেই ঈশ্বর (তদ্বিষয়ে) নিষ্কাম প্রশংসিত।

আয়াতঃ ২৫⇒ সত্যসত্যই আমি স্বীয় প্রেরিতপুরুষদিগকে প্রমাণাবলীসহ প্রেরন করিয়াছি, এবং তাহাদের সঙ্গে গ্রন্থ ও পরিমাণ যন্ত্র (নিয়ম-প্রনালী) অবতারন করিয়াছি যেন লোক সকল ন্যায়েতে স্থিতি করে, এবং আমি লৌহ অবতারন করিয়াছি, তাহার মধ্যে গুরুতর সংগ্রাম ও মনুষ্যের জন্য লাভ আছে, এবং তাহাতে পরমেশ্বর জ্ঞাত হন যে, গোপনে কে তাঁহাকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে সাহায্য দান করে, নিশ্চয় ঈশ্বর শক্তিশালী পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি নুহাকে ও এব্রাহিমকে প্রেরণ করিয়াছি, এবং উভয়ের সন্তানবর্গের মধ্যে প্রেরিতত্ব ও গ্রন্থ স্থাপন করিয়াছি, অনন্তর তাহাদের কতক লোক পথপ্রাপ্ত এবং তাহাদের অধিকাংশ দুশ্চরিত্র হইয়াছে।

আয়াতঃ ২৭⇒ তৎপর তাহাদের অনুসরণে আপন প্রেরিতপুরুষদিগকে আমি প্রেরণ করিয়াছিলাম, এবং মরয়মের পুত্র ঈসাকে প্রেরণ করিয়াছিলাম ও তাহাকে ইঞ্জিল গ্রন্থ দিয়াছিলাম, এবং যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছে তাহাদের অন্তরে দয়া ও কোমলতা স্থাপন করিয়াছি, এবং সেই নির্জনাশ্রয়, তাহা তাহারা আবিষ্কার করিয়াছে, ঈশ্বরের প্রসন্নতা অন্বেষণ ব্যতীত আমি তাহাদের সম্বন্ধে তাহা লিপি করি নাই, অনন্তর তাহারা তাহার সত্য সংরক্ষণে তাহা সংরক্ষণ করে নাই; পরে আমি তাহাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল তাহাদিগকে তাহাদের পুরস্কার প্রদান করিয়াছি, এবং তাহাদের অধিকাংশই পাষণ্ড ছিল।

আয়াতঃ ২৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তিনি স্বীয় অনুগ্রহের দুই ভাগ তোমাদিগকে প্রদান করিবেন, এবং তোমাদের জন্য জ্যোতি বিকীর্ণ করিবেন, তদ্দারা তোমরা চলিতে থাকিবে ও তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করিবেন, এবং পরমেশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ২৯⇒ তাহাতে গ্রন্থাধিকারীগণ জানিবে যে, তাহারা ঈশ্বরের কোন উপকার সম্বন্ধে ক্ষমতা রাখে না, এবং উপকার ঈশ্বরের হস্তে আছে, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহা বিধান করিয়া থাকেন, এবং পরমেশ্বর মহোপকারী।