সূরাঃ হজ্ব

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে লোক সকল, তোমরা আপন প্রতিপালককে ভয় করিতে থাক, নিশ্চয় কেয়ামতের ভূমিকম্প মহা ব্যাপার।

আয়াতঃ ০২⇒ যে দিন উহা তোমরা দেখিবে সেই দিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী যাহাকে স্তন্য দান করিতেছিল তাহার প্রতি উদাসীন হইবে, এবং প্রত্যেক গর্ভবতী স্বীয় গর্ভ পরিত্যাগ করিবে ও লোকদিগকে মত্ত দেখিবে ও তাহারা (নিশায়) বিহ্বল নহে, কিন্তু ঈশ্বরের শাস্তি কঠিন।

আয়াতঃ ০৩⇒ মানবমণ্ডলীর মধ্যে কেহ আছে যে, জ্ঞান না রাখিয়া ঈশ্বরের সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে ও প্রত্যেকে অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।

আয়াতঃ ০৪⇒ তাহার সম্বন্ধে লিখিত হইয়াছে যে, যে ব্যক্তি তাহার বন্ধু হইবে অনন্তর নিশ্চয় সে-ই তাহাকে পথভ্রান্ত করিবে ও নরককুন্ডের দিকে তাহাকে পথ প্রদর্শন করিবে।

আয়াতঃ ০৫⇒ হে লোক সকল, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্বন্ধে স্নধিগ্ধ হও তবে (জানিও) নিশ্চয় আমি তোমাদিগকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছি, তৎপর শুক্র দ্বারা, তৎপর জমাট রক্ত দ্বারা, তৎপর অবয়বহীন ও অবয়বযুক্ত মাংসখন্ড দ্বারা (সৃজন করিয়াছি) তাহাতে তামাদের জন্য (সৃষ্টিপ্রনালী) ব্যক্ত করিয়া থাকি, এবং আমি জরায়ুকোষে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত যাহাকে ইচ্ছা করি তাহাকে স্থিরতর রাখি, তৎপর তোমাদিগকে শিশুরুপে বাহির করি, তাহার পর (প্রতিপালন করি) তাহাতে তোমরা স্ব-স্ব যৌবন প্রাপ্ত হও, এবং তোমাদের মধ্যে কেহ হয় যে, তাহার প্রাণ হরণ করা হইয়া থাকে ও তোমাদের মধ্যে কেহ হয় যে, সে নিকৃষ্টতর জীবনে ফিরিয়া আইসে, তাহাতে সে কোন বিষয় জ্ঞান রাখার পরে অজ্ঞান হইয়া যায়, এবং তুমি পৃথিবীকে শুষ্ক দেখিতেছ, অনন্তর অকস্মাৎ তাহাতে আমি জল প্রেরণ করি, উহা সঞ্চালিত ও বর্ধিত হয় ও সর্বপ্রকার উত্তম বস্তু উৎপাদন করে।

আয়াতঃ ০৬⇒ ইহা এই জন্য যে, সেই ঈশ্বর সত্য, এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন ও তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং এই যে কেয়ামত উপস্থিত হইবে তাহাতে নিঃসন্দেহ, নিশ্চয় ঈশ্বর যাহারা কবরে আছে তাহাদিগকে উঠাইবেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ মানবমণ্ডলীর মধ্যে কেহ আছে যে, ঈশ্বর সম্বন্ধে জ্ঞান না রাখিয়া এবং শিক্ষা ও উজ্জ্বল গ্রন্থ না রাখিয়া বাদানুবাদ করে।

আয়াতঃ ০৯⇒ সে আপন স্কন্ধকে ফিরাইয়াছে যেন যেন (লোকদিগকে) ঈশ্বরের পথ হিতে বিভ্রান্ত করে, পৃথিবীতে তাহার দুর্গতি এবং কেয়ামতের দিনে আমি তাহাকে দাহদন্ড আস্বাদন করাইব।

আয়াতঃ ১০⇒ (বলিব) “যাহা তোমার হস্তদ্বয় পূর্বে প্রেরণ করিয়াছে, ইহা সেই (দুষ্কর্মের) জন্য, এবং এই যে পরমেশ্বর দাসদিগের প্রতি অত্যাচারী নহেন”।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং মানবমণ্ডলীর মধ্যে কেহ আছে যে, পার্শ্বে (থাকিয়া) ঈশ্বরকে অর্চনা করে, পরে যদি তাহার নিকটে সম্পদ উপস্থিত হয় সেই (অর্চনার) সঙ্গে সে আরাম লাভ করে, এবং যদি তাহার নিকটে বিপদ উপস্থিত হয় সে আপন মুখ ফিরাইয়া থাকে, ইহলোক-পরলোক নষ্ট হয়, ইহাই সেই স্পষ্ট ক্ষতি।

আয়াতঃ ১২⇒ তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাকে আহ্বান করে সে তাহাদের লাভ ও ক্ষতি করে না, ইহাই সেই দূরতর পথভ্রান্তি।

আয়াতঃ ১৩⇒ অবশ্য সে মন্দ প্রভু ও অবশ্য মন্দ বন্ধু।

আয়াতঃ ১৪⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে নিশ্চয় পরমেশ্বর তাহাদিগকে স্বর্গোদ্যান সকলে লইয়া যাইবেন, তাহার নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, নিশ্চয় ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা করেন করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৫⇒ যে ব্যক্তি মনে করিয়া থাকে যে, পরমেশ্বর তাহাকে (প্রেরিতপুরুষকে) ইহলোকে ও পরলোকে কখনো সাহায্য দান করিবেন না, পরে তাহার উচিত যে, আকাশেতে একটি রজ্জু প্রসারণ করে, তৎপর উচিত যে (পথ) অতিক্রম করিতে থাকে, পরিশেষে সে দেখিবে যাহা ক্রোধ উপস্থিত করে তাহার কৌশল উহা কি দূর করে?

আয়াতঃ ১৬⇒ এই প্রকারে আমি তাহাকে (কোরআনকে) উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহরুপে অবতারণ করিয়াছি, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর যাহাকে চাহেন পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৭⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও যাহারা ইহুদী হইয়াছে এবং যাহারা নক্ষত্রপূজক ও ঈসায়ী এবং অগ্নিপূজক ও যাহারা অংশীবাদী কেয়ামতের দিনে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদের মধ্যে (বিচার) নিষ্পত্তি করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সমুদায় বস্তুর সম্বন্ধে সাক্ষী।

আয়াতঃ ১৮⇒ তোমরা কি দেখ নাই যে, যাহারা স্বর্গে ও যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহারা এবং চন্দ্র ও সূর্য ও নক্ষত্রবৃন্দ ও পর্বত সকল ও বৃক্ষ ও চতুষ্পদগণ এবং অধিকাংশ মনুষ্য নিশ্চয় ঈশ্বরকে প্রণাম করে, এবং অনেক আছে যে, তাহাদের প্রতি শাস্তি প্রতিপন্ন হইয়াছে, এবং যাহাকে ঈশ্বর দুর্দশাগ্রস্থ করিয়াছেন অনন্তর তাহার জন্য কোন সম্মানকারী নাই, নিশ্চয় ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা করেন তাহা করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৯⇒ এই দুই বিরোধী দল স্বীয় প্রতিপালকের সম্বন্ধে বিরোধ করিয়াছে, অনন্তর যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদের জন্য আগ্নেয় বসন প্রস্তুত হইয়াছে, তাহাদের মস্তকের উপর উষ্ণজল নিক্ষেপ করা হইবে।

আয়াতঃ ২০⇒ তাহাদের উদরে যাহা আছে তাহা ও চর্ম তদ্দারা দ্রবীভূত করা হইবে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তাহাদের জন্য লৌহময় হাতুড়ী সকল আছে।

আয়াতঃ ২২⇒ যখন তাহারা ইচ্ছা করিবে যে, তাহার ক্লেশ হইতে বাহির হয় তখন তথায় পুনঃ স্থাপিত করা হইবে, এবং (বলা হইবে) অগ্নিদন্ড আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ২৩⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদিগকে স্বর্গোদ্যান সকলে লইয়া যান, তাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, তথায় স্বর্ণময় ও মৌক্তিক কঙ্কণ (তাহাদিগকে) পরান হইবে, এবং তথায় তাহাদের পরিচ্ছদ কৌষেয় বস্ত্র (হইবে)।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তাহাদিগকে বিশুদ্ধ কথার দিকে পথ প্রদর্শন করা গিয়াছে ও প্রশংসিত পথের দিকে পথ প্রদর্শন করা গিয়াছে।

আয়াতঃ ২৫⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, এবং ঈশ্বরের পথ ও সেই মসজেদোল হরাম হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করে যাহাকে আমি তত্র নিবাসী ও অরণ্যবাসী লোকমণ্ডলীর সম্বন্ধে তুল্য করিয়াছি; যে ব্যক্তি তথায় অত্যাচার যোগে বক্রগামী হয়, তাহাকে আমি দুঃখজনক শাস্তি আস্বাদন করাইব।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি এব্রাহিমের জন্য কাবাগৃহ নির্ধারণ করিলাম, তখন (বলিলাম) যে, আমার সঙ্গে কোন বস্তুকে অংশী করিও না ও আমার নিকেতনকে প্রদক্ষিনকারীদিগের জন্য ও (উপাসনায়) দন্ডায়মানকারীদিগের জন্য এবং রকু ও নমস্কারকারীদিগের জন্য পবিত্র রাখ।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং তুমি লোকদিগকে হজ্ব উদ্দেশ্যে আহ্বান কর, তাহারা পদাতিকরুপে ও ক্ষীণাঙ্গ উষ্ট্র সকলের উপর (চড়িয়া) সকল দূর পথ হইতে তোমার নিকটে আসিবে।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহা হইলে তাহারা নিজের লাভের প্রতি উপস্থিত হইবে, এবং পরিচিত দিবস সকলে, আমি তাহাদিগকে যে সকলকে উপজীবিকারুপে দিয়াছি সেই গৃহপালিত চতুষ্পদের উপর ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করিবে, পরে তোমরা তাহার (মাংস) ভক্ষন করিবে, এবং পরিশ্রান্ত ফকিরদিগকে ভোজন করাইবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ তৎপর উচিত যে, তাহারা আপন দৈহিক মালিন্য দূর করে ও আপন সঙ্কল্প সকল সম্পাদন করে, এবং সেই প্রাচীন নিকেতন প্রদক্ষিন করে।

আয়াতঃ ৩০⇒ ইহাই, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের গৌরব সকলকে সম্মানিত করে পরে উহা তাহার জন্য তাহার প্রতিপালকের নিকটে কল্যাণ হয়, তোমাদের নিকটে যাহা পড়া যাইবে তদ্বতীত গ্রাম্য পশু তোমাদের জন্য বৈধ, অনন্তর তোমরা পুত্তলিকা সকলের অশুদ্ধিতা হইতে নিবৃত্ত থাক, এবং মিথ্যা কথা হইতে নিবৃত্ত থাক।

আয়াতঃ ৩১⇒ ঈশ্বর সম্বন্ধে একত্ববাদিগণ তাঁহার সঙ্গে অংশীবাদী নহে, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে অংশিত্ব স্থাপন করে, পরে সে যেন আকাশ হইতে পতিত, অনন্তর তাহাকে (শবাশী) পক্ষী উঠাইয়া লইবে, অথবা বায়ু তাহাকে দূরতর স্থানে ফেলিয়া দিবে।

আয়াতঃ ৩২⇒ ইহাই, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিদর্শন সকলকে সম্মান করে ইহা (তাহার) মনের ধর্মভীরুতা হইতে হয়।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তোমাদের জন্য তন্মধ্যে (সেই পশুর মধ্যে) নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত লাভ সকল আছে, তৎপর প্রাচীন নিকেতনের (কাবারী দিকে তাহার অবতরণ ভূমি।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং প্রত্যেক মণ্ডলীর জন্য আমি (কোরবানীর ভূমি) নির্দিষ্ট করিয়াছি, যে চতুষ্পদ পশুদিগকে আমি উপজীবিকা রুপে তাহাদিগকে দান করিয়াছে যেন তাহাদের উপর তাহারা ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করে; অনন্তর তোমাদের ঈশ্বর একমাত্র ঈশ্বর, অতএব তোমরা তাঁহার অনুগত হও, এবং তুমি (হে মোহম্মদ) বিনয়ীদিগকে সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ৩৫⇒ সেই তাহারা, যখন ঈশ্বর স্মরণীয় হন তখন যাহাদিগের মন ভীত হইয়া থাকে, এবং যাহারা আপনাদের সম্বন্ধে যাহা সংঘটিত হয় তৎপ্রতি সহিষ্ণু ও উপাসনার প্রতিষ্ঠাকারী হয়, এবং যাহা তাহাদিগকে উপজীবিকা দেওয়া যায় তাহা ব্যয় করে, তাহাদিগকে (সুসংবাদ দান কর)।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং সেই বলির উষ্ট্র, তাহাকে আমি তোমাদের জন্য ঈশ্বরের (ধর্মের) নিদর্শন ও তোমাদের জন্য তন্মধ্যে মঙ্গল স্থাপন করিয়াছি, অনন্তর দন্ডায়মান অবস্থায় তাহার উপর (বলিদান কালে) তোমরা ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করিও, পরে যখন পার্শ্ব ভাগে সে পড়িয়া যায় তখন তাহা ভক্ষন কর, এবং প্রার্থী ও অপ্রার্থী (ফকিরদিগকে) ভোজন করাও, এইরুপে আমি তোমাদের জন্য তাহাকে বশীভূত করিয়াছি সম্ভবতঃ তোমরা ধন্যবাদ করিবে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ ঈশ্বরের নিকটে তাহার মাংস ও তাহার রক্ত কখনো পহুঁছিবে না, কিন্তু তাঁহার নিকটে তোমাদিগকে ধর্মভীরুতা উপস্থিত হইবে, এইরুপে তোমাদের জন্য তাহাকে আয়ত্ব করিয়াছি যেন তোমাদিগকে যে পথ প্রদর্শন করিয়াছি তদ্বিষয়ে তোমরা ঈশ্বরকে মহিমান্বিত করিতে থাক, এবং তুমি (হে মোহম্মদ), হিতকারীদিগকে সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ৩৮⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর বিশ্বাসিগণ হইতে (কাফেরদিগের উপদ্রব) দূর করেন, নিশ্চয় ঈশ্বর প্রত্যেক ক্ষতিকারক ধর্মদ্রোহীকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৩৯⇒ যাহাদের সঙ্গে (কাফেরগণ) সংগ্রাম করিতে প্রবৃত্ত, তাহাদিগকে (ধর্মযুদ্ধে) অনুমতি দেওয়া হইয়াছে; যেহেতু তাহারা উৎপীড়িত, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদের সাহায্যদানে সমর্থ।

আয়াতঃ ৪০⇒ তাহারা যে অন্যায়রুপে স্ব-স্ব আলয় হইতে বহিষ্কৃত হইয়াছে, কেবল (এই কারনে) যে, তাহারা বলিয়া থাকে আমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বর, এবং যদি মনুষ্য পরস্পর একজন হইতে অন্য জন ঈশ্বর কর্তৃক দূরীকৃত না হইত তবে অবশ্য মোসলমান সন্ন্যাসীদিগের তপস্যাকুটির, ঈসায়ীদিগের উপাসনালয়, ও ইহুদীদিগের পূজাগৃহ ও মোসলমানদিগের ভজনালয় সকল যে স্থানে প্রচুররুপে ঈশ্বরের নাম উচ্চারিত হইয়া থাকে ধ্বংস করা হইত, এবং যে ব্যক্তি তাঁহার (ধর্মের) সাহায্য করিয়া থাকে, অবশ্য ঈশ্বর তাহাকে সাহায্য দান করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমতাবান পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ৪১⇒ তাহারাই, যদি পৃথিবীতে আমি তাহাদিগকে ক্ষমতা দান করি তবে তাহারা নমাজকে প্রতিষ্ঠিত রাখিবে, জকাত দান করিবে, বৈধ বিষয়ে আদেশ ও অবৈধ বিষয়ে নিষেধ করিবে, ঈশ্বরের জন্যই কার্য সকলের পরিণাম।

আয়াতঃ ৪২⇒ যদি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) তাহারা অসত্যারোপ করে তবে নিশ্চয় (জানিও) তাহাদের পূর্বে নূহার দল ও আদ ও সমুদ জাতি অসত্যারোপ করিয়াছে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং এব্রাহিমের সম্প্রদায় ও লুতের সম্প্রদায় (অসত্যারোপ করিয়াছে)।

আয়াতঃ ৪৪⇒ ও মদয়ননিবাসিগণ (অসত্যারোপ করিয়াছে) এবং মূসা অসত্যারোপিত হইয়াছিল, অনন্তর আমি ধর্মদ্রোহীদিগকে অবকাশ দিয়াছিলাম, তৎপর আমি তাহাদিগকে ধরিয়াছিলাম, অনন্তর কিরুপ আমার শাস্তি ছিল?

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং কত গ্রাম ছিল যে, তাহাকে আমি সংহার করিয়াছি, উহা অত্যাচারী ছিল, অনন্তর উহা আপন ছাদ ও অকর্মণ্যকূপ ও সুদৃঢ় অট্টালিকার উপর নিপতিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ অনন্তর তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই? তাহা হইলে তাহাদের জন্য এরুপ অন্তর সকল হইত যে, তাহা দ্বারা বুঝিতে পারে, অথবা কর্ণ সকল যে, তাহা দ্বারা শুনিতে পায়; পরিশেষে বৃত্তান্ত এই যে, চক্ষু সকল অন্ধ হয় না, কিন্তু অন্তর যাহা বক্ষেতে আছে তাহাই অন্ধ হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং তাহারা তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) শাস্তি শীঘ্র চাহিতেছে, কখনো পরমেশ্বর আপন অঙ্গীকারের অন্যথা করেন না, এবং তোমরা যাহা গণনা করিয়া থাক নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের নিকটে তাহার এক দিবস সহস্র বৎসর তুল্য।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং অনেক গ্রাম আছে যে, সেই সকলকে আমি অবকাশ দিয়াছি, সে সকল অত্যাচারী ছিল, তৎপর সে সকলকে ধরিয়াছি, এবং আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন হয়।

আয়াতঃ ৪৯⇒ তুমি বল, হে লোক সকল, আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক, এতদ্ভিন্ন নহি।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহাদের জন্য ক্ষমা ও উত্তম উপজীবিকা আছে।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং যাহারা দুর্বলকারী হইয়া আমার নিদর্শন সকলের প্রতি দৌড়িয়া থাকে তাহারা নরকলোক নিবাসী।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং আমি তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) এমন কোন নবী ও রসূল প্রেরণ করি নাই যে, সে যখন (কোন) অভিপ্রায় করিত শয়তান তাহার অভিপ্রায়ের মধ্যে (কিছু) নিক্ষেপ করে নাই, অনন্তর শয়তান যাহা নিক্ষেপ করিয়াছে ঈশ্বর তাহা খন্ডন করিয়াছেন, তৎপর পরমেশ্বর আপন নিদর্শন সকলকে দৃঢ় করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর জ্ঞানী ও নিপুন।

আয়াতঃ ৫৩⇒ শয়তান যাহা নিক্ষেপ (কুমন্ত্রণা দান) করে যাহাদের অন্তরে রোগ আছে ও যাহাদের অন্তর কঠিন তাহাদের নিমিত্ত (পরমেশ্বর) তাহা আপজ্জনক করিয়া তোলেন, নিশ্চয় অত্যাচারীগণ প্রবল বিরুদ্ধাচারের মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ৫৪⇒ যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহাতে তাহারা জানিতে পারে যে, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক হইতে (আগত) উহা (প্রত্যাদেশ) সত্য, অনন্তর তাহারা তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, পরে তজ্জন্য তাহাদের অন্তর বিনীত হয়, এবং নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদিগকে ঈশ্বর সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ যে পর্যন্ত (না) অকস্মাৎ তাহাদের নিকটে কেয়ামত উপস্থিত হয় অথবা তাহাদের নিকটে বন্ধ্য দিবসের শাস্তি উপস্থিত হয় সে পর্যন্ত তাহা হইতে (সেই প্রত্যাদেশ হইতে) সন্দেহের মধ্যে সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ সেইদিন ঈশ্বরের জন্য রাজত্ব, তিনি তাহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করিবেন, অনন্তর যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহারা সম্পদের স্বর্গোদ্যান সকলে থাকিবে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, অনন্তর তাহারাই, তাহাদের জন্য লাঞ্ছনাজনক দন্ড আছে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের পথে দেশত্যাগ করিয়াছে, তৎপর নিহত হইয়াছে, অথবা মরিয়াছে, নিশ্চয় পরমেশ্বর তাহাদিগকে উত্তম উপজীবিকা দান করিবেন, একান্তই পরমেশ্বর জীবিকাদাতাদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৫৯⇒ অবশ্য তিনি এমন স্থানে তাহাদিগকে লইয়া যাইবেন যে, তাহারা তাহা মনোনীত করিবে, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর প্রশান্ত ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬০⇒ এই (ঈশ্বরের আজ্ঞা) এবং যে ব্যক্তি এরুপ শাস্তি দান করে যেরুপ তাহাকে শাস্তি দেওয়া হইয়াছে, তৎপর তাহার প্রতি উৎপীড়ন করা হইলে একান্তই ঈশ্বর তাহাকে সাহায্য দান করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর মার্জনাকারী ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ৬১⇒ এই (সাহায্য) এই কারনে যে, ঈশ্বর রাত্রিকে দিবাতে পরিণত করেন ও দিবাকে রাত্রিতে পরিণত করেন, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৬২⇒ এই (সাহায্য) এই কারনে যে, সেই ঈশ্বর সত্য, এবং এই যে, (ধর্মদ্রোহিগণ) তাঁহাকে ব্যতীত (অন্যকে) আহ্বান করে তাহা অসত্য, এবং নিশ্চয় সেই ঈশ্বর উন্নত মহান।

আয়াতঃ ৬৩⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়াছেন, অনন্তর ভূমি হরিদ্বর্ণ হইয়া থাকে, নিশ্চয় ঈশ্বর তত্ত্বজ্ঞ কৃপালু।

আয়াতঃ ৬৪⇒ যাহা স্বর্গে ও মর্তে আছে তাহা তাঁহারই, নিশ্চয় ঈশ্বর নিষ্কাম ও প্রশংসিত।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তোমরা কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ও নৌকা সকল তোমাদের জন্য অধিকৃত করিয়াছেন যে, তাঁহার আজ্ঞানুসারে (নৌকা) সমুদ্রে চলিয়া থাকে, এবং তাঁহার আজ্ঞা ব্যতীত পৃথিবীর উপর পড়িয়া না যায় (এজন্য) তিনি নভোমণ্ডলকে রক্ষা করিতেছেন, নিশ্চয় ঈশ্বর মানবের সম্বন্ধে সদয় কৃপালু।

আয়াতঃ ৬৬⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদিগকে জীবন দান করিয়াছেন, তৎপর তোমাদিগের পরান হরণ করিবেন, তাহার পর তোমাদিগকে বাঁচাইবেন, নিশ্চয় মানবমণ্ডলী অকৃতজ্ঞ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ আমি প্রত্যেক মণ্ডলীর জন্য ধর্মপ্রনালী নির্ধারণ করিয়াছি যেন তাহারা তদনুযায়ী কার্যকারক হয়, অনন্তর উচিত যে, এ-বিষয়ে তাহারা তোমার সঙ্গে (হে মোহম্মদ) বিবাদ না করে, এবং তুমি আপন প্রতিপালকের দিকে (তাহাদিগকে) আহ্বান কর, নিশ্চয় তুমি সরল পথে আছ।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং যদি তাহারা তোমার সঙ্গে বিতর্ক করে তবে তুমি বলিও যে, “তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহার উত্তম জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬৯⇒ তোমরা যে বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিতেছিলে কেয়ামতের দিনে তদ্বিষয়ে ঈশ্বর তোমাদের মধ্যে বিচার করিবেন”।

আয়াতঃ ৭০⇒ তুমি কি জানিতেছ না যে, ঈশ্বর স্বর্গে ও মর্তে যাহা আছে তাহা জানিতেছেন? নিশ্চয় ইহা গ্রন্থে (লিখিত) আছে, একান্তই ইহা ঈশ্বরের সম্বন্ধে সহজ।

আয়াতঃ ৭১⇒ যাহার সঙ্গে কোন প্রমাণ প্রেরিত হয় নাই, তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তাহাকে এবং যাহার (প্রমাণ) বিষয়ে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই তাহাকে অর্চনা করে, অত্যাচারীদিগের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং যখন আমার উজ্জ্বল নিদর্শন সকল তাহাদের নিকটে পঠিত হয়, তখন তুমি সেই কাফেরদিগের মুখমণ্ডলে অসম্মতি উপলব্ধি করিয়া থাক; যাহারা তাহাদের নিকটে আমার নিদর্শন সকল পাঠ করে তাহারা সেই পাঠকদিগকে আক্রমণ করিতে উদ্যত হয়, তুমি বল, “অনন্তর তোমাদিগকে কি এতদপেক্ষা মন্দ সংবাদ জ্ঞাপন করিব? (উহা) নরক, ধর্মদ্রোহীদিগের সম্বন্ধে ঈশ্বর (ইহাই) অঙ্গীকার করিয়াছেন, এবং (উহা) কুৎসিত স্থান”।

আয়াতঃ ৭৩⇒ হে লোক সকল, দৃষ্টান্ত বর্ণিত হইয়াছে, অনন্তর তাহা তোমরা শ্রবন কর, নিশ্চয় ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তাহারা যাহাদিগকে আহ্বান করে তাহারা (প্রতিমা সকল) একটি মক্ষিকাও কখনো সৃজন করিতে পারে না তাহারা যদিচ তজ্জন্য সম্মিলিতও হয়, এবং যদি মক্ষিকা তাহাদিগ হইতে কিছু লইয়া যায় তাহা হইতে তাহারা উহা উদ্ধার করিতে পারে না প্রার্থী ও প্রার্থিত দুর্বল হয়।

আয়াতঃ ৭৪⇒ তাহারা ঈশ্বরকে তাঁহার যথার্থ মর্যাদায় মর্যাদা করে নাই, নিশ্চয় ঈশ্বর শক্তিময় পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ৭৫⇒ পরমেশ্বর দেবতাগণ ও মানবগণ হইতে প্রেরিতপুরুষ মনোনীত করেন, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৭৬⇒ যাহা তাহাদের (লোকদিগের) সম্মুখে ও যাহা তাহাদের পশ্চাতে আছে তাহা তিনি জানিতেছেন, এবং ঈশ্বরের দিকে কার্য সকলের প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৭৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে রকু কর ও নমস্কার কর, এবং পূজা কর, এবং শুভানুষ্ঠান কর; সম্ভবতঃ তোমরা মুক্তি লাভ করিবে।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং ঈশ্বরের সম্বন্ধে তাঁহার প্রকৃত জ্বেহাদমতে জ্বেহাদ কর, তিনি তোমাদিগকে গ্রহণ করিয়াছেন, তিনি তোমাদের প্রতি ধর্মবিষয়ে সঙ্কোচ করেন নাই, তোমরা আপন পিতৃপুরুষ এব্রাহিমের ধর্ম (গ্রহণ কর) পূর্বে এবং ইহাতে (কোরআনে) তিনি (ঈশ্বর) তোমাদিগের মোসলমান নাম রাখিয়াছেন, প্রেরিতপুরুষ যেন তোমাদের সম্বন্ধে সাক্ষী হয় ও তোমরা মানবমণ্ডলী সম্বন্ধে সাক্ষী থাক, অনন্তর তোমরা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও জকাত দান কর, এবং ঈশ্বরকে দৃঢ়রুপে আশ্রয় কর, তিনি তোমাদের প্রভু, পরন্তু তিনি উত্তম প্রভু ও উত্তম সাহায্যকারী।