সূরাঃ স

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ উপদেশক কোরআনের শপথ।

আয়াতঃ ০২⇒ বরং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহারা অবাধ্যতা ও বিপক্ষতার মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ০৩⇒ তাহাদের পূর্বে কত দলকে আমি সংহার করিয়াছি, তখন তাহারা চীৎকার করিয়াছিল, সেই সময় উদ্ধারের (উপায়) ছিল না।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং তাহারা আশ্চার্যান্বিত হইয়াছিল যে, তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকটে ভয়প্রদর্শক আগমন করিল ও কাফেরগণ বলিল, “এ মিথ্যাবাদী ঐন্দ্রজালিক।

আয়াতঃ ০৫⇒ এ ঈশ্বরসমূহকে এক ঈশ্বরে পরিণত করে, নিশ্চয় ইহা আশ্চর্য ব্যাপার।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং তাহাদের নিকট হইতে প্রধান পুরুষগণ চলিয়া গেল, (পরস্পর বলিতে লাগিল) যে, “চলিয়া যাও ও স্বীয় ঈশ্বরগণের উপর ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় এ বিষয় প্রত্যাশিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ পরবর্তী ধর্মের মধ্যে আমরা ইহা শ্রবন করি নাই, ইহা কল্পিত ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ০৮⇒ আমাদের মধ্য হইতে কি তাহার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ হইল”? বরং তাহারা আমার উপদেশ সম্বন্ধে সন্দিগ্ধ, বরং (এক্ষন পর্যন্ত) তাহারা আমার শাস্তি আস্বাদন করে নাই।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহাদের নিকটে কি তোমার দাতা বিজেতা প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভান্ডার আছে?

আয়াতঃ ১০⇒ স্বর্গ ও পৃথিবীর এবং উভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহার রাজত্ব কি তাহাদের? অনন্তর রজ্জুযোগে তাহাদের উপরে উঠা আবশ্যক।

আয়াতঃ ১১⇒ পরাজিত দলের এক সৈন্যদল এ স্থানে আছে।

আয়াতঃ ১২⇒ তাহাদের পূর্বে নুহার সম্প্রদায় ও আদ ও কীলকধারী ফেরওন (প্রেরিতদিগের প্রতি) অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং সমুদ ও লুতীয় সম্প্রদায় ও এয়াকানিবাসিগণ এই সকল দল।

আয়াতঃ ১৪⇒ প্রেরিতপুরুষদিগকে অসত্যারোপ করিয়াছে ভিন্ন কেহ ছিল না, অনন্তর শাস্তি নির্ধারিত হইল।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং ইহারা (প্রলয়ের) এক (সুর) ধ্বনি ভিন্ন প্রতীক্ষা করিতেছে না, তাহার কোন বিলম্ব নাই।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং তাহারা (উপহাসচ্ছলে) বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, বিচার দিবসের পূর্বে তুমি আমাদিগকে আমাদের পত্রিকা দান কর।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা যাহা বলিতেছে তৎপ্রতি তুমি (হে মোহম্মদ) ধৈর্য ধারন কর, এবং আমার দাস শক্তিশালী দাউদকে স্মরণ কর, নিশ্চয় সে পুনর্মিলনকারী ছিল।

আয়াতঃ ১৮⇒ নিশ্চয় আমি গিরিশ্রেণীকে তাহার সঙ্গে বাধ্য রাখিয়াছিলাম, প্রাতঃসন্ধ্যা তাহারা স্তব করিত।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং একত্রীকৃত পক্ষী সকলকে বাধ্য করিয়াছিলাম, প্রত্যেকে তাহার প্রতি পুনর্মিলনকারী ছিল।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং তাহার রাজ্যকে আমি দৃঢ় করিয়াছিলাম ও তাহাকে বিজ্ঞান ও মীমাংসার বাক্য (শিক্ষা) দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তোমার নিকটে কি (হে মোহম্মদ) পরস্পর বিরোধকারীদিগের সংবাদ পহুঁছিয়াছে? (স্মরণ কর) যখন তাহারা প্রাচীর লঙ্ঘন করিয়া মন্দিরে উপস্থিত হইল।

আয়াতঃ ২২⇒ যখন তাহারা দাউদের নিকটে প্রবেশ করিল, তখন সে তাহাদিগ হইতে ভীত হইল, তাহারা বলিল, “তুমি ভয় করিও না, আমরা দুই বিরোধকারী, আমাদের একজন অন্যের প্রতি অত্যাচার করিয়াছে, অতএব তুমি ন্যায়ানুসারে আমাদের মধ্যে বিচার কর, অত্যাচার করিও না, এবং সরল পথের দিকে আমাদিগকে চালনা কর।

আয়াতঃ ২৩⇒ নিশ্চয় এ আমার ভ্রাতা, তাহার উনশত মেষ আছে, এবং আমার একটি মাত্র মেষ পরে সে বলিয়াছে ইহাও আমাকে অর্পণ কর, এবং এ কথায় সে আমাকে আক্রমণ করিয়াছে”।

আয়াতঃ ২৪⇒ সে (দাউদ) বলিল, “সত্যসত্যই সে আপনার মেষদলের দিকে তোমার মেষ সকলকে আনয়ন করিতে চাহিয়া তোমার প্রতি অত্যাচার করিয়াছে;” নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা ব্যতীত অধিকাংশ অংশী পরস্পরের প্রতি অত্যাচার করিয়া থাকে, এবং তাহারা (বিশ্বাসী লোক) অল্প; দাউদ বুঝিতে পারিল যে, ইহা পরীক্ষা ভিন্ন নহে, অনন্তর আপন প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিল, এবং প্রণত হইয়া পড়িয়া গেল ও (ঈশ্বরের দিকে) প্রত্যাগমন করিল।

আয়াতঃ ২৫⇒ পরে আমি তাহার জন্য উহা ক্ষমা করিলাম, এবং নিশ্চয় আমার নিকটে তাহার (উন্নত) পদ ও উত্তম পুনর্মিলন ভূমি হয়।

আয়াতঃ ২৬⇒ (বলিলাম) “হে দাউদ, আমি তোমাকে পৃথিবীতে অধিপতি করিলাম, অনন্তর তুমি মানবকুলের মধ্যে ন্যায়ানুসারে বিচার করিতে থাক, এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করিও না, তবে ঈশ্বরের পথ হইতে তোমাকে বিভ্রান্ত করিবে, নিশ্চয় যাহারা ঈশ্বরের পথ হইতে বিপথগামী হয় তাহাদের জন্য শাস্তি আছে, যেহেতু তাহারা বিচারের দিনকে ভুলিয়াছে।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল এবং যাহা কিছু উভয়ের মধ্যে আছে তাহা আমি নিরর্থক সৃজন করি নাই, (নিরর্থক সৃজন) করিয়াছি ধর্মদ্রোহীদিগের এই অনুমান, অনন্তর যাহারা অগ্নি (দন্ড) সম্বন্ধে অবিশ্বাসী তাহাদের প্রতি আক্ষেপ।

আয়াতঃ ২৮⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও শুভ কর্ম সকল করিয়াছে তাহাদিগকে কি আমি  ধরাতলে উপদ্রবকারীদিগের তুল্য করিব? আমি কি ধর্মভীরুদিগকে কুক্রিয়াশীল লোকদিগের তুল্য করিব?

আয়াতঃ ২৯⇒ এই আমি গ্রন্থ তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) যে অবতারণ করিয়াছি তাহা কল্যাণবিধায়ক, যেন তাহার আয়ত সকল তাহারা অনুধ্যান করে, এবং যেন বুদ্ধিমান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং আমি দাউদকে সোলয়মান (পুত্র) দান করিয়াছিলাম, সে উত্তম দাস ছিল, নিশ্চয় সে পুনর্মিলনকারী ছিল।

আয়াতঃ ৩১+৩২⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহার নিকটে অপরাহ্ণে দ্রুতগতি অশ্ব সকলকে (তিনপদে) উপস্থিত করা হইল, তখন সে বলিল, “নিশ্চয় আমি স্বীয় প্রতিপালকের প্রসঙ্গ অপেক্ষা ধনাসক্তিকে ভালবাসি,” এত দূর পর্যন্ত যে, (সূর্য) আবরণের দিকে ঝুঁকিয়া ছিল।

আয়াতঃ ৩৩⇒ (বলিল) “আমার নিকটে সে সকল ফিরাইয়া আন” পরে (করবালযোগে অশ্ব সকলের) পদে ও গলদেশে সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইল।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি সোলয়মানকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম, এবং তাহার সিংহাসনের উপর এক কলেবর স্থাপন করিয়াছিলাম, তৎপর সে ফিরিয়া আসে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ সে বলিয়াছিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা কর, এবং আমাকে (এমন) রাজত্ব দান কর যে, আমার পরে কাহারও জন্য উপযুক্ত নয়, নিশ্চয় তুমি বদান্য।

আয়াতঃ ৩৬⇒ পরে আমি তাহার জন্য বায়ুকে বাধ্য করি, যেখানে সে চাহিয়াছে তাহার আদেশক্রমে তথায় মন্দ মন্দ প্রবাহিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও বারিগর্ভে প্রবেশকারী শয়তান সকলকে (বাধ্য করিয়াছিলাম)।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং অন্য (দৈত্যগণ) শৃঙ্খলে পরস্পর সংবদ্ধ ছিল।

আয়াতঃ ৩৯⇒ আমি বলিয়াছিলাম, ইহা আমার দান, পরে (তাহাদিগকে) অভয় দান কর, বা গণনা না করিয়া আবদ্ধ রাখ।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং নিশ্চয় আমার নিকটে তাহার জন্য সান্নিধ্য ও পুনর্মিলন আছে।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং আমার দাস আয়ুবকে স্মরণ কর, যখন সে আপন প্রতিপালকে ডাকিল যে, “নিশ্চয় আমাকে শয়তান উৎপীড়ন ও যন্ত্রনা দ্বারা আক্রমণ করিয়াছে”।

আয়াতঃ ৪২⇒ (আমি বলিয়াছিলাম) তুমি আপন পদ দ্বারা (ভূমিকে) আঘাত কর, ইহা স্নানের স্থান ও শীতল পানীয় ভূমি।

আয়াতঃ ৪৩⇒ আমার নিজের দয়াবশতঃ এবং বুদ্ধিমান লোকদগের উপদেশের জন্য তাহাকে আমি তাহার পরিজন এবং তাহাদের অনুরুপ তাহাদের সঙ্গী দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং (বলিয়াছিলাম) স্বহস্তে শাখাপুঞ্জ গ্রহণ কর, পরে তদ্দারা আঘাত কর, শপথ ভঙ্গ করিও না, নিশ্চয় আমি তাহাকে সহিষ্ণু প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, সে উত্তম দাস ছিল, নিশ্চয় সে পুনর্মিলনকারী ছিল।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং হস্তবান ও চক্ষুষ্মান আমার দাস এব্রাহিম ও এসহাস এবং ইয়কুবকে স্মরণ কর।

আয়াতঃ ৪৬⇒ নিশ্চয় আমি পরলোক স্মরণরুপ শুদ্ধ প্রকৃতিতে তাহাদিগকে চিহ্নিত করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা আমার নিকটে গৃহীত সাধুদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এসমায়িল ও ইয়সা এবং জোলকেফলকে স্মরণ কর, তাহারা প্রত্যেককে সাধুদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৪৯⇒ ইহা (এই প্রেরিতপুরুষদিগের তত্ত্ব) স্মরণীয়, নিশ্চয় ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য উৎকৃষ্ট পুনর্গমন স্থান আছে।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহাদের জন্য নিত্য উদ্যান সকল দ্বার প্রমুক্ত করিয়া আছে।

আয়াতঃ ৫১⇒ তথায় তাহারা উপাধানে ভর দিয়া থাকিবে, তথায় তাহারা প্রচুর ফল ও পানীয় চাহিবে।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং তাহাদের নিকটে সমবয়স্কা ঈষন্নিমীলিত লোচনা নারীগণ থাকিবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ বিচারের দিবসের জন্য যাহা অঙ্গীকৃত হইয়াছে তাহা ইহাই।

আয়াতঃ ৫৪⇒ নিশ্চয় ইহা আমার (প্রদত্ত) উপজীবিকা, ইহার কোন বিনাশ নাই।

আয়াতঃ ৫৫+৫৬⇒ এই (বিনিময়) নিশ্চয় সীমালঙ্ঘনকারীদিগের জন্য মন্দ প্রত্যাগমন স্থান নরকলোক; তথায় তাহারা প্রবিষ্ট হইবে, পরন্তু উহা জঘন্যতম স্থান।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এই (শাস্তি) উষ্ণ জল ও পিক, তাহারা তাহা আস্বাদন করিবে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ ঈদৃশ নানাপ্রকার অন্য (শাস্তি) আছে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ তোমাদের সঙ্গে এই দল (নরকে) আগমনকারী, (দেবগণ বলিবে) “ইহাদের প্রতি কোন সাধুবাদ না হৌক, নিশ্চয় ইহারা নরকানলে প্রবেশ করিবে”।

আয়াতঃ ৬০⇒ তাহারা (অনুগামিগণ) বলিবে, “বরং তোমরা সেই লোক, যে তোমাদের প্রতি সাধুবাদ না হৌক, তোমরাই তাহাকে (শাস্তিকে) আমাদের জন্য উপস্থিত করিয়াছ, অনন্তর কুৎসিত স্থান (নরক)”।

আয়াতঃ ৬১⇒ তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, যে ব্যক্তি আমাদের জন্য ইহা উপস্থিত করিয়াছে পরে অগ্নির মধ্যে তাহার সম্বন্ধে দ্বিগুণ শাস্তি বৃদ্ধি করিয়া দাও”।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং তাহারা বলিবে, “আমাদের কি হইয়াছে যে, আমরা সেই সকল লোককে দেখিতেছি না, যাহাদিগকে আমরা নিকৃষ্ট গণনা করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৬৩⇒ আমরা কি তাহাদিগের প্রতি উপহাস করিলাম, বা তাহাদিগ হইতে (আমাদের) চক্ষু সকল বাঁকিয়া গিয়াছে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ নিশ্চয় এই নরকবাসীদিগের বিবাদ সত্য।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “আমি ভয়প্রদর্শনকারী এতদ্ভিন্ন নহি, এবং এক পরাক্রান্ত ঈশ্বর ব্যতীত কোন উপাস্য নাই।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তিনি ভূলোক ও দ্যুলোকের এবং উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে তাহার প্রতিপালক, তিনি পরাক্রান্ত ক্ষমাশীল”।

আয়াতঃ ৬৭⇒ তুমি বল, “(কেয়ামতের) সেই সংবাদ মহান।

আয়াতঃ ৬৮⇒ তোমরা তাহার অগ্রাহ্যকারী।

আয়াতঃ ৬৯⇒ তাহা হইলে যখন পরস্পর বাগবিতণ্ডা করিতে তখন এই উন্নত দলের (দেবগণের) সম্বন্ধে আমার কোন জ্ঞান থাকিত না।

আয়াতঃ ৭০⇒ আমি স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক, এ-বিষয়ে ব্যতীত আমার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরিত হয় না”।

আয়াতঃ ৭১⇒ (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক দেবগণকে বলিলেন, “নিশ্চয় আমি মৃত্তিকাযোগে মনুষ্যের সৃষ্টিকর্তা।

আয়াতঃ ৭২⇒ অনন্তর যখন তাহা গঠন করিব ও তন্মধ্যে আপন প্রাণ ফুঁৎকার করিব, তখন তোমরা তাহার উদ্দেশ্যে প্রণত হইয়া পড়িও”।

আয়াতঃ ৭৩+৭৪⇒ পরিশেষে শয়তান ব্যতীত যুগপৎ সমুদায় দেবতা প্রণাম করিল, সে গর্ব করিল, এবং সে কাফেরদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৭৫⇒ তিনি বলিলেন, “এবলিস, আমি স্বহস্তে যাহাকে সৃজন করিয়াছি তাহাকে প্রণাম করিতে তোমার কি প্রতিবন্ধক ছিল, তুমি অহংকার করিয়াছ, তুমি কি উচ্চপদস্থদিগের অন্তর্গত”?

আয়াতঃ ৭৬⇒ সে বলিল, “আমি তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, আমাকে তুমি অগ্নি দ্বারা সৃজন করিয়াছ ও তাহাকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছ”।

আয়াতঃ ৭৭⇒ তিনি বলিলেন, “অতএব তুমি এ স্থান বহির্গত হও, অনন্তর নিশ্চয় তুমি তাড়িত।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং নিশ্চয় তোমার প্রতি বিচারের দিন পর্যন্ত আমার অভিসম্পাত রহিল”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, অনন্তর আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ দান কর”।

আয়াতঃ ৮০+৮১⇒ তিনি বলিলেন, “পরে নিশ্চয় তুমি সেই নির্দিষ্ট সময়ের দিন পর্যন্ত অবকশ প্রাপ্তদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ ৮২+৮৩⇒ সে বলিল, “তোমার গৌরবের শপথ, আমি অবশ্য তোমার দাসদিগের তাহাদের মধ্যে চিহ্নিতগণকে ব্যতীত যুগপৎ বিপথগামী করিব”।

আয়াতঃ ৮৪⇒ তিনি বলিলেন, “অনন্তর সত্য এবং সত্য বলিতেছি।

আয়াতঃ ৮৫⇒ আমি তোমা দ্বারা ও যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে তাহাদের দ্বারা একযোগে নরক পূর্ণ করিব”।

আয়াতঃ ৮৬⇒ তুমি বল (হে মোহম্মদ) তৎসম্বন্ধে (কোরআন প্রচার সম্বন্ধে) আমি তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, এবং আমি ক্লেশ দানকারীদিগের অন্তর্গত নহি।

আয়াতঃ ৮৭⇒ উহা (কোরআন) সমুদায় জগতের উপদেশ ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং অবশ্য তোমরা কিছুকাল পরে তাহার সংবাদ জানিবে।