সূরাঃ সাফফাত

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ শ্রেণীবন্ধনে শ্রেণীবন্ধনকারী (দেবগণের) শপথ।

আয়াতঃ ০২⇒ অনন্তর হুঙ্কারে হুঙ্কারকারীদিগের (শপথ)।

আয়াতঃ ০৩⇒ অনন্তর উপদেশ পাঠকদিগের (শপথ)।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় তোমাদের উপাস্য একমাত্র।

আয়াতঃ ০৫⇒ তিনি স্বর্গ ও মর্তের এবং উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে তাহার প্রতিপালক, এবং (সূর্য ও চন্দ্রাদির) উদয়ভূমির প্রতিপালক।

আয়াতঃ ০৬+০৭⇒ নিশ্চয় আমি ভূমণ্ডলের আকাশকে তারকাভূষনে ভূষিত করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৮+০৯⇒ এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান হইতে (নভোমণ্ডলকে) রক্ষা করিয়াছি, তাহারা উন্নততর দেবদলের দিকে কর্ণপাত করে না, সকল দিক হইতে তাহাদিগকে অপসারণার্থ ও চির শাস্তির জন্য (উল্কা) পড়িতে থাকে।

আয়াতঃ ১০⇒ কিন্তু যে কেহ অকস্মাৎ হরণে (ঐশ্বরিক বাক্য) হরণ করিয়াছে, পরে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড তাহার অনুসরণ করিয়াছে।

আয়াতঃ ১১⇒ পরে তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, সৃষ্টি বিষয়ে কি তাহারা নিপুনতর, না যে আমি সৃষ্টি করিয়াছি? নিশ্চয় আমি তাহাদিগকে আঠাল মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছি।

আয়াতঃ ১২⇒ বরং তুমি কাফেরদিগের (অবস্থায়) বিস্মিত হইয়াছে, এবং তাহারা বিদ্রুপ করিতেছে।

আয়াতঃ ১৩⇒ বরং যখন তাহাদিগকে উপদেশ দেওয়া যায় তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যখন কোন নিদর্শন দর্শন করে তখন তাহারা উপহাস করে।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তাহারা বলে, “ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১৬⇒ যখন আমরা মরিয়া যাইব ও মৃত্তিকা এবং কঙ্কাল হইব তখন কি নিশ্চয় আমরা সমুত্থাপিত হইব?

আয়াতঃ ১৭⇒ অথবা আমাদের পূর্বতন পিতৃপুরুষগণ (সমুত্থাপিত হইবে)”?

আয়াতঃ ১৮⇒ তুমি বল, হ্যাঁ বটে, তোমরা লাঞ্ছিল হইবে।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর উহা এক হুঙ্কার ইহা ভিন্ন নহে, পরে অকস্মাৎ তাহারা দেখিবে।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং তাহারা বলিবে, “হায়! আমাদের প্রতি আক্ষেপ, এই ত ধর্ম শাসনের দিবস”।

আয়াতঃ ২১⇒ (বলা হইবে), “তোমরা যে বিষয় অসত্যারোপ করিতেছিলে এই সেই বিচারনিষ্পত্তির দিন”।

আয়াতঃ ২২+২৩+২৪+২৫⇒ অত্যাচারিগণ ও তাহাদের সহযোগীগণ এবং তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহার অর্চনা করিয়া থাকে উহা সমুত্থাপিত হইবে, অনন্তর (ঈশ্বর বলিবেন) তাহাদিগকে নরকের পথের দিকে (হে বিশ্বাসীগণ) তোমরা পথ প্রদর্শন কর, এবং তাহাদিগকে দন্ডায়মান কর, নিশ্চয় তাহারা জিজ্ঞাসিত হইবে যে, তোমাদের কি হইয়াছে যে, তোমাদের কি হইয়াছে যে, পরস্পর সাহায্য করিতেছ না?

আয়াতঃ ২৬⇒ বরং তাহারা অদ্য ঈশ্বরানুগত।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং তাহাদের একজন অন্যের নিকটে প্রশ্ন করতঃ উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ ২৮⇒ বলিবে, “নিশ্চয় তোমরা দক্ষিন দিক হইতে (শুভাকাঙ্ক্ষীরুপে) আমাদের নিকটে আসিতেছিল”।

আয়াতঃ ২৯⇒ তাহারা (প্রতিমা, বা দৈত্যগণ) বলিবে, “বরং তোমরা বিশ্বাসী ছিলে না।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং তোমাদের প্রতি আমাদিগের কোন পরাক্রম ছিল না, বরং তোমরা স্বেচ্ছাচারী দল ছিলে”।

আয়াতঃ ৩১⇒ অনন্তর আমাদের সম্বন্ধে আমাদিগের প্রতিপালকের বাক্য প্রমানিত হইল, অবশ্য আমরা (শাস্তির) আস্বাদনকারী।

আয়াতঃ ৩২⇒ পরন্তু আমরা তোমাদিগকে পথভ্রান্ত করিয়াছি, নিশ্চয় আমরাও পথভ্রান্ত ছিলাম”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ অনন্তর নিশ্চয় তাহারা অদ্য শাস্তির মধ্যে অংশী হইবে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় আমি অপরাধীদিগের সঙ্গে এইরুপ করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৩৫⇒ যখন তাহাদিগকে বলা হইল যে, “ঈশ্বর ব্যতীত উপাস্য নাই;” তখন নিশ্চয় তাহারা গর্ব করিতেছিল।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং বলিতেছিল, আমরা কি একজন ক্ষিপ্ত কবির অনুরোধে আমাদের ঈশ্বর সকলের বর্জনকারী হইব”?

আয়াতঃ ৩৭⇒ (ঈশ্বর বলিলেন) বরং সে (মোহম্মদ) সত্য আনয়ন করিয়াছে, এবং প্রেরিতপুরুষদিগকে সপ্রমাণ করিয়াছে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ নিশ্চয় তোমরা ক্লেশকর শাস্তির আস্বাদনকারী হও।

আয়াতঃ ৩৯+৪০⇒ এবং ঈশ্বরের বিশুদ্ধ দাসগণকে ব্যতীত তোমরা যাহা করিতেছ তদনুরুপ ভিন্ন তোমদিগকে বিনিময় দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ৪১+৪২+৪৩+৪৪⇒ তাহারাই, তাহাদের জন্য নির্দিষ্ট উপজীবিকাস্বরূপ ফল সকল আছে, এবং তাহারা সম্পদের উদ্যান সকলে পরস্পর সম্মুখবর্তী সিংহাসনের উপর অনুগৃহীত হইবে।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ তাহাদের প্রতি পানকারীদিগের স্বাদজনক নির্ঝরোৎপন্ন শুভ্র সুরার পাত্র পরিবেশন করা হইবে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ তন্মধ্যে অপকারিতা নাই ও তাহারা তদ্দারা বিহ্বল হইবে না।

আয়াতঃ ৪৮+৪৯⇒ তাহাদের নিকটে অধোদৃষ্টিকারিণী বিশালাক্ষীগণ আসিবে, যেন তাহারা গুপ্ত অন্ডস্বরূপা।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর তাহাদের এক অন্যের দিকে অভিমুখী হইয়া (পৃথিবীর বিষয়) জিজ্ঞাসা করিবে।

আয়াতঃ ৫১⇒ তাহাদের মধ্যে এক বক্তা বলিবে, “নিশ্চয় আমার (পৃথিবীতে) এক বন্ধু ছিল।

আয়াতঃ ৫২⇒ সে বলিত, “নিশ্চয় তুমি কি (কেয়ামত) স্বীকারকারীদিগের অন্তর্গত?

আয়াতঃ ৫৩⇒ যখন আমরা মরিব, এবং মৃত্তিকা ও কঙ্কাল হইয়া যাইব তখন কি আমাদিগকে (পাপ-পুন্যের) বিনিময় প্রদত্ত হইবে”?

আয়াতঃ ৫৪⇒ (পুনরায়) সে বলিবে, “তোমরা কি (নরকবাসীদিগের) অবলোকনকারী”?

আয়াতঃ ৫৫⇒ অনন্তর সে অবলোকন করিবে, পরে তাহাকে নরকের মধ্যে দেখিবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ সে বলিবে, “ঈশ্বরের শপথ, নিশ্চয় তুমি আমাকে মারিতে উপক্রম করিয়াছিলে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং যদি আমার প্রতিপালকের কৃপা না থাকিত তবে অবশ্য আমি (নরকে) উপস্থিত লোকদিগের অন্তর্গত হইতাম।

আয়াতঃ ৫৮+৫৯⇒ অনন্তর আমরা কি আমাদের পূর্ব মৃত্যু ব্যতীত মরিব না ও (স্বর্গলোকে) শাস্তিগ্রস্থ হইব না”?

আয়াতঃ ৬০+৬১⇒ (দেবগণ বলিবে) “ঈদৃশ (সম্পদের জন্য) নিশ্চয় ইহা সেই মহা কৃতার্থতা, অতএব অনুষ্ঠানকারীদিগের উচিত যে অনুষ্ঠান করে”।

আয়াতঃ ৬২⇒ এই উপহার, না জকুমতরু শ্রেষ্ঠ?

আয়াতঃ ৬৩⇒ নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদিগের জন্য তাহাকে আপদস্বরূপ করিব।

আয়াতঃ ৬৪⇒ নিশ্চয় সেই বৃক্ষ নরকমূলেতে উৎপন্ন হইবে।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তাহার স্তবক যেন শয়তানকুলের মস্তকশ্রেণী।

আয়াতঃ ৬৬⇒ অনন্তর তাহারা তাহার (ফল) অবশ্য ভক্ষন করিবে, পরে তাহা দ্বারা উদর পূর্ণ করিবে।

আয়াতঃ ৬৭⇒ তৎপর নিশ্চয় তাহাদের জন্য তাহাতে (সেই খাদ্যের মধ্যে) উষ্ণোদকের মিশ্রন হইবে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ তৎপর অবশ্য নরকের নিকে তাহাদের পুনর্গমন হইবে।

আয়াতঃ ৬৯⇒ একান্তই তাহারা স্বীয় পিতৃপুরুষদিগকে বিপথগামী পাইয়াছে।

আয়াতঃ ৭০⇒ পরে তাহারা তাহাদের পদচিহ্নের অনুসরণে ধাবিত হইতেছে।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং সত্যসত্যই তাহাদের পূর্বে অধিকাংশ প্রাচীন লোক বিপথগামী হইয়াছে।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাদিগের মধ্যে ভয়প্রদর্শকদিগকে প্রেরণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৩+৭৪⇒ অনন্তর দেখ ঈশ্বরের বিশুদ্ধ দাসগণ ব্যতীত ভয় প্রদর্শিতদিগের পরিণাম কেমন হইয়াছে?

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং সত্যসত্যই নুহা আমাকে ডাকিয়াছিল, তখন আমি উত্তম উত্তরদাতা ছিলাম।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং তাহাকে ও তাহার স্বজনদিগকে আমি মহা দুঃখ হইতে উদ্ধার করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং তাহার সন্তানদিগকে সৃষ্টি করিয়াছিলাম, তাহারা অবশিষ্ট ছিল।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং তাহার সম্বন্ধে পরবর্তী (মণ্ডলীর) মধ্যে (সৎপ্রশংসা) রাখিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৭৯⇒ জগতে নুহার প্রতি সলাম হৌক।

আয়াতঃ ৮০⇒ নিশ্চয় আমি এইরুপে হিতকারী লোকদিগকে বিনিময় দান করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৮১⇒ নিশ্চয় সে আমার বিশ্বাসী দাসদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৮২⇒ তৎপর আমি অন্য লোকদিগকে জলমগ্ন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং নিশ্চয় তাহার অনুবর্তী লোকদিগের মধ্যে এব্রাহিম ছিল।

আয়াতঃ ৮৪⇒ (স্মরণ কর) যখন সে সুস্থ মনে আপন প্রতিপালকের নিকটে উপস্থিত হইল।

আয়াতঃ ৮৫⇒ যখন সে আপন পিতাকে ও আপন দলকে বলিল, “তোমরা কাহাকে অর্চনা করিয়া থাক?

আয়াতঃ ৮৬⇒ ঈশ্বরকে ছাড়িয়া কি অসত্য ঈশ্বরকে চাহিতেছ?

আয়াতঃ ৮৭⇒ অনন্তর বিশ্বপালকের প্রতি তোমাদের কি প্রকার মত”?

আয়াতঃ ৮৮⇒ পরে সে নক্ষত্রমণ্ডলীর প্রতি এক দৃষ্টিতে দৃষ্টি করিল।

আয়াতঃ ৮৯⇒ অবশেষে বলিল, “নিশ্চয় আমি পীড়িত”,।

আয়াতঃ ৯০⇒ পরে তাহারা তাহার প্রতি পৃষ্ঠ দিয়া ফিরিয়া গেল।

আয়াতঃ ৯১⇒ অনন্তর সে তাহাদের পরমেশ্বরগণের নিকটে গোপনে গেল, পশ্চাৎ বলিল, “তোমরা কি (নৈবিদ্য) খাও না?

আয়াতঃ ৯২⇒ তোমাদের কি হইয়াছে যে, কথা কহিতেছ না”?

আয়াতঃ ৯৩⇒ পরে সে দক্ষিন হস্তে তাহাদের প্রতি প্রহার করিতে গোপনে প্রবৃত্ত হইল।

আয়াতঃ ৯৪⇒ পরিশেষে তাহারা (নোমরুদীয় দল) তাহার নিকটে দৌড়িয়া আসিল।

আয়াতঃ ৯৫⇒ সে জিজ্ঞাসা করিল, “তোমরা যাহাকে নির্মাণ কর তাহাকে কি পূজা করিয়া থাক?

আয়াতঃ ৯৬⇒ এবং ঈশ্বর তোমাদিগকে ও তোমরা যাহা কিছু করিয়া থাক তাহা সৃজন করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ৯৭⇒ তাহারা পরস্পর বলিল, “তাহার জন্য এক অট্টালিকা নির্মাণ কর, পরে (কাষ্ঠপুঞ্জে পূর্ণ করিয়া) তাহাকে (নরকের) অগ্নিতে নিক্ষেপ কর”।

আয়াতঃ ৯৮⇒ অবশেষে তাহারা তাহার প্রতি দুর্ব্যবহার করিতে ইচ্ছা করিল, পরে আমি তাহাদিগকে অত্যন্ত হীন করিলাম।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এবং সে বলিল, “নিশ্চয় আমি আপন প্রতিপালকের দিকে গমনকারী, অবশ্য তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করিবেন।

আয়াতঃ ১০০⇒ হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে সাধুদিগের (একজন) দান কর”।

আয়াতঃ ১০১⇒ অবশেষে আমি তাহাকে প্রশান্ত বালকের (এসমায়িল নামক পুত্রের) সুসংবাদ দান করিলাম।

আয়াতঃ ১০২⇒ পরে যখন সে তাহার সঙ্গে দৌড়িবার বয়ঃপ্রাপ্ত হইল, তখন সে বলিল, “হে আমার নন্দন, নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখিয়াছি যে, সত্যই আমি তোমাকে বলিদান করিতেছি, অতএব তুমি কি দেখিতেছি দেখ”, সে বলিল, হে আমার পিতা, যাহা আদিষ্ট হইয়াছ তাহা কর, ঈশ্বরেচ্ছায় তুমি আমাকে অবশ্য সহিষ্ণুদিগের অন্তর্গত পাইবে”।

আয়াতঃ ১০৩⇒ পরে যখন তাহারা দুইজনে (ঈশ্বরাজ্ঞার) অনুগত হইল, এবং সে তাহাকে (ছেদন করিতে) ললাটের অভিমুখে ফেলিল।

আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং আমি তাহাকে ডাকিলাম যে, “হে এব্রাহিম”,।

আয়াতঃ ১০৫⇒ সত্যই তুমি স্বপ্নকে সপ্রমাণ করিয়াছ, নিশ্চয় আমি এইরুপে হিতকারী লোকদিগকে বিনিময় দান করিয়া থাকি”।

আয়াতঃ ১০৬⇒ নিশ্চয় ইহা সেই স্পষ্ট পরীক্ষা।

আয়াতঃ ১০৭⇒ আমি তাহাকে বৃহৎবলি (শৃঙ্গযুক্ত পুংমেঘ) বিনিময় দান করিলাম।

আয়াতঃ ১০৮⇒ এবং তাহার সম্বন্ধে (সৎ প্রশংসা) ভবিষ্যদ্বংশীয়দিগের প্রতি রাখিলাম।

আয়াতঃ ১০৯⇒ এব্রাহিমের প্রতি সলাম হৌক।

আয়াতঃ ১১০⇒ এইরুপে আমি হিতকারীদিগকে বিনিময় দান করি।

আয়াতঃ ১১১⇒ নিশ্চয়ই সে আমার বিশ্বাসী দাসদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ১১২⇒ এবং আমি তাহাকে সাধুদিগের অন্তর্গত এক প্রেরিতপুরুষ এসহাক (পুত্রের) সম্বন্ধে সুসংবাদ দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১১৩⇒ এবং তাহার প্রতি ও এসহাকের প্রতি আশীর্বাদ করিয়াছিলাম, এবং তাহাদের সন্তানগণের মধ্যে কতক হিতকারী ও কতক আপন জীবন সম্বন্ধে স্পষ্ট অত্যাচারী হয়।

আয়াতঃ ১১৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসা ও হারুনের সম্বন্ধে উপকার করিয়াছি। এবং তাহাদিগকে ও তাহাদের দলকে মহা ক্লেশ হইতে বাঁচাইয়াছি।

আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং তাহাদিগকে সাহায্য দান করিয়াছি, পরে তাহারা বিজয়ী হইয়াছে।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং তাহাদিগকে বর্ণনাকারক গ্রন্থ দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ১১৭⇒ এবং তাহাদিগকে সরল পথ দেখাইয়াছি।

আয়াতঃ ১১৮⇒ এবং তাহাদের সম্বন্ধে পরবর্তী লোকদিগের মধ্যে (সৎ প্রশংসা) রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ১১৯⇒ মুসা ও হারুনের প্রতি সলাম হৌক।

আয়াতঃ ১২০⇒ নিশ্চয় আমি এইরুপে হিতকারীদিগকে বিনিময় দান করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১২১⇒ নিশ্চয় তাহারা আমার বিশ্বাসী দাসদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ১২২⇒ এবং নিশ্চয় এলিয়াস প্রেরিতপুরুষদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ১২৩⇒ (স্মরণ কর) যখন সে আপন দলকে বলিল, “তোমরা কি ধর্ম ভয় ভীরু হইতেছ না?

আয়াতঃ ১২৪⇒ তোমরা কি বাল নামক প্রতিমাকে পূজা করিয়া থাক ও অত্যুত্তম সৃষ্টিকর্তাকে পরিহার কর?

আয়াতঃ ১২৫⇒ ঈশ্বরই তোমাদের প্রতিপালক, এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদিগের প্রতিপালক”।

আয়াতঃ ১২৬+১২৭⇒ অনন্তর তাহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলিল, পরে নিশ্চয় ঈশ্বরের বিশুদ্ধ দাসগণ ব্যতীত তাহারা (শাস্তির মধ্যে) আনীত হইবে।

আয়াতঃ ১২৮⇒ এবং তাহার সম্বন্ধে আমি পরবর্তী লোকদিগের মধ্যে (সৎ প্রশংসা) রাখিলাম।

আয়াতঃ ১২৯⇒ এলিয়াসের প্রতি সলাম হৌক।

আয়াতঃ ১৩০⇒ নিশ্চয় আমি এইরুপে হিতকারীদিগকে বিনিময় দান করি।

আয়াতঃ ১৩১⇒ নিশ্চয় সে আমার বিশ্বাসী দাসদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ১৩২⇒ এবং নিশ্চিত লুত প্রেরিতদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ১৩৩+১৩৪⇒ (স্মরণ কর) যখন এক বৃদ্ধা নারী ব্যতীত যে অবশিষ্ট লোকদিগের মধ্যে ছিল তাহাকে ও তাহার স্বজনবর্গকে আমি একযোগে উদ্ধার করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ তৎপর অপর লোকদিগকে সংহার করিলাম।

আয়াতঃ ১৩৬+১৩৭⇒ নিশ্চয় তোমরা তাহাদের দিকে প্রাতে ও রাত্রিতে গিয়া থাক, অনন্তর তোমরা কিন্তু টের পাইতেছ না?

আয়াতঃ ১৩৮⇒ এবং নিশ্চয় ইয়ুনস প্রেরিতদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ (স্মরণ কর) যখন সে (লোকে) পরিপূর্ণ নৌকার দিকে পলায়ন করিল।

আয়াতঃ ১৪০⇒ পরে নৌকার লোকদিগের সঙ্গে সূর্তি ধরিল, অনন্তর পরাস্ত হইল।

আয়াতঃ ১৪১⇒ পরে মৎস্য তাহাকে উদরস্থ করিল ও সে (আপনার প্রতি) অনুযোগকারী ছিল।

আয়াতঃ ১৪২+১৪৩⇒ অনন্তর যদি নিশ্চয় সে স্তুতিকারকদিগের অন্তর্গত না হইত তবে তাহার উদরে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত বাস করিত।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ অবশেষে আমি তাহাকে মরুভূমিতে বিসর্জন করি, তখন সে পীড়িত ছিল।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ এবং আমি তাহার উপর অলাবুলতা উৎপাদন করি।

আয়াতঃ ১৪৬⇒ এবং আমি তাহাকে লক্ষ অথবা অধিক লোকের নিকটে পাঠাইয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৪৭⇒ পরে তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিল, অনন্তর নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আমি তাহাদিগকে ফলভোগী করিলাম।

আয়াতঃ ১৪৮⇒ অবশেষে তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগের (প্রত্যেককে) প্রশ্ন কর যে, “তোমার ঈশ্বরের কি কন্যা সকল আছে ও তাহাদের কি পুত্র আছে”?

আয়াতঃ ১৪৯⇒ আমি কি দেবতাদিগকে নারীরুপে সৃষ্টি করিয়াছি? এবং তাহারা (তখন) উপস্থিত ছিল?

আয়াতঃ ১৫০+১৫১⇒ জানিও নিশ্চয় তাহারা আপনাদের মিথ্যাবাদিতা দ্বারা বলিতেছে যে, “ঈশ্বর জন্মদান করিয়াছেন; এবং নিশ্চয় তাহারা অসত্যবাদী”।

আয়াতঃ ১৫২⇒ পুত্রদিগের উপর কণ্যাদিগকে কি (পরমেশ্বর) মনোনীত করিয়াছেন?

আয়াতঃ ১৫৩⇒ তোমাদের কি হইয়াছে, তোমরা কিরুপ আজ্ঞা করিতেছ?

আয়াতঃ ১৫৪⇒ অনন্তর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ ১৫৫⇒ তোমাদের জন্য কি উজ্জ্বল প্রমাণ আছে?

আয়াতঃ ১৫৬⇒ তাহারা বলিল, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আপন গ্রন্থ উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ এবং তাহারা তাঁহার ও দৈত্যগণের মধ্যে কুটুম্বিতা স্থাপন করিয়াছে, এবং সত্যসত্যই দানবগণ জ্ঞাত আছে যে, তাহারা (শাস্তির জন্য) সমানীত হইবে।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ ঈশ্বরের বিশুদ্ধ দাসগণ ব্যতীত তাহারা যাহা বর্ণন করে তদপেক্ষা ঈশ্বরের অধিক পবিত্রতা।

আয়াতঃ ১৫৯+১৬০+১৬১+১৬২+১৬৩⇒ অনন্তর নিশ্চয় (হে কাফেরগণ) তোমরা যাহাকে অর্চনা করিয়া থাক তাহা (এই) তোমরা সকলে যে ব্যক্তি নরকগামী তাহাকে ব্যতীত (অন্য কাহাকেও) তাহার (উপাস্য প্রতিমার) দিকে পথভ্রান্তকারী নও।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ এবং আমাদের মধ্যে (এমন কেহ) নাই যাহার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নাই।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ এবং নিশ্চয় আমরা শ্রেণী বন্ধনকারী।

আয়াতঃ ১৬৬⇒ এবং নিশ্চয় আমরা স্তুতিকারী।

আয়াতঃ ১৬৭+১৬৮+১৬৯⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা বলিয়া থাকে, “যদি আমাদের নিকটে পূর্বতন লোকদিগের কোন স্মরণ চিহ্ন (উপদেশ গ্রন্থাদি) থাকিত তবে অবশ্য আমরা ঈশ্বরের প্রেমিক দাসদিগের অন্তর্গত হইতাম।

আয়াতঃ ১৭০⇒ অনন্তর তাহারা তৎসম্বন্ধে (কোরআন সম্বন্ধে) বিদ্রোহী হইল, পরে শীঘ্রই জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ ১৭১⇒ এবং সত্যসত্যই স্বীয় প্রেরিত দাসদিগের সম্বন্ধে আমার উক্তি প্রথমেই হইয়াছে।

আয়াতঃ ১৭২⇒ নিশ্চয় ইহারা তাহারাই যে সাহায্যপ্রাপ্ত।

আয়াতঃ ১৭৩⇒ আমার সেই সৈন্য যে, তাহারা বিজয়ী।

আয়াতঃ ১৭৪⇒ অনন্তর তুমি (হে মোহম্মদ) কিছুকাল পর্যন্ত তাহাদিগ হইতে বিমুখ থাক।

আয়াতঃ ১৭৫⇒ এবং তাহাদিগকে দেখ, পরে তাহারাও শীঘ্র দেখিতে পাইবে।

আয়াতঃ ১৭৬⇒ অনন্তর তাহারা কি আমার শাস্তি শীঘ্র চাহিতেছে?

আয়াতঃ ১৭৭⇒ পরে যখন তাহাদের অঙ্গনে (শাস্তি) অবতীর্ণ হইবে তখন ভয়প্রাপ্ত লোকদিগের পক্ষে প্রাতঃকালে অশুভ ঘটিবে।

আয়াতঃ ১৭৮⇒ এবং তুমি কিছুকাল পর্যন্ত তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও।

আয়াতঃ ১৭৯⇒ এবং দেখ, পরে তাহারাও অবশ্য দেখিতে পাইবে।

আয়াতঃ ১৮০⇒ তাহারা যাহা বর্ণন করিয়া থাকে তাহা অপেক্ষা তোমার প্রতিপালক (অধিক) গৌরবান্বিত প্রভু, পবিত্র।

আয়াতঃ ১৮১⇒ এবং প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি সলাম হৌক।

আয়াতঃ ১৮২⇒ এবং বিশ্বপালক পরমেশ্বররই সম্যক প্রশংসা।