সূরাঃ সবা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ যে কিছু স্বর্গে ও যে কিছু পৃথিবীতে আছে সেই সকল যাঁহার, সেই ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা, এবং পরলোকে তাঁহারই সম্যক প্রশংসা, এবং তিনি বিজ্ঞানময় তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ০২⇒ ভূতলে যাহা উপস্থিত হয় ও তাহা হইতে যাহা নির্গত হইয়া থাকে এবং যাহা আকাশ হইতে অবতীর্ণ হয় ও যাহা তথায় উত্থিত হইয়া থাকে তাহা তিনি জানেন, এবং তিনি দয়ালু ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিয়াছে যে, আমাদের নিকটে কেয়ামত উপস্থিত হইবে না, তুমি বল, (হে মোহম্মদ) হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ, অবশ্য তোমাদের নিকটে নিগূঢ় তত্ত্বজ্ঞ (ঈশ্বর) আগমন করিবেন, স্বর্গে ও পৃথিবীতে রেনু পরিমাণ এবং ইহা অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর অপিচ বৃহত্তর উজ্জ্বল গ্রন্থে (লিপি আছে) ভিন্ন তাহা হইতে লুক্কায়িত নহে।

আয়াতঃ ০৪⇒ তাহাতে তিনি যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদিগকে পুরস্কার দিবেন, ইহারাই যাহাদের জন্য উৎকৃষ্ট ক্ষমা ও উপজীবিকা আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকল সম্বন্ধে (তাহার) হীনতা সম্পাদক হইবার চেষ্টা করিয়াছে, ইহারাই যে তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তির শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহারা দেখে যে, তোমার প্রতি যাহা তোমার প্রতিপালক হইতে অবতারিত হইয়াছে তাহা সত্য, এবং (তাহা) প্রশংসিত বিজয়ী (পরমেশ্বর) পথের দিকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ (পরস্পর) বলে যে, “আমরা কি সেই ব্যক্তির দিতে তোমাদিগকে পথ দেখাইব যে ব্যক্তি তোমাদিগকে সংবাদ দিয়া থাকে যে, যখন তোমরা সম্পূর্ণ খন্ডখন্ডরুপে খন্ডীকৃত হইয়া যাইবে তখন নিশ্চয় তোমরা নূতন সৃষ্টির মধ্যে হইবে”?

আয়াতঃ ০৮⇒ সে কি ঈশ্বর সম্বন্ধে অসত্য সংবদ্ধ করিয়াছে, না তাহাতে ক্ষিপ্ততা আছে? বরং যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাহারা শাস্তি ও দূরতর পথভ্রান্তির মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ০৯⇒ অনন্তর তাহাদের সম্মুখে ও তাহাদের পশ্চাতে স্বর্গ ও পৃথিবীস্থ যাহা আছে তাহার দিকে কি তাহারা দৃষ্টি করে নাই? যদি আমি ইচ্ছা করি তবে তাহাদিগকে মৃত্তিকায় প্রোথিত করিব, অথবা তাহাদের উপর আকাশের এক খন্ড ফেলিয়া দিব, নিশ্চয় ইহার মধ্যে প্রত্যেক পুনর্মিলনকারী দাসের জন্য নিদর্শন আছে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং সত্যসত্যই আমি দাউদকে আপন সন্নিধান হইতে মহত্ত্ব দান করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) “হে পর্বত সকল, তাহার সঙ্গে তোমরা স্তব করিতে থাক” ও পক্ষীদিগকে (তাহার বশীভূত করিয়াছিলাম) এবং তাহার জন্য লৌহকে কোমল করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১১⇒ (এবং বলিয়াছিলাম) যে, “তুমি সুবিস্তৃত বর্ম প্রস্তুত করিতে থাক ও তাহা বয়নে পরিমাণ রক্ষা কর, এবং (হে দাউদের পরিজনবর্গ) তোমরা সাধু অনুষ্ঠান করিতে থাক, নিশ্চয় আমি তোমরা যাহা করিয়া থাক তাহার দ্রষ্টা”।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং সোলয়মানের জন্য বায়ুকে (বশীভূত রাখিয়াছিলাম) তাহার প্রাভাতিক গতি এক মাসের পথ ও সায়ংকালীন গতি এক মাসের পথ ছিল, এবং আমি তাহার জন্য দ্রবীভূত তাম্রের প্রস্রবন সঞ্চারিত করিয়াছিলাম ও কোন কোন দৈত্যকে (বশীভূত রাখিয়াছিলাম) যে, আপন প্রতিপালকের আদেশানুসারে যেন তাহারা তাহার সম্মুখে কার্য করে, এবং (নির্ধারণ করিয়াছিলাম) যে, তাহাদের যে কেহ আমার আজ্ঞার বিরুদ্ধাচরণ করিবে তাহাকে আমি নরকদন্ড ভোগ করাইব।

আয়াতঃ ১৩⇒ তাহারা তাহার জন্য দুর্গ ও প্রতিমূর্তি এবং সরোবরতুল্য তৈজসপাত্র ও অচল রন্ধনপাত্র (বৃহৎ ডেগ) সকলের যাহা ইচ্ছা নির্মাণ কৃত, (আমি বলিয়াছিলাম) “হে দাউদের সন্তানগণ, তোমরা ধন্যবাদ করিতে থাক,” কিন্তু আমার দাসদিগের মধ্যে অল্পই ধন্যবাদকারী।

আয়াতঃ ১৪⇒ অনন্তর যখন আমি তাহার প্রতি মৃত্যুকে নিযুক্ত করিলাম, তখন তাহার মৃত্যুর দিকে বল্মিক কীট ব্যতীত তাহাদিগকে জ্ঞাপন করি নাই, (কীটে) তাহার যষ্টি ভক্ষন করে, পরে যখন সে পড়িয়া যায় তখন দৈত্যগণ জানিতে পায়, এই যে যদি তাহারা গুপ্ত বিষয় জানিত তবে দুর্গতিজনক শাস্তির মধ্যে স্থিতি করিত না।

আয়াতঃ ১৫⇒ সত্যসত্যই সবা নগরবাসীদিগের জন্য তাহাদের বাসস্থানে নিদর্শন ছিল, দক্ষিনে ও বামে দুই উদ্যান ছিল, (আমি বলিয়াছিলাম) যে, “তোমরা আপনার প্রতিপালকের উপজীবিকা ভোগ করিতে থাক, এবং তাঁহাকে ধন্যবাদ কর, (তোমাদিগের) নগর বিশুদ্ধ এবং প্রতিপালক ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ১৬⇒ পরে তাহারা অগ্রাহ্য করিল, তখন আমি তাহাদিগের প্রতি মহাজল প্লাবন প্রেরণ করিলাম, এবং তাহাদিগের সেই উদ্যানের সঙ্গে অম্ল ও লবণাক্ত ফলের এবং অল্প কিছু বদরী তরুর দুই উদ্যান পরিবর্তন করিলাম।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা যে কৃতঘ্ন হইয়াছিল তজ্জন্য তাহাদিগকে এই বিনিময় দান করিলাম, এবং আমি কৃতঘ্নগণকে ব্যতীত শাস্তি দান করি না।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং আমি তাহাদিগের মধ্যে ও সেই গ্রাম সকলের যাহার প্রতি আমি আশীর্বাদ করিয়াছি তাহার মধ্যে দীপ্তিমান গ্রাম সকল স্থাপন করিয়াছিলাম, এবং সেই সকলের মধ্যে ভ্রমণ নিরূপণ করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) “তোমরা এ সমস্তের ভিতরে দিবারাত্রি নিরাপদে ভ্রমণ করিতে থাক”।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর তাহারা বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পর্যটনের মধ্যে দূরত্ব বিধান কর,” এবং তাহারা আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছিল, অনন্তর তাহাদিগকে আমি আখ্যায়িকা বলিতে দিলাম, এবং তাহাদিগকে সম্পূর্ণ খন্ড খন্ড খন্ড করিলাম, নিশ্চয় ইহার মধ্যে প্রত্যেক সহিষ্ণু ও ধন্যবাদকারীর জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং সত্যসত্যই শয়তান স্বীয় কল্পনা তাহাদিগের সম্বন্ধে সপ্রমাণ করিয়াছিল, অনন্তর বিশ্বাসীদিগের একদল ব্যতীত তাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যে ব্যক্তি পরলোকে বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে তাহাকে, যে জন তাহাতে সন্দেহযুক্ত সেই ব্যক্তি হইতে (পৃথক) জানিব এ বিষয়ে ভিন্ন তাহাদের উপরে তাহার (শয়তানের) ক্ষমতা ছিল না, এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) সর্ববিষয়ে সংরক্ষক।

আয়াতঃ ২২⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) ঈশ্বর ব্যতীত তোমরা যাহাদিগকে উপাস্য মনে করিতেছ তাহাদিগকে আহ্বান কর, স্বর্গে ও পৃথিবীতে তাহারা এক বিন্দু পরিমাণ কর্তৃত্ব রাখে না, এবং সেই উভ্য স্থানে তাহাদের কোন অংশীত্ব নাই, এবং তাহাদের মধ্যে তাঁহার কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং যাহাকে তিনি অনুমতি দান করেন যে ব্যতীত (অন্যের) শফাঅত (পুনরুত্থানের দিনে পাপ-ক্ষমার অনুরোধ) তাঁহার নিকটে ফল দর্শিবে না, এ পর্যন্ত, যখন তাহাদের অন্তঃকরণ হইতে উৎকণ্ঠা দূর করা হইবে তখন তাহারা পরস্পর বলিবে, “তোমাদের প্রতিপালক (শফাঅত বিষয়ে) যাহা বলিয়াছেন তাহা কি”? বলিবে, “উহা সত্য”, এবং তিনি উন্নত গৌরবান্বিত।

আয়াতঃ ২৪⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, স্বর্গ ও পৃথিবী হইতে কে তোমাদিগকে জীবিকা দান করিয়া থাকে? বল, পরমেশ্বর, এবং নিশ্চয় আমরা অথবা তোমরা পথপ্রাপ্তিতে কিংবা স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে স্থিত।

আয়াতঃ ২৫⇒ তুমি বল, আমরা যে অপরাধ করি তদ্বিষয়ে তোমাদিগকে প্রশ্ন করা যাইবে না, এবং তোমরা যে কার্য কর তৎসম্বন্ধে আমাদিগকে প্রশ্ন করা হইবে না।

আয়াতঃ ২৬⇒ তুমি বল, আমাদের প্রতিপালক (কেয়ামতে) আমাদিগকে মধ্যে সম্মিলন সম্পাদন করিবেন, তৎপর আমাদের মধ্যে সত্যভাবে আজ্ঞা প্রচার করিবেন, এবং তিনি আজ্ঞাপ্রচারক জ্ঞানময়।

আয়াতঃ ২৭⇒ তুমি বল, যাহাদিগকে তোমরা তাঁহার সঙ্গে অংশীরুপে যোগ করিয়াছ তাহাদিগকে আমাকে প্রদর্শন কর, সেরুপ (অংশী) নয়, এবং সেই ঈশ্বর পরাক্রান্ত কৌশলময়।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং মানবমণ্ডলীর জন্য পর্যাপ্ত (স্বর্গের) সুসংবাদদাতা ও (নরকের) ভয়প্রদর্শকরুপে ভিন্ন তোমাকে আমি প্রেরণ করি নাই, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং তাহারা বলে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই অঙ্গীকার কবে (পূর্ণ হইবে)”?

আয়াতঃ ৩০⇒ তুমি বল, তোমাদের জন্য সেই এক দিনের সেই অঙ্গীকার, তাহা হইতে একদন্ড পশ্চাৎ থাকিবে না ও অগ্রসর হইবে না।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিল যে, “আমরা এই কোরআনকে ও তাহার পূর্বে যাহা (যে গ্রন্থ) আছে তাহাকে বিশ্বাস করি না;” যখন অত্যাচারিগণকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে দন্ডায়মান প্রতি বাক্য প্রয়োগ করিবে, দুর্বল লোকেরা প্রবলদিগকে বলিবে, “যদি তোমরা না থাকিতে তবে অবশ্য আমরা বিশ্বাসী হইতাম”।

আয়াতঃ ৩২⇒ প্রবল লোকেরা দুর্বলদিগকে বলিবে, “ধর্মালোক হইতে তাহা তোমাদিগের নিকটে উপস্থিত হওয়ার পর আমরা কি তোমাদিগকে নিবৃত্ত করিয়াছিলাম? বরং তোমরাই অপরাধী ছিলে”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং দুর্বলগণ প্রবলদিগকে বলিবে, “যে সময়ে তোমরা ঈশ্বরের সঙ্গে বিদ্রোহীতা করিতে ও তাঁহার সদৃশ নিরূপণ করিতে আমাদিগকে আদেশ করিতেছিলে, তখনই বরং (তোমাদের) দিবা-রাত্রির ছলনা আমাদিগকে (নিবৃত্ত করিয়াছিল”) এবং যখন তাহারা শাস্তি দর্শন করিবে, তখন অনুশোচনা গোপন করিয়া রাখিবে, এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদের গলদেশে আমি গলবন্ধন সকল স্থাপন করিব, তাহারা যাহা করিতেছিল অদনুরুপ ব্যতীত দন্ডিত হইবে না।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং আমি কোন গ্রামে এমন কোন ভয়-প্রদর্শককে প্রেরণ করি নাই যে, তাঁহার অধিবাসী ধনশালী লোকেরা (তাহাকে) বলে নাই যে, “তোমরা যৎসহ প্রেরিত হইয়াছ আমরা তৎসম্বন্ধে অবিশ্বাসী”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং তাহারা বলিয়াছিল, “আমরা ধনরাশি ও সন্তান-সন্ততিতে শ্রেষ্ঠ ও আমরা শাস্তিগ্রস্থ হইব না”।

আয়াতঃ ৩৬⇒ তুমি বল, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক যাহার জন্য ইচ্ছা করেন জীবিকা বিস্তৃত ও সংকুচিত করিয়া থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য জ্ঞাত নহে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা ভিন্ন যাহা তোমাদিগকে আমার নিকটে সান্নিধ্য পথে সন্নিহিত করাইবে (ভাবিতেছ) সেই তোমাদের সম্পত্তি ও তোমাদের সন্তান নহে, অনন্তর এই তাহারাই, আপনাদের জন্য তাহারা যে (শুভ) কর্ম করিয়াছে তন্নিমিত্ত দ্বিগুণ পুরস্কার আছে, এবং তাহারা (স্বর্গস্থ) প্রাসাদ সকলের মধ্যে নির্বিঘ্নে থাকিবে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি নির্যাতনকারীরুপে যত্ন করে, এই তাহারাই শাস্তির ভিতরে উপস্থাপিত হইবে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আপন দাসদিগের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহার জন্য জীবিকা বিস্তৃত ও সঙ্কুচিত করিয়া থাকেন, এবং তোমরা যে কোন বস্তু (সদ) ব্যয় করে পরে তিনি তাহার বিনিময় দান করিবেন, এবং তিনি জীবিকাদাতাদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৪০⇒ (স্মরণ কর) যে দিবস তিনি এক যোগে তাহাদিগকে সমুত্থাপণ করিবেন, তৎপর দেবতাদিগকে জিজ্ঞাসা করিবেন, ইহারা কি তোমাদিগকে অর্চনা করিতেছিল”?

আয়াতঃ ৪১⇒ তাহারা বলিবে, “পবিত্রতা তোমার (হে ঈশ্বর) তাহারা ব্যতীত তুমি আমাদিগের বন্ধু, বরং তাহারা দৈত্যের পূজা করিতেছিল, তাহাদিগের অধিকাংশ উহাদিগের প্রতিই বিশ্বাসী।

আয়াতঃ ৪২⇒ অনন্তর অদ্য তোমরা পরস্পর পরস্পরের লাভ ও ক্ষতি করিতে পারিবে না, এবং অত্যাচারীদিগকে আমি বলিব যে, যৎসম্বন্ধে তোমরা অসত্যারোপ করিতেছিলে সেই অগ্নিদন্ড ভোগ করিতে থাক।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে আমার উজ্জ্বল নিদর্শন সকল পঠিত হয় তখন তাহারা পরস্পর বলে, “তোমাদের পিতৃপুরুষগণ যাহাকে অর্চনা করিতেছিল (এ) এক ব্যক্তি তাহা হইতে তোমাদিগকে নিবৃত্ত করিতে চাহে বৈ (অন্য) নহে,” এবং তাহারা বলে, “অসত্য রচিত ভিন্ন ইহা (এই কোরআন) নহে”, যাহারা সত্যের প্রতি তাহাদের নিকটে উহা উপ্সতজিত হওয়ার পর বিদ্রোহাচরণ করিয়াছে, তাহারা বলে, “ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং আমি তাহাদিগকে গ্রন্থ সকল দান করি নাই যে, তাহারা তাহা পাঠ করিয়া থাকে ও তাহাদের নিকটে তোমার পূর্বে কোন ভয়প্রদর্শক প্রেরণ করি নাই।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং যাহারা তাহাদের পূর্বে ছিল তাহাদের প্রতি উহারা অসত্যারোপ করিয়াছে, আমি তাহাদিগকে (পূর্ববর্তীদিগকে) যাহা দান করিয়াছি উহারা (বর্তমান মক্কাবাসিগণ) তাহার দশমাংশও প্রাপ্ত হয় নাই। অতএব আমার প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি তাহারা অসত্যারোপ করিয়াছে, অনন্তর কেমন আমার শাস্তি হইল।

আয়াতঃ ৪৬⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) এক বিষয়ে তোমাদিগকে আমি উপদেশ দিতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, তোমরা ঈশ্বরের জন্য দুই-দুই জন ও এক-এক জন করিয়া গাত্রোত্থান কর, তৎপর বিবেচনা করিতে থাক কোন দৈত্য তোমাদের বন্ধু নহে, সে (মোহম্মদ) তোমাদের জন্য ভবিষ্যৎ কঠিন শাস্তির ভয়প্রদর্শক ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ তুমি বল, আমি তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, অনন্তর উহা তোমাদের জন্যই হয়, ঈশ্বরের নিকটে ভিন্ন আমার পারিশ্রমিক নাই, এবং তিনি সর্বোপরি সাক্ষী।

আয়াতঃ ৪৮⇒ তুমি বল, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সত্য প্রেরণ করিয়া থাকেন, ইনি গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৪৯⇒ বল, সত্য উপস্থিত হইয়াছে, এবং অসত্য (শয়তান) প্রথম সৃষ্টি করে নাই ও পরেও করিবে না।

আয়াতঃ ৫০⇒ বল, যদি আমি পথভ্রান্ত হই তবে স্বীয় জীবন সম্বন্ধে পথভ্রান্ত হইতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যদি পথ প্রাপ্ত হই তবে আমার প্রতি যে আমার প্রতিপালক প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেন তজ্জন্য হইয়া থাকি, নিশ্চয় তিনি সন্নিহিত শ্রোতা।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং যখন তাহারা ভয় পাইবে তখন তুমি যদি দেখ (ভাল হয়) অনন্তর (পলায়ন করিলেও তাহাদের শাস্তির) নিবৃত্তি হইবে না, এবং সন্নিহিত স্থান হইতে তাহারা ধৃত হইবে।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং তাহারা বলে, “আমরা তৎপ্রতি (কোরআনের প্রতি) বিশ্বাস স্থাপন করিলাম;” এবং কোথা হইতে তাহাদের (বিশ্বাস) অবলম্বন হইবে, দূরতর স্থান হইতে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং বস্তুতঃ পূর্ব হইতে তৎপ্রতি তাহারা অবিশ্বাসী হইয়াছে, এবং দূরবর্তী স্থান হইতে না জানিয়া (অনুমানে কথা) নিক্ষেপ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৫৪⇒ তাহাদের মধ্যে ও তাহারা যাহা অভিলাষ করিতেছে তাহার মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন করা হইয়াছে, যেমন তোমার পূর্ববর্তী সম্প্রদায় সকলের প্রতি করা হইয়াছিল, নিশ্চয় তাহারা উৎকণ্ঠাজনক সন্দেহের মধ্যে ছিল।