সূরাঃ শোঅরা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ (পাপ) গোপনকারী ও পবিত্র এবং মহিমান্বিত।

আয়াতঃ ০২⇒ উজ্জ্বল গ্রন্থের এই আয়াত সকল।

আয়াতঃ ০৩⇒ তুমি (হে মোহম্মদ) সম্ভবতঃ আপন জীবনের বিনাশক হইয়াছ, যেহেতু তাহারা বিশ্বাসী হইতেছে না।

আয়াতঃ ০৪⇒ আমি ইচ্ছা করিলে স্বর্গ হইতে তাহাদের নিকটে কোন নিদর্শন প্রেরণ করিতাম, তখন তাহার জন্য তাহাদের গ্রীবা নত হইত।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবগ ঈশ্বর হইতে তাহাদের নিকটে (এমন) কোন নূতন উপদেশ আসে নাই যে, তাহারা তাহা হইতে বিমুখ হয় নাই।

আয়াতঃ ০৬⇒ অনন্তর তাহারা অসত্যারোপ করিয়াছে, অবশেষে যাহারা তাহার প্রতি উপহাস করিতেছিল সত্বরই তাহাদের নিকট তাহার তত্ত্ব আসিবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ তাহারা কি পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি করে না যে, আমি তাহাতে সকল প্রকারের কত উত্তম (বস্তু) উৎপাদন করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৮⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে এক নিদর্শন আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নহে।

আয়াতঃ ০৯⇒ নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক মুসাকে ডাকিলেন যে, “তুমি অত্যাচারী দলের নিকটে যাও।

আয়াতঃ ১১⇒ ফেরওনের দল, তাহারা কি ধর্মভীরু হইতেছে না”?

আয়াতঃ ১২⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি ভয় পাইতেছি যে, তাহারা আমার প্রতি অসত্যারোপ করিবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং আমার বক্ষ সঙ্কুচিত হইতেছে ও আমার রসনা সঞ্চালিত হইতেছে না, অতএব হারুনের প্রতি (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ কর।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং তাহাদের সম্বন্ধে আমাতে কোন অপরাধ আছে, অতএব আমি শঙ্কিত আছি যে, তাহারা আমাকে বধ করিবে”।

আয়াতঃ ১৫⇒ তিনি বলিলেন, “এরুপ হইবে না, অনন্তর তোমরা দুইজন আমার নিদর্শন সকল সহ যাও, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে শ্রোতা আছি।

আয়াতঃ ১৬⇒ অবশেষে তোমরা ফেরওনের নিকটে যাও, পরে বল যে, নিশ্চয় আমরা বিশ্ব পালকের প্রেরিত।

আয়াতঃ ১৭⇒ (সংবাদ) এই যে, আমাদের সঙ্গে তুমি বনি-এস্রায়েলকে প্রেরণ কর।

আয়াতঃ ১৮⇒ সে (ফেরওন) বলিল, “আমি কি তোমাকে আপনার মধ্যে শৈশবে প্রতিপালন করি নাই ও আমাদের মধ্যে তুমি আপন জীবনের বহু বৎসর স্থিতি কর নাই?

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং তুমি যাহা করিয়াছ তাহা নিজের কার্য করিয়াছ ও তুমি অধর্মাচারী লোকদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ ২০⇒ সে (মুসা) বলিল, “আমি তাহা করিয়াছি ও তখন আমি পথভ্রান্তদিগের অন্তর্গত ছিলাম।

আয়াতঃ ২১⇒ পরে যখন তোমাদিগকে ভয় করিলাম তখন তোমাদিগ হইতে পলায়ন করিয়াছিলাম, অবশেষে আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করিয়াছেন, এবং তিনি আমাকে প্রেরিতদিগের অন্তর্গত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং ইহা কি এক দান হয় যে, তুমি আমাকে তদ্দারা উপকৃত করিয়াছ যে, বনি-এস্রায়েলকে দাস করিয়া রাখিয়াছ”?

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং ফেরওন জিজ্ঞাসা করিল, “জগতের প্রতিপালক কে”?

আয়াতঃ ২৪⇒ সে বলিল, “যিনি দ্যুলোক ও ভূলোকের এবং উভয়ের মধ্যে যাহা আছে তাহার প্রতিপালক, যদি তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর”।

আয়াতঃ ২৫⇒ যাহারা তাহার পার্শ্বে ছিল সে (ফেরওন) তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি শুনিতেছ না”?

আয়াতঃ ২৬⇒ সে (মুসা) বলিল, “তিনি তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদিগের প্রতিপালক”।

আয়াতঃ ২৭⇒ সে আপন দলকে বলিল, “তোমাদের নিকটে যে প্রেরিত হইয়াছে তোমাদের এই প্রেরিতপুরুষ সে একান্ত ক্ষিপ্ত”।

আয়াতঃ ২৮⇒ সে (মুসা) বলিল, “তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের ও যাহা উভয়ের মধ্যে আছে তাহার প্রতিপালক, যদি তোমরা জ্ঞান রাখ”।

আয়াতঃ ২৯⇒ সে কহিল, “যদি তুমি আমাকে ছাড়িয়া (অন্য) ঈশ্বর গ্রহণ করিয়া থাকো তবে অবশ্য আমি তোমাদের কারাবাসীদিগের অন্তর্গত করিব”।

আয়াতঃ ৩০⇒ সে বলিল, “যদ্যপি আমি তোমার নিকটে কোন উজ্জল বস্তু আনয়ন করি (তথাপি কি তুমি ইহা করিবে”?)

আয়াতঃ ৩১⇒ সে বলিল, “যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও তবে তাহা উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ৩২⇒ অনন্তর সে আপন যষ্ঠি নিক্ষেপ করিল, অবশেষে অকস্মাৎ উহা স্পষ্ট অজগর হইল।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং সে আপন হস্ত বাহির করিল, অনন্তর হঠাত উহা দর্শকদিগের জন্য শুভ্র হইল।

আয়াতঃ ৩৪⇒ সে আপন পার্শ্বস্থ প্রধান পুরুষদিগকে বলিল যে, “নিশ্চয় এ জ্ঞানী ঐন্দ্রজালিক।

আয়াতঃ ৩৫⇒ সে আপন ইন্দ্রজালযোগে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ হইতে বাহির করিতে ইচ্ছা করে, অনন্তর তোমরা কি অনুমতি করিতেছ?”

আয়াতঃ ৩৬⇒ তাহারা বলিল, “তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে অবকাশ দাও, এবং নগর সকলে (লোক) সংগ্রহকারীদিগকে প্রেরণ কর।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহারা সমুদায় জ্ঞানী ঐন্দ্রজালিককে তোমার নিকটে আনয়ন করিবে”।

আয়াতঃ ৩৮⇒ অনন্তর নির্ধারিত দিনের সময়ের জন্য ঐন্দ্রজালিকগণ একত্রীকৃত হইল।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং লোকদিগকে বলা হইল, “তোমরা কি একত্র হইবে?

আয়াতঃ ৪০⇒ হয় তো আমরা (মুসাকে দূর করিতে) ঐন্দ্রজালিকদিগের অনুসরণ করিব, (দেখি) যদি তাহারা বিজয়ী হয়”।

আয়াতঃ ৪১⇒ অনন্তর যখন ঐন্দ্রজালিকগণ উপস্থিত হইল, তখন তাহারা ফেরওনকে জিজ্ঞাসা করিল, “যদি আমরা বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্য কি পুরস্কার হইবে”?

আয়াতঃ ৪২⇒ সে বলিল, “হ্যাঁ, এবং তখন নিশ্চয় তোমরা সন্নিহিত লোকদিগের অন্তর্বর্তী হইবে”।

আয়াতঃ ৪৩⇒ মুসা তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা যাহারা নিক্ষেপকারী নিক্ষেপ কর”।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অনন্তর তাহারা আপনাদের রজ্জু ও আপনাদের যষ্টি সকল নিক্ষেপ করিল, এবং বলিল, “ফেরওনের গৌরবের শপথ, নিশ্চয় আমরা বিজয়ী হইব”।

আয়াতঃ ৪৫⇒ অবশেষে মুসা নিজের যষ্টি নিক্ষেপ করিল, পরে হঠাত উহা তাহারা যদ্দারা প্রবঞ্চনা করিতেছিল তাহা গ্রাস করিতে লাগিল।

আয়াতঃ ৪৬⇒ অনন্তর ঐন্দ্রজালিকগণ প্রণত হইয়া পড়িয়া গেল।

আয়াতঃ ৪৭+৪৮⇒ তাহারা বলিল, “বিশ্বপালকের প্রতি, মুসা ও হারুনের প্রতিপালকের প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম”।

আয়াতঃ ৪৯⇒ সে (ফেরওন) বলিল, “তোমাদিগকে আজ্ঞা করিবার পূর্বে তোমরা কি তাহার (মুসার) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলে? নিশ্চয় এ তোমাদিগের দলপতি যে তোমাদিগকে ইন্দ্রজাল শিক্ষা দিয়াছে, অনন্তর তোমরা অবশ্য জানিতে পাইবে। অবশ্য আমি তোমাদের হস্ত ও তোমাদের পদ (পরস্পর) বিপরীতভাবে ছেদন করিব এবং অবশ্য একযোগে তোমাদিগকে শূলে চড়াইব।“

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহারা বলিল, “ক্ষতি নাই, নিশ্চয় আমরা স্বীয় প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

আয়াতঃ ৫১⇒ নিশ্চয় আমরা আশা করি যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ আমাদিগের নিমিত্ত ক্ষমা করিবেন, যেহেতু আমরা প্রথম বিশ্বাসী হইলাম।“

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম যে, তুমি আমার দাসবৃন্দসহ রজনীতে প্রস্থান কর, নিশ্চয় তোমরা অনুসৃত হইবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ অনন্তর ফেরওন নগর সকলে (লোক) সংগ্রহকারীদিগকে প্রেরণ করিল।

আয়াতঃ ৫৪⇒ (বলিল) “নিশ্চয় তাহারা এক ক্ষুদ্র দল।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং একান্তই ইহারা আমাকে ক্রুদ্ধ করিয়া তুলিয়াছে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং নিশ্চয় আমরা অস্ত্রধারী দল”।

আয়াতঃ ৫৭+৫৮⇒ অনন্তর আমি তাহাদিগকে (ফেরওনীয় সম্প্রদায়কে) উদ্যান ও প্রস্রবন সকল হইতে এবং ধনাগার ও উত্তমাগার হইতে বাহির করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এই (করিয়াছি) এবং বনি-এস্রায়েলকে তাহার উত্তরাধিকারী করিয়াছি।

আয়াতঃ ৬০⇒ অনন্তর তাহারা সূর্যোদয়ের সময়ে তাহাদের পশ্চাদগামী হইয়াছিল।

আয়াতঃ ৬১⇒ পরে যখন দুল দল (পরস্পরকে) দৃষ্টি করিল, তখন মুসার সহচরগণ বলিল যে, “নিশ্চয় আমরা (তাহাদিগ কর্তৃক) প্রাপ্ত হইলাম”।

আয়াতঃ ৬২⇒ সে বলিল, “এরুপ নহে, একান্তই আমার সঙ্গে আমার প্রতিপালক আছেন, শীঘ্র তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করিবেন”।

আয়াতঃ ৬৩⇒ অনন্তর আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম যে, তুমি সাগরকে আপন যষ্টি দ্বারা আঘাত কর;” পরে তাহা বিদীর্ণ হইল, পরিশেষে (তাহার) প্রত্যেক অংশ পর্বত সদৃশ হইল।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং আমি সেই স্থানে অপর সকলকে (ফেরওনের দলকে) সন্নিহিত করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৬৫⇒ মুসাকে ও তাহার সঙ্গী লোকদিগকে একযোগে উদ্ধার করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তৎপর অপর দলকে জলমগ্ন করিলাম।

আয়াতঃ ৬৭⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদের নিকটে এব্রাহিমের বৃত্তান্ত পাঠ কর।

আয়াতঃ ৭০⇒ যখন সে স্বীয় পিতাকে ও স্বীয় সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করিল, “তোমরা কাহাকে পূজা করিয়া থাক”?

আয়াতঃ ৭১⇒ তাহারা বলিল, “আমরা প্রতিমূর্তি সকলকে অর্চনা করি, পরন্তু তাহাদের সহবাসে স্থিতি করিয়া থাকি”।

আয়াতঃ ৭২⇒ সে জিজ্ঞাসা করিল, “যখন তোমরা তাহাদিগকে আহ্বান কর তাহারা কি তোমাদের কথা শুনিতে পায়?

আয়াতঃ ৭৩⇒ অথবা তাহারা তোমাদিগকে উপকার করে, কিংবা অপকার করিয়া থাকে”?

আয়াতঃ ৭৪⇒ তাহারা বলিল, “বরং আমরা স্বীয় পিতৃপুরুষদিগকে এরুপ করিতে প্রাপ্ত হইয়াছি”।

আয়াতঃ ৭৫+৭৬⇒ সে জিজ্ঞাসা করিল, “অনন্তর তোমরা যাহাদিগকে অর্চনা করিয়া থাক ও তোমাদের পূর্বতন পিতৃপুরুষগণ (অর্চনা করিয়াছে) তোমরা কি তাহাদিগকে দেখিতেছ (জানিতেছ)?

আয়াতঃ ৭৭⇒ অনন্তর বিশ্বপালক ব্যতীত নিশ্চয় তাহারা আমার শত্রু।

আয়াতঃ ৭৮⇒ যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন পরে তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৭৯⇒ এবং তিনি যিনি আমাকে ভোজন পান করাইয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং যখন আমি পীড়িত হই, তখন তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং তিনি আমার প্রাণ হরণ করেন, তৎপর আমাকে জীবিত করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং আমি আশা করি যে, কেয়ামতের দিনে আমার পাপ সকল তিনি আমার জন্য ক্ষমা করিবেন।

আয়াতঃ ৮৩⇒ হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে জ্ঞান দান কর ও সাধু পুরুষগণের সঙ্গে আমাকে মিলিত কর।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং পশ্চাদ্বর্তীদিগের মধ্যে আমার জন্য সত্য রসনা দান কর।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং আমাকে সম্পদের স্বর্গের উত্তরাধিকারী কর।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং আমার পিতাকে তুমি ক্ষমা কর, নিশ্চয় তিনি পথভ্রান্তদিগের (অন্তর্গত)।

আয়াতঃ ৮৭⇒ যে দিবস (লোক সকল) সমুত্থাপিত হইবে সেই দিবস আমাকে ক্ষুন্ন করিও না।

আয়াতঃ ৮৮+৮৯⇒ যে ব্যক্তি প্রশান্ত হৃদয় ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত করে তাহা ব্যতীত যে দিবস সম্পত্তি ও সন্তানগণ তাহার উপকার করে না।

আয়াতঃ ৯০⇒ এবং (যে দিবস) ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য স্বর্গ সন্নিহিত করা যাইবে।

আয়াতঃ ৯১⇒ এবং বিপথগামী লোকদিগের জন্য নরক প্রকাশিত হইবে, সে দিবস (আমাকে লজ্জিত করিও না)”।

আয়াতঃ ৯২+৯৩⇒ তাহাদিগকে বলা হইবে, “তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাকে অর্চনা করিতে ছিলে সে কোথায়”? তাহারা কি তোমাদিগকে সাহায্য দান করে বা স্বয়ং প্রতিশোধ তুলিতেছে?

আয়াতঃ ৯৪+৯৫⇒ অনন্তর তথায় তাহারা ও বিপথগামীগণ এবং শয়তানের সেনাদল একযোগে অধোমুখে নিক্ষিপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৯৬⇒ (কাফেরগণ) বলিবে, এবং তাহারা (প্রতিমা সকল) তথায় পরস্পর বিতণ্ডা করিতে থাকিবে।

আয়াতঃ ৯৭+৯৮⇒ “ঈশ্বরের শপথ, যখন তোমাদিগকে বিশ্বপতির সঙ্গে তুল্য করিয়াছিলাম, তখন নিশ্চয় আমরা স্পষ্ট বিপথে ছিলাম।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এই পাপিগণ ভিন্ন আমাদিগকে (কেহ) বিপথগামী করে নাই।

আয়াতঃ ১০০⇒ অনন্তর আমাদের জন্য পাপক্ষমার কোন অনুরোধকারী নাই।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং সহানুভূতিকারী বন্ধু নাই।

আয়াতঃ ১০২⇒ অনন্তর যদি আমাদের জন্য একবার পুনর্গমন হয় তবে আমরা বিশ্বাসীদলের অন্তর্গত হইব”।

আয়াতঃ ১০৩⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১০৫⇒ নুহীয় সম্প্রদায় প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১০৬⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহাদের ভ্রাতা নুহা তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি ভয় পাইতেছ না?

আয়াতঃ ১০৭⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতপুরুষ।

আয়াতঃ ১০৮⇒ অনন্তর তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক ও  আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১০৯⇒ আমি এ বিষয়ে তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, বিশ্বপালকের নিকটে ভিন্ন আমার পারিশ্রমিক নাই।

আয়াতঃ ১১০⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় কর ও আমার অনুগত হও”।

আয়াতঃ ১১১⇒ তাহারা বলিল, “আমরা কি তোমাকে বিশ্বাস করিব? বস্তুতঃ নিকৃষ্ট লোকেরা তোমার অনুসরণ করিয়াছে”।

আয়াতঃ ১১২⇒ সে কহিল, “আমি তাহা কি জানি তাহারা কি করিতেছিল?

আয়াতঃ ১১৩⇒ যদি তোমরা বুঝিতেছ তবে আমার প্রতিপালকের নিকটে ভিন্ন তাহাদের গণনা নাই।

আয়াতঃ ১১৪⇒ এবং আমি বিশ্বাসীদিগের দূরকারী নহি।

আয়াতঃ ১১৫⇒ আমি স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক বৈ নহি”।

আয়াতঃ ১১৬⇒ তাহারা বলিল, “হে নুহা, যদি তুমি নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্য চূর্ণীকৃত হইবে”।

আয়াতঃ ১১৭⇒ তাহারা কহিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমার সম্প্রদায় আমার প্রতি অসত্যারোপ করিতেছে।

আয়াতঃ ১১৮⇒ অতএব তুমি আমার ও তাহাদের মধ্যে মীমাংসায় মীমাংসিত কর, এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে বিশ্বাসীদিগের যাহারা আছে তাহাদিগকে উদ্ধার কর”।

আয়াতঃ ১১৯⇒ অনন্তর আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গী লোকদিগকে নৌকায় পূর্ণ করিয়া উদ্ধার করিলাম।

আয়াতঃ ১২০⇒ তৎপর আমি পরিশেষে অবশিষ্ট লোকদিগকে জলমগ্ন করিলাম।

আয়াতঃ ১২১⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ১২২⇒ নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১২৩⇒ আদ সম্প্রদায় প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১২৪⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহাদের ভ্রাতা হুদ তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ১২৫⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতপুরুষ।

আয়াতঃ ১২৬⇒ অনন্তর তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক ও আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১২৭⇒ আমি এ বিষয়ে তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, বিশ্বপালকের নিকটে বৈ আমার পারিশ্রমিক নাই।

আয়াতঃ ১২৮⇒ তোমরা কি সকল উচ্চস্থানে আমোদ করতঃ এক এক নিদর্শন নির্মাণ করিতেছ?

আয়াতঃ ১২৯⇒ এবং তোমরা কারুকার্যযুক্ত আলয় সকল প্রস্তুত করিয়া লইতেছ, যেন সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ১৩০⇒ এবং যখন তোমরা আক্রমণ কর তখন দুর্দান্ত হইয়া আক্রমণ করিয়া থাক।

আয়াতঃ ১৩১⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক ও আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১৩২+১৩৩+১৩৪⇒ এবং তোমরা যাহা জানিতেছ যিনি তদ্বিষয়ে তোমাদিগকে সাহায্য করিয়াছেন, পশু ও সন্তানবর্গ দ্বারা এবং উদ্যান ও জলপ্রনালী দ্বারা তোমাদিগকে সাহায্য করিয়াছেন, তোমরা তাঁহাকে ভয় কর।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ আমি মহাদিনের শাস্তিকে তোমাদের সম্বন্ধে ভয় করিতেছি”।

আয়াতঃ ১৩৬⇒ তাহারা বলিল, “তুমি উপদেশ দান কর বা উপদেষ্টাদিগের অন্তর্গত না হও, (ইহা) আমাদের সম্বন্ধে তুল্য।

আয়াতঃ ১৩৭⇒ ইহা পূর্বতন লোকদিগের স্বভাব ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১৩৮⇒ এবং আমরা শাস্তিগ্রস্থ লোক নহি”।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ অনন্তর তাহারা তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, পরিশেষে আমি তাহাদিগকে সংহার করিয়াছিলাম, নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ১৪০⇒ এবং নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৪১⇒ সমুদ জাতি প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৪২⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহাদের ভ্রাতা সালেহ তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ১৪৩⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদিগের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতঅউরুষ।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, এবং আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ আমি এ বিষয়ে তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, বিশ্বপালক পরমেশ্বরের নিকটে ভিন্ন আমার পারিশ্রমিক নাই।

আয়াতঃ ১৪৬+১৪৭+১৪৮⇒ এ স্থানে তোমরা যে ভাবে আছ উদ্যানে ও প্রস্রবন সকলে এবং শস্যক্ষেত্রে ও যাহার পুষ্প কোমল হয় সেই খোর্মাতরুতে কি তোমরা নিরাপদে পরিত্যক্ত হইবে?

আয়াতঃ ১৪৯⇒ তোমরা নিপুন হইয়া পর্বত সকল হইতে আলয় সকল কাটিয়া লইতেছ।

আয়াতঃ ১৫০⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় কর ও আমার অনুগত থাক।

আয়াতঃ ১৫১+১৫২⇒ এবং যাহারা ধরাতলে উৎপাত করে ও সৎকর্ম করে না এমন সীমালঙ্ঘনকারীদিগের আদেশ মান্য করিও না”।

আয়াতঃ ১৫৩⇒ তাহারা বলিল, “তুমি ইন্দ্রজালগ্রস্থ (লোকদিগের) অন্তর্গত ভিন্ন নও।

আয়াতঃ ১৫৪⇒ তুমি আমাদের ন্যায় একজন মনুষ্য বৈ নও, অনন্তর যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর”।

আয়াতঃ ১৫৫⇒ সে বলিল, “এই উষ্ট্রী, নির্দিষ্ট দিবসে ইহার জন্য পানীয় হইবে ও তোমাদের জন্য পানীয় হইবে।

আয়াতঃ ১৫৬⇒ এবং তোমরা ক্লেশ দান করিতে তাহাতে স্পর্শ করিও না, তবে মহাদিবসে তোমাদিগকে শাস্তি আশ্রয় করিবে”।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ অনন্তর তাহারা তাহার পদচ্ছেদন করিল, পরে মনঃক্ষুন্ন হইল।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ অনন্তর তাহাদিগকে শাস্তি আশ্রয় করিল, নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে ও তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নহে।

আয়াতঃ ১৫৯⇒ এবং নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৬০⇒ লুতীয় সম্প্রদায় প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৬১⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহাদের ভ্রাতা লুত তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ১৬২⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতপুরুষ।

আয়াতঃ ১৬৩⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় কর ও আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ আমি এ বিষয়ে তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, বিশ্বপতির নিকটে ব্যতীত আমার পারিশ্রমিক নাই।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ পৃথিবীস্থ পুরুষদিগের নিকটে কি তোমরা (ব্যভিচার উদ্দেশ্যে) উপস্থিত হও?

আয়াতঃ ১৬৬⇒ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদিগের জন্য তোমাদিগের ভার্যাগণকে যে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদিগকে কি তোমরা পরিত্যাগ কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি”।

আয়াতঃ ১৬৭⇒ তাহারা বলিল, “হে লুত, যদি তুমি নিবৃত্ত না হও, তবে একান্তই তুমি বহিষ্কৃত লোকদিগের অন্তর্গত হইবে”।

আয়াতঃ ১৬৮⇒ সে বলিল, “নিশ্চয় আমি তোমাদিগের ক্রিয়ার বিপক্ষদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ১৬৯⇒ হে আমার প্রতিপালক, তাহারা যাহা করিতেছে তাহা হইতে তুমি আমাকে ও আমার পরিজনকে রক্ষা কর”।

আয়াতঃ ১৭০+১৭১⇒ অনন্তর আমি তাহাকে ও তাহার পরিজনকে অবশিষ্ট স্থিত এক বৃদ্ধা নারীকে ব্যতীত একযোগে উদ্ধার করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৭২⇒ তৎপর অন্য লোকদিগকে বিনাশ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৭৩⇒ এবং তাহাদের উপরে আমি বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, অনন্তর ভয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদিগের সম্বন্ধে সেই বৃষ্টি অকল্যাণ ছিল।

আয়াতঃ ১৭৪⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে ও তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ১৭৫⇒ নিশ্চয় তোমার সেই প্রতিপালক, (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৭৬⇒ এয়কা নিবাসিগণ প্রেরিত পুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৭৭⇒ (স্মরণ কর) যখন শোঅয়ব তাহাদিগকে বলিল, “তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ১৭৮⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতপুরুষ।

আয়াতঃ ১৭৯⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে ভয় কর ও আমার অনুগত হও।

আয়াতঃ ১৮০⇒ এ বিষয়ে আমি তোমাদের নিকটে কোন নপারিশ্রমিক চাহি না, বিশ্বপালকের নিকটে ব্যতীত আমার পারিশ্রমিক নাই।

আয়াতঃ ১৮১⇒ তোমরা পূর্ণ পরিমাণপাত্র রাখিও, এবং ক্ষতিকারকদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ১৮২⇒ সরল তুলযন্ত্র দ্বারা তুল করিও।

আয়াতঃ ১৮৩⇒ এবং লোকদিগকে তাহাদের দ্রব্য কম দিও না ও পৃথিবীতে উৎপাত জনক হইয়া (নির্ভয়ে) ঘুরিয়া বেড়াইও না।

আয়াতঃ ১৮৪⇒ এবং যিনি তোমাদিগকে ও পূর্বতন জাতিকে সৃজন করিয়াছেন তাঁহাকে ভয় করিও”।

আয়াতঃ ১৮৫⇒ তাহারা বলিল, “তুমি ইন্দ্রজালগ্রস্থ লোকদিগের অন্তর্গত ভিন্ন নও।

আয়াতঃ ১৮৬⇒ এবং তুমি আমাদের ন্যায় মনুষ্য বৈ নও, এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদিগের অন্তর্গত ভিন্ন মনে করি না।

আয়াতঃ ১৮৭⇒ যদি তুমি সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত হও, তবে তুমি আমাদের নিকটে আকাশের এক খন্ড নিক্ষেপ কর।

আয়াতঃ ১৮৮⇒ সে বলিল, “তোমরা যাহা করিতেছ আমার প্রতিপালক তাহা উত্তম জ্ঞাত”।

আয়াতঃ ১৮৯⇒ অনন্তর তাহার প্রতি তাহারা অসত্যারোপ করিল, পরিশেষে তাহাদিগকে চন্দ্রাতপসমন্বিত দিবসের শাস্তি আশ্রয় করিল, নিশ্চয় উহা মহাদিনের শাস্তি (স্বরূপ) ছিল।

আয়াতঃ ১৯০⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন ছিল, এবং তাহাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

আয়াতঃ ১৯১⇒ এবং একান্তই তোমার সেই প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) পরাক্রমশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৯২⇒ এবং নিশ্চয় এই (কোরআন) বিশ্বপালক কর্তৃক অবতারিত।

আয়াতঃ ১৯৩+১৯৪+১৯৫⇒ জ্বেব্রিল তৎসহ তোমার অন্তরে অবতীর্ণ হইয়াছে যেন তুমি স্পষ্ট আরব্য ভাষায় ভয়প্রদর্শকদিগের অন্তর্গত হও।

আয়াতঃ ১৯৬⇒ এবং নিশ্চয় ইহা (এই কোরআন) পূর্বতন পুস্তিকায় উল্লিখিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ১৯৭⇒ তাহাদের জন্য কি এমন কোন নিদর্শন নাই যে, বনি-এস্রায়েলের পণ্ডিতগণ তাহা জ্ঞাত আছে।

আয়াতঃ ১৯৮⇒ এবং যদিচ আমি আজমীদিগের কাহারও প্রতি তাহা অবতারণ করিতাম।

আয়াতঃ ১৯৯⇒ পরে সে তাহাদিগের নিকটে পাঠ করিত তথাপি তাহারা তৎপ্রতি বিশ্বাসী হইত না।

আয়াতঃ ২০০⇒ এইরুপে আমি পাপীদিগের অন্তরে বৈমুখ্য আনয়ন করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ২০১⇒ যে পর্যন্ত তাহারা ক্লেশকরী শাস্তি দর্শন (না) করে সে পর্যন্ত তৎপ্রতি বিরাম স্থাপন করে না।

আয়াতঃ ২০২⇒ অনন্তর তাহাদের প্রতি অকস্মাৎ শাস্তি উপস্থিত হয়, এবং তাহারা জানিতে পারে না।

আয়াতঃ ২০৩⇒ পরে তাহারা বলে, “আমাদিগকে কি অবকাশ দেওয়া যাইবে?

আয়াতঃ ২০৪⇒ অনন্তর আমাদিগের জন্য শাস্তি কি শীঘ্র আনয়ন করিতে চাহে”?

আয়াতঃ ২০৫⇒ অবশেষে তুমি কি দেখিয়াছ যদি বহু বৎসর আমি তাহাদিগকে ফলভোগী করি।

আয়াতঃ ২০৬⇒ তৎপর (শাস্তি বিষয়ে) যাহা অঙ্গীকার করা যাইতেছিল তাহা তাহাদের নিকটে উপস্থিত হয়।

আয়াতঃ ২০৭⇒ তাহারা যে ফলভোগ করিতেছিল উহা তাহাদিগ হইতে (শাস্তি) নিবারন করে না।

আয়াতঃ ২০৮+২০৯⇒ আমি (এমন) কোন গ্রামকে বিনাশ করি না যে, শিক্ষা দিবার জন্য যাহার নিমিত্ত ভয়প্রদর্শনকারী হয় নাই, আমি অত্যাচারী ছিলাম না।

আয়াতঃ ২১০⇒ এবং শয়তান সকল তাহাকে (কোরআনকে) অবতারণ করে নাই।

আয়াতঃ ২১১⇒ তাহাদের জন্য (উহা) উপযুক্ত নয়, এবং তাহারা সুক্ষম নহে।

আয়াতঃ ২১২⇒ নিশ্চয় তাহারা (তৎ) শ্রবনে বিরত

আয়াতঃ ২১৩⇒ অনন্তর তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য উপাস্যকে আহ্বান করিও না, তবে শাস্তিপ্রাপ্তদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ২১৪⇒ এবং আপন নিকটস্থ জ্ঞাতিকে ভয় দেখাও।

আয়াতঃ ২১৫⇒ এবং বিশ্বাসীদিগের যে ব্যক্তি তোমার অনুসরণ করিয়াছে, তাহার জন্য তুমি আপন বাহু নত কর।

আয়াতঃ ২১৬⇒ অনন্তর যদি তাহারা তোমার সম্বন্ধে অবাধ্যতাচরণ করে তবে তুমি বলিও  যে, তোমরা যাহা করিতেছ নিশ্চয় আমি তদ্বিষয়ে বীতরাগ”।

আয়াতঃ ২১৭⇒ এবং তুমি সেই পরাক্রমশালী দয়ালু (ঈশ্বরের) উপর নির্ভর কর।

আয়াতঃ ২১৮⇒ যিনি তোমাকে (নমাজে) উত্থান করিবার সময়ে দর্শন করেন।

আয়াতঃ ২১৯⇒ এবং প্রণামকারীর অবস্থায় তোমার ক্রিয়া (দর্শন করেন)।

আয়াতঃ ২২০⇒ নিশ্চয় তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২১⇒ যে ব্যক্তির উপর শয়তান অবতীর্ণ হয়, আমি কি তোমাদিগকে তাহার সংবাদ দান করিব?

আয়াতঃ ২২২⇒ সমুদায় মিথ্যাবাদী পাপীর উপর সে অবতরণ করে।

আয়াতঃ ২২৩+২২৪⇒ (শয়তানের উক্তিতে) তাহারা কর্ণ স্থাপন করে, এবং তাহাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী এবং কবি, বিপথগামী লোকেরা তাহাদের অনুসরণ করে।

আয়াতঃ ২২৫⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, নিশ্চয় তাহারা প্রত্যেক প্রান্তরে ঘুরিয়া বেড়ায়।

আয়াতঃ ২২৬⇒ এবং যাহা করে না, তাহারা তাহা বলে।

আয়াতঃ ২২৭⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে, এবং ঈশ্বরকে অত্যন্ত স্মরণ করিয়াছে, এবং অত্যাচারগ্রস্থ হওয়ার পর প্রতিশোধ লইয়াছে তাহারা ব্যতীত, (তদ্রূপ বলে) এবং শীঘ্রই অত্যাচারী লোকেরা জানিতে পাইবে যে, কোন স্থানে ফিরিয়া যাইবে।