সূরাঃ শুরা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম

আয়াতঃ ০২⇒ অসকা।

আয়াতঃ ০৩⇒ কৌশলময় পরাক্রান্ত ঈশ্বর এইরুপে তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) ও যাহারা তোমার পূর্বে ছিল তাহাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ স্বর্গে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা তাঁহারই, তিনি সমুন্নত মহান।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং দ্যুলোক সকল (তাঁহার প্রতাপে) আপনার উপর বিদীর্ণ হইতে উপক্রম, এবং দেবগণ স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব করিয়া থাকে, এবং যাহারা পৃথিবীতে আছে তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া (অন্য) বন্ধুগণ গ্রহণ করে ঈশ্বর তাহাদের সম্বন্ধে প্রহরী, এবং তুমি তাহাদের সম্বন্ধে তত্ত্বাবধায়ক নও।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং এইরুপে আমি তোমার প্রতি আরব্য কোরআন প্রত্যাদেশ করিয়াছি যেন তুমি মক্কানিবাসীকে ও যাহারা তাহার পার্শ্বে বাস করে তাহাদিগকে ভয় প্রদর্শন কর, এবং সম্মিলনের (কেয়ামতের) দিনের ভয় প্রদর্শন কর, তদ্বিষয়ে সন্দেহ নাই, একদল স্বর্গে ও একদল নরকে থাকিবে।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং ঈশ্বর যদি চাহিতেন তবে তাহাদিগকে এক মণ্ডলীভুক্ত করিতেন, কিন্তু তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে আনয়ন করিয়া থাকেন, যাহারা অত্যাচারী তাহাদের জন্য কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহারা কি তাঁহাকে ছাড়িয়া (অন্য) বন্ধু সকল গ্রহণ করিয়াছে? অনন্তর সেই ঈশ্বরই বন্ধু, এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন, এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং তোমরা (হে বিশ্বাসীগণ) যে কোন বিষয়ে (কাফেরদিগের সঙ্গে) বিরোধ কর, অনন্তর ঈশ্বরের প্রতি তাহার মীমাংসা, এই পরমেশ্বরই আমার প্রতিপালক, আমি তাঁহার প্রতি নির্ভর করিয়াছি, এবং তাঁহার দিকেই পুনর্মিলিত হইতেছি।

আয়াতঃ ১১⇒ তিনি নিখিল স্বর্গ ও মর্তলোকের স্রষ্টা, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের জাতি হইতে পুং-স্ত্রী যুগল ও চতুষ্পদ জাতি হইতে পুং-স্ত্রী যুগল সৃজন করিয়াছেন, তাহাতে তোমাদিগকে বিকীর্ণ করিয়া থাকেন, কোন পদার্থ তাঁহার সদৃশ নহে, এবং তিনি শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ১২⇒ স্বর্গ ও মর্তের কুঞ্জিকা সকল তাঁহারই হয়, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহার জন্য জীবিকা বিস্তৃত ও সঙ্কুচিত করিয়া থাকেন, নিশ্চয় তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।

আয়াতঃ ১৩⇒ তিনি নুহাকে ধর্মের যে কিছু আদেশ করিয়াছিলেন তাহা তোমাদের জন্য নির্ধারিত করিয়াছেন, এবং তোমার প্রতি আমি যাহা প্রত্যাদেশ করিয়াছি, এবং এব্রাহিম ও মুসা, ঈসাকে যে উপদেশ করিয়াছি যে, ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত রাখ, এবং তাহাতে বিচ্ছিন্ন হইও না, তাহা (তোমাদের জন্য নির্ধারিত) যাহার দিকে তুমি তাহাদিগকে আহ্বান করিয়া থাক অংশীবাদীদিগের প্রতি তাহা গুরুতর, পরমেশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন আপনার নিকটে গ্রহণ করিয়া থাকেন, এবং যে ব্যক্তি পুনর্মিলিত হয় তাহাকে আপনার দিকে পথ প্রদর্শন করেন।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং তাহাদের নিকটে জ্ঞানাগমের পর আপনাদের মধ্যে পরস্পর শত্রুতাবশতঃ ভিন্ন তাহারা বিচ্ছিন্ন হয় নাই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (অবকাশ দান বিষয়ে) তোমার প্রতিপালকের বাক্য পূর্বে প্রচার না হইলে অবশ্য তাহাদের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি হইত, নিশ্চয় তাহাদের পরে যাহাদিগকে গ্রন্থের উত্তরাধিকারী করা গিয়াছে তাহারা তদ্বিষয়ে উৎকণ্ঠাজনক সন্দেহের মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ১৫⇒ অনন্তর এই (ধর্মের) জন্য তুমি আহ্বান করিতে থাক, যেরুপ তুমি আদিষ্ট হইয়াছ তদ্রূপ স্থিতি কর, এবং তাহাদিগের বাসনার অনুসরণ করিও না, এবং বল, “গ্রন্থের যে কিছু ঈশ্বর অবতারণ করিয়াছেন আমি তৎপ্রতি বিশ্বাস করিলাম, এবং আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, তোমাদের মধ্যে বিচার করিব; পরমেশ্বর তোমাদের প্রতিপালক ও আমাদের প্রতিপালক, আমাদের জন্য আমাদের কার্য (কার্যের ফল) ও তোমাদের জন্য তোমাদের কার্য, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে  নাই, পরমেশ্বর আমাদের মধ্যে সম্মিলন সংস্থাপন করিবেন, এবং তাঁহার দিকেই পুনর্মিলন”।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের (ধর্ম) সম্বন্ধে তাহা গ্রহণ করার পর বাগবিতণ্ডা করে, তাহাদের বাগবিতণ্ডা তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে অমূলক, এবং তাহাদের প্রতি ক্রোধ এবং তাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি হয়।

আয়াতঃ ১৭⇒ সেই ঈশ্বর যিনি সত্যভাবে গ্রন্থ ও পরিমাণযন্ত্র অবতারণ করিয়াছেন এবং প্রকৃতপক্ষে কিসে তোমাকে জ্ঞাপন করিয়াছে যে, বস্তুতঃ কেয়ামত সন্নিহিত।

আয়াতঃ ১৮⇒ যাহারা তৎপ্রতি (কেয়ামতের প্রতি) বিশ্বাস রাখে না তাহারা তাহা সত্বর প্রার্থনা করে, ও তাহারা বিশ্বাস রাখে তাহারা তাহা হইতে ভীত হয়, এবং জানে যে উহা সত্য, জানিও নিশ্চয় যাহারা পুনরুত্থান সম্বন্ধে বাগবিতণ্ডা করিয়া থাকে তাহারা দূরতর পথভ্রান্তির মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ১৯⇒ পরমেশ্বর আপন দাসমণ্ডলীর প্রতি দয়াবান, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন উপজীবিকা দিয়া থাকেন, তিনি শক্তিমান এবং পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ২০⇒ যে ব্যক্তি পারলৌকিক কৃষিক্ষেত্র ইচ্ছা করে আমি তাহার জন্য তাহার কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধি দান করিব এবং যে ব্যক্তি সাংসারিক ক্ষেত্র আকাঙ্ক্ষা করে আমি তাহার কিছু তাহাকে দান করিয়া থাকি, কিন্তু পরলোকে তাহার জন্য কোন ভাগ নাই।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহাদের কি সেই অংশী সকল আছে যে, তাহাদের জন্য ধর্মের (এরুপ) কোন বিধি নির্ধারণ করিয়াছে যাহা ঈশ্বর আদেশ করেন নাই? এবং যদি (ঈশ্বরের) মীমাংসা বাক্য না হইত তবে তাহাদের মধ্যে নিষ্পত্তি হইয়া যাইত, নিশ্চয় যাহারা অত্যাচারী তাহাদের জন্য দুঃখকারী শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২২⇒ তুমি অত্যাচারীদিগকে দেখিবে যে, তাহারা যাহা করিয়াছে তজ্জন্য ভয়াকুল আছে, এবং উহা তাহাদের প্রতি সঙ্ঘটনীয়, এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহারা স্বর্গোদ্যান সকলে থাকিবে, তাহারা যাহা আকাঙ্ক্ষা করে আপন প্রতিপালকের নিকট তাহাদের জন্য তাহা আছে, ইহা সেই মহা উন্নতি।

আয়াতঃ ২৩⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে সেই স্বীয় দাসদিগকে পরমেশ্বর যে সুসংবাদ দান করেন তাহা ইহা, তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “স্বগণের প্রতি প্রনয় স্থাপন ব্যতীত আমি এই (কোরআন) সম্বন্ধে কোন পারিশ্রমিক তোমাদের নিকটে প্রার্থনা করি না; এবং যে ব্যক্তি শুভাচরণ করে আমি তাহাতে তাহার জন্য শুভ বর্ধিত করিয়া থাকি, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল মর্মজ্ঞ।

আয়াতঃ ২৪⇒ তাহারা কি বলে যে, (প্রেরিতপুরুষগণ) ঈশ্বর সম্বন্ধে অসত্য রচনা করিয়াছে? অনন্তর ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে তোমার মনের উপর মোহর করিবেন, এবং ঈশ্বর অসত্যকে লুপ্ত করেন ও স্বীয় বাক্য দ্বারা সত্যকে স্থিরীকৃত করিয়া থাকেন, নিশ্চয় তিনি অন্তরের রহস্যবিৎ।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং তিনিই যিনি স্বীয় দাসদিগের পুনর্মিলন গ্রহণ করেন ও পাপ সকল ক্ষমা করিয়া থাকেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক তিনি তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তিনি তাহাদের (প্রার্থনা) গ্রাহ্য করেন ও স্বীয় করুণাগুণে তাহাদিগকে অধিক দান করিয়া থাকেন, এবং (এই যে) ধর্মদ্রোহীগণ, তাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং যদি পরমেশ্বর স্বীয় দাসদিগের জন্য উপজীবিকা বিস্তৃত করিতেন তবে অবশ্য তাহারা ধরাতলে বিপ্লব করিত, কিন্তু তিনি যাহা চাহেন সেই পরিমাণে (জীবিকা) অবতারণ করেন, নিশ্চয় তিনিন স্বীয় দাসমণ্ডলী সম্বন্ধে জ্ঞাতা দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তিনিই যিনি তাহাদের নিরাশ হওয়ার পর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এবং স্বীয় দয়াকে বিকীর্ণ করিয়া থাকেন ও তিনি প্রশংসিত বন্ধু।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং স্বর্গ-মর্তের সৃষ্টি ও উভয়ের মধ্যে যে জন্তু সকল বিস্তার করিয়াছেন তাহা তাঁহার নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত, এবং তিনি যখন ইচ্ছা করিবেন, তখন তাহাদিগকে একত্র সংগ্রহ করিতে সমর্থ।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং তোমাদিগকে যে কোন দুঃখ আশ্রয় করে তোমাদের হস্ত যে (পাপ) অনুষ্ঠান করিয়াছে তাহা তজ্জন্য হয়, এবং তিনি অধিকাংশ (পাপ) ক্ষমা করেন।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং তোমরা পৃথিবীতে (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নও, এবং তোমাদের জন্য ঈশ্বর ব্যতীত কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং সাগরে তরণী সকল গিরিশ্রেনীর ন্যায় তাঁহার নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তিনি ইচ্ছা করিলে বায়ুকে নিবৃত্ত করেন, তখন তাহার (সমুদ্রের) পৃষ্ঠোপরি (নৌকা সকল) স্থির হয়, নিশ্চয় ইহাতে প্রত্যেক সহিষ্ণু ও কৃতজ্ঞ লোকদিগের জন্য নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ অথবা তিনি তাহারা যে (অপকর্ম) করিয়াছে তজ্জন্য তাহাদিগকে বিনাশ করেন, এবং অধিকাংশ (অপরাধ) ক্ষমা করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং যাহারা আমার নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে বিরোধ করে তাহারা (ঈশ্বরের প্রতিফল দান যে কি তাহা) জানিবে, তাহাদের জন্য পলায়নের কোন স্থান নাই।

আয়াতঃ ৩৬+৩৭+৩৮⇒ অনন্তর তোমাদিগকে যে কোন বস্তু দেওয়া গিয়াছে (উহা) পার্থিব জীবনের ফললাভ, এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি নির্ভর করিতেছে তাহাদের জন্য ও যাহারা গুরুতর পাপ হইতে ও দুরাচার হইতে প্রতিনিবৃত্ত হয়, এবং যখন ক্রুদ্ধ হয় তখন ক্ষমা করিয়া থাকে, এবং যাহারা আপন প্রতিপালকের (আজ্ঞা) গ্রাহ্য করে ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে তাহাদের জন্য ঈশ্বরের নিকটে যাহা আছে তাহা কল্যাণকর অধিকতর স্থায়ী; এবং তাহাদের কার্য আপনাদের মধ্যে পরামর্শতে হয় ও তাহাদিগকে আমি যে উপজীবিকা দিয়াছি তাহারা তাহা ব্যয় করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যখন যাহাদের প্রতি নিপীড়ন উপস্থিত হয় তাহারা তাহার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে (তাহাদের জন্য)।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং অপকারের বিনিময়ে তৎসদৃশ অপকার, পরন্তু যে ব্যক্তি ক্ষমা করে ও সন্ধি স্থাপন করে, পরে ঈশ্বরের নিকটে তাহার পুরস্কার আছে, নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং নিশ্চয় নিজে উৎপীড়িত হওয়ার পর যাহারা প্রতিহিংসা করে ইহারাই, ইহাদের উপর (ভৎসনার) কোন পথ নাই।

আয়াতঃ ৪২⇒ যাহারা মানবমণ্ডলীর প্রতি অত্যাচার করে, এবং ধরাতলে নির্থক উৎপাত করিয়া থাকে তাহাদের প্রতি পথ আছে এতদ্ভিন্ন নহে, ইহারাই, ইহারাই ইহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং অবশ্য যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারন ও ক্ষমা করে, নিশ্চয় ইহা প্রার্থিত কার্য সকলের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং যাহাকে ঈশ্বর পথভ্রান্ত করেন, পরে তদভাবে তাহার জন্য কোন বন্ধু নাই, এবং তুমি অত্যাচারীদিগকে দেখিবে যে, যখন তাহারা শাস্তি দর্শন করিবে বলিবে, “ফিরিয়া যাওয়ার দিকে কি কোন পথ আছে”?

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং তুমি তাহাদিগকে দেখিবে যে, তাহার (নরকের) দিকে হীনতায় কাতর করতঃ উপস্থিত করা যাইতেছে, অর্ধনিমীলিত নয়নকোণে তাহারা দেখিতেছে, এবং বিশ্বাসী লোকেরা বলিবে, “নিশ্চয় যাহারা কেয়ামতের দিনে আপন জীবনকে ও আপন পরিজনকে ক্ষতিগ্রস্থ করিয়াছে তাহারাই ক্ষতিকারক,” জানিও নিশ্চয় অত্যাচারিগণ চির শাস্তিতে থাকিবে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং ঈশ্বর ব্যতীত তাহাদের কোন সহায় হইবে না যে, তাহাদিগকে সাহায্য দান করিবে, এবং ঈশ্বর যাহাকে পথভ্রান্ত করেন অনন্তর তাহার জন্য কোন পথ নাই।

আয়াতঃ ৪৭⇒ ঈশ্বরের নিকট হইতে যাহার প্রতিনিবৃত্তি নাই সেই দিন আসিবার পূর্বে তোমরা আপন প্রতিপালকের (আজ্ঞা) গ্রাহ্য কর, সেই দিন তোমাদের জন্য কোন আশ্রয়ভূমি নাই, এবং তোমাদের কোন অসম্মতির (স্থল) নাই।

আয়াতঃ ৪৮⇒ অনন্তর যদি তাহারা বিমুখ হয় তবে (জানিও) তাহাদের প্রতি আমি তোমাকে রক্ষকরুপে প্রেরণ করি নাই, প্রচার ভিন্ন তোমার প্রতি (কোন ভার) নাই, এবং নিশ্চয় যখন আমি আপন সন্নিধান হইতে দয়া মনুষ্যকে আস্বাদন করাই, তখন সে তাহাতে আহ্লাদিত হয়, এবং তাহার হস্ত যাহা অগ্রে প্রেরণ করিয়াছে, (যে দুষ্কর্ম করিয়াছে) তজ্জন্য যদি তাহার প্রতি অকল্যাণ উপস্থিত হয় তবে নিশ্চয় সেই মনুষ্য ঈশ্বর-বিরোধী হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ স্বর্গ ও পৃথিবীর সম্যক রাজত্ব ঈশ্বরেরই, তিনি যাহা ইচ্ছা করেন সৃষ্টি করিয়া থাকেন, যাহাকে ইচ্ছা করেন কন্যা দান করেন ও যাহাকে ইচ্ছা করেন পুত্র দান করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৫০⇒ অথবা তাহাদের সহিত পুত্র ও কন্যা সম্মিলিত করেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা করেন বন্ধ্যা করিয়া থাকেন, নিশ্চয় তিনি শক্তিমান জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং অনুপ্রাণন দ্বারা বা যবনিকার অন্তরাল হইতে ভিন্ন কোন মনুষ্যের (অধিকার) নাই যে, ঈশ্বর তাহার সঙ্গে কথা কহেন, অথবা তিনি প্রেরিতপুরুষ (স্বর্গীয় দূত) প্রেরণ করেন, পরে সে তাঁহার আগাক্রমে ইচ্ছানুরুপ অনুপ্রাণন করিয়া থাকে, নিশ্চয় তিনি উন্নত কৌশলময়।

আয়াতঃ ৫২+৫৩⇒ এবং এইরুপে আমি তোমার প্রতি স্বীয় বাণীযোগে কোরআন প্রত্যাদেশ করিয়াছি, গ্রন্থ কি ও ধর্ম কি তুমি জানিতে না, কিন্তু আমি তাহাকে (প্রত্যাদেশকে) আলোকস্বরূপ করিয়াছি, আপন দাসদিগের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা তদ্দারা আমি পথ প্রদর্শন করিয়া থাকি, এবং নিশ্চয় তুমি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাক। নিখিল স্বর্গে যে কিছু আছে ও পৃথিবীতে যে কিছু আছে তাহা যাহার, সেই ঈশ্বরেরই পথ, জানিও ঈশ্বরের দিকে ক্রিয়া সকলের প্রত্যাবর্তন।