সূরাঃ লোকমান

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ আমি ঈশ্বর সমুদায় গুনের স্বামী, ক্ষমা ও কল্যাণের আকর।

আয়াতঃ ০২⇒ বিজ্ঞানময়ের গ্রন্থের এই নিদর্শন সকল হয়।

আয়াতঃ ০৩⇒ (ইহা) হিতকারী লোকদিগের জন্য বিধি ও দয়াস্বরূপ।

আয়াতঃ ০৪+০৫⇒ যাহারা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে ও জকাত দান করে ও যাহারা পরলোকে বিশ্বাস রাখে, এই ইহারাই আপন প্রতিপালকের বিধিতে স্থিতি করে, এবং ইহারাই তাহারা যে মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং মানব মণ্ডলীর মধ্যে কেহ আছে যে, অজ্ঞানতা প্রযুক্ত ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখিতে আমোদজনক আখ্যায়িকা ক্রয় করে, এবং তাহাকে (ঈশ্বরের পথকে) উপহাস করিয়া থাকে, ইহারাই, ইহাদের জন্য দুর্গতিজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ যখন তাহার নিকটে আমার আয়াত সকল পঠিত হয়, তখন সে অহংকার প্রযুক্ত বিমুখ হইয়া থাকে, যেন সে তাহা শ্রবন করে নাই, যেন তাহার উভয় কর্ণে গুরুভার আছে, অতএব তুমি তাহাকে ক্লেশকর শাস্তির সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ০৮+০৯⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে, তাহাদের জন্য সম্পদের স্বর্গলোক সকল আছে, তথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে, ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য এবং তিনি বিজেতা বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ১০⇒ তোমরা  যাহা দেখিতেছ, এই নভোমণ্ডলকে তিনি স্তম্ভ ব্যতিরেকে সৃজন করিয়াছেন, এবং তোমাদিগকে (বা) বিচালিত করে এইজন্য তিনি পৃথিবীতে পর্বত সকল স্থাপন করিয়াছেন, এবং সর্ববিধ পশু সঞ্চারিত রাখিয়াছেন ও আমি আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করিয়াছি, পরে আমি তথায় (ভূমিতে) সকল প্রকার উত্তম বস্তু (শস্যাদি) উৎপাদন করিয়াছি।

আয়াতঃ ১১⇒ এই ঈশ্বরের সৃষ্টি, অবশেষে তুমি আমাকে প্রদর্শন কর তিনি ব্যতীত যাহারা, তাহারা কি বস্তু সৃজন করিয়াছে? বরং তাহারা স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে অত্যাচারী।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং সত্যসত্যই আমি লোকমানকে বিজ্ঞান প্রদান করিয়াছি, (এবং তাহাকে বলিয়াছি) যে, তুমি ঈশ্বরের দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞ হয়, অনন্তর সে আপন জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ হয়, এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যে ব্যক্তি কৃতঘ্ন হয়, তবে জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর নিষ্কাম প্রশংসিত।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং স্মরণ কর, যখন লোকমান আপন পুত্রকে বলিল, এবং সে তাহাকে উপদেশ দিতে লাগিল, “হে আমার শিশুপুত্র, তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে অংশী স্থাপন করিও না, নিশ্চয় অংশীত্ব গুরুতর দোষ”।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং আমি মানবমণ্ডলীকে তাহার পিতা-মাতা সম্বন্ধে নির্দেশ করিয়াছি, তাহার মাতা শ্রান্তির পর শ্রান্তির অবস্থায় তাহাকে বহন করিয়াছে, এবং দুই বৎসরের মধ্যে তাহার স্তন্যচ্যুতি হয়, (তাহাকে পুনর্বার উপদেশ করিয়াছিলাম) যে, তুমি আমাকে ও আপন পিতা-মাতাকে ধন্যবাদ দাও, আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং যে বস্তু সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান নাই যদি তাহারা আমার সঙ্গে তাহাকে অংশী করিতে তোমাকে অনুরোধ করে, তবে তুমি তাহাদিগের অনুগত হইও না, তুমি সংসারে বিধিমতে তাহাদিগের সঙ্গ কর, এবং যে ব্যক্তি আমার দিকে ফিরিয়া আসিয়াছে তাহার পথানুসরণ কর, তৎপর আমার দিকে তোমাদিগের প্রত্যাবর্তন, তোমরা যাহা করিতেছ পরে তোমাদিগকে তাহা জ্ঞাপন করিব”।

আয়াতঃ ১৬⇒ (লোকমান বলিল) “হে আমার শিশুপুত্র, নিশ্চয় সেই (ক্ষুদ্র বস্তু) যদি শর্ষপকণিকা পরিমাণও হয়, পরে তাহা প্রস্তরে বা আকাশে কিংবা মৃত্তিকার মধ্যে স্থিতি করে, ঈশ্বর উহাকে উপস্থিত করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সূক্ষ্মদর্শী তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ১৭⇒ হে আমার শিশুপুত্র, তুমি উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ, বৈধ বিষয়ে আদেশ কর ও অবৈধ বিষয়ে নিষেধ করিতে থাক, এবং যাহা তোমার নিকটে উপস্থিত হয় তদ্বিষয়ে ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ইহা মহৎ কার্য সকলের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং লোকের প্রতি তুমি মুখ ফিরাইও না, এবং ভূমিতলে বিলাসের ভাবে পরিভ্রমণ করিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর সমুদায় বিলাসী অভিমানী লোককে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ১৯⇒ আপন গতি সম্বন্ধে মধ্যপথ অবলম্বন কর, আপন ধ্বনিকে নিম্ন কর, নিশ্চয় গর্দভের শব্দ কুৎসিত শব্দ।

আয়াতঃ ২০⇒ তোমরা কি দেখ নাই যে, স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে পরমেশ্বর তাহা তোমাদের জন্য অধিকৃত করিয়াছেন, এবং আপন বাহ্যিক ও আন্তরিক সম্পদ তোমাদের সম্বন্ধে পূর্ণ করিয়াছেন, এবং মানবমণ্ডলীর মধ্যে কেহ আছে যে, জ্ঞান ব্যতিরেকে ও ধর্মালোক ও উজ্জ্বল গ্রন্থ ব্যতিরেকে ঈশ্বরের সম্বন্ধে বিরোধ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হয়, “ঈশ্বর যাহা অবতারণ করিয়াছেন তোমরা তাহার অনুসরণ কর,”তাহারা বলে, “বরং আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে যে বিষয়ে আমরা প্রাপ্ত হইয়াছে তাহার অনুসরণ করিব”, শয়তান যদি তাহাদিগকে নরকদন্ডের দিকে আহ্বান করে তাহারা কি (অনুসরণ করিবে?)

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যে ব্যক্তি আপন আননকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে বস্তুতঃ সে হিতকারী, অবশেষে নিশ্চয় সে দৃঢ় হস্তাবলম্বনকে ধারন করে, এবং ঈশ্বরের দিকেই ক্রিয়া সকলের পরিণাম।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং যে ব্যক্তি ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, পরে তাহার ধর্মদ্রোহিতা তোমাকে (হে মোহম্মদ) বিষাদিত করিবে না, আমার দিকেই তাহাদিগের প্রত্যাবর্তন, তাহারা যাহা করিয়াছে পরে আমি তাহাদিগকে তাহা জানাইব, (শাস্তি দিব) নিশ্চয় ঈশ্বর হৃদয়ের তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ২৪⇒ আমি তাহাদিগকে (পৃথিবীতে) অল্প ভোগ করিতে দিব, তৎপর কঠিন শাস্তিতে তাহাদিগকে নিপীরিত করিব।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং যদি তুমি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, “কে স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছে”? অবশ্য তাহারা বলিবে, “ঈশ্বর”; তুমি বলিও, “ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা;” বরং তাহাদের অধিকাংশই (তাহা) বুঝে না।

আয়াতঃ ২৬⇒ দ্যুলোক ও ভূলোকে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরেরই, নিশ্চয় নিষ্কাম ও প্রশংসিত।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং পৃথিবীতে যে সকল বৃক্ষ আছে যদি তাহা লেখনী হয় ও সাগর তাহার মসী হয়, তাহার পরে (অন্য) সপ্ত সাগর, তথাপি ঈশ্বর সম্বন্ধীয় কথা  সমাপ্ত হইবে না, নিশ্চয় ঈশ্বর বিজেতা ও বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ২৮⇒ এক ব্যক্তির তুল্য ভিন্ন তোমাদিগের সৃজন ও তোমাদিগের সমুত্থাপন নহে, নিশ্চয় ঈশ্বর দ্রষ্টা ও শ্রোতা।

আয়াতঃ ২৯⇒ তুমি কি দেখ নাই (হে মোগ্মমদ) ঈশ্বর দিবাতে রাত্রি উপস্থিত করেন, এবং রাত্রিতে দিবা আনয়ন করেন? এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রমাকে অধিকৃত করিয়াছেন, প্রত্যেকে এক নির্দিষ্ট সময়ে চলিয়া থাকে, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর তোমরা যাহা বলিতেছ তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৩০⇒ ইহা এ কারনে যে, সেই ঈশ্বর সত্য এবং এ কারনে যে, তাঁহাকে ছাড়িয়া তাহারা যাহাকে আহ্বান করে তাহা অসত্য, এবং এ কারনে যে, সেই পরমেশ্বর উন্নত মহান।

আয়াতঃ ৩১⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বরের প্রসাদে পোত সকল তোমাদিগকে তাঁহার নিদর্শনাবলীর কিছু প্রদর্শন করিতে সাগরে চলিয়া থাকে, নিশ্চয় ইহার মধ্যে প্রত্যেক সহিষ্ণু কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যখন চন্দ্রাতপের ন্যায় তরঙ্গ তাহাদিগকে আচ্ছাদন করে, তখন তাহারা ঈশ্বরকে তাঁহার জন্য ধর্মকে বিশুদ্ধ করিয়া আহ্বান করিতে থাকে; অনন্তর যখন আমি তাহাদিগকে স্থলের অভিমুখে উদ্ধার করিয়া লইয়া যাই, তখন তাহাদের কেহ মধ্যপথাবলম্বী হয়, এই প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারী ধর্মদ্রোহীগণ ব্যতীত (কেহ) আমার নিদর্শন সকলকে অগ্রাহ্য করে না।

আয়াতঃ ৩৩⇒ হে লোক সকল, তোমরা আপন প্রতিপালককে ভয় করিতে থাক, এবং যে দিবস কোন পিতা আপন পুত্রের উপকারে আসিবে না, এবং কোন পুত্র স্বীয় পিতার কিছুই উপকারী হইবে না, তোমরা সেই দিবসকে ভয় করিতে থাক, নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, অনন্তর যেন পার্থিব জীবন তোমাদিগকে প্রতারনা না করে, এবং প্রবঞ্চক (শয়তান) যেন ঈশ্বর সম্বন্ধে তোমাদিগকে প্রতারিত না করে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটেই কেয়ামতের জ্ঞান আছে, এবং তিনি বৃষ্টি প্রেরণ করেন ও গর্ভে যাহা থাকে তিনি তাহা জানেন, এবং কল্য কি উপার্জন করিবে তাহা কোন ব্যক্তি জানে না ও কোন স্থানে মরিবে কোন ব্যক্তি জানে না, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানময় তত্ত্বজ্ঞ।