সূরাঃ রুম

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ ঈশ্বর জ্বেব্রিলযোগে মোহম্মদের প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০২+০৩+০৪⇒ নিকটতর ভূমিতে রুম জাতি পরাজিত হইল, এবং তাহারা আপন পরাজয়ের পর অবশ্য কয়েক বৎসরের মধ্যে জয়লাভ করিবে, পূর্বে ও পরে ঈশ্বরেরই আজ্ঞা (প্রধান) এবং সেইদিন বিশ্বাসীগণ ঈশ্বরের আনুকূল্যে আহ্লাদিত হইবে, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন সাহায্য দান করিয়া থাকেন, এবং তিনি পরাক্রান্ত দয়ালু।

আয়াতঃ ০৫⇒ ঈশ্বর অঙ্গীকার করিয়াছেন, ঈশ্বর স্বীয় অঙ্গীকারের অন্যথা করেন না, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য জানিতেছে না।

আয়াতঃ ০৬⇒ তাহারা পার্থিব জীবনের বাহ্য বিষয় জানে ও তাহারা আপন পরকালে অজ্ঞান।

আয়াতঃ ০৭⇒ তাহারা কি আপন অন্তরে ভাবে না যে, ঈশ্বর সত্যভাবে ও নির্দিষ্টকালে ভিন্ন স্বর্গ ও মর্ত এবং উভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহা সৃজন করেন নাই?

আয়াতঃ ০৮⇒ ইহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই? অবশেষে ইহাদের পূর্বে যাহারা ছিল, তাহাদের পরিণাম কেমন হইয়াছে দেখুক, ইহাদের অপেক্ষা তাহারা বলেতে দৃঢ়তর ছিল, তাহাদের পরিণাম কেমন হইয়াছে দেখুক, ইহাদের অপেক্ষা তাহারা বলেতে দৃঢ়তর ছিল, এবং তাহারা পৃথিবীকে কর্ষণ করিয়াছিল, ইহারা যত তাহা আবাদ করিয়াছে তদপেক্ষা তাহারা তাহা অধিক আবাদ করিয়াছিল, এবং তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ তাহাদের নিকটে প্রমাণ সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, অনন্তর ঈশ্বর যে তাহাদের প্রতি অত্যাচার করিবেন এরুপ ছিলেন না, কিন্তু তাহারা আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছিল।

আয়াতঃ ০৯⇒ তৎপর যাহারা দুষ্কর্ম করিয়াছিল তাহাদের পরিণাম মন্দ হইল, যেহেতু তাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল ও তৎসম্বন্ধে উপহাস করিতেছিল।

আয়াতঃ ১০⇒ পরমেশ্বর প্রথম সৃষ্টি করেন, তৎপর তাহা পুনর্বার করিয়া থাকেন, তদনন্তর তাঁহার দিকে তোমরা প্রতিগমন করিবে।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং যে দিবস কেয়ামত উপস্থিত হইবে, সেই দিবস অপরাধীগণ নিরাশ হইয়া থাকিবে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং তাহাদের জন্য তাহাদিগের অংশীগণ পাপ-ক্ষমার নিমিত্ত অনুরোধকারী হইবে না ও তাহারা আপন অংশীদিগের বিরোধী হইবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং যে দিন কেয়ামত উপস্থিত হইবে, সেই দিন তাহারা বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ অনন্তর কিন্তু যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, তাহারা উদ্যানে আনন্দিত হইবে।

আয়াতঃ ১৫⇒ কিন্তু যাহারা ধর্মবিদ্বেষী হইয়াছে ও আমার নিদর্শন ও পরলোকের সাক্ষাৎকারের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, পরে তাহারাই শাস্তির মধ্যে আনীত হইবে।

আয়াতঃ ১৬⇒ অনন্তর যখন তোমরা সায়ংকালে আগমন কর, এবং যখন প্রাতঃকালে আগমন কর তখন ঈশ্বরেরই পবিত্রতা।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং স্বর্গে ও মর্তে, পূর্বাহ্ণে ও সায়াহ্নে তাঁহারই সম্যক প্রশংসা।

আয়াতঃ ১৮⇒ তিনি মৃত হইতে জীবিতকে ও জীবিত হইতে মৃতকে বাহির করেন ও ভূমিকে তাঁহার মৃত্যুর পর জীবিত করেন, এইরুপে তোমরা (কবর হইতে) বহিষ্কৃত হইবে।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং তাঁহার নিদর্শনের মধ্যে এই যে, তিনি তোমাদিগকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, তৎপর অকস্মাৎ তোমরা মনুষ্য হইয়া বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িলে।

আয়াতঃ ২০⇒ তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের জাতি হইতে ভার্যা সকল সৃষ্টি করিয়াছেন যেন তোমরা তাহাদিগেতে সুখী হও, এবং তোমাদিগের মধ্যে স্নেহ ও প্রনয় সৃজন করিয়াছেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে চিন্তাশীল দলের নিমিত্ত নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে তিনি স্বর্গ ও মর্ত ও তোমাদের বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণ সকল সৃজন করিয়াছেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে জ্ঞানীদিগের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে রজনীতে ও দিবাভাগে তোমাদিগের নিদ্রা ও তাঁহার প্রসাদে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ করা, নিশ্চয় ইহার মধ্যে শ্রোতৃবর্গের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে তিনি তোমাদিগকে ভয় ও লোভাত্মিকা বিদ্যুৎ প্রদর্শন করিয়া থাকেন এবং আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করেন, অনন্তর তদ্দারা ভূমিকে তাহার মৃত্যুর পর জীবিত করেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে বুদ্ধিমানমণ্ডলীর জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে এই যে, স্বর্গ-মর্ত তাঁহার আজ্ঞাক্রমে প্রতিষ্ঠিত আছে, তৎপর যখন তিনি তোমাদিগকে সাধারন আহ্বানে আহ্বান করিবেন, তখন অকস্মাৎ তোমরা (ভূগর্ভ হহতে) বহির্গত হইবে।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং স্বর্গে ও মর্তে যে কিছু আছে তাহা তাঁহারই ও সমুদায় তাঁহারই আজ্ঞাবহ।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং তিনিই যিনি প্রথম সৃষ্টি করিয়া থাকেন, তৎপর তাহা পুনরায় করিবেন, এবং ইহা তাঁহার সম্বন্ধে সহজ হয়, এবং স্বর্গে ও পৃথিবীতে তাঁহারই উন্নতভাব ও তিনি পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ২৭⇒ তিনি তোমাদিগের জন্য তোমাদের জীবনের (অবস্থা) হইতে দৃষ্টান্ত বর্ণন করিলেন, তোমাদিগের দক্ষিন হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে সেই (দাসগণ) কি তোমাদিগকে আমি যে উপজীবিকা দান করিয়াছি তদ্বিষয়ে তোমাদিগের কোন অংশী হইয়া থাকে? অনন্তর তোমরা কি (তাহাদের সঙ্গে) সে-বিষয়ে তুল্য? আপন জাতি সম্বন্ধে যেরুপ ভয়, তোমরা তাহাদিগকে তদ্রূপ ভয় করিয়া থাক, বুদ্ধিমান দলের জন্য এইরুপে ঈশ্বর আয়ত সকল বর্ণন করিয়া থাকেন,

আয়াতঃ ২৮⇒ বরং অত্যাচারী লোকেরা জ্ঞানাভাবে আপন ইচ্ছার অনুসরণ করিয়াছে, ঈশ্বর যাহাদিগকে পথভ্রান্ত করিয়াছেন, অনন্তর কে তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করিবে? এবং তাহাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ২৯⇒ অবশেষে তুমি (হে মোহম্মদ) বিশুদ্ধ ধর্মের উদ্দেশ্যে আপন আননকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ঈশ্বরের ধর্মের (অনুসরণ কর) সেই (ধর্ম) যাহার উপর তিনি লোকদিগকে সৃজন করিয়াছেন, ঈশ্বরের সৃষ্টির পরিবর্তন হয় না, ইহাই প্রকৃত ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৩০+৩১⇒ তোমরা তাঁহার দিকে উন্মুখীন হও ও তাঁহা হইতে ভীত হও, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও অংশীবাদীদিগের যাহারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড খন্ড করিয়াছে ও দলে দলে বিভক্ত হইয়াছে তাহাদের অন্তর্গত হইও না, প্রত্যেক দল তাহাদের নিকটে যাহা আছে তাহাতে সন্তুষ্ট।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যখন লোকদিগকে দুঃখ আক্রমণ করে তখন তাহারা আপন প্রতিপালকের তাঁহার দিকে উন্মুখীন হইয়া আহ্বান করিয়া থাকে, তৎপর যখন তিনি তাহাদিগকে আপনার দয়া আস্বাদন করান তখন অকস্মাৎ তাহাদের এক দল আপন প্রতিপালকের সম্বন্ধে অংশী স্থাপন করে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহাতে আমি তাহাদিগকে যাহা দিয়াছি তাহারা অবশ্য তৎপ্রতি কৃতঘ্ন হয়, অনন্তর তোমরা ভোগ করিতে থাক, পরে জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ আমি কি তাহাদিগের প্রতি কোন প্রমাণ প্রেরণ করিয়াছি যে, পরে উহা যাহাকে তাহারা অংশী করিয়াছে তৎসম্বন্ধে বাক্য ব্যয় করিবে?

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং যখন মানবমণ্ডলীকে আমি কৃপা আস্বাদন করিতে দেই তখন তাহাতে তাহারা আহ্লাদিত হয়, এবং যাহা তাহাদের হস্ত পূর্বে প্রেরণ করিয়াছে তজ্জন্য যদি তাহাদের নিকট বিপদ উপস্থিত হয় তবে অকস্মাৎ তাহারা নিরাশ হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ তাহারা কি দেখিতেছে না যে, ঈশ্বর যাহার জন্য ইচ্ছা করেন জীবিকা বিস্তৃত ও সঙ্কুচিত করিয়া থাকেন? নিশ্চয় ইহার মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ অনন্তর তুমি স্বজনকে ও নির্ধনকে এবং পরিব্রাজককে তাহার স্বত্ব প্রদান কর, যাহারা ঈশ্বরের আনন আকাঙ্ক্ষা করে ইহা তাহাদের জন্য কল্যাণ হয়, এবং ইহারাই তাহারা যে পরিত্রাণ পাইবে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং তোমরা লোকের ধন বৃদ্ধি করিতে যাহা কুসীদরুপে দান কর পরে তাহা ঈশ্বরের নিকটে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় না, এবং ঈশ্বরের আননের আকাঙ্ক্ষা করিয়া যাহা জকাত (ধর্মার্থ দান) রুপে দিয়া থাক, অনন্তর ইহারাই, (তোমারই) যে, তাহার দ্বিগুণকারী।

আয়াতঃ ৩৯⇒ সেই পরমেশ্বর যিনি তোমাদিগকে সৃজন করিয়াছেন; তৎপর তোমাদিগকে জীবিকা দিয়াছেন, তদনন্তর তোমাদিগের প্রাণ হরণ করিয়া থাকেন, তাহার পর তোমাদিগকে জীবিত করেন, তোমাদিগের অংশীদিগের মধ্যে কেহ কি আছে যে, ইহার কিছু করিয়া থাকে? তাঁহারই পবিত্রতা এবং তাহারা যাহাকে অংশী করে তিনি তাঁহা হইতে উন্নত।

আয়াতঃ ৪০⇒ মনুষ্যের হস্ত যাহা (যে পাপ) উপার্জন করিয়াছিল তজ্জন্য প্রান্তরে ও সাগরে উপপ্লব উপস্থিত হইয়াছিল যেন তাহারা যে আচরণ করিয়াছে তাহার কোন (ফল) তাহাদিগকে আস্বাদন করিতে দেওয়া হয়, হয় তো তাহারা ফিরিয়া আসিবে।

আয়াতঃ ৪১⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) তোমরা পৃথিবীতে বিচরণ করিতে থাক, পরে দেখ যাহারা পূর্বে ছিল তাহাদের পরিণাম কেমন হইয়াছে, তাহাদের অধিকাংশই অংশীবাদী ছিল।

আয়াতঃ ৪২⇒ অনন্তর ঈশ্বর হইতে যাহার প্রতিশোধ নাই সেই দিন আসিবার পূর্বে তুমি সত্য ধর্মের প্রতি আপন আননকে স্থাপন কর, সেই দিনে তাহারা বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িবে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ যে ব্যক্তি ধর্মদ্রোহী হইয়াছে অনন্তর তাহার প্রতিই তাহার ধর্মদ্রোহিতা, এবং যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে অনন্তর তাহারা আপন জীবনের জন্য সুখ-স্থান প্রসারণ করে।

আয়াতঃ ৪৪⇒ তাহাতে তাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছ তাহাদিগকে তিনি আপন করুণাগুনে পুরস্কার দান করিবেন, নিশ্চয় তিনি ধর্মাদ্রোহীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং তাঁহার নিদর্শন সকলের মধ্যে এই যে, তিনি বায়ুপুঞ্জকে সুসংবাদদাতৃরুপে প্রেরণ করেন, এবং তাহাতে তিনি তোমাদিগকে স্বীয় কৃপা আস্বাদন করান ও তাহাতে তাঁহার আজ্ঞাক্রমে নৌকা সকল পরিচালিত হয় ও তাহাতে তোমরা তাঁহার প্রসাদে (জীবিকা) অন্বেষণ কর, এবং সম্ভবতঃ তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) তাহাদের জাতির নিকটে প্রেরিতপুরুষদিগকে প্রেরণ করিয়াছিলাম, অনন্তর তাহারা প্রমাণ সকলসহ তাহাদিগের নিকটে উপস্থিত হইয়াছিল, পরে যাহারা অপরাধ করিয়াছিল আমি তাহাদিগ হইতে প্রতিশোধ লইয়াছি, বিশ্বাসীদিগকে সাহায্য করা আমার সম্বন্ধে বিহিত ছিল।

আয়াতঃ ৪৭⇒ সেই ঈশ্বর যিনি বায়ুপুঞ্জকে প্রেরণ করেন, অনন্তর উহা মেঘকে উন্নয়ন করে, পরে তিনি তাহাকে যেরুপ ইচ্ছা করেন আকাশে বিকীর্ণ করিয়া থাকেন ও তাহাকে খন্ড খন্ড করেন, পরে তুমি দেখিতে পাও যে, তাহার ভিতর হইতে বারিবিন্দু সকল বহির্গত হয়, অনন্তর যখন তিনি আপন দাসদিগের যাহাদিগের প্রতি ইচ্ছা করেন তাহা পহুঁছাইয়া দেন, তখন হঠাত তাহারা আহ্লাদিত হয়।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং নিশ্চিত তাহারা ইতিপূর্বে ও তাহাদের প্রতি (বারি) বর্ষণ করার পূর্বে নিরাশ ছিল।

আয়াতঃ ৪৯⇒ অনন্তর তুমি ঈশ্বরের কৃপার নিদর্শন সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত কর যে, তিনি কেমন করিয়া ভূমিকে তাহার মৃত্যুর পর জীবিত করেন, নিশ্চয় ইহা যে,  তিনি মৃত্যুসঞ্জীবনকারী, এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং যদি আমি (এমন) কোন বায়ু প্রেরণ করি, পরে (তদ্দারা) তাহারা তাহাকে (শস্যক্ষেত্রকে) শীর্ণ দেখিতে পায়, তবে অবশ্য তৎপর তাহারা কৃতঘ্ন হইবে।

আয়াতঃ ৫১⇒ অনন্তর যখন তাহারা পৃষ্ঠভঙ্গ দিয়া বিমুখ হয়, তখন সেই মৃতলোকদিগকে ও বধিরদিগকে তুমি নিশ্চয় আহ্বান শ্রবন করাইও না।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং তুমি অন্ধদিগের তাহাদের পথভ্রান্তি হইতে পথপ্রদর্শক নও, যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তুমি তাহাদিগকে ব্যতীত (উপদেশ) শুনাইতেছ না, অনন্তর তাহারাই মোসলমান।

আয়াতঃ ৫৩⇒ সেই ঈশ্বর যিনি তোমাদিগকে দুর্বলতার মধ্যে হইতে সৃজন করিয়াছেন, তৎপর অশক্তির পরে শক্তি দিয়াছেন, তৎপর শক্তির পরে দুর্বলতা ও বার্ধক্য বিধান করিয়াছেন, তিনি যেরুপ ইচ্ছা করেন সৃজন করিয়া থাকেন, এবং তিনি জ্ঞানী ও ক্ষমতাবান।

আয়াতঃ ৫৪+৫৫⇒ এবং যে দিবস কেয়ামত উপস্থিত হইবে, সেই দিবস পাপী লোকেরা শপথ করিবে, (বলিবে) যে, তাহারা ক্ষণকাল ভিন্ন (পৃথিবীতে) স্থিতি করে নাই, এইরুপ তাহারা (সত্য পথ হইতে) ফিরিয়া যায়।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং যাহাদিগকে জ্ঞান ও বিশ্বাস প্রদত্ত হইয়াছে, তাহারা বলিবে যে, সত্যসত্যই তোমরা ঐশ্বরিক গ্রন্থানুসারে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত স্থিতি করিয়াছ, অনন্তর ইহাই পুনরুত্থানের দিন, কিন্তু তোমরা জানিতেছ না।

আয়াতঃ ৫৭⇒ পরিশেষে সে দিবস অত্যাচারীদিগকে তাহাদের আপত্তি উপকৃত করিবে না, এবং তাহাদের নিকট অনুতাপ চাওয়া হইবে না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং সত্যসত্যই আমি এই কোরআনে মানবমণ্ডলীর জন্য সকল প্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণন করিয়াছে, এবং যদি তুমি (হে মোহম্মদ) যাহারা ধর্মবিদ্বেষী হইয়াছে, তাহাদের নিকটে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর তাহারা অবশ্য বলিবে যে, তোমরা মিথ্যাবাদী ভিন্ন নও।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এইরুপ পরমেশ্বর অজ্ঞানী লোকদিগের অন্তরে মোহর বদ্ধ করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৬০⇒ অনন্তর তুমি ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, এবং যাহারা বিশ্বাস করে না তাহারা তোমাকে লঘু করিতে পারিবে না।