সূরাঃ রঅদ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ সেই গ্রন্থের এই সকল আয়াত, এবং তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি (হে মোহাম্মদ) যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বিশ্বাস করে না।

আয়াতঃ ০২⇒ নভোমণ্ডলকে যে তোমরা দেখিতেছ যাহা যিনি স্তম্ভ ব্যতীত উন্নমিত করিয়াছেন তিনিই ঈশ্বর, তৎপর সিংহাসনের উপর তিনি স্থিতি করিয়াছেন, এবং চন্দ্র ও সূর্যকে বশীভূত রাখিয়াছেন, প্রত্যেক নির্ধারিত সময়ে সঞ্চরণ করিতেছে, তিনি কার্য সম্পাদন করেন, এবং নিদর্শন সকল বর্ণনা করেন, ভরসা যে তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের সাক্ষাৎকারে বিশ্বাসী হইবে।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তিনিই যিনি ভূতলকে প্রসারিত করিয়াছেন, এবং তন্মধ্যে গিরিশ্রেনী ও নির্ঝরপুঞ্জ সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তাহার মধ্যে সমুদায় ফলের দুই দুই জাতি সৃজন করিয়াছেন, তিনি দিবা দ্বারা রজনীকে আচ্ছাদিত করেন, চিন্তাশীল দলের জন্য নিশ্চয় ইহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং ভূতলে পরস্পর সংলগ্ন বিভাগ সকল আছে ও দ্রাক্ষার উদ্যান সকল এবং ক্ষেত্র সকল ও বহু শাখাবিশিষ্ট তরু ও বাহু শাখাবিহীন খোর্মা তরু সকল আছে, (সে সকল) একবিধ জলে অভিষিক্ত হয়, এবং ফল সম্বন্ধে আমি পরস্পরকে পরস্পরের উপর (বিভিন্ন) উন্নতি দান করিতেছি, সত্যই যাহারা জ্ঞান রাখে সেই দলের জন্য ইহার মধ্যে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং যদি তুমি আশ্চর্যানিত হও তবে তাহাদের বাক্য আশ্চর্য, “কি আমরা যখন মৃত্তিকা হইব তখন কি সত্যই নূতন সৃজনে আসিব?” ইহারাই যাহা দ্বারা স্বীয় প্রতিপালকের সম্বন্ধে বিরোধী, ইহারাই যে ইহাদের গলদেশে বন্ধন আছে, এবং ইহারাই নরকলোকনিবাসী, ইহারা তথায় চিরনিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং তাহারা মঙ্গলের পূর্বে তোমা হইতে অমঙ্গলকে সত্বর চাহিতেছে, এবং নিশ্চয় তাহাদের পূর্বে (শাস্তির) দৃষ্টান্ত সকল হইয়া গিয়াছে, এবং নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মনুষ্যের জন্য তাহাদের অত্যাচার সত্ত্বে ক্ষমাকারী, এবং নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিয়া থাকে, “তাহার প্রতিপালক হইতে কেন অলৌকিকতা অবতীর্ণ হইল না?” তুমি ভয়প্রদর্শক ও সমুদায় জাতির জন্য পথপ্রদর্শক এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ০৮⇒ সমুদায় নারী যাহা গর্ভে ধারন করে, এবং গর্ভ সকল যাহা হীন করে ও যাহা বৃদ্ধি করে ঈশ্বর তাহা জানেন, এবং প্রত্যেক বস্তু তাঁহার নিকটে পরিমেয়।

আয়াতঃ ০৯⇒ তিনি বাহ্য ও অন্তরের জ্ঞাতা ও মহান ও শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ১০⇒ তোমাদের যে ব্যক্তি বাক্য গোপন করে ও যে ব্যক্তি তাহা উচ্চৈঃস্বরে বলে, এবং যে ব্যক্তি রজনীতে প্রচ্ছন্ন ও যে ব্যক্তি দিবাভাগে বিচরণকারী (তাঁহার নিকটে) তুল্য।

আয়াতঃ ১১⇒ তাহার জন্য প্রহরী সকল তাহার অগ্রে ও তাহার পশ্চাতে আছে, তাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে তাহাকে রক্ষা করে, যে পর্যন্ত তাহাদের অন্তরে যাহা আছে তাহারা তাহার পরিবর্তন (না) করে সে পর্যন্ত পরমেশ্বর কোন সম্প্রদায়ের কিছু পরিবর্তন করেন না, এবং যখন ঈশ্বর কোন সম্প্রদায়ের প্রতি দুর্গতি ইচ্ছা করেন তখন তাহার নিবারক নাই, এবং তাহাদের নিমিত্ত তিনি ব্যতীত কার্যসম্পাদক নাই।

আয়াতঃ ১২⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগকে ভয় ও লোভের জন্য বিদ্যুত প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এবং ঘন মেঘ উৎপাদন করেন।

আয়াতঃ ১৩⇒ জলদনির্ঘোষ তাঁহার প্রশংসাতে ও দেবগণ তাঁহার ভয়েতে স্তব করে, এবং তিনি বজ্রসকল প্রেরণ করেন, অনন্তর যাহাদের প্রতি ইচ্ছা হয় তৎপ্রতি উহা সঞ্চারিত করিয়া থাকেন, এবং তাহারা ঈশ্বরের সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, তিনি অতিশয় কঠিন।

আয়াতঃ ১৪⇒ তাঁহার উদ্দেশ্যেই প্রার্থনা করা সত্য, এবং তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাদিগের নিকটে প্রার্থনা করে তাহারা তাহাদের (প্রার্থনা) কিছুই গ্রাহ্য করে না, যেমন কেহ স্বীয় হস্তদ্বয় জলের দিকে প্রসারন করে যেন তাহার অভিমুখে তাহা উপস্থিত হয়, কিন্তু তাহা তাহার প্রতি উপস্থিত হইবার নয়; তদ্রূপ ধর্মদ্রোহীদিগের প্রার্থনা নিষ্ফল হয় ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১৫⇒ যে কেহ স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছে তাহারা ও তাহাদের ছায়া প্রাতঃসন্ধ্যা ইচ্ছায় হউক অনিচ্ছায় হউক ঈশ্বরকে নমস্কার করে।

আয়াতঃ ১৬⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর যে দ্যুলোক ও ভূলোকের প্রতিপালক? বল, ঈশ্বরই; জিজ্ঞাসা কর, অনন্তর তোমরা কি তাঁহাকে ছাড়িয়া (এমন) বন্ধু গ্রহণ করিয়াছ যাহারা আপন জীবনের ক্ষতিবৃদ্ধি করিতে সুক্ষম নহে? জিজ্ঞাসা কর, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি তুল্য? অথবা অন্ধকার ও আলোক কি তুল্য? জিজ্ঞাসা কর, তাহারা কি ঈশ্বরের জন্য এমন অংশী সকলকে নির্ধারিত করে যে, তাহারা তাঁহার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করিয়াছে? অতএব তাহাদের প্রতি সৃষ্টির উপমা হইয়াছে? বল, ঈশ্বর সমুদায় পদার্থের সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি একমাত্র বিজেতা।

আয়াতঃ ১৭⇒ তিনি আকাশ হইতে জল অবতারণ করিয়াছেন, অনন্তর তৎপরিমাণে নদীসকল প্রবাহিত হইয়াছে, পরে জলপ্রবাহ উপরে ফেনপুঞ্জ ধারন করিয়াছে, এবং যে বস্তু হইতে অলঙ্কার অথবা তৈজস সামগ্রীর অন্বেষণ হয় অগ্নিমধ্যে তাহাকে জ্বালান হইয়া থাকে, (উহা) তৎসদৃশ ফেন (খাদ) হয়, এইরুপ পরমেশ্বর সত্য ও অসত্যের বর্ণনা করেন, কিন্তু ফেন (বা খাদ) পরে অসার হইয়া দূরীভূত হয়, এবং যে বস্তু লোকের উপকারে আইসে অবশেষে তাহা পৃথিবীতে থাকে, এই প্রকার পরমেশ্বর দৃষ্টান্ত সকল বর্ণনা করেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ যাহারা স্বীয় প্রতিপালকের (বাক্য) গ্রাহ্য করিয়াছে তাহাদের জন্য কল্যাণ, এবং যাহারা তাহা গ্রাহ্য করে নাই, যদি পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তৎসমুদায় তাহাদের হয় এবং তৎসদৃশ (সমুদয়) তাহাদের সঙ্গে থাকে তাহারা অবশ্য তাহা (শাস্তির) বিনিময় (স্বরুপ) দান করিবে, ইহারাই যে, ইহাদের জন্য দুরুহ বিচার, ইহাদের আশ্রয়ভূমি নরকলোক ও (তাহা) কুৎসিত স্থান।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে যাহারা তাহা সত্য জানিতেছে তাহারা কি যাহারা অন্ধ তাহাদিগের সদৃশ? বুদ্ধিমান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে, এতদ্ভিন্ন নয়।

আয়াতঃ ২০⇒ যাহারা পরমেশ্বরের অঙ্গীকারকে পূর্ণ করে, এবং অঙ্গীকারকে ভঙ্গ করে না।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং ঈশ্বর আজ্ঞা করিয়াছেন যে, আপন প্রতিপালকের প্রতি যোগ স্থাপন কর, তাঁহাকে ভয় কর, তৎপ্রতি যাহারা যোগ স্থাপন করে, এবং বিচারের কাঠিন্যকে ভয় করে।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যাহারা স্বীয় প্রতিপালকের আননের  প্রার্থনায় ধৈর্যধারন করে ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে, এবং তাহাদিগকে প্রকাশ্যে ও গোপনে আমি যে উপজীবিকা দিয়াছি তাহা ব্যয় করে, অপিচ সাধুতা দ্বারা অসাধুতাকে দূর করে তাহারাই, তাহাদিগের জন্য পারলৌকিক আলয়।

আয়াতঃ ২৩⇒ তাহারা নিত্য স্বর্গোদ্যান সকলে প্রবেশ করে, এবং যাহারা স্বীয় পিতৃগণের প্রতি, স্বীয় ভার্যাগণের প্রতি ও স্বীয় সন্তানগণের প্রতি সদাচরণ করে তাহারা ও দেবগণ প্রত্যেক দ্বার দিয়া তাহাদিগের নিকটে উপস্থিত হয়।

আয়াতঃ ২৪⇒ (তাহারা বলে) তোমরা যে ধৈর্য ধারন করিয়াছ তজ্জন্য তোমাদের প্রতি শান্তি, অনন্তর শুভ পারলৌকিক আলয় (তোমাদের জন্য)

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের অঙ্গীকার তাহা সংবদ্ধ হওয়ার পর ভঙ্গ করে, এবং ঈশ্বর সম্মিলনের যে আজ্ঞা করিয়াছেন তাহা ছিন্ন করে, এবং পৃথিবীতে দৌরাত্ম্য করে তাহারাই, তাহাদিগের জন্য অভিসম্পাত, এবং তাহদিগের জন্য দুঃখের আলয়।

আয়াতঃ ২৬⇒ যাহার প্রতি ইচ্ছা হয় ঈশ্বর তাহাকে বিস্তৃত উপজীবিকা দান করেন এবং সংকীর্ণ দিয়া থাকেন, এবং (কাফেরগণ) পার্থিব জীবনে আনন্দিত, পরলোক সম্বন্ধে পার্থিব জীবন ক্ষুদ্র সামগ্রী বৈ নহে।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলে যে, “কেন তাহার প্রতি তাহার প্রতিপালক হইতে অলৌকিকতা অবতীর্ণ হয় নাই?” তুমি বল, নিশ্চয় ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় বিভ্রান্ত করিয়া থাকেন, এবং যে ব্যক্তি উন্মুখ তাহাকে আপনার দিকে পথ প্রদর্শন করেন।

আয়াতঃ ২৮⇒ (কাহারা তাঁহার প্রতি উন্মুখ) যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও ঈশ্বর প্রসঙ্গে যাহাদের অন্তর শান্তি লাভ করে, জানিও ঈশ্বর প্রসঙ্গে হৃদয় শান্তি লাভ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ২৯⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহাদের জন্য সুখের অবস্থা, এবং উত্তম প্রত্যাবর্তনভূমি।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় যাহার পূর্বে অনেক মণ্ডলী গত হইয়াছে এমন এক মণ্ডলীর প্রতি এইরুপে আমি তোমাকে প্রেরণ করিয়াছি যেন তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করিয়াছি, তুমি তাহাদের নিকটে তাহা পাঠ কর, এবং তাহারা পরমেশ্বরের প্রতি বিদ্রোহাচরণ করিতেছে; তুমি বল, তিনিই আমার প্রতিপালক, তিনি ভিন্ন ঈশ্বর নাই, তাঁহার প্রতি আমি নির্ভর করিয়াছি, এবং তাঁহার দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং যদিচ কোন এক কোরআন হইত যে তদ্দারা পর্বত সকল স্থানচ্যুত অথবা ভূমি বিদারিত হইত, কিংবা মৃত ব্যক্তি কথা কহিত, (তথাপি তাহারা বিশ্বাস করিত না) বরং ঈশ্বরের জন্য সমুদায় কার্য, অনন্তর যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহারা কি জানে না যে, যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেন তবে সমুদায় মনুষ্যকে পথ দেখাইতেন, এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহারা যাহা করিয়াছে তজ্জন্য ইহাদের প্রতি নিত্য-শাস্তি উপস্থিত হইবে, অথবা যে পর্যন্ত ঈশ্বরের অঙ্গীকার সমাগত হয় তাহাদের তাহাদের গৃহের নিকটে তাহা অবতীর্ণ হইবে, নিশ্চয় ঈশ্বর অঙ্গীকারের অন্যথা করেন না।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং সত্যসত্যই তোমার পূর্ববর্তী প্রেরিতপুরুষগণের প্রতি উপহাস করা হইয়াছে, পরে কাফেরদিগকে আমি অবকাশ দিয়াছি, তৎপর তাহাদিগকে ধরিয়াছি, পরিশেষে আমার শাস্তি কিরুপ ছিল?

আয়াতঃ ৩৩⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি প্রত্যেক লোকের উপরে তাহারা যাহা করিয়াছে তজ্জন্য (প্রহরীরুপে) দন্ডায়মান, তিনি কি (অন্য দুর্বলের তুল্য?) তাহারা পরমেশ্বরের নিমিত্ত অংশী সকল নিযুক্ত করিয়াছে; বল, তোমরা তাহাদের নামকরণ কর, তিনি পৃথিবীতে যাহা জানেন না তদ্বিষয়ে অথবা বাহ্যিক কথায় তোমরা কি তাহাদের সংবাদ দিতেছ? বরং কাফেরদিগের জন্য তাহাদের চক্রান্ত সজ্জিত হইয়াছে, এবং তাহারা (ঈশ্বরের) পথ হইতে নিবারিত আছে, ঈশ্বর যাহাকে পথভ্রান্ত করেন পরে তাহার জন্য পথপ্রদর্শক নাই।

আয়াতঃ ৩৪⇒ তাহাদের জন্য সাংসারিক জীবনে শাস্তি ও অবশ্য পরলোকে গুরুতর শাস্তি আছে, এবং ঈশ্বর হইতে তাহাদের নিমিত্ত কোন রক্ষাকর্তা নাই।

আয়াতঃ ৩৫⇒ ধর্মভীরুদিগের জন্য যাহা অঙ্গীকৃত হইয়াছে সেই স্বর্গলোকের বর্ণনা, তাহার নিন্ম দিয়া জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহার ফল সকল ও তাহার ছায়া সকল নিত্য, যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছে তাহাদের এইরুপ চরম (পুরস্কার) এবং ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য অগ্নি চরম (পুরস্কার)। আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ দান করিয়াছি তাহারা তোমার প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে তাহাতে আহ্লাদিত, এবং সেই দলের কেহ আছে যে, তাহা কতক অঙ্গীকার করে, তুমি বল, আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, ঈশ্বরকে অর্চনা করি, এবং তাঁহার সঙ্গে অংশী স্থাপন না করি এতদ্ভিন্ন নহে, তাঁহার দিকে আহ্বান করিতেছি, এবং তাঁহার দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ দান করিয়াছি তাহারা তোমার প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে তাহাতে আহ্লাদিত, এবং সেই দলের কেহ আছে যে, তাহা কতক অস্বীকার করে, তুমি বল, আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, ঈশ্বরকে অর্চনা করি, এবং তাঁহার সঙ্গে অংশী স্থাপন না করি এতদ্ভিন্ন নহে, তাঁহার দিকে আহ্বান করিতেছি, এবং তাঁহার দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং এইরুপে আমি ইহাকে আরব্য আদেশরুপে অবতারিত করিয়াছি, এবং তোমার  নিকটে যে জ্ঞান আসিল তাহার পরেও যদি তুমি তাহাদিগের ইচ্ছার অনুসরণ কর তবে তোমার জন্য ঈশ্বর অপেক্ষা কোন বন্ধু ও রক্ষক নাই।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমার পূর্বে প্রেরিতপুরুষদিগকে প্রেরণ করিয়াছি ও তাহাদিগের ভার্যাবর্গ ও সন্তান সকল সৃজন করিয়াছি, এবং ঈশ্বরের আদেশ ব্যতীত কোন নিদর্শন আনয়ন করা কোন প্রেরিতপুরুষদের পক্ষে সঙ্ঘটন হয় নাই, প্রত্যেক নিরুপিত কালের জন্য লিপি আছে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ পরমেশ্বর যাহা ইচ্ছা হয় তাহা বিলুপ্ত করেন ও স্থীর রাখেন, এবং তাঁহার নিকটে মূল গ্রন্থ আছে।

আয়াতঃ ৪০⇒ আমি তাহাদিগের সঙ্গে যাহা অঙ্গীকার করিয়া থাকি যদি তাহা তোমাকে প্রদর্শন করি, বা (তৎপূর্বে) তোমার প্রাণ হরণ করি (যাহাই হয়) ফলতঃ তোমার প্রতি প্রচার ও আমার প্রতি বিচার কার্য, এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৪১⇒ তাহারা কি দেখিতেছে না যে, আমি এই ভূমিতে আসিতেছি যে, তাহার পার্শ্ব সকল হইতে তাহাকে ক্ষয় করিতেছি, ঈশ্বর আদেশ করেন, তাঁহার আজ্ঞার প্রতিরোধকারী নাই, এবং তিনি বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ৪২⇒ অপিচ তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল, নিশ্চয় তাহারা চক্রান্ত করিয়াছিল, পরন্তু ঈশ্বরেরি সমুদায় চক্রান্ত, প্রত্যেক ব্যক্তি যাহা আচরণ করে তিনি তাহা জানেন, এবং সত্বর ধর্মদ্রোহীগণ জানিতে পাইবে যে, পারলৌকিক আলয় কাহার হইবে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ পরন্তু ধর্মদ্রোহীগণ বলিতেছে যে, তুমি প্রেরিত নও, তুমি বল, আমার ও তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরি যথেষ্ট সাক্ষী এবং যাঁহার নিকটে গ্রন্থ জ্ঞান আছে তিনি।