সূরাঃ মোহম্মদ

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ যাহারা ধর্মবিরোধী হইয়াছে, এবং ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখিয়াছে তাহাদের ক্রিয়া সকলকে তিনি ব্যর্থ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০২⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে, এবং মোহম্মদের প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করিয়াছে, এবং উহা তাহাদের প্রতিপালক হইতে (আগত) সত্য হয়, (বিশ্বাস করিয়াছে) তিনি তাহাদিগ হইতে তাহাদের পাপপুঞ্জ দূর করিয়াছেন, এবং তাহাদের অবস্থা সংশোধন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৩⇒ ইহা এজন্য যে, যাহারা বিরুদ্ধাচারী হইয়াছিল তাহারা অসত্যের অনুসরণ করিয়াছিল, এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছিল তাহারা আপন প্রতিপালক হইতে (আগত) সত্যের অনুসরণ করিয়াছিল, এইরুপ পরমেশ্বর মানবমণ্ডলীর জন্য তাহাদের অবস্থা সকল বর্ণন করেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ অনন্তর যখন তোমরা ধর্মবিরোধীদিগের সঙ্গে (রণক্ষেত্রে) মিলিত হও তখন তাহাদের কন্ঠ ছেদন করিও, এ পর্যন্ত, যখন তাহাদিগকে অধিকতর ধ্বংস করিলে, তখন দৃঢ় বন্ধন করিও, অবশেষে ইহার পর হয় হিতসাধন করিও, অথবা (অর্থাদি) বিনিময় গ্রহণ করিও, এ পর্যন্ত (যুদ্ধকর্তা) যেন তাহার (যুদ্ধের) অস্ত্র সকল পরিত্যাগ করে, ইহাই (আজ্ঞা) এবং যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেন তবে (স্বয়ং) তাহাদিগ হইতে তিনি প্রতিশোধ লইতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের এক জনকে অন্য জন দ্বারা পরীক্ষা করেন, এবং যাহারা ঈশ্বরের পথে নিহত হইয়াছে, নিশ্চয় তিনি তাহাদের ক্রিয়া সকলকে বিফল করিবেন না।

আয়াতঃ ০৫⇒ অবশ্য তিনি তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করিবেন ও তাহাদের অবস্থা সংশোধন করিবেন।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং তিনি তাহাদিগকে যাহার পরিচয় দান করিয়াছেন, সেই স্বর্গে তাহাদিগকে লইয়া যাইবেন।

আয়াতঃ ০৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যদি তোমরা ঈশ্বরকে (ঈশ্বরের ধর্মকে) সাহায্য দান কর, তিনিও তমাদিগকে সাহায্য দান করিবেন ও তোমাদের চরণ দৃঢ় করিবেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং যাহারা ধর্মবিরোধী হইয়াছে, পরে তাহাদিগের বিপাক (হউক), এবং তাহাদিগের ক্রিয়া সকলকে তিনি নিষ্ফল করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৯⇒ ইহা এজন্য যে, ঈশ্বর যাহা অবতারণ করিয়াছেন তাহাকে তাহারা অবজ্ঞা করিয়াছে, অনন্তর তাহাদিগের ক্রিয়া সকল তিনি বিনষ্ট করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১০⇒ পরে তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই? তবে দেখিবে তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদিগের পরিণাম কিরুপ হইয়াছে; পরমেশ্বর তাহাদের প্রতি মৃত্যু আনয়ন করিয়াছিলেন, এবং (এই) কাফেরদিগের (শাস্তি) তাহার অনুরুপ হইবে।

আয়াতঃ ১১⇒ ইহা এজন্য যে, ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের প্রভু, এবং এজন্য যে, ধর্মদ্রোহীগণ তাহাদের প্রভু নহে।

আয়াতঃ ১২⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদিগকে স্বর্গোদ্যান সকলে লইয়া যাইবেন, যাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, এবং যাহারা ধর্মবিরোধী হইয়াছে তাহারা পশুগণ যেমন ভক্ষন করে তদ্রূপ সম্ভোগ করে ও ভক্ষন করিয়া থাকে, এবং অগ্নি তাহাদের জন্য বাসস্থান।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং তোমার সেই গ্রাম অপেক্ষা যাহা তোমাকে নির্বাসিত করিয়াছে শক্তি অনুসারে প্রবলতর বহু গ্রাম ছিল, তাহাদিগকে আমি ধ্বংস করিয়াছি, পরে তাহাদের সাহায্যকারী কেহ হয় নাই।

আয়াতঃ ১৪⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের প্রমাণের প্রতি (বিশ্বাসী) আছে সে কি সেই ব্যক্তির তুল্য যাহার জন্য তাহার গর্হিত কার্য সকল সজ্জিত রহিয়াছে ও যে স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করিয়াছে?

আয়াতঃ ১৫⇒ স্বর্গলোকের বর্ণনা – যাহা ধার্মিকের প্রতি অঙ্গীকার করা হইয়াছে, তথায় নির্মল জলের প্রণালী সকল আছে, এবং দুগ্ধের প্রণালী সকল আছে; তাহার স্বাদ বিকৃত হয় না, এবং পানকারীদিগের স্বাদজনক সুরার প্রণালী সকল আছে, এবং পরিষ্কৃত মধুর প্রণালী সকল আছে, এবং তথায় তাহাদের জন্য বহুবিধ ফল আছে ও তাহাদের প্রতিপালকের ক্ষমা আছে, তাহারা কি সেই সকল ব্যক্তির তুল্য যাহারা অগ্নিমধ্যে নিত্যনিবাসী হয় ও যাহাদিগকে উষ্ণোদক পান করান হয়, পরে যাহাদিগের অস্ত্র সকল খন্ড খন্ড হয়?

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং তাহাদিগের মধ্যে কেহ আছে যে, তোমার নিকটে (কোরআন) শ্রবন করে, এ পর্যন্ত, যখন তোমার নিকট হইতে বাহির হইয়া যায় তখন যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদিগকে বলে, “এক্ষন তিনি কি বলিলেন”? ইহারাই তাহারা যাহাদিগের অন্তরে ঈশ্বর দৃঢ় বন্ধন রাখিয়াছেন, এবং যাহারা স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করিয়াছে।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যাহারা পথ প্রাপ্ত হইয়াছে তিনি তাহাদিগের প্রতি পথ প্রদর্শন বৃদ্ধি করিয়াছেন ও তাহাদিগকে তাহাদের সংসার বিরাগ দান করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ অবশেষে তাহারা কেয়ামত ভিন্ন প্রতীক্ষা করিতেছে না যে, তাহাদের নিকটে অকস্মাৎ উপস্থিত হইবে, অনন্তর নিশ্চয় তাহার নিদর্শন সকল আসিয়ছে, পরে যখন তাহাদের নিকটে তাহাদের শিক্ষা (কেয়ামত) উপস্থিত হইবে, তখন কোথা হইতে তাহাদের (উপদেশ গ্রহণ হইবে)।

আয়াতঃ ১৯⇒ অবশেষে জানিও যে, (হে মোহম্মদ) ঈশ্বর ব্যতীত উপাস্য নাই, তুমি স্বীয় পাপের জন্য এবং বিশ্বাসী পুরুষদিগের ও বিশ্বাসিনী নারীদিগের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং ঈশ্বর তোমাদের পরিক্রমণের স্থান ও অবস্থিতির স্থান জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহারা বলে, “কেন কোন সূরা অবতারিত হইল না”? অনন্তর যখন দৃঢ় সূরা অবতারিত হয় ও তন্মধ্যে সংগ্রামের প্রসঙ্গ করা যায়, তখন যাহাদিগের অন্তরে রোগ আছে তাহাদিগকে তুমি দেখিবে যাহার উপর মৃত্যুর মূর্ছা সঞ্চারিত তদ্বৎ দৃষ্টিতে তাহারা তোমার প্রতি তাকাইয়াছে, অনন্তর তাহাদিগের প্রতি আক্ষেপ।

আয়াতঃ ২১⇒ (তাহাদের অবস্থা প্রকাশ্যে) আনুগত্য ও বিহিত বাক্য, অনন্তর যখন কার্য স্থির হয় তখন যদি তাহারা ঈশ্বরকে সত্য বলে তবে তাহাদের জন্য কল্যাণ হয়।

আয়াতঃ ২২⇒ পরে (হে ক্ষীণ বিশ্বাসীগণ) তোমরা কি উদ্যত হইয়াছ যে, যদি তোমরা কার্যাধ্যক্ষ হও তবে পৃথিবীতে উৎপাত করিবে ও স্বীয় কুটুম্বিতা ছিন্ন করিবে?

আয়াতঃ ২৩⇒ ইহারাই তাহারা যাহাদিগকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করিয়াছেন, অনন্তর তিনি তাহাদিগকে বধির করিয়াছেন ও তাহাদের চক্ষু অন্ধ করিয়াছেন, অনন্তর তিনি তাহাদিগকে বধির করিয়াছেন ও তাহাদের চক্ষু অন্ধ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ২৪⇒ পরিশেষে তাহারা কি কোরআনের বিষয় ভাবে না, তাহাদের অন্তরের উপর কি তাহার কুলুপ আছে?

আয়াতঃ ২৫⇒ নিশ্চয় যাহারা তাহাদের জন্য ধর্মালোক প্রকাশিত হওয়ার পর স্বীয় পৃষ্ঠের দিকে ফিরিয়া গিয়াছে শয়তান তাহাদের জন্য (শত্রুতা) সাজাইয়াছে, এবং তিনি তাহাদিগকে অবকাশ দিয়াছেন।

আয়াতঃ ২৬⇒ ইহা এজন্য যে, ঈশ্বর যাহা অবতারণ করিয়াছেন তাহাকে যাহারা অবজ্ঞা করে তাহাদিগকে (কপটদিগকে) তাহারা (ইহুদিগণ) বলিয়াছে যে, “অবশ্য কোন কোন কার্যে আমরা তোমাদিগের আনুগত্য করিব;” এবং পরমেশ্বর তাহাদের রহস্য জানিতেছেন।

আয়াতঃ ২৭⇒ অনন্তর যখন দেবগণ তাহাদিগের প্রাণ হরণ করিবে, এবং তাহাদের মুখে ও তাহাদের পৃষ্ঠে প্রহার করিবে তখন (তাহাদের অবস্থা) কিরুপ হইবে?

আয়াতঃ ২৮⇒ ইহা এজন্য যে, যাহা ঈশ্বরকে ক্রুদ্ধ করিয়া তুলিয়াছে ও তাঁহার প্রসন্নতাকে মলিন করিয়া তুলিয়াছে, তাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছে, অনন্তর তিনি তাহাদের ক্রিয়া সকল বিনষ্ট করিয়াছেন।

আয়াতঃ ২৯⇒ যাহাদিগের অন্তরে রোগ আছে তাহারা কি মনে করে যে, ঈশ্বর তাহাদের ঈর্ষা সকল প্রকাশ করিবেন না?

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং যদি আমি ইচ্ছা করিতাম তবে অবশ্য তোমাকে তাহাদিগকে দেখাইতাম, পরে তুমি তাহাদিগকে অবশ্য তাহাদের লক্ষণ দ্বারা চিনিতে ও কথার স্বরেতে অবশ্য তুমি তাহাদিগকে চিনিতে, এবং ঈশ্বর তাহাদের কার্য সকল জানিতেছেন।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং অবশ্য আমি তোমাদিগকে এ পর্যন্ত পরীক্ষা করিব যে,  তোমাদিগের মধ্যে ধর্মযোদ্ধা ও সহিষ্ণুদিগকে অবগত হইব, এবং তোমাদের অবস্থা সকল পরীক্ষা করিব।

আয়াতঃ ৩২⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করিয়াছে, এবং তাহাদের জন্য ধর্মলোক প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে শত্রুতা করিয়াছে, তাহারা ঈশ্বরকে কখনো কিছুই পীড়া দিবে না, এবং অবশ্য তাহাদের কার্য সকল বিনষ্ট হইবে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরের অনুগত হও ও প্রেরিতপুরুষের অনুগত হও, এবং স্বীয় কর্মপুঞ্জ বিফল করিও না।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মবিরোধী হইয়াছে ও ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত করিয়াছে, তৎপর প্রাণত্যাগ করিয়াছে ও তাহারা সেই কাফের রহিয়াছে, অনন্তর পরমেশ্বর তাহাদিগকে কখনো ক্ষমা করিবেন না।

আয়াতঃ ৩৫⇒ অবশেষে শিথিল হইও না, এবং শাস্তির দিকে (তাহাদিগকে) আহ্বান করিও না, এবং তোমরা বিজয়ী হও, এবং ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আছেন ও তিনি তোমাদের কার্য সকলকে কখনো তোমাদিগ হইতে নষ্ট করিবেন না।

আয়াতঃ ৩৬⇒ পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক এতদ্ভিন্ন নহে, যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর ও ধর্মভীরু হও, তবে তোমাদিগকে তোমাদের পারিশ্রমিক তিনি প্রদান করিবেন, এবং তিনি তোমাদের নিকটে তোমাদের ধন-সম্পত্তি চাহিবেন না।

আয়াতঃ ৩৭⇒ যদি তিনি তোমাদিগ হইতে তাহা প্রার্থনা করেন, পরে তোমাদিগকে বাধ্য করেন, এবং তোমরা কৃপণ হও, তবে তিনি তোমাদিগের নীচতা প্রকাশ করেন।

আয়াতঃ ৩৮⇒ জানিও, তোমরা এই লোক যে, কৃপণতা করে, এবং যে ব্যক্তি কৃপণতা করে পরে সে আপন জীবনের জন্য কার্পণ্য করে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং ঈশ্বর ধনী ও তোমরা দীন, এবং যদি তোমরা বিমুখ হও তবে তিনি তোমাদের ছাড়া এক দলকে (তোমাদের স্থলে) পরিবর্তিত করিবেন, তৎপর তাহারা তোমাদের ন্যায় হইবে না।