সূরাঃ মোলক

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ যাঁহার হস্তে রাজত্ব, তিনি মহা সমুন্নত এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ০২⇒ যিনি কার্যতঃ তোমাদের মধ্যে কে অত্যুত্তম তোমাদিগকে এই পরীক্ষা করিতে জীবন ও মৃত্যু সৃজন করিয়াছেন, এবং তিনি পরাক্রান্ত ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ০৩⇒ যিনি স্তরে স্তরে সপ্ত স্বর্গ সৃজন করিয়াছেন, ঈশ্বরের সৃষ্টিতে তুমি (হে দর্শক) কোন ত্রুটি দেখিতে পাইবে না, অনন্তর চক্ষুকে ফিরাইয়া লইয়া যাও, কোন ত্রুটি কি দেখিতেছ? তৎপর দুইবার নয়ন ফিরাইয়া লইয়া যাও, তোমার দিকে চক্ষু নিস্তেজ হইয়া ফিরিয়া আসিবে, এবং তাহা ক্লান্ত থাকিবে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি পৃথিবীর আকাশকে (নক্ষত্ররুপ) দীপাবলী দ্বারা শোভিত করিয়াছি, এবং তাহাকে (সেই নক্ষত্রপুঞ্জকে) শয়তানকুলের তাড়ানোর যন্ত্র করিয়াছি, এবং আমি তাহাদের জন্য নরকদন্ড প্রস্তুত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং যাহারা আপন প্রতিপালকের সম্বন্ধে বিদ্রোহী হইয়াছে তাহাদের জন্য নরকদন্ড আছে, এবং (উহা) গর্হিত স্থান।

আয়াতঃ ০৬⇒ যখন তথায় তাহারা নিক্ষিপ্ত হইবে, তখন তাহারা এক নিনাদ শ্রবণ করিবে, এবং তাহা গর্দভধ্বনি (তুল্য)।

আয়াতঃ ০৭⇒ যখন কোন দল তাহার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হইবে তখন তাহা ক্রোধে খন্ড খন্ড হইবার উপক্রম হইবে, তাহার প্রহরীগণ তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিবে, “তোমাদের নিকটে কি ভয়প্রদর্শক উপস্থিত হন নাই”?

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহারা বলিবে, “হ্যাঁ নিশ্চয় আমাদের জন্য ভয়প্রদর্শক আসিয়াছিলেন।

আয়াতঃ ০৯⇒ অনন্তর (তাঁহার প্রতি) আমরা অসত্যারোপ করিয়াছি, এবং বলিয়াছি যে, পরমেশ্বর কিছুই অবতারণ করেন নাই; তোমরা মহা পথভ্রান্তির মধ্যে বৈ নও”।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং বলিবে, “যদি আমরা শুনিতাম অথবা বুঝিতাম তবে নরকনিবাসীদিগের মধ্যে থাকিতাম না”।

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর আপনাদের অপরাধ স্বীকার করিবে, অবশেষে নরকনিবাসীদিগের জন্য অভিসম্পাত হউক।

আয়াতঃ ১২⇒ নিশ্চয় যাহারা আপন প্রতিপালককে গোপনে ভয় করে, তাহাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ১৩⇒ তোমরা আপনাদের বাক্য গোপন কর বা তাহা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরের রহস্যজ্ঞ।

আয়াতঃ ১৪⇒ যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি কি জানেন না? এবং তিনি সূক্ষ্মদর্শী তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ১৫⇒ তিনি যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিনীত করিয়াছেন, অনন্তর তোমরা তাহার চতুর্দিকে চলিতে থাক, তাঁহার (প্রদত্ত) জীবিকা হইতে ভোগ কর, এবং তাঁহার দিকেই পুনরুত্থান হয়।

আয়াতঃ ১৬⇒ যিনি স্বর্গে আছেন তিনি যে (হে কাফেরগণ) তোমাদিগকে মৃত্তিকায় প্রোথিত করিবেন তাহা হইতে কি তোমরা নিশ্চিন্ত হইয়াছে? অনন্তর অকস্মাৎ এই (পৃথিবী) তোলপাড় হইবে।

আয়াতঃ ১৭⇒ যিনি স্বর্গেতে আছেন তিনি যে তোমাদের প্রতি প্রস্তরবর্ষী মেঘ প্রেরণ করিবেন তাহা হইতে কি তোমরা নিঃশঙ্ক হইয়াছ? অনন্তর কেমন আমার ভয় প্রদর্শন অবশ্য জানিবে।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং সত্যসত্যই তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহারা অসত্যারোপ করিয়াছিল, অবশেষে আমার শাস্তি কেমন হইয়াছিল?

আয়াতঃ ১৯⇒ তাহারা কি আপনাদের উপর প্রসারিত ও সংকুচিতপক্ষ পক্ষিকুলকে দেখিতেছে না? পরমেশ্বর ভিন্ন তাহাদিগকে (কেহ) ধারন করিতেছে না, নিশ্চয় তিনি সকল পদার্থের প্রতি দৃষ্টিকারী।

আয়াতঃ ২০⇒ যে ব্যক্তি তোমাদের জন্য সৈন্য (পরিচালক হয়) ঈশ্বর ভিন্ন তোমাদিগকে সাহায্য দান করিবে; এ কে হয়? ধর্মদ্রোহীগণ প্রতারনায় ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ২১⇒ যদি তিনি স্বীয় জীবিকা বন্ধ করেন, কে সেই ব্যক্তি যে তোমাদিগকে উপজীবিকা দান করিবে? বরং তাহারা অবাধ্যতায় ও পলায়নে স্থিরতর।

আয়াতঃ ২২⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় মুখের দিকে নত হইয়া (অধোমুখে) গমন করে সে অধিকতর পথ প্রাপ্ত না যে ব্যক্তি সরল পথে সোজা হইয়া গমন করে সে?

আয়াতঃ ২৩⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) তিনিই, যিনি তোমাদিগকে সৃজন করিয়াছেন, এবং তোমাদের নিমিত্ত চক্ষু ও কর্ণ এবং হৃদয় স্থাপন করিয়াছেন, তোমরা অল্পই ধন্যবাদ করিয়া থাক।

আয়াতঃ ২৪⇒ তুমি বল, তিনিই যিনি ধরাতলে তোমাদিগকে বিক্ষিপ্ত করিয়াছেন, এবং তাঁহার দিকে তোমরা একত্রীকৃত হইবে।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং তাহারা বলিয়া থাকে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কবে এই (কেয়ামতের) অঙ্গীকার (পূর্ণ) হইবে”।

আয়াতঃ ২৬⇒ বল (এই) জ্ঞান ঈশ্বরের নিকটে ভিন্ন নহে, এবং আমি স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক বৈ নহি।

আয়াতঃ ২৭⇒ অনন্তর যখন তাহা নিকটবর্তী দেখিবে তখন কাফেরদিগের মুখ মলিন হইবে, এবং বলা যাইবে, “যাহা তোমরা চাহিতেছিলে এই তাহা”।

আয়াতঃ ২৮⇒ তুমি বল, “তোমরা কি দেখিয়াছ, যদি পরমেশ্বর আমাকে ও আমার সঙ্গে যাহারা আছে তাহাদিগকে বধ করেন, অথবা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেন, (প্রত্যেক অবস্থায়) কে ধর্মদ্রোহীদিগকে দুঃখজনক শাস্তি হইতে বাঁচাইবে?

আয়াতঃ ২৯⇒ বল, তিনিই পরমেশ্বর, আমরা তাঁহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি ও তাঁহার প্রতি নির্ভর করিয়াছি, অনন্তর তোমরা শীঘ্রই জানিবে সে কে যে, স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে আছে?

আয়াতঃ ৩০⇒ বল, দেখিয়াছ কি, যদি তোমাদের জল শুষ্ক হইয়া যায় তবে কে স্রোতোজল তোমাদের নিকটে আনয়ন করিবে?