সূরাঃ মোমতহেনত

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, আমার শত্রুকে ও তোমাদের শত্রুকে তোমরা বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না, তোমরা তাহাদের নিকটে প্রণয় সহকারে (লিপি) প্রেরণ করিতেছ, বস্তুতঃ তোমাদের প্রতি যে সত্য উপস্থিত হইয়াছে তাহারা তৎপ্রতি অবিশ্বাসী, তোমরা আপন প্রতিপালক পরমেশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছ বলিয়া তাহারা তোমাদিগকে ও প্রেরিতপুরুষকে বহিষ্কৃত করিতেছে, তোমরা যদি আমার প্রসন্নতা অন্বেষণে জ্বেহাদ করিতে বাহির হও তবে তাহাদের প্রতি প্রণয়কে লুকাইয়া রাখ, এবং তোমরা যাহা গোপন কর ও যাহা প্রকাশ্যে করিয়া থাক তাহা আমি উত্তমরুপে জানি, এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাহা করে অনন্তর সত্যই সে সরল পথ হারায়।

 

আয়াতঃ ০২⇒ তাহারা তোমাদিগকে পাইলে তোমাদিগের শত্রু হইবে, এবং তাহারা অমঙ্গল সাধনে তোমাদের প্রতি স্বীয় হস্ত ও স্বীয় রসনা প্রসারন করিবে, এবং তাহারা ভালোবাসে যদি তোমরা কাফের হও।

 

আয়াতঃ ০৩⇒ কেয়ামতের দিনে তোমাদের কুটুম্ব ও তোমাদের সন্তানগণ তোমাদের উপকার করিবে না, তিনি তোমাদিগের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করিবেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার দর্শক।

 

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় এব্রাহিম ও তাহার সঙ্গীদিগের অনুসরণ তোমাদের জন্য উত্তম; (স্মরণ কর) যখন তাহারা আপন দলকে বলিল, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের প্রতি ও তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাকে অর্চনা করিয়া থাক তাহার প্রতি বীতরাগ, আমরা তোমাদের সম্বন্ধে বিরোধী হইয়াছি, এবং যে পর্যন্ত না তোমরা একমাত্র ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর সে পর্যন্ত তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চির শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রকাশিত রহিল,” কিন্তু এব্রাহিমের বাক্য আপন পিতার প্রতি (এই) “অবশ্য আমি তোমার জন্য (হে পিতঃ) ক্ষমা প্রার্থনা করিব, এবং ঈশ্বর হইতে তোমার নিমিত্ত (শাস্তি) কিছুই (দূর করিতে) আমি সমর্থ নহি, হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার প্রতি আমরা নির্ভর করিলাম, এবং তোমার প্রতি আমরা উন্মুখ হইলাম, এবং তোমার দিকে (আমাদের) প্রতিগমন।

 

আয়াতঃ ০৫⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদিগকে ধর্মদ্রোহীদিগের দ্বারা পরাভূত করিও না, এবং হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদিগকে ক্ষমা কর, নিশ্চয় তুমি পরাক্রান্ত বিজ্ঞাতা”।

 

আয়াতঃ ০৬⇒ সত্যসত্যই তোমাদের জন্য (তোমাদের মধ্যে) যে ব্যক্তি ঈশ্বর ও পারলৌকক দিবস আশা করে তাহার জন্য তাহাদের মধ্যে শুভ অনুসরণীয় আছে, এবং যে ব্যক্তি ফিরিয়া যায়, পরে নিশ্চয় (তাহার সম্বন্ধে) সেই ঈশ্বর প্রশংসিত নিষ্কাম।

 

আয়াতঃ ০৭⇒ পরমেশ্বর সমুদ্যত যে, তোমাদের মধ্যে এবং তাহাদের প্রতি যাহাদিগের প্রতি তোমরা শত্রুতা  স্থাপন করিয়াছ তাহাদের মধ্যে বন্ধুতা স্থাপন করেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমতাবান ও ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

 

আয়াতঃ ০৮⇒ যাহারা তমাদের সঙ্গে ধর্মবিষয়ে সংগ্রাম করে নাই, এবং তোমাদিগকে তোমাদের আলয় হইতে বহিষ্কৃত করে নাই, তোমরা যে তাহাদিগের হিত সাধন করিবে ও তাহাদের প্রতি ন্যায়াচরণ করিবে তাহা হইতে ঈশ্বর তোমাদিগকে নিবারন করিতেছেন না, নিশ্চয় ঈশ্বর ন্যায়বানদিগকে প্রেম করেন।

 

আয়াতঃ ০৯⇒ ধর্মবিষয়ে তোমাদের সঙ্গে যাহারা যুদ্ধ করিয়াছে, এবং তোমাদিগকে তোমাদের আলয় হইতে বহিষ্কৃত করিয়াছে ও তোমাদের বহিষ্করণে (অন্যকে) সাহায্য দান করিয়াছে তাহাদের সঙ্গে বন্ধুতা করিতে পরমেশ্বর তোমাদিগকে নিষেধ করিতেছেন এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যাহারা তাহাদের সঙ্গে বন্ধুতা করে অনন্তর ইহারাই তাহারা যে, অত্যাচারী।

 

আয়াতঃ ১০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমাদের নিকটে মোহাজ্বের বিশ্বাসিনী নারীগণ উপস্থিত হয় তখন তাহাদিগকে তোমরা পরীক্ষা করিও, পরমেশ্বর তাহাদের বিশ্বাস উত্তম জ্ঞাত, অনন্তর যদি তোমরা তাহাদিগকে বিশ্বাসিনী জান তবে তাহাদিগকে কাফেরদিগের প্রতি পুনঃ প্রেরণ করিও না, ইহারা যাহা (কবিন সূত্রে) ব্যয় করিয়াছে তাহাদিগকে তোমরা আহা প্রদান করিও, যখন তাহাদিগকে তাহাদের মোহর (স্ত্রী-ধন) প্রদান কর তখন তাহাদিগকে তোমাদের বিবাহ করিতে তোমাদিগের পক্ষে দোষ নয়, এবং তোমরা কাফের নারীকুলের সম্বন্ধে গ্রহণ করিও না ও তোমরা যাহা (কাবিনে) ব্যয় করিয়াছ, তাহা চাহিয়া লইবে, অপিচ উচিত যে, (অংশীবাদিগণ) যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহা চাহে, ইহাই ঈশ্বরের আজ্ঞা, তিনি তোমাদের মধ্যে আদেশ করিতেছেন, এবং পরমেশ্বর জ্ঞানী বিজ্ঞাতা।

 

আয়াতঃ ১১⇒ এবং যদি তোমাদের ভার্যাবর্গের কোন এক জন কাফের দিগের নিকট তোমাদিগ হইতে হারাইয়া যায়, তবে (সেই কাফেরগণকে) দন্ডিত করিও, অনন্তর যাহাদিগের স্ত্রী চলিয়া গিয়াছে তাহাদিগকে তাহারা যাহা (কাবিনের শর্তে) ব্যয় করিয়াছে তদনুরুপ দান করিও, এবং যাহার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী সেই ঈশ্বরকে ভয় করিও।

 

আয়াতঃ ১২⇒ হে স্বর্গীয় সংবাদবাহক, যদি বিশ্বাসিনী নারীগণ ঈশ্বরের সঙ্গে কিছুই অংশী স্থাপন করিবে না ও চুরি করিবে না, এবং ব্যভিচার করিবে না ও আপন সন্তানগণকে হত্যা করিবে না, এবং অসত্যকে তাহা বন্ধন পূর্বক আপন হস্ত ও আপন পদের মধ্যে আনয়ন করিবে না ও বৈধ বিষয়ে তোমার সম্বন্ধে অপরাধ করিবে না, এই বিষয়ে তোমাতে আত্মোৎসর্গ করিতে তোমার নিকটে আগমন করে তবে তুমি তাহাদের আত্মোৎসর্গ গ্রহণ করিও, এবং তাহাদের জন্য ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

 

আয়াতঃ ১৩⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যাহাদের উপর ঈশ্বর ক্রোধ করিয়াছেন তোমরা সেই দলের সঙ্গে বন্ধুতা করিও না, যেমন কবরস্থিত ধর্মদ্রোহিগণ নিরাশ হইয়াছে, তদ্রুপ নিশ্চয় তাহারা পরলোকে নিরাশ হইয়াছে।