সূরাঃ মোনাফেকোন

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ যখন তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) কপট লোকেরা উপস্থিত হয় বলে, “আমরা সাক্ষ্য দান করিতেছি যে, তুমি নিশ্চয় ঈশ্বরের প্রেরিত, এবং ঈশ্বর জানিতেছেন যে, তুমি তাঁহার প্রেরিত,” এবং ঈশ্বর সাক্ষ্য দান করেন যে, নিশ্চয় কপট লোকেরা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ০২⇒ তাহারা আপনাদের শপথকে ঢালরুপে গ্রহণ করিয়াছে, অনন্তর (লোকদিগকে) ঈশ্বরের পথ হইতে নিবারন করে, নিশ্চয় যাহা করিয়া থাকে তাহাতে তাহারা মন্দ লোক।

আয়াতঃ ০৩⇒ ইহা এজন্য যে, পূর্বে তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল তৎপর ধর্মবিরোধী হইয়াছে, অবশেষে তাহাদের মনের উপর মোহর করা হইয়াছে, অনন্তর তাহারা জ্ঞান রাখে না।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং যখন তুমি তাহাদিগকে দর্শন কর তখন তাহাদের (বিনম্র) কলেবর তোমাকে বিস্ময়াপন্ন করে, এবং যদি তাহারা কথা কহিতে থাকে তুমি তাহাদের কথা শ্রবণগোচর করিও, তাহারা যেন প্রাচীরস্থ শুষ্ক কাষ্ঠ, তাহারা প্রত্যেক নিনাদ আপনাদের উপর গণনা করে, তাহারা শত্রু, তুমি তাহাদিগ হইতে সাবধান হইও, ঈশ্বর তাহাদিগের বিনাশ করুন, কোথা হইতে তাহারা ফিরিয়া যাইতেছে?

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হয়, “এস, ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষ তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবেন,” তখন তাহারা স্বীয় মস্তক ঘুরাইয়া থাকে, এবং তুমি তাহাদিগকে দেখিতেছ যে, প্রতিনিবৃত্ত হইতেছে ও তাহারা অহংকার করিতেছে।

আয়াতঃ ০৬⇒ তুমি তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, বা তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর তাহাদিগের সম্বন্ধে তুল্য, ঈশ্বর তাহাদিগকে ক্ষমা করিবেন না, নিশ্চয় ঈশ্বর দুর্বৃত্ত দলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ০৭⇒ ইহারাই তাহারা যাহারা বলিয়া থাকে, “যাহারা ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষের নিকটে আছে, যে পর্যন্ত না তাহারা বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়ে তাহাদের সম্বন্ধে ব্যয় করিও না,” স্বর্গ ও পৃথিবীর ভান্ডার সকল ঈশ্বরেরই, কিন্তু কপট লোকেরা জানিতেছে না।

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহারা বলিয়া থাকে, “যদি আমরা মদীনার দিকে ফিরিয়া যাই তবে অবশ্য শ্রেষ্ঠ লোক তথা হইতে নিকৃষ্টকে বহিষ্কৃত করিবে,” এবং ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের এবং বিশ্বাসীদিগেরই শ্রেষ্ঠত্ব, কিন্তু কপট লোকেরা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের ধন-সম্পত্তি ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি যেন ঈশ্বর- প্রসঙ্গ হইতে তোমাদিগকে শিথিল না করে, এবং যাহাদিগকে ইহা করে, পরে ইহারাই তাহারা যে ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ ১০⇒ তোমাদের কাহারও প্রতি মৃত্যু আসিবার পূর্বে তোমাদিগকে আমি উপজীবিকারুপে যাহা দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করিও, পরে সে বলিবে, “হে আমার প্রতিপালক, কিয়ৎকাল পর্যন্ত যদি তুমি আমাকে অবকাশ দিতে তাহা হইতে সদকা (ধর্মার্থ ফকিরদিগকে দান) দান করিতাম ও সাধুদিগের অন্তর্গত হইতাম”। আয়াতঃ ১১⇒ এবং পরমেশ্বর কোন ব্যক্তিকে তাহার কাল উপস্থিত হইতে কখনো অবকাশ দান করেন না, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।