সূরাঃ মেরাজ্ব

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১+০২+০৩⇒ গৌরবান্বিত পরমেশ্বর হইতে যাহার কোন নিবারণকারী নাই ধর্মদ্রোহীদিগের সম্বন্ধে সেই সঙ্ঘটনীয় শাস্তিবিষয়ে একজন জিজ্ঞাসা করিল।

আয়াতঃ ০৪⇒ যাহার পরিমাণ পঞ্চাশ সহস্র বৎসর হয়, সেই দিবস দেবগণ ও আত্মা তাঁহার দিকে সমুত্থান করিতে থাকে।

আয়াতঃ ০৫⇒ অনন্তর তুমি উত্তম ধৈর্যে ধৈর্যধারণ কর।

আয়াতঃ ০৬⇒ নিশ্চয় তাহারা তাহা দূরে দেখিতেছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং আমি তাহা নিকটে দেখিতেছি।

আয়াতঃ ০৮⇒ যে দিবস গগনমণ্ডল দ্রবীভূত তাম্র সদৃশ হইবে।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং গিরিশ্রেণী বিচিত্র উর্ণা তুল্য হইবে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং কোন আত্মীয় আত্মীয়ের (পাপের সংবাদ) জিজ্ঞাসা করিবে না।

আয়াতঃ ১১+১২+১৩⇒ পরস্পর তাহাদিগকে দেখাইয়া দেওয়া হইবে, অপরাধীগণ অভিলাষ করিবে যে, যদি সেই দিবস শাস্তির বিনিময়ে আপন সন্তানকে ও আপন পত্নীকে এবং আপন ভ্রাতাকে ও আপন স্বগণকে যাহাকে (পৃথিবীতে) স্থান দিয়াছে দান করে।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং ধরাতলে যাহারা আছে সমুদায়কে (বিনিময় স্বরূপ দান করে) তৎপর তাহাকে মুক্তি দেয়।

আয়াতঃ ১৫+১৬⇒ না না, নিশ্চয় উহা (নরক) শিখাবান অগ্নি, শিরশ্চর্ম আকর্ষণ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১৭+১৮⇒ যাহারা (ধর্মপথ হইতে) ফিরিয়া গিয়াছে ও বিমুখ হইয়াছে, এবং (পার্থিব সম্পত্তি) সংগ্রহ করিয়াছে, পরে (তাহা) বদ্ধ রাখিয়াছে, উহা তাহাদিগকে ডাকিয়া লয়।

আয়াতঃ ১৯⇒ নিশ্চয় মনুষ্য ধৈর্যহীন সৃষ্ট হইয়াছে।

আয়াতঃ ২০⇒ যখন তাহার প্রতি অকল্যাণ উপস্থিত হয় তখন সে উৎকণ্ঠিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যখন অকল্যাণ তাহার প্রতি উপস্থিত হয় তখন (তাহার) নিবারক হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২২+২৩+২৪+২৫+২৬⇒ উপাসকগণ, সেই যাহারা স্বীয় উপাসনাতে দৃঢ়ব্রত, এবং যাহাদের সম্পত্তির মধ্যে প্রার্থী ও দরিদ্রের নিমিত্ত স্বত্ব নির্ধারিত আছে, যাহারা বিচারের দিবসকে সত্য বলিয়া থাকে, এবং সেই যাহারা আপন প্রতিপালকের শাস্তি হইতে ভীত, তাহারা ব্যতীত।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় তাহাদের প্রতিপালকের শাস্তি অনিবার্য।

আয়াতঃ ২৮+২৯+৩০⇒ এবং সেই যাহারা আপন ভার্যাদিগের সম্বন্ধে কিংবা তাহাদের দক্ষিন হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে সেই (দাসীদিগের সম্বন্ধে) ব্যতীত আপন জননেন্দ্রিয়ের সংরক্ষক (তাহারা ব্যতীত) অনন্তর নিশ্চয় তাহারা ভৎসনার যোগ্য নহে।

আয়াতঃ ৩১⇒ অনন্তর যাহারা এতদ্ভিন্ন অভিলাষ করে, পরে ইহারাই তাহারা যে, সীমালঙ্ঘনকারী।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং সেই যাহারা স্বীয় গচ্ছিত (সামগ্রীর) ও স্বীয় অঙ্গীকারের সংরক্ষক।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং সেই যাহারা আপন সাক্ষ্যদানে প্রতিষ্ঠিত।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সেই যাহারা আপন উপাসনার প্রতি অবধান করে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ ইহারাই স্বর্গোদ্যান সকলে সম্মানিত।

আয়াতঃ ৩৬+৩৭⇒ অনন্তর কেন (হে মোহম্মদ) ধর্মদ্রোহীগণ, তোমার সম্মুখে দলে দলে দক্ষিন ও বাম দিক হইতে ধাবমান?

আয়াতঃ ৩৮⇒ তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তি কি কামনা করে যে, সম্পদের উদ্যানে সমানীত হইবে?

আয়াতঃ ৩৯⇒ না না, নিশ্চয় আমি তাহাদিগকে যাহা দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছি তাহা তাহারা জানে।

আয়াতঃ ৪০+৪১⇒ অনন্তর আমি পূর্ব-পশ্চিমের প্রতিপালকের নামে শপথ করিতেছি যে, নিশ্চয় আমি তাহাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট লোক (তাহাদের স্থানে) পরিবর্তিত করিতে সমর্থ, এবং আমি কাতর নহি।

আয়াতঃ ৪২⇒ অনন্তর যে পর্যন্ত না তাহারা যাহা অঙ্গীকৃত হইয়াছে সেই আপন দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সে পর্যন্ত তাহাদিগকে নিরর্থক কার্য ও ক্রীড়ামোদ করিতে ছাড়িয়া দাও।

আয়াতঃ ৪৩⇒ যে দিন তাহারা কবর হইতে বেগে নির্গত হইবে যেন তাহারা কোন স্থাপিত লক্ষ্যের দিকে দৌড়িতেছে (বোধ হইবে)। আয়াতঃ ৪৪⇒ সেই দিন তাহাদের চক্ষু অভিভূত হইবে, দুর্গতি তাহাদিগকে ঘেরিয়া লইবে, এই সেই দিন যাহা তাহাদিগকে অঙ্গীকার করা হইয়াছে।