সূরাঃ মুমেন

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম

আয়াতঃ ০২⇒ পরাক্রমশালী জ্ঞানময় ঈশ্বর হইতে গ্রন্থের অবতরণ।

আয়াতঃ ০৩⇒ তিনি পাপ ক্ষমাকারী অনুতাপ গ্রহণকারী কঠিন শাস্তিদাতা মহিমান্বিত, তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, তাঁহার দিকেই পুনর্গমন।

আয়াতঃ ০৪⇒ ধর্মদ্রোহীগণ ব্যতীত (কেহ) ঈশ্বরের নিদর্শন সকল সম্বন্ধে বিবাদ করে না, নগর সকলে তাহাদিগের গমনাগমন (হে মোহম্মদ) তোমাকে যেন প্রবঞ্চিত না করে।

আয়াতঃ ০৫⇒ ইহাদের (এই সম্প্রদায়ের) পূর্বে নুহীয় সম্প্রদায় এবং তাহাদের পরে অনেক দল অসত্যারোপ করিয়াছিল, এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় তাহাদের প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি তাঁহাদিগকে ধরিতে উদ্যোগ করিয়াছিল ও অসত্যরুপে বিবাদ করিয়াছিল যেন তাহারা সত্যকে পরাভূত করে, পরে আমি তাঁহাদিগকে ধরিয়াছিলাম, অবশেষে কেমন শাস্তি হইল।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং এই প্রকার তোমার প্রতিপালকের বাক্য কাফেরদিগের সম্বন্ধে প্রমানিত হইয়াছে, নিশ্চয় তাহারা নরকানলনিবাসী।

আয়াতঃ ০৭⇒ যাহারা (ঈশ্বরের) সিংহাসন বহন করে, এবং যাহারা তাঁহার চতুরষ্পার্শ্বে আপন প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব করিয়া থাকে ও তাঁহার প্রতি বিশ্বাস রাখে ও যাহারা বিশ্বাসী তাহাদের জন্য তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি জ্ঞান ও করুণাবশতঃ সমুদায় বিষয় আয়ত্ত করিয়া লইয়াছ, অতএব যাহারা (পাপ হইতে) প্রতিনিবৃত্ত হইয়াছে ও তোমার পথের অনুসরণ করিয়াছে তাঁহাদিগকে ক্ষমা কর, তাহাদিগকে নরকদন্ড হইতে রক্ষা কর।

আয়াতঃ ০৮⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি তাহাদিগের সম্বন্ধে ও যে ব্যক্তি সৎকর্ম করিয়াছে তাঁহার সম্বন্ধে ও তাহাদের পিতৃগণের ও তাহাদের পত্নিগণের এবং সন্তানগণের সম্বন্ধে যাহা অঙ্গীকার করিয়াছ, তদনুসারে নিত্য উদ্যান সকলে তাহাদিগকে লইয়া যাও, নিশ্চয় তুমি বিজ্ঞানময় পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ০৯⇒ অকল্যাণ সকল হইতে তুমি তাহাদিগকে রক্ষা কর, এবং যে ব্যক্তিকে সেই দিন তুমি অকল্যাণ রাশি হইতে বাঁচাইলে পরে সত্যই তুমি তাঁহার প্রতি দয়া করিলে, এবং ইহা সেই মহা কৃতার্থতা”।

আয়াতঃ ১০⇒ নিশ্চয় ধর্মদ্রোহীগণকে ডাকিয়া বলা হইবে যে, “একান্তই ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের শত্রুতা আপন জীবনের প্রতি তোমাদের শত্রুতা অপেক্ষা গুরুতর, যখন তোমরা বিশ্বাসের দিকে আহূত হইয়াছিলে তখন অগ্রাহ্য করিতেছিলে”।

আয়াতঃ ১১⇒ তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, দুইবার আমাদিগকে মারিয়াছ ও দুইবার জীবিত করিয়াছ, অনন্তর আমরা আপন অপরাধ হৃদয়ঙ্গম করিয়াছি, পরে নির্গমনের দিকে কোন পথ আছে কি?

আয়াতঃ ১২⇒ ইহা এই হেতু যে, যখন বলা হইত ঈশ্বর একমাত্র তখন তোমরা অগ্রাহ্য করিতে, এবং যদি তাঁহার সঙ্গে অংশী স্থাপন করা হইত তোমরা বিশ্বাস করিতে, অনন্তর উন্নত গৌরবান্বিত ঈশ্বরেরই আজ্ঞা সত্য।

আয়াতঃ ১৩⇒ তিনিই যিনি আপন নিদর্শন সকল তোমাদিগকে প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এবং স্বর্গ হইতে তোমাদের জন্য জীবিকা প্রেরণ করেন, এবং যে ব্যক্তি (ঈশ্বরের প্রতি) উন্মুখ হয় সে ব্যতীত উপদেশ গ্রহণ করে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ অনন্তর যদিচ ধর্মদ্রোহীগণ অবজ্ঞা করে তথাপি তোমরা ঈশ্বরকে তাঁহার জন্য ধর্ম বিশুদ্ধ করতঃ আহ্বান করিতে থাক।

আয়াতঃ ১৫⇒ সিংহাসনাধিপতি (ঈশ্বর) শ্রেণী সকলের সমুন্নতিবিধায়ক, তিনি স্বীয় আজ্ঞানুসারে আপন দাসদিগের যাহার প্রতি ইচ্ছা করেন আত্মা (জেব্রিল) অবতারণ করিয়া থাকেন যেন সে (লোকদিগকে) সেই সম্মিলন দিবসের ভয় প্রদর্শন করে।

আয়াতঃ ১৬⇒ যে দিবস তাহারা (কবর হইতে) বহির্গত হইবে তখন ঈশ্বরের নিকটে তাহাদের কিছুই গুপ্ত থাকিবে না, অদ্যকার রাজত্ব কাহার? একমাত্র পরাক্রান্ত ঈশ্বরেরই।

আয়াতঃ ১৭⇒ অদ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা করিয়াছে তদনুরুপ বিনিময় দান করা হইবে, অদ্য অত্যাচার নাই, নিশ্চয় ঈশ্বর বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ১৮⇒ তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগকে সেই পুনরুত্থান দিনের ভয় প্রদর্শন কর, যখন (শোক ও ভয়ে) সোকাকুলদিগের হৃদয় গলদেশের নিকটস্থ হইবে, তখন অত্যাচারীদিগের জন্য কেহ সহায় হইবে না, কোন পাপ-ক্ষমার অনুরোধকারীর (কথা) গৃহীত হইবে না।

আয়াতঃ ১৯⇒ দৃষ্টির অপকারিতা ও অন্তর যাহা গোপন রাখে তাহা তিনি জানেন।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং পরমেশ্বর যথার্থভাবে বিচার করিয়া থাকেন, এবং তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে আহ্বান করিয়া থাকে (সেই পুত্তলিকাদি) কিছুই বিচার করে না, নিশ্চয় ঈশ্বর সেই দ্রষ্টা শ্রোতা।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহারা কি ভূতলে ভ্রমণ করে নাই? তবে দেখিতে পাইবে তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের পরিণাম কিরুপ হইয়াছে, তাহারা পৃথিবীতে তাহাদের অপেক্ষা পরাক্রম ও (উচ্চ দুর্গ ও বৃহৎ নগরাদি) চিহ্নে প্রবলতর ছিল; পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে তাহাদের অপরাধের জন্য ধরিয়াছিলেন, এবং ঈশ্বর হইতে তাহাদের নিমিত্ত কোন আশ্রয় ছিল না।

আয়াতঃ ২২⇒ ইহা এজন্য হয় যে, তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ প্রমাণ সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, পরে তাহারা অগ্রাহ্য করে, অনন্তর তাহাদিগকে আক্রমণ করেন, নিশ্চয় তিনি শক্তিমান কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ২৩+২৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে স্বীয় নিদর্শন সকল ও উজ্জ্বল প্রমাণসহ ফেরওন ও হামান এবং কারুনের প্রতি প্রেরণ করিয়াছিলাম, অনন্তর তাহারা (তাহাকে) মিথ্যাবাদী ঐন্দ্রজালিক বলিয়াছিল।

আয়াতঃ ২৫⇒ পরে যখন সে আমার নিকট হইতে সত্য সহকারে তাহাদের প্রতি উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিল, “যাহারা ইহার সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদের পুত্রগণকে বধ কর, এবং কন্যাদিগকে জীবিত রাখ;” পথভ্রান্তিতে ভিন্ন কাফেরদিগের চক্রান্ত ছিল না।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং ফেরওন বলিয়াছিল, “আমাকে তোমরা ছাড়িয়া দাও, আমি মুসাকে বধ করিব, এবং সে যেন আপন প্রতিপালকের নিকটে (প্রাণরক্ষার জন্য) প্রার্থনা করে, নিশ্চয় আমি ভয় পাইতেছি যে, সে তোমাদের ধর্মকে বিপর্যস্ত করিবে, এবং পৃথিবীতে উপপ্লব আনয়ন করিবে”।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং মুসা বলিয়াছিল, “যাহারা বিচারের দিনকে বিশ্বাস করে না, নিশ্চয় আমি সেই সমুদায় গর্বিত লোক হইতে আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় গ্রহণ করিলাম”।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং ফেরওনের স্বগণ সম্পর্কীয় এক বিশ্বাসী ব্যক্তি যে স্বীয় বিশ্বাসকে লুক্কায়িত রাখিতেছিল, সে বলিল, “এজন্য সেই ব্যক্তিকে কি তোমরা বধ করিবে যে, সে বলিয়া থাকে আমার প্রতিপালক ঈশ্বর? সত্যই সে তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালক হইতে প্রমাণ সকলসহ উপস্থিত হইয়াছে; এবং যদি সে অসত্যবাদী হয় তবে তাহার অসত্য তাহার সম্বন্ধেই আছে, এবং যদি সত্যবাদী হয় তবে সে যাহা তোমাদের সম্বন্ধে অঙ্গীকার করিয়া থাকে তাহার কোনটি (এই পৃথিবীতে) তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইবে, যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদী নিশ্চয় তাহাকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ২৯⇒ হে আমার জ্ঞাতিগণ, অদ্য ধরাতলে পরাক্রমবশতঃ তোমাদের জন্য রাজত্ব, পরে আমাদিগকে ঈশ্বরের শাস্তি হইতে (রক্ষা পাইতে) যদি (তাহা) আমাদের প্রতি উপস্থিত হয় কে সাহায্য দান করিবে”? ফেরওন বলিল, “যাহা আমি দেখিতেছি তাহা ভিন্ন তোমাদিগকে দেখাইতেছি না, এবং সরল পথ ব্যতীত তোমাদিগকে প্রদর্শন করিতেছি না”।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে এমন এক ব্যক্তি বলিল, “হে আমার জ্ঞাতিগণ, নিশ্চয় আমি তোমাদের সম্বন্ধে এই সম্প্রদায় সকলের দিনের ন্যায় ভয় পাইতেছি।

আয়াতঃ ৩১⇒ নুহীয় সম্প্রদায় ও আদ এবং সমুদ জাতি ও যাহারা তাহাদের পরে হইয়াছিল তাহাদের অবস্থার তুল্য (বা) হয়, এবং ঈশ্বর দাসবৃন্দের প্রতি অত্যাচার আকাঙ্ক্ষা করেন না।

আয়াতঃ ৩২+৩৩⇒ এবং হে আমার জ্ঞাতিগণ, নিশ্চয় আমি তোমাদের সম্বন্ধে সেই নিনাদের দিবসকে ভয় করিতেছি, যে দিন তোমরা পৃষ্ঠভঙ্গ দিয়া ফিরিয়া যাইবে, তোমাদের জন্য ঈশ্বর হইতে রক্ষাকারী কেহ নাই এবং ঈশ্বর যাহাকে পথভ্রান্ত করেন অনন্তর তাহার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নাই।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সত্যসত্যই পূর্বে তোমাদের নিকটে ইয়ুসোফ প্রমাণ সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, তোমাদের নিকটে সে যাহা আনয়ন করিয়াছিল তৎপ্রতি তোমরা সর্বদা সন্দেহযুক্ত ছিলে, এ পর্যন্ত, সে যখন প্রাণত্যাগ করিল সে পর্যন্ত তোমরা বলিয়াছিলে যে, তাহার পর ঈশ্বর কোন প্রেরিতপুরুষ প্রেরণ করিবেন না, যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘনকারী ও সংশয়প্রবণ তাহাকে এইরুপে পরমেশ্বর পথভ্রান্ত করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৩৫⇒ যাহারা ঈশ্বরের নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে তাহাদের নিকটে উপস্থিত প্রমাণ ব্যতীত বিবাদ করে তাহাদিগকে (তিনি পথভ্রান্ত করেন) ঈশ্বরের নিকটে ও বিশ্বাসী পুরুষদের নিকটে (তাহা) মহা অসন্তোষকর, এইরুপ প্রত্যেক গর্বিত অবাধ্যের অন্তরের উপর ঈশ্বর মোহর করিয়া থাকেন”।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং ফেরওন বলিল, “হে হামান, আমার জন্য এক অট্টালিকা নির্মাণ কর, আমি পথ সকলে পহুঁছিব।

আয়াতঃ ৩৭⇒ দ্যুলোকের পথ সকলে (পহুঁছিবে) অনন্তর মুসার ঈশ্বরের দিকে নিরীক্ষন করিব, এবং নিশ্চয় আমি তাহাকে মিথ্যাবাদী মনে করিতেছি, এবং এইরুপে ফেরওনের জন্য তাহার দুষ্ক্রিয়া সজ্জিত হইয়াছিল ও (তাহাকে সৎ) পথ হইতে নিবৃত্ত করিয়াছিল, এবং ফেরওনের প্রবঞ্চনা তাহার বিনাশের প্রতি ভিন্ন ছিল না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং বিশ্বাসী ব্যক্তি বলিল, “হে আমার জ্ঞাতিগণ, তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদিগকে সৎপথ প্রদর্শন করিব।

আয়াতঃ ৩৯⇒ হে আমার জ্ঞাতিগণ, এই পার্থিব জীবন (সামান্য) সম্ভোগ এতদ্ভিন্ন নহে, এবং নিশ্চয় পরলোক, উহাই নিত্য নিকেতন।

আয়াতঃ ৪০⇒ যে ব্যক্তি কুকর্ম করিয়াছে পরে তৎসদৃশ ভিন্ন তাহাকে বিনিময় দেওয়া যাইবে না, এবং স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে যে ব্যক্তি শুভকর্ম করিয়াছে সে-ই বিশ্বাসী হয়, অনন্তর ইহারাই স্বর্গলোকে প্রবেশ করিবে, তথায় অগণ্যরুপে জীবিকা দেওয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং হে আমার জ্ঞাতিগণ, আমার জন্য কি হইল যে, আমি তোমাদিগকে পরিত্রাণের দিকে আহ্বান করিয়া থাকি, এবং তোমরা আমাকে নরকাগ্নির দিকে আহ্বান কর।

আয়াতঃ ৪২⇒ তোমরা আমাকে আহ্বান করিয়া থাক যেন আমি ঈশ্বর সম্বন্ধে বিদ্বেষী হই ও যাহার সম্বন্ধে আমার জ্ঞান নাই তাহাকে তাঁহার সঙ্গে অংশী নিরূপণ করি, এবং আমি তোমাদিগকে পরাক্রান্ত ক্ষমাশীল (ঈশ্বরের) দিকে আহ্বান করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৪৩⇒ ইহলোকে ও পরলোকে যাহার জন্য আহ্বান নাই তোমরা আমাকে নিঃসন্দেহে তাহার দিকে আহ্বান করিতেছ এতদ্ভিন্ন নহে, এবং এই যে, ঈশ্বরের দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন, এবং এই যে, সীমালঙ্ঘনকারীগণ নরকাগ্নিনিবাসী।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অনন্তর অবশ্য আমি তোমাদিগকে যাহা বলিতেছি তোমরা তাহা স্মরণ করিবে, এবং আমি আপন কার্য ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ করিতেছি, নিশ্চয় ঈশ্বর দাসদিগের প্রতি দৃষ্টিকারী।

আয়াতঃ ৪৫⇒ পরিশেষে তাহারা যে প্রতারণা করিয়াছিল সেই অশুভ হইতে পরমেশ্বর তাহাকে বাঁচাইলেন, এবং ফেরওনের পরিজনকে বিগর্হিত শাস্তি আবেষ্টন করিল।

আয়াতঃ ৪৬⇒ তাহার (নরকের) উপর প্রাতঃসন্ধ্যা অনল উপস্থাপিত করা হইবে, এবং যে দিন কেয়ামত স্থিতি করিবে, (আমি বলিব) “ফেরওনের পরিজনকে গুরুতর শাস্তির মধ্যে প্রবেশ করাও”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তাহারা অগ্নিমধ্যে পরস্পর বিরোধ করিবে, তখন দুর্বল লোকেরা যাহারা ঔদ্ধত্যচরণ করিয়াছিল তাহাদিগকে বলিবে, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের অনুগামী ছিলাম, অনন্তর তোমরা কি আমাদিগ হইতে অগ্নি (দন্ডের) আংশিক নিবারণকারী হও”?

আয়াতঃ ৪৮⇒ যাহারা উদ্ধত হইয়াছিল, তাহারা বলিবে, “নিশ্চয় আমরা সকলেই তন্মধ্যে আছি, সত্যসত্যই ঈশ্বর দাসদিগের মধ্যে আদেশ (বিচার নিষ্পত্তি) করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং যাহারা অগ্নিতে অবস্থিত তাহারা নরকের রক্ষকদিগকে বলিবে, “তোমরা আপন প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা কর যেন একদিন আমাদিগ হইতে শাস্তির (অংশ) খর্ব করেন”।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহারা বলিবে, “তোমাদের নিকটে কি তোমাদের প্রেরিতপুরুষগণ প্রমাণ সকলসহ সমাগত হন নাই”? (নরকবাসিগণ) বলিবে, “হ্যাঁ” তাহারা বলিবে, “তবে তোমরা প্রার্থনা করিতে থাক, কিন্তু কাফেরদিগের প্রার্থনা বিভ্রান্তির মধ্যে ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ৫১+৫২⇒ নিশ্চয় আমি স্বীয় প্রেরিতপুরুষদিগকে ও বিশ্বাসীদিগকে পার্থিব জীবনে ও যে দিবস সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হইবে, যে দিবস অত্যাচারীদিগকে তাহাদের হেতু বর্ণন কোন লাভ দর্শাইবে না, সেই (কেয়ামতের) দিবস সাহায্য দান করিব, এবং তাহাদের জন্য (অত্যাচারীদের জন্য) অভিসম্পাত ও তাহাদের জন্য অশুভ স্থান আছে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে ধর্মালোক দান করিয়াছি, এবং বনি-এস্রায়িলকে গ্রন্থের উত্তরাধিকারী করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫৪⇒ বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্যই পথপ্রদর্শন ও উপদেশ।

আয়াতঃ ৫৫⇒ অনন্তর তুমি (হে মোহম্মদ) ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য ও স্বীয় পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং প্রাতঃসন্ধ্যা স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব করিতে থাক।

আয়াতঃ ৫৬⇒ নিশ্চয় যাহারা পরমেশ্বরের নিদর্শন সকল সম্বন্ধে তাহাদের প্রতি উপস্থিত প্রমাণ ব্যতিরেকে বিতণ্ডা করিয়া থাকে তাহাদের হৃদয়ে অহংকার ভিন্ন নহে, তাহারা তৎপ্রতি পহুঁছিবে না, অনন্তর তুমি ঈশ্বরের নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা কর, নিশ্চয় সেই তিনি শ্রোতা দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৫৭⇒ অবশ্য ভূলোক ও দ্যুলোকের সৃষ্টি (তোমাদের নিকটে) মনুষ্য সৃষ্টি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং অন্ধ ও চক্ষুষ্মান তুল্য নহে। এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও শুভকর্ম সকল করিয়াছে তাহারা ও অসৎকর্মশীল (তুল্য নহে) তোমরা যে উপদেশ গ্রহণ করিয়া থাক তাহা অল্পই।

আয়াতঃ ৫৯⇒ নিশ্চয় কেয়ামত আগমনকারী, তাহাতে নিঃসন্দেহে, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং তোমাদের প্রতিপালক বলিয়াছেন যে, আমার নিকটে প্রার্থনা কর আমি তোমাদিগকে (প্রার্থনা) গ্রহণ করিব, নিশ্চয় যাহারা আমার উপাসনাতে গর্ব করে, অবশ্য তাহারা হীন হওতঃ নরকে প্রবেশ করিবে।

আয়াতঃ ৬১⇒ সেই পরমেশ্বর যিনি তোমাদের জন্য রজনী সৃজন করিয়াছেন যেন তাহাতে তোমরা বিশ্রাম লাভ কর, এবং (পদার্থের) প্রদর্শক দিবা (সৃষ্টি করিয়াছেন) নিশ্চয় ঈশ্বর মানবমণ্ডলীর প্রতি কৃপাবান, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য ধন্যবাদ করে না।

আয়াতঃ ৬২⇒ এই পরমেশ্বরই তোমাদের প্রতিপালক, সমুদায় পদার্থের সৃষ্টিকর্তা তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, অনন্তর কোথা হইতে তোমরা ফিরিয়া যাইতেছ।

আয়াতঃ ৬৩⇒ যাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকল অস্বীকার করিতেছিল, এইরুপে তাহারা ফিরিয়া যাইতেছে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ সেই ঈশ্বর যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে অবস্থানভূমি ও আকাশকে গুম্বজ করিয়াছেন, এবং তোমাদিগকে আকৃতিবদ্ধ করিয়াছেন, অনন্তর তোমাদিগের আকার উত্তম করিয়াছেন, এবং বিশুদ্ধ (বস্তু) হইতে তোমাদিগকে উপজীবিকা দিয়াছেন, এই ঈশ্বরই তোমাদের প্রতিপালক, অবশেষে বিশ্বপালক পরমেশ্বরই মহোন্নত।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তিনি জীবন্ত, তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, অনন্তর তাঁহাকে তাঁহার উদ্দেশ্যে ধর্মবিশুদ্ধ করতঃ আহ্বান করিতে থাক, বিশ্বপালক পরমেশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) যখন আমার প্রতি আমার প্রতিপালক হইতে প্রমাণ সকল উপস্থিত হইয়াছে তখন তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে আহ্বান করিয়া থাক তাহাদিগকে অর্চনা করিতে নিশ্চয় আমি নিষিদ্ধ হইয়াছি, এবং আদিষ্ট হইয়াছিযে, বিশ্বপালকের আজ্ঞানুগত হইব।

আয়াতঃ ৬৭⇒ তিনিই যিনি তোমাদিগকে মৃত্তিকাযোগে, তৎপর শুক্রযোগে, তৎপর ঘনীভূত শোণিতযোগে সৃজন করিয়াছেন, তৎপর শিশুরুপে বাহির করেন, তৎপর (তোমাদিগকে পালন করেন) যেন তোমরা স্বীয় যৌবনে উপনীত হও, তৎপর যেন বৃদ্ধ হও, এবং তোমাদের মধ্যে কাহাকে পূর্বে প্রাণশূন্য করা হয়, এবং (অবশিষ্ট রাখা যায়) যেন তোমরা নির্দিষ্টকালে উপনীত হও, সম্ভব যে তোমরা জ্ঞান লাভ করিবে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ তিনিই যিনি বাঁচান ও মারেন, অনন্তর যখন কোন বিষয়ে (সৃজনে) অবধারিত করেন তখন তাঁহাকে হউক বলেন এতদ্ভিন্ন নহে, পরে তাহাতেই হয়।

আয়াতঃ ৬৯⇒ যাহারা ঐশ্বরিক নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে বিতণ্ডা করিয়া থাকে, তুমি কি তাহাদের প্রতি দৃষ্টি কর নাই? কোথা হইতে তাহারা ফিরিয়া যাইতেছে?

আয়াতঃ ৭০⇒ যাহারা গ্রন্থের প্রতি ও আমি স্বীয় প্রেরিতপুরুষদিগকে যৎসহ প্রেরণ করিয়াছি তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, পরে তাহারা অবশ্য (আপন অবস্থা) জানিবে।

আয়াতঃ ৭১+৭২+৭৩+৭৪⇒ যখন তাহাদের গলে গলবন্ধন ও শৃঙ্খলপুঞ্জ হইবে, উষ্ণোদকের মধ্যে তাহারা আকৃষ্ট হইবে, তৎপর অগ্নিতে ঝলসান যাইবে, তৎপর তাহাদিগকে বলা হইবে, “ঈশ্বর ব্যতীত তোমরা যাহাকে অংশী স্থাপন করিতেছিলে সে কোথায়”? তাহারা বলিবে, “আমাদিগ হইতে তাহারা অন্তর্হিত হইয়াছে, বরং ইতিপূর্বে আমরা (ঈশ্বরকে ছাড়িয়া) অন্য কিছুকে আহ্বান করিতেছিলাম না,” এইরুপে ঈশ্বর কাফেরদিগকে বিভ্রান্ত করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৭৫⇒ (বলা যাইবে) “তোমরা পৃথিবীতে অসত্যসহ যে আনন্দ ও বিলাসামোদ করিতেছিলে তজ্জন্য ইহা (এই শাস্তি)।

আয়াতঃ ৭৬⇒ তোমরা নরকের দ্বারে তথায় নিত্য স্থায়ী হইতে প্রবেশ কর, অনন্তর (উহা) অহংকারীদিগের জন্য গর্হিত স্থান হয়”।

আয়াতঃ ৭৭⇒ পরিশেষে তুমি (হে মোহম্মদ) ধৈর্য ধারন কর, নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, পরে তাহাদের প্রতি আমি যাহা অঙ্গীকার করি তাহার কোনটি যদি তোমাকে আমি প্রদর্শন করি, বা তোমার প্রাণ হরণ করি, পরে আমার দিকেই তাহারা ফিরিয়া আসিবে।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমার পূর্বে প্রেরিতপুরুষগণকে প্রেরণ করিয়াছি, তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তোমার নিকটে তাহার কথা বর্ণন করিয়াছি, এবং তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তোমার নিকটে বর্ণন করি নাই, ঈশ্বরের আদেশানুসারে ব্যতীত কোন নিদর্শন আনয়ন করিতে কোন প্রেরিতপুরুষের (সাধ্য) ছিল না, অনন্তর যখন ঈশ্বরের আদেশ সমাগত হইল তখন সত্যভাবে বিচার নিষ্পত্তি করা গেল, তথায় অসত্যভাষিগণ ক্ষতিগ্রস্থ হইল।

আয়াতঃ ৭৯⇒ সেই ঈশ্বর যিনি তোমাদের জন্য গ্রাম্য পশু সৃজন করিয়াছেন যে, তোমরা তাহার কোনটির উপর আরোহণ করিবে ও তাহার কোনটিকে ভক্ষন করিবে।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং তন্মধ্যে তোমাদের লাভ সকল আছে, তাহার (কাহারও) উপর আরোহণ করিয়া তোমাদের অন্তরে যে অভিলাষ আছে তোমরা তাহাতে উপস্থিত হইবে, এবং তাহার উপর ও নৌকা সকলের উপর তোমরা সমারোপিত হইয়া থাক।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং তিনি তোমাদিগকে স্বীয় নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করিতেছেন, অনন্তর ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের কোনটিকে তোমরা অগ্রাহ্য করিতেছ?

আয়াতঃ ৮২⇒ পরিশেষে তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই? তাহা হইলে তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের পরিণাম কি প্রকার হইয়াছে দেখিবে, তাহারা তাহাদিগের অপেক্ষা অধিক ছিল, এবং ধরাতলে (বৃহৎ নগর দুর্গাদির) নিদর্শনানুসারে ও শক্তিতে প্রবলতর ছিল, পরে তাহারা যাহা উপার্জন করিতেছিল তাহা তাহাদিগ হইতে (শাস্তি) নিবারণ করে নাই।

আয়াতঃ ৮৩⇒ অনন্তর যখন তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রেরিতপুরুষগণ প্রমাণ সকলসহ আগমন করিল তখন তাহারা তাহাদের নিকটে যে কিছু বিদ্যা ছিল তজ্জন্য প্রহৃষ্ট হইল, এবং তাহারা যে বিষয়ে উপহাস করিতেছিল উহা তাহাদিগকে পরিবেষ্টন করিল।

আয়াতঃ ৮৪⇒ পরে যখন আমার শাস্তি তাহারা দেখিল তখন বলিল, “একমাত্র ঈশ্বরের প্রতি আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, তাঁহার সঙ্গে আমরা যাহার অংশীনিরোপক ছিলাম তৎপ্রতি বিরুপ হইলাম”।

আয়াতঃ ৮৫⇒ অনন্তর যখন তাহারা আমার শাস্তি দর্শন করিল তখন তাহাদিগের বিশ্বাস তাহাদিগকে ফল দান করিল না, ঈশ্বরের (এই) নিয়ম, যাহা তাঁহার দাসবৃন্দের প্রতি  বর্তিয়াছে; এবং তথায় ধর্মদ্রোহিগণ ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছে।