সূরাঃ মুমেনূন

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ নিশ্চয় বিশ্বাসীগণ মুক্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ০২⇒ এবং (বিশ্বাসী) তাহারা যাহারা আপন নমাজে সাভিনিবেশ।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তাহারা যাহারা অনর্থ বিষয় হইতে বিমুখ।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং তাহারা যাহারা জকাতের পরিশোধকারী।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ এবং তাহারা যাহারা আপন ভার্যাদিগের অথবা তাহাদের হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে সেই (ভোগ্যা দাসীদিগের) সম্বন্ধে ব্যতীত আপন গুপ্ত ইন্দ্রিয়ের সংযমকারী, নিশ্চয় তাহারা ভৎসনাশূন্য।

আয়াতঃ ০৭⇒ অনন্তর যাহারা ইহা ব্যতীত অন্বেষণ করে পরে এই তাহারাই সীমালঙ্ঘনকারী।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং তাহারা যাহারা আপন গচ্ছিত বিষয় ও আপন অঙ্গীকারের রক্ষক।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং বিশ্বাসী তাহারা যাহারা আপন উপাসনাকে রক্ষা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১০⇒ ইহারাই তাহারা যে উত্তরাধিকারী হয়।

আয়াতঃ ১১⇒ যাহারা স্বর্গের উত্তরাধিকারী হইবে তাহারা তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মানবমণ্ডলীকে কর্দমের সার দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৩⇒ তৎপর আমি তাহাকে দৃঢ় অবস্থানভূমিতে শুক্রবিন্দু করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৪⇒ তাহার পর আমি শুক্রবিন্দুও ঘনীভূত রক্ত করিয়াছি, পরে আমি ঘনীভূত রক্তকে মাংসখন্ড করিয়াছি, অনন্তর মাংসখন্ডকে অস্থিপুঞ্জ করিয়াছি, অবশেষে অস্থিপুঞ্জকে মাংসে আচ্ছাদন করিয়াছি, তৎপর তাহাকে আমি অন্য সৃষ্টিরুপে সৃজন করিয়াছি, পরিশেষে ঈশ্বর মহা গৌরবান্বিত অত্যুত্তম সৃষ্টিকর্তা।

আয়াতঃ ১৫⇒ অনন্তর নিশ্চয় তোমরা ইহার পরে প্রাণত্যাগকারী।

আয়াতঃ ১৬⇒ তৎপর নিশ্চয় তোমরা কেয়ামতের দিনে সমুত্থিত হইবে।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমাদের উপর সপ্ত স্বর্গ সৃজন করিয়াছি, এবং আমি সৃষ্টি সম্বন্ধে উপেক্ষাকারী ছিলাম না।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং আমি উপযুক্ত পরিমাণে আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়াছি, পরে তাহা পৃথিবীতে স্থাপিত করিয়াছি, এবং নিশ্চয় আমি তাহা উপরে লইয়া যাইতে ক্ষমতাবান।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর আমি তোমাদের জন্য তাহা দ্বারা দ্রাক্ষা ও খোর্মার উদ্যান সকল উৎপাদন করিয়াছি, তোমাদের জন্য সেই (উদ্যান সকলে) প্রচুর ফল হইয়াছে, এবং তাহা তোমরা ভক্ষন করিয়া থাক।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং এক বৃক্ষ (সৃজন করিয়াছি) তাহা তুর সায়না পর্বত হইতে নির্গত হয়, উহা হইতে তৈল ও ভোক্তাদিগের জন্য ভোজ্যোপকরণ সকল উৎপন্ন হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং নিশ্চয় তোমাদের জন্য চতুষ্পদ সকলে উপদেশ আছে, তাহাদের উদরে যে (দুগ্ধ) আছে আমি তাহা তোমাদিগকে পান করাইয়া থাকি, এবং তাহাদিগের মধ্যে তোমাদের অত্যন্ত লাভ আছে ও তাহাদের (মাংস) তোমরা ভক্ষন করিয়া থাক।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তাহাদের উপরে ও নৌকা সকলের উপরে তোমরা আরোপিত হইয়া থাক।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং সত্যসত্যই আমি নুহাকে তাহার মণ্ডলীর নিকটে প্রেরণ করিয়াছিলাম, অন্ততর সে বলিয়াছিল যে, “হে আমার সম্প্রদায়, ঈশ্বরকে অর্চনা কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য (অন্য) ঈশ্বর নাই, অনন্তর তোমরা কি ভয় পাইতেছ না?

আয়াতঃ ২৪⇒ অবশেষে তাহার দলস্থ প্রধান ধর্মদ্রোহী লোকেরা বলিল, “এ তোমাদের ন্যায় মনুষ্য ভিন্ন নহে, এ তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করিতে চাহিতেছে, এবং যদি ঈশ্বর চাহিতেন তবে অবশ্য দেবতাদিগকে প্রেরণ করিতেন, আপন পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদিগের নিকটে আমরা এ বিষয় শ্রবন করি নাই।

আয়াতঃ ২৫⇒ সে বায়ুরোগগ্রস্থ পুরুষ বৈ নহে, অতএব কিয়ৎকাল পর্যন্ত তাহার সম্বন্ধে তোমরা প্রতীক্ষা কর”।

আয়াতঃ ২৬⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তাহারা যে অসত্যারোপ করিতেছে তদ্বিষয়ে তুমি আমাকে সাহায্য দান কর”।

আয়াতঃ ২৭⇒ অনন্তর আমি তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম যে, তুমি আমার সাক্ষাতে ও আমার আজ্ঞানুসারে নৌকা প্রস্তুত কর, পরে যখন আমার আজ্ঞা উপস্থিত হইবে, এবং চুল্লী উচ্ছ্বসিত হইবে তখন সকল প্রকারের পুং-স্ত্রী যুগল ও আপন পরিজন তাহাদের যাহার সম্বন্ধে কথা পূর্বে হইয়াছে সে ব্যতীত (সকলকে) তন্মধ্যে আনয়ন করিও, যাহারা অত্যাচার করিয়াছে তাহাদের সম্বন্ধে তুমি আমার সঙ্গে কথা কহিও না, নিশ্চয় তাহারা জলমগ্ন হইবে।

আয়াতঃ ২৮⇒ অনন্তর যখন তুমি ও তোমার সঙ্গী লোক নৌকায় বসিবে, তখন তুমি বলিও, “সেই ঈশ্বরেরই প্রশংসা; যিনি আমাদিগকে অত্যাচারী দল হইতে উদ্ধার করিলেন।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং বলিও, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে মঙ্গলজনক স্থানে অবতারণ কর, তুমি অবতারণকারীদিগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ”।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন সকল আছে ও নিশ্চয় আমি পরীক্ষক ছিলাম।

আয়াতঃ ৩১⇒ অবশেষে তাহাদের পরে আমি অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩২⇒ পরে আমি তাহাদের (বংশ) হইতে তাহাদের মধ্যে এক প্রেরিতপুরুষ পাঠাইয়াছি। (সে বলিয়াছিল) যে, “তোমরা ঈশ্বরকে অর্চনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত ঈশ্বর নাই, অনন্তর তোমরা কি ভয় পাইতেছ না”?

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছিল ও পরলোকের সাক্ষাৎকারের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, এবং যাহাদিগকে আমি সাংসারিক জীবনে সুখী করিয়াছিলাম তাহার দলের সেই প্রধান পুরুষেরা বলিল, “এ তোমাদের ন্যায় মনুষ্য ভিন্ন নহে, তোমার যাহা ভক্ষন করিয়া থাক তাহা ভক্ষন করিয়া থাকে, এবং তোমরা যাহা পান কর তাহা পান করে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং যদি তোমরা আপনাদের ন্যায় মনুষ্যের আনুগত্য স্বীকার কর, তবে নিশ্চয় তখন তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হইবে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তোমাদের সঙ্গে কি অঙ্গীকার করা হইতেছে যে, তোমরা যখন মরিবে ও মৃত্তিকা ও অস্থি সকল হইবে তখন তোমরা বাহির হইবে?

আয়াতঃ ৩৬⇒ যে বিষয়ে তোমাদিগের সঙ্গে অঙ্গীকার করা হইতেছে তাহা দূরে দূরে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ আমাদের সাংসারিক জীবন ভিন্ন ইহা (এই জীবন) নহে, আমরা মরিতেছি ও বাঁচিতেছি, এবং আমরা সমুত্থাপিত হইব না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ সে সেই ব্যক্তি ভিন্ন নহে যে, ঈশ্বর সম্বন্ধে অসত্য রচনা করিয়াছে, এবং আমরা তাহার সম্বন্ধে বিশ্বাসী নহি”।

আয়াতঃ ৩৯⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তাহারা যে আমার প্রতি অসত্যারোপ করিতেছে, তদ্বিষয়ে তুমি আমাকে সাহায্য দান কর”।

আয়াতঃ ৪০⇒ তিনি বলিলেন, “কিয়ৎকালের মধ্যে অবশ্য তাহারা লজ্জিত হইবে”।

আয়াতঃ ৪১⇒ অবশেষে সত্যতঃ মহানিনাদ তাহাদিগকে আক্রমণ করিল, অনন্তর আমি তাহাদিগকে (তৃণবৎ) খন্ড খন্ড করিলাম, পরিশেষে অত্যাচারীদলের নিমিত্ত (ঈশ্বরের কৃপা) দূর হউক।

আয়াতঃ ৪২⇒ তৎপর আমি তাহাদিগের পরে অন্য সম্প্রদায় সকল সৃষ্টি করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৩⇒ কোন মণ্ডলী আপন (শাস্তির) নির্দিষ্ট কাল (অতিক্রম করিয়া) অগ্রসর হইবে না ও পশ্চাদ্বর্তী হইবে না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ তৎপর আমি ক্রমান্বয়ে স্বীয় প্রেরিতপুরুদিগকে প্রেরণ করিয়াছি, যখন কোন মণ্ডলীর নিকটে তাহাদের রসূল উপস্থিত হইয়াছে, তখন তাহারা তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, অনন্তর আমি তাহাদের একজনের পশ্চাৎ অন্য জনকে আনয়ন করিয়াছি, এবং তাহাদিগকে উপাখ্যান করিয়াছি, অবশেষে যাহারা বিশ্বাস করে না সেই দলের নিমিত্ত (ঈশ্বরের কৃপা) দূর হউক।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ তৎপর আমি মুসা ও তাহার ভ্রাতা হারুনকে আপন নিদর্শন ও উজ্জল প্রমাণসহ ফেরওনের ও তাহার প্রধান পুরুষদিগের নিকটে প্রেরণ করিয়াছি, অনন্তর তাহারা গর্ব করিল, এবং তাহারা উদ্ধত দল ছিল।

আয়াতঃ ৪৭⇒ পরিশেষে তাহারা বলিল, “আমাদের তুল্য দুই জন মনুষ্যকে কি আমরা বিশ্বাস করিব? সেই দুয়ের জ্ঞাতিবর্গ আমাদিগকে সেবা করিয়া থাকে”।

আয়াতঃ ৪৮⇒ অনন্তর তাহারা সেই দুই জনের প্রতি অসত্যারোপ করিল, পরিশেষে তাহারা বিনাশ প্রাপ্ত হইয়াছিল।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি যেন তাহারা (বনি-এস্রায়েল) সৎপথ প্রাপ্ত হয়।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং আমি মরয়মের পুত্র ও তাহার জননীকে নিদর্শনস্বরূপ করিয়াছিলাম, এবং তাহাদিগকে প্রস্রবনযুক্ত অবস্থানযোগ্য উচ্চভূমিতে স্থান দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৫১⇒ হে প্রেরিতপুরুষগণ, তোমরা বিশুদ্ধ বস্তু সকল ভক্ষন কর ও শুভকর্ম কর, তোমরা যাহা করিয়া থাক নিশ্চয় আমি তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং নিশ্চয় তোমাদের এই ধর্ম একমাত্র ধর্ম এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমাকে ভয় কর।

আয়াতঃ ৫৩⇒ অনন্তর তাহারা আপনাদের মধ্যে আপনাদের কার্য খন্ড খন্ড করিয়া কাটিল, প্রত্যেক সম্প্রদায় যাহা তাহাদের নিকটে আছে তাহাতে আনন্দিত।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অতএব তুমি (হে মোহম্মদ) কিয়ৎকাল পর্যন্ত তাহাদিগকে তাহাদের শৈথিল্যে ছাড়িয়া দেও।

আয়াতঃ ৫৫+৫৬⇒ তাহারা কি মনে করিতেছে যে, ধন ও সন্তান দ্বারা যে কিছু আমি তাহাদিগকে সাহায্য দান করি তাহাতে তাহাদের জন্য মঙ্গলানুষ্ঠান সকলে চেষ্টা করিয়া থাকি? বরং তাহারা জানিতেছে না।

আয়াতঃ ৫৭⇒ নিশ্চয় তাহারাই যাহারা আপন প্রতিপালকের ভয়ে শশব্যস্ত।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং তাহারাই যাহারা আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস করে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং তাহারাই যাহারা, আপন প্রতিপালকের সঙ্গে অংশী স্থাপন করে না।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং তাহারাই যাহারা যাহা কিছু দেওয়া যায় তাহা দান করে, এবং যাহাদের মন ভীত, নিশ্চয় তাহারাই আপন প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

আয়াতঃ ৬১⇒ ইহারাই শুভকার্য সকলে সত্বর হয় ও ইহারা তদুদ্দেশ্যে অগ্রসর।

আয়াতঃ ৬২⇒ আমি কোন ব্যক্তিকে তাহার সাধ্যাতীত ক্লেশ-দান করি না, এবং আমার নিকটে সেই গ্রন্থ আছে যে সত্য বর্ণন করে ও তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ৬৩⇒ বরং তাহাদের মন এ-বিষয়ে ঔদাসীন্যে আছে, এতদ্বতীত তাহাদের (মন্দ) কার্য সকল আছে, তাহারা তাহার অনুষ্ঠানকারী।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এতদূর পর্যন্ত, যখন আমি সম্পন্ন লোকদিগকে শাস্তি দ্বারা আক্রমণ করিব তখন তাহারা আর্তনাদ করিবে।

আয়াতঃ ৬৫⇒ (আমি বলিব) অদ্য তোমরা আর্তনাদ করিও না, নিশ্চয় তোমরা আমা হইতে সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৬৬+৬৭⇒ একান্তই তোমাদের নিকটে আমার আয়ত সকল পঠিত হইত, পরে গর্ব করতঃ তোমরা আপন পশ্চাৎ পদের প্রতি ফিরিয়া যাইতে, তৎসম্বন্ধে গল্পে রত হইয়া ব্যর্থ বাক্য সকল বলিতে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ অনন্তর এই উক্তির প্রতি কি তাহারা মনোযোগ করে না? যাহা তাহাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদিগের নিকটে আসে নাই তাহা তাহাদের নিকটে কি উপস্থিত হইয়াছে?

আয়াতঃ ৬৯⇒ তাহারা কি আপনাদের প্রেরিতপুরুষকে চিনিতেছে না, অনন্তর তাহারা তাহার অস্বীকারকারী।

আয়াতঃ ৭০⇒ তাহারা কি বলিতেছে যে, তাহাতে উন্মত্ততা আছে? বরং সে তাহাদের নিকটে সত্য আনয়ন করিয়াছে, এবং তাহাদের অধিকাংশই সত্যের অশ্রদ্ধাকারী।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং যদি (ঈশ্বর) তাহাদের ইচ্ছার অনুসরণ করিতেন, তবে একান্তই স্বর্গ ও মর্ত এবং এই দুইয়ের মধ্যে যে কেহ আছে বিশৃঙ্খল হইয়া পড়িত, বরং আমি তাহাদের নিকটে তাহাদের সম্বন্ধীয় উপদেশ আনয়ন করিয়াছি, অনন্তর তাহারা আপন উপদেশ হইতে বিমুখ।

আয়াতঃ ৭২⇒ তুমি কি (হে মোহম্মদ) তাহাদের নিকটে ধন প্রার্থনা কর? অনন্তর তোমার প্রতিপালকেরই উৎকৃষ্ট ধন এবং তিনি শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং নিশ্চয় তুমি তাহাদিগকে সরল পথের দিকে আহ্বান করিতেছ।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং নিশ্চয় যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাহারা সেই সরল পথ হইতে দূরবর্তী হয়।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং যদি আমি তাহাদিগকে অনুগ্রহ করিতাম ও তাহাদের যে দুঃখ আছে তাহা উন্মোচন করিতাম তবে নিশ্চয় তাহারা আপন অবাধ্যতাতে অবিশ্রান্ত নিক্ষিপ্ত থাকিত।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাদিগকে শাস্তিযোগে আক্রমণ করিয়াছিলাম, অনন্তর আপন প্রতিপালকের নিকটে তাহারা মিনতি করে নাই ও কাতরোক্তি করে নাই।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এ পর্যন্ত, যখন আমি তাহাদের প্রতি সুকঠিন শাস্তির দ্বার উন্মুক্ত করিলাম, তখন অকস্মাৎ তাহারা তাহাতে নিরাশ হইল।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদের জন্য দৃষ্টি, শ্রবন ও অন্তঃকরণ সকল সৃজন করিয়াছেন, তোমরা অল্পই ধন্যবাদ করিয়া থাক।

আয়াতঃ ৭৯⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদিগকে পৃথিবীতে সৃষ্টি করিয়াছেন ও তোমরা তাহাদিগকে সমুত্থাপিত হইবে।

আয়াতঃ ৮০⇒ রবং তিনিই যিনি জীবন দান ও প্রাণ হরণ করেন ও তাঁহার কারনের দিবা-রাত্রির পরিবর্তন হইয়া থাকে, অনন্তর তোমরা কি জানিতেছ না?

আয়াতঃ ৮১⇒ বরং পূর্ববর্তী লোকেরা যে প্রকার বলিত তাহারাও তাহাই বলিয়াছে।

আয়াতঃ ৮২⇒ তাহারা বলিয়াছে, “কি যখন আমরা প্রাণত্যাগ করিব, এবং মৃত্তিকা ও অস্থি সকল হইয়া যাইব তখন কিন আমরা সমুত্থাপিত হইব?

আয়াতঃ ৮৩⇒ সত্যসত্যই আমাদিগকে এবং ইতিপূর্বে আমাদিগের পিতৃপুরুষদিগকে এই অঙ্গীকার প্রদত্ত হইয়াছে; ইহা পুরাতন উপন্যাস ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ৮৪⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর (হে মোহম্মদ) পৃথিবী ও তন্মধ্য যে কেহ আছে সে কাহার? যদি তোমরা জান (বল)।

আয়াতঃ ৮৫⇒ তৎক্ষণাৎ তাহারা বলিবে, “ঈশ্বরের” তুমি বলিও, অনন্তর তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ৮৬⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, সপ্ত স্বর্গের স্বামী ও মহাস্বর্গের স্বামী কে?

আয়াতঃ ৮৭⇒ তৎক্ষণাৎ তাহারা বলিবে, “(এ সকল) ঈশ্বরের”; তুমি বলিও, অনন্তর তোমরা কি শঙ্কিত হইতেছ না?

আয়াতঃ ৮৮⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, কে তিনি যাঁহার হস্তে সকল বস্তুর রাজত্ব, এবং যিনি আশ্রয় দান করেন ও যাঁহার সম্বন্ধে আশ্রয় দেওয়া হয় না, যদি তোমরা জান (বল)।

আয়াতঃ ৮৯⇒ তৎক্ষণাৎ তাহারা বলিবে, “(এ সকল) ঈশ্বরের”; তুমি বলিও, অনন্তর তোমরা কোথা হইতে প্রবঞ্চিত হইতেছ?

আয়াতঃ ৯০⇒ বরং আমি তাহাদের নিকটে সত্য আনয়ন করিয়াছি, এবং নিশ্চয় তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ৯১⇒ পরমেশ্বর কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই, এবং তাঁহার সঙ্গে (অন্য) কোন ঈশ্বর নাই, তবে তৎকালীন প্রত্যেক ঈশ্বর যাহা সৃজন করিয়াছে তাহা লইয়া যাইত, এবং নিশ্চয় তাহাদের পরস্পর একে অন্যের উপর প্রবল হইত, তাহারা যাহা বর্ণনা করে ঈশ্বর তাহা অপেক্ষা বিশুদ্ধ।

আয়াতঃ ৯২⇒ তিনি অন্তরবহিরবিদ, অনন্তর তাহারা যাহাকে অংশী স্থাপন করে তাহা হইতে তিনি উন্নত।

আয়াতঃ ৯৩⇒ তুমি বল “হে আমার প্রতিপালক” (শাস্তি বিষয়ে) যাহা অঙ্গীকার করা হইয়াছে তাহা যদি আমাকে প্রদর্শন করিতে।

আয়াতঃ ৯৪⇒ হে আমার প্রতিপালক, অনন্তর আমাকে তুমি অত্যাচারী দলের মধ্যে প্রবিষ্ট করিও না।

আয়াতঃ ৯৫⇒ এবং যাহা তাহাদিগকে অঙ্গীকার করিয়াছি নিশ্চয় আমি তাহাতে আছি, তাহা তোমাকে দেখাইব, অবশ্য আমি ক্ষমতাবান।

আয়াতঃ ৯৬⇒ যাহা অতি কল্যাণ তাহা দ্বারা তুমি কল্যাণকে দূর কর, তাহারা যাহা বর্ণনা করিতেছে আমি তাহা উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ৯৭⇒ এবং বল, “হে আমার প্রতিপালক, আমি শয়তান সকলের কুমন্ত্রণা হইতে তোমার আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি।

আয়াতঃ ৯৮⇒ এবং হে আমার প্রতিপালক, আমার নিকটে যে, (সেই পাপ পুরুষ) উপস্থিত হয় তাহা হইতে আমি তোমার শরণাপন্ন হইতেছি”।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এ পর্যন্ত, যখন তাহাদের কোন ব্যক্তির নিকটে মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ফিরাইয়া লইয়া যাও।

আয়াতঃ ১০০⇒ সম্ভবতঃ আমি যে স্থান পরিত্যাগ করিয়াছি তথায় (যাইয়া) সৎকর্ম করিব”। কখনো নহে, নিশ্চয় ইহা এক কথামাত্র যে, সে উহার বক্তা, পুনরুত্থান হওয়ার দিন পর্যন্ত তাহাদের সম্মুখে আবরণ আছে।

আয়াতঃ ১০১⇒ অনন্তর যখন সুরবাদ্যে ফুঁৎকার করা হইবে তখন সেই দিবস তাহাদের মধ্যে স্মবন্ধ থাকিবে না, এবং তাহারা পরস্পর সংবাদ লইবে না।

আয়াতঃ ১০২⇒ অবশেষে যাহার তুলযন্ত্র গুরুভার হইবে, অনন্তর ইহারাই তাহারা যে মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ১০৩⇒ এবং যে ব্যক্তির তুলযন্ত্র লঘু, অনন্তর তাহারাই, যাহারা আপন জীবনের প্রতি ক্ষতি করিয়াছে, তাহারা নরকে নিত্য নিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ১০৪⇒ অগ্নি তাহাদের মুখ দগ্ধ করিবে, এবং তাহারা তথায় বিকটমুখ হইবে।

আয়াতঃ ১০৫⇒ (আমি বলিব) “তোমাদের নিকটে কি আমার আয়ত সকল পঠিত হয় নাই? অনন্তর তোমরা তাহা অসত্য বলিতেছিলে”।

আয়াতঃ ১০৬⇒ তাহারা বলিব, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের উপর আমাদের দুর্ভাগ্য প্রবল হইয়াছিল, এবং আমরা পথভ্রান্ত দল ছিলাম।

আয়াতঃ ১০৭⇒ হে আমাদের প্রতিপালক, ইহা হইতে আমাদিগকে মুক্ত কর, পরে যদি আমরা (ধর্মদ্বেষিতায়) ফিরিয়া আসি তবে নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী হইব”।

আয়াতঃ ১০৮⇒ তিনি বলিবেন, “ইহার ভিতরে অপমানিত হইয়া দূর হও, এবং কথা কহিও না”।

আয়াতঃ ১০৯⇒ নিশ্চয় আমার দাসদিগের এক দল ছিল, তাহারা বলিতেছিল যে, “হে আমাদের প্রতিপালক আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, অতএব আমাদিগকে ক্ষমা কর ও আমাদিগকে দয়া কর, এবং তুমি শ্রেষ্ঠ দয়ালু।“

আয়াতঃ ১১০⇒ অনন্তর তোমরা তাহাদিগকে উপহাস করিয়াছিলে, এতদূর পর্যন্ত যে, আমার স্মরণ তাহারা তোমাদিগকে ভুলাইয়াছিল, এবং তোমরা তাহাদের সম্বন্ধে হাস্য করিয়াছিলে।

আয়াতঃ ১১১⇒ নিশ্চয় তাহারা যে ধৈর্য ধারন করিয়াছিল তজ্জন্য অদ্য আমি তাহাদিগকে পুরস্কার দান করিলাম, যেহেতু তাহারা প্রাপ্তকাম হইবে।

আয়াতঃ ১১২⇒ তিনি জিজ্ঞাসা করিবেন, “বৎসরের গণনানুসারে তোমরা পৃথিবীতে কত কাল স্থিতি করিয়াছিলে”?

আয়াতঃ ১১৩⇒ তাহারা বলিবে, “আমরা এক দিবস বা এক দিবসের অংশমাত্র স্থিতি করিয়াছিলাম, অনন্তর গণনাকারীদিগকে তুমি জিজ্ঞাসা কর”।

আয়াতঃ ১১৪⇒ তিনি বলিবেন, “অল্পক্ষন ভিন্ন তোমরা স্থিতি কর নাই, হায়! তোমরা যদি জানিতে”।

আয়াতঃ ১১৫⇒ অনন্তর তোমরা কি মনে করিয়াছ যে, আমি তোমাদিগকে ক্রীড়ার ভাবে সৃষ্টি করিয়াছি, এবং ইহা (মনে করিয়াছ) যে, আমার দিকে তোমরা ফিরিয়া আসিবে না”?

আয়াতঃ ১১৬⇒ পরিশেষে পরমেশ্বর সমুন্নত, সত্য অধিপতি; তিনি ব্যতীত ঈশ্বর নাই, তিনি মহা স্বর্গের প্রতিপালক।

আয়াতঃ ১১৭⇒ এবং যে ব্যক্তি এই পরমেশ্বরের সঙ্গে অন্য উপাস্যকে আহ্বান করে, তৎসম্বন্ধে তাহার কোন প্রমাণ নাই, অনন্তর তাহার প্রতিপালকের নিকটে তাহার গণনা (হিসাব) এতদ্ভিন্ন নহে, নিশ্চয় ধর্মদ্বেষিগণ উদ্ধার পাইবে না।

আয়াতঃ ১১৮⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “হে আমার প্রতিপালক, ক্ষমা কর প দয়া কর, তুমি শ্রেষ্ঠ দয়ালু”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *