সূরাঃ মায়দা

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, অঙ্গীকার পূর্ণ কর, যাহা তোমাদের নিকটে পঠিত হইবে তদ্ভিন্ন অহিংস্র জন্তু তোমাদের জন্য বৈধ হইয়াছে, তোমরা এহরাম বন্ধন করিয়াছ এই অবস্থায় মৃগয়া অবৈধ, নিশ্চয় ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা করিয়া থাকেন তাহা আজ্ঞা করেন।

আয়াতঃ ০২⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের এবং হরাম মাসের ও কোরবানীর পশুর ও কেলাদার এবং আপন প্রতিপালকের প্রসাদ ও সন্তোষ অন্বেষণ করে এমন মসজেদোল হরামের উদ্যোগী লোকদিগের অবমাননা করিও না, এবং যখন এহরাম উন্মোচন কর তখন মৃগয়া করিও, মসজেদোল হরাম হইতে তোমাদিগকে নিবৃত্ত করিয়াছে এমন কোন দলের শত্রুতা যেন তোমাদের কারন না হয় যে, তোমরা সীমা লঙ্ঘন কর; এবং তোমরা সৎকার্যে ও ধৈর্যধারণে পরস্পর আনুকুল্য করিও, এবং দুষ্কর্মে ও অত্যাচারে পরস্পর আনুকুল্য করিও না, ঈশ্বরকে ভয় করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর কঠিন শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ০৩⇒ তোমরা যাহা জব করিয়াছ তদ্যতীত শব ও শোনিত এবং বরাহমাংশ, ও যাহা ঈশ্বর ব্যতিত অন্য দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত হইয়াছে এবং গলা চাপায় মরিয়াছে, ও যষ্টির আঘাতে মরিয়াছে, এবং উচ্চস্থান হইতে পরিয়া মরিয়াছে, ও শৃঙ্গাঘাতে মরিয়াছে, এবং যাহা হিংশ্র জন্তু ভক্ষন করিয়াছে (এ সকল) তোমাদিগের প্রতি অবৈধ; এবং নির্দিষ্ট স্থান সকলে জব করা হইয়াছে, আজলাম যোগে তোমরা যাহা বিভাগ কর (অবৈধ) ইহা দুষ্কর্ম; অদ্য কাফেরগণ তোমাদের ধর্মে নিরাশ হইয়াছে, অনন্তর তোমরা তাহাদিগকে ভয় করিও না, এবং আমাকে ভয় করিও, অদ্য আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণ করিয়াছি, এবং আমার দান তোমাদের সম্বন্ধে পূর্ণ করিয়াছি, তোমাদের জন্য এসলামকে ধর্মরুপে মনোনীত করিয়াছি, অনন্তর যে ব্যক্তি পাপের প্রতি অননুরক্ত ক্ষুধায় কাতর, পরে নিশ্চয় ঈশ্বর (তাহার) ক্ষ্মাকারী ও অনুগ্রহকারী।

আয়াতঃ ০৪⇒ তোমাকে তাহারা জিজ্ঞাসা করিতেছে যে, কোন বস্তু তাহাদের জন্য বৈধ হইয়াছে; তুমি বল যে, তোমাদের নিমিত্ত বিশুদ্ধ বস্তু বৈধ, এবং ঈশ্বর তোমাদিগকে যাহা শিক্ষা দিয়াছেন তদনুসারে তোমরা শিকারী জন্তুদিগকে তাহাদের শিক্ষাদাতার ভাবে যাহা শিক্ষা দেও (সেই ভাবে শিকার করিয়া) পরে তোমাদের জন্য তাহারা যাহা রক্ষা করে তাহা ভক্ষন করিবে, এবং তদুপরি ঈশ্বরের নাম স্মরণ করিও, ঈশ্বরকে ভয় করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ০৫⇒ তোমাদের জন্য অদ্য বিশুদ্ধ বস্তু বৈধ হইয়াছে, এবং গ্রন্থাধিকারীদিগের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ হইয়াছে, এবং তোমাদের খাদ্য তাহাদিগের জন্য বৈধ হইয়াছে, এবং মোসলমান শুদ্ধাচারিনী কন্যা ও তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থাধিকারীদিগের শুদ্ধাচারিনী কন্যা তোমরা গুপ্ত প্রনয় গ্রহণ বিমুখ শুদ্ধাচারী অব্যভিচারী হইয়া তাহাদিগকে তাহাদের যৌতুক দান করিলে (তোমাদের জন্য বৈধ) এবং যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধাচরণ করে তাহার কর্ম বিনষ্ট হয়, সে পরলোকে ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ০৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা নমাজ উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হইবে তখন আপনাদের মুখমণ্ডল ও আপনাদের হস্ত কফোণি পর্যন্ত ধৌত করিও ও আপনাদের মস্তকে এবং জানু পর্যন্ত আপনাদের পদে হস্তমর্শন করিও; যদি অশুদ্ধ থাক তবে শুদ্ধ (স্নাত) হইও, এবং যদি পীড়িত হও বা দেশ ভ্রমণে থাক, কিংবা তোমাদের কেহ শৌচাগার হইতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রীসঙ্গ কর, পরন্তু জলপ্রাপ্ত হও নাই তবে তোমরা বিশুদ্ধ মৃত্তিকার চেষ্টা করিবে, পরে তাহা দ্বারা আপনাদের মুখ ও হস্ত মর্দন করিবে, ঈশ্বর ইচ্ছা করেন না যে, তোমাদের প্রতি কিছু কঠিন করেন, কিন্তু তোমাদিগকে শুদ্ধ করিতে ও তোমাদের প্রতি আপন দান পূর্ণ করিতে ইচ্ছা করেন, ভরসা যে, তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের দান ও অঙ্গীকার যদ্দারা তোমাদিগকে তিনি অঙ্গীকারে বদ্ধ করিয়াছেন, তাহা স্মরণ কর, তখন তোমরা বলিয়াছিলে “শ্রবন করিলাম ও গ্রাহ্য করিলাম;” এবং ঈশ্বরকে ভয় কর, নিশ্চয় ঈশ্বর হৃদয়ের তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ০৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরের জন্য ন্যায়ানুযায়ী সাক্ষ্যদাতারুপে দন্ডায়মান থাকিও, অন্যায়াচারণে তোমরা কোন দলের শত্রুতার কারন হইও না, ন্যায়াচরন কর, তাহা বৈরাগ্যের নিকটতর, এবং ঈশ্বরকে ভয় কর, নিশ্চয় তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০৯⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকার্য করিয়াছে ঈশ্বর অঙ্গীকার করিয়াছেন যে, তাহাদের জন্য ক্ষমা ও মহা পুরষ্কার আছে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং যাহারা কাফের হইয়াছে ও আমার নিদর্শন সকলে অসত্যারোপ করিয়াছে তাহারা নরলোক নিবাসী।

আয়াতঃ ১১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের দানকে স্মরণ কর, যখন একদল উদ্যোগ করিয়াছিল যে, তোমাদের উপর তাহাদের হস্ত বিস্তার করে তখন তিনি তোমাদিগ হইতে তাহাদের হস্তকে নিবৃত্ত রাখিয়াছেন, এবং তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিও, অনন্তর বিশ্বাসীদিগের উচিত যে, ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং সত্যসত্যই ঈশ্বর এস্রায়েল সন্তানগণ হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলেন, ও আমি তাহাদের মধ্য হইতে দ্বাদশজন দন্ডায়মান করিয়াছিলাম, এবং ঈশ্বর বলিয়াছিলেন, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, যদি তোমরা উপাসনাকে প্রতিষ্টিত রাখ, জকাত দান কর ও আমার প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি বিশ্বাসী হও, এবং তাহাদিগকে সম্মানিত কর ও ঈশ্বরকে উত্তম ঋণ দানরূপে ঋণ দান কর তবে অবশ্যই আমি তোমাদিগের পাপ তোমাদিগ হইতে মোচন করিব, এবং অবশ্যই তোমাদিগকে স্বর্গোদ্যানে লইয়া যাইব যাহার ভিতর দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত; অনন্তর ইহার পরে তোমাদের মধ্যে যাহারা ধর্মদ্রোহী হইবে তবে নিশ্চয় তাহারা সরল পথ হারাইবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ অবশেষে আমি তাহাদের আপন অঙ্গীকার ভঙ্গ করার জন্য তাহাদিগকে অভিসম্পাত করিয়াছিলাম ও তাহাদের অন্তরকে কঠিন করিয়াছিলাম, তাহারা (শাস্ত্রের) উক্তি সকলকে স্বস্থান হইতে পরিবর্তিত করিয়া থাকে, এবং তাহারা সেই অংশ ভুলিয়া গিয়াছে যাহার উপদেশ তাহাদিগকে দেওয়া গিয়াছিল, সর্বদা তুমি তাহাদের অল্প লোকের বৈ তাহাদিগের অনিষ্টকারিতা জ্ঞাত হইতেছ না, অতএব তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও ও তাহাদিগকে অগ্রাহ্য কর, নিশ্চয় ঈশ্বর হিতকারীদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যাহারা বলে আমি ঈসায়ী, তাহাদিগ হইতে আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছি, তাহাদিগকে যে উপদেশ দেওয়া হইয়াছিল পরে তাহারা সেই অংশ বিস্মৃত হইয়াছে, অতএব আমি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাহাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষসঙ্ঘটন করিয়া রাখিয়াছি, তাহারা যাহা করিতেছিল অবশ্যই ঈশ্বর তাহাদিগকে তাহার সংবাদ দান করিবেন।

আয়াতঃ ১৫⇒ হে গ্রন্থাধিকারীগণ, নিশ্চয় তোমাদিগের নিকটে আমার প্রেরিতপুরুষ আগমন করিয়াছে, তোমরা গ্রন্থের যাহা গোপন করিয়াছ তাহার অনেকাংশে তোমাদের জন্য সে ব্যক্ত করিতেছে, এবং অনেক উপেক্ষা করিতেছে, নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকট হইতে তোমাদের নিকটে জ্যোতি  ও উজ্জল গ্রন্থ সমাগত হইয়াছে।

আয়াতঃ ১৬⇒ পরমেশ্বর তদ্দারা তাহার প্রসন্নতার অনুসরণকারী ব্যক্তিদিগকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করেন ও স্বীয় আজ্ঞায় অন্ধকার হইতে তাহাদিগকে জ্যোতির দিকে লইয়া যান, এবং সরল পথের দিকে তাহাদিগকে উপদেশ দান করেন।

আয়াতঃ ১৭⇒ যাহারা বলিয়াছে যে, সেই মরিয়মের পুত্র ঈসাই ঈশ্বর, সত্যসত্যই তাহারা কাফের হইয়াছে; যদি তিনি ইচ্ছা করেন যে, মরিয়মের পুত্র ঈসাকে ও তাঁহার মাতাকে এবং পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহাদিগকে একত্র সংহার করেন, বল তবে কোন ব্যক্তি ঈশ্বরের কারযে কোন ক্ষমতা রাখে? স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব ও উভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের, তিনি যাহা ইচ্ছা করেন সৃষ্টি করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর সমুদায় বিষয়ে শক্তিশালী।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং ইহুদী ঈসায়ী লোকেরা বলিয়াছে যে, আমরা পরমেশ্বরের পুত্র ও তাঁহার বন্ধু, জিজ্ঞাসা কর তবে কেন তিনি তোমাদিগকে তোমাদের অপরাধে শাস্তি দান করেন? বরং তোমরা সৃষ্ট মনুষ্য, ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করেন ও যাহাকে ইচ্ছা হয় শাস্তিদান করিয়া থাকেন, স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব ও উভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের, তাঁহার দিকেই প্রতিগমন।

আয়াতঃ ১৯⇒ হে গ্রন্থাধিকারী লোক, নিশ্চয় তোমাদের নিকটে আমার প্রেরিতপুরুষ আগমন করিয়াছে, প্রেরিতগণের ভিতরকার অবস্থা সে তোমাদের জন্য প্রচার করিতেছে, তোমরা যেন না বল যে, আমাদিগের নিকটে ভয় প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা আগমন করিল না, পরন্তু নিশ্চয় তোমাদিগের নিকটে সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শক আগমন করিয়াছে, এবং ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন মুসা আপন দলকে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদিগের প্রতি ঈশ্বরের দান স্মরণ কর, যখন তোমাদিগের মধ্যে তিনি প্রেরিতপুরুষ সকলকে উৎপাদন করিয়াছেন ও তোমাদিগকে রাজা করিয়াছেন, এবং লোকমণ্ডলীর কাহাকেও যাহা দান করেন নাই তোমাদিগকে তাহা দিয়াছেন।“

আয়াতঃ ২১⇒ “হে আমার সম্প্রদায়, সেই পুন্য ভূমিতে যাহা ঈশ্বর যাহা ঈশ্বর তোমাদের জন্য লিপি করিয়াছেন প্রবেশ কর, এবং আপন পৃষ্ঠদিকে তোমরা মুখ ফিরাইও না, তবে ক্ষতিগ্রস্থরুপে ফিরিবে”।

আয়াতঃ ২২⇒ তাহারা বলিল, “হে মুসা, নিশ্চয় তথায় দুর্দান্ত জাতি বাস করে, এবং যে পর্যন্ত তাহারা তথা হইতে বাহির না হয় নিশ্চয় আমরা কখনো সেখানে প্রবেশ করিব না, পরন্তু যদি তাহারা তথা হইতে নির্গত হয় তবে একান্তই আমরা প্রবেশ করিব।“

আয়াতঃ ২৩⇒ যাহারা ভয় পাইতেছিল যাহাদিগের মধ্যে সেই দুই ব্যক্তি যে দুই জনের প্রতি ঈশ্বর করুণা করিয়াছিলেন বলিল, “তাহাদের উদ্দেশ্যে তোমরা দ্বারে প্রবেশ কর, অনন্তর যখন তোমরা তাহাতে প্রবিষ্ট হইবে নিশ্চয় তখন তোমরা বিজয়ী হইবে, এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর কর।“

আয়াতঃ ২৪⇒ তাহারা বলিল, “হে মুসা, নিশ্চয় তাহারা যে পর্যন্ত তথায় আছে আমরা কখনো সেখানে প্রবেশ করিব না, তবে তুমি যাও ও তোমার ঈশ্বর যাউক, অবশেষে তোমরা দুই জনে যুদ্ধ কর, একান্তই আমরা এখানে বসিয়া থাকিব।“

আয়াতঃ ২৫⇒ (মুসা) বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি ও স্বীয় ভ্রাতার প্রতি ব্যতীত ক্ষমতা রাখি না, অতএব তুমি আমাদিগের ও এই অপরাধী দলের মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন কর”।

আয়াতঃ ২৬⇒ তিনি বললেন, “অবশেষে চল্লিশ বৎসর সেই স্থান তাহাদের প্রতি অবৈধ হল, তাহারা পৃথিবীতে ঘুরিয়া বেড়াইবে, তুমি এই দুর্বৃত্ত দলের বিষয়ে মনস্তাপ করিও না।“

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং তুমি (হে মোহাম্মদ) তাহাদিগের নিকটে পাঠ কর, সত্য ভাবে আদমের সন্তানদিগকে সংবাদ দেও; যখন তাহারা দুই জনে বলি উৎসর্গ করিল তখন তাহাদের এক জনের গৃহীত হইল, এবং অন্যজনের গৃহীত হয় নাই। একজনে বলিল, “অবশ্য তোমাদের বধ করিব;” অন্যজন বলিল, “ধর্মভীরুদিগের (বলি) ঈশ্বর গ্রহণ করেন ইহা ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ২৮⇒ যদি তুমি আমাকে হত্যা করিতে আমার প্রতি আপন হস্ত প্রসারন কর, আমি কখনো তোমাকে হত্যা করিতে  স্বীয় হস্ত তোমার প্রতি প্রসারন করিব না, নিশ্চয় আমি বিশ্বপালক পরমেশ্বরকে ভয় করি।

আয়াতঃ ২৯⇒ নিশ্চয় আমি ইচ্ছা করি যে, তুমি আমার অপরাধ ও নিজের অপরাধসহ ফিরিয়া যাও, পরে নরকবাসীদিগের অন্তর্গত হও, এবং ইহাই অত্যাচারীদিগের প্রতিফল।

আয়াতঃ ৩০⇒ অনন্তর স্বীয় ভ্রাতাকে বধ করা তাহার প্রকৃতি তাহালে উত্তেজিত করিল, অবশেষে তাহাকে হত্যা করিল, পরে সে ক্ষতিকারীদিগের অন্তর্গত হইল।

আয়াতঃ ৩১⇒ অবশেষে কিরুপে আপন ভ্রাতার সব গোপন করিতে হইবে তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য পরমেশ্বর এক কাককে মৃত্তিকা খনন করিতে পাঠাইলেন, সে বলিল, “হায়! আমার প্রতি  আক্ষেপ, আমি কি দুর্বল হইলাম যে, এই বায়স সদৃশ হইব?” পরে সে স্বীয় ভ্রাতার মৃতদেহ লুক্কায়িত করিল, অবশেষে সন্তপ্তদিগের অন্তর্গত হইল।

আয়াতঃ ৩২⇒ এই কারনে আমি এস্রায়েল বংশীয়দিগের সম্বন্ধে লিপি করিলাম যে, যে ব্যক্তি একজনের (হত্যার বিনিময়) ব্যতীত কিংবা অত্যাচার ব্যতীত পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি হত্যা করিল অনন্তর সে যেন এক যোগে মানবমণ্ডলীকে হত্যা করিল, এবং যে ব্যক্তি তাহার জীবন দান করিল সে পরে যেন সমগ্র মানব মণ্ডলীর জীবন দান করিল, এবং সত্যসত্যই তাহাদের নিকটে উজ্জল নিদর্শন সকলসহ আমার প্রেরিতপুরুষগণ সমাগত হইয়াছে, তৎপর নিশ্চয় তাহাদের অনেকে ইহার পরে পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘনকারী হইয়াছে।

আয়াতঃ ৩৩⇒ যাহারা ঈশ্বরের সঙ্গে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে সংগ্রাম করে ও পৃথিবীতে অত্যাচার করিতে ধাবিত হয় শত্রুপক্ষ হইতে ছিন্নমস্তক হওয়া কিংবা শূলোপরি স্থাপিত হওয়া অথবা তাহাদের হস্ত অ তাহাদের পদ ছিন্ন হওয়া কিংবা দেশচ্যুত হওয়া, ইহা ব্যতীত তাহাদিগের পুরষ্কার নাই, এই তাহাদের জন্য ইহলোকে দুর্গতি এবং পরলোকে তাহাদের জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ তাহারা উপর তোমরা ক্ষমতা পাইবার পূর্বে যাহারা অনুতাপ করিয়াছে তাহারা ব্যতীত অনন্তর জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ৩৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, পরমেশ্বরকে ভয় করিও ও তাঁহার দিকে উপলক্ষ অন্বেষণ করিও এবং তাঁহার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করিও, ভরসা যে তোমরা উদ্ধার পাইবে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ নিশ্চয় যাহারা কাফের হইয়াছে পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তৎসমুদায় যদি তাহাদেরও হয়, এবং তৎসদৃশ তাহাদের সঙ্গে থাকে যে তাহারা কেয়ামতের দিনে শাস্তির (পরিবর্তে) তাহা দান করে তাহাদিগ হইতে গৃহীত হইবে না, এবং তাহাদের জন্য ক্লেশকর কঠিন শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহারা ইচ্ছা করিবে যে, নরকাগ্নি হইতে নির্গত হয়, কিন্তু তাহা হইতে বাহির হইতে পারিব না ও তাহাদের জন্য নিত্য শাস্তি থাকিবে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হস্তচ্ছেদন কর, তাহারা যাহা করিয়াছে তজ্জন্য ঈশ্বর হইতে শিক্ষাদানরুপে বিনিময় হয়, এবং ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও নিপুণ।

আয়াতঃ ৩৯⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি আপন অত্যাচারের পর প্রতিনিবৃত্ত হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে পরে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার দিকে প্রত্যাগত হন, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৪০⇒ তুমি কি জানিতেছ না যে, ঈশ্বরেরই স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব? তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় শাস্তি দান করেন ও যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৪১⇒ হে প্রেরিতপুরুষ, যে সকল লোক আপন মুখে বলে যে, আমরা বিশ্বাসী হইয়াছি, কিন্তু তাহাদের অন্তঃকরণ অবিশ্বাসী রহিয়াছে, তাহাদিগের অপেক্ষা যাহারা ধর্মদ্রোহিতায় সত্বর তাহারা তোমাকে দুঃখিত করিবে না, ইহুদীগণ অপেক্ষাও তাহারা অসত্য শ্রোতা, (এ পর্যন্ত) তাহারা তোমার নিকট উপস্থিত হয় নাই; তাহারা উক্তি সকলকে স্বস্থানচ্যুত করিয়া পরিবর্তিত করে; তাহারা বলে যদি ইহা (এই পরিবর্তিত বিধি) তোমাদিগকে প্রদত্ত হইয়া থাকে তবে ইহা গ্রহণ কর, এবং যদি তোমাদিগকে প্রদত্ত না হইয়া থাকে তবে নিবৃত্ত হও; ঈশ্বর যাহাকে তাহার পথচ্যুতি ইচ্ছা করেন পরে কখনো তাহার জন্য তুমি ঈশ্বর হইতে কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবে না; ইহারাই, যাহাদিগকে ঈশ্বর ক্ষমা করেন না যে, তাহাদের অন্তঃকরণ শুদ্ধ করেন, তাহাদিগের জন্য ইহলোকে দুর্গতি ও তাহাদের জন্য পরলোকে মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৪২⇒ তাহারা অসত্য স্রোতা অবৈধ ভোক্তা, অবশেষে যদি তাহারা তোমার নিকটে আগমন করে তবে তুমি তাহাদিগের মধ্যে আদেশ প্রচার করিও, অথবা তাহাদিগ হইতে বিমুখ হইও, এবং যদি তুমি তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও তবে তাহারা কখনো তোমার কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না; এবং যদি আদেশ প্রচার কর তবে তাহাদের মধ্যে ন্যায়ানুসারে আদেশ করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর ন্যায়বানদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তাহারা কেমন করিয়া তোমার প্রতি আজ্ঞা করিতেছে, এবং তাহাদের নিকটে তওরাত বিদ্যমান, তাহাতে ঈশ্বরের আজ্ঞা আছে, ইহার পরেও তাহারা পুনর্বার বিমুখ হইতেছে, এই তাহারাই বিশ্বাসী নহে।

আয়াতঃ ৪৪⇒ নিশ্চয় আমি তওরাত অবতারন করিয়াছি, তন্মধ্যে উপদেশ ও জ্যোতি রহিয়াছে, ঈশ্বরানুগত ও তত্ত্ববাহকগণ তদনুসারে ইহুদীদিগের জন্য আদেশ করিয়াছে ও ঈশ্বর পরায়ণ লোক এবং পণ্ডিতগণ যে ঐশ্বরিক গ্রন্থের সংরক্ষক ছিল তদনুসারে (আদেশ করিয়াছে) এবং তাহারা তদ্বিষয়ে সাক্ষী ছিল, অতএব তোমরা লোকদিগকে ভয় করিও না, আমাকে ভয় করিও ও আমার প্রবচন সকল দ্বারা ক্ষুদ্র মূল্য গ্রহণ করিও না; এবং ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন যাহারা তদনুসারে আদেশ করে না অবশেষে এই তাহারাই কাফের।

আয়াতঃ ৪৫⇒ আমি তাহাদের সম্বন্ধে তাহাতে (তওরাতে) লিপি করিয়াছি যে, জীবনের পরিবর্তে জীবন, চক্ষুর পরিবর্তে চক্ষু, নাসিকার পরিবর্তে নাসিকা, কর্ণের পরিবর্তে কর্ণ, দন্তের পরিবর্তে দন্ত এবং আঘাত সকলের বিনিময় আছে, পরন্তু যে ব্যক্তি তদ্বিনিমিয় দান করে তাহার জন্য উহা পাপের ক্ষমা হয়, পরমেশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন যাহারা (তদনুসারে) আজ্ঞা করে না অনন্তর ইহারা তাহারাই যে, অত্যাচারী।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং আমি তাহাদের পশ্চাৎ মরিয়মের পুত্র ঈসাকে তাহার পূর্বে যে তওরাত ছিল তাহার সপ্রমানকারীরুপে অনুপ্রেরন করিয়াছি, তাহাতে উপদেশ ও জ্যোতি আছে ও তাহাকে (ইঞ্জিলকে) তাহার পূর্বে যে তওরাত ছিল তাহার সপ্রমানকারী ও ধর্মভীরুলোকদিগের জন্য উপদেশ ও আলোক করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং ইঞ্জিলাধিকারীর উচিত যে, তাহাতে ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তদসুসারে আজ্ঞা করে, ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা আজ্ঞা করে না, অনন্তর ইহারাই তাহারা যে দুষ্ক্রিয়াশীল।

আয়াতঃ ৪৮⇒ যে গ্রন্থ তাহাদের নিকটে আছে ও তাহারা যাহার রক্ষক আমি তাহার সপ্রমানকারী সত্য গ্রন্থ তোমার নিকটে (হে মোহাম্মদ) অবতারন করিয়াছি, অতএব ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তদনুসারে তাহাদের মধ্যে তুমি আদেশ কর, এবং তোমার নিকটে যে সত্য আগত তৎপ্রতি বিমুখ হইয়া তাহাদের রুচির অনুসরণ করিও না, তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি এক বিধি ও এক পথ নির্ধারণ করিয়াছি, এবং যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেন তবে তোমাদিগকে এক মণ্ডলীভুক্তকরিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তদ্বিষয়ে পরীক্ষা করিতেছেন, অতএব তোমরা কল্যাণের প্রতি ধাবিত হও, পরমেশ্বরের দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তোমরা তাহাতে যে বিরোধ করিতেছিলে তদ্বিষয়ে তিনি তোমাদিগকে সংবাদ দিবেন।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং আমি (আদেশ করিয়াছি) ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তদনুসারে তাহাদের মধ্যে তুমি আজ্ঞা কর ও তাহাদের রুচির অনুসরণ করিও না, তাহাদিগ হইতে সাবধান হইও যে, ঈশ্বর তোমার প্রতি যাহা অবতারন করিয়াছেন তাহার কিছু হইতে বা তোমাকে তাহারা বিভ্রান্ত করে, অনন্তর যদি তাহারকা অগ্রাহ্য করে তবে জানিও ঈশ্বর তাহাদের কোন কোন পাপের জন্য তাহাদিগকে দন্ড দিবেন, ইহা ভিন্ন ইচ্ছা করেন না, এবং নিশ্চয় মানবজাতির অধিকাংশ একান্তই পাপাচারী।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর তাহারা কি অজ্ঞানতার আজ্ঞা চাহিতেছে? এবং বিশ্বাস রাখে এমন কোন দলের জন্য আজ্ঞাদান বিষয়ে ঈশ্বর অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ?

আয়াতঃ ৫১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ইহুদী ও ঈসায়ীদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না, তাহারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তোমাদের যে ব্যক্তি তাহাদিগকে বন্ধু করে পরে নিশ্চয় সে তাহাদের অন্তর্গত, একান্তই ঈশ্বর অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ৫২⇒ অনন্তর যাহাদিগের অন্তরে রোগ আছে তুমি তাহাদিগকে দেখিতেছ, তাহারা তাহাদিগের মধ্যে ধাবিত হইতেছে, তাহারা বলে কালচক্র আমাদিগকে প্রাপ্ত হইবে বলিয়া ভয় হইতেছে, পরিশেষে শীঘ্রই ঈশ্বর বিজয় অথবা আপনার নিকট হইতে কোন বিষয় আনয়ন করিবেন যাহাতে পরে তাহারা আপনার অন্তরে যাহা গুপ্ত রাখিয়াছে তদ্বিষয়ে অনুতপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং বিশ্বাসীগণ বলিবে, “যাহারা ঈশ্বরের নামে গুরুতর শপথরুপে শপথ করিয়াছিল ইহারাই কি?” অবশ্যই তাহারা তোমাদের সঙ্গে আছে, তাহাদের কর্মপুঞ্জ বিনাশ পাইয়াছে, পরন্তু তাহারা ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছে।

আয়াতঃ ৫৪⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আপন ধর্ম হইতে ফিরিয়া যায়, পরে ঈশ্বর এমন একদল আনয়ন করিবেন যে, তিনি তাহাদিগকে প্রেম করেন ও তাহারা তাঁহাকে প্রেম করে, এবং বিশ্বাসীদিগের প্রতি কোমল ও কাফেরদিগের প্রতি কঠোর হয়, তাহারা ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিবে, কোন ভৎসনাকারীর ভৎসনাকে ভয় করিবে না, ইহা ঈশ্বরপ্রদত্ত গৌরব তিনি যাহাকে ইচ্ছা দান করিয়া থাকেন, ঈশ্বর বদান্য ও জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৫৫⇒ পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ ও যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে, এবং যাহারা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে ও জকাত দান করে তাহারা তোমাদের বন্ধু ইহা ব্যতীত নহে, এবং তাহারা নমাজ পরিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে প্রেম করে, এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে নিশ্চয় তাহারাই ঈশ্বরের পরাক্রান্ত মণ্ডলী।

আয়াতঃ ৫৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থপ্রাপ্ত ব্যক্তিদিগের যাহারা তোমাদিগের ধর্মকে উপহাস করে, অথবা (তাহা লইয়া) ক্রীড়ামোদ করে, তোমরা তাহাদিগকে ও কাফেরদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না; যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তবে ঈশ্বরকে ভয় করিও।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যখন তোমরা নমাজ উদ্দেশ্যে ঘোষনা কর, তখন তাহাতা তৎপ্রতি উপহাস ও ক্রীড়ামোদ করে, ইহা এ কারনে যে, তাহারা এমন এক দল যে, বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৫৯⇒ তুমি বল, হে গ্রন্থধারী লোক, আমরা ঈশ্বরের প্রতি ও যাহা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে ও আমাদের পূর্বে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি ভিন্ন তোমরা আমাদের দোষ ধরিতেছ না, যেহেতু তোমাদের অধিকাংশই দুর্বৃত্ত।

আয়াতঃ ৬০⇒ তুমি বল, ঈশ্বরের নিকতেই প্রতিফল, ইহা অপেক্ষা অমঙ্গল সংবাদ তোমাদিগকে কি দান করিব? ঈশ্বর যাহাকে অভিসম্পাত করিয়াছেন ও যাহার প্রতি আক্রোশ করিয়াছেন ও তাহাদের যাহাকে মর্কট এবং বরাহরুপে পরিণত করিয়াছেন, অসত্য উপাস্যকে উপাসনা করিতে দিয়াছেন, সেই লোক স্থান বিষয়ে নিকৃষ্টতর এবং সে সরল পথ হইতে বহু  দূরে পরিয়াছে।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যখন তাহারা তোমাদের নিকট আগমন করে তখন বলে যে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, তাহারা বস্তুতঃ ধর্মদ্রোহীতাসহ উপস্থিত হইয়াছে, তৎসহ চলিয়া গিয়াছে, এবং তাহারা যাহা গুপ্ত রাখে ঈশ্বর তাঁহার উত্তম জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬২⇒ তুমি যাহাদের অধিকাংশকে পাপে ও অত্যাচারে এবং আপনাদের অবৈধ ভক্ষনে ধাবিত হইতেছে দেখিতেছ, নিশ্চয় তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ৬৩⇒ ঈশ্বরপরায়ণ লোক ও জ্ঞানী পুরুষেরা তাহাদের পাপ কথনে ও তাহাদের অবৈধ ভক্ষনে কেন তাহাদিগকে নিষেধ করিতছে না, নিশ্চয় তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং ইহুদীগণ বলিয়াছে যে, ঈশ্বরের হস্ত গলদেশে বদ্ধ থাকুক, এবং যাহা বলিয়াছে তজ্জন্য তাহারা পাপগ্রস্থ, বরং ঈশ্বরের উভয় হস্ত মুক্ত, যেরুপ ইচ্ছা করেন তিনি সেরুপ ব্যয় করিয়া থাকেন, এবং তোমার প্রতিপালক হইতে হে মোহাম্মদ, তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা একান্তই তাহাদের বহু সংখ্যক ধর্মদ্রোহীতায় ও অবাধ্যতায় পরিবর্ধিত করিবে, এবং কেয়ামতের দিন পর্যন্ত আমি তাহাদিগের মধ্যে ঈর্ষা ও শত্রুতা স্থাপন করিয়াছি, তাহারা যখন যুদ্ধের জন্য অগ্নি প্রজ্জলিত করে তখন ঈশ্বর তাহা নির্বাপিত করেন, এবং তাহারা পৃথিবীতে অত্যাচার করিতে ধাবিত হয়, এবং ঈশ্বর অত্যাচারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং যদি গ্রন্থাধিকারীগণ বিশ্বাস স্থাপন করিত ও ধর্মভীরু হইত, তবে অবশ্যই আমি তাহাদিগের পাপ তাহাদিগ হইতে দূর করিতাম, এবং অবশ্যই আমি তাহাদিগকে সম্পদের উদ্যানসকলে লইয়া যাইতাম।

আয়াতঃ ৬৬⇒ এবং যদি তাহারা তওরাত ও ইঞ্জিলকে ও তাহাদের প্রতিপালক হইতে তাহাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা প্রতিষ্ঠিত রাখিত, তবে একান্তই তাহারা আপনাদের মস্তকের উপর হইতে ও আপনাদের চরণের নিম্ন হইতে (জীবিকা) ভোগ করিত; তাহাদের একদল পথিমধ্যে আছে, এবং তাহাদের অধিকাংশ যাহা করে তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ হে প্রেরিতপুরুষ, তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে তুমি তাহা প্রচার কর, এবং যদি না কর তবে তাঁহার তত্ত্ব তুমি প্রচার করিলে না, ঈশ্বর তোমাকে মানব মণ্ডলী হইতে রক্ষা করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মদ্রোহীদলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ তুমি বল, হে গ্রন্থাধিকারীগণ, যে পর্যন্ত তোমরা তওরাত ও ইঞ্জিলকে এবং তোমাদের প্রতিপালক হইতে যাহা তোমাদের প্রতি অবতারিত হইয়াছে তাহা প্রতিষ্ঠিত না কর সে পর্যন্ত তোমরা কিছুর মধ্যেই নও, তোমার প্রতি (হে মোহাম্মদ) যাহা অবতারিত হইয়াছে, তাহা তাহাদের অধিক সংখ্যককে অবশ্যই ধর্মদ্রোহীতায় ও অবাধ্যতায় পরিবর্ধিত করিবে, অবশেষে তুমি ধর্মদ্রোহী সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে ক্ষুদ্ধ হইও না।

আয়াতঃ ৬৯⇒ নিশ্চয় যাহারা মোসলমান ও যাহারা ইহুদী ও নক্ষত্রপূজক এবং ঈসায়ী (তাহাদের) যাহারা পরমেশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন এবং সৎকার্য করিয়াছে তাহাদের সম্বন্ধে ভয় নাই ও তাহারা শোকগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ সত্যসত্যই আমি এস্রায়েল সন্তানগণ হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছি ও তাহাদের নিকটে প্রেরিতপুরুষ পাঠাইয়াছি, যখন তাহাদের নিকটে প্রেরিতপুরুষ যাহাকে তাহাদের জীবন ইচ্ছা করিত না উপস্থিত হইয়াছে তখন তাহারা কতক জনকে (কতক প্রেরিতকে) অসত্যবাদী বলিয়াছে, কতক জনকে বধ করিতেছিলে।

আয়াতঃ ৭১⇒ তাহারা মনে করিয়াছিল যে, কোন সঙ্কট হইবে না, যেহেতু তাহারা অন্ধ ও বধির, তৎপর ঈশ্বর তাহাদের প্রতি প্রত্যাগমন করিলেন, তৎপর তাহাদের অধিকাংশ অন্ধ ও বধির হইল, তাহারা যাহা ঈশ্বর তাঁহার দর্শক।

আয়াতঃ ৭২⇒ যাহারা বলিয়াছে নিশ্চয়ই সেই মরিয়মের পুত্র মসিহই ঈশ্বর, সত্যসত্যই তাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, এবং মসীহ বলিয়াছিল যে, “হে এস্রায়েল বংশীয়গণ, আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বরকে তোমরা অর্চনা কর?” নিশ্চয় যে ব্যক্তি পরমেশ্বরের সঙ্গে অংশীত্ব স্থাপন করে পরে একান্তই তাহার প্রতি পরমেশ্বর স্বর্গোদ্যান অবৈধ করেন, এবং তাহার আবাস নরকাগ্নি হয়; অত্যাচারী লোকদিগের কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৭৩⇒ যাহারা বলিয়াছে, নিশ্চয় ঈশ্বর তিনেতে ত্রিতয়, সত্যসত্যই তাহারা কাফের; এবং একমাত্র ঈশ্বর ব্যতীত কোন ঈশ্বর নাই; তাহারা যাহা বলিতেছে যদি তাহা হইতে নিবৃত্ত না হয় তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা কাগের হইয়াছে অবশ্য তাহাদিগকে দুঃখজনক শাস্তি প্রাপ্ত হইতে হইবে।

আয়াতঃ ৭৪⇒ অনন্তর তাহারা কি ঈশ্বরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতেছে না ও তাহার নিকটে ক্ষমা চাহিতেছে না? এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ৭৫⇒ মরিয়মের পুত্র মসিহ প্রেরিত বৈ নহে, তাহার পূর্ব (সময়ে) সত্যই প্রেরিতগণ শূন্য হইয়াছিল ও তাহার মাতা সাধ্বী ছিল, উভয়ে অন্ন ভক্ষন করিত, দেখ তাহাদের জন্য আমি কেমন নিদর্শন সকল ব্যক্ত করিতেছি, তৎপর দেখ কোথায় পরিবর্তিত হইতেছে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ তুমি বল, তোমরা কি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া এমন বস্তুর অর্চনা কর যে তোমাদের ক্ষতি ও হীত করিতে ক্ষমতা রাখে না? এবং ঈশ্বর, তিনিই শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৭৭⇒ তুমি বল, হে গ্রন্থাধিকারীগণ, স্বীয় ধর্ম বিষয়ে অসত্যে তোমরা আতিশয্য করিও না, এবং সত্যই যাহারা ইতিপূর্বে পথভ্রান্ত হইয়াছে ও অনেককে বিভ্রান্ত করিয়াছে ও সরল পথ হইতে বিভ্রান্ত করিয়াছে সেই সম্প্রদায়ের ইচ্ছার অনুসরণ করিও না।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এস্রায়েল বংশীয়দিগের যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহারা দাউদের ও মরিয়মের পুত্র ঈসার রসনায় ধিক্কার প্রাপ্ত, তাহারা যে অবাধ্যতাচরণ করিয়াছিল ও সীমা লঙ্ঘন করিতেছিল ইহা সেই কারনে হইয়াছে।

আয়াতঃ ৭৯⇒ তাহারা পরস্পরকে অসৎকর্ম যাহা করিতেছিল তাহা হইতে নিষেধ করিত না, তাহারা যাহা করিতেছিল নিশ্চয় তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ৮০⇒ তুমি তাহাদের অনেককে দেখিতেছ যে, তাহারা ধর্মদ্রোহীদিগের সঙ্গে বন্ধুতা করিতেছে, তাহাদের জন্য তাহাদের জীবন যাহা প্রেরণ করিয়াছে একান্তই তাহা অকল্যাণ, এই যে পরমেশ্বর তাহাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হইয়াছেন, এবং তাহারা শাস্তিতে নিত্যস্থায়ী হইবে।

আয়াতঃ ৮১⇒ যদি তাহারা ঈশ্বর ও তত্ত্ববাহক এবং তাহার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিত তবে তাহাদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিত না, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই দুর্বৃত্ত।

আয়াতঃ ৮২⇒ অবশ্য তুমি বিশ্বাসীদিগের প্রতি শত্রুতা বিষয়ে ইহুদী ও অংশীবাদীদিগকে সকল লোক অপেক্ষা (প্রবল) প্রাপ্ত হইবে, এবং যাহারা বলে নিশ্চয় আমি ঈশায়ী, অবশ্য তুমি বিশ্বাসীদিগের প্রতি বন্ধুতা বিষয়ে তাহাদিগকে অধিক নিকটবর্তী পাইবে, ইহা একারনে যে, তাহাদের অনেকে জ্ঞানবান ও বিরাগী, অপিচ তাহারা অহংকারী নহে।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং প্রেরিত পুরুষের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে যখন তাহারা তাহা শ্রবন করে তুমি দেখিতেছ তখন সত্য উপলব্ধিবশতঃ তাহাদের নেত্র অশ্রু পূরিত হয়, তাহারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, অতএব আমাদিগকে সাক্ষ্যদাতৃগণের সঙ্গে লিপি কর।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং আমাদের জন্য কি হয় যে, ঈশ্বরের প্রতি ও যে সত্য আমাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছে তৎপ্রতি আমরা বিশ্বাস করিব না ও আমাদের প্রতিপালক সাধু মণ্ডলীর সহিত আমাদিগকে প্রবিষ্ট করিবেন (ইহা) আমরা আকাঙ্ক্ষা করিব না?

আয়াতঃ ৮৫⇒ অনন্তর তাহারা যাহা বলিয়াছে তজ্জন্য পরমেশ্বর তাহাদিগকে স্বর্গোদ্যান পুরষ্কার দিবেন, যাহার ভিতর দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হইতেছে, তাহাতে তাহারা নিত্যস্থায়ী, এবং হিতকারী লোকদিগের ইহাই পুরষ্কার।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে এই তাহারাই নরকনিবাসী।

আয়াতঃ ৮৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বর যাহারা তোমাদের জন্য বৈধ করিয়াছেন তোমরা সেই পবিত্র বস্তুকে অবৈধ করিও না, এবং সীমা লঙ্ঘন করিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর সীমালঙ্ঘন কারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং পরমেশ্বর বিশুদ্ধ ও বৈধ যাহা উপজীবিকারুপে তোমাদিগকে দান করিয়াছেন তাহা ভক্ষন কর ও তোমরা যাহার প্রতি বিশ্বাসী সেই ঈশ্বর হইতে ভীত হও।

আয়াতঃ ৮৯⇒ তোমাদের অযথা শপথের জন্য পরমেশ্বর তোমাদিগকে ধরিবেন না, কিন্তু তোমরা যে সকল শপথ দৃঢ়বদ্ধ করিয়াছ তাহার নিমিত্ত তোমাদিগকে ধরিবেন, অনন্তর তোমাদের পোষ্যবর্গকে যে সাধারন বস্তু খাওয়াইয়া থাকো দশজন দরিদ্রকে তাহা ভোজন করান, কিংবা তাহাদিগকে বস্তু দান করণ, অথবা একটি গ্রীবা মুক্ত করণ তাহার প্রায়শ্চিত্ত; পরন্তু যে ব্যক্তি তাহা প্রাপ্ত না হয় পরে তিন দিবস তাহার রোজা পালন বিধি, যখন তোমরা শপথ কর তখন ইহাই তোমাদের শপথের প্রায়শ্চিত্ত, আপনাদের শপথকে রক্ষা করিও, এইরুপে পরমেশ্বর তোমাদের স্বীয় নিদর্শন সকল ব্যক্ত করেন, ভরসা যে তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ৯০⇒ হে বিশ্বাসীগণ, সুরা, দ্যূতক্রীড়া, “নবস” (দেবাধিষ্ঠানভূমি) “আজলাম” (ভাগ্যনির্ধারণের বাণাবলী) শয়তানের অপবিত্র ক্রিয়া ইহা ভিন্ন নহে, অতএব এসকল হইতে নিবৃত্ত হও, ভরসা যে তোমরা মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ৯১⇒ সুরা ও দ্যূতক্রীড়াতে তোমাদিগের মধ্যে ঈর্ষা ও শত্রুতা স্থাপন এবং তোমাদিগকে ঈশ্বর স্মরণ হইতে ও উপাসনা হইতে নিবৃত্ত রাখা শয়তান ইহা ভিন্ন ইচ্ছা করে না, অনন্তর তোমরা কি নিবৃত্ত হইবে?

আয়াতঃ ৯২⇒ এবং ঈশ্বরের অনুগত হও, প্রেরিতপুরুষের অনুগত ও ভীত হইও, অনন্তর যদি তোমরা অগ্রাহ্য কর তবে জানিও তোমার প্রেরিতের প্রতি স্পষ্ট প্রচার কারযের ভার, ইহা ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৯৩⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে যখন তাহারা ধৈর্যশীল, বিশ্বাসী ও সৎকর্মপরায়ণ হইয়াছে, অতঃপর ধৈর্যশীল, বিশ্বাসী হইয়াছে, অতঃপর ধৈর্যশীল ও সৎকর্মপরায়ণ হইয়াছে তখন তাহারা যাহা ভক্ষন করিয়াছে তাহাতে তাহাদের প্রতি দোষ নাই, ঈশ্বর হিতকারীদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ৯৪⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যাহা তোমাদের হস্ত ও ভল্লাস্ত্র হয় পরমেশ্বর এমন কোন এক শিকার দ্বারা তোমাদিগকে পরীক্ষিত করেন, তদ্দারা ঈশ্বর, কে তাঁহাকে অন্তরে ভয় করে জ্ঞাত হন; অনন্তর ইহার পরে যযে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করিবে অবশেষে তাহার জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৯৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা এহরাম বদ্ধ অবস্থায় মৃগয়ার পশু বধ করিও না, এবং ইচ্ছাপূর্বক তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাহা বধ করিল তবে সে যে চতুষ্পদকে বধ করিল তাহার বিনিময় হওয়া (উচিত) তোমাদের মধ্যে দুইজন বিচারক যে কাবাতে বলি উপহারের প্রেরক তাহারা এবিষয়ে আজ্ঞা করিবে, কিংবা দরিদ্রদিগকে ভোজন করান অথবা ইহার অনুরুপ রোজা পালন প্রায়শ্চিত্ত হইবে, তাহাতে সে স্বীয় কারযের প্রতিফল ভোগ করিবে; যাহা গত হইয়াছে ঈশ্বর তাহা ক্ষমা করিয়াছেন, যে ব্যক্তি পুনর্বার করিবে তখন ঈশ্বর তাহার প্রতিশোধ দিবেন, এবং পরমেশ্বর পরাক্রান্ত প্রতশোধদাতা।

আয়াতঃ ৯৬⇒ তোমাদের জন্য সামুদ্রিক শিকার ও তাহা ভক্ষন বৈধ হইয়াছে, তোমাদিগের নিমিত্ত ও পর্যটকদলের নিমিত্ত উহা লাভ, এবং যে পর্যন্ত তোমরা এহরামবদ্ধ থাক সে পর্যন্ত তোমাদের প্রতি আরণ্যক মৃগয়া অবৈধ হইয়াছে; এবং সেই ঈশ্বরকে ভয় কর, যাহার দিকে তোমরা সমুত্থিত হইবে।

আয়াতঃ ৯৭⇒ পরমেশ্বর লোকের দন্ডায়মান হওয়ার জন্য সম্মানিত মন্দির কাবাকে ও সম্মানিত মাস সকলকে ও বলি উপহার ও কেলাদাকে নিরুপিত করিয়াছেন, একারন যে তোমরা যেন জানিতে পার যে, ঈশ্বর যাহা কিছু স্বর্গে ও যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে তাহা জ্ঞাত আছেন, ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৯৮⇒ তোমরা জানিও যে ঈশ্বর কঠিন শাস্তিদাতা ও (জানিও) যে ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৯৯⇒ প্রেরিতপুরুষের প্রতি প্রচার কারয বৈ নহে, এবং তোমরা যাহা প্রকাশ্যে কর ও যাহা গুপ্ত রাখ ঈশ্বর জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ১০০⇒ বল হে মোহাম্মদ, শুদ্ধ ও অশুদ্ধ তুল্য নহে, যদিচ বহু অশুদ্ধ তোমাকে চমৎকৃত করে, অনন্তর হে বুদ্ধিমান লোক সকল, তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিও, ভরসা যে তাহাতে মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ১০১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, সেই সকল বিষয়ে তোমরা প্রশ্ন করিও না, যদি তাহা তোমাদের জন্য প্রকাশিত হয় তবে তোমাদিগকে দুঃখিত করিবে, এবং তোমরা যদি তাহা জিজ্ঞাসা কর যখন কোরআন অবতীর্ণ হইবে তখন তোমাদের জন্য প্রকাশ করা যাইবে, ঈশ্বর তাহা ক্ষমা করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১০২⇒ নিশ্চয় তোমাদের পূর্বেও একদল জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, তৎপর তাহারা তদ্বিষয়ে কাফের হইয়াছিল।

আয়াতঃ ১০৩⇒ পরমেশ্বর কোন বহিরা ও সায়বা ও উসিলা এবং “হাম” নির্ধারিত করেন নাই, কিন্তু ধর্মদ্রোহীগণ ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারপ করিতেছে, এবং তাহাদের অধিকাংশ লোক বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১০৪⇒ যখন তাহাদিগকে বলা হইল, “ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তাহার দিকে ও প্রেরিত পুরুষের দিকে আগমন কর,” তাহারা বলিল, “যে বিষয়ে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে প্রাপ্ত হইয়াছি তাহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট,” যদিচ তাহাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই জানিতেছে না ও কোন পথ প্রাপ্ত হইতেছে না।

আয়াতঃ ১০৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের আত্মাকে তোমরা রক্ষা করিও, তোমরা যখন সৎপথ প্রাপ্ত হও যে ব্যক্তি বিপথগামী সে তোমাদের ক্ষতি করিতে পারিবে না, ঈশ্বরের দিকে তোমাদের সকলের একযোগে প্রত্যাবর্তন; তোমরা যাহা করিতেছ অবশেষে তিনি তাহার সংবাদ দিবেন।

আয়াতঃ ১০৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা পৃথিবীতে পর্যটন কর, অপিচ তোমাদের নিকট মৃত্যুরুপ কোন বিপদ উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্যদান আছে, যে সময় তোমাদের কাহারো মৃত্যু উপস্থিত হয় অন্তিম নির্ধারণকালে তোমাদের মধ্যে দুই জন ন্যায়বান অথবা তোমাদিগের ছাড়া অপর দুইজন (সাক্ষী আবশ্যক) যদি তোমরা সন্দেহ কর তবে সেই দুই জনকে (শেষোক্ত দুই জনকে) আসরের নমাজের পর আবদ্ধ রাখিবে, পরে তাহারা ঈশ্বরের শপথ করিয়া বলিবে, “এবং যদিচ আত্মীয়ও হয় আমরা কোন মূল্য ইহার সঙ্গে (এই শপথের সঙ্গে) বিনিময় করিব না, এবং ঈশ্বরের সাক্ষ্য আমরা গোপন করিব না,  (করিলে) নিশ্চয় আমরা তখন অপরাধী হইব।“

আয়াতঃ ১০৭⇒ অনন্তর যদি এই দুইজনের পাপ করিয়া স্বত্ব সমর্থন করার বিষয় ব্যক্ত হয় তবে প্রথম দুইজন যাহাদের সম্বন্ধে  স্বত্ব নির্ধারিত হইয়াছে তাহাদিগের মধ্যে হইতে অপর দুইজন সেই দুইজনের স্থানে দন্ডায়মান হইবে, পরে “তাহারা ঈশ্বরের শপথ করিয়া বলিবে যে, অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য সেই দুই জনের সাক্ষ্য অপেক্ষা অধিক প্রামাণ্য ও আমরা সীমা লঙ্ঘন করি নাই, (করিলে) নিশ্চয় আমরা তখন একান্ত অত্যাচারী হইব।“

আয়াতঃ ১০৮⇒ ইহা, সাক্ষ্যদানে তৎপ্রনালী অনুসারে উপস্থিত হওয়ার  অথবা তাহাদের শপথ করার পর শপথ ভঙ্গ ভয়ের নিকটতর, এবং ঈশ্বরকে ভয় কর, এবং তাঁহার আজ্ঞা শ্রবন কর, এবং দুর্বৃত্ত লোকদিগকে পরমেশ্বর পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ১০৯⇒ (স্মরণ কর) যে-দিন পরমেশ্বর প্রেরিতপুরুষদিগকে একত্র করিবেন, পরে জিজ্ঞাসা করিবেন যে, “তোমাদিগকে ইহারা কি উত্তর দিয়াছে?” তাহারা বলিবে যে, “আমাদের কোন জ্ঞান নেই, নিশ্চয় তুমি গোপনীয় সকল জ্ঞাত।“

আয়াতঃ ১১০⇒ যখন পরমেশ্বর বলিবেন যে, “হে মরিয়মের পুত্র ঈসা, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার দান তুমি স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্রাত্মাযোগে সাহায্য করেছিলাম, তুমি দোলায় থাকিয়া (শৈশবকালে) ও মধ্যম বয়সে লোকের কথা বলিতেছিলে, এবং যখন তোমাকে গ্রন্থ, বিজ্ঞান ও তওরাত এবং ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছিলাম এবং যখন আমার আজ্ঞানুক্রমে মৃত্তিকা হইতে পক্ষীমূর্তি নির্মাণ করিয়াছিলে, অবশেষে তাহাতে ফুঁৎকার করিলে, পরে আমার আজ্ঞানুসারে পক্ষী হইয়াছিল ও আমার আজ্ঞানুক্রমে তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করিতেছিলে, এবং যখন তুমি আমার আজ্ঞানুসারে মৃতদিগকে বাহির করিতেছিলে, এবং যখন আমি এস্রায়েল বংশীয়দিগকে তোমা হইতে নিবৃত্ত রাখিয়াছিলাম, যখন তুমি তাহাদিগের নিকটে অলৌকিক নিদর্শন সকল উপস্থিত করিলে তাহাদের মধ্যে যাহারা কাফের ছিল তাহারা বলিল, “ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে।“

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি (তোমার) প্রচারবন্ধুদিগের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার প্রেরিতের প্রতি বিশ্বাসী হও, তাহারা বলিয়াছিল যে, “আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, এবং এবিষয়ে তুমি (হে ঈসা) সাক্ষী থাকো যে আমরা বিশ্বাসী।“

আয়াতঃ ১১২⇒ যখন প্রচারবন্ধুগণ বলিল, “হে মরিয়মের পুত্র ঈসা, তোমার প্রতিপালক আমাদের নিকটে স্বর্গ হইতে ভোজ্যপাত্র উপস্থিত করিতে পারেন কি?” সে বলিল, “যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাকো।“

আয়াতঃ ১১৩⇒ তাহারা বলিল যে, “আমরা তাহা হইতে ভোজন করিতে ইচ্ছা করি, তাহাতে আমাদের অন্তর শান্তিলাভ করিবে, এবং আমরা জানিব যে, তুমি আমাদিগকে নিশ্চয় সত্য বলিয়াছ, এবং তদ্বিষয়ে আমরা সাক্ষী হইব।

আয়াতঃ ১১৪⇒ মরিয়মের পুত্র ঈসা বলিল, “হে ঈশ্বর, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের নিকটে ভোজ্যপাত্র স্বর্গ হইতে অবতারন কর, তাহাতে আমাদের জন্য ও আমাদের পূর্ব ও আমাদের অন্ত্য (মণ্ডলীর) জন্য ঈদ (উৎসব) এবং তোমার সম্বন্ধে নিদর্শন হইবে, এবং আমাদিগকে উপজীবিকা দান কর, তুমি শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা।

আয়াতঃ ১১৫⇒ পরমেশ্বর বলিলেন, “নিশ্চয় আমি তাহা তোমাদের প্রতি অবতারনকারী, অনন্তর তোমাদের যে ব্যক্তি ধর্মদ্রোহী হইবে পরিশেষে নিশ্চয় আমি তাহাকে এমন শাস্তিদান করিব যে, কোন এক জগদ্বাসীকে সেরুপ শাস্তি প্রদান করিব না।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং যখন পরমেশ্বর বলিলেন, “হে মরিয়মের পুত্র ঈসা, তুমি কি এমন লোক সকলকে বলিয়াছ যে, ঈশ্বরকে ছাড়িয়া আমাকে ও আমার জননীকে দুই ঈশ্বর বলিয়া গ্রহণ কর?” সে বলিবে, “পবিত্রতা তোমারই, যাহা আমার পক্ষে সত্য নহে তাহা আমি বলিব আমার পক্ষে ইহা নহে, যদি আমি তাহা বলিতাম তবে নিশ্চয় “তুমি তাহা জ্ঞাত হইতে; আমার অন্তরে যাহা আছে তুমি জানিতেছ, এবং তোমার অন্তরে যাহা আছে তাহা আমি জ্ঞাত নহি; নিশ্চয় তুমি অন্তর্যামী

আয়াতঃ ১১৭⇒ “তুমি আমাকে যে আজ্ঞা করিয়াছ আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বরকে অর্চনা কর ইহা ব্যতিত আমি তাহাদিগকে বলি নাই; আমি তাহাদের মধ্যে যে পর্যন্ত ছিলাম তাহাদের সম্বন্ধে সাক্ষী ছিলাম; পরে যখন তুমি আমাকে দেহচ্যুত করিলে তখন তুমি তাহাদিগের সম্বন্ধে রক্ষক ছিলে, এবং তুমি সর্ববিষয়ে সাক্ষী।

আয়াতঃ ১১৮⇒ “যদি তুমি তাহাদিগকে শাস্তি দান কর তবে নিশ্চয় তাহারা তোমারই ভৃত্য যদি তুমি তাহাদিগকে ক্ষমা কর তবে নিশ্চয় তুমি পরাক্রান্ত ও নিপুণ।“

আয়াতঃ ১১৯⇒ ঈশ্বর বলিবেন, “এই সেই দিন যে সত্যবাদীদিগকে তাহাদের সত্য লাভমান করিবে, তাহাদের জন্যই স্বর্গোদ্যান যাহার ভিতর দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহাতে তাহারা সর্বদা থাকিবে, ঈশ্বর তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন, তাহারাও তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছে;” ইহাই মহা সফলতা।

আয়াতঃ ১২০⇒ স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব ও উভয়ের মধ্যে যাহা আছে তাহা ঈশ্বরের, এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।