সূরাঃ মরয়ম

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ (তিনি) মহান পথপ্রদর্শক জ্ঞানময় সত্য স্বরূপ।

আয়াতঃ ০২⇒ তোমার প্রতিপালকের দয়ার প্রসঙ্গ তাঁহার দাস জকরিয়ার প্রতি হয়।

আয়াতঃ ০৩+০৪⇒ যখন সে আপন প্রতিপালকের গুপ্ত আহ্বানে ডাকিল, বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমার অস্থি শিথিল হইয়াছে এবং মস্তক বৃদ্ধত্বকে উদ্দীপিত করিয়াছে, হে আমার প্রতিপালক, আমি তোমাকে প্রার্থনা করায় বঞ্চিত হই নাই।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং নিশ্চয় আমি আপন (মৃত্যুর) পরে স্বীয় আত্মীয়গণ হইতে ভীত হইতেছি ও আমার ভার্যা বন্ধ্যা, অতএব আমাকে নিজের নিকট হইতে এক উত্তরাধিকারী প্রদান কর।

আয়াতঃ ০৬⇒ সে আমার উত্তরাধিকার লাভ করিবে ও ইয়কুবের সন্তানের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হইবে, এবং হে আমার প্রতিপালক, তুমি তাহাকে মনোনীত কর”।

আয়াতঃ ০৭⇒ (ঈশ্বর বলিলেন) “হে জকরিয়া, নিশ্চয় আমি তোমাকে এক বালকের সুসংবাদ দান করিতেছি, তাহার নাম ইয়হা, ইতিপূর্বে আমি তাহার (নামানুরুপ) নামকরণ করি নাই”।

আয়াতঃ ০৮⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, কিরুপে আমার বালক হইবে? আমার ভার্যা বন্ধ্যা, এবং নিশ্চয় আমি বৃদ্ধত্বে সীমা প্রাপ্ত হইয়াছি”।

আয়াতঃ ০৯⇒ (স্বর্গীয় দূত বলিল) “তদ্রূপই, (কিন্তু) তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে, তাহা আমার সম্বন্ধে সহজ, এবং নিশ্চয় তোমাকে (ইতি) পূর্বে সৃজন করিয়াছি, তুমি কিছুই ছিলে না”।

আয়াতঃ ১০⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য কোন নিদর্শন স্থাপন কর;” তিনি বলিলেন, “তোমার জন্য নিদর্শন এই যে, তিন দিবা-রাত্রি তুমি লোকের সঙ্গে সুস্থাবস্থায় কথা কহিতে পারিবে না”।

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর সে মন্দিরের দ্বার হইতে আপন মণ্ডলীর নিকটে বাহির হইল, পরে তাহাদের প্রতি ইঙ্গিত করিল যে, “প্রাতঃসন্ধ্যা তোমরা স্তুতি করিতে থাক”।

আয়াতঃ ১২⇒ (আমি বলিলাম) “ইয়হা, তুমি সবলে গ্রন্থকে ধারন কর;” আমি তাহাকে বাল্যাবস্থায়ই বিজ্ঞতা দান করিলাম।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং আপন সন্নিধান হইতে দয়া ও পবিত্রতা দিলাম, এবং সে সহিষ্ণু ছিল।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং পিতা-মাতার প্রতি সদাচারী (ছিল) ও সে উদ্ধত অপরাধী ছিল না।

আয়াতঃ ১৫⇒ যে দিন সে জন্ম গ্রহণ করিল ও যেদিন মরিবে, এবং যে দিন জীবিত সমুত্থাপিত হইবে তৎপ্রতি আশীর্বাদ (হউক)।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং গ্রন্থমধ্যে মরয়মকে স্মরণ কর, যখন সে আপন আত্মীয়জন হইতে পূর্বভূমিতে সরিয়া পড়িয়াছিল।

আয়াতঃ ১৭⇒ অনন্তর তাহাদের নিকট সে আবরণ গ্রহণ করিয়াছিল, পরে আমি তাহার নিকটে স্বীয় আত্মা পাঠাইয়াছিলাম, অবশেষে উহা তাহার জন্য সুন্দর মনুষ্যরুপ ধারন করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৮⇒ সে বলিল, “যদি তুমি (দুষ্ট) তকি হও তবে আমি তোমা হইতে ঈশ্বরের নিকটে শরণাপন্ন হইতেছি”।

আয়াতঃ ১৯⇒ সে বলিল, “আমি তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত ব্যতীত নহি, যেহেতু তোমাকে পুন্যবান বালক প্রদান করিব”।

আয়াতঃ ২০⇒ সে বলিল, “কিরুপে আমার বালক হইবে? যেহেতু কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করে নাই, এবং আমি দুশ্চরিত্রা নহি”।

আয়াতঃ ২১⇒ সে বলিল, “তদ্রূপই, (কিন্তু) তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে, উহা আমার সম্বন্ধে সহজ, এবং তাহাকে আমি মানবমণ্ডলীর জন্য এক নিদর্শন ও আপন সন্নিধান হইতে অনুগ্রহ স্বরূপ করিব, এবং আমার কার্য নির্ধারিত আছে”।

আয়াতঃ ২২⇒ অনন্তর সে তাহাকে (ঈসাকে) গর্ভে ধারন করিল, পরে সে তৎসহ দূরতর ভূমিতে সরিয়া পড়িল।

আয়াতঃ ২৩⇒ অনন্তর খোর্মা তরুর মূলে তাহার প্রসব বেদনা উপস্থিত হইল, সে বলিল, “হায়! যদি আমি ইহার পূর্বে প্রাণত্যাগ করিতাম ও বিস্মরিত হইতাম (ভাল ছিল)”।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর সে তাহাকে তাহার নিম্ন হইতে ডাকিয়া বলিল যে, “তুমি শোক করিও না, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তোমার নিম্নে জলস্রোত সৃষ্টি করিয়াছেন।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং তুমি আপনার দিকে খোর্মাতরুর কান্ডকে কম্পিত কর, তোমার প্রতি সরস খোর্মা সকল নিক্ষেপ করিবে।

আয়াতঃ ২৬⇒ অনন্তর ভক্ষন কর ও পান কর, এবং নয়নকে শান্ত রাখ।

আয়াতঃ ২৭⇒ পরে যদি তুমি কোন এক মনুষ্যকে দেখ তবে বলিও যে, সত্যই আমি পরমেশ্বরের উদ্দেশ্যে উপবাস ব্রত সঙ্কল্প করিয়াছি, পরন্তু অদ্য কোন ব্যক্তির সঙ্গে কথা কহিব না”।

আয়াতঃ ২৮⇒ অবশেষে সে স্বজাতির নিকটে তৎসহ (অর্থাৎ) তাহাকে বহন করতঃ সমাগত হইল, তাহারা বলিল, “হে মরয়ম, সত্যসত্যই তুমি এক কুৎসিত বিষয় উপস্থিত করিলে।

আয়াতঃ ২৯⇒ হে হারুনের ভগিনী, “তোমার পিতা অসৎ লোক ছিলেন না, এবং তোমার মাতা দুশ্চরিত্রা ছিলেন না”।

আয়াতঃ ৩০⇒ অনন্তর সে তাহার প্রতি ইঙ্গিত করিল, তাহারা বলিল, “যে জন শৈশব-দোলায় স্থিতি করিতেছে তাহার সঙ্গে কেমন করিয়া কথা কহিব?”

আয়াতঃ ৩১⇒ সে (ঈসা) বলিল, “নিশ্চয় আমি ঈশ্বরের ভৃত্য, তিনি আমাকে গ্রন্থ দিয়াছেন ও আমাকে সংবাদবাহক করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যে স্থানে আমি থাকি তথায় আমাকে গৌরবান্বিত করিয়াছেন ও যে পর্যন্ত আমি জীবিত থাকিব সে পর্যন্ত ধর্মার্থ দানে ও উপাসনায় (রত থাকিতে) আমাকে আদেশ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং আপন পিতা-মাতার প্রতি সদাচারী করিয়াছেন ও আমাকে অবাধ্য হতভাগ্য করেন নাই।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করিয়াছি ও যে দিন প্রাণত্যাগ করিব ও যে দিন জীবিত সমুত্থিত হইব সেই সকল দিনে আমার প্রতি আশীর্বাদ”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ মরয়মের পুত্র ঈসার এই (বৃত্তান্ত) সত্য কথাই, যাহার প্রতি তাহারা সন্দেহ করিতেছে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ ঈশ্বরের পক্ষে (উচিত) নয় যে, তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন, পবিত্রতা তাঁহারই; যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদন করেন তখন তৎসম্বন্ধে ‘হউক’ বলেন, এতদ্ভিন্ন নহে, তাহাতেই হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তাঁহাকে অর্চনা কর, ইহাই সরল পথ”।

আয়াতঃ ৩৮⇒ অনন্তর সম্প্রদায় সকল আপনাদের মধ্যে পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে, পরে মহাদিনের সাক্ষাৎকার সম্বন্ধে যাহারা অবিশ্বাস করিয়াছে তাহাদের প্রতি আক্ষেপ।

আয়াতঃ ৩৯⇒ যেদিন আমাদের নিকটে আসিবে সেই দিন তাহারা কেমন ভাল দেখিবে শুনিবে। কিন্তু অদ্য অত্যাচারিগন স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ৪০⇒ যখন তাহাদের কার্য সম্পাদন করা যাইবে, তুমি সেই অনুশোচনার দিন সম্বন্ধে (হে মোহম্মদ) তাহাদিগকে ভয় প্রদর্শন কর, এবং তাহারা উদাসীন রহিয়াছে ও তাহারা বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ৪১⇒ নিশ্চয় আমি পৃথিবীর ও যাহারা তাহাতে আছে তাহাদের উত্তরাধিকারী হইব ও আমার প্রতি তাহারা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং গ্রন্থে (কোরআনে) তুমি এব্রাহিমকে স্মরণ কর, নিশ্চয় সে সাধু সংবাদবাহক ছিল।

আয়াতঃ ৪৩⇒ (স্মরণ কর) যখন সে স্বীয় পিতাকে বলিল, “হে আমার পিতা, যে বস্তু শ্রবন করে না ও দর্শন করে না, এবং তোমা হইতে কিছু নিবারন করিতে পারে না, তুমি তাহাকে অর্চনা করিও না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ হে আমার পিতা, নিশ্চয় আমার অনুসরণ নিকটে সেই জ্ঞান আসিয়াছে যাহা তোমার নিকটে পহুঁছে নাই, অতএব আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সরল পথ প্রদর্শন করিতেছি।

আয়াতঃ ৪৫⇒ হে আমার পিতা, তুমি শয়তানকে পূজা করিও না, নিশ্চয় শয়তান পরমেশ্বরের সম্বন্ধে অপরাধী হয়।

আয়াতঃ ৪৬⇒ হে আমার পিতা, নিশ্চয় আমি ভয় পাইতেছি যে, পরমেশ্বর হইতে বা শাস্তি (আসিয়া) তোমার প্রতি সংলগ্ন হয়, পশ্চাৎ তুমি শয়তানের বন্ধু হইবে”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ সে বলিল, “হে এব্রাহিম, তুমি কি আমার ঈশ্বর সকল হইতে বিমুখ? যদি তুমি নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্য তোমাকে চূর্ণ করিব; দীর্ঘকালের জন্য তুমি আমার সঙ্গ পরিত্যাগ কর”।

আয়াতঃ ৪৮⇒ সে বলিল, “তোমার প্রতি সলাম, সত্বর তোমার জন্য আমি আপন প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিব, নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি কৃপালু হন।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং আমি তোমাদিগ হইতে ও তোমরা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যে বস্তুকে আহ্বান করিয়া থাক তাহা হইতে দূর হইতেছি, এবং আমি আপন প্রতিপালককে আহ্বান করিব, ভরসা যে স্বীয় প্রতিপালকের আহ্বান করা হেতু আমি হতভাগ্য হইব না”।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর যখন সে তাহাদিগ হইতে ও তাহারা ঈশ্বর ভিন্ন যাহাকে অর্চনা করে তাহা হইতে দূর হইল, তখন আমি তাহাকে এসহাক ও ইয়কুব (পুত্রদ্বয়) দান করিলাম, এবং প্রত্যেককে সংবাদবাহক করিলাম।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং তাহাদিগকে আমি আপন অনুগ্রহে দান করিলাম ও তাহাদের জন্য উন্নত সরলতার রসনা সৃজন করিলাম।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং গ্রন্থে মুসাকে স্মরণ কর, নিশ্চয় সে বিশুদ্ধ ছিল ও প্রেরিত সংবাদবাহক ছিল।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং আমি তুর গিরির দক্ষিন পার্শ্ব হইতে তাহাকে ডাকিয়াছিলাম ও কথা বলার অবস্থায় তাহাকে নিকটবর্তী করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং আমি আপন অনুগ্রহে তাহার ভ্রাতা হারুনকে সংবাদবাহকরুপে তাহাকে দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং এসমেইলকে গ্রন্থে স্মরণ কর, নিশ্চয় সে অঙ্গীকারের অব্যর্থকারী ছিল ও প্রেরিত সংবাদবাহক ছিল।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং সে আপন পরিজনকে উপাসনা ও ধর্মার্থ দান করিতে আদেশ কৃত ও আপন প্রতিপালকের নিকটে মনোনীত ছিল।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং এদরিসকে গ্রন্থে স্মরণ কর, নিশ্চয় সে সত্যবাদী সংবাদবাহক ছিল।

আয়াতঃ ৫৮⇒ আমি তাহাকে উন্নত স্থানে উঠাইয়া ছিলাম।

আয়াতঃ ৫৯⇒ আদমের বংশের ও যাহাদিগকে নুহার সঙ্গে (নৌকায়) আরোহণ করাইয়াছিলাম তাহাদের এবং এব্রাহিম ও এস্রায়েলের বংশের ও যাহাদিগকে আমি পথ প্রদর্শন ও আকর্ষণ করিয়াছি, যাহাদিগের প্রতি ঈশ্বর পুরস্কার দান করিয়াছেন তাহাদের (বংশের) স্বর্গীয় বার্তাবাহকদিগের (মধ্যে) ইহারা; যখন তাহাদের প্রতি পরমেশ্বররের নিদর্শন পাঠ করা হইত তখন তাহারা রোরুদ্যমান হও ত পড়িয়া যাইত।

আয়াতঃ ৬০⇒ অনন্তর তাহাদের পরে (কু) সন্তানগণ স্থলবর্তী হইল, তাহারা উপাসনা ত্যাগ করিল, কামনা সকলের অনুসরণ করিল, পরে অবশ্যই তাহারা স্বীয় পথভ্রান্তির (শাস্তির) সাক্ষাৎ লাভ করিবে।

আয়াতঃ ৬১⇒ কিন্তু যাহারা অনুতাপ করিয়াছে ও বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা নয়, অনন্তর তাহারাই স্বর্গে প্রবেশ করিবে, এবং কিঞ্চিন্মাত্র অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ৬২⇒ সেই নিত্যবাসের স্বর্গোদ্যান সকল, যাহা পরমেশ্বর গোপনে আপন দাসের প্রতি অঙ্গীকার করিয়াছেন, নিশ্চয় তাঁহার অঙ্গীকার সমানীত (সম্পাদিত) হয়।

আয়াতঃ ৬৩⇒ আশীর্বাদ ব্যতীত তাহারা বৃথা বাক্য তথায় শ্রবন করিবে না, ও তথায় প্রাতঃসন্ধ্যা তাহাদের উপজীবিকা তাহাদের জন্য (প্রদত্ত) হইবে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ আপন দাসদিগের যে ব্যক্তি ধর্মভীরু হয় তাহাকে আমি যাহার অধিকারী করিয়া থাকি তাহা এই স্বর্গ।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং আমরা (হে মোহম্মদ) তোমার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, আমাদের সম্মুখে ও আমাদের পশ্চাতে এবং এবং ইহার মধ্যে যাহা উহা তাঁহারই, এবং তোমার প্রতিপালক বিস্মরণকারী নহেন।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তিনি স্বর্গ ও পৃথিবীর ও এই উভয়ের মধ্যে যাহা আছে তাহার প্রতিপালক, অতএব তাঁহাকে অর্চনা কর ও তাঁহার অর্চনায় ধৈর্য ধারন কর, তুমি কি তাঁহার তুল্য নাম জান?

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং লোকে বলে, “যখন আমরা মরিয়া যাইব একান্তই কি জীবিত বহিষ্কৃত হইব?”

আয়াতঃ ৬৮⇒ মনুষ্য কি স্মরণ করে না যে, আমি ইতিপূর্বে তাহাকে সৃষ্টি করিয়াছি, এবং সে কিছুই ছিল না?

আয়াতঃ ৬৯⇒ অনন্তর তোমার প্রতিপালকের শপথ, একান্তই আমি শয়তানের সঙ্গে তাহাদিগকে সমুত্থাপণ করিব, তৎপর অবশ্য তাহাদিগকে নরকের পার্শ্বে জানুপতিতরুপে উপস্থিত করিব।

আয়াতঃ ৭০⇒ তৎপর প্রত্যেক মণ্ডলীর মধ্য হইতে যাহারা ঈশ্বরের প্রতি অবাধ্যতারুপে দুরন্ত তাহাদিগকে অবশ্য টানিয়া লইব।

আয়াতঃ ৭১⇒ অতঃপর অবশ্য আমি তাহাদিগের সম্বন্ধে উত্তম জ্ঞাত যে, তাহারা তন্মধ্যে প্রবেশের অধিক অধিক উপযুক্ত।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং তন্মধ্যে গমনকারী ব্যতীত তোমাদের (কেহই) নহে, তোমার প্রতিপালকের সম্বন্ধে (এই অঙ্গীকার) এক দৃঢ় কার্য।

আয়াতঃ ৭৩⇒ তৎপর যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছে আমি তাহাদিগকে উদ্ধার করিব, এবং তন্মধ্যে জানুপাতিতরুপে অত্যাচারীদিগকে বিসর্জন করিব।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে আমার উজ্জ্বল নিদর্শন সকল পঠিত হয় তখন ধর্মদ্রোহীরা বিশ্বাসীদিগকে বলে, “এই দুই দলের মধ্যে পদানুসারে কে শ্রেষ্ঠ? এবং পরিষদ অনুসারে কে অতি উত্তম”।

আয়াতঃ ৭৫⇒ তাহাদের পূর্বে দলের কত লোককে আমি বিনাশ করিয়াছি, তাহারা গৃহসামগ্রী অনুসারে ও দৃশ্যে অত্যুত্তম ছিল।

আয়াতঃ ৭৬⇒ তুমি বলিও, “যাহারা পথভ্রান্তিতে আছে, যাহা অঙ্গীকার করা যাইতেছে তাহা বা শাস্তি কিংবা কেয়ামত তাহাদের দর্শন হওয়া পর্যন্ত হয় তো পরমেশ্বর তাহাদিগকে অধিকরুপে অধিক দিবেন, অনন্তর তাহারা জানিতে পাইবে সে কে যে পদানুসারে নিকৃষ্টতর ও সৈন্যবল অনুসারে দুর্বলতর?

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং যাহারা উপদেশে উপদিষ্ট হইয়াছে ঈশ্বর তাহাদিগকে অধিক দান করেন, এবং তোমার প্রতিপালকের নিকটে পুরস্কারানুসারে অবিনশ্বর সাধুতা শ্রেয়ঃ, এবং পরাবৃত্তি অনুসারে শ্রেয়ঃ।

আয়াতঃ ৭৮⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি আমার নিদর্শন সকল সম্বন্ধে অধর্ম করিয়াছে তাহাকে কি তুমি দেখিয়াছ? সে বলিয়াছে, “অবশ্য ধন ও সন্তান আমাকে প্রদত্ত হইবে”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ সে কি গুপ্ত (তত্ত্ব) অবগত হইয়াছে, অথবা ঈশ্বরের নিকটে কোন অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছে?

আয়াতঃ ৮০⇒ এরুপ নয়, সে যাহা বলিতেছে অবশ্য তাহা আমি লিখিব, এবং তাহাকে অধিকরুপে শাস্তি দান করিব।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং সে যাহা বলে আমি তাহাকে তাহার উত্তরাধিকারী করিব, (পরে) আমার নিকট সে একাকী উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া (অন্য) উপাস্য গ্রহণ করিয়াছে, যেন উহা তাহাদের জন্য গৌরব হয়।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এরুপ নয়, অবশ্য তাহারা তাহাদের অর্চনায় বিরুদ্ধাচরণ করিবে, এবং তাহাদের সম্বন্ধে বিরোধী হইবে।

আয়াতঃ ৮৪⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, আমি ধর্মদ্রোহীদিগের প্রতি শয়তানদিগকে প্রেরণ করিয়া থাকি, তাহারা তাহাদিগকে চঞ্চলতায় চঞ্চলিত করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৮৫⇒ অতএব তাহাদের সম্বন্ধে ব্যস্ত হইও না, আমি তাহাদের নিমিত্ত (দিন) গণনায় গণনা করি, এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৮৬⇒ সেই দিন ধর্মভীরু লোকদিগকে পরমেশ্বরের দিকে অতিথিরুপে সমুত্থাপন করিব।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং পাপীদিগকে তৃষ্ণার্তরুপে নরকের দিকে তাড়াইয়া লইয়া যাইব।

আয়াতঃ ৮৮⇒ ঈশ্বরের নিকটে যে ব্যক্তি অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছে সে ভিন্ন (পাপ হইতে) মুক্তির অনুরোধ করিতে সমর্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং তাহারা বলে যে, পরমেশ্বর পুত্র গ্রহণ করিয়াছেন, সত্যসত্যই তোমরা এক কঠিন বিষয় আনয়ন করিলে।

আয়াতঃ ৯০⇒ ইহা হইতে স্বর্গ ও পৃথিবী বিদীর্ণ হইবার ও পর্বত সকল খন্ড খন্ড হইয়া পড়িবার উপক্রম।

আয়াতঃ ৯১⇒ যেহেতু তাহারা ঈশ্বরের জন্য পুত্র সমর্থন করিয়াছে।

আয়াতঃ ৯২⇒ ঈশ্বরের নিমিত্ত উচিত নয় যে, তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন।

আয়াতঃ ৯৩⇒ ঈশ্বরের নিকটে দাস হইয়া আগমন করে ভিন্ন স্বর্গে ও মর্তে কেহই নাই।

আয়াতঃ ৯৪⇒ সত্যসত্যই তিনি তাহাদিগকে আয়ত্ত করিয়াছেন ও তাহাদিগকে গণনায় গণিয়াছেন।

আয়াতঃ ৯৫⇒ এবং কেয়ামতের দিনে তাহাদের প্রত্যেকে একাকী তাঁহার নিকটে উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ ৯৬⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, অবশ্য তাহাদিগকে পরমেশ্বর প্রেম করিবেন।

আয়াতঃ ৯৭⇒ পরন্তু, তোমার রসনায় ইহাকে (কোরআনকে) সহজ করিয়াছি, এতদ্ভিন্ন নহে, যেন তুমি তদ্দারা ধর্মভীরু লোকদিগকে সুসংবাদ দান কর ও কলহকারী দলকে ভয় প্রদর্শন কর।

আয়াতঃ ৯৮⇒ এবং আমি তাহাদের পূর্বে সম্প্রদায় সকলের কত লোককে বিনাশ করিয়াছি, তুমি কি তাহাদের কাহাকেও জানিতেছ ও তাহাদের সম্বন্ধে কোন ধ্বনি শুনিতে পাইতেছ।