সূরাঃ মজ্বাদলা

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ যে তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) আপন স্বামী সম্বন্ধে বাদানুবাদ করিতেছে ও ঈশ্বরের নিকটে অভিযোগ করিতেছে সত্যই পরমেশ্বর সেই নারীর কথা শ্রবণ করিয়াছেন, এবং পরমেশ্বর তোমাদের দুইয়ের কথোপকথন শুনিতেছিলেন, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ০২⇒ তোমাদের মধ্যে যাহারা স্বীয় ভার্যাদিগকে (মাতা বলিয়া) পরিত্যাগ করে, তাহাদের মাতা তাহারা হয় না, তাহাদের মাতা যাহারা তাহাদিগকে প্রসব করিয়াছে তাহারা ভিন্ন নহে, এবং নিশ্চয় তাহারা মিথ্যা ও অবৈধ কথা বলে, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল মার্জনাকারী।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং যাহারা আপন ভার্যাগণকে বর্জন করে, তৎপর যাহা বলিয়াছে তৎপ্রতি (তাহা ভঙ্গ করিতে) ফিরিয়া আইসে, তবে উভয়ের সংস্পর্শ হওয়ার পূর্বে (একটি দাসের) গ্রীবামুক্তি (আবশ্যক), এই (বিধি), এতদ্দারা তোমাদিগকে উপদেশ দেওয়া যাইতেছে, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০৪⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি (দাস) প্রাপ্ত না হয়, পরে উভয়ের সংস্পর্শ হওয়ার পূর্বে ক্রমান্বয়ে দুই মাস তাহার রোজা পালন (বিধি) অবশেষে যে ব্যক্তি অক্ষম হয় পরে সে ষাট জন দরিদ্রকে ভোজ্য দান করিবে, ইহা এজন্য যে, ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর, এবং ইহাই ঈশ্বরের সীমা, এবং কাফেরদিগের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ নিশ্চয় যাহারা পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে বিরুদ্ধাচরণ করে, তাহাদের পূর্ববর্তীগণ যেমন লাঞ্ছিত হইয়াছে তদ্রুপ তাহারা লাঞ্ছিত হয়, এবং সত্যই আমি স্পষ্ট নিদর্শনাবলী অবতারণ করিয়াছি, এবং ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য দুর্গতির শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ০৬⇒ যে দিবস পরমেশ্বর তাহাদিগকে এক যোগে সমুত্থান করিবেন, তখন তাহারা যাহা করিয়াছে তিনি তাহাদিগকে জানাইবেন, পরমেশ্বর তাহা মনে রাখিয়াছেন ও তাহারা তাহা ভুলিয়াছে, এবং ঈশ্বর সর্ববিষয়ে সাক্ষী।

আয়াতঃ ০৭⇒ তুমি কি (হে মোহম্মদ) দেখ নাই যে, ঈশ্বর স্বর্গেতে যে কিছু আছে ও পৃথিবীতে যে কিছু আছে জানিতেছেন, (এমন) তিন জনের পরস্পর গুপ্ত কথা হয় না যে, তিনি তাহাদের চতুর্থ নহেন, এবং (এমন) পাঁচ জন নহে যে, তিনি তাহাদের ষষ্ঠ নহেন, এবং যে স্থানে হউক এমন এতদপেক্ষা ন্যূন ও অধিকাংশ লোক নয় যে, তিনি তাহাদের সঙ্গে নহেন, তৎপর তাহারা যাহা করিয়াছে কেয়ামতের দিনে তিনি তাহাদিগকে তাহা জানাইবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।

আয়াতঃ ০৮⇒ পরস্পর গুপ্ত কথনে যাহারা নিষিদ্ধ হইয়াছে তাহাদের প্রতি কি তুমি দৃষ্টি কর নাই? তাহারা যে বিষয়ে নিষিদ্ধ হইয়াছে, তৎপর যাহার প্রতি পুনঃপ্রবৃত্ত হয়, এবং পাপ ও শত্রুতা এবং প্রেরিতপুরুষের প্রতি অবাধ্যতাচরণ বিষয়ে গোপনে কথোপকথন করে, যখন তোমার নিকটে উপস্থিত হয়, ঈশ্বর যে (বাক্য) দ্বারা তোমাকে আশীর্বাদ করেন নাই তৎসহযোগে তোমাকে আশীর্বাদ করিয়া থাকে, এবং আপন মনেতে বলে, যাহা আমরা বলিয়া থাকি তজ্জন্য কেন ঈশ্বর আমাদিগকে শাস্তি দান করেন না? তাহাদের জন্য নরক লোক যথেষ্ট, তাহারা তাহাতে প্রবেশ করিবে, অনন্তর (উহা) বিগর্হিত স্থান।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা পরস্পর গোপনে কথা ব্ল, তখন পাপ ও শত্রুতা এবং প্রেরিতপুরুষের প্রতি অবাধ্যতাচরণ বিষয়ে গুপ্ত কথোপকথন করিও না, এবং শুভাচরণ ও বৈরাগ্যবিষয়ে গোপনে প্রসঙ্গ করিও ও যাঁহার দিকে তোমরা সমুত্থিত হইবে সেই ঈশ্বরকে ভয় করিও।

আয়াতঃ ১০⇒ বিশ্বাসীদিগকে বিষন্ন করিতে শয়তানের গুপ্ত কথোপকথন এতদ্ভিন্ন নহে, ঈশ্বরের আদেশ ব্যতীত সে তাহাদের কিছুই অনিষ্টকারক নহে, অতএব বিশ্বাসীগণ যেন ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ ১১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমাদিগকে বলা হয় যে, সভাতে (স্থান) প্রমুক্ত রাখিও, তখন স্থান প্রমুক্ত করিও, ঈশ্বর তোমাদের জন্য প্রমুক্তি বিধান করিবেন, এবং যখন বলা হয় তোমরা উঠ, তখন উঠিও; তোমাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাসী ও যাহাদিগকে পদানুক্রমে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদিগকে পরমেশ্বর সমুন্নত করিবেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার সজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১২⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমরা প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে গোপনে কথোপকথন কর তখন স্বীয় গুপ্ত কথনের পূর্বে কিছু খয়রাত (ধর্মার্থ দান) উপস্থিত করিও, ইহা তোমাদের জন্য মঙ্গল ও পরম পুণ্য, অনন্তর যদি (দানের সামগ্রী) প্রাপ্ত না হও তবে নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ১৩⇒ তোমরা কি স্বীয় গুপ্ত কথনের পূর্বে খয়রাত উপস্থিত করিতে ভয় পাইলে? অনন্তর যখন কর নাই, এবং ঈশ্বর তোমাদের প্রতি প্রত্যাবৃত্ত হইয়াছেন তখন উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও জকাত দান কর, পরমেশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত হও, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ১৪⇒ এক দলের সঙ্গে যাহারা প্রণয় স্থাপন করিয়াছিল, ঈশ্বর যাহাদের প্রতি ক্রোধ করিয়াছিলেন, তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগের প্রতি কি দৃষ্টি কর নাই? তাহারা তোমাদেরও নহে এবং তাহাদেরও নহে, এবং তাহারা অসত্যে শপথ করে, অথচ তাহারা বুঝিতেছে।

আয়াতঃ ১৫⇒ পরমেশ্বর তাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছেন, নিশ্চয় তাহারা যাহা করিতেছে তাহা অশুভ।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহারা আপনাদের শপথকে ঢালরুপে গ্রহণ করিয়াছে, পরে ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) অবরুদ্ধ রাখিয়াছে, অবশেষে তাহাদের জন্য লাঞ্ছনাজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহাদিগের ধন-সম্পত্তি ও তাহাদিগের সন্তান-সন্ততি ঈশ্বরের (শাস্তির) কিছুই তাহাদিগ হইতে নিবারন করিবে না, ইহারাই নরকানলনিবাসী, তথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে।

আয়াতঃ ১৮⇒ যে দিবস পরমেশ্বর তাহাদিগকে যুগপৎ সমুত্থাপন করিবেন, তখন তাহারা তাঁহার সম্বন্ধে শপথ করিবে যেমন তোমাদের প্রতি শপথ করিয়া থাকে এবং মনে করে যে, তাহারা কোন বিষয়ের উপর স্থিতি করিতেছে, জানিও নিশ্চয়ই তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ১৯⇒ তাহাদের উপর শয়তান বিজয় লাভ করিয়াছে, অনন্তর ঈশ্বর-স্মরণে তাহাদিগকে বিস্মৃত করিয়া তুলিয়াছে, ইহারাই শয়তানের লোক, জানিও নিশ্চয় সেই সকল শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আয়াতঃ ২০⇒ নিশ্চয় যাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া থাকে, ইহারাই অতিশয় লাঞ্ছনার মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ২১⇒ পরমেশ্বর লিখিয়াছেন যে, অবশ্য আমি বিজয়ী হইব ও আমার প্রেরিতপুরুষগণ (বিজয়ী হইবে) নিশ্চয় ঈশ্বর শক্তিশালী পরাক্রান্ত। আয়াতঃ ২২⇒ তুমি (এমন) কোন সম্প্রদায়কে পাইবে না যে, ঈশ্বর ও পরলোকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া থাকে যদিচ তাহারা তাহাদের পিতা ও তাহাদের সন্তান এবং তাহাদের কুটুম্ব হয় তাহাদিগের প্রতি আবার বন্ধুতা স্থাপন করে, ইহারাই যে তিনি তাহাদের অন্তরে ধর্ম লিখিয়াছেন, এবং আপনার প্রান দ্বারা তাহাদিগকে সাহায্য দান করিয়াছেন, এবং যাহার ভিতর দিয়া জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয় তিনি তাহাদিগকে সেই স্বর্গদ্যানে লইয়া যাইবেন, তথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে, তাহাদের প্রতি ঈশ্বর সন্তুষ্ট হইয়াছেন ও তাহারা তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছে ইহারাই ঈশ্বরের সম্প্রদায়, জানিও নিশ্চয় ঈশ্বরের লোক তাহারা হয়, তাহারা মুক্ত হইবে।