সূরাঃ বনী এস্রায়েল

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ তিনি পবিত্র যিনি কোন রজনীতে স্বীয় দাসকে মসজেদোল হরাম হইতে সেই দূরতর মসজেদ পর্যন্ত লইয়া গিয়াছেন, আপন নিদর্শন সকলের (কিছু কিছু) তাহাকে দেখাইতে যাহার চতুষ্পার্শ্বকে আমি সৌভাগ্যযুক্ত করিয়াছি, নিশ্চয় তিনি শ্রোতা দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ০২⇒ এবং আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি ও তাহাকে বনি-এস্রায়েলের জন্য পথপ্রদর্শক করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) যে, তোমরা আমাকে ছাড়িয়া কোন কার্য-সম্পাদক গ্রহণ করিও না।

আয়াতঃ ০৩⇒ যাহাকে আমি নুহার সঙ্গে (নৌকায়) উঠাইয়াছিলাম, তোমরা যে তাহার সন্তান, স্মরণ কর, নিশ্চয় সে কৃতজ্ঞ দাস ছিল।

আয়াতঃ ০৪⇒ গ্রন্থে আমি এস্রায়েল সন্ততিগণের প্রতি আদেশ করিয়াছি যে, অবশ্য তোমরা পৃথিবীতে দুই বার উৎপাত করিবে, এবং অবশ্য তোমরা মহাদুর্দমরুপে দুর্দান্ত হইবে।

আয়াতঃ ০৫⇒ অনন্তর যখন দুইয়ের প্রথম অঙ্গীকার উপস্থিত হইবে, তখন আমি বিষ্ম সংগ্রামকারী স্বীয় দাসগণকে তোমাদের প্রতি প্রেরণ করিব, পড়ে তাহারা (তোমাদের) আলয়ের মধ্যে আসিবে, এবং (ঈশ্বরের) অঙ্গীকার সম্পন্ন হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৬⇒ তৎপর আমি তাহাদের সম্বন্ধে তোমাদিগের জন্য পরাক্রম প্রত্যর্পণ করিব, এবং বহু সম্পত্তি ও সন্তান দ্বারা তোমাদিগকে সাহায্য করিব ও তোমাদিগকে লোক বৃদ্ধির অনুসারে বৃদ্ধিশালী করিব।

আয়াতঃ ০৭⇒ যদি তোমরা সদাচরণ কর স্বীয় জীবন সম্বন্ধে সদাচরণ করিবে, এবং যদি দুষ্কর্ম কর তবে তাহার নিমিত্ত হইবে; অনন্তর যখন অপর অঙ্গীকার উপস্থিত হইবে, তাহাতে তাহারা তোমাদের মুখমণ্ডলকে বিষন্ন করিবে, এবং তাহাতে তাহারা মন্দিরে প্রবেশ করিবে, যেরুপ প্রথম বার উহারা তন্মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়াছিল, এবং তাহাতে যাহা বিনিপাত করিবে।

আয়াতঃ ০৮⇒ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদিগকে দয়া করিতে সত্বর, এবং যদি তোমরা (অবাধ্যতায়) পুনঃপ্রবৃত্ত হও, আমিও (শাস্তিদানে) পুনঃপ্রবৃত্ত হইব, এবং ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য আমি নরকলোককে বন্দীশালা করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৯⇒ নিশ্চয় এই কোরআন যাহা অতীব সরল, সেই (প্রকৃতির) পথ প্রদর্শন করে, এবং যাহারা সদাচরণ করে সেই বিশ্বাসীদিগকে সুসংবাদ দান করিয়া থাকে যে, তাহাদের জন্য মহা পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং নিশ্চয় যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাহাদের জন্য আমি দুঃখকর শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং মনুষ্য অকল্যাণ বিষয়ে প্রার্থনা করে (যেমন) কল্যাণ বিষয়ে তাহার প্রার্থনা হয়, এবং মনুষ্য ব্যস্ত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং আমি রাত্রি ও দিবাকে দুই নিদর্শন করিয়াছি, পরন্তু নৈশিক নিদর্শনকে প্রচ্ছন্ন রাখিয়াছি ও আহ্নিক নিদর্শনকে আলোকিত করিয়াছি যে, তাহাতে তোমরা স্বীয় প্রতিপালক হইতে উন্নতি অন্বেষণ করিবে, এবং তাহাতে বৎসর সকলের গণনা ও হিসাব জ্ঞাত হইবে, এবং আমি সকল বিষয় বিভিন্নরুপে ব্যক্ত করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং সকল মনুষ্যের কন্ঠে তাহার পক্ষী (কার্যলিপি) সংলগ্ন করিয়াছি, এবং পুনরুত্থানের দিনে আমি তাহার জন্য এক পুস্তক বাহির করিব, সে তাহা উন্মুক্ত দেখিবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ (বলিব) তুমি আপন পুস্তক পাঠ কর, অদ্য তোমার জীবনই তোমার সম্বন্ধে যথেষ্ট হিসাবকারক।

আয়াতঃ ১৫⇒ যে ব্যক্তি পথ প্রাপ্ত হইয়াছে অনন্তর সে আপন জীবনের জন্য পথ পাইতেছে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যে ব্যক্তি পথভ্রান্ত হইয়াছে অনন্তর সে তৎপ্রতি পথভ্রান্ত হইতেছে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং কোন ভারবাহী অন্যের ভার বহন করে না; এবং যে পর্যন্ত কোন প্রেরিতপুরুষকে প্রেরণ না করি সে পর্যন্ত আমি শাস্তিদাতা নহি।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং যখন আমি কোন গ্রামকে বিনাশ করিতে ইচ্ছা করি (প্রথমতঃ) তত্রত্য উদ্ধত লোকদিগকে (প্রেরিতপুরুষের অনুগত হইতে) আজ্ঞা করিয়া থাকি, তৎপর সেই স্থানে তাহারা বিরুদ্ধাচরণ করে, পরে তথায় (শাস্তির) বাক্য স্থিরীকৃত হয়, অবশেষে তাহাকে উচ্ছেদনরুপে উচ্ছেদ করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং আমি নুহার পরে বহু শতাব্দী পর্যন্ত কত সংহার করিয়াছি, তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) স্বীয় দাসদিগের অপরাধ সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞানী ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ১৮⇒ যে ব্যক্তি সাংসারিক সুখ কামনা করে, আমি যাহাকে ইচ্ছা করি তাহাতে (সংসারে) যত ইচ্ছা তাহা তাহাকে সত্বর দান করি, তৎপর তাহার জন্য নরক নিরূপণ করিয়া থাকি, তথায় সে দুর্দশাপন্ন নিস্তারিতভাবে উপস্থিত হয়।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যে ব্যক্তি পরলোক কামনা করে, এবং তাহার জন্য তাহার (অনুরুপ) চেষ্টায় চেষ্টা করে সে বিশ্বাসী, অনন্তর ইহারাই যে ইহাদের যত্ন সম্মানিত হয়।

আয়াতঃ ২০⇒ সেই সকল ও সেই সকল উভয় (দলকে) আমি তোমার প্রতিপালকের দান অবরুদ্ধ হয় না।

আয়াতঃ ২১⇒ দেখ, কেমন আমি তাহাদের (দুই দলের) একের উপর অন্যকে উন্নতি দান করিয়াছি নিশ্চয় পরলোক শ্রেনী অনুসারে শ্রেষ্ঠ ও উন্নতি বিধানানুসারে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ২২⇒ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য উপাস্য নিরূপণ করিও না, তবে লাঞ্ছিত ও হীনাবস্থাসম্পন্নরুপে বসিবে।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং তোমার প্রতিপালক আদেশ করিয়াছেন যে, তোমরা তাঁহাকে ভিন্ন পূজা করিবে না, এবং পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করিবে, যদি তাহাদের একজন বা উভয়েই তোমার নিকটে বৃদ্ধত্বে উপনীত হয় তবে তুমি তাহাদের প্রতি ধিক বলিও না ও তাহাদিগকে ধমক দিও না, এবং তাহাদিগকে সম্মানিত কথা বলিও।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তাহাদের জন্য (তাহাদিগের) দয়ার নিমিত্ত স্বীয় বিনয়ের বাহুকে নত করিও, এবং বলিও, হে আমার প্রতিপালক, তাহারা যেমন আমাকে শৈশবে প্রতিপালন করিয়াছে তদ্রূপ তুমি তাহাদিগকে দয়া কর।

আয়াতঃ ২৫⇒ তোমাদের অন্তরে যাহা আছে, তোমাদের প্রতিপালক তাহা উত্তম জ্ঞাত, যদি তোমরা সাধু হও, তবে নিশ্চয় তিনি প্রত্যাগমনকারীদিগের জন্য ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং তুমি স্বগণকে ও দরিদ্রকে এবং পথিককে তাহার স্বত্ব প্রদান করিও, এবং অপব্যয় করিও না।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় অপব্যয়িগণ শয়তানের ভ্রাতা, এবং শয়তান স্বীয় প্রতিপালকের সম্বন্ধে বিরোধী।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং যদি তুমি আপন প্রতিপালক হইতে সেই দয়া (জীবিকা) যাহা তুমি আশা করিয়াছ তাহা পাইবার প্রতীক্ষায় তাহাদিগ হইতে মুখ ফিরাইয়া লও, তবে তাহাদিগকে কোমল কথা বলিও।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং তুমি স্বীয় হস্তকে স্বীয় গলদেশের দিকে বদ্ধ রাখিও না ও তাহাকে সম্পূর্ণ প্রমুক্তিতে প্রমুক্ত করিও না, তবে নিন্দিত ও অবসন্ন হইয়া বসিবে।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক যাহার জন্য ইচ্ছা করেন উপজীবিকা বিস্তৃত ও সঙ্কুচিত করিয়া থাকেন, নিশ্চয় তিনি স্বীয় দাসগণের সম্বন্ধে জ্ঞানী ও দ্রষ্টা।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং তোমরা আপন সন্তানদিগকে দরিদ্রতার ভয়ে বধ করিও না, আমি তাহাদিগকে ও তোমাদিগকে জীবিকা দান করিয়া থাকি, নিশ্চয় তাহাদিগকে হত্যা করা গুরুতর পাপ।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং ব্যভিচারের নিকটবর্তী হইও না, নিশ্চয় তাহা দুষ্কর্ম ও কুপথ হয়।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং ঈশ্বর যে ব্যক্তিকে অবৈধ করিয়াছেন তোমরা ন্যায়ানুসারে ব্যতীত সেই ব্যক্তিকে হত্যা করিও না, যে ব্যক্তি অত্যাচারগ্রস্থরুপে হত হইয়াছে; পরে নিশ্চয় আমি তাহার স্বগণকে ক্ষমতা দান করিয়াছি, অনন্তর হত্যা সম্বন্ধে অতিরিক্ত আচরণ করিও না, নিশ্চয় সে আনুকূল্য প্রাপ্ত হয়।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সেই উপায় যাহা সৎ, তদ্বতীত তোমরা অনাথ বালকের সম্পত্তির নিকটে সে (বয়ঃক্রমের) পূর্ণতায় পহুঁছা পর্যন্ত যাইও না, এবং তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করিও, নিশ্চয় অঙ্গীকার জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং তোমরা যখন পরিমাণ কর পরিমাণ যন্ত্রকে পূর্ণ করিও, সরল তুলদন্ডে ওজন করিও, ইহা উত্তম এবং পরিমাণ সম্বন্ধে অত্যুত্তম।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই তুমি তাহার অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় চক্ষু ও কর্ণ এবং অন্তঃকরণ এ সকলের প্রত্যেকের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং তুমি পৃথিবীতে আমাদের ভাবে চলিও না, নিশ্চয় তুমি পৃথিবী ভেদ করিতে পারিবে না, এবং পর্বত সকলের দৈর্ঘ্য পহুঁছিবে না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ সমুদায় ইহা পাপ, তোমার প্রতিপালকের নিকটে (হে মোহম্মদ) ঘৃণিত পাপ হয়।

আয়াতঃ ৩৯⇒ তোমার প্রতিপালক তোমার প্রতি বিজ্ঞানানুসারে যাহা প্রত্যাদেশ করিয়াছেন ইহা তাহা, তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য উপাস্য নির্ধারণ করিও না, তবে নিস্তারিত ও তিরস্কৃত হইয়া নরকে নিক্ষিপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৪০⇒ অতঃপর কি তোমাদের প্রতিপালক তোমাদিগকে পুত্র মনোনীত করিয়াছেন? এবং দেবতাগণ হইতে কন্যা সকল গ্রহণ করিয়াছেন? নিশ্চয় তোমরা গুরুতর কথা বলিয়া থাক।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি এই কোরআনে পুনবর্ণন করিয়াছি যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে, কিন্তু তাহাদের সম্বন্ধে অশ্রদ্ধা ভিন্ন বৃদ্ধি হয় নাই।

আয়াতঃ ৪২⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) তাহারা যেরুপ বলিয়া থাকে যদি তাঁহার সঙ্গে (অন্য) বহু উপাস্য থাকিত তবে অবশ্য তখন তাহারা সিংহাসনাধিপতির উদ্দেশ্যে পথ অন্বেষণ করিত।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তাহারা যাহা বলে তাহা অপেক্ষা তিনি পবিত্র ও উন্নত, (তাঁহার) মহতী উন্নতি।

আয়াতঃ ৪৪⇒ সপ্ত স্বর্গ ও পৃথিবী এবং সেই সকলের মধ্যে যাহারা আছে তাহারা তাঁহাকে স্তুতি করে, এবং তাঁহার প্রশংসার স্তব করে না এমন কোন বস্তু নাই, কিন্তু তোমরা তাহাদের স্তুতি বুঝিতেছ না, নিশ্চয় তিনি গম্ভীর ক্ষমাশীল।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং যে সময় তুমি কোরআন পাঠ কর, তখন আমি তোমার  পরলোকে অবিশ্বাসীদিগের মধ্যে গুপ্ত আবরণ স্থাপন করি।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং তাহাদের অন্তরে আচ্ছাদন রাখি যেন তাহারা তাহা হৃদয়নজ্ঞম না করে ও তাহাদের কর্ণে ভার (চাপিয়া দেই) এবং যখন তুমি কোরআনে একাকীমাত্র তোমার প্রতিপালককে স্মরণ কর, তখন তাহারা পলায়নের ভাবে আপন পশ্চাদ্ভাগে মুখ ফিরাইয়া লয়।

আয়াতঃ ৪৭⇒ যখন তাহারা তোমার প্রতি কর্ণ স্থাপন করে, এবং যখন তাহারা মন্ত্রণা করে, যখন অত্যাচারিগণ বলিয়া থাকে যে, তোমরা ঐন্দ্রজালিক পুরুষের অনুসরণ বৈ করিতেছ না, যে ভাবে তাহারা শ্রবন করে তাহা আমি উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ৪৮⇒ দেখ, তোমার জন্য তাহারা কেমন সাদৃশ্য সকল ব্যক্ত করিয়াছে, অনন্তর তাহারা পথভ্রান্ত হইয়াছে অবশেষে পথ প্রাপ্ত হইতে পারিবে না।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং তাহারা বলে, “কি যখন আমরা গলিত ও অস্থিপুঞ্জ হইয়া থাকিব তখন কি নূতন সৃষ্টিতে সমুত্থাপিত হইব?”

আয়াতঃ ৫০+৫১⇒ তুমি বল, তোমরা প্রস্তর বা লৌহ হইয়া যাও, অথবা তোমাদের অন্তর যাহা গুরুতর বোধ করে সেই সৃষ্টি হইয়া যাও। তৎপর অবশ্য তাহারা ব্লিবে,”কে আমাদিগকে পুনরানয়ন করিবে?” তুমি বলিও, যিনি তোমাদিগকে প্রথম সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি, অনন্তর তাহারা তোমার দিকে মস্তক সঞ্চালন করিবে ও বলিবে যে, “কবে তাহা হইবে?” বলিও সম্ভব যে, শীঘ্র ঘটিবে।

আয়াতঃ ৫২⇒ যে দিবস তিনি তোমাদিগকে আহ্বান করিবেন তখন তোমরা তাঁহার প্রশংসাবাদের সহিত (তাহা) গ্রাহ্য করিবে, এবং মনে করিবে যে, কিঞ্চিৎকাল ভিন্ন বিলম্ব কর নাই।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং তুমি আমার দাসদিগকে বল, যাহা অত্যুত্তম তাহা যেন তাহারা বলে, নিশ্চয় শয়তান তাহাদের মধ্যে বিরোধ উপস্থিত করিয়া থাকে, একান্তই শয়তান মনুষ্যের জন্য স্পষ্ট শত্রু।

আয়াতঃ ৫৪⇒ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদিগকে উত্তম জ্ঞাত, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদের প্রতি দয়া করিবেন, অথবা যদি তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদিগকে শাস্তি দিবেন, এবং আমি তোমাকে (হে মোহম্মদ) তাহাদের প্রতি কার্য-সম্পাদকরুপে প্রেরণ করি নাই।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং তোমার প্রতিপালক যে কেহ স্বর্গে ও মর্তে আছে তাহাকে উত্তম জ্ঞাত, এবং সত্যসত্যই আমি কতক ধর্মপ্রবর্তককে কতক (ধর্মপ্রবর্তকের) উপর শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছি, এবং দাউদকে জবুর গ্রন্থ দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫৬⇒ তুমি বল, তাঁহাকে ব্যতীত ব্যতীত যাহাদিগকে তোমরা (ঈশ্বর) মনে করিয়া থাক, আহ্বান কর, অবশেষে তাহারা তোমাদিগ হইতে দুঃখ উন্মোচন ও পরিবর্তন করিতে সমর্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এ সকল যাহাদিগকে তাহারা আহ্বান করিয়া থাকে তাহারাও আপন প্রতিপালকের দিকে সহায় অন্বেষণ করে যে, তাহাদের কে অধিকতর নিকটবর্তী হয়, এবং তাহারা তাঁহার দয়ার আশা করে ও তাঁহার শাস্তি হইতে ভীত হয়, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের শাস্তি ভীষন হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এমন কোন গ্রাম নাই যে, পুনরুত্থানের দিনের পূর্বে আমি যাহার সংহারকারী অথবা কঠিন শাস্তিরুপে শাস্তিদাতা নহি, গ্রন্থমধ্যে ইহা লিখিত আছে।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং নিদর্শন সকল প্রেরণ করিতে তদ্বিষয়ে পূর্ববর্তী লোকদিগের অসত্যারোপ ব্যতীত আমাকে নিবৃত্ত করে নাই, এবং আমি সমুদজাতিকে উষ্ট্রীরুপ নিদর্শন দান করিয়াছি, অনন্তর তৎপ্রতি তাহারা অত্যাচার করিয়াছে, এবং আমি ভয় প্রদর্শনের জন্য বৈ নিদর্শন প্রেরণ করি নাই।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি তোমাকে বলিয়াছিলাম যে, তোমার প্রতিপালক লোকদিগকে আবেষ্টন করিয়া আছেন, আমি সেই নিদর্শন যাহা তোমাকে দেখাইয়াছি, এবং কোরআনেতে যে বৃক্ষ অভিসম্পাদিত হইয়াছে তাহা লোকের জন্য পরীক্ষা বৈ নহে, এবং আমি তাহাদিগকে ভয় দেখাইয়া থাকি, পরন্তু মহা অবাধ্যতা ব্যতীত তাহাদের (কিছুই) বৃদ্ধি হয় নাই।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি দেবতাদিগকে বলিলাম যে, তোমরা আদমকে নমস্কার কর, তখন শয়তান ব্যতীত তাহারা সকলে নমস্কার করিল, সে বলিল, “যে ব্যক্তিকে তুমি মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছ তাহাকে কি আমি নমস্কার করিব?”

আয়াতঃ ৬২⇒ (পুনর্বার) সে বলিল, “তুমি কি দেখিলে এই যাহাকে তুমি আমার উপর সম্মানিত করিয়াছ, যদি তুমি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দান না কর তবে অবশ্য আমি অল্প সংখ্যক ব্যতীত তাহার সন্তানগণের মূলোচ্ছদেন করিব।“

আয়াতঃ ৬৩⇒ তিনি বলিলেন, “যাও, তাহাদিগের যে কেহ তোমার অনুসরণ করিবে, অবশেষে নিশ্চয় নরক তোমাদের (সকলের) পূর্ণ বিনিময়রুপে বিনিময় হইবে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং তুমি আপন ধ্বনিতে তাহাদের যাহাকে সুক্ষ্ম হও বিচালিত কর ও তাহাদের উপর আপন অশ্বারুঢ় ও পদাতিক সৈন্য আকর্ষণ কর, এবং সন্তান ও সম্পত্তি বিষয়ে তাহাদের অংশী হও, এবং তাহাদের সঙ্গে অঙ্গীকার কর, নিশ্চয় শয়তান প্রবঞ্চনা ব্যতীত তাহাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করে না।

আয়াতঃ ৬৫⇒ নিশ্চয় আমার দাসগণ আছে, তাহাদের উপর তোমার কোন প্রভাব নাই, এবং তোমার প্রতিপালক যথেষ্ট কার্যকারক”।

আয়াতঃ ৬৬⇒ যিনি তোমাদের জন্য সাগরে নৌকা সকল সঞ্চালিত করেন যেন তোমরা তাঁহার প্রসাদে (জীবিকা) অন্বেষণ কর, তিনি তোমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় তিনি তোমাদের সম্বন্ধে দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং যখন সমুদ্রে তোমাদের বিপদ উপস্থিত হয় তোমরা তাঁহাকে ব্যতীত যাহাকে আহ্বান কর সে-ই হারাইয়া যায়, অনন্তর যখন তিনি তোমাদিগকে ভূমির দিকে উদ্ধার করেন, তখন তোমরা বিমুখ হও, এবং মনুষ্য ধর্মদ্রোহী হয়।

আয়াতঃ ৬৮⇒ অনন্তর ভূমিতে তোমাদের প্রোথিত হওয়া অথবা তোমাদের প্রতি প্রস্তরবর্ষী প্রভঞ্জন সঞ্চালিত হওয়া সম্বন্ধে কি তোমরা নিঃশঙ্ক হইয়াছ? অবশেষে তোমরা আপনাদের সম্বন্ধে কার্য-সম্পাদক পাইবে না।

আয়াতঃ ৬৯⇒ পুনর্বার তন্মধ্যে (সমুদ্রে) তোমাদিগকে প্রত্যানয়ন করা হইতে কি তোমরা নিঃশঙ্ক হইয়াছ? অবশেষে তোমাদের প্রতি নৌকা-ভগ্নকারী অনিল প্রেরিত হইবে, পরে তোমরা অধর্মাচরণ করিয়াছ বলিয়া তোমাদিগকে জলমগ্ন করিবে, তৎপর তোমরা আপনাদের নিমিত্ত তদ্বিষয়ে আমার উপর কোন অনুগামী পাইবে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ এবং সত্যসত্যই আমি আদমের সন্তানদিগকে গৌরবান্বিত করিয়াছি ও সমুদ্রে ও প্রান্তরে তাহাদিগকে আরোহণ করাইয়াছি, এবং তাহাদিগকে বিশুদ্ধ বস্তু সকল হইতে উপজীবিকা দিয়াছি, এবং যাহাদিগকে আমি উন্নতভাবে সৃজন করিয়াছি, তাহাদের অনেকের উপরে তাহাদিগকে উন্নতি দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ৭১⇒ যেদিন আমি সমুদায় মনুষ্যকে তাহাদের নেতৃগণসহ আহ্বান করিব, অনন্তর যাহাদিগকে তাহাদের স্বীয় গ্রন্থ (কার্যলিপি) তাহাদের দক্ষিন হস্তে প্রদত্ত হইয়াছে তখন তাহারা তাহাদের গ্রন্থ পাঠ করিবে, এবং তাহারা সূত্রপরিমাণও অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং যে ব্যক্তি এ স্থানে অন্ধ হয় অবশেষে পরলোকেও সে অন্ধ ও সমধিক পথভ্রান্ত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) যে প্রত্যাদেশ করিয়াছি নিশ্চয় তাহারা তোমাকে তাহা হইতে বঞ্চনা করিতে উপক্রম করিয়াছে, যেন আমার সম্বন্ধে তুমি তদ্বতিরিক্ত (বিষয়) সংবদ্ধ কর, (তুমি তাহা করিলে) তখন অবশ্য তাহারা তোমাকে বন্ধু বলিয়া গ্রহণ করিত।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং যদি আমি তোমাকে দৃঢ় না করিতাম তবে সত্যসত্যই তুমি তাহাদের প্রতি অল্প কিছু অনুরাগী হইবার জন্য উপক্রম করিতে।

আয়াতঃ ৭৫⇒ তখন আমি তোমাকে অবশ্য (পার্থিব) জীবনের (শাস্তি) ও মৃত্যুর দ্বিগুণ (শাস্তি) আস্বাদন করাইতাম, তৎপর তুমি নিজের সম্বন্ধে আমার দিকে সাহায্যকারী পাইতে না।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা তোমাকে স্থানভ্রষ্ট করিতে উপক্রম করিয়াছিল যেন তথা হইতে তোমাকে বাহির করে এবং তাহারা তোমার পশ্চাতে তখন অল্প বৈ বিলম্ব করিবে না।

আয়াতঃ ৭৭⇒ পদ্ধতি (তাহাদিগের জন্য রহিয়াছে) নিশ্চয় তোমার পূর্বে যাহাদিগকে আমি স্বীয় প্রেরিতগণের মধ্যে প্রেরণ করিয়াছি, তুমি (তাহাদের মধ্যে) আমার পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তন পাইবে না।

আয়াতঃ ৭৮⇒ তুমি সূর্যাস্তগমন সময়ে অন্ধকার রজনী পর্যন্ত নমাজ ও প্রাতঃকালে কোরআন (পাঠ) প্রতিষ্ঠিত রাখ, নিশ্চয় প্রাভাতিক কোরআন পরিলক্ষিত হয়।

আয়াতঃ ৭৯⇒ এবং তুমি কোন রজনী তৎসহ জাগরণ কর, তোমার জন্য (নিত্যনৈমিত্তিক নমাজের উপর তাহা) অতিরিক্ত সম্ভবতঃ যে তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত নিকেতনে উঠাইয়া লইবেন।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং বল, হে আমার প্রতিপালক, তুমি প্রকৃত প্রবেশরুপে আমাকে প্রবেশ করাও, প্রকৃত নির্গমনরুপে আমাকে নির্গমন করাও, এবং তোমার নিকট হইতে আমার জন্য পরাক্রান্ত সাহায্যকারী নিযুক্ত কর।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং বল, সত্য উপস্থিত হইয়াছে, অসত্য বিলুপ্ত হইয়াছে, নিশ্চয় অসত্য বিলোপ্য হয়।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং যাহা বিশ্বাসীদিগের জন্য স্বাস্থ্য ও দয়া হয় আমি কোরআন হইতে তাহা অবতারণ করিব, এবং অত্যাচারীদিগের সম্বন্ধে অনিষ্ট বৈ বৃদ্ধি করে না।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং যখন মনুষ্যের প্রতি আমি দান করি তখন সে বিমুখ হয় ও পার্শ্ব ফিরাইয়া লয়, এবং যখন অশুভ তাহার প্রতি উপস্থিত হয় তখন সে নিরাশ হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৮৪⇒ তুমি বল, সকলেই স্বীয় প্রনালী অনুসারে কার্য করিতেছে, পরন্তু যে ব্যক্তি উত্তম পথ লাভকারী তোমাদের প্রতিপালক তাঁহাকে উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং তাহারা তোমাকে আত্মার বিষয়ে প্রশ্ন করিতেছে, তুমি বল যে, আমার প্রতিপালকের আজ্ঞা হইতেই আত্মা হয়, এবং তোমাদিগকে অল্প বৈ জ্ঞান প্রদত্ত হয় নাই।

আয়াতঃ ৮৬+৮৭⇒  এবং তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করিয়াছি যদি আমি তাহা প্রত্যাহার করিতে ইচ্ছা করি তবে অবশেষে নিজের জন্য তুমি তদ্বিষয়ে আমার সম্বন্ধে কোন কার্যসম্পাদক তোমার প্রতিপালকের দয়া ব্যতীত প্রাপ্ত হইবে না, নিশ্চয় তোমার প্রতি তাঁহার প্রসাদ প্রচুর।

আয়াতঃ ৮৮⇒ তুমি বল যে, এই কোরআনের সদৃশ উপস্থিত করিতে যদি মনুষ্য ও দৈত্য একত্রিত হয়, এবং যদ্যপি তাহারা পরস্পর পরস্পরের সাহায্যকারীও হয়, তথাপি তাহারা ইহার সদৃশ আনয়ন করিতে পারিবে না।

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবগ সত্যসত্যই আমি মানবমণ্ডলীর জন্য এই কোরআনের মধ্যে সমুদায় দৃষ্টান্ত বারংবার বিবৃত করিয়াছি, পরন্তু অধিকাংশ লোক অধর্ম বৈ গ্রাহ্য করে নাই।

আয়াতঃ ৯০+৯১⇒ তাহারা বলিয়াছে, “যে পর্যন্ত তুমি আমাদের জন্য মৃত্তিকা হইতে উৎস উৎসারিত  (না) কর, অথবা তোমার নিমিত্ত দ্রাক্ষা ও খোর্মার উদ্যান (না) হয়, তৎপর তাহার মধ্যে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত রুপে প্রবাহিত (না) কর, সে পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করিব না।

আয়াতঃ ৯২⇒ কিংবা তুমি আমাদের সম্বন্ধে যেমন মনে করিয়া থাক সেরুপ আকাশকে খন্ড খন্ড রুপে পতিত (না) কর, অথবা ঈশ্বর ও দেবতাগণসহ সম্মুখে উপস্থিত (না) হও।

আয়াতঃ ৯৩⇒ কিংবা তোমার জন্য স্বর্ণময় গৃহ (না) হয়, বা তুমি আকাশে আরোহণ (না) কর (সে পর্যন্ত কখনো তোমাকে বিশ্বাস করিব না) এবং যে পর্যন্ত আমাদের প্রতি (এমন) গ্রন্থ অবতারণ না কর যে, আমরা তাহা পড়িতে পারি, সে পর্যন্ত তোমার (আকাশে) সমুত্থানকে কখনো বিশ্বাস করিব না;” তুমি বল, আমার প্রতিপালক পবিত্র, আমি প্রেরিত মনুষ্য বৈ নহি।

আয়াতঃ ৯৪⇒ এবং “ঈশ্বর কি মনুষ্যকে প্রেরিতপুরুষ করিয়া পাঠাইয়াছেন?” ইহা বলা ব্যতীত লোকদিগকে তাহাদের নিকটে যখন সত্যালোক উপস্থিত হয় (তাহা) বিশ্বাস করা হইতে (অন্য) কিছু নিবৃত্ত করে নাই।

আয়াতঃ ৯৫⇒ তুমি বল, যদি পৃথিবীতে দেবগণ থাকিত যে সুখে বিচরণ করে, তবে আমি নিশ্চয় তাহাদের প্রতি স্বর্গ হইতে দেবতারুপ প্রেরিতপুরুষ পাঠাইতাম।

আয়াতঃ ৯৬⇒ তুমি বল, আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে ঈশ্বরই যথেষ্ট সাক্ষী, নিশ্চয় তিনি আপন দাসগণের সম্বন্ধে জ্ঞাতা ও দ্রষ্টা হন।

আয়াতঃ ৯৭⇒ এবং ঈশ্বর যাহাকে পথ প্রদর্শন করেন অবশেষে সে-ই পথাশ্রিত হয় ও তিনি যাহাদিগকে পথভ্রান্ত করেন, অনন্তর তুমি কখনও তাহাদের জন্য তিনি ব্যতীত (বন্ধু) পাইবে না, এবং পুনরুত্থানের দিবসে আমি তাহাদিগকে অন্ধ ও বধির এবং মূক করিয়া মুখোপরি সমুত্থাপণ করিব, তাহাদের স্থান নরকানল যখন তাহা নির্বাপিত হইবে, তখন আমি তাহাদের উপর অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করিয়া দিব।

আয়াতঃ ৯৮⇒ ইহাই তাহাদের বিনিময়, যেহেতু তাহারা আমার নিদর্শন  সকলের সম্বন্ধে বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে, এবং তাহারা বলে, “যখন আমরা বিশ্লিষ্টাঙ্গ ও অস্থিপুঞ্জ হইয়া যাইব, তখন কি নবীন সৃষ্টিতে সমুত্থাপিত হইব?”

আয়াতঃ ৯৯⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, যিনি স্বর্গ-মর্ত সৃজন করিয়াছেন, নিশ্চয় সেই ঈশ্বর তাহাদের সদৃশ সৃষ্টি করিতে ক্ষমতা রাখেন, এবং তাহাদের জন্য তিনি কাল নির্ধারিত করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহ নাই, অনন্তর অত্যাচারীগণ অধর্ম ব্যতীত স্বীকার করে নাই।

আয়াতঃ ১০০⇒ বল, যদি তোমরা আমার প্রতিপালকের করুণা ভান্ডারের অধ্যক্ষ হইতে তখন তোমরা ব্যয় করার ভয়ে অবশ্য কৃপণতা করিতে, এবং মনুষ্য কৃপণ হয়।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে নয়টি উজ্জল নিদর্শন দান করিয়াছি, পরে তুমি (হে মোহম্মদ) বনি এস্রায়েলকে যখন তাহাদের নিকটে সে উপস্থিত হইয়াছিল (এ-বিষয়ে) জিজ্ঞাসা কর, অনন্তর তাহাকে ফেরওন বলিয়াছিল, “নিশ্চয় আমি হে মুসা, তোমাকে একান্ত ঐন্দ্রজালিক মনে করিতেছি।

আয়াতঃ ১০২⇒ সে বলিল, “সত্যসত্যই তুমি জানিতেছ যে, এ সকল (নিদর্শন প্রমাণস্বরূপ) স্বর্গ-মর্তের প্রতিপালক ব্যতীত, (অন্য কেহ) ইহা প্রেরণ করে নাই, এবং নিশ্চয় আমি হে ফেরওন, তোমাকে একান্ত নিহত মনে করিতেছি”।

আয়াতঃ ১০৩⇒ পরে সে ইচ্ছা করিল যে, তাহাদিগকে দেশ হইতে বিচ্যুত করে, অনন্তর আমি যাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা ছিল তাহাদিগকে একযোগে জলমগ্ন করিলাম।

আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং তাহার পরে আমি বনি এস্রায়েলদিগকে বলিলাম যে, দেশে বাস কর, অনন্তর যখন শেষ অঙ্গীকার উপস্থিত হইবে তখন আমি তোমাদিগকে সম্মিলিতভাবে আনয়ন করিব।

আয়াতঃ ১০৫⇒ এবং আমি সত্যভাবে তাহা (কোরআন) অবতারণ করিয়াছি ও সত্যভাবে তাহা অবতারিত হইয়াছে, এবং আমি তোমাকে সুসংবাদদাতা  ও ভয়প্রদর্শকরুপে বৈ প্রেরণ করি নাই।

আয়াতঃ ১০৬⇒ এবং কোরআনকে আমি খন্ডশঃ করিয়াছি, যেন তাহাকে তুমি লোকের নিকটে বিলম্বে পাঠ কর ও আমি তাহাকে অবতরণরুপে  অবতারণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ১০৭⇒ তুমি বল, তৎপ্রতি তোমরা বিশ্বাস কর না বা কর, নিশ্চয় ইতিপূর্বে যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে যখন তাহাদের নিকটে পাঠ হয়, তখন তাহারা নমস্কার করতঃ অধোমুখে পতিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ১০৮⇒ এবং তাহারা বলে, “আমাদের প্রতিপালক পবিত্র, নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালকের অঙ্গীকার একান্ত সম্পন্ন হয়”।

আয়াতঃ ১০৯⇒ এবং তাহারা ক্রন্দন করতঃ অধোমুখে পতিত হয় ও তাহাদের দীনতা বর্ধিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ১১০⇒ বল, তোমরা ঈশ্বরকে আহ্বান কর আহ্বান কর, অথবা “রহমানকে” আহ্বান কর, তোমরা যাহাকে ডাকিবে অনন্তর তাঁহারই উত্তম নাম সকল হয়, তুমি স্বীয় উপাসনায় উচ্চ শব্দ করিও না, ও তাহাতে ক্ষীন (শব্দও) করিও না, এবং ইহার মধ্যে কোন পথ অন্বেষণ করিও।

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং তুমি বল, সেই ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা, যিনি পুত্র গ্রহণ করেন নাই ও রাজত্বে যাঁহার কোন অংশী নাই, এবং অক্ষমতাবশতঃ যাঁহার কোন সহায় নাই, সম্মান্যরুপে তাঁহাকে সম্মান কর।