সূরাঃ বকরা

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ দাতা দয়ালু ঈশ্বরের নামে প্রবৃত্ত হইতেছি।

আয়াতঃ ০২⇒ ইহাতে নিঃসন্দেহ, এই পুস্তকই ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য পথপ্রদর্শক।

আয়াতঃ ০৩⇒ যাহারা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে, এবং আমি যে উপজীবিকা দিয়াছি তাহা ব্যয় করে।

আয়াতঃ ০৪ + 0৫⇒ এবং তোমার প্রতি ও তোমার পূর্বে যাহা অবতারন করিয়াছি তাহা যাহারা বিশ্বাস করে ও যাহারা পরলোকে বিশ্বাস রাখে তাহারা স্বীয় প্রতিপালক কতৃক সুপথে আছে এবং তাহারা পরিত্রাণ লাভের যোগ্য।

আয়াতঃ ০৬⇒ যাহারা ঈশ্বরদ্রোহী হইয়াছে, তুমি তাহাদিগকে হয় ভয় প্রদর্শন কর বা না কর তাহাদের পক্ষে তুল্য, তাহারা বিশ্বাস করিবে না।

আয়াতঃ ০৭⇒ ঈশ্বর তাহাদিগের অন্তঃকরন ও কর্ণকে রুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন ও তাহাদের চক্ষুর উপর আবরণ আছে, এবং তাহাদের জন্য গুরুতর শাস্তি রহিয়াছে।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং মানব মণ্ডলীর মধ্যে এরুপ লোক আছে যে, তাহারা বলিয়া থাকে, “আমরা ঈশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস রাখি, বাস্তবিক তাহারা বিশ্বাসী নহে।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহারা ঈশ্বরকে ও বিশ্বাসী লোকদিগকে বঞ্চনা করে, বস্তুতঃ তাহারা নিজের জীবনকে ব্যতিত বঞ্চনা করে না, এবং তাহারা বুঝিতে পারে না।

আয়াতঃ ১০⇒ তাহাদের অন্তরে রোগ আছে, পরন্তু ঈশ্বর তাহাদের রোগ প্রবল করিয়া তুলিয়াছেন, এবং তাহাদের জন্য ক্লেশজনক শাস্তি আছে, যেহেতু তাহারা অসত্য বলিতেছে।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল, “ভূমণ্ডলে অহিতাচারন করিও না,” তাহারা বলিল, “আমরা হিতকারী ইহা বৈ নহি।“

আয়াতঃ ১২⇒ জানিও নিশ্চয় তাহারা অহিতকারী, কিন্তু তাহারা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল, “লোকে যেমন বিশ্বাস করিয়াছে তদ্রুপ তোমরাও বিশ্বাস কর।“ তাহারা বলিল, “নির্বোধেরা যেরুপ বিশ্বাস করিতেছে আমরা কি তদ্রুপ বিশ্বাস করিব?” জানিও নিশ্চয় তাহারাই নির্বোধ, কিন্তু বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যখন বিশ্বাসী লোকদিগের সঙ্গে সাক্ষাত হয়, তখন তাহারা বলে, “আমরা বিশ্বাসী,” ও যখন নিভৃতে স্বীয় শয়তানদিগের সঙ্গে (আপন দলপতিগণের সঙ্গে) বাস করে তখন বলে, “নিশ্চয় আমরা তোমাদের সঙ্গী, আমরা উপহাস করি, ইহা বৈ নহে।“

আয়াতঃ ১৫⇒ ঈশ্বর তাহাদিগকে উপহাস করেন, এবং তাহাদের বিরুদ্ধাচরণে তাহাদিগকে অবকাশ দেন, তাহারা ঘুরিয়া বেড়ায়।

আয়াতঃ ১৬⇒ ইহারাই তাহারা যাহারা সুপথের বিনিময়ে বিপথকে ক্রয় করিয়াছে, অনন্তর ইহাদের বানিজ্যে লাভ হয় নাই ও ইহারা সুপথগামী নহে।

আয়াতঃ ১৭⇒ ইহাদের দৃষ্টান্ত যথা, -কেহ অগ্নি প্রজ্বলিত করিল, পরে যখন তাহা তাহার চতুরপার্শ্ব আলোকিত করিল, ঈশ্বর তাহা হইতে অগ্নির জ্যোতিঃ প্রত্যাহার করিলেন, এবং তাহাকে অন্ধকারে রাখিলেন, সে কিছু দেখিতে পাইল না।

আয়াতঃ ১৮⇒ তাহারা বধির, মূক, অন্ধ; অপিচ তাহারা পরিবর্তিত হয় না।

আয়াতঃ ১৯⇒ অথবা আকাশের সেই মেঘের ন্যায় যাহাতে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুত আছে, তাহারা গর্জনবশতঃ মৃত্যুভয়ে স্ব-স্ব কর্ণে অঙ্গুলি প্রদান করিতেছে; ঈশ্বর ধর্মদ্রোহীদিগের আক্রমণকারী।

আয়াতঃ ২০⇒ সত্বরই বিদ্যুত তাহাদের দৃষ্টি হরন করিবে; যখন (বিদ্যুত) তাহাদিগকে জ্যোতিঃ প্রদান করে তাহারা তাহাতে চলিতে থাকে, যখন তাহারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় তখন দন্ডায়মান থাকে, ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে নিশ্চয় তাহাদের চক্ষু, কর্ণ হরণ করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশীল।

আয়াতঃ ২১⇒ হে লোক সকল, যিনি তোমাদিগকে ও তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদিগকে সৃজন করিয়াছেন, তোমরা আপনাদের সেই প্রতিপালককে অর্চনা কর, তাহাতে তোমরা রক্ষা পাইবে

আয়াতঃ ২২⇒ যিনি তোমাদের জন্য ভূতলকে শয্যা, আকাশকে চন্দ্রাতপ করিয়াছেন, এবং আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করেন, পরে তাহা হইতে ফলপুঞ্জ তোমাদের উপজীবিকার জন্য উৎপাদন করেন, সেই ঈশ্বরকে অর্চনা কর, ঈশ্বরের সদৃশ নিরুপিত করিও না, অপিচ তোমরা জ্ঞাত আছ।

আয়াতঃ ২৩⇒ আমি যাহা আপন দাসের প্রতি অবতারন করিয়াছি, তাহাতে যদি তোমাদের সন্দেহ থাকে তবে তৎসদৃশ এক সূরা উপস্থিত কর; যদি তোমরা সত্যব্রত হও তবে ঈশ্বর ব্যতিত স্বীয় সাক্ষীগণকে আহ্বান কর।

আয়াতঃ ২৪⇒ পরন্তু যদি করিলে না, তবে নিশ্চয় করিতে পারিবে না; অতএব হে অগ্নির ইন্ধন মনুষ্য, সেই নরকাগ্নি ও প্রস্তরপুঞ্জ সম্বন্ধে সাবধান হও; (তাহা) ঈশ্বরদ্রোহী লোকদিগের জন্য সঞ্চিত আছে।

আয়াতঃ ২৫⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকার্য করিয়াছে তাহাদিগকে (হে মুহাম্মদ) তুমি এই সুসংবাদ দান কর যে, তাহাদের জন্য স্বর্গের উদ্যান সকল আছে, যাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হইতেছে; যখন তাহা হইতে ফলপুঞ্জ উপজীবিকারুপে তাহাদিগকে দেওয়া যাইবে তখন তাহারা বলিবে, আমাদিগকে পূর্বে যাহা প্রদত্ত হইয়াছে ইহা সেই ফল; আকারে পরস্পর সাদৃশ্য গৃহীত হইবে এবং সেখানে তাহাদের জন্য পুণ্যবতী ভার্যা সকল থাকিবে ও তাহারা তথায় নিত্যকাল বাস করিবে।

আয়াতঃ ২৬⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর মশকের ন্যায় ক্ষুদ্র জীবের বা তদপেক্ষা শ্রেষ্ঠ জীবের উদাহরণ দিতে লজ্জিত হন না, কিন্তু যাহারা বিশ্বাসী তাহারা জানে যে, তাহাদের পরিপালকের এই (রুপ দৃষ্টান্ত) সত্য; কিন্তু ঈশ্বরদ্রোহী লোকেরা বলে, “এই উদাহরণে ঈশ্বর কি অভিপ্রায় করেন?” ইহা দ্বারা তিনি অনেককে পথচ্যুত ও অনেককে পথ প্রদর্শন করিতেছেন; এতদ্দারা কুক্রিয়াশীল লোক ব্যতিত অন্যে পথচ্যুত হয় না।

আয়াতঃ ২৭⇒ যাহারা ঈশ্বরের অঙ্গীকার তাহা বন্ধনের পর ভঙ্গ করে, এবং ঈশ্বর সম্মিলন-বিষয়ে যে আজ্ঞা করিয়াছেন তাহা লঙ্ঘন করে এবং পৃথিবীতে অহিতাচরণ করে, ইহারাই তাহারা যে ক্ষতিগ্রস্ত।

আয়াতঃ ২৮⇒ কেমন করিয়া তোমরা ঈশ্বরদ্রোহী হও; অবস্থা তো এই- তোমরা নির্জীব ছিলে পরে তিনি তোমাদিগকে জীবিত করিয়াছেন, অতঃপর তিনি তোমাদিগকে সংহার করিবেন, ইহার পর তিনি জীবন দান করিবেন; অবশেষে তাহার দিকেই তোমাদের প্রতিগমন।

আয়াতঃ ২৯⇒ তিনি সেই, যিনি পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তৎসমুদয় তোমাদিগের জন্য সৃজন করিয়াছেন, তৎপর নভোমণ্ডলের প্রতি মনোযোগী হইয়া সপ্ত স্বর্গ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন; তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন তোমার প্রতিপালক দেবগণকে বলিলেন যে, “নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে দলপতি সৃজন করিব।“ তাহারা বলিল, “তুমি কি এমন লোককে তথায় সৃজন করিবে যাহারা সেই স্থানে অত্যাচার ও শোণিতপাত করিতে থাকিবে? আমরা তোমার গুনের প্রশংসা করিয়া থাকি ও তোমার পবিত্রতা স্বীকার করি।“ তিনি বলিলেন, “যাহা তোমরা জ্ঞাত নও, নিশ্চয় আমি তাহা জ্ঞাত আছি।“

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং তিনি আদমকে সকল পদার্থের নাম শিখাইয়াছিলেন, তৎপর তৎসমুদয় দেবগণের নিকট উপস্থিত করিলেন, পরে বলিলেন, “যদি তোমরা সত্যবাদী তবে এই সকলের নাম আমাকে জ্ঞাপন কর।“

আয়াতঃ ৩২⇒ তাহারা বলিল, “পবিত্রতার সহিত তোমাকে স্মরণ করিতেছি (হে ঈশ্বর,) যাহা তুমি আমাদিগকে শিক্ষা দিয়েছ তদ্ব্যতীত আমাদের কোন জ্ঞান নাই, নিশ্চয় তুমি জ্ঞাতা ও সুবিজ্ঞাতা।“

আয়াতঃ ৩৩⇒ ঈশ্বর বলিলেন, “হে আদম, তুমি তাহাদিগকে তাহাদের নাম জ্ঞাপন কর;” অনন্তর যখন সে তোমাদিগের নিকটে তাহাদের নাম ব্যক্ত করিল তখন তিনি বলিলেন, “আমি তোমাদিগকে কি বলি নাই যে, সত্যিই আমি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের গুপ্ত বিষয় জ্ঞাত আছি ও তোমরা প্রকাশ্যে যাহা করিতেছ, এবং যাহা গুপ্ত রাখিতেছ তাহা অবগত হইতেছি?”

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং যখন আমি দেবগণকে বলিলাম, “তোমরা আদমকে প্রনাম কর,” তখন শয়তান ব্যতিত সকলে প্রনাম করিল, সে অগ্রাহ্য করিল, অবাধ্য হইল ও ধর্মদ্রোহীদিগের অন্তর্গত হইল।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং আমি বলিলাম, “হে আদম, স্বর্গে তুমি সস্ত্রীক বাস করিতে থাকো ও তোমরা দুইজনে তাহার (খাদ্য) যথা ইচ্ছা সুখে ভক্ষন কর, এবং এই বৃক্ষের নিকটে যাইও না, তবে তোমরা অপরাধীদিগের অন্তর্ভুক্ত হইবে।“

আয়াতঃ ৩৬⇒ অনন্তর শয়তান তাহাদিগকে তথা হইতে বিচালিত করিল, তৎপর তাহারা যাহাতে (যে সম্পদে) ছিল তাহা হইতে নিষ্ক্রামিত হইল, এবং আমি বলিলাম, তোমরা অধোগামী হও, তোমরা পরস্পরের শত্রু, ভূমণ্ডলে তোমাদিগের জন্য বাসস্থান ও কিছুকাল ফলভোগ হইবে।

আয়াতঃ ৩৭⇒ পরে আদম স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে কয়েক কথা শিক্ষা করিল, অনন্তর তিনি তাহার প্রতি প্রসন্ন হইলেন; নিশ্চয় তিনি প্রত্যাবর্তনকারী ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৩৮⇒ আমি বলিয়াছিলাম যে, “তথা হইতে একযোগে তোমরা অধোগমন কর, পরে যদিন তোমাদের নিকটে আমা হইতে উপদেশ উপস্থিত হয় তখন যে ব্যক্তি সেই উপদেশের অনুসরণ করিবে তাহার কোন ভয় থাকিবে না, সে শোকার্ত হইবে না।“

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যাহারা ধর্মবিদ্রোহী হইয়াছে ও আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে তাহারা নরকাগ্নির অধিবাসী, সেখানে তাহারা নিত্যনিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ৪০⇒ হে এস্রায়েল বংশীয় লোক সকল, আমি তোমাদিগকে যাহা দিয়াছি সেই দান স্মরণ কর, এবং আমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর, আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করিব; পরন্তু আমা হইতে ভীত হও।

আয়াতঃ ৪১⇒ আমি যাহা (কোরান) প্রেরণ করিলাম তাহাতে বিশ্বাস স্থাপন কর, তোমাদের সঙ্গে যাহা (যে পুস্তক) বিদ্যমান (এই পুস্তক) তাহার সত্যতার প্রতিপাদক, ইহার প্রতি তোমরা প্রথম ঈশ্বরদ্রোহী হইও না ও আমার নিদর্শন সকলের জন্য নিকৃষ্ট মূল্য গ্রহণ করিও না, এবং পরে আমা হইতে সাবধান হইও।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যকে মিশ্রিত ও সত্যকে গোপন করিও না, এবং তোমরা তো জ্ঞাত আছো?

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ, জকাত প্রদান কর ও উপাসকমণ্ডলীর সঙ্গে উপাসনা কর।

আয়াতঃ ৪৪⇒ তোমরা কি লোকদিগকে সৎবিষয়ে আদেশ কর, এবং আপনাদিগকে ভুলিয়া যাও ও তোমরা গ্রন্থ পাঠ করিয়া থাক, অনন্তর অর্থ বোধ করিতেছ না কি?

আয়াতঃ ৪৫⇒ সহিষ্ণুতা ও উপাসনাযোগে আনিকূল্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় ইহা কঠিন; কিন্তু বিনীত লোকদিগের পক্ষে কঠিন নয়।

আয়াতঃ ৪৬⇒ যাহারা জানে যে, তাহারা ঈশ্বরের সঙ্গে সম্মিলিত হইবে ও তাঁহার প্রতি তাহারা প্রত্যাবর্তনকারী (তাহাদের পক্ষে কঠিন নহে।)

আয়াতঃ ৪৭⇒ হে এস্রায়েল বংশীয় লোক সকল,  আমি তোমাদিগকে যাহা দিয়াছি আমার সেই দান স্মরণ কর, এবং নিশ্চয় আমি সমুদয় লোকের উপর তোমাদিগকে শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৮⇒ যে দিবস কোন ব্যক্তি কাহারও নিকট হইতে কিঞ্চিত উপকার লাভ করিবে না ও তাহার অনুরোধ স্বীকৃত এবং তাহার নিকট হইতে বিনিময় গৃহীত হইবে না ও তাহারা সাহায্য পাইবে না, তোমরা সে (বিচারের দিনকে) ভয় করিও।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং (স্মরণ কর,) আমি যখন ফেরাওয়নীয় স্মপ্রদায় হইতে তোমাদিগকে মুক্ত করিয়াছিলাম, তাহারা তোমাদের প্রতি কঠোর অত্যাচার করিতেছিল, তোমাদের পুত্র সন্তান দিগকে বধ করিতেছিল, এবং কন্যাদিগকে জীবিত রাখিতেছিল, ও ইহাতে, তোমাদের প্রতিপালক হইতে গুরুতর পরীক্ষা ছিল।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করিয়াছিলাম, পরে তোমাদিগকে রক্ষা ও ফেরওনীয় লোকদিগকে জলমগ্ন করেছিলাম, এবং তোমরা দর্শন করিতেছিলে।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন আমি মূসার সঙ্গে চত্বারিংশৎ রজনীর অঙ্গীকার করিয়াছিলাম, তৎপর সে চলিয়া গেলে তোমরা গোবৎসকে আশ্রয় করিলে, এবং তোমরা দুর্বৃত্ত হইলে।

আয়াতঃ ৫২⇒ অবশেষে ইহার পরে আমি তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছিলাম যেন তাহাতে তোমরা ধন্যবাদ দিবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন আমি মূসাকে পুস্তক ও প্রমান দান করিয়াছিলাম যেন তোমরা সত্য পথ প্রাপ্ত হও।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন মুসা আপন সম্প্রদায়কে বলিল, “হে আমার মণ্ডলীস্থ লোক সকল, নিশ্চয় তোমরা গোবৎসকে (উপাস্য রুপে) গ্রহণ করিয়া নিজের প্রতি অনিষ্টাচরণ করিয়াছ, অতএব স্বীয় সৃষ্টিকর্তার দিকে প্রত্যুঙমুখ হও, অতঃপর স্ব-স্ব জীবনকে বিনাশ কর, তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকটে ইহাই তোমাদের জন্য কল্যাণ, “অনন্তর ঈশ্বর তোমাদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করিলেন, নিশ্চয় তিনি প্রত্যাবর্তনকারী ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন তোমরা বলিতেছিলে, “হে মুসা, যে পর্যন্ত আমরা ঈশ্বরকে স্পষ্ট দর্শন না করিব সে পর্যন্ত কখনো তোমাকে বিশ্বাস করিব না; “পরে তোমাদের উপর বিদ্যুত সঞ্চারিত হইল ও তোমরা তাহা দেখিতেছিলে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ তৎপর তোমাদের পরান ত্যাগের পরে আমি তোমাদিগকে জীবিত করিয়াছিলাম, যেন তোমরা ধন্যবাদ কর।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং তোমাদের উপর বারিবাহকে চন্দ্রাতপ করিয়াছিলাম ও তোমাদের প্রতি “মান্না ও সলওয়া” উপস্থিত করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) যে, “বিশুদ্ধ বস্তু সকল তোমাদিগকে দান করিলাম, তাহা ভক্ষন কর;” এবং তাহারা আমার প্রতি কোন অনিষ্টাচরণ করে নাই; নিজের প্রতি অনিষ্টাচরণ করিতেছিল।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং (স্মরণ কর,) যখন আমি বলিয়াছিলাম, “এই গ্রামে প্রবেশ কর, পরে এই স্থানের যথা ইচ্ছা হয় স্বচ্ছন্দে ভক্ষন কর, এবং প্রনাম করিতে করিতে দ্বারে আসিয়া বল যে আমরা ক্ষমা চাহিতেছি, আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিব, এবং অবশ্যই হিতকারী লোকদিগকে অধিক দান করিব।

আয়াতঃ ৫৯⇒ অনন্তর যাহারা দুষ্ট লোক ছিল তাহাদিগকে যে কথা বলা হইয়াছিল তাহারা তাহার বিপরীতাচরণ করিল, পরে আমি সেই সকল দুষ্ট লোকের অসদাচরণ-জন্য তাহাদের উপর স্বর্গ হইতে শাস্তি প্রেরণ করিলাম।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং যখন মুসা স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্য জল প্রার্থনা করিয়াছিল, তখন আমি বলিয়াছিলাম, “তুমি স্বীয় যষ্ঠি দ্বারা প্রস্তরে আঘাত কর;” অনন্তর তাহা হইতে দ্বাদশ প্রস্রবন নির্গত হইল, নিশ্চয় প্রত্যেক  ব্যক্তি আপনার আপনার ঘাট জানিতে পারিল; (আমি বলিলাম) ঈশ্বরপ্রদত্ত জীবিকা হইতে ভক্ষন ও পান কর, আর তোমরা পৃথিবীতে অত্যাচারীরুপে অত্যাচার করিয়া ফিরিও না।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যখন তোমরা বলিলে, “হে মুস, আমরা একবিধ খাদ্যে ধৈর্য ধারন করিতে পারিব না, অতএব আমাদের জন্য তোমার ঈশ্বরকে আহ্বান কর, ক্ষেতে শাক, কাঁকড়ি, গোধূম, মসুর, পলাণ্ডু জন্মে, তিনি যেন আমাদিগের নিমিত্ত এই সকল দ্রব্য বাহির করেন”। সে বলিল, তোমরা কি নিকৃষ্ট বস্তুর সঙ্গে উৎকৃষ্ট বস্তুর বিনিময় করিতে চাহ? কোন নগরে অবতীর্ণ হও, পরে তোমরা যাহা চাহিতেছ তাহা নিশ্চয় তোমাদের জন্য হইবে;” পরে তাহাদের উপর দুর্দশা ও দরিদ্রতা নিপতিত এবং তাহারা ঈশ্বরের আক্রোশের সঙ্গে পুনর্মিলিত হইল; যেহেতু তাহারা ঐশ্বরিক নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেছিল না ও তত্ত্ববাহকদিগকে অযথা বধ করিতেছিল, অপরাধ করিয়াছিল বলিয়া এরুপ ঘটিল, এবং তাহারা সীমা লঙ্ঘন করিতেছিল।

আয়াতঃ ৬২⇒ নিশ্চয় যাহারা মোসলমান ও যাহারা মুসায়ী ও ঈসায়ী এবং ধর্মহীন তাহাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঈশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং সৎকার্য করে, পরে তাহাদের জন্য তাহাদিগের প্রতিপালকের নিকট তাহাদিগের পুরষ্কার আছে, এবং তাহদিগের প্রতি ভয় নাই, তাহারা দুঃখ পাইবে না।

আয়াতঃ ৬৩⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমাদিগ হইতে আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করিও তোমাদের মস্তকোপরি তূর পর্বত উত্থাপন করি তখন (বলিয়াছিলাম) “আমি যাহা দান করিয়াছি তাহা দৃঢ়রুপে গ্রহণ কর, এবং ইহাতে (তওরাতে) যাহা আছে তাহা স্মরণ কর, ভরসা যে তোমরা আশ্রয় পাইবে”।

আয়াতঃ ৬৪⇒ অবশেষে ইহার পরে তোমরা ফিরিয়া আসিলে, অনন্তর যদি তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রসন্নতা ও কৃপা না থাকিত তবে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হইতে।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং সত্যসত্যই তোমরা জ্ঞাত আছো যে, তোমাদের মধ্যে যাহারা শনিবাসরে বিধি লঙ্ঘন করিয়াছিল তাহাদিগকে আমি বলিয়াছিলাম যে, “তোমরা জঘন্য মর্কট হইয়া যাও”।

আয়াতঃ ৬৬⇒ অনন্তর যাহারা তাহার (সেই নগরের) সম্মুখে ও তাহার পশ্চাতে ছিল তাহাদিগের নিমিত্তে আমি এই ব্যাপারকে শাসন এবং সংসারবিরাগীদিগের জন্য উপদেশ স্বরূপ করিলাম।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন মুসা স্বজাতিকে বলিয়াছিল, “নিশ্চয় ঈশ্বর একটি গোহত্যা করিতে তোমাদিগকে আজ্ঞা করিয়াছেন।“ তাহারা বলিয়াছিল, “তুমি কি আমাদিগকে উপহাস করিতেছ?” মুসা বলিয়াছিল, “ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই যে, আমি অজ্ঞান লোকদিগের অন্তর্গত হইব।“

আয়াতঃ⇒ ৬৮ তাহারা বলিল, “তুমি আমাদের জন্য স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা কর যেন তিনি আমাদের নিমিত্ত ব্যক্ত করেন, তাহা (উক্ত গো) কি দৃশী;” সে বলিল,, “সত্যই ঈশ্বর বলিতেছেন, নিশ্চয় সে গো প্রাচীনা নয় ও নবীনা নয়, এ তন্মধ্যে মধ্যমবয়স্কা, অতএব যে বিষয়ে আদিষ্ট হইয়াছ তাহা সম্পাদন কর।“

আয়াতঃ ৬৯⇒ তাহারা বলিল, “তুমি আমাদের জন্য স্বীয় প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর যেন তিনি আমাদের নিমিত্ত ব্যক্ত করেন যে, তাহার বর্ণ কিরুপ?” সে বলিল, “সত্যই ঈশ্বর বলিতেছেন, নিশ্চয় সে গো পীতবর্ণ, তাহার বর্ণ অতীব পীত, উহা দর্শকগণকে সন্তোষ প্রদান করে।“

আয়াতঃ ৭০⇒ তাহারা  বলিল, তুমি আমাদের জন্য স্বীয় ঈশ্বরের নিকটে প্রার্থনা কর যেন তিনি আমাদিগের নিমিত্ত ব্যক্ত করেন যে, তাহা কিরুপ? আমাদের প্রতি সেই গো সন্দেহ স্থল এবং ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে নিশ্চয় আমরা সৎপথ প্রাপ্ত হইব।“

আয়াতঃ ৭১⇒ সে বলিল, “সত্যই তিনি বলিতেছেন, নিশ্চয় সে গো ভূমিকর্ষণে ও ক্ষেত্রে জলসিঞ্চনে ব্যবহৃত হয় নাই, সে নির্দোষ, তাহাতে তিলাংক নাই।“ তাহারা বলিল, “এক্ষন তুমি সত্য উপস্থিত করিয়াছ।“ অনন্তর তাহারা তাহাকে (গো পশুকে) হত্যা করিতে অপ্রস্তুত স্বত্বেও তাহা করিল।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়া তদ্বিষয়ে পরস্পর বিবাদ করিতেছিল, এবং তোমরা যাহা গোপন করিতেছিলে ঈশ্বর তাহার প্রকাশ হইলেন।

আয়াতঃ ৭৩⇒ অনন্তর আমি বলিলাম, “তাহার (হত গোর) অঙ্গ বিশেষ দ্বারা তাহাকে (হত ব্যক্তিকে) আঘাত কর”। এইরুপে ঈশ্বর মৃতকে জীবিত করেন, এবং তোমাদিগকে নিজের নিদর্শন সকল প্রদর্শন করিয়া থাকেন, যেন তোমাদের হৃদয়ঙ্গম হয়।

আয়াতঃ ৭৪⇒ অতঃপর তোমাদের অন্তঃকরণ কঠিন হইল, অনন্তর তাহা পাষান সদৃশ বরং কাঠিন্যে তদপেক্ষা অধিক হইল, নিশ্চয় কোন প্রস্তর আছে যে তাহা হইতে প্রস্রবন সকল নিঃসৃত হয়, নিশ্চয় তাহাদের কোনটি বিদীর্ণ হইয়া যায়; অনন্তর তাহা হইতে জল নির্গত হয়, এবং নিশ্চয় তাহাদের কোনটি ঈশ্বরের ভয়ে অধঃপতিত হইয়া থাকে, এবং তোমরা যাহা করিতেছ তাহা ঈশ্বরের অগোচর নহে।

আয়াতঃ ৭৫⇒ অনন্তর (হে বিশ্বাসী লোক সকল) তোমরা কি আশা কর যে, ইহারা তোমাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিবে? নিশ্চয় ইহাদের একমণ্ডলী ঈশ্বরের বাণী শ্রবন করিতেছে, তৎপর তাহা হৃদয়ঙ্গম করিয়া তাহার পরিবর্তন করিতেছে ও তাহারা তাহা জ্ঞাত আছে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং যখন তাহারা বিশ্বাসী লোকদিগের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে যে, “আমরা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি”; এবং যখন নির্জন হয় পরস্পর বলে, “ঈশ্বর তোমাদের নিকটে যাহা প্রকাশ করিয়াছেন তাহা তাহাদিগকে কি বলিতেছ? তাহা হইলে তাহারা সেই প্রমান দ্বারা তোমাদের প্রতিপালকের নিকটে তোমাদের সঙ্গে বিচার করিবে, অনন্তর তোমরা কি বুঝিতেছ না”?

আয়াতঃ ৭৭⇒ তাহারা কি জানে না যে, তাহারা যাহা গোপনে করে ও যাহা প্রকাশ্যে করে ঈশ্বর তাহা জানেন?

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং তাহাদের মধ্যে অনেক অশিক্ষিত লোক আছে, তাহাদের (অসৎ) কামনা জ্ঞান ব্যতিত কোন গ্রন্থ-জ্ঞান নাই, এবং তাহারা কল্পনা ছাড়া নহে।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর যাহারা স্বহস্তে পুস্তক লিখে, তৎপর সামান্য মূল্য গ্রহণ করিবার উদ্দেশ্যে বলে যে, ইহা ঈশ্বরের নিকট হইতে (সমাগত), ধিক, তাহাদিগকে; অবশেষে তাহাদের হস্ত যাহা লিপি করিয়াছে তজ্জন্য তাহাদিগকে ধিক, তাহাদের ব্যবসায় অবলম্বনের জন্য তাহাদিগকে ধিক।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং তাহারা বলে, “নরকাগ্নি নির্ধারিত কয়েকদিন ব্যতিত আমাদিগকে স্পর্শ করিবে না” জিজ্ঞাসা কর, তোমরা কি ঈশ্বর হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছ যে, পরে ঈশ্বর কখনো স্বীয় অঙ্গীকারের অন্যথাচরণ করিবেন না। তোমরা কি ঈশ্বরের সম্বন্ধে যাহা না জান তাহা বলিতেছ?

আয়াতঃ ৮১⇒ হ্যাঁ, যাহারা পাপ করিয়াছে, ও স্বীয় পাপ যাহাদিগকে ঘেরিয়াছে, তাহারা নরকাগ্নির নিবাসী, তাহারা তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা স্বর্গলোকনিবাসী, তাহারা তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি এস্রাইল জাতিকে অঙ্গীকারে বদ্ধ করিয়াছিলাম যে, ঈশ্বর ব্যতিত অন্য কাহারো পূজা করিও না ,পিতামাতার প্রতি এবং স্বগণের প্রতি ও নিরাশ্রয়ের প্রতি এবং দরিদ্রদিগের প্রতি সদাচরণ করিও, এবং লোকদিগকে সৎ কথা বলিও ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখিও এবং ধর্মার্থ দান করিও; তৎপর তোমরা স্বল্প সংখ্যক ব্যতিত অগ্রাহ্য করিলে ও তোমরা অগ্রাহ্যকারী।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি তোমাদিগকে অঙ্গীকারে বদ্ধ করিলাম যে, তোমরা পরস্পরের শোণিতপাত করিও না, এবং পরস্পর আপনাদিগকে আপন গৃহ হইতে তাড়াইও না, তৎপর তোমরা সম্মত হইলে, তোমরাই সাক্ষী।

আয়াতঃ ৮৫⇒ পরন্তু তোমরা সেই সকল লোক, যে পরস্পর আপনাদিগকে হত্যা করিতেছ, এবং তাহাদের প্রতি পাপাচরণ ও অত্যাচার করিতে একজন অন্যজনের সহায় হইতেছ, তাহারা বন্দি হইয়া তোমাদের নিকটে আসিলে তোমরা তাহাদিগকে “ফাদিয়া” (বিনিময়) কর; প্রকৃতপক্ষে তাহাদিগকে তাড়িত কর, তাহা তোমাদের সম্বন্ধে অবৈধ, অনন্তর তোমরা কি কোন গ্রন্থকে বিশ্বাস করিয়া কোন গ্রন্থের প্রতি বিপক্ষতাচরণ কর? তোমাদের মধ্যে যাহারা এরুপ করে তাহাদের পার্থিব জীবনে দুর্গতি ও বিচার দিবসে তাহারা গুরুতর শাস্তিতে প্রত্যানীত হইবে, তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা অজ্ঞাত নহেন।

আয়াতঃ ৮৬⇒ ইহারা সেই সকল লোক যাহারা পরলোকের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করিয়াছে, অতএব ইহাদের সম্বন্ধে দন্ড লঘু হইবে না, এবং ইহারা সাহায্য পাইবে না।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি ও তাহার অন্তে ক্রমান্বয়ে প্রেরিত পুরুষ সকলকে আনিয়াছি, এবং মরিয়মের পুত্র ঈসাকে উজ্জল অলৌকিকতা সকল দান করিয়াছি ও পবিত্রাত্মাযোগে তাহার প্রতি বল বিধান করিয়াছি, পরে যখন কোন প্রেরিত পুরুষ যাহা তোমাদের অন্তর ভালোবাসিত না তাহা লইয়া তোমাদিগের নিকটে উপস্থিত হইল, ভাল, তোমরা তখন অহংকার করিলে? অবশেষে তোমরা এক দলকে বধ করিলে ও এক দলকে মিথ্যাবাদী বলিলে।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং তাহারা বলে যে, “আমাদের অন্তঃকরণ আবৃত” বরং তাহাদের বিরুদ্ধাচারের জন্য তাহাদের প্রতি ঈশ্বর অভিসম্পাত করিয়াছেন, পরন্তু তাহারা যাহা বিশ্বাস করে তাহা অল্প।

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং তাহাদের সঙ্গে যে গ্রন্থ আছে তাহার প্রমানকারী গ্রন্থ (কোরআন) ঈশ্বরের নিকট হইতে যখন তাহাদের সন্নিধানে অবতীর্ণ হইল, তাহারা পূর্ব হইতে ধর্মদ্রোহীদিগের উপর জয়ানবেষন করিতেছিল, অবশেষে তাহাদের নিকটে তাহারা যাহার জ্ঞান রাখিত তাহা উপস্থিত হইলে তাহা অস্বীকার করিল; অতএব সেই ঈশ্বরদ্রোহী লোকদিগের উপর ঈশ্বরের অভিসম্পাত হয়।

আয়াতঃ ৯০⇒ যাহার বিনিময়ে তাহারা জীবনকে বিক্রয় করিয়াছে তাহা অসৎ, এই যে ঈশ্বরের নিকট হইতে যা (প্রত্যাদেশ) অবতীর্ণ, তাহারা বিদ্বেষবশতঃ তাহার বিরোধী হইয়াছে, ঈশ্বর স্বীয় অনুগ্রহে আপন দাসদিগের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা হয় তাহা অবতরণ করেন; অনন্তর তাহারা (পরমেশ্বরের) ক্রোধের পর ক্রোধে প্রত্যাবর্তিত হইল। এবং ঈশ্বরদ্রোহীদিগের জন্য বিষম শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৯১⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল যে, “ঈশ্বর যাহা অবতরণ করিয়াছেন তাহাতে বিশ্বাস কর,” তাহারা বলিল, “আমাদিগের প্রতি যাহা অবতীর্ণ আমরা তাহা বিশ্বাস করিতেছি,” এবং উহা ব্যতিত যাহা, তাহারা তাহার বিরোধী হইল, প্রকৃত পক্ষে ইহা (এই কোরআন) সত্য, তাহাদের নিকটে যাহা (যে পুস্তক) আছে তাহার প্রমাণকারী, তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে তবে ইতিপূর্বে ঈশ্বরের সংবাদবাহকদিগকে কেন বধ করিয়াছিলে?

আয়াতঃ ৯২⇒ এবং সত্যসত্যই মুসা উজ্জল নিদর্শন সকলসহ তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছিল; পরে তোমরা তাহার অগোচরে গোবৎসকে আশ্রয় করিলে ও তোমরা অন্যায়চারী হইলে।

আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং যখন আমি তোমাদের হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিলাম ও তোমাদের উপর তূরগিরি উত্থাপন করিয়া বলিলাম, “যাহা আমি দান করিলাম তাহা দৃঢ়রুপে গ্রহণ কর ও শ্রবন কর”; বলিল, “শুনিলাম ও অগ্রাহ্য করিলাম”; তাহারা স্বীয় বিদ্রোহিতাবশতঃ আপন অন্তরে গোবৎসের (প্রেম) পান করিল, বল (হে মুহাম্মদ) যদি তোমরা ধার্মিক, তবে তোমাদের ধর্ম যাহা আদেশ করিতেছে তাহা অকল্যাণ।

আয়াতঃ ৯৪⇒ বল, যদি ঈশ্বরের নিকটে অপর লোক অপেক্ষা তোমাদের জন্য বিশেষ পারলৌকিক আলয় থাকে তবে মৃত্যুকে আকাঙ্ক্ষা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

আয়াতঃ ৯৫⇒ এবং পূর্বে তাহাদের হস্ত যাহা প্রেরণ করিয়াছে সেই কারনে তাহারা তাহা (মৃত্যু) কখনো আকাঙ্ক্ষা করিবে না, পরমেশ্বর অত্যাচারীদিগকে জ্ঞাত আছে।

আয়াতঃ ৯৬⇒ অবশ্য তুমি তাহাদিগকে পার্থিব জীবনের প্রতি অন্য লোক অপেক্ষা এবং অনেকেশ্বরবাদীদিগের অপেক্ষা অধিক আসক্ত পাইবে, তাহাদের এক-এক জন সহস্র বৎসর আয়ু প্রদত্ত হয় এরুপ ইচ্ছা করে, এবং (এই প্রকার) জীবন প্রদত্ত হইলেও তাহা তাহাদিগকে শাস্তি হইতে রক্ষা করিবে না ও তাহারা যাহা করে ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ৯৭⇒ বল, যে ব্যক্তি জেব্রিলের বিরোধী হয় (সে কেমন অনিষ্ট করে?) কেননা নিশ্চয় সে ঈশ্বরের আদেশে তোমার অন্তরে ইহা (কোরআন) অবতারন করে, তাহার (ইহুদীর) হস্তে যে গ্রন্থ আছে ইহা তাহার সত্যতার প্রতিপাদক ও বিশবাসীদিগের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।

আয়াতঃ ৯৮⇒ যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাহার দেবগণের ও তাহার প্রেরিতগণের এবং জেব্রিল ও মেকাইলের বিরোধী হয় পরে নিশ্চয় ঈশ্বর সেই ধর্মবিরোধীর বিরোধী হন।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমার নিকটে উজ্জল নিদর্শন সকল উপস্থিত করিয়াছি, এবং দুর্বৃত্ত লোক ব্যতিত কেহ তাহার বিরোধী হয় না।

আয়াতঃ ১০০⇒ কেমন, যখন তাহারা প্রতিজ্ঞা বন্ধন করিল তখন তাহাদের এক দল তাহা পরিত্যাগ করিল, এবং তাহাদের অধিকাংশ বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং যখন ঈশ্বরের নিকট হইতে তাহাদের সন্নিধানে প্রেরিত পুরুষ তাহাদের সঙ্গে যাহা (যে পুস্তক) আছে তাহার সত্যতা প্রতিপাদন করিতে আগমন করিল, সেই যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদের একদল ঐশী গ্রন্থকে আপন পশ্চাতভাগে নিক্ষেপ করিল, যেন তাহারা ইহা জ্ঞাত নহে।

আয়াতঃ ১০২⇒ এবং সোলায়মানের রাজত্বকালে দৈত্যগণ যাহা অধ্যায়ন করিত, তাহারা উহা অনুসরণ করিয়াছে, সোলায়মান ধর্ম বিরোধী হয় নাই; কিন্তু দৈত্যগণ ধর্মবিরোধী হইয়াছিল, তাহারা লোকদিগকে ঐন্দ্রজালিক বিদ্যা শিক্ষা দিত এবং বাবেল নগরে দুই দেবতা হারুত-মারুতের প্রতি যাহা (সঙ্ঘটিত হইয়াছিল উহারা উহার অনুসরণ করিতেছে) কিন্তু তাহারা যে পর্যন্ত না ব্যক্ত করিতেছিল যে আমরা পরীক্ষায় পড়িয়াছি, অতএব তোমরা কাফের হইও না, সে পর্যন্ত কাহাকেও শিক্ষাদান করিত না; পরে লোকে যাহা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সঙ্ঘটিত হয় তাহাদের নিকটে তাহা শিক্ষা করিত; এবং তাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা ব্যতিত কাহারও ক্ষতি করিতে পারে না, এবং তাহারা তাহা শিক্ষা করে  যাহাতে তাহাদেরই ক্ষতি হয় লাভ হয় না, এবং সত্যসত্যই তাহারা জ্ঞাত আছে যে, যে ব্যক্তি তাহা (ঐন্দ্রজালিক বিদ্যা) ক্রয় করিয়াছে পরকালে তাহার কোন লাভ হয় নাই, তাহার বিনিময়ে যে আত্মবিক্রয় করিয়াছে নিশ্চয় তাহা মন্দ, তাহারা তাহা বুঝিলে ভাল ছিল।

আয়াতঃ ১০৩⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা যদি বিশ্বাসী হইত, বৈরাগ্য অবলম্বন করিত, তবে নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটে উত্তম পুরষ্কার হইত, যদি তাহারা বুঝিত, ভাল ছিল।

আয়াতঃ ১০৪⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, “রাআনা” এই শব্দ উচ্চারন করিও না, এবং বলিও আমাদিগকে লক্ষ্য কর ও শ্রবন কর, এবং ঈশ্বরদ্রোহী লোকদিগের জন্য ক্লেশজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১০৫⇒ গ্রন্থাবলম্বী ব্যক্তিদিগের মধ্যে যাহারা ঈশ্বরদ্রোহী হইয়াছে তাহারা এবং অংশীবাদীরা তোমাদের প্রতি ঈশ্বর হইতে কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হয় ইহা ভালোবাসে না, এবং ঈশ্বর নিজ কৃপাগুনে যাহাকে ইচ্ছা হয় বিশেষত্ব দান করেন, ঈশ্বর মহান সমুন্নত।

আয়াতঃ ১০৬⇒ আমি কোন নিদর্শনের যাহা খন্ডন করি, অথবা বিস্মৃত করাইয়া থাকি তাহা অপেক্ষা উত্তম বা তত্তুল্য (নিদর্শন) আনয়ন করিয়া থাকি; তুমি কি জ্ঞাত হও নাই যে ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী?

আয়াতঃ ১০৭⇒ তোমরা কি জান নাই যে দ্যুলোক এবং ভূলোকের রাজত্ব ঈশ্বরেরই, এবং ঈশ্বর ব্যতিত তোমাদের বন্ধু ও সহায় নাই?

আয়াতঃ ১০৮⇒ ইতিপূর্বে যেমন মুসাকে প্রশ্ন করিয়াছিল, তোমরাও কি আপনাদের তত্ত্ববাহককে সেইরুপ প্রশ্ন করিতে চাহ? এবং যে ব্যক্তি অবিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসের বিনিময় করে, পরে নিশ্চয় সে সরল পথ হারায়।

আয়াতঃ ১০৯⇒ তোমাদের বিশ্বাস লাভের পর তোমাদিগকে যেন ঈশ্বরদ্রোহী করিয়া তোলে গ্রন্থধারীদিগের অনেকে আন্তঃরিক বিদ্বেষবশতঃ তাহাদের জন্য সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর ইহা ভালোবাসিয়াছে, যে পর্যন্ত ঈশ্বর স্বীয় আজ্ঞা উপস্থিত না করেন তোমরা ক্ষমা করিতে থাক ও উপেক্ষা কর, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১১০⇒ তোমরা নমাজকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও জকাত দান কর, এবং সৎকার্য দ্বারা যাহা নিজের জন্য পূর্বে পাঠাইবে ঈশ্বরের নিকটে তাহা প্রাপ্ত হইবে, তোমরা যাহা কর নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং তাহারা বলে যাহারা মুসায়ী ও ঈসায়ী লোক হয় তাহারা ব্যতিত অন্য কেহ কখনো স্বর্গেও যাইবে না, তাহাদের ইহাই আকিঞ্চন; বল, (হে মুহাম্মদ) যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আপনাদের প্রমান উপস্থিত কর।

আয়াতঃ ১১২⇒ হ্যাঁ, যে ব্যক্তি পরমেশ্বরের দিকে আপনার আনন স্থাপন করিয়াছে, এবং সৎকর্মশীল হইয়াছে, পরে তাহার জন্য তাহার প্রতিপালকের নিকটে পুরষ্কার আছে ও তাহার সম্বন্ধে ভয় নাই, সে শোকগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ ১১৩⇒ এবং মুসায়ীরা বলে যে, ঈসায়ীগণ কিছুই নয়, এবং ঈসায়ীরা বলে, মুসায়ীগণ কিছুই নয়, ইহারা সকলেই গ্রন্থ অধ্যায়ন করে; এইরুপ যাহারা জ্ঞানহীন তাহারাও ইহাদের ন্যায় কথা বলিয়া থাকে, কিন্তু ইহাদের যে বিষয় লইয়া তদ্বিষয়ে ঈশ্বর বিচারদিবসে ইহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করিবেন।

আয়াতঃ ১১৪⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের মন্দির সকলে তাহার নাম চর্চা করিতে দিতেছে না ও তাহা উৎসন্ন করিতে চেষ্টা করিয়াছে, তাহাদের অপেক্ষা সমধিক অত্যাচারী কে? সেই সকল লোকের উচিত নহে যে, শঙ্কিত না হইয়া তন্মধ্যে প্রবেশ করে, তাহাদের জন্য পৃথিবীতে দুর্গতি ও পরলোকে কঠিন শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিক ঈশ্বরের, অতএব যেদিকে তোমরা মুখ ফিরাইবেসেই দিকেই ঈশ্বরের আনন, নিশ্চয় ঈশ্বর প্রমুক্ত ও জ্ঞানী।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং তাহারা বলে, ঈশ্বর সন্তান গ্রহণ করিয়াছিলেন; তিনি নির্বিকার, বরং ভূমণ্ডলে ও নভোমণ্ডলে যাহা আছে তাহা তাঁহারই ও সকলে তাঁহারই আজ্ঞানুবর্তী।

আয়াতঃ ১১৭⇒ তিনি দ্যুলোক ও ভূলোকের স্রষ্টা, এবং যখন তিনি কোন কার্য করেন তখন তাহার জন্য ‘হও’ মাত্র বলেন ইহা বৈ নহে, তাহাহেই হয়।

আয়াতঃ ১১৮⇒ এবং অজ্ঞান লোকেরা বলিয়া থাকে যে, “ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে কেন কথা কহেন না, এবং কেন আমাদিগের নিকটে নিদর্শন আসিতেছে না?” এইরুপে ইহাদের বাক্যের ন্যায় ইহাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও বলিয়াছে, ইহাদিগের অন্তরের পরস্পর সাদৃশ্য আছে, নিশ্চয় আমি বিশ্বাসীমণ্ডলীর জন্য নিদর্শন সকল ব্যক্ত করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১১৯⇒ নিশ্চয় আমি যথার্থ ভাবে তোমাকে সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শকরুপে পাঠাইয়াছি, এবং নারীদিগের বিষয়ে তুমি জিজ্ঞাসিত হইবে না।

আয়াতঃ ১২০⇒ এবং ইহুদী ও ঈসায়ী লোকেরা তুমি তাহাদের ধর্মের অনুসরণ না করিলে কখনো তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হইবে না, বল, নিশ্চয় ঈশ্বরের উপদেশই সেই উপদেশ, এবং তোমার নিকটে যে জ্ঞান উপস্থিত হইয়াছে তাহার পর যদি তুমি তাহাদের ইচ্ছার অনুসরণ কর তবে ঈশ্বরের (শাস্তি হইতে রক্ষা করিবার) তোমার কোন বন্ধু ও সহায় নাই।

আয়াতঃ ১২১⇒ যাহারা আমি যে গ্রন্থ তাহাদিগকে দিয়াছি তাহার বিশুদ্ধ অধ্যায়নরুপে অধ্যায়ন করে তাহারা এতৎপ্রতি (কোরআন গ্রন্থে) বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে, এবং যে সকল লোক ইহাকে অগ্রাহ্য করিতেছে অনন্তর ইহারাই তাহারা যে অনিষ্টকারী।

আয়াতঃ ১২২⇒ হে এস্রায়েল বংশীয় লোক সকল, যাহা আমি তোমাদিগকে দান করিয়াছি সেই মৎপ্রদত্ত সম্পদ স্মরণ কর, নিশ্চয় আমি সকল লোকের উপ্রতোমাদিগকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ১২৩⇒ এবং সেই দিনকে ভয় কর যেদিনে কেহ কাহার কিছু উপকার করিবে না ও কাহা হইতে বিনিময় গৃহীত হইবে না, এবং পাপ-ক্ষমার অনুরোধ কাহাকেও ফল বিধান করিবে না ও তাহাদিগকে সাহায্য করা যাইবে না।

আয়াতঃ ১২৪⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন এব্রাহিমকে তাহার প্রতিপালক কয়েক কথায় পরীক্ষা করিলেন, পরে সে তাহা পূর্ণ করিল, তিনি বলিলেন, নিশ্চয় আমি তোমাকে মনুষ্য জাতির নেতা করিতেছি”। সে বলিল, “আমার বংশের লোকদিগকেও করিবে”, তিনি বলিলেন, “অত্যাচারীদিগের প্রতি আমার অঙ্গীকার পৌঁছে না।“

আয়াতঃ ১২৫⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি মনুষ্যের জন্য শান্তিস্থান ও প্রত্যাবর্তনভূমি কাবা মন্দির নির্মাণ করিলাম, এবং (বলিলাম) তোমরা এব্রাহিমের স্থানকে উপাসনাভূমি কর, আমি এব্রাহিম ও এসমাইলকে আদেশ করিয়াছিলাম  যেন প্রদক্ষিনকারী ও নির্জনতাব্রতধারী, উপাসনাকারী, প্রনামকারী লোকদিগের জন্য আমার মন্দিরকে পবিত্র রাখে।

আয়াতঃ ১২৬⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন এব্রাহিম বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, এই নগরকে তুমি শান্তিযুক্ত কর, ইহার অধিবাসীদিগের মধ্যে যাহারা ঈশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদিগকে জীবিকারুপে ফলদান কর;” তিনি বলিলেন, “যে ব্যক্তি ঈশ্বরদ্রোহী তাহাকে আমি স্বল্প ভোগ করিতে দিব, তৎপর উপায়হীন করিয়া তাহাকে নরকের দিকে আনয়ন করিব, (তাহা) মন্দ স্থান”।

আয়াতঃ ১২৭⇒ এবং যখন এব্রাহিম ও এসমাইল মন্দিরের প্রাচীর সকল উন্নত করিয়া তুলিল, তখন (বলিল) “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদিগ হইতে গ্রহণ কর, নিশ্চয় তুমি শ্রোতা ও জ্ঞাতা”।

আয়াতঃ ১২৮⇒ “হে আমাদের প্রতিপালক, এবং আমাদিগকে তুমি স্বীয় অনুগত করিয়া লও ও আমাদিগের সন্তানদিগকে আপন অনুপাত মণ্ডলী করিয়া লও, এবং আমাদিগকে উপাসনাপ্রনালী প্রদর্শন কর ও আমাদিগের প্রতি প্রত্যাবর্তন কর, নিশ্চয় তুমি প্রত্যাবর্তনকারী ও কৃপালু।“

আয়াতঃ ১২৯⇒ “হে আমাদের প্রতিপালক, এবং তাহাদিগের (বংশ) হইতে তাহাদিগের নিকটে প্রেরিত পুরুষ প্রেরণ কর, তাহাঁরা তাহাদিগের নিকট তোমার নিদর্শন সকল পাঠ করিবেন ও তাহাদিগকে ধর্ম পুস্তক ও জ্ঞান শিক্ষা দিবেন এবং তাহাদিগকে শুদ্ধ করিবেন, নিশ্চয় তুমি পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা”।

আয়াতঃ ১৩০⇒ যাহারা আত্মজ্ঞানবিহীন তাহারা ব্যতিত কে এব্রাহিম-প্রবর্তিত ধর্মের প্রতি বিমুখ হয়? এবং সত্যসত্যই আমি তাহাকে ইহলোকে গ্রহণ করিয়াছি, এবং নিশ্চয় যে পরলোকে সাধুদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ১৩১⇒ যখন তাহার প্রতিপালক তাহাকে বলিলেন, “অনুগত হও” সে বলিল, “বিশ্ব-পালকের অনুগত হইলাম।“

আয়াতঃ ১৩২⇒ এবং এব্রাহিম ও ইয়াকুব স্বীয় পুত্রদিগকে উপদেশ দিয়াছিল যে, “হে আমার পুত্রগণ, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করিয়াছেন, অতএব  ধর্মাবলম্বী না হইয়া প্রাণ ত্যাগ করিও না।“

আয়াতঃ ১৩৩⇒ যখন ইয়াকুবের মৃত্যু সংঘটিত হয় তখন তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? সেই সময় সে আপন পুত্রদিগকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল যে, “আমার অভাব হইলে তোমরা কোন বস্তুর উপাসনা করিবে?” তাহারা বলিয়াছিল, “আমরা তোমার ও তোমার পিতৃপুরুষ এব্রাহিম ও এসমাইল এবং এসহাকের ঈশ্বরের উপাসনা করিব, সেই ঈশ্বর একমাত্র, এবং আমরা তাঁহারই অনুগত”।

আয়াতঃ ১৩৪⇒ সেই মণ্ডলী চলিয়া গিয়াছে, তাহারা যাহা সঞ্চয় করিয়াছে তাহা তাহাদেরই জন্য, ও তোমরা যাহা সঞ্চয় করিয়াছ তাহা তোমাদের জন্য, এবং তাহারা যাহা করিয়াছে তদ্বিষয়ে তোমাদিগের নিকটে প্রশ্ন হইবে না।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ তাহারা বলে, “মুসায়ী হও বা ঈসায়ী হও তবে পথ প্রাপ্ত হইবে, তুমি বল, বরং এব্রাহিমের ধর্ম সত্য, এবং তিনি অনেশ্বরবাদী ছিলেন না।

আয়াতঃ ১৩৬⇒ তোমরা বল, আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, এবং যাহা এব্রাহিমের প্রতি ও যাহা এসমাইল। এসহাক, ইয়াকুব এবং (তাঁহাদের) সন্তানগণের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে, ও যাহা মুসা ও ঈসার প্রতি প্রদত্ত হইয়াছে, তৎসমুদয়ের প্রতি (বিশ্বাস স্থাপন করিলাম) তাঁহাদের মধ্যে কাহাকেও প্রভেদ করিতেছি না, এবং আমরা তাঁহারই অনুগত।

আয়াতঃ ১৩৭⇒ অনন্তর তোমরা যাহাতে যেরুপ বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছ যদি তৎপ্রতি তদ্রুপ তাহারা বিশ্বাস স্থাপন করে তবে নিশ্চয় আলোক পাইতে পারে, এবং যদি বিমুখ হয় তবে তাহারা বিরোধী, ইহা বৈ নহে, অতএব  সত্বরই ঈশ্বর তাহাদিগ হইতে প্রতিশোধ লইবেন, এবং তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৩৮⇒ ঈশ্বর প্রদত্ত বর্ণ আছে, এবং বর্ণদান বিষয়ে ঈশ্বর অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ? ও আমরা তাঁহারই উপাসক।

আয়াতঃ ১৩৯⇒ (বল) ঈশ্বর সম্বন্ধে তোমরা কি আমাদের সঙ্গে বিতণ্ডা করিতেছ? এবং তিনি আমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক, এবং আমাদের জন্য আমাদের কার্য ও তোমাদের জন্য কার্য, এবং আমরা তাঁহার প্রেমানুগত।

আয়াতঃ ১৪০⇒ তোমরা কি বলিয়া থাক যে, এব্রাহিম, এসমাইল ও এসহাক এবং সন্তানগণ মুসায়ী কিংবা ঈসায়ী ছিল? জিজ্ঞাসা কর, (হে মুহাম্মদ) তোমরা অধিক জ্ঞানী, না ঈশ্বর? এবং যে ব্যক্তি নিজের নিকটে বিদ্যমান ঈশ্বর সম্বন্ধীয় সাক্ষ্য গোপন করিতেছে তাহা অপেক্ষা অত্যাচারী কে? তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা অজ্ঞাত নহেন।

আয়াতঃ ১৪১⇒ সেই এক সম্প্রদায় ছিল নিশ্চয়ই চলিয়া গিয়াছে , তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা তাহাদের জন্য ও তোমরা যাহা করিয়াছ তাহা তোমাদের জন্য, তাহারা যাহা করিতেছে তন্নিমিত্ত তোমাদিগের প্রতি প্রশ্ন হইবে না।

আয়াতঃ ১৪২⇒ এক্ষন নির্বোধ লোকেরা বলিবে যে, যে কেবলাতে তাহারা ছিল  তাহাদের সেই কেবলা হইতে তাহাদিগকে কিসে ফিরাইল, বল, পূর্ব ও পশ্চিম ঈশ্বরের, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন সরল পথের অভিমুখে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ১৪৩⇒ এবং আমি তোমাদিগকে এইরুপ অসাধারন মণ্ডলী প্রস্তুত করিয়াছি যে, তোমরা লোকের নিকটে সাক্ষী হইবে, এবং যে ব্যক্তি স্বীয় পদদ্বয়ের উপর ফিরিয়া যায় তাহাকে ছাড়িয়া যে ব্যক্তি (স্বতন্ত্র) প্রেরিত পুরুষের অনুগত হয় তাহাকে জানিবার জন্য ব্যতিত তুমি যাহার অভিমুখে ছিলে আমি সেই কেবলা নির্ধারণ করি নাই, এবং সংবাদবাহক তোমাদের নিকটে সাক্ষী হইবে, নিশ্চয় (এ বিষয়টি) গুরুতর, কিন্তু ঈশ্বর যাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন তাঁহাদের জন্য নহে, এবং ঈশ্বর (এরুপ) নহেন যে, তোমাদের ধর্ম নষ্ট করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর লোকের প্রতি প্রেমিক ও অনুগ্রহকারী।

আয়াতঃ ১৪৪⇒ নিশ্চয় আমি (হে মুহাম্মদ) আকাশের দিকে তোমার আনন প্রত্যাবর্তিত দেখিতেছি, অতএব  তুমি যাহার প্রতি সন্তুষ্ট হইবে সই কেবলার দিকে অবশ্য আমি তোমাকে ফিরাইব, অনন্তর তুমি কাবার দিকে মুখ ফিরাও, তোমরা (হে মোসলমানগণ) যে স্থানে আছ পরে তথা হইতে আপনাদিগের মুখ সেইদিকে ফিরাও, এবং নিশ্চয় যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদত্ত হইয়াছে, তাহারা জানিবে যে, ইহা তাহাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্য, এবং যাহা তাহারা করে তাহা ঈশ্বরের অগোচর নহে।

আয়াতঃ ১৪৫⇒ এবং যাহাদিগকে পুস্তক প্রদত্ত হইয়াছে, যদি তুমি তাহাদের নিকটে সমুদয় নিদর্শন উপস্থিত কর তাহারা তোমার কেবলার অনুসরণ করিবে না, এবং তুমিও তাহাদের কেবলার অনুসরণকারী নও, এবং তাহারা পরস্পর পরস্পরের কেবলার অনুসরণকারী নহে, এবং তোমার নিকটে যে জ্ঞান সমাগত হইয়াছে তুমি তাহার পর  যদি আমাদের ইচ্ছার অনুসরণ কর তবে নিশ্চয় তুমি একজন অত্যাচারী হইবে।

আয়াতঃ ১৪৬⇒ আমি যাহাদিগকে পুস্তক দান করিয়াছি তাহারা তাহা এরুপ জানিতেছে যেরুপ আপনাদিগের সন্তানদিগকে জানিতেছে, এবং নিশ্চয় তাহাদের একদল জ্ঞাতসারে সত্যকে গোপন করিতেছে।

আয়াতঃ ১৪৭⇒ ইহা তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে (আগত) সত্য, অতএব তুমি সংশয়ীদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ১৪৮⇒ এবং প্রত্যেকের জন্য এক দিক আছে, সে সেই দিকে মুখ ফিরায়, অতএব (হে মোসলমানগণ) কল্যাণের দিকে অগ্রসর হও, তোমরা যেদিকে থাকো না কেন, ঈশ্বর তোমাদের সকলকে (কেয়ামতে) একত্র করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ১৪৯⇒ এবং তুমি যে স্থানে যাইবে (হে মুহাম্মদ) স্বীয় আনন মসজেদোল হরামের দিকে ফিরাইও এবং নিশ্চয় ইহা তোমার প্রতিপালক হইতে (আগত) সত্য, এবং তোমরা যাহা করিতেছ তাহা ঈশ্বরের অগোচর নহে।

আয়াতঃ ১৫০⇒ এবং তুমি যে স্থানে যাইবে স্বীয় আনন মসজেদোল হরামের দিকে ফিরাইও ও তোমরা যে স্থানে থাকিবে স্বীয় মুখ সেইদিকে ফিরাইও, তাহা হইলে তাহাদের যে সকল লোক অত্যাচার করিয়াছে তাহারা ভিন্ন অন্য লোকের তোমাদিগের প্রতি আপত্তি থাকিবে না, পরন্তু তাহাদিগকে ভয় করিও না, এবং আমা হইতে ভীত হইও, এবং তাহা হইলে আমি তোমাদের প্রতি আমার দান পূর্ণ করিব, এবং তোমরা তাহাতে পথ প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৫১⇒ যথা আমি তোমাদিগের দল হইতে তোমাদিগের নিকট প্রেরিত পুরুষ পাঠাইয়াছি, যেন সে তোমাদিগের নিকটে আমার নিদর্শন সকল পাঠ করে ও তোমাদিগকে শুদ্ধ করে, এবং উচ্চ জ্ঞান ও গ্রন্থ শিক্ষা দেয়, এবং তোমরা যাহা জান না তাহার শিক্ষা দান করে।

আয়াতঃ ১৫২⇒ অতএব আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদিগকে স্মরণ করিব, এবং আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও ও বিদ্রোহী হইও না।

আয়াতঃ ১৫৩⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, তোমরা সহিষ্ণুতা ও উপাসনা বিষয়ে সাহায্য অন্বেষণ কর, নিশ্চয় ঈশ্বর সহিষ্ণুদিগের সহায়।

আয়াতঃ ১৫৪⇒ এবং বলিও না, যে সকল লোক ঈশ্বরের পথে নিহত হইয়াছে, তাহারা মরিয়াছে, বরং জীবিত হইয়াছে, কিন্তু তোমরা জ্ঞাত নহ।

আয়াতঃ ১৫৫⇒ এবং নিশ্চয় আমি তোমাদিগকে ভয় ও অন্নাভাব ও ধনহানি ও প্রানহানি এবং ফলহানি ইহার কোন একটি দ্বারা পরীক্ষা করি, এবং সহিষ্ণুদিগকে সুসংবাদ দান করি।

আয়াতঃ ১৫৬⇒ যখন আপনাদের সঙ্কট উপস্থিত হয় তখন যাহারা বলে নিশ্চয় আমরা ঈশ্বরেরই ও নিশ্চয় আমরা তাঁহার প্রতি প্রত্যাবর্তনকারী।

আয়াতঃ ১৫৭⇒ এবং এই সকল লোক,ইহাদের প্রতি ঈশ্বরের ক্ষমা ও কৃপা, এবং এই সকল লোক, ইহারা সৎপথগামী।

আয়াতঃ ১৫৮⇒ নিশ্চয় সফা ও মরওয়া গিরি ঈশ্বরের নিদর্শন বিশেষ, অতএব যে ব্যক্তি মক্কা মন্দিরে হজ্ব কার্য করে, কিংবা ওমরা করে, এই দুইকে প্রদক্ষিন করা তাহার প্রতি অপরাধ নহে; এবং যে ব্যক্তি আগ্রহসহকারে সৎকর্ম করে, পরে নিশ্চয় ঈশ্বর (তাহার) মর্যাদাভিজ্ঞ ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৫৯⇒ নিশ্চয় আমি যাহা কিছু নিদর্শন ও উপদেশ প্রেরণ করিয়াছি তাহা মানব মণ্ডলীর জন্য গ্রন্থে ব্যক্ত করিলে পর যাহারা তাহা গোপন করে, এই তাহারাই, তাহাদিগকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করেন, এবং অভিসম্পাতকারীগণ তাহাদিগকে অভিসম্পাত করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১৬০⇒ কিন্তু যাহারা মন পরিবর্তন ও সৎকর্ম করিয়াছে ও ব্যক্ত করিয়াছে, পরে আমি তাহাদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করিব ও আমি প্রত্যাবর্তনকারী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৬১⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও ধর্মদ্রোহীর অবস্থায় মরিয়াছে, তাহাদের প্রতি ঈশ্বরের ও দেবগণের এবং সমুদয় লোকের অভিসম্পাত।

আয়াতঃ ১৬২⇒ তাহারা তাহাতে (সেই অভিসম্পাতে) সর্বদা থাকিবে, তাহাদিগ হইতে শাস্তি খর্ব করা হইবে না ও তাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া হইবে না।

আয়াতঃ ১৬৩⇒ এবং তোমাদের ঈশ্বর একমাত্র, সেই ঈশ্বর ব্যতিত উপাস্য নাই, তিনি দাতা ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১৬৪⇒ নিশ্চয় স্বর্গ ও মর্ত সৃজনে ও দিবা-রজনীর পরিবর্তনে এবং সমুদ্রেচালিত পোতে যাহাতে লোকে লাভ করে, এবং ঈশ্বর আকাশ হইতে বারিবর্ষণপূর্বক তদ্বারা ভূমিকে যে তাহার মৃত্যুর পর জীবন দান এবং তদুপরি বিবিধ জন্তু সঞ্চারিত করিয়াছেন তাহাতে ও বায়ুমণ্ডল এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থ মেঘের সঞ্চারে সত্যই বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্য নিদর্শন সকল রহিয়াছে।

আয়াতঃ ১৬৫⇒ এবং মনুষ্যজাতির মধ্যে এমন লোক আছে যে, সে ঈশ্বরকে ছাড়িয়া ঈশ্বরের অংশী সকলকে গ্রহণ করে, ঈশ্বরের প্রতি প্রীতির ন্যায় তাহাদিগকে প্রীতি করে, কিন্তু যাহারা বিশ্বাসী তাহারা ঈশ্বরের প্রতি দৃঢ়তর প্রেমিক। এবং যাহারা অহিতাচরণ করিয়াছে তাহারা তখন যে শাস্তি দেখিবে হায়! যদি তাহা দেখিত। ঈশ্বরের জন্যই পূর্ণ ক্ষমতা, এবং নিশ্চয় ঈশ্বর কঠিনদাতা।

আয়াতঃ ১৬৬⇒ (স্মরণ কর) যখন অগ্রনী লোকেরা অনুযায়ীবৃন্দের প্রতি বিরাগ প্রকাশ করিবে ও শাস্তিভোগ করিতে থাকিবে, এবং তাহাদের সম্বন্ধ ছিন্ন হইয়া যাইবে।

আয়াতঃ ১৬৭⇒ এবং সেই অনুযায়ীগণ বলিবে যে যদি আমাদের প্রতিগমন হইত, তাহা হইলে আমাদিগের প্রতি যেমন তাহারা (অগ্রনিগণ) বিরাগী হইয়াছে আমরাও তাহাদের প্রতি বিরাগী হইতাম; এইরুপ ঈশ্বর তাহাদের কার্যাবলী যে তাহাদের সম্বন্ধে আক্ষেপে পরিণত ইহা তাহাদিগকে দেখাইবেন, এবং তাহারা নরকাগ্নি হইতে মুক্ত হইবে না।

আয়াতঃ ১৬৮⇒ হে লোক সকল, তোমরা পৃথিবীতে যাহা বৈধ, শুদ্ধ তাহাই ভক্ষন করিও, এবং শয়তানের পদানুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের স্পষ্ট শত্রু।

আয়াতঃ ১৬৯⇒ তোমরা দুষ্কর্ম ও নির্লজ্জ কাজে (লিপ্ত হও) এবং ঈশ্বর সম্বন্ধে যাহা জ্ঞাত নও তাহা বল, ইহা ব্যতিত সে তোমাদিগকে আদেশ করিবে না।

আয়াতঃ ১৭০⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইবে যে, ঈশ্বর যাহা প্রেরণ করিয়াছেন তাহা অনুসরণ কর, তাহারা বলিবে আমাদিগের পিতৃপুরুষদিগকে আমরা যে বিষয়ে প্রাপ্ত হইয়াছি বরং তাহার অনুসরণ করিব, যদিচ তাহাদের পিতৃপুরুষগন কিছুই বুঝিত না ও পথভ্রান্ত ছিল।

আয়াতঃ ১৭১⇒ কেহ কোন বিষয় ডাকিয়া বলিলে যে ব্যক্তি আহ্বান শব্দ ও ধ্বনি ভিন্ন শুনিতে পায় না ধর্মদ্রোহিগণ তাহার অনুরুপ, তাহারা বধির, মূক ও অন্ধ; অতএব তাহারা বুঝিতে পারে না।

আয়াতঃ ১৭২⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, বিশুদ্ধ বস্তু হইতে আমি যাহা তোমাদিগকে জীবিকা দান করিয়াছি তাহা ভক্ষন কর, ঈশ্বরের গুনানুবাদ কর, যদি তোমরা তাঁহাকে পূজা করিয়া থাকো।

আয়াতঃ ১৭৩⇒ তোমাদিগের সম্বন্ধে শব, শোনিত ও বরাহমাংশ এবং যাহা ঈশ্বর ভিন্ন অন্য দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলি প্রাপ্ত হইয়াছে ইহা বৈ নিষিদ্ধ নহে, পরন্তু যে ব্যক্তি অত্যাচার ও সীমা লঙ্ঘন না করিয়া বিপদাকুল হইয়াছে তাহার পক্ষে দোষ নাই, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১৭৪⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর যাহা গ্রন্থে অবতারন করিয়াছেন তাহা যে সকল লোক গোপন করে ও তদুপরি সামান্য মূল্য গ্রহণ করে তাহারা স্ব-স্ব পাকস্থলীতে অগ্নি বৈ ভক্ষন করে না, বিচার দিবসে ঈশ্বর তাহাদের সঙ্গে কথা কহিবেন না ও তাহাদিগকে শুদ্ধ করিবেন না, এবং তাহাদের জন্য দুঃখকর শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭৫⇒ ইহারাই যাহারা সৎপথের পরিবর্তে বিপথ, ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করে, ইহারা নরকাগ্নিতে কেমন ধৈর্য ধারন করিবে!

আয়াতঃ ১৭৬⇒ এই সেই কারনে ঈশ্বর সত্য গ্রন্থ অবতারন করিয়াছেন, এবং নিশ্চয় যাহারা গ্রন্থ মধ্যে পরিবর্তন করিয়াছে তাহারা বিরুদ্ধাচারে বহু অগ্রসর।

আয়াতঃ ১৭৭⇒ তোমরা আমাদের আনন পূর্ব ও পশ্চিমাভিমুখে আবর্তন কর, তাহাতে পুণ্য নাই, কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি ও পরকাল ও দেবগণ ও গ্রন্থ ও তত্ত্ববাহকগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, এবং ধন, তৎপ্রতি অনুরাগসত্ত্বে আত্মীয়দিগকে, অনাথদিগকে, দরিদ্রদিগকে ও পথিকদিগকে এবং ভিক্ষুকদিগকে ও দাসত্ব মোচনার্থ দান করিয়াছে, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্টিত রাখিয়াছে ও জকাত দিয়াছে, এবং যখন যাহারা অঙ্গীকার করে আপনাদের সেই অঙ্গীকার পালন করিয়া থাকে, এবং যাহারা ধনহীনতায় ও ক্লেশে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যহীন তাহাদেরই পুণ্য, ইহারাই তাহারা যাহারা সত্য বলিয়াছে, ইহারাই তাহারা যাহারা ধর্মভীরু।

আয়াতঃ ১৭৮⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, তোমাদের সম্বন্ধে হত ব্যক্তির বিনিময়ে হত্যা করা লিখিত হইয়াছে; স্বাধীন স্বাধীনের তুল্য, দাস দাসের তুল্য, নারী নারীর তুল্য; যে ব্যক্তি তাহার ভ্রাতার পক্ষ হইতে নিজের জন্য কিছু ক্ষমা প্রাপ্ত হইবে তৎপর বিধির অনুসরণ করিয়া তাহার চলা ও সদ্ভাবে (হত্যার মূল্য) পরিশোধ করা (কর্তব্য), ইহা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে লঘু করা হইল, অনন্তর ইহার পরে যে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করিবে তাহার জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১৭৯⇒ এবং তোমাদের জন্য বিনিময় হত্যাতেই জীবন, হে বুদ্ধিমান লোক সকল, তাহা হইলে তোমরা রক্ষা পাইবে।

আয়াতঃ ১৮০⇒ যখন তোমাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হইবে তখন সম্পত্তি থাকিলে পিতামাতা ও স্বগণের জন্য বৈধরুপে নির্ধারণ করা তোমাদিগের সম্বন্ধে লিখিত হইয়াছে, ঈশ্বর ভীরু লোকদিগের সম্বন্ধে ইহা উচিত।

আয়াতঃ ১৮১⇒ অনন্তর ইহা (অন্তিম নির্ধারণ বাক্য) শ্রবনের পর যে জন ইহার ব্যতিক্রম করে, তখন ইহার অপরাধ তাহারই প্রতি হয়, যে তাহার ব্যতিক্রম করিয়া থাকে ইহা বৈ নহে, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৮২⇒ অবশেষে কেহ অন্তিম নির্ধারণকারীর পক্ষে অসরলতা কিংবা অপরাধ আশঙ্কা করিয়া তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দিলে তাহাতে দূষ্য নহে, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১৮৩⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদিগের যেরুপ রোজা (উপবাসব্রত) লিখিত হইয়াছিল তদ্রুপ তোমাদের জন্য লিখিত হইয়াছে, তাহাতে তোমরা ধৈর্যশীল হইবে।

আয়াতঃ ১৮৪⇒ কতিপয় দিবস (রোজার জন্য) নির্ধারিত, তবে তোমাদের মধ্যে যে কেহ পীড়িত কিংবা দেশ ভ্রমণে প্রবৃত্ত আছে তাহার সম্বন্ধে অন্য কয়েক দিন নির্ধার্য, এবং যে ব্যক্তি ইহাতে সক্ষম হইয়া (পালন করিতে চাহে না) একজন দরিদ্রকে অন্ন বিতরণ করা প্রায়শ্চিত্ত, পরন্তু যে ব্যক্তি অধিক সৎকার্য করে তাহার পক্ষে কল্যাণ যদি জ্ঞাত আছে তবে রোজা পালন করাই তোমাদের শ্রেয়ঃ হয়।

আয়াতঃ ১৮৫⇒ সেই রমজান মাস, যাহাতে মানববৃন্দের পথ প্রদর্শক এবং সৎপথ ও মীমাংসার উচ্চ নিদর্শন কোরআন অবতীর্ণ হইয়াছে। অনন্তর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসে উপস্থিত হইবে সে তাহাতে অবশ্য রোজা পালন করিবে, এবং যে ব্যক্তি পীড়িত বা দেশ ভ্রমণে রত তাহার নিমিত্ত অন্য দিন সকলের গণনা থাকিবে, তোমাদের জন্য সহজ হয় ঈশ্বর আকাঙ্ক্ষা করেন, এবং তোমাদের দুঃসাধ্য হয় ইচ্ছা করেন না; এবং (ইচ্ছা করেন) যে, তোমরা দিনের সংখ্যাকে পূর্ণ কর, এবং তোমাদিগকে যে সৎপথ প্রদর্শন করিয়াছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঈশ্বরকে মহিমান্বিত কর, সম্ভবতঃ তোমরা কৃতজ্ঞ থাকিবে।

আয়াতঃ ১৮৬⇒ এবং যখন (হে মুহাম্মদ) আমার দাসগণ আমার বিষয় তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয় আমি নিকটে থাকি, আমি প্রার্থীর প্রার্থনা গ্রহণ করি, এবং যখন কেহ আমার নিকটে প্রার্থনা করে তখন আমার আজ্ঞাধীন হওয়া ও আমাকে বিশ্বাস করা তাহার উচিত, তাহাতে সে পথপ্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৮৭⇒ রোজার রজনীতে স্ত্রীসংসর্গ তোমাদের জন্য বৈধ হইল, তাহারা (নারীগণ) তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাহাদের আবরণ, তোমরা যে আপনাদের জীবনের ক্ষতি করিয়াছ ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত আছেন, অনন্তর তিনি অনুগ্রহ করিয়া তোমাদের দিকে প্রত্যাবর্তিত হইয়াছেন, এবং তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়াছেন। অতএব এক্ষণ তাহাদের সঙ্গে সহবাস কর, এবং ঈশ্বর তোমাদের জন্য যাহা লিখিয়াছেন তাহা অনুসরণ করিয়া চল, যে পর্যন্ত তোমাদের পক্ষে প্রত্যুষে কৃষ্ণসূত্র হইতে শূভ্রসূত্র দৃষ্ট না হয় সে পর্যন্ত পান ভোজন করিতে থাকো, অতঃপর সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর এবং যখন মসজেদে নির্জনবাসী হইবে তখন স্ত্রীসঙ্গ করিবে না, ইহা ঈশ্বরের নিষেধ; অতএব তাহার (স্ত্রীর) নিকটবর্তী হইও না; এইরুপ পরমেশ্বর লোকের জন্য আপন নিদর্শন সকল ব্যক্ত করেন যেন তাহারা ধর্মভীরু হয়।

আয়াতঃ ১৮৮⇒ তোমরা আপনাদিগের মধ্যে পরস্পরের ধন অন্যায়রুপে ভোগ করিও না, এবং তাহা বিচারপতিগণের নিকট পর্যন্ত আনয়ন করিও না, তাহাতে তাহারাও অধর্মাচারে লোকের ধনের অংশগ্রহণ করিবে, তোমরা ইহা জানিতেছ।

আয়াতঃ ১৮৯⇒ নবীন চন্দ্রদয়ের বিষয়ে (হে মুহাম্মদ) তোমাকে তাহারা প্রশ্ন করিবে, বলিও তাহা মনুষ্য সময় নির্ধারণজন্য ও হজ্বক্রিয়ার জন্য; অতএব গৃহে তোমাদের প্রত্যাগমন পশ্চাতভাগ দিয়া (এহরাম বন্ধনের পর) শ্রেয়ঃ নহে, (ইহাতে কল্যাণ হয় না) কিন্তু বিষয়বিরাগী লোকদিগেরই কল্যাণ হয়, তোমরা গৃহে তাহার দ্বারদেশ দিয়া প্রবেশ করিও এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও, তাহাতে উদ্ধার পাইবে।

আয়াতঃ ১৯০⇒ এবং যাহারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে প্রবৃত্ত হয় ঈশ্বরের পথে তাহাদের সঙ্গে তোমরা যুদ্ধ করিও ও সীমা লঙ্ঘন করিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর সীমা লঙ্ঘনকারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ১৯১⇒ এবং যে স্থানে তাহাদিগকে পাইবে তথায় তাহাদিগকে সংহার কর, এবং তাহারা তোমাদিগকে যে স্থান হইতে নির্বাসিত করিয়াছে তোমরা তাহাদিগকে নির্বাসিত কর, হত্যা অপেক্ষা ধর্মদ্রোহীতা গুরুতর এবং মসজেদোলহরামের নিকটে তোমরা তাহাদের সঙ্গে সংগ্রাম করিও না যে পর্যন্ত না তথায় তাহারা তোমাদের সঙ্গে সংগ্রাম করে, পরন্তু যদি তাহারা তোমাদের সঙ্গে (তথায়) সংগ্রাম করে তোমরাও তাহাদের সঙ্গে সংগ্রাম করিও, কাফেরদিগের প্রতি এইরুপ শাসন।

আয়াতঃ ১৯২⇒ পরন্তু তাহারা নিবৃত্ত থাকিলে নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১৯৩⇒ যে পর্যন্ত না ধর্মদ্রোহীতা হয় ও ঈশ্বরের ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় সে পর্যন্ত তোমরা যুদ্ধ কর, পরে যদি নিবৃত্ত হয় তবে অত্যাচারীর উপর ব্যতিত হস্তক্ষেপ করিতে নাই।

আয়াতঃ ১৯৪⇒ মান্যমাস মান্য মাসের তুল্য, পরস্পর সম্মাননা বিনিময় হইয়া থাকে, অনন্তর কেহ (সেই মাসে) তোমাদিগকে আক্রমণ করিলে যেমন তোমাদিগকে সে আক্রমণ করিল তোমরাও তাহাকে আক্রমণ করিও, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও, এবং জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মভীরু লোকদিগের সঙ্গে থাকেন।

আয়াতঃ ১৯৫⇒ এবং তোমরা ঈশ্বরের পথে অর্থ ব্যয় কর ও মৃত্যুর হস্তে আত্মসমর্পণ কর এবং হিতানুষ্ঠান কর, নিশ্চয় ঈশ্বর হিতকারীকে প্রীতি করেন।

আয়াতঃ ১৯৬⇒ ঈশ্বরের জন্য হজ্ব ও ওমরাব্রত পূর্ণ কর, পরন্তু যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও তবে জবহ করিবার জন্য যে পশু হস্তগত হয় (তাহা প্রেরণ কর) এবং যে পর্যন্ত জবহ করার পশু তাহার স্থানে উপস্থিত না হয় সে পর্যন্ত তোমরা আপন মস্তক মুন্ডিত করিও না; তবে যদি তোমাদের মধ্যে কেহ পীড়িত থাকে কিংবা তাহার মস্তকে কোন ক্লেশ থাকে তবে তৎপ্রায়শ্চিত্তস্বরূপ রোজা বা সেদকা কিংবা জবহ করা বিধেয়, তোমরা নিরাপদ হইলে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্বক্রিয়ার সঙ্গে ওমরাব্রতের ফল লাভ করিল তাহার জন্য সহজলভ্য কোন পশু জবহ করা বিধি, তবে কেহ (তদযোগ্য) পশু প্রাপ্ত না হইলে তাহার জন্য হজ্বক্রিয়ার সময়ে তিন দিন, এবং তোমাদের প্রত্যাবর্তনকালে সাত দিন (রোজা পালন বিধি), এই দশ দিনেতেই পূর্ণতা; যাহার পরিবারস্থ লোক মসজেদোলহরামের প্রতিবাসী নহে তাহাদের জন্য (এই ব্যবস্থা) হইল, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও, জানিও যে ঈশ্বর মহা শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ১৯৭⇒ হজ্বক্রিয়ার মাস সকল নির্ধারিত অনন্তর যে ব্যক্তি তাহাতে হজ্ব কর্মে ব্রতী হয় সে হজ্বক্রিয়াকালে স্ত্রীসঙ্গ করিবে না ও দুষ্ক্রিয়া করিবে না, পরস্পর বিবাদ করিবে না, এবং তোমরা যে সৎকর্ম কর ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন, অপিচ (মক্কা যাইতে) পাথেয় গ্রহণ করিও, পরন্তু নিশ্চয় শ্রেষ্ঠ পাথেয় সংসারবিরাগ, এবং হে জ্ঞানবান লোকসকল, তোমরা আমাকে ভয় করিও।

আয়াতঃ ১৯৮⇒ (হজ্ব কর্মের সময়ে) তোমরা আপন প্রতিপালকের নিকটে গৌরব (অর্থলাভ) অন্বেষণ করিলে তোমাদের পক্ষে অপরাধ হইবে না, অবশেষে যখন তোমরা অরফা হইতে প্রতিগমন করিবে তখন মশারোল হরামের নিকটে ঈশ্বরকে স্মরণ করিও, এবং তিনি যেমন তোমাদিকে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, তোমরাও তদ্রুপ তাহাকে স্মরণ করিও, এবং নিশ্চয় তোমরা ইতিপূর্বে ভ্রান্তদিগের অনুগত ছিলে।

আয়াতঃ ১৯৯⇒ অতঃপর যে স্থান হইতে লোকে প্রতিগমন করে তথা হইতে তোমরা প্রতিগমন করিও, এবং ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ২০০⇒ অনন্তর যখণ তোমরা ধর্মক্রিয়া সমাপ্ত করিবে স্বীয় পিতা পিতামহকে যেরুপ স্মরন করিতে তখন তদ্রুপ বরং তদপেক্ষা অধিক স্মরণরুপে ঈশ্বরকে স্মরণ করিও, পরন্তু লোকের মধ্যে কেহ বলিয়া থাকে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে সংসারে দান কর,” তাহার জন্য পরলোকে কোন লভ্য নাই।

আয়াতঃ ২০১⇒ এবং তাহাদের মধ্যে কেহ বলিয়া থাকে, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে সংসারে কল্যাণ ও পরলোকে কল্যাণ দান কর এবং অগ্নিদগ্ধ হইতে রক্ষা কর”।

আয়াতঃ ২০২⇒ এই সকল লোক যাহা করিয়াছে, ইহাদের তাহার জন্য ফল লাভ আছে, ঈশ্বর বিচারে সত্বর।

আয়াতঃ ২০৩⇒ এবং নির্দিষ্ট দিবস সকলে ঈশ্বরকে স্মরণ করিও, পরন্তু কেহ দুই দিবসের মধ্যে গমনে সত্বর হইলে, তাহার সম্বন্ধে কোন দোষ নাই, এবং যে ব্যক্তি বিলম্ব করিবে অবশেষে তাহার পক্ষে কোন দোষ নাই, যে ব্যক্তি ধর্মভীরু তাহার নিমিত্ত (এই বিধি) ও ঈশ্বরকে ভয় করিও, জানিও নিশ্চয় তোমরা তাহাঁর দিকে সমুত্থিত হইবে।

আয়াতঃ ২০৪⇒ এবং মানব মণ্ডলীর মধ্যে এমন লোক আছে যে, সাংসারিক জীবন সম্বন্ধে তাহার উক্তি তোমাকে (হে মুহাম্মদ) প্রফুল্ল করিতেছে, অতএব সে স্বীয় অন্তরে যাহা আছে তদ্বিষয়ে ঈশ্বরকে সাক্ষী করিয়া থাকে, প্রকৃতপক্ষে সে মহাবিরোধী।

আয়াতঃ ২০৫⇒ এবং যখন সে প্রভুত্ব লাভ করে তখন পৃথিবীতে প্রয়াস পায় যেন তাহাতে অত্যাচার করে, এবং ক্ষেত্র ও পশু সকলকে বিনাশ করিয়া ফেলে, ঈশ্বর অত্যাচারকে প্রীতি করেন না।

আয়াতঃ ২০৬⇒ এবং যখন তাহাকে বলা হয় যে ঈশ্বরকে ভয় কর, তখন অহংকার তাহাকে আক্রান্ত করে, অতএব নরক তাহার লাভনীয়, নিশ্চয় তাহা কুস্থান।

আয়াতঃ ২০৭⇒ এবং লোকমণ্ডলীর মধ্যে এমন লোক আছে যে, সে পরমেশ্বরের প্রসন্নতার উদ্দেশ্যে আত্মবিক্রয় করে, ঈশ্বর সেবকগণের প্রতি প্রসন্ন।

আয়াতঃ ২০৮⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, পূর্ণ এসলাম ধর্মে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদচিহ্নের অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদিগের পক্ষে স্পষ্ট শত্রু।

আয়াতঃ ২০৯⇒ অপিচ তোমাদিগের নিকটে নিদর্শন সকল উপস্থিত হওয়ার পর যদি তোমাদের পদস্ফলন হয় তবে জানিও ঈশ্বর বিজ্ঞাতা ও ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২১০⇒ ঈশ্বর ও দেবগণ মেঘরুপ চন্দ্রাতপের মধ্যে আসিয়া তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইবেন ও তাহাদের কার্যের নিষ্পত্তি হইবে, তাহারা ইহা ব্যতিত প্রতীক্ষা করে না, ঈশ্বরের দিকে কার্য সকলের প্রত্যাবৃত্তি হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২১১⇒ এস্রায়েল সন্ততিদিগকে জিজ্ঞেস কর যে, তাহাদিগকে আমি কি পরিমাণ উজ্জল নিদর্শন দান করিয়াছি, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের দান আপনার নিকটে উপস্থিত হওয়ার পর তাহার পরিবর্তন করে, পরে নিশ্চয় ঈশ্বর (তাহার) তীব্র শাস্তিদাতা।

আয়াতঃ ২১২⇒ যাহারা ঈশ্বরদ্রোহী তাহাদের জন্য সাংসারিক জীবন সজ্জিত হয়, তাহারা বিশ্বাসী লোকদিগকে উপহাস করিয়া থাকে, এবং যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছে, তাহারা বিচার দিবসে সেই সকল লোকের উপর আসন পরিগ্রহ করিবে, ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন অগণ্য জীবিকা দান করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ২১৩⇒ কতকগুলি লোক এক সম্প্রদায়ের বদ্ধ ছিল, পরে ঈশ্বর সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক তত্ত্ববাহকগণকে প্রেরণ করিলেন, এবং তাহাদের সঙ্গে সত্য গ্রন্থ অবতারন করিলেন যেন তাহারা যে বিষয়ে লোকে বিবাদ করিতেছে তদ্বিষয়ে তাহাদিগকে শাসন করে, এবং যাহাদের নিকটে প্রমান সকল উপস্থিত হওয়ার পর তাহাদিগকে (গ্রন্থ) প্রদত্ত হইয়াছে আপনাদের মধ্যে পরস্পর বিদ্বেষপ্রযুক্ত তাহারা ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি বিরুদ্ধাচারী হয় নাই, যাহারা তদ্বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিয়া পরে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ঈশ্বর তাহাদিগকে স্বীয় ইচ্ছায় সত্যের পথ প্রদর্শন করিয়াছেন; এবং ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে সরল পথ প্রদর্শন করেন।

আয়াতঃ ২১৪⇒ তোমরা কি স্বর্গে গমন করিবে মনে করিতেছ? এদিকে যাহারা তোমাদিগের পূর্বে চলিয়া গিয়াছে, তাহাদের অবস্থা তোমরা প্রাপ্ত হও নাই; তাহাদিগকে দুঃখ বিপদ আক্রমণ করিয়াছিল, এবং তাহারা বিকম্পিত হইয়াছিল, এতদূর পর্যন্ত যে তত্ত্ববাহক ও তাহার অনুবর্তী বিশ্বাসীগণ বলিতেছিল যে, কবে ঈশ্বরের আনুকূল্য পৌঁছিবে, জানিও ঈশ্বর আনুকূল্য দানে সমীপবর্তী।

আয়াতঃ ২১৫⇒ তাহারা তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে যে, কি রুপে ধন ব্যয় করিবে, বলিও, তোমরা ধন যাহা ব্যয় করিবে তাহা পিতামাতার জন্য, স্বজনবর্গের জন্য, অনাথবৃন্দের জন্য ও দরিদ্রকুলের জন্য এবং পথিকদিগের জন্য করিবে, এবং তোমরা যে সৎকর্ম করিয়া থাক ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ২১৬⇒ তোমাদের সম্বন্ধে সংগ্রাম লিখিত হইয়াছে, এবং উহা তোমাদের পক্ষে দুষ্কর, হয়তো এমন বিষয়ে তোমরা বিরক্ত হইবে যাহা প্রকৃতপক্ষে তোমাদিগের জন্য কল্যাণ, হয়তো যাহা তোমাদের জন্য অম্নজ্ঞল সেই বস্তুতে তোমাদিগের প্রীতি আছে, (তাহা) ঈশ্বর জানেন, এবং তোমরা জানো না।

আয়াতঃ ২১৭⇒ তাহারা সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করার বিষয়ে তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে, বলিও (হে মোহাম্মদ) সেই বিষয়ে সংগ্রাম করা গুরুতর (পাপ), এবং ঈশ্বরের পথ হইতে নিবৃত্ত রাখা ও তাহার সঙ্গে মসজেদোলহরামের সঙ্গে বিদ্রোহাচরণ করা এবং তথাকার অধিবাসীদিগকে তথা হইতে নিষ্কাষিত করা ঈশ্বরের নিকটে গুরুতর (অপরাধ) হত্যা করা অপেক্ষা ধর্মদ্রোহীতা গুরুতর, এবং যে পর্যন্ত তাহারা তোমাদিগকে তোমাদের ধর্ম হইতে বিচ্যুত না করে সে পর্যন্ত সক্ষম হইলে অবিশ্রান্ত তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, এবং তোমাদিগের মধ্যে যাহারা স্বধর্মে বিমুখ হয়, পরে ধর্মদ্রোহী থাকিয়া প্রাণত্যাগ করে, অনন্তর ইহারা তাহারই যে, ইহলোকে পরলোকে তাহাদের সমুদায় ক্রিয়া বিনষ্ট হয়, তাহারাই যাহারা নরকলোকে বাস করিবে, তথায় সর্বদা থাকিবে।

আয়াতঃ ২১৮⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও যাহারা ধর্মোদ্দেশ্যে স্বদেশ ত্যাগ এবং যুদ্ধ করিয়াছে তাহারা ঈশ্বরানুগ্রহের আশা রাখে, এবং ঈশ্বর ক্ষ্মাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ২১৯⇒ তাহারা সূরা পান ও দ্যূত ক্রীড়াবিষয়ে তোমাকে (হে মোহাম্মদ) প্রশ্ন করিতেছে, এই দুই বিষয়ে গুরুতর অপরাধ, এবং লোকের লাভও আছে; কিন্তু এই দুইয়ে লাভ অপেক্ষা অপরাধ গুরুতর। তাহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছে যে, কেমন দান করিব? বল, অধিক দান কর, এইরুপ ঈশ্বর তোমাদের জন্য আয়াত সকল ব্যক্ত করেন, সম্ভবত ইহলোক ও পরলোক বিষয়ে তোমরা চিন্তা করিবে।

আয়াতঃ ২২০⇒ এবং তাহারা নিরাশ্রয় লোকের সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে, বল, তাহাদের কুশল সম্পাদন শ্রেয়ঃ, যদি তাহাদের সঙ্গে তোমরা বাস কর তবে তাহারা তোমাদের ভ্রাতা এবং পরমেশ্বর হিতকারী লোক হইতে অহিতকারীকে চিনিয়া থাকেন, এবং তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদিগকে দৃঢ় আক্রমণ করিতেন, নিশ্চয় ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২১⇒ এবং অনেকেশ্বরবাদিনী নারী যে পর্যন্ত বিশ্বাস স্থাপন না করে তাহাকে বিবাহ করিও না, এবং অনেকেশ্বরবাদিনী (সৌন্দর্যে ও ধন-সম্পদ দানে) তোমার সন্তোষ উৎপাদন করিলেও তদপেক্ষা বিশ্বাসিনী দাসী শ্রেষ্ঠা, এবং যে পর্যন্ত বিশ্বাসী না হয় অনেকেশ্বরবাদীকে কন্যা সম্প্রদান করিও না, অনেকেশ্বর পুরুষ তোমার সন্তোষ উৎপাদন করিলেও তদপেক্ষা বিশ্বাসী দাস শ্রেষ্ঠ, সেই সকল লোকেরা নরকাগ্নির দিকে নিমন্ত্রণ করে ও ঈশ্বর স্বর্গের দিকে ও ক্ষমার দিকে স্বীয় আজ্ঞায় আহ্বান করেন, এবং মনুষ্যের জন্য স্বীয় নিদর্শন সকল ব্যক্ত করেন যেন, তাহাতে তাহারা উপদেশ লাভ করিতে পারে।

আয়াতঃ ২২২⇒ এবং তাহারা ঋতু সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে, বল (হে মোহামদ) উহা অশুচি, অতএব ঋতুকালে স্ত্রীলোকদিগকে তোমরা পৃথক করিবে, এবং যে পর্যন্ত তাহারা শুচি না হয় তাহাদের নিকটবর্তী হইও না, তাহার শুদ্ধ হইলে পর (স্নান করিলে) তোমাদিগের প্রতি ঈশ্বর যে আদেশ করিয়াছেন, সে ভূমি দিয়া তাহাদের নিকটে যাইও, সত্যই ঈশ্বর প্রত্যাবর্তনকারী ও শুদ্ধাচারীদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ২২৩⇒ তোমাদের স্ত্রী সকল তোমাদের ক্ষেত্র, অতএব যেরুপে ইচ্ছা হয় ক্ষেত্রে আগমনপূর্বক স্বীয় জীবনের জন্য অগ্রে প্রেরণ করিও এবং ঈশ্বর হইতে ভীত হইও, জানিও নিশ্চয় তোমরা তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাত করিবে এবং বিশ্বাসী লোকদিগকে সুসংবাদ দান করিও।

আয়াতঃ ২২৪⇒ তোমরা সদনুষ্ঠান ও আত্মসংযম ও লোকের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনে স্বীয় শপথ করিতে ঈশ্বরকে ছল করিও না, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২৫⇒ তোমাদের অযথা উক্তির শপথে ঈশ্বর তোমাদিগকে দোষী করেন না, কিন্তু তোমাদের মন যাহা করে তজ্জন্য তিনি তোমাদিগকে দোষী করেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ২২৬⇒ যাহারা স্বীয় ভার্যাগণের সম্বন্ধে শপথ করে তাহাদের জন্য চারি মাস কাল প্রতীক্ষনীয়, পরে যদি প্রত্যাবর্তন করে, (শপথ ত্যাগ করে) তবে নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ২২৭⇒ এবং যদি পুরুষ স্ত্রী বর্জনের উদ্যোগ করে তবে নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২৮⇒ এবং বর্জিতা নারীগন ঋতু তৃতীয়কাল পর্যন্ত আপনাদিগকে প্রতীক্ষায় রাখিবে, এবং যদি তাহারা ঈশ্বরে ও পরলোকে  বিশ্বাস করে তবে ঈশ্বর তাহাদের গর্ভে যাহা সৃজন করিয়াছেন তাহা গোপন করা তাহাদের পক্ষে উচিত নহে, এবং যদি ইতিমধ্যে তাহাদিগের স্বামীগণ হিতাকাঙ্ক্ষা করে তবে তাহারা তাহাদিগকে প্রতিগ্রহণ করিবার উপযুক্ত, পুরুষদিগের যেরুপ সেই স্ত্রীগণের উপর বৈধাচারে (স্বত্ব), স্ত্রীগণেরও তদ্রুপ, কিন্তু স্ত্রীলোকের উপর পুরুষের শ্রেষ্ঠতা, ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২৯⇒ দুইবার মাত্র, পরে বিধিমতে রক্ষা করা অথবা সকুশলে বিদায় করিয়া দেওয়া বিহিত, এবং ঈশ্বরের অনুশাসন নরনারী পালন করিতে পারিবে না এই আশঙ্কা ব্যতিত স্ত্রীগনকে যে কিছু দান করা হইয়াছে তাহা প্রতিগ্রহণ করা তোমাদের পক্ষে শ্রেয়ঃ নহে, অনন্তর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে দম্পতি দ্বারা ঈশ্বরের অনুশাসন প্রতিপালিত হইবে না, তবে স্ত্রী বিনিময় প্রতিদান করিলে উভয়ের পক্ষে অপরাধ নহে, ইহা ঈশ্বরের ব্যবস্থা, অতএব তাহা উলঙ্ঘন করিও না, যাহারা পরমেশ্বরের বিধিকে অতিক্রম করে পরে তাহারাই যাহারা অত্যাচারী।

আয়াতঃ ২৩০⇒ যদি কোন পুরুষ স্ত্রীকে (তৃতীয় বার) বর্জন করে তবে তাহার পর যে পর্যন্ত তদ্ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সে বিবাহিতা না হয় (পূর্বোক্ত) পুরুষের  জন্য সেই নারী বৈধ নহে, পরে (দ্বিতীয়) পুরুষ তাহাকে বর্জন করিলে যদি উভয়ে বোধ করে যে পরমেশ্বরের অনুশাসন প্রতিপালন করিতে পারিবে তবে এমতাবস্থায় পরিণয়ে প্রত্যাবর্তন করা উভয়ের পক্ষে দোষাবহ নহে, এবং ইহা ঈশ্বরের বিধি, তিনি জ্ঞানী লোকদিগের জন্য ইহা বিবৃত করিতেছেন।

আয়াতঃ ২৩১⇒ এবং যখন তোমরা স্ত্রীগণকে বর্জন কর পরে যখন তাহারা নির্ধারিত প্রাপ্ত সময় প্রাপ্ত হয় তখন তাহাদিগকে বিধিমতে রক্ষা করিও অথবা বিধিমতে বিদায় করিয়া দিও, এবং তাহাদিগকে ক্লেশ দিবার জন্য আবদ্ধ রাখিও না, তাহা করিলে সীমালঙ্ঘন করিবে, যে ব্যক্তি ইহা করে নিশ্চয় সে নিজের প্রতি অত্যাচার করিয়া থাকে, এবং তোমরা ঈশ্বরের বচন সকলের প্রতি বিদ্রুপ করিও না, তোমাদিগের প্রতি ঈশ্বরের দান ও তিনি তোমাদিগকে শিক্ষা দিবার জন্য জ্ঞান ও গ্রন্থযোগে যাহা তোমাদের নিকট অবতারন করিয়াছেন তাহা স্মরণ করিও, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও ও জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ২৩২⇒ এবং যখন তোমরা স্ত্রীগণকে বর্জন কর পরে তাহারা স্বীয় নির্দিষ্টকাল প্রাপ্ত হয় তখন প্রকৃষ্ট রীতি অনুসারে পরস্পর সম্মত হইলে স্বীয় স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত হইতে তাহদিগকে বারন করিও না, এই আজ্ঞা, এতদ্দারা তোমাদিগের মধ্যে যাহারা ঈশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাসী তাহদিগকে উপদেশ করা যাইতেছে, ইহা তোমাদের জন্য বিশুদ্ধ ও অতিশয় বিশুদ্ধ, ঈশ্বর জ্ঞাত আছেন, তোমরা জ্ঞাত নহ।

আয়াতঃ ২৩৩⇒ এবং পূর্ণ দুই বৎসর কাল সন্তানকে স্তন্যদান মাতার কর্তব্য, যে ব্যক্তি স্তন্যপানের কাল পূর্ণ করিতে ইচ্ছা করে তাহার পক্ষে এই বিধি, যে লোকের সন্তান তাহার উপর স্ত্রীর যথোচিত ভরন পোষনের ভার, কোন ব্যক্তিকে তাহার সাধ্যের অতিরিক্ত ক্লেশ দেওয়া যায় না, আপন সন্তানের জন্য মাতাকে ও পিতাকে ক্লেশ দান অবিধেয়, এবং উত্তরাধিকারীর প্রতিও এবংবিধ নিয়ম, পরন্তু যদি (পিতা মাতা) পরস্পরের সম্মতি ও পরামর্শ অনুসারে সন্তানকে স্তন্যপান হইতে নিবৃত্ত করিতে চাহে তবে তাহাদিগের প্রতি অপরাধ নাই, এবং তোমাদের যাহা দেয়, তার সম্যক সমর্পণ করিয়া যদি তোমরা স্বীয় সন্তানগণকে (ধাত্রীযোগে) দুগ্ধপান করাও তবে তোমাদিগের প্রতি দোষ নাই, এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও, জানিও তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা দর্শন করেন।

আয়াতঃ ২৩৪⇒ এবং তোমাদের মধ্যে যাহারা গতাসু হইয়া ভার্যাগণকে পরিত্যাগ করে, সেই (পরিত্যক্ত) স্ত্রীলোকেরা চারিমাস দশ দিন কাল আপনাদিগকে প্রতীক্ষায় রাখিবে, পরে নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হইলে তাহারা আপনাদের সম্বন্ধে যথাবিহিত যাহা করে তাহাতে তোমাদের প্রতি কোন দোষ নাই, এবং তোমরা যাহা কর ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ ২৩৫⇒ এবং নারীগণের প্রতি অভিলাষ তোমরা ইঙ্গিত বাক্যে প্রকাশ করিলে অথবা স্বীয় অন্তরে গোপনে করিয়া রাখিলে তোমাদের সম্বন্ধে দোষ নহে, পরমেশ্বর জানেন যে, তোমরা নিশ্চয় তাহাদিগকে স্মরণ করিবে, কিন্তু যথাবিধি উক্তি (ইঙ্গিত বাক্য) বলা ব্যতিত তাহাদিগকে গোপনে বিবাহের অঙ্গীকার জানাইবে না, এবং যে পর্যন্ত লিখিত সময় উপস্থিত না হয় উদ্বাহবন্ধনে সমুদ্যত হইবে না, এবং জানিও তোমাদের অন্তরে যাহা আছে ঈশ্বর নিশ্চয় তাহা জ্ঞাত হন, অতএব তাহাকে ভয় করিও, ও জানিও সত্যই ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও গম্ভীর।

আয়াতঃ ২৩৬⇒ স্ত্রীগণকে স্পর্শ কর নাই, অথবা তাহাদের জন্য কোন নির্ধারণ নিরূপণ কর নাই, এমন অবস্থায় যদি তোমরা তাহাদিগকে বর্জন কর তাহা হইলে তোমাদিগের পক্ষে দোষ নাই, এবং (সেই বর্জিত নারীগন) সম্পন্ন বা দরিদ্র হইলে তদবস্থানুসারে তাহাদিগকে ধন দান করিবে, ধন সমুচিত রুপে দেয়, এবং হিতানুষ্ঠানকারীদিগের প্রতি এই বিধি।

আয়াতঃ ২৩৭⇒ এবং তাহাদিগকে সংস্পর্শ করার পূর্বে ও তাহাদিগের সম্বন্ধে ঔদ্বাহিক দান নির্ধারণ করার পর যদি তোমরা তাহাদিগকে বর্জন কর তবে স্ত্রীদিগের ক্ষমা করা অথবা যাহার হস্তে বিবাহবন্ধন হয় তাহার ক্ষমা করা ব্যতিত নির্ধারিত ঔদ্বাহিক দানের অর্ধাংশ (তোমাদের দেয়) এবং তাহাদিগের ক্ষমা (নির্ধারিত অর্থ না চাহিলেও দান করা) বৈরাগ্য হয়, এবং তোমরা আপনাদের মধ্যে হিতসাধনে বিস্মৃত হইও না, তোমরা যাহা করিতেছ নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার দর্শক।

আয়াতঃ ২৩৮⇒ তোমরা নমাজ সকলকে বিশেষতঃ মধ্যম নমাজকে রক্ষা করিও, এবং ঈশ্বরের নিকটে বাধ্যভাবে দন্ডায়মান থাকি।

আয়াতঃ ২৩৯⇒ অনন্তর যদি তোমরা (শত্রু হইতে) ভয় প্রাপ্ত হও, তবে আরোহী থাক বা পদাতিক থাক পরে যখন নির্ভয় হইবে তোমরা যাহা (যে নমাজ) জানিতে না পরমেশ্বর তোমাদিগকে যেমন তাহা শিক্ষা দিয়াছেন তখন তদনুসারে তাহাকে স্মরণ করিও।

আয়াতঃ ২৪০⇒ এবং তোমাদিগের মধ্যে যে সকল লোক প্রান ত্যাগ করে ও ভার্যাদিগকে রাখিয়া যায়, সংবৎসরকাল পর্যন্ত তাহাদিগের (ভার্যাদিগকে) গৃহের বাহির না করিয়া সম্পত্তিদান বিষয়ে নির্ধারণ করা বিধেয়, যদি তাহার বাহির হইয়া যায় তবে তাহারা নিজের সম্বন্ধে যথাবিধি যাহা করিল তজ্জন্য তোমাদের প্রতি দোষ নাই, এবং ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও নিপুণ।

আয়াতঃ ২৪১⇒ বর্জিত নারীগণকে যথাবিধি ধন দান ধর্মভীরু লোকদিগের সম্বন্ধে বিধি।

আয়াতঃ ২৪২⇒ পরমেশ্বর তোমাদিগের জন্য এইরুপে প্রবচন সকল ব্যক্ত করেন যেন তোমরা জ্ঞানলাভ করিতে পার।

আয়াতঃ ২৪৩⇒ যাহারা আপন গৃহ হইতে বহির্গত হইয়াছিল তোমরা কি তাহাদের প্রতি দৃষ্টি কর নাই? তাহারা বহু সহস্র লোক ছিল যে, মৃত্যু আশঙ্কা করিতেছিল, পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে বলিলেন, “তোমাদের মৃত্যু হউক” তৎপর তিনি তাহাদিগকে জীবিত করিলেন, নিশ্চয় ঈশ্বর মনুষ্যের প্রতি একান্ত দয়ালু, কিন্তু অধিকাংশ লোক ধন্যবাদ করে না।

আয়াতঃ ২৪৪⇒ এবং পরমেশ্বরের পথে সংগ্রাম করিও, ও জানিও নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২৪৫⇒ কে সে যে পরমেশ্বরকে উত্তম ঋণে ঋণ দান করে? পরে পরমেশ্বর তাহার জন্য উহার দ্বিগুণ বহুগুণ (পুরষ্কার) দান করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর (জীবিকা) সঙ্কোচ ও বিস্তৃত করেন, তাহার দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ ২৪৬⇒ মুসার পরলোকান্তে এস্রায়েল বংশীয় এক প্রধান লোকের প্রতি কি তুমি দৃষ্টি কর নাই? যখন তাহারা আপনাদের তত্ত্ববাহককে বলিল যে, “আমাদের জন্য একজন রাজা নিযুক্ত কর, আমরা ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিব,” সে বলিল, “যদি তোমাদিগের সম্বন্ধে যুদ্ধ লিখিত হয়, তোমরা যুদ্ধ করিবে না এরুপ কি প্রস্তুত?” তাহারা বলিল, “আমাদের এমন কি হইয়াছে যে, আমরা ঈশ্বরের পথে যুদ্ধ করিব না? বস্তুতঃ আমরা আপন আলয় হইতে ও সন্তানগণ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছি;” পরে যখন তাহাদের প্রতি সংগ্রাম লিখিত হইল, তখন তাহাদিগের অল্প কয়েক জন ব্যতিত সকলেই পশ্চাৎপদ হইল; পরমেশ্বর দুর্বৃত্তদিগকে জ্ঞাত আছে।

আয়াতঃ ২৪৭⇒ এবং তাহাদিগের পেগাম্বর তাহাদিগকে বলিল, “সত্যই ঈশ্বর তোমাদের জন্য তালুতকে রাজা নিযুক্ত করিয়াছেন;” তাহারা বলিল, “আমাদের উপর তাহার রাজত্য কিরুপে হইবে? এবং রাজত্বে তাহা অপেক্ষা আমাদের স্বত্ব অধিক, সে প্রচুর ধনৈশ্চর্য নহে”; সে বলিল, “ঈশ্বর তোমাদের জন্য তাহাকেই মনোনীত করিয়াছেন, এবং জ্ঞান ও শরীরবিষয়ে তাহাকে অধিক বিস্তৃতি প্রদান করিয়াছেন ও ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় স্বীয় রাজ্য দান করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর উদারস্বভাব ও জ্ঞানী”।

আয়াতঃ ২৪৮⇒ এবং তাহাদিগকে তাহাদের সংবাদবাহক বলিল, “নিশ্চয় তাহার রাজত্যের লক্ষণ এই যে, তোমাদের নিকটে এক মঞ্জুষা উপস্থিত হইবে, তন্মধ্যে তোমাদের প্রতিপালকের প্রদত্ত শান্তিপত্র এবং মুসা ও হারুনের বংশোদ্ভব লোকের পরিত্যক্ত অবশিষ্ট বস্তুজাত আছে, দেবগণ উহা বহন করিবে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে নিশ্চয় তাহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ২৪৯⇒ পরে যখন তালুত স্বসৈন্যে বহির্গত হইল, তখন সে, (সৈন্যগণকে) বলিল, “নিশ্চয় ঈশ্বর একটি জলপ্রনালী দ্বারা তোমাদিগকে পরীক্ষা করিবেন, যে ব্যক্তি তাহা হইতে জল পান ক্রিবেসে আমার দলস্থ নহে, এবং যে ব্যক্তি তাহা পান করিবে না, স্বহস্তে গণ্ডূষ মাত্র ব্যতিত পান করিবে না, তবে নিশ্চয় সে আমার লোক;” কিন্তু তাহাদের অল্প লোক ভিন্ন সকলেই তাহা হইতে পান করিল, পরে যখন সে ও তাহার সহচর বিশ্বাসীগণ তাহা উত্তীর্ণ হইয়া গেল তখন তাহারা বলিল, “অদ্য জ্বালুত ও তাহার সৈন্যের (সম্মুখে উপস্থিত) হইতে আমাদের ক্ষমতা নাই।“ যে সকল লোক পরমেশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে হইবে বলিয়া ভাবিয়াছিল, তাহার বলিল, “অনেকবার হইয়াছে যে, ঈশ্বরের আজ্ঞায় অল্প লোক বহু লোকের উপর জয়লাভ করিয়াছে, এবং ঈশ্বর সহিষ্ণুদিগের সহায়।

আয়াতঃ ২৫০⇒ যখন তাহারা জ্বালুত ও তাহার সৈন্যগণের সম্মুখে উপস্থিত হইল তখন বলিল, “হে ঈশ্বর, আমাদিগকে ধৈর্য দান কর ও আমাদের চরণ দৃঢ় কর, এবং কাফেরদিগের উপর আমাদিগকে সাহায্য দান কর”।

আয়াতঃ ২৫১⇒ অনন্তর ঈশ্বরের আজ্ঞায় তাহারা তাহাদিগকে পরাস্ত করিল ও দাউদ জ্বালুতকে বধ করিল, এবং ঈশ্বর তাহাকে রাজ্য ও বিচক্ষণতা প্রদান করিলেন, সে যাহা আকাঙ্ক্ষা করিতেছিল তিনি তাহাকে তাহা শীক্ষা দিলেন; এবং যদি ঈশ্বর মানব মণ্ডলীর একদল দ্বারা অন্য দলকে দূর না করিতেন নিশ্চয় পৃথিবী উৎসন্ন হইত, কিন্তু ঈশ্বর জগদ্বাসীদিগের প্রতি পরম সদয়।

আয়াতঃ ২৫২⇒ এ সকল ঐশ্বরিক বচন, তোমার নিকটে (হে মোহাম্মদ) আমি সত্যরুপে তাহা পাঠ করিতেছি, নিশ্চয় তুমি পেগাম্বরদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ২৫৩⇒ এই সকল প্রেরিতপুরুষ, ইহাদের মধ্যে একজনের উপর অন্য জনকে আমি শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছি, কাহার কাহার সঙ্গে ঈশ্বর কথা কহিয়াছেন, এবং ইহাদের কাহার পদ উন্নত করিয়াছেন, এবং আমি মরিয়মের পুত্র ঈসাকে অলৌকিকতাদানে ও পবিত্রাত্মাযোগে সাহায্য দান করিয়াছি, এবং ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে সেই প্রেরিতপুরুষদিগের অন্তে যাহারা ছিল তাহারা স্পষ্ট নিদর্শন সকল প্রাপ্তির পর পরস্পর বিবাদ করিত না, কিন্তু বিরোধ করিল পরে তাহাদিগের কেউ ধর্মবিশ্বাসী হইল ও তাহাদের কেহ ধর্মদ্রোহী হইল, এবং যদি ঈশ্বর চাহিতেন তবে তাহারা সংগ্রাম করিত না, কিন্তু ঈশ্বর যাহা চাহেন তাহা করেন।

আয়াতঃ ২৫৪⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, আমি তোমাদিগকে যে জীবিকা দান করিয়াছি, যাহাতে ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুতা ও অনুরোধ থাকিবে না সেইদিন আসিবার পূর্বে তাহা ব্যয় কর, এবং সেই কাফেরগণই অত্যাচারী।

আয়াতঃ ২৫৫⇒ এবং পরমেশ্বর ব্যতিত উপাস্য নেই, তিনি জীবন্ত ও অটল, তিনি তন্দ্রা ও নিদ্রা দ্বারা আক্রান্ত নহেন, দ্যুলোকে যাহা ও ভূলোকে যাহা আছে তাহা তাঁহারই, কে আছে যে তাহার আজ্ঞা ব্যতিত তাঁহার নিকটে শাফায়াত (পাপীর পাপ মুক্তির জন্য অনুরোধ) করে? তাহাদের সম্মুখে ও তাহাদের পশ্চাতে যাহা আছে তিনি তাহা জানেন, তিনি যাহা ইচ্ছা করেছেন তদতিরিক্ত তাঁহার জ্ঞানের কোন বিষয়ে মনুষ্য প্রবেশ করিতে পারে না, তাঁহার সিংহাসন ভূলোক ও দ্যুলোককে অধিকার করিয়াছে, এবং এ দুইয়ের সংরক্ষণ তাঁহার প্রতি ভারবহ নহে, তিনি উন্নত ও মহান।

আয়াতঃ ২৫৬⇒ ধর্মের জন্য বলপ্রয়োগ নাই, নিশ্চয় পথভ্রান্তির পর পথ প্রকাশ পাইয়াছে, অবশেষে যে ব্যক্তি প্রতিমার প্রতি বিরুপ হইয়া পরমেশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করিবে নিশ্চয় সে দৃঢ় অবলম্বনকে ধারন করিবে, তাহা ছিন্ন হইবে না, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২৫৭⇒ পরমেশ্বর বিশ্বাসীদিগের নেতা, তিনি তাহাদিগকে অন্ধকার হইতে জ্যোতিতে লইয়া যান।

আয়াতঃ ২৫৮⇒ যাহারা কাফের, প্রতিমা তাহাদিগের নেতা, সে তাহাদিগকে জ্যোতি হইতে অন্ধকারে লইয়া যায়; তাহারা নরকাগ্নির অধিবাসী, তথায় তাহারা সর্বদা বাস করিবে।

আয়াতঃ ২৫৯⇒ তুমি কি সেই ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি কর নাই, যে ব্যক্তি এব্রাহিমের সঙ্গে তাহার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিবাদ করিয়াছিল? তাহাকে ঈশ্বর রাজত্ব দিয়াছিলেন; যখন এব্রাহিম বলিল, “যিনি আমার প্রতিপালক তিনি জীবন দান ও সংহার করেন;” সে বলিল, “আমি জীবন রক্ষা করি ও বধ করিয়া থাকি।“ এব্রাহিম বলিল, “পরন্তু নিশ্চয় ঈশ্বর সূর্যকে পূর্বদিক হইতে আনয়ন করেন, তবে তুমি তাহাকে পশ্চিম দিক হইতে লইয়া আইস, অবশেষে সেই ঈশ্বরদ্রোহী পরাস্ত হইল, বস্তুতঃ ঈশ্বর অত্যাচারী লোকদিগকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ২৬০⇒ অথবা যেমন সেই ব্যক্তি কোন গ্রামে উপস্থিত হইয়াছিল, এবং তাহার গৃহ ছাদের উপর পতিত ছিল সে বলিল, “ঈশ্বর ইহাকে কি প্রকারে ইহার বিনাশের পর সজীব করিবেন?” অনন্তর পরমেশ্বর তাহাকে শতবৎসর জীবনশূন্য রাখিলেন, অতঃপর জীবন দান করিলেন; কত বিলম্ব হইল? (ঈশ্বর জিজ্ঞাসা করিলে) সে বলিল, “একদিন কিংবা একদিনের অধিক;” তিনি বলিলেন, “বরং তুমি একশত বৎসর বিলম্ব করিয়াছ, অনন্তর তোমার অন্ন ও তোমার জলের প্রতি দৃষ্টি কর তাহা বিকৃত হয় নাই, এবং তোমার গর্দভের প্রতি দৃষ্টি কর এবং আমি মানববৃন্দের জন্য তোমাকে নিদর্শন করিব, দেখ (গর্দভের) অস্থি সকলকে আমি কিরুপ সঞ্চালন করিতেছি, এবং তৎপর সেই সকলকে মাংশ দ্বারা আচ্ছাদিত করিতেছি;” অনন্তর যখন তাহার নিকটে তাহা প্রকাশিত হইল তখন সে বলিল, “নিশ্চয় জ্ঞাত হইলাম ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।“

আয়াতঃ ২৬১⇒ এবং যখন এব্রাহিম বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি কি প্রকারে মৃতকে জীবিত কর আমাকে দেখাও;” তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কি বিশ্বাস কর না?” এব্রাহিম বলিল, “হ্যাঁ, (বিশ্বাস করি) কিন্তু তাহাতে আমার মনের প্রবোধ হইবে;” তিনি বলিলেন, “চারিটি পক্ষী গ্রহণ কর, তৎপর নিজের নিকটে তাহাদিগকে চিনিয়া লও, তৎপর তাহাদের মাংশ খন্ড সকল প্রত্যেক পর্বতে নিক্ষেপ কর, তৎপর তাহাদিগকে আহ্বান কর, তারা দ্রুতগতিতে তোমার নিকটে চলিয়া আসিবে, এবং জানিও ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও নিপুণ।

আয়াতঃ ২৬২⇒ যেমন একটি শস্যবীজ সাতটি শস্যমঞ্জরী উৎপাদন করে, প্রত্যেক মঞ্জরীতে শত শস্য উৎপন্ন হয়, পরমেশ্বরের পথে যাহারা স্বীয় সম্পত্তি ব্যয় করে তাহাদের অবস্থা তদ্রুপ, এবং যাহাকে ইচ্ছা হয় ঈশ্বর দ্বিগুণ প্রদান করেন, এবং ঈশ্বর দাতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২৬৩⇒ যাহারা ঈশ্বরের পথে আপনাদের ধন ব্যয় করে, তৎপর ধনের উপকার স্থাপনের অনুসরণ করে না, এবং (গ্রহীতাদিগকে) ক্লেশ দেয় না, তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে তাহাদের জন্য পুরষ্কার আছে ও তাহদিগের ভয় নাই, এবং তাহারা সন্তাপিত হইবে না।

আয়াতঃ ২৬৪⇒ দানের পরে ক্লেশ প্রদান করা অপেক্ষা কোমল কথা বলা ও ক্ষমা করা শ্রেয়ঃ, এবং ঈশ্বর নিরাকাঙ্ক্ষ ও প্রশান্ত।

আয়াতঃ ২৬৫⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, উপকার স্থাপন ও ক্লেশ দান করিয়া যে ব্যক্তি লোক প্রদর্শনের জন্য স্বীয় ধন দান করে, পরমেশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না তাহার ন্যায় তোমাদিগের ধর্মার্থ দানকে তোমরা ব্যর্থ করিও না, সে মৃত্তিকাবৃত কঠিন প্রস্তরের ন্যায়, যেমন মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়, পরে তাহাকে, মৃন্মুক্ত করিয়া ফেলে, (দান প্রদর্শকগণ) যাহা করে তাহারা তাহার কিছুরই উপর অধিকার রাখে না, এবং ঈশ্বর ধর্মদ্রোহী লোকদিগকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ২৬৬⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের প্রসন্নতা লাভের জন্য ও আপন অন্তরের বিশ্বাসের জন্য দান করে তাহারা উচ্চভূমিস্থিত উদ্যানের ন্যায়, যথা, তাহাতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হইল, পরে তাহার দ্বিগুণ ফল উৎপন্ন হইল, পরন্তু যদি তাহাতে প্রচুর বৃষ্টিপাত নাও হয় শিশির বিন্দু (উপকার করিয়া থাকে) তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর দেখিতেছেন।

আয়াতঃ ২৬৭⇒ কেহ কি ইহা ভালোবাসে যে তাহার জন্য দ্রাক্ষা ও খোর্মা ফলের উদ্যান হয় ও তাহার ভিতর দিয়া জলপ্রণালী প্রবাহিত থাকে, তাহার জন্য তথায় নানা প্রকার ফল জন্মে ও সে বৃদ্ধত্ব লাভ করে, এবং তাহার সন্তানগণ দুর্বল হয়, অতঃপর এই অবস্থায় সেই উদ্যানে অগ্নিসহ বাতাবর্ত আসিয়া প্রবেশ করে, পরে উহা দগ্ধ হইয়া যায়? এইরুপ ঈশ্বর তোমাদের জন্য আয়াত সকল ব্যক্ত করেন, আশা যে তোমরা চিন্তা করিবে।

আয়াতঃ ২৬৮⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, তোমাদের উপার্জিত যে ধন বিশুদ্ধ ও আমি তোমাদের জন্য ক্ষেত্র হইতে যাহা উৎপাদন করি তাহা ব্যয় করিও, মন্দ বস্তু দান করিতে সঙ্কল্প করিও না; প্রকৃতপক্ষে তৎপ্রতি নয়ন মুদ্রিত করা ব্যতিত তোমরা গ্রহণকারী নহ, এবং জানিও পরমেশ্বর নিষ্কাম ও প্রশংসিত।

আয়াতঃ ২৬৯⇒ শয়তান তোমাদের সঙ্গে দরিদ্রতার অঙ্গীকার করে ও গর্হিত কর্মে আদেশ করিয়া থাকে, এবং ঈশ্বর স্বীয় ক্ষমা বিষয়ে ও সম্পদ দানে তোমাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করেন; এবং ঈশ্বর প্রমুক্তস্বভাব ও জ্ঞানী।

আয়াতঃ ২৭০⇒ যাহাকে ইচ্ছা হয় তিনি জ্ঞান প্রদান করেন ও যাহার প্রতি জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে পরে নিশ্চয় তাহাকে বহু কল্যাণ দেওয়া গিয়াছে, এবং জ্ঞানবান লোক ব্যতিত কেহ উপদেশ গ্রহণ করে না।

আয়াতঃ ২৭১⇒ এবং তোমরা যাহা (ধর্মার্থ) দান করিয়াছ অথবা কোন সৎসঙ্কল্পে সঙ্কল্প করিয়াছ, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহা জানেন, কুক্রিয়াশীল লোকদিগের কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ২৭২⇒ যদি তোমরা ধর্মার্থ দান প্রকাশ কর তবে তাহা ভাল। যদি তাহা গোপন কর ও তাহা দীন-দরিদ্রদিগকে দান কর তবে তাহাও তোমাদের জন্য উত্তম, এবং ইহা তোমাদের অনেক পাপ দূর করিয়া থাকে, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা অবগত।

আয়াতঃ ২৭৩⇒ তাহদের উপদেশ (হে মোহাম্মদ) তোমার জন্য অপ্রয়োজন, কিন্তু ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন ও তোমরা যাহা সদ্বয় কর পরে (তাহা) তোমাদের হিতের নিমিত্ত হয়, এবং পরমেশ্বরের আনন উদ্দেশ্যে না করিয়া তোমরা দান করিও না, তোমরা যে শুভ দান করিবে তাহা তোমাদের নিকটে প্রেরিত হইবে, এবং তোমরা উতপীড়িত হইবে না।

আয়াতঃ ২৭৪⇒ এই সকল দীনহীনের জন্য (দান বিধেয়) যাহারা ঈশ্বরের পথে বদ্ধ রহিয়াছে, পৃথিবীতে পর্যটন করিতে পারে না; ধনাকাঙ্ক্ষা করে না বলিয়া লোকেরা যাহাদিগকে মূর্খ মনে করে তুমি (হে মোহাম্মদ) তাহাদের মুখ দেখিয়া তাহাদিগকে চিনিতেছ, তাহারা ব্যগ্র হইয়া লোকের নিকট প্রার্থনা করে না; এবং তোমরা যে ধর্মার্থ দান কর অবশেষে নিশ্চয় তাহা জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ২৭৫⇒ যে সকল লোক দিবা-রজনী প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বীয় ধন দান করে, পরে তাহাদের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকটেপুরস্কার আছে; এবং তাহাদিগের সম্বন্ধে ভয় নাই ও তাহারা সন্তাপিত হইবে না।

আয়াতঃ ২৭৬⇒ যাহাদিগকে শয়তান আক্রমণ করিয়া মতিচ্ছন্ন করিয়াছে তাহারা যেরুপ (সমাধি হইতে) উত্থিত হইবে, যাহারা কুসীদ গ্রহণ করে তাহারাও তদনুরুপ উত্থিত হইবে বৈ নহে; ইহা এজন্য যে, তাহারা বলিয়াছে যে বানিজ্য কুসীদ গ্রহণ সদৃশ ইহা ব্যতিত নহে, কিন্তু ঈশ্বর বানিজ্যকে বৈধ ও সুদ গ্রহণকে অবৈধ (নির্ধারণ) করিয়াছেন; অতএব যে স্বীয় প্রতিপালক হইতে উপদেশ প্রাপ্ত হইয়াছে যে (এ কর্মে) বিরত থাকিবে; পরিশেষে যাহা গত হইয়াছে তাহা তাহার জন্য, এবং তাহার কর্ম ঈশ্বরেতে (সমর্পিত) কিন্তু যাহারা (কুসীদ গ্রহণে) পুনঃ প্রবৃত্ত হইয়াছে তাহারা নরকাগ্নির নিবাসী, তথায় তাহারা সর্বদা বাস করিবে।

আয়াতঃ ২৭৭⇒ পরমেশ্বর সুদকে (সুদের মুদ্রা দ্বারা কৃত সৎকর্মকে) বিফল করেন, ধর্মার্থ দানকে গৌরবান্বিত করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর সমুদয় অপরাধী কাফেরকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ২৭৮⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখিয়াছে ও ধর্মার্থ দান করিয়াছে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট তাহাদিগের জন্য পুরষ্কার আছে, তাহাদের সম্বন্ধে ভয় নাই ও তাহারা সন্তাপিত হইবে না।

আয়াতঃ ২৭৯⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, পরমেশ্বরকে ভয় কর যদি তোমরা বিশ্বাসী হইয়া থাক তবে সুদের যাহা অবশিষ্ট আছে তাহা পরিত্যাগ কর।

আয়াতঃ ২৮০⇒ অনন্তর যদি তোমরা ইহা না কর (নিবৃত্ত না হও) তবে ঈশ্বরের সঙ্গে ও তাঁহার প্রেরিত পুরুষের সঙ্গে বিবাদ ইহা জ্ঞাত হইও এবং নিবৃত্ত হইলে তোমাদের জন্য মূলধন রহিল, তোমরা উৎপীড়ন করিও না, এবং উতপীড়িত হইবে না।

আয়াতঃ ২৮১⇒ এবং যদি (অধমর্ণ) রিক্তহস্ত হয় তবে অর্থাগম পর্যন্ত প্রতীক্ষনীয়, এবং যদি (তোমাদের) জ্ঞান থাকে তবে, (তাহাকে) দান করিলে তোমাদের পক্ষে মঙ্গল।

আয়াতঃ ২৮২⇒ এবং যে দিবস তোমরা ঈশ্বরের নিকট প্রতিগমন করিবে সেই দিনকে ভয় কর, তৎপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা (যে সৎকর্ম) করিয়াছে তাহা তাহাদের প্রতি পূর্ণ প্রদত্ত হইবে, এবং তাহারা উতপীড়িত হইবে না।

আয়াতঃ ২৮৩⇒ হে বিশ্বাসী লোক সকল, যখন তোমরা নির্দিষ্ট কালের জন্য ঋণদানে পরস্পর কারয করিবে তখন তাহা লিখিয়া লইবে, এবং তোমাদের মধ্যে লেখকের উচিত যে ন্যায্যরুপে লিখে, এবং ঈশ্বর যেরুপ শিক্ষা দিয়েছেন লেখক তদ্রুপ লিখিতে অসম্মত হইবে না, অবশেষে উচিত যে লিখে, এবং যাহার স্বত্ব সে লিখিবার বিবরণ বলিয়া দিবে, এবং তাহার উচিত যে স্বীয় প্রতিপালক ঈশ্বরকে ভয় করে, এবং সেই ঋণের কিছু ক্ষতি না করে, পরন্তু যাহার স্বত্ব সে যদি অবোধ কিংবা দুর্বল অথবা পাণ্ডুলিপি করিতে অক্ষম হয় তবে তাহার একজন কারয কারক ন্যায্যরুপে বিবরণ লিখিবে, এবং তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন পুরুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করিবে, পরন্তু যদি দুইজন পুরুষের অভাব হয় তবে একজন পুরুষ ও তোমাদের মনোনীত এমন দুই জন স্ত্রীলোক সাক্ষী (যথেষ্ট) যদি তাহাদের এক স্ত্রী বিস্মৃত হয় তবে তাহাদের অন্য স্ত্রী স্মরণ করাইয়া দিবে, এবং সাক্ষীগন আহূত হইলে অস্বীকার করিবে না; তাহা (ঋণপত্র) ক্ষুদ্র হউক বা বৃহৎ হউক তাহার কিয়তকাল পর্যন্ত লিখিতে শৈথিল্য করিবে না, এই লিখা ঈশ্বরের নিকট অতিশয় ন্যায্য এবং সাক্ষ্যের নিমিত্তে সুদৃঢ়, ইহা তোমাদের সন্দেহের যোগ্য নহে, কিন্তু সাক্ষাৎ সম্বন্ধীয় ব্যবসায় যাহাতে আপনাদের মধ্যে হস্তে হস্তে আদান-প্রদান হয়, তাহাতে লেখা না হইলে তদ্বিষয়ে তোমাদের দোষ নাই, যখন তোমরা পরস্পর ক্রয়-বিক্রয় কর তখন সাক্ষ্য গ্রহণ করিবে ও লেখক ও সাক্ষীকে কষ্ট দিবে না, এবং যদি তাহা কর তবে নিশ্চয় তোমাদের অপরাধ; এবং ঈশ্বরকে ভয় করিও ও পরমেশ্বর তোমাদিগকে শিক্ষা দান করেন ও পরমেশ্বর সর্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ২৮৪⇒ এবং যদি তোমরা দেশ পর্যটনে থাক ও লেখক প্রাপ্ত না হও তবে বন্ধক হস্তগত করা উচিত; পরন্তু তোমরা আপনাদের পরস্পরকে বিশ্বাস করিলে যে ব্যক্তি বিশ্বাসভাজন হইয়াছে আপনার গচ্ছিত ধন তাহার পরিশোধ করা বিধেয়, এবং আপন প্রতিপালক ঈশ্বরকে ভয় করা উচিত ও সাক্ষ্য গোপন করিও না, এবং যে ব্যক্তি তাহা গোপন করে নিশ্চয় তাহার মন অপরাধী, তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তাহা অবগত।

আয়াতঃ ২৮৫⇒ দ্যুলোকে ও ভূলোকে যাহা আছে তাহা ঈশ্বরের, এবং তোমাদের অন্তরের বিষয় যদ্যপি প্রকাশ কর কিংবা তাহা গোপন কর তোমাদের নিকট হইতে ঈশ্বর তাহার হিসাব গ্রহণ করিবেন, অনন্তর তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করেন ও যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি শাস্তি দিয়া থাকেন; এবং ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ২৮৬⇒ প্রেরিত পুরুষ তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে তৎপরটি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা বিশ্বাস করিয়াছে এবং বিশ্বাসী লোকেরা প্রত্যেকে ঈশ্বরকে, তাঁহার দেবগণকে ও তাঁহার পুস্তক সকলকে এবং প্রেরিতগণকে বিশ্বাস করিয়াছে, এবং তাঁহার প্রেরিতপুরুষগণের মধ্যে প্রভেদ করে নাই, এবং তাহারা বলিয়াছে যে, “আমরা শ্রবন মাত্র আজ্ঞা পালন করিলাম, হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার নিকট ক্ষমা চাহিতেছি, এবং তোমার নিকট আমাদিগের প্রতিগমন।“

আয়াতঃ ২৮৭⇒ ঈশ্বর কাহাকেও তাহার শক্তির অতিরিক্ত ক্লেশ দান করেন না; সে যে কারয করিয়াছে তাহা তাহার জন্য, সে যাহা উপার্জন করিয়াছে তাহা তাহার জন্য, (তাহারা বলে) “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা বিস্মৃত হইলে কিংবা দোষ করিয়া থাকিলে তুমি আমাদিগকে আক্রমণ করিও না; হে আমাদের প্রতিপালক, এবং আমাদের উপর সেরুপ গুরুভার স্থাপন করিও না যদ্রুপ আমাদের পূর্ববর্তী লোকদিগের উপর স্থাপন করিয়াছ; হে আমাদের প্রতিপালক, এবং যাহা আমরা সহ্য করিতে অক্ষম তাহা আমাদের উপর অর্পণ করিও না, আমাদিগকে ক্ষমা কর ও আমাদিগকে মার্জনা কর, এবং আমাদিগকে দয়া কর, তুমি আমদের প্রভু, অতএব ধর্মদ্রোহী দলের উপর আমাদিগকে সাহায্য দান কর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *