সূরাঃ ফৎহ

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ নিশ্চয় আমি দীপ্যমান বিজয়ে তোমাকে (হে মোহম্মদ) বিজয় দান করিলাম।

আয়াতঃ ০২⇒ তোমার যে কিছু পাপ পূর্বে হইয়াছে ও যাহা পরে হইয়াছে তাহা যেন পরমেশ্বর তোমার জন্য ক্ষমা করেন, এবং স্বীয় দান তোমার প্রতি পূর্ণ করেন ও সরল পথ তোমাকে প্রদর্শন করেন।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং প্রবল সাহায্যে পরমেশ্বর তোমাকে যেন সাহায্য দান করেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ তিনিই যিনি বিশ্বাসীদিগের অন্তরে শান্তনা প্রেরণ করিয়াছেন, যেন তাহাদের (পূর্ব) বিশ্বাসের সহিত বিশ্বাস বৃদ্ধি হয়, এবং স্বর্গ ও পৃথিবীর সৈন্য ঈশ্বরেরই,  এবং পরমেশ্বর জ্ঞানবান কৌশলময় হন।

আয়াতঃ ০৫⇒ অপিচ বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশবাসিনী নারীদিগকে তিনি স্বর্গোদ্যান সকলে লইয়া যাইবেন, যাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রণালী সকল প্রবাহিত হইতেছে, তাহারা তথায় নিত্যবাসী হইবে, এবং তিনি তাহাদের অধর্ম সকল তাহাদিগ হইতে দূর করিবেন, এবং ইহা ঈশ্বরের নিকটে মহা অভীষ্ট সিদ্ধি হয়।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং তিনি কপট পুরুষ ও কপট নারীদিগকে ও অংশিবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদিগকে যাহারা পরমেশ্বরের কুকল্পনাকারী হয় শাস্তি দান করিবেন, তাহাদের প্রতি অকল্যাণের চক্র ঘোরে, এবং তাহাদের প্রতি পরমেশ্বর ক্রোধ করিয়াছেন ও তাহাদিগকে অভিশাপ দিয়াছেন ও তাহাদের জন্য নরক প্রস্তুত রাখিয়াছেন এবং (উহা) গর্হিত স্থান।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং স্বর্গ ও অবনীর সৈন্যবৃন্দ ঈশ্বরেরই, ঈশ্বর পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাবান হন।

আয়াতঃ ০৮⇒ নিশ্চয় আমি তোমাকে (হে মোহম্মদ) সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভয়প্রদর্শকরুপে প্রেরণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৯⇒ যেন তোমরা (হে লোক সকল) ঈশ্বরের প্রতি ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাসী হও, এবং তাঁহাকে (তাঁহার ধর্মকে) বল বিধান কর ও তাঁহাকে গৌরব দান কর, এবং প্রাতঃসন্ধ্যা তাঁহাকে জপ কর।

আয়াতঃ ১০⇒ নিশ্চয় যাহারা তোমার সঙ্গে অঙ্গীকার করে তাহারা ঈশ্বরের সঙ্গে অঙ্গীকার করে পরে সে আপন জীবন সম্বন্ধে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে যে বিষয়ে অঙ্গীকার করিয়াছিল তাহা পূর্ণ করিয়াছে, পরে অচিরেই তিনি তাহাকে মহা পুরস্কার প্রদান করিবেন।

আয়াতঃ ১১⇒ শীঘ্র পশ্চাদগামী আরব্য যাযাবরগণ তোমাকে (হে মোহম্মদ) বলিবে, “আমাদের সম্পত্তিপুঞ্জ ও আমাদের পরিবারবর্গ আমাদিগকে লিপ্ত রাখিয়াছে, অতএব তুমি আমাদিগের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর;” তাহাদের অন্তরে যাহা নয় তাহারা আপন রসনায় তাহা বলে; তুমি বল, “অনন্তর কে ঈশ্বর হইতে (রক্ষা করিতে) তোমাদের জন্য কিছু ক্ষমতা রাখে, যদি তিনি তোমাদিগের অপকার করিতে ইচ্ছা করেন বা তোমাদের উপকার করিতে ইচ্ছা করেন? বরং তোমরা যাহা করিতেছ পরমেশ্বর তাহার জ্ঞাতা হন।

আয়াতঃ ১২⇒ বরং তোমরা মনে করিয়াছ যে, প্রেরিতপুরুষ ও বিশ্বাসীগণ কখনো স্বীয় পরিবারের নিকটে ফিরিয়া যাইবে না, এবং তোমাদের অন্তরে ইহা (এই ভাব) সজ্জিত হইয়াছে ও কুকল্পনায় কল্পনা করিয়াছ, এবং তোমরা মৃত্যুগ্রস্থ দল হও।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বর ও প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে নাই, পরে নিশ্চয় আমি সেই কাফেরদিগের জন্য নরক প্রস্তুত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ১৪⇒ দ্যুলোক ও ভূলোকের সম্যক রাজত্ব ঈশ্বরেরই, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করিয়া থাকেন ও যাহাকে ইচ্ছা করেন শাস্তি দেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ১৫⇒ যখন তোমরা লুন্ঠনীয় সামগ্রীপুঞ্জের দিকে তাহা হস্তগত করিতে যাইবে, তখন পশ্চাদগামী লোকেরা অবশ্য বলিবে, “আমাদিগকে ছাড়িয়া দাও, আমরা তোমাদের অনুসরণ করিব,” তাহারা চাহে যে, ঈশ্বরের বাক্য পরিবর্তিত করে, তুমি বল, “তোমরা আমাদের অনুসরণ কখনো করিবে না, ইতিপূর্বে পরমেশ্বর এইরুপ বলিয়াছেন”, পরে তাহারা অবশ্য বলিবে, “বরং তোমরা তোমাদের সঙ্গে ঈর্ষা করিয়া থাক”, বরং তাহারা অল্প বৈ বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ১৬⇒ তুমি পশ্চাদগামী আরব্য যাযাবরদিগকে বল যে, “অচিরে তোমরা এক দল প্রবল যোদ্ধার দিকে আহূত হইবে, তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিবে, কিংবা মোসলমান হইবে; অনন্তর যদি তোমরা অনুগত হও তবে ঈশ্বর তোমাদিগকে উৎকৃষ্ট পুরস্কার দান করিবেন, এবং ইতিপূর্বে তোমরা যেমন বিমুখ হইয়াছ যদি বিমুখ হও, তবে ঈশ্বর তমাদিগকে ক্লেশকারী শাস্তিতে শাস্তি দান করিবেন”।

আয়াতঃ ১৭⇒ (যুদ্ধ না করিলে) অন্ধের প্রতি দোষ নাই ও খঞ্জের প্রতি দোষ নাই, রোগীর প্রতি দোষ নাই; এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আনুগত্য স্বীকার করে তাহাকে তিনি স্বর্গোদ্যানে লইয়া যান, যাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রণালী সকল প্রবাহিত হইতেছে, এবং যে ব্যক্তি বিমুখ হইবে তিনি তাহাকে দুঃখজনক শাস্তিতে শাস্তি দান করিবেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ সত্যসত্যই পরমেশ্বর বিশ্বাসীদিগের প্রতি তখন প্রসন্ন হইয়াছেন যখন তাহারা তরুতলে তোমার সঙ্গে (হে মোহম্মদ) অঙ্গীকার করিতেছিল, অনন্তর তাহাদের অন্তরে যাহা আছে তিনি জানিয়েছেন, পরে তাহাদের প্রতি শান্তনা অবতারণ করিয়াছেন, এবং তাহাদিগকে উপস্থিত বিজয় পুরস্কার দিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং প্রচুর লুন্ঠন সামগ্রী যে তাহারা গ্রহণ করিবে, (সেই পুরস্কার দিয়াছেন) এবং ঈশ্বর পরাক্রান্ত কৌশলময় হন।

আয়াতঃ ২০⇒ পরমেশ্বর তোমাদের সম্বন্ধে প্রচুর লুন্ঠন সামগ্রীর অঙ্গীকার করিয়াছেন যে, তোমরা তাহা গ্রহণ করিবে, অনন্তর ইহা সত্বর তোমাদিগকে দিবেন, এবং তোমাদিগের হইতে লোকের হস্ত নিবারিত করিলেন, এবং যেন (ইহা) বিশ্বাসীদিগের জন্য নিদর্শন হয় ও তোমাদিগকে সরল পথ প্রদর্শন করে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং অন্য (লুন্ঠন সামগ্রীরও অঙ্গীকার করিয়াছেন) তৎপ্রতি তোমরা (এক্ষনও) সুক্ষম হও নাই, সত্যই ঈশ্বর তাহাকে ঘেরিয়া আছেন, এবং ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাবান হন।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যদি ধর্মবিরোধীগণ তোমাদের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তবে অবশ্য তাহারা পৃষ্ঠভঙ্গ দিবে, তৎপর কোন সহায় ও কোন সাহায্যকারী পাইবে না।

আয়াতঃ ২৩⇒ ঈশ্বরের সেই নিয়ম যাহা ইতিপূর্বে হইয়া গিয়াছে, এবং তুমি ঐশ্বরিক নিয়মের কখনো কোন পরিবর্তন পাইবে না।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদিগ হইতে তাহাদের হস্ত ও তাহাদিগ হইতে তোমাদের হস্ত মক্কা প্রদেশে তাহাদিগের প্রতি তোমাদিগকে বিজয় দানের পর নিবারিত করিয়াছিলেন, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক পরমেশ্বর তাহার দর্শক হন।

আয়াতঃ ২৫⇒ সেই যাহারা কাফের হইয়াছে তাহারাই তোমাদিগকে মসজেদোল হরাম হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে, এবং বলির দ্রব্যকে আপন স্থানে পহুঁছিতে বাধা দিয়াছে, এবং যদি বিশ্বাসী পুরুষগণ ও বিশবাসিনী নারীগণ না থাকিত, যাহাদিগকে তোমরা জান না, পাছে তাহাদিগকে তোমরা বিদলিত কর, পরে অজ্ঞানতাপ্রযুক্ত তাহাদিগ হইতে তোমাদের প্রতি বিষন্নতা উপস্থিত হয়, (তজ্জন্য জয় লাভ ক্ষান্ত রাখা হয়) তাহাতে ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে লইয়া আইসেন, যদি (এই দুই দল) পরস্পর বিভিন্ন থাকিত তবে অবশ্য আমি তাহাদের মধ্যে যাহারা কাফের হইয়াছে তাহাদিগকে দুঃখজনক শাস্তিতে শাস্তি দান করিতাম।

আয়াতঃ ২৬⇒ যখন ধর্মদ্রোহীগণ স্বীয় অন্তরে মূর্খতাবশতঃ অভিমানে অভিমান করিল তখন পরমেশ্বর আপন প্রেরিতপুরুষের প্রতি ও বিশ্বাসীদিগের প্রতি সান্ত্বনা প্রেরণ করিলেন, এবং তাহাদের প্রতি সংসার বিরাগের বাক্য ধার্য করিলেন, এবং তাহারা তাহার উত্তম অধিকারী ও তৎসমন্বিত ছিল, ঈশ্বর সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী হন।

আয়াতঃ ২৭⇒ সত্যসত্যই পরমেশ্বর স্বীয় পুরুষের প্রতি স্বপ্ন যথার্থ প্রমানিত করিয়াছেন, যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করেন তবে অবশ্য তোমরা আপন মস্তক মুন্ডন ও কেশচ্ছেদন করতঃ নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে মসজেদোল হরামে প্রবেশ করিবে, অনন্তর তোমরা যাহা জান না তিনি জানেন, পরে তিনি ইহা ব্যতীত সন্নিহিত বিজয় নির্ধারণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ২৮⇒ তিনিই যিনি আপন প্রেরিতপুরুষকে তত্ত্বালোক ও সত্যধর্ম সহ তাহাকে সমগ্র ধর্মের উপর বিজয়ী করিতে প্রেরিন করিয়াছেন, এবং ঈশ্বরই যথেষ্ট (সত্যের) প্রকাশক।

আয়াতঃ ২৯⇒ মোহম্মদ ঈশ্বরের প্রেরিত, এবং যাহারা তাহার সঙ্গে আছে তাহারা কাফেরদিগের প্রতি কঠিন ও আপনাদের মধ্যে সদয়, তুমি তাহাদিগকে রকুকারক প্রণামকারক ঈশ্বরের কৃপা ও প্রসন্নতার অন্বেষণকারী দেখিবে, নমস্কারপুঞ্জের চিহ্নযোগে তাহাদের মুখমণ্ডলে তাহাদের চিহ্ন, তাহাদের এই বৃত্তান্ত তওরাতে আছে, এবং তাহাদের বৃত্তান্ত ইঞ্জিলে আছে, যেমন কোন শস্যক্ষেত্র স্বীয় হরিৎকান্ডকে বাহিত করে, পরে তাহাকে সবল করে, অনন্তর তাহা পরিপুষ্ট হয়, অবশেষে স্বীয় পদোপরি দন্ডায়মান হওতঃ কৃষকদিগকে পুলকিত করে, (তদ্রূপ মোসলমানদিগের অবস্থা) তাহাতে কাফেরগণ তাহাদের প্রতি ক্রোধ করে, যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহাদের সকলকে পরমেশ্বর ক্ষমা ও মহা পুরস্কার দানে অঙ্গীকার করিয়াছেন।