সূরাঃ ফোরকাণ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ যিনি আপন দাসের প্রতি কোরআন অবতারণ করিয়াছেন যেন জগদ্বাসীদিগের জন্য ভয়প্রদর্শক হয়, তিনি বহু গৌরবান্বিত।

আয়াতঃ ০২⇒ তিনিই যাঁহার স্বর্গলোক ও ভূলোকের রাজত্ব, এবং তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই ও রাজত্বে তাঁহার কোন অংশী নাই, এবং তিনি সমস্ত পদার্থ সৃজন করিয়াছেন, অনন্তর তাহা পরিমাণে পরিমিত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তাহারা তাঁহাকে ব্যতীত (এমন) ঈশ্বরদিগকে গ্রহণ করিয়াছে যে, যাহারা কিছুই সৃষ্টি করে নাই, তাহারা সৃষ্ট হয়, এবং তাহারা আপনাদের জীবন সম্বন্ধে ক্ষতি ও বৃদ্ধি করিতে সমর্থ নহে ও জীবন ও মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের সম্বন্ধে ক্ষমতা রাখে না।

আয়াতঃ ০৪⇒ ধর্মবিদ্বেষীগণ বলিয়াছে যে, “ইহারা অপলাপ ভিন্ন নহে, সে তাহা রচনা করিয়াছে, এবং অন্যদল তদ্বিষয়ে তাহাকে সাহায্য দান করিয়াছে;” অনন্তর একান্তই তাহারা অত্যাচার ও মিথ্যা আনয়ন করিয়াছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে, (এই কোরআন) পুরাতন উপন্যাসাবলী, সে ইহা লিখাইয়া লইয়াছে, পরে ইহা তাহার নিকটে প্রাতঃ-সন্ধ্যা পঠিত হয়।

আয়াতঃ ০৬⇒ তুমি বল (হে মোহম্মদ) যিনি স্বর্গ-মর্তের নিগুঢ় তত্ত্ব জ্ঞাত আছেন তিনিই ইহা অবতারণ করিয়াছেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে, “এই প্রেরিতপুরুষ কেমন যে অন্ন ভোজন করে ও বিপণীতে বিচরণ করিয়া থাকে, তাহার নিকটে কেন দেবতা প্রেরিত হয় নাই? তাহা হইলে সে তাহার সঙ্গে ভয়প্রদর্শক হইত।

আয়াতঃ ০৮⇒ অথবা তাহার প্রতি ধনরাশি নিক্ষিপ্ত কিংবা তাহার জন্য উদ্যান যে উহার (ফল) ভক্ষন করিবে” (কেন হয় নাই?) এবং অত্যাচারী লোকেরা বলিয়াছে যে, তোমরা ইন্দ্রজালগ্রস্ত পুরুষের অনুসরণ বৈ করিতেছ না”।

আয়াতঃ ০৯⇒ তুমি দেখ, তোমার জন্য কেমন দৃষ্টান্ত সকল তাহারা প্রয়োগ করিয়াছে, অনন্তর তাহারা পথভ্রান্ত হইয়াছে, অবশেষে তাহারা কোন পথ পাইতে পারিবে না।

আয়াতঃ ১০⇒ যিনি ইচ্ছা করিলে ইহা অপেক্ষা উত্তম উদ্যান সকল তোমাকে দান করিবেন যাহাদের নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, এবং তোমাকে প্রাসাদ সকল দান করিবেন, তিনি গৌরবান্বিত।

আয়াতঃ ১১⇒ বরং তাহারা কেয়ামত সম্বন্ধে অসত্যারোপ করিয়াছে; যে ব্যক্তি কেয়ামত সম্বন্ধে অসত্যারোপ করে আমি তাহার জন্য নরক প্রস্তুত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ১২⇒ যখন (নরক) দূরদেশ হইতে তাহাদিগকে দেখিবে, তখন তাহারা তাহার গর্জন ও কোপনিনাদ শ্রবন করিবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ যখন তাহারা বদ্ধভাবে তাহা হইতে সংকীর্ণ ভূমিতে নিক্ষিপ্ত হইবে, তখন তথায় মৃত্যুকে ডাকিবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ (আমি বলিব যে) “অদ্য তোমরা এক মৃত্যুকে আহ্বান করিও না, এবং বহু মৃত্যুকে আহ্বান কর”।

আয়াতঃ ১৫⇒ তুমি জিজ্ঞাসা করিও (হে মোহম্মদ) “ইহা কি উত্তম? যা নিত্য স্বর্গধাম যাহা ধর্মভীরুদিগের প্রতি অঙ্গীকার করা হইয়াছে, (উত্তম?) তাহাদের জন্য উহা পুরস্কার ও প্রত্যাবর্তন স্থান হয়।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহারা যাহারা চাহিবে তথায় তাহাদের জন্য তাহা চিরস্থায়ী, তোমার প্রতিপালকের নিকটে অঙ্গীকার প্রার্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যে দিবস তিনি তাহাদিগকে ও তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাকে অর্চনা করিতেছিল তাহাকে সমুত্থাপণ করিবেন, তখন জিজ্ঞাসা করিবেন, তোমরা কি আমার এই দাসদিগকে পথভ্রান্ত করিয়াছ, অথবা ইহারা (স্বয়ং) পথহারা হইয়াছে”?

আয়াতঃ ১৮⇒ তাহারা (উপাস্যগণ) বলিবে, “পবিত্রতা তোমার (হে পরমেশ্বর) আমাদের জন্য উচিত নয় যে, আমরা তোমাকে ছাড়িয়া কোন সহায় গ্রহণ করি, কিন্তু তুমি তাহাদিগকে ও তাহাদের পিতৃপুরুষদিগকে এতদূর লাভবান করিয়াছ যে, তোমার উপদেশ তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে, এবং বিনাশোন্মুখ দল হইয়াছে”।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর (হে ধর্মদ্বেষিগণ) তোমরা যাহা বলিতেছিলে তাহাতে (এই উপাস্যগণ) নিশ্চয় তোমাদিগের প্রতিই অসত্যারোপ করিয়াছে, পরে তোমরা শাস্তি ফিরাইতে ও সাহায্য দান করিতে সমর্থ হইতেছ না, তোমাদের মধ্যে যাহারা অত্যাচার করিয়াছে, আমি তাহাদিগকে মহাশাস্তি ভোগ করাইব।

আয়াতঃ ২০⇒ তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) নিশ্চয় যাহারা অন্নাহার করিত ও বিপণীতে বিচরণ করিত তাহাদিগকে ব্যতীত আমি প্রেরিতপুরুষরুপে প্রেরণ করি নাই, এবং আমি তোমাদের একজনকে (হে বিশ্বাসীগণ) অন্য জনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করিয়াছি, তোমরা কি ধৈর্য ধারন করিতেছ? তোমাদের প্রতিপালক দর্শক আছেন।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যাহারা আমার সাক্ষাৎকারের আশা রাখে না তাহারা বলিয়াছে যে, “কেন আমাদের নিকটে দেবতাগণ প্রেরিত হয় নাই, অথবা আমরা ঈশ্বরকে দেখিতে পাই না”? সত্যসত্যই তাহারা স্ব-স্ব জীবন সম্বন্ধে অহংকৃত ও মহা অবাধ্যতায় অবাধ্য হইয়াছে।

আয়াতঃ ২২⇒ যে দিবস তাহারা দেবতাদিগকে দর্শন করিবে, সেই দিবস সেই অপরাধীদিগের জন্য কোন সুসংবাদ নাই, এবং তাহারা (দেবতারা) বলিবে, “বিঘ্ন ও অন্তরায়”।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং তাহারা যে সকল কর্ম করিয়াছে, আমি তাহার দিকে অগ্রসর হইয়াছি, অনন্তর আমি তাহা রেনুপুঞ্জ সদৃশ বিক্ষপ্ত করিয়া ফেলিয়াছি।

আয়াতঃ ২৪⇒ সেই দিবস স্বর্গবাসী অবস্থিতিস্থান অনুসারে উত্তম এবং সুখস্থান অনুসারে উৎকৃষ্টতর।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং যে দিবস মেঘসহ আকাশ বিদীর্ণ হইবে, এবং দেবগণ অবতাররুপে অবতারিত হইবে।

আয়াতঃ ২৬⇒ সেই দিবস প্রকৃত রাজত্ব ঈশ্বরের, এবং সেই দিবস কাফেরদিগের প্রতি কঠিন হইবে।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিবস অত্যাচারীগণ আপন হস্তপৃষ্ঠ দংশন করিতে থাকিবে, বলিতে থাকিবে, “হায়! যদি আমি প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে পথ অবলম্বন করিতাম।

আয়াতঃ ২৮⇒ হায়! আমার প্রতি আক্ষেপ, যদি আমি অমুককে বন্ধুরুপে গ্রহণ না করিতাম (ভাল ছিল)।

আয়াতঃ ২৯⇒ সত্যসত্যই আমার নিকটে পহুঁছিবার পর সেই উপদেশ হইতে সে আমাকে বিপথে লইয়া গিয়াছে, এবং শয়তান মানব মণ্ডলীর (বিপথে) নিক্ষেপকারী হয়”।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং প্রেরিতপুরুষ বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে বর্জিত করিয়াছে”।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং এইরুপে আমি প্রত্যেক তত্ত্ববাহকের জন্য অপরাধীগণ হইতে শত্রু উপস্থিত করিয়াছি, এবং তোমার প্রতিপালক যথেষ্ট পথ-প্রদর্শক ও সাহায্যকারী।

আয়াতঃ ৩২⇒ ধর্মদ্বেষী লোকেরা বলিয়াছে, “কেন তাহার প্রতি কোরআন একযোগে একবারে অবতীর্ণ হয় নাই”? এইরুপই (অবতারণ করিয়াছি) যেহেতু তদ্দারা আমি তোমার অন্তর দৃঢ় করিব ও তাহা আমি ক্রমশঃ পাঠ করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহারা তোমার নিকটে এমন কোন প্রস্তাব উপস্থিত করে না, যাহার সত্য (উত্তর) ও উত্তমতম ব্যাখ্যা আমি তোমাকে যোগাই না।

আয়াতঃ ৩৪⇒ যাহারা আপন মুখোপরি (অধোমুখে) নরকের দিকে সমুত্থাপিত হইবে, তাহারাই স্থানানুসারে নিকৃষ্ট, পথ অনুসারে ভ্রান্ত।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছিলাম, এবং তাহার সঙ্গে তাহার ভ্রাতা হারুনকে সহকারী করিয়া দিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৩৬⇒ তদনন্তর আমি বলিয়াছিলাম যে, যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, তোমরা সেই জাতির নিকটে যাও, পরে আমি তাহাদিগকে সংহারে সংহার করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং নুহীয় সম্প্রদায় যখন প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, তখন আমি তাহাদিগকে জলমগ্ন করিয়াছিলাম ও মানবমণ্ডলীর জন্য তাহাদিগকে নিদর্শন করিয়াছিলাম, এবং অত্যাচারীদিগের জন্য আমি কষ্টকর দন্ড সজ্জিত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং আদ ও সমুদ ও রস্বনিবাসিগণকে এবং ইহাদের মধ্যবর্তী বহু দলকে আমি (বিনষ্ট) করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং প্রত্যেকের জন্য দৃষ্টান্ত সকল ব্যক্ত করিয়াছি, এবং প্রত্যককে সংহারে সংহার করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং সত্যসত্যই তাহারা এমন এক গ্রামেতে উপস্থিত হয়, যাহাতে কুবৃষ্টি বর্ষিত করা হইয়াছিল, অনন্তর তাহারা কি উহা দেখিতেছিল না? বরং তাহারা পুনরুত্থানের আশা করিত না।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং যখন তাহারা তোমাকে (হে মোহম্মদ) দর্শন করে, তখন তোমাকে উপহাস করিয়া বৈ গ্রহণ করে না, (বলে) “যাহাকে ঈশ্বর প্রেরিতরুপে পাঠাইয়াছেন এ কি?

আয়াতঃ ৪২⇒ নিশ্চয় সে আমাদের উপাস্যগণ হইতে আমাদিগকে ভুলাইয়া লইয়া যাইতে উদ্যত ছিল, যদি আমরা তাহাদের প্রতি ধৈর্য ধরিয়া না থাকিতাম;” যখন শাস্তি অবলোকন করিবে, তখন তাহারা অবশ্য জানিবে যে, কে অধিকতর পথভ্রান্ত।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তুমি তাহাকে কি দেখিয়াছ যে, স্বীয় বাসনাকে স্বীয় ঈশ্বররুপে গ্রহণ করিয়াছে? অনন্তর তুমি কি তাহার সম্বন্ধে কার্যসম্পাদক হইবে?

আয়াতঃ ৪৪⇒ তুমি কি মনে করিতেছ যে, তাহাদের অধিকাংশ লোক শ্রবন করে বা বুঝিতে পায়? তাহারা পশু সদৃশ বৈ নহে, বরং তাহারা অধিকতর পথভ্রান্ত।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ তুমি কি আপন প্রতিপাকের দিকে দৃষ্টি করিতেছ না যে, তিনি কেমন ছায়া বিস্তৃত করিয়াছেন? এবং যদি তিনি চাহিতেন তবে তাহাকে স্থীর রাখিতেন, তৎপর আমি তাহার দিকে সূর্যকে পথপ্রদর্শক করিয়াছি, তাহার পর আমি সহজ ধারনে তাহাকে আপনার দিকে ধারন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং তিনিই যিনি তোমাদের জন্য রজনীকে আবরণ ও নিদ্রাকে বিশ্রামপ্রদা করিয়াছেন, এবং দিবাকে সমুত্থানের সময় করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তিনিই যিনি আপনার দয়ার পূর্বে বায়ুকে সুসংবাদদাতৃরুপে প্রেরণ করিয়াছেন, এবং আমি আকাশ হইতে নির্মল বারি বর্ষণ করি।

আয়াতঃ ৪৯⇒ যেহেতু তাহা দ্বারা আমি মৃত নগরকে জীবিত করি, যে সকলকে আমি সৃজন করিয়াছি সেই পশু ও বহু মনুষ্যকে তাহা পান করাইয়া থাকি।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাদের মধ্যে উহা (অর্থাৎ উপদেশ) নানা প্রকারে ব্যক্ত করিয়াছি, যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে, পরন্তু অধিকাংশ মনুষ্য অধর্ম ভিন্ন গ্রাহ্য করে নাই।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং যদি আমি ইচ্ছা করিতাম তবে অবশ্য প্রত্যেক গ্রামে ভয়প্রদর্শক প্রেরণ করিতাম।

আয়াতঃ ৫২⇒ অনন্তর তুমি কাফেরদিগের অনুগত হইও না, এবং তদনুসারে (কোরআনের মতে) মহা জ্বেহাদে জ্বেহাদ কর।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং তিনিই যিনি দুই সাগরকে মিলিত করিয়াছেন, এই (এক) তৃষ্ণানিবারক মিষ্ট এবং এই (অন্য) লবণাক্ত বিরস, এবং উভয়ের মধ্যে আবরণ ও দৃঢ় প্রাচীর রাখিয়াছেন।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং তিনিই যিনি (শুক্ররুপ) জল হইতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিয়াছেন, অনন্তর তাহাকে বংশ ও (পিতা) ও শ্বশুর করিয়াছেন, এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) ক্ষ্মতাবান হন।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং যাহা তাহাদের কোন ক্ষতি ও তাহাদের কোন বৃদ্ধি করে না তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া তাহাকে অর্চনা করিয়া থাকে, এবং কাফেরগণ আপন প্রতিপালকের দিকে পৃষ্ঠস্থাপক হয়।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং আমি তোমাকে সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শক ভিন্ন প্রেরণ করি নাই।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তুমি বল (হে মোহম্মদ) যে ব্যক্তি ইচ্ছা করিতেছে যে, আপন প্রতিপালকের দিকে পথ অবম্বন করে সে (করুক) তদ্বতীত আমি তৎসম্বন্ধে (কোরআন প্রচার সম্বন্ধে) তোমাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা করিও না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ যিনি মরেন না, জীবিত, তুমি তাঁহার প্রতি নির্ভর স্থাপন কর, এবং তাঁহার প্রশংসাযোগে স্তব কর, তিনি আপন দাসগণের অপরাধ সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৫৯⇒ যিনি স্বর্গ-মর্ত এবং উভয়ের ভিতরে যাহা কিছু আছে তাহা ছয় দিবসের মধ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন, তৎপর স্বর্গোপরি অবস্থিত আছেন, তিনি রহমান, (পুনর্জীবনদাতা) অবশেষে তুমি তাঁহার (গুন ও স্বরূপ) সম্বন্ধে কোন জ্ঞানীকে প্রশ্ন কর।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল যে, রহমানকে তোমরা নমস্কার কর, তখন তাহারা বলিল, “কে রহমান? যাহাকে (প্রণাম করিতে) তুমি আমাদিগকে আদেশ করিতেছ, আমরা কি সেই বস্তুকে প্রণাম করিব”? (এ-কথা) তাহাদের সম্বন্ধে বিচ্ছেদ বৃদ্ধি করিল।

আয়াতঃ ৬১⇒ যিনি গগনে গ্রহমণ্ডল সকল সৃজন করিয়াছেন এবং তন্মধ্যে দীপ (সূর্য) ও উজ্জ্বল চন্দ্রমা সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি মহিমান্বিত।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং তিনিই যাহারা উপদেশ গ্রহণ করিতে বা ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা করে তাহাদের জন্য (পরস্পর) অনুগামিনী রজনী ও দিবা সৃজন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৬৩⇒ এবং তাহারাই ঈশ্বরের দাস যাহারা ভূতলে ধীরে গমন করে, এবং যখন মূর্খ লোকেরা তাহাদের সঙ্গে কথা কহে তাহারা সলাম বলিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং যাহারা আপন প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে প্রণাম ও (নমাজের জন্য) দন্ডায়মানভাবে রজনী যাপন করে।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং যাহারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদিগ হইতে নরকদন্ড দূর কর, নিশ্চয় তাহার শাস্তি (আমাদের সম্বন্ধে) সমুচিত হইয়াছে”।

আয়াতঃ ৬৬⇒ নিশ্চয় উহা স্থান ও অবস্থিতিভূমি অনুসারে মন্দ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং যাহারা যখন ব্যয় করে অপব্যয় করে না ও কৃপণতা করে না, এবং এ উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রাপ্ত হয়।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং যাহারা পরমেশ্বরের সঙ্গে অন্য ঈশ্বরকে আহ্বান করে না, এবং ঈশ্বর যাহাকে অবৈধ করিয়াছেন এমন ব্যক্তিকে ন্যায়ানুরোধে ব্যতীত হত্যা করে না, এবং ব্যভিচার করে না।

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং যে ব্যক্তি ইহা করে সে আসামে মিলিত হয়। কেয়ামতের দিন তাহার শাস্তি দ্বিগুণ করা হইবে, তথায় সর্বদা সে লাঞ্ছিত থাকিবে।

আয়াতঃ ৭০⇒ কিন্তু যে ব্যক্তি প্রতিনিবৃত্ত হইয়াছে ও বিশ্বাস স্থাপন এবং সৎকর্ম করিয়াছে সে নহে, অনন্তর ইহারাই যে ঈশ্বর ইহাদের পাপ সকলকে পুণ্যেতে পরিবর্তিত করিবেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং যে ব্যক্তি (পাপ হইতে) ফিরিয়া আইসে ও শুভ কর্ম করে অনন্তর নিশ্চয় সে ঈশ্বরের দিকে প্রত্যাবর্তনরুপে প্রত্যাবর্তিত হয়।

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং যাহারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না, এবং যখন নিরর্থক বিষয়ের দিকে উপস্থিত হয় তখন মহাদ্ভাবে চলিয়া যায়।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং যাহারা আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকল সম্বন্ধে  বধির ও অন্ধরুপে পতিত (উপস্থিত) থাকে না।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং যাহারা বলে, “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদিগকে ভার্যা ও নয়নজ্যোতিস্বরূপ সন্তানবৃন্দ দান কর, ও আমাদিগকে ধর্মভীরুদিগের অগ্রণী কর।

আয়াতঃ ৭৫⇒ ইহারাই যাহারা ধৈর্য ধারন করিয়াছে, তজ্জন্য ইহাদিগকে উচ্চ অট্টালিকা পুরস্কার দেওয়া যাইবে, এবং ইহারা তথায় মঙ্গল ও শান্তির আশীর্বাদ প্রাপ্ত হইবে

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং তথায় ইহারা চিরস্থায়ী হইবে, বাসভূমি ও স্থান অনুসারে তাহা উত্তম।

আয়াতঃ ৭৭⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) যদি তোমাদের প্রার্থনা না থাকিত তবে আমার প্রতিপালক তোমাদিগকে কি গণ্য করিতেন? অনন্তর নিশ্চয় তোমরা অসত্যারোপ করিয়াছ, পরে অবশ্য তাহার সমুচিত (প্রতিফল) হইবে।