সূরাঃ নেসা

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে লোকসকল তিনি এক ব্যক্তি হইতে তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন ও তাহা হইতে তাঁহার স্ত্রী সৃজন করিয়াছেন, এবং এই উভয় হইতে বহু পুরুষ ও নারী বিস্তার করিয়াছেন, তোমরা আপনাদের সেই প্রতিপালককে ভয় কর, এবং যাহার নামে পরস্পর যাঞ্চা করিয়া থাক সেই ঈশ্বরকে ও বান্ধবতাকে ভয় কর, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদিগের পরিদর্শক হন।
আয়াতঃ ০২⇒ এবং অনাথাদিগকে তাহাদের সম্পত্তি প্রদান কর, শুদ্ধতার সঙ্গে অশুদ্ধতার বিনিময় করিও না, এবং তাহাদের সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তির সঙ্গে যোগ করিয়া ভোগ করিও না, নিশ্চয় ইহা গুরুতর অপরাধ।
আয়াতঃ ০৩⇒ এবং যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, অনাথাদিগের প্রতি ন্যায় ব্যবহার করিতে পারিবে না, তবে তোমাদের যেরুপ অভিরুচি তদনুসারে দুই, তিন বা চারি নারীর পাণিগ্রহণ করিতে পার, পরন্তু যদি আশঙ্কা কর যে ন্যায় ব্যবহার করিতে পারিবে না তবে এক নারীকে (বিবাহ করিবে) অথবা তোমাদের দক্ষিন-হস্ত যাহাদের উপর অধিকার লাভ করিয়াছে, তাহাকে (পত্নী স্থলে গ্রহণ করিবে) ইহা অন্যায় না করার নিকটবর্তী।
আয়াতঃ ০৪⇒ এবং তোমরা স্ত্রীদিগকে সহর্ষে তাহাদের যৌতুক দান করিবে, পরন্তু যদি তাহারা আপনা হইতে সন্তোষপূর্বক তাহার কোন দ্রব্য তোমাদিগকে প্রদান করে তবে সেই উপযুক্ত সুরসদ্রব্য ভোগ কর।
আয়াতঃ ০৫⇒ এবং নিজের সম্পত্তি, যাহা পরমেশ্বর তোমাদের জন্য স্থীর করিয়াছেন অবোধদিগকে প্রদান করিও না, তাহা হইতে তাহাদিগকে খাওয়াইবে ও তাহাদিগকে পরাইবে এবং তাহাদের প্রতি উত্তম কথা কহিবে।
আয়াতঃ ০৬⇒ এবং অনাথদিগকে বিবাহের যোগ্য হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা কর, পরে যদি তাহাদিগের যোগ্যতা প্রাপ্ত হও, তবে তাহাদিগের সম্পত্তি তাহাদিগকে সমর্পণ করিবে, এবং তাহারা বড় হইয়া উঠিল বলিয়া তাহা সত্বর ও বাহুল্যরুপে ভোগ করিবে না, যাহারা ধনী তাহারা অবশেষে ধৈর্য ধারন করিবে, এবং অপিচ যাহারা নির্ধন তাহারা উপযুক্তরুপে ভোগ করিবে, পরিশেষে যখন তোমরা তাহাদিগের সম্পত্তি তাহাদিগের প্রতি সমর্পণ করিবে তখন তাহাদের সম্বন্ধে সাক্ষী গ্রহণ করিও, এবং ঈশ্বর প্রচুর বিচারকারী।
আয়াতঃ ০৭⇒ যাহা পিতা-মাতা ও স্বগণ পরিত্যাগ করে তাহা হইতে পুরুষের অংশ, এবং যাহা পিতা-মাতা ও স্বগণ পরিত্যাগ করে তাহা অল্প বা অধিক হউক তাহা হইতে নারীর অংশ (এরুপ) অংশ নির্ধারিত হয়।
আয়াতঃ ০৮⇒ এবং যখন বন্টন হইবে তখন স্বগণ ও নিরাশ্রয় এবং দরিদ্র উপস্থিত হইলে তাহাদিগকে তাহা হইতে দান করিবে, এবং তাহাদিগকে প্রিয় বাক্য বলিবে।
আয়াতঃ ০৯⇒ যদি তাহারা দুর্বল সন্তান আপনাদের পশ্চাতে রাখিয়া যায় তাহাদিগের (সেই বালকদিগের) সম্বন্ধে তাহাদের ভয় হওয়া উচিত, পরন্তু উচিত যে ঈশ্বরকে ভয় করে, এবং উচিত যে অটল বাক্য বলে।
আয়াতঃ ১০⇒ নিশ্চয় যাহারা অত্যাচার করিয়া অনাথদিগের ধন ভোগ করে তাহারা নিজেদের পাকস্থলীতে অগ্নি ভিন্ন ভোজন করে না, এবং অবশ্য তাহারা নরকে যাইবে।
আয়াতঃ ১১⇒ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে ঈশ্বর নির্ধারণ করিতেছেন যে, দুই জন কন্যার অংশের অনুরুপ একজন পুত্রের (অংশ) হইবে, পরন্তু যদি দুইয়ের অধিক কন্যামাত্র হয় তবে যাহা (মৃত ব্যক্তি) পরিত্যাগ করিয়াছে তাহার দুই তৃতীয়াংশ ভাগ তাহাদের জন্য হইবে, এবং যদি এক কন্যা হয় তবে তাহার জন্য অর্ধাংশ; যদি তাহার সন্তান থাকে তবে সে যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে তাহার ষষ্ঠাংশ তাহার পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যকের জন্য হইবে, পরন্তু যদি তাহার সন্তান না থাকে তবে তাহার পিতা তাহার উত্তরাধিকারী, কিন্তু তাহার মাতার জন্য তৃতীয় ভাগ, পরন্তু যদি তাহার কয়েক ভ্রাতা থাকে তবে তাহার মাতার জন্য ষষ্ঠ ভাগ (মৃত ব্যক্তি কর্তৃক) এ বিষয়ে যে নির্ধারণ করা হয় সেই নির্ধারিত পূর্ণ হওয়ার পর (ইহা হইবে) অথবা তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানগণের ঋণ পরিশোধ হওয়ার পর হইবে, তোমরা জ্ঞাত নও যে কল্যাণ সাধনে তাহাদের মধ্যে কে তোমাদের অধিকতর নিকটবর্তী, (ইহা) ঈশ্বর কর্তৃক নিরুপিত, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ।
আয়াতঃ ১২⇒ এবং যাহা তোমাদের স্ত্রীগণ পরিত্যাগ করিয়াছে তাহাদের সন্তান না থাকিলে তোমাদের নিমিত্ত তাহার অর্ধাংশ, পরন্তু যদি তাহাদের সন্তান থাকে তবে তাহারা যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে তমাদের জন্য তাহার চতুর্থাংশ, এ বিষয়ে যাহা নির্ধারণ করা হয় (ইহা) তাহা পূর্ণ হওয়ার অথবা তাহার ঋণ পরিশোধ হওয়ার পরে হইবে, এবং তোমরা যাহা পরিত্যাগ করিয়াছ তাহাদের জন্য তাহার অষ্টমাংশ হইবে, তোমরা এ সম্বন্ধে যে নির্ধারণ কর সেই নির্ধারণ পূর্ণ ও পরিশোধ হওয়ার পর (ইহা) হইবে, এবং যাহা হইতে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়া যায় সে যদি নিঃসন্তান ও পিতৃহীন পুরুষ হয়, অথবা (তদ্রুপ) নারী হয় এবং তাহার এক ভ্রাতা ও ভগিনী থাকে তবে উভয়ের প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ, পরন্তু যদি এতদপেক্ষা অধিক হয় তবে তাহারা তৃতীয় অংশের মধ্যে অংশী হইবে, এ সম্বন্ধে যে নির্ধারণ করা হয় সেই নির্ধারণ পূর্ণ হওয়ার পর বা ক্ষতিবিহীন ঋণ পরিশোধ হওয়ার পর (ইহা) হইবে, পরমেশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত, ঈশ্বর জ্ঞাতা ও প্রশান্ত।
আয়াতঃ ১৩⇒ এ সকল ঈশ্বরের নির্ধারিত, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত হইবে সে স্বর্গে তথায় সর্বদা অবস্থানকারীরুপে নীত হইবে, যাহার (বৃক্ষের) নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, এবং ইহাই মহা চরিতার্থতা।
আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অবাধ্য হয় ও তাঁহার নির্ধারিত সীমা উল্লঙ্ঘন করে সে নরকাগ্নিতে তথায় সর্বদা অবস্থানকারীরুপে নীত হইবে, এবং তাহার জন্য গ্লানিজনক শাস্তি আছে।
আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তোমাদের স্ত্রীগণের মধ্যে যাহারা কুকার্যে উপস্থিত হয় পরে তোমরা তাহাদের সম্বন্ধে স্বজাতীয় চারি জনের সাক্ষ্য চাহিবে, যদি সাক্ষ্য প্রদত্ত হয় তবে তাহাদিগকে শমন যে পর্যন্ত বিনাশ করে অথবা ঈশ্বর তাহাদের জন্য কোন পথ নির্ধারণ না করেন সে পর্যন্ত গৃহে রুদ্ধ করিয়া রাখিবে।
আয়াতঃ ১৬⇒ এবং তোমাদের মধ্যে যে দুই ব্যক্তি তাহাতে (সেই দুষ্কর্মে) উপস্থিত হয়, তোমরা তাহাদিগকে শাস্তিদান করিবে, পরে যদি তাহারা প্রত্যাবর্তন করে, এবং সাধু হয় তবে তাহাদিগ হইতে প্রতিনিবৃত্ত হইবে, নিশ্চয় ঈশ্বর প্রত্যাবর্তনকারী দয়ালু।
আয়াতঃ ১৭⇒ যাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ দুষ্কর্ম করে তাহাদিগের প্রত্যাবর্তন গ্রহণ করা ঈশ্বরের পক্ষে, ইহা ভিন্ন নহেঃ তৎপর তাহারা সত্বর প্রত্যাবর্তন করে, পরে ইহারাই, যে ঈশ্বর তাহাদের প্রতি প্রত্যাবর্তিত হন, ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ।
আয়াতঃ ১৮⇒ এবং যে ব্যক্তি পাপ কর্ম করিতে থাকে তাহার জন্য প্রত্যাবর্তন নাই, এ পর্যন্ত যখন তাহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে নিশ্চয় আমি এক্ষণ প্রত্যাবর্তিত হইলাম, কিন্তু যাহারা মরিতে চলিয়াছে তাহাদের জন্য (প্রত্যাবর্তন) নহে, তাহারা কাফের, এই তাহারাই, তাহাদের জন্য আমি দুঃখজনক শাস্তির আয়োজন করিয়াছি।
আয়াতঃ ১৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, বলপূর্বক স্ত্রীগণের স্বত্ব গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষে অবৈধ, স্পষ্ট দুষ্ক্রিয়ায় তাহাদের যোগ দেওয়া ব্যতিত তোমরা তাহদিগকে যে কোন দ্রব্য দান করিয়াছ তাহা গ্রহণ পূর্বক পুনর্বিবাহে তাহদিগকে নিষেধ করিও না, এবং বৈধ-রুপে তাহাদের সঙ্গ করিবে, পরন্তু যদি তোমরা তাহাদিগকে অবজ্ঞা কর তবে হয়তো এমন এক বস্তুকে অবজ্ঞা করিলে যে যাহাতে ঈশ্বর প্রচুর কল্যাণ করিয়া থাকেন।
আয়াতঃ ২০⇒ এবং যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করার ইচ্ছা কর, এবং তাহাদের একজনকে কেন্তার (বহুধন) দান করিয়াছ তবে তাহা হইতে কিছুই গ্রহণ করিবে না, তোমরা স্পষ্ট অপলাপ ও অপরাধ করিয়া কি তাহা গ্রহণ করিবে?
আয়াতঃ ২১⇒ এবং কি প্রকারে তোমরা তাহা গ্রহণ করিবে? বস্তুতঃ পরস্পর তোমাদের একজন হইতে অন্য জনের প্রতি স্বত্ব হইয়াছে ও তাহারা তোমাদিগের হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছে।
আয়াতঃ ২২⇒ এবং যাহা নিশ্চয় অতীত হিয়াছে তদ্ব্যতীত তোমাদের পিতৃগণ যেসকল নারীকে বিবাহ করিয়াছে তোমরা তাহদিগকে বিবাহ করিও না, নিশ্চয় ইহা দুষ্কর্ম, আক্রোশবিশিষ্ট ও কুপথ।
আয়াতঃ ২৩⇒ তোমাদের সম্বন্ধে তোমাদিগের মাতা, কন্যা, ভগিনী, পিতৃস্বসা, মাতৃস্বসা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, মাতৃস্বস্রেয়ী এবং যে তোমাদিগকে স্তন্যদান করিয়াছে সে (ধাত্রী), এবং স্বহস্তন্যপায়িনীরুপা ভগিনী, তোমাদের ভার্যার মাতা ও যাহার সঙ্গ করিয়াছ সেই ভার্যার যে কন্যা তোমাদের ক্রোড়ে (প্রতিপালিত) সে, (ইহারা) অবৈধ; পরন্তু যদি তাহার সঙ্গে সহবাস না করিয়া থাক তবে (সেই কন্যা) তোমাদের সম্বন্ধে দোষ নহে, এবং যাহারা তোমাদের ঔরসজাত সেই তোমাদের পুত্রগণের ভার্যা (অবৈধ) ও দুই ভগিনীর মধ্যে যোগ করা অবৈধ, কিন্তু যাহা গত হইয়াছে তাহা নয়, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আয়াতঃ ২৪⇒ এবং সধবা নারী (অবৈধ), কিন্তু তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাহাদের উপর অধিকার লাভ করিয়াছে ঈশ্বর তাহাকে তোমাদের সম্বন্ধে লিপি করিয়াছেন, এবং এসকল ব্যতিত তোমাদের জন্য বিধি হইয়াছে যে তোমরা আপন ধন দ্বারা (কাবিন যোগে) সুরক্ষক অব্যভিচারী হইয়া (বিবাহ) অন্বেষণ কর, অনন্তর যদ্দারা তোমরা সেই নারীগণ হইতে ফল ভোগ করিলে (বিবাহজন্য) পরে উহা তাহাদিগকে তাহাদের নির্ধারিত যৌতুকরুপে দান কর, এবং নির্ধারণ করার পর যে বিষয়ে তোমরা পরস্পর সম্মত হও তদ্বিষয়ে তোমাদের সম্বন্ধে দোষ নাই, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ।
আয়াতঃ ২৫⇒ এবং যদি তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি (অর্থাভাববশতঃ) এই ক্ষমতা প্রচুর প্রাপ্ত না হয় যে স্বাধীনা বিশ্বাসিনী কন্যাকে বিবাহ করে তবে তোমাদের বিশ্বাসিনী দাসীদিগের যাহাদিগকে তোমাদের দক্ষিন হস্ত অধিকার করিয়াছে তাহাদিগকে (বিবাহ করিবে) এবং ঈশ্বর তোমাদের বিশ্বাস উত্তম জ্ঞাত, তোমরা পরস্পরের, অতএব তাহাদের প্রভুর আজ্ঞানুসারে তাহাদিগকে বিবাহ কর, এবং তাহারা অব্যভিচারিনী বিশুদ্ধা হইলে ও গুপ্ত বন্ধু গ্রহণ না করিলে বিধিমতে তাহাদিগকে তাহাদের ঔদ্বাহিক দান প্রদান কর, পরন্তু যদি তাহারা (বিবাহে) আবদ্ধ হইয়া দুষ্কর্মে উপস্থিত হয়, তবে তাহাদের প্রতি স্বাধীনা স্ত্রীর শাস্তির অর্ধেক (হইবে) তোমাদের যে ব্যক্তি কুকর্মকে ভয় করে তাহার জন্য ইহা, ধৈর্য ধারন কর তবে তোমাদের মঙ্গল, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল-দয়ালু।
আয়াতঃ ২৬⇒ ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেছেন যে, তোমাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের পথ তোমাদিগের জন্য ব্যক্ত করেন ও তোমাদিগকে প্রদর্শন করেন, এবং তোমাদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেন ও ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ।
আয়াতঃ ২৭⇒ এবং ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেছেন যে, তিনি তোমাদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেন, এবং যাহারা কুকামনার অনুসরণ করে তাহারা ইচ্ছা করে যে, তোমরা মহা কুটিলতায় কুটিল হও।
আয়াতঃ ২৮⇒ এবং ঈশ্বর ইচ্ছা করেন যে, তোমাদিগ হইতে (ভার) লঘু করিয়া লন, মনুষ্য দুর্বল সৃষ্ট হইয়াছে।
আয়াতঃ ২৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের পরস্পর সম্মতিক্রমে বানিজ্য হওয়া ব্যতিরেকে তোমরা আপনাদের ধন অন্যায়রুপে পরস্পরের মধ্যে ভোগ করিও না, এবং আপনাদের জীবনকে বধ করিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদের প্রতি দয়াবান হন।
আয়াতঃ ৩০⇒ এবং যে ব্যক্তি দৌরাত্ম্য ও অত্যাচার দ্বারা ইহা করে, পরে অবশ্যই আমি তাহাকে নরকানলে আনয়ন করিব, ইহা ঈশ্বরের সম্বন্ধে সহজ হয়।
আয়াতঃ ৩১⇒ যাহা নিষেধ করা যাইতেছে সেই মহা (পাপ) হইতে যদি তোমরা বিরত থাক, তবে আমি তোমাদের দোষ সকল তোমাদিগ হইতে দূর করিব, এবং তোমাদিগকে গৌরবের নিকেতনে প্রবেশ ক্রাইব।
আয়াতঃ ৩২⇒ ঈশ্বর যদ্দারা তোমাদের কাহাকে কাহার উপরে শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছেন তোমরা তাহার আকাঙ্ক্ষা করিও না, পুরুষদিগের জন্য তাহারা যাহা উপার্জন করিয়াছে তাহাতে স্বত্ব, নারীদিগের জন্য তাহারা যাহা লাভ করিয়াছে তাহাতে স্বত্ব, এবং ঈশ্বরের নিকটে তাঁহার করুণা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বজ্ঞ হন।
আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং যাহা পিতা-মাতা ও স্বগণ পরিত্যাগ আমি প্রত্যেকের জন্য তাহার উত্তরাধিকারী নির্ধারিত করিয়াছি ও যাহাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারে বদ্ধ হইয়াছ পরে তাহাদিগকে তাহাদের স্বত্ব প্রদান করিবে, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বসাক্ষী হন।
আয়াতঃ ৩৪⇒ পুরুষ স্ত্রীলোকের উপর কর্তৃত্ব রাখে, ঈশ্বর তাহাদের একজনকে অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠতা দান করিয়াছেন বলিয়া, এবং তাহারা (পুরুষেরা) নিজের ধন ব্যয় করে বলিয়া; পরন্তু সাধ্বী নারীগণ বাধ্যা হয়, তাহারা গোপনীয়ের (দাম্পত্য ধর্মের) সংরক্ষীকা ঈশ্বর সংরক্ষণ করিয়াছেন বলিয়া; এবং তোমরা যে সকল নারীর অবাধ্যতা আশঙ্কা করিয়া থাক তাহাদিগকে উপদেশ দান কর ও শয়নাগারে তাহাদিগকে যাইতে বারণ কর, এবং তাহাদিগকে প্রহার কর, যদি তাহারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাহাদের প্রতি কোন পথ অন্বেষণ করিও না; নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রেষ্ঠ ও মহান।
আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং যদি (হে বিচারকগণ) তোমরা উভয়ের মধ্যে বিরুদ্ধভাব আশঙ্কা কর তবে পুরুষের স্বগণ হইতে একজন মীমাংসাকারী ও স্ত্রীর স্বগণ হইতে একজন মীমাংসাকারী নিযুক্ত করিবে, যদি তাহারা মীমাংসা করিয়া দিতে ইচ্ছা করে তবে ঈশ্বর উভয়ের প্রতি অনুকূল হইবেন; নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানী ও জ্ঞাতা হন।
আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং ঈশ্বরকে পূজা কর ও তাঁহার সঙ্গে কোন বস্তুকে অংশী করিও না, এবং পিতা, মাতা, স্বগণ, নিরাশ্রয়, দরিদ্র, স্বজন-প্রতিবেশী, পরজন-পরতিবেশী ও পার্শ্ববর্তী সঙ্গী এবং পরিব্রাজক, এ সকলের প্রতি এবং তোমাদের হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে তাহাদিগের প্রতি সদ্ব্যবহার কর; যাহারা অহংকারী আত্মাভিমানী হয় নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদিগকে প্রেম করেন না।
আয়াতঃ ৩৭⇒ যাহারা কৃপণতা করে ও লোকদিগকে কৃপণ হইতে বলে, এবং ঈশ্বর নিজ কৃপাগুনে তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তাহা গোপন করে (ঈশ্বর তাহাদিগকে প্রেম করেন না) এবং আমি কাফেরদিগের জন্য গ্লানিজনক শাস্তি প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।
আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং যাহারা লোকদিগকে প্রদর্শনের জন্য নিজের ধন ব্যয় করে এবং পরমেশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না, (তাহাদের প্রতি ঈশ্বর তদ্রুপ অপ্রসন্ন) এবং শয়তান যে ব্যক্তির বন্ধু (সে তাহার) কুবন্ধু।
আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যদি তাহারা ঈশ্বরকে ও পরকালকে বিশ্বাস করিত ও ঈশ্বর যাহা উপজীবিকারুপে তাহাদিগকে দিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় করিত তবে তাহাদের সম্বন্ধে কি (ক্ষতি) ছিল? এবং পরমেশ্বর তাহাদিগকে জ্ঞাত আছেন।
আয়াতঃ ৪০⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর বিন্দু পরিমাণও অত্যাচারও করেন না, এবং যদি সৎকার্য হয় তবে তিনি তাহাকে দ্বিগুণ করেন এবং আপনার নিকট হইতে মহা পুরষ্কার দান করিয়া থাকেন।
আয়াতঃ ৪১⇒ অনন্তর কেমন হইবে যখন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে সাক্ষী উপস্থিত করিব, এবং ইহাদের প্রতি তোমাকে সাক্ষী আনয়ন করিব।
আয়াতঃ ৪২⇒ যারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও প্রেরিতপুরুষের সম্বন্ধে অপরাধ করিয়াছে তাহারা সে দিবস ইচ্ছুক হইবে যেন তাহাদের উপর ভূমি সমতা প্রাপ্ত হয় ও তাহারা ঈশ্বর হইতে কোন কথা গোপন রাখিতে পারিবে না।
আয়াতঃ ৪৩⇒ হে বিশবাসীগণ, তোমরা মত্ততাবস্থাপন্ন হইয়া যাহা বলিয়া থাক তাহা বোধ হওয়া পর্যন্ত এবং পথপর্যটনকারী হওয়া ব্যতিরেকে শুক্রক্ষরণের অবস্থায় স্নান করা পর্যন্ত নমাজের নিকটে যাইও না, এবং যদি তোমরা পীড়িত হও বা পর্যটনে প্রবৃত্ত থাক, অথবা তোমাদের কেহ শৌচাগার হইতে আগমন করে, কিংবা তোমরা স্ত্রীসঙ্গ কর তখন জল প্রাপ্ত না হও তবে বিশুদ্ধ মৃত্তিকার চেষ্টা করিও, পরে তাহা আপনাদের মুখে ও আপনাদের হস্তে আমর্ষন করিও, ইশ্চয় ঈশ্বর মার্জনাকারী ও ক্ষমাকারী।
আয়াতঃ ৪৪⇒ যাহাদিগকে গ্রন্থের অংশ দেওয়া গিয়েছে তুমি কি তাহাদিগকে দেখ নাই? তাহারা পথভ্রান্তিকে ক্রয় করিতেছে, এবং ইচ্ছা করিতেছে যে, তোমরাও পথভ্রান্ত হও।
আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং ঈশ্বর তোমাদের শত্রুদিগকে উত্তম জ্ঞাত ও ঈশ্বরই (তোমাদের) যথেষ্ট বন্ধু, ঈশ্বরই যথেষ্ট সাহায্যকারী।
আয়াতঃ ৪৬⇒ ইহুদীদিগের কতক লোক প্রবচনকে তাহার স্থান হইতে পরিবর্তন করিয়া থাকে, এবং তাহারা (ভাবে রসনায়) বলিয়া থাকে যে, আমরা শুনিয়াছি ও গ্রাহ্য করি নাই, এবং শ্রোতা না হইয়া (বলিয়া থাকে) শ্রবন কর, আপনাদের রসনায় “রা আনাকে” জড়িত কর, এবং ধর্মেতে গর্ব করিয়া থাকে, যদি তাহারা শ্রবন করিলাম ও গ্রাহ্য করিলাম, এবং শ্রবন কর, আমাদিগের প্রতি মনোযোগ কর বলিত, তবে অবশ্যই তাহাদের পক্ষে উত্তম ও সরল ছিল; কিন্তু তাহাদের ধর্মদ্রোহিতার জন্য তাহাদিগকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করিয়াছেন, পরন্তু তাহারা অল্প ব্যতিরেকে বিশ্বাস করে না।
আয়াতঃ ৪৭⇒ হে গ্রন্থপ্রাপ্ত লোক সকল আমি তোমাদের সঙ্গে যাহা (যে গ্রন্থ) আছে, আমি তাহার সত্যতার প্রতিপাদক, আমি যাহা অবতারণ করিয়াছি, মুখমণ্ডল বিলুপ্ত্র হওয়ার পূর্বে তাহাতে বিশ্বাস স্থাপন কর, পরে আমি তাহা তাহার পৃষ্ঠের দিকে ফিরাইব, অথবা শনিবাসরীয় লোককে যেরুপ অভিসম্পাত করিয়াছি তাহাদিগকে সেইরুপ অভিসম্পাত করিব; এবং ঈশ্বরের কারয সম্পাদিত হয়।
আয়াতঃ ৪৮⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর তাঁহার সঙ্গে অংশী স্থাপন করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এতদ্ভিন্ন যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করেন; এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে অংশী করিয়াছে নিশ্চয় সে মহা অপরাধকে বাঁধিয়া লইয়াছে।
আয়াতঃ ৪৯⇒ যাহারা আপন জীবনকে শুদ্ধ বলিতেছে তুমি কি তাহাদের প্রতি দৃষ্টি কর নাই? বরং ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় শুদ্ধ করিয়া থাকেন, এবং তাহারা একটি সূত্র পরিমাণও অত্যাচারিত হইবে না।
আয়াতঃ ৫০⇒ দেখ (হে মোহাম্মদ) কেমন তাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্যকে সম্বন্ধ করিতেছে, এবং এই স্পষ্ট অপরাধই যথেষ্ট।
আয়াতঃ ৫১⇒ যাহাদিগকে গ্রন্থের স্বত্ব প্রদত্ত হইয়াছে, তুমি কি (হে মোহাম্মদ) তাহদিগের প্রতি দৃষ্টি কর নাই? তাহারাও জেবত ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, এবং তাহারা কাফেরদিগের সম্বন্ধে বলিয়া থাকে যাহারা পথে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদিগের অপেক্ষা এই সকল লোক অধিক পথদর্শী।
আয়াতঃ ৫২⇒ এই তাহারাই যাহাদিগকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করিয়াছেন, এবং যাহাকে ঈশ্বর অভিসম্পাত করেন পরে তুমি তাহার জন্য সাহায্যকারী পাইবে না।
আয়াতঃ ৫৩⇒ তাহাদের জন্য কি রাজত্বের স্বত্ব আছে? (যদি স্বত্ব লাভ করে) তবে সেই সময়ে তাহারা লোকদিগকে খর্জূরের খোসা পরিমাণও দান করিবে না।
আয়াতঃ ৫৪⇒ ঈশ্বর নিজ করুণাগুনে তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তদুপলক্ষে কি তাহারা লোকের প্রতি বিদ্বেষ করে? অনন্তর নিশ্চয় আমি এব্রাহিমের সন্তানদিগকে গ্রন্থ ও জ্ঞান দান করিয়াছি, এবং তাহাদিগকে প্রকান্ড রাজত্ব দিয়াছি।
আয়াতঃ ৫৫⇒ অবশেষে তাহাদের কোন লোক তৎপ্রতি (গ্রন্থের প্রতি) বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, এবং তাহাদের কোন লোক তাহা হইতে বিমুখ হইয়াছে, (তাহাদের জন্য) প্রদীপ্তানল নরক যথেষ্ট।
আয়াতঃ ৫৬⇒ নিশ্চয় যাহারা আমার নিদর্শন সকলের বিরুদ্ধাচারী হইয়াছে, আমি অবশ্য তাহাদিগকে অনলে প্রবেশ করাইব, যখন তাহাদের চর্ম দগ্ধ হইবে তখন তাহার বিনিময়ে তাহাদিগকে অন্য চর্ম দিব, যেন তাহারা শাস্তির আস্বাদ প্রাপ্ত হয়; নিশ্চয় ঈশ্বর পরাক্রান্ত নিপুণ হন।
আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, অবশ্য আমি তাহাদিগকে স্বর্গদ্যানে লইয়া যাইব, যাহার নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহাতে তাহারা চির অধিবাসী হইবে; তথায় তাহাদের জন্য সাধ্বী নারী সকল থাকিবে, এবং আমি তাহাদিগকে শান্তিযুক্ত ছায়াতে প্রবেশ করাইব।
আয়াতঃ ৫৮⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদিগকে আদেশ করিতেছেন যে, তোমরা গচ্ছিত সামগ্রী তাহার স্বামীকে ফিরাইয়া দাও, এবং যখন তোমরা লোকের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করিবে তখন ন্যায়ানুসারে আজ্ঞা করিবে, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদিগকে যে উপদেশ দান করেন তাহা উত্তম, নিশ্চয় ঈশ্বর শ্রোতা ও দ্রষ্টা হন।
আয়াতঃ ৫৯⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা পরমেশ্বরের আজ্ঞাবহ হও, এবং প্রেরিতপুরুষের এবং তোমাদের আজ্ঞাপ্রচারকের আজ্ঞাবহ হও, পরন্তু যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিরোধ কর ঈশ্বরে ও পরকালে বিশ্বাসী থাকিলে তবে তাহা ঈশ্বরের দিকে ও প্রেরিতপুরুষের দিকে উপস্থিত কর, ইহা উত্তম এবং পরিণামানুসারে অত্যুত্তম।
আয়াতঃ ৬০⇒ তুমি কি (হে মোহাম্মদ) তাহাদিগকে দেখ নাই যাহারা মনে করিতেছে যে, নিশ্চয় তাহারা তোমার প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে ও তোমার পূর্বে যাহা অবতারিত হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করিয়াছে, তাহারা শয়তানের প্রতি কর্তৃত্ব লইয়া যাইবে ইচ্ছা করিতেছে, বস্তুতঃ তাহার সঙ্গে বিরুদ্ধাচার করিতে তাহারা আদিষ্ট হইয়াছে, এবং শয়তান ইচ্ছা করিতেছে যে, তাহাদিগকে মহা ভ্রান্তিতে ভ্রান্ত করে।
আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা হইল ঈশ্বর যাহা অবতারন করিয়াছেন তৎপ্রতি ও প্রেরিত পুরুষদের প্রতি তোমরা উন্মুখ হও, তুমি কপটদিগকে দেখিতেছ তোমা হইতে তাহারা বিমুখ হইতেছে।
আয়াতঃ ৬২⇒ অনন্তর যাহা তাহাদের হস্ত পূর্বে প্রেরণ করিয়াছে তজ্জন্য যখন তাহাদিগের প্রতি বিপদ উপস্থিত হইবে তখন কেমন ঘটিবে? তৎপর তোমরা নিকটে আসিয়া ঈশ্বরের শপথ গ্রহণ করিবে (ও বলিবে) যে, কল্যাণ ও সদ্ভাব ভিন্ন আকাঙ্ক্ষা করি নাই।
আয়াতঃ ৬৩⇒ তাহারা সেই সকল লোক, তাহাদিগের অন্তরে যাহা আছে ঈশ্বর জ্ঞাত; অবশেষে তুমি তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও, তাহাদিগকে উপদেশ দাও, এবং তাহাদিগকে তাহাদিগের অন্তরে সঞ্চারক বাক্য বল।
আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং ঈশ্বরের আজ্ঞা মান্য করা উদ্দেশ্য ব্যতিত আমি কোন প্রেরিতপুরুষকে প্রেরণ করি নাই, এবং যখন ইহারা নিজের জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছে তখন যদি তোমার নিকটে আসিত, পরিশেষে ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিত, এবং প্রেরিতপুরুষ ইহাদের জন্য ক্ষমা চাহিত, তবে নিশ্চয় ঈশ্বরকে প্রত্যাবর্তনকারী দয়ালু প্রাপ্ত হইত।
আয়াতঃ ৬৫⇒ অবশেষে তোমার ঈশ্বরের শপথ, তাহাদের পরস্পর বিবাদে তোমাকে বিচারক নিযুক্ত না করা পর্যন্ত তাহারা বিশ্বাসী হইবে না, তৎপর তুমি যাহা আদেশ করিবে তাহাতে তাহারা নিজ অন্তঃকরনে কঠিন বোধ করিবে না, এবং গ্রহণীয়রুপে গ্রহণ করিবে।M
আয়াতঃ ৬৬⇒ এবং যদি আমি তাহাদের সম্বন্ধে লিখিতাম যে, তোমরা আপনাদিগকে বধ কর ও আপন গৃহ হইতে বাহির হইয়া যাও তবে তাহাদের অল্প সংখ্যক ভিন্ন উহা করিত না, এবং যে বিষয়ে উপদেশ করা হইয়াছে যদি তাহারা তাহা করিত তবে নিশ্চয় তাহাদের জন্য উহা মঙ্গল ও (বিশ্বাসের) দৃঢ়তা বিষয়ে প্রবল হইত।
আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং আমি একান্তই তখন নিজের নিকট হইতে তাহাদিগকে মহা পুরষ্কার দান করিতাম।
আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং একান্তই তাহাদিগকে সরল পথ প্রদর্শন করিতাম।
আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের ও প্রেরিতপুরুষের আদেশ মান্য করে, পরে তাহারা তাহাদের সহযোগী হয় প্রেরিতপুরুষের যোগে যাহাদের প্রতি ঈশ্বর দান করিয়াছেন এবং যাহারা সত্যাচারী ও ধর্মযুদ্ধে হত ও সাধু, এবং তাহারা উত্তম সহচর।
আয়াতঃ ৭০⇒ ঈশ্বর হইতে এই দান, এবং ঈশ্বরই জ্ঞানবান যথেষ্ট।
আয়াতঃ ৭১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আপনাদের অস্ত্র ধারন কর, বিভিন্নরুপে বহির্গত হও, অথবা দলবদ্ধ হইয়া বাহির হও।
আয়াতঃ ৭২⇒ এবং পরে নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে কতক লোক আছে যে, একান্তই বিলম্ব করিয়া থাকে, পরিশেষে যদি তোমরা বিপদগ্রস্থ হও তাহারা বলে, “যখন আমরা তাহাদের সঙ্গী ছিলাম না তখন নিশ্চয় ঈশ্বর আমাদিগের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন।
আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং যদি ঈশ্বর হইতে তোমরা সমুন্নতি লাভ কর তবে যেন তোমাদের ও তাহাদের মধ্যে কখনো বন্ধুত্ত ছিল না, তাহারা বলে, “হায়! যদি আমরা তাহাদের সঙ্গে থাকিতাম তবে মহালাভে লাভবান হইতাম।
আয়াতঃ ৭৪⇒ পরিশেষে যাহারা সাংসারিক জীবনকে পরলোকের জন্য বিক্রয় করে, তাহাদের উচিত যে ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিতে থাকে, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিয়া হত হয় বা জয়ী হয়, পরে অবশ্য আমি তাহাকে মহাপুরষ্কার দান করি।
আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং যাহারা বলিয়া থাকে যে, “হে আমাদের প্রতিপালক, ইহার অধিবাসী অত্যাচারী, এই গ্রাম হইতে আমাদিগকে বাহির কর ও তোমার নিকট হইতে আমাদের জন্য কারয সম্পাদক নিযুক্ত কর, এবং তোমার নিকট হইতে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নিযুক্ত কর।“ তোমাদিগের কি হইয়াছে যে সেই দুর্বল স্ত্রী-পুরুষদিগের নিমিত্ত ও বালকদিগের নিমিত্ত এবং ঈশ্বরের পথে তোমরা যুদ্ধ করিবে না?
আয়াতঃ ৭৬⇒ যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহারা ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করে, এবং যাহারা কাফের হইয়াছে তাহারা পুত্তলিকার পথে সংগ্রাম করে, অতএব তোমরা শয়তানের প্রেমাস্পদদিগের সঙ্গে যুদ্ধ কর, নিশ্চয় শয়তানের প্রতারনা দুর্বল।
আয়াতঃ ৭৭⇒ তুমি কি (হে মোহাম্মদ) তাহাদিগের প্রতি দৃষ্টি কর নাই যে, তাহাদিগের জন্য বলা হইল যে, তোমরা স্বীয় হস্ত বন্ধ করিয়া রাখ, (যুদ্ধে নিবৃত্ত থাক) নমাজকে প্রতিষ্ঠিত কর, জকাত দান কর (তাহাতে সম্মত হইল) পরে যখন তোমাদের সম্বন্ধে যুদ্ধ লিখিত হইল অকস্মাৎ তাহাদের এক দল ঈশ্বরকে যেরুপ ভয় করা উচিত সেই প্রকার কিংবা তদপেক্ষা অধিক ভয়ে লোককে ভয় করিতে লাগিল, এবং বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক তুমি আমাদের সম্বন্ধে সংগ্রাম কেন করিলে? এক অল্প সময় পর্যন্ত কেন আমাদের অবকাশ দিলে না?” তুমি বল, সাংসারিক লাভ ক্ষুদ্র, যে ব্যক্তি ঈশ্বরভীরু হয় তাহার জন্য পরলোক উৎকৃষ্ট, তাহারা সূত্রপরিমাণও অত্যাচারিত হইবে না।
আয়াতঃ ৭৮⇒ যে স্থানে তোমরা থাকিবে এবং যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গেও বাস কর মৃত্যু সেস্থানে তোমাদিগকে ধরিবে। যদি তাহাদের প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয় তাহারা বলে, “ইহা ঈশ্বর হইতে হইয়াছে,” এবং যদি কিছু মন্দ উপস্থিত হয় বলে, “ইহা তোমা হইতে হইয়াছে,” বল, সমুদায় ঈশ্বর হইতে হইয়াছে, অবশেষে সেই দলের কি অবস্থা হইবে যাহারা কথা হৃদয়ঙ্গম করিবার নিকটবর্তী নহে?
আয়াতঃ ৭৯⇒ যে কিছু কল্যাণ তোমার প্রতি উপস্থিত হয় তাহা তোমার জীবন হইতে হয়; আমি তোমাকে ৯হে মোহাম্মদ) লোকের জন্য প্রেরিত পুরুষরুপে পাঠাইয়াছি, এবং ঈশ্বর সাক্ষ্য-দানে যথেষ্ট।
আয়াতঃ ৮০⇒ যে ব্যক্তি প্রেরিতপুরুষের আজ্ঞা পালন করে নিশ্চয় সে ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করিয়া থাকে, এবং যাহারা অমান্য করে আমি তোমাকে তাহাদিগের প্রতি রক্ষক নিযুক্ত করি নাই।
আয়াতঃ ৮১⇒ এবং তাহারা বলিয়া থাকে যে, আজ্ঞা প্রতিপালিত হইতেছে, পরে যখন তাহারা তোমার নিকটবর্তী হইতে বহির্গত হয়, তাহাদের এক দল তুমি যাহা বলিয়া থাক তাহার বিরুদ্ধে রজনীতে মন্ত্রণা করে; তাহারা রাত্রিতে যাহা বলে ঈশ্বর তাহা লিখিয়া রাখেন, অতএব তুমি তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও, এবং ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর কর ও ঈশ্বর কার্যসম্পাদনে যথেষ্ট।
আয়াতঃ ৮২⇒ অনন্তর তাহারা কি কোরআনে প্রণিধান করিতেছে না? এবং যদি তাহা ঈশ্বর ব্যতিত অন্যের নিকট হইতে (সমাগত) হইত তবে তাহারা একান্তই তাহাতে প্রচুর ব্যতিক্রম পাইতো।
আয়াতঃ ৮৩⇒ যখন তাহাদের নিকটে ভয় ও নির্ভয়ের কোন বিষয় উপস্থিত হয় তাহারা তাহা রটনা করে, এবং তাহাদের মধ্যে যাহারা তাহার অনুসন্ধান লয় যদি তাহারা প্রেরিত পুরুষ পর্যন্ত, তাহাদের কার্যসম্পাদক পর্যন্ত তাহা প্রত্যয়ন করিত তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা তাহা করিতে সুক্ষম উহারা অবশ্য তাহা জ্ঞাত হইত; তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে একান্তই অল্প সংখ্যক ব্যতিত তোমরা শয়তানের অনুসরণ করিতে।
আয়াতঃ ৮৪⇒ অনন্তর (হে মোহাম্মদ) পরমেশ্বরের পথে সংগ্রাম কর, তোমার জীবনে ব্যতিত তোমাকে প্রপীড়িত করা হইবে না, বিশ্বাসীগণকে উত্তেজিত কর, সত্বরই ঈশ্বর কাফেরদিগের সময় বন্ধ করিবেন, ঈশ্বর যুদ্ধ বিষয়ে সুদৃঢ় ও শাস্তিদান বিষয়ে সুদৃঢ়।
আয়াতঃ ৮৫⇒ যে ব্যক্তি শুভ অনুরোধে অনুরোধ করে তাহার জন্য উহার ভাগ থাকিবে, এবং যে ব্যক্তি অশুভ অনুরোধে অনুরোধ করে তাহার জন্য তাহার ভাগ থাকিবে, এবং ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী হন।
আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং যদি তোমরা সেলাম দ্বারা সম্মানিত হও তবে তোমরা তদপেক্ষা উত্তমরূপে সম্মান করিও, অথবা তাহা প্রতিদান করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর সমুদায় বিষয়ের বিচারক হন।
আয়াতঃ ৮৭⇒ তিনি ব্যতিত ঈশ্বর নাই, তিনি একান্তই তোমাদিগকে কেয়ামতের দিনে একত্র করিবেন, ইহাতে সন্দেহ নাই; এবং কথায় ঈশ্বর অপেক্ষা কে অধিকতর সত্যবাদী?
আয়াতঃ ৮৮⇒ তোমাদের কি হইল (হে মোসলমান) যে তোমরা কপটদিগের সম্বন্ধে দুই পক্ষ হইলে? এবং যাহারা তাহা করিয়াছে তজ্জন্য ঈশ্বর তাহাদিগকে অধোমুখ করিয়া রাখিয়াছেন, ঈশ্বর যাহাকে পথচ্যুত করিয়াছেন তাহাকে কি তোমরা পথ প্রদর্শন করিতে ইচ্ছা করিতেছ? ঈশ্বর যাহাকে পথচ্যুত করিয়াছেন পরে তাহার জন্য কোন পথ পাইবে না।
আয়াতঃ ৮৯⇒ যেমন তাহারা কাফের হইয়াছে তোমরাও কাফের হইবে আশায় তাহারা বন্ধুতা করিয়া থাকে, অবশেষে তোমরা পরস্পর তুল্য হইবে, অতএব ঈশ্বরের পথে দেশত্যাগ করা পর্যন্ত তাহাদিগের কাহাকেও তোমরা বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না, পরন্তু যদি তাহারা অগ্রাহ্য করে তবে তোমরা তাহাদিগকে ধর ও যেস্থানে পাও তাহদিগকে সংহার কর, এবং তাহাদের কাহাকেও বন্ধু ও সাহায্যকারী বলিয়া গ্রহণ করিও না।
আয়াতঃ ৯০⇒ যাহারা (এমন) কোন দলে মিলিত হয় যে তোমাদের ও তাহাদের মধ্যে অঙ্গীকার রহিয়াছে, কিংবা যাহারা তোমাদের নিকটে আগমন করে যে, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে তাঁহাদের হৃদয় সংকুচিত, অথবা যাহারা আপনদলের সঙ্গে যুদ্ধ করিত; পরিশেষে যদি তাহারা তোমাদিগ হইতে অপসৃত হয়, অপিচ তোমাদিগের সঙ্গে যুদ্ধ না করে ও তোমাদের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করে তবে ঈশ্বর তাহাদিগের প্রতি তোমাদের জন্য কোন পথ করেন নাই।
আয়াতঃ ৯১⇒ অবশ্য তোমরা অন্য (এমন) দলকে প্রাপ্ত হইবে যে, তাহারা ইচ্ছা করিতেছে তোমাদিগ হইতে নির্ভর হয়, এবং আপন দল হইতে নির্ভয় হয়, যখন তাহারা অত্যাচারের দিকে প্রত্যানীত হয় তখন তাহাকে অধোমুখ হইয়া থাকে; পরন্তু যদি তোমাদিগ হইতে অপসারিত না হয় ও তোমাদের সম্বন্ধে সন্ধি স্থাপন না করে এবং আপন হস্ত বন্ধ না করে তবে তাহাদিগকে ধর ও তাহদিগকে যে স্থানে পাও সংহার কর, এবং তোমরা এই সেই দল যে আমি তাহাদের উপর তোমাদিগকে উজ্জল প্রমান দান করিয়াছি।
আয়াতঃ ৯২⇒ এবং ভ্রম ব্যতিত মোসলমানকে হত্যা করা মোসলমানের পক্ষে উচিত নহে, এবং যে ব্যক্তি ভ্রমবশতঃ কোন মোসলমানকে হত্যা করে তবে একজন মোসলমানের গ্রীবা বন্ধনমুক্ত করিতে হয়, এবং খয়রাত না করিলে তাহার পরিবারের প্রতি হত্যার মূল্য সমর্পণীয়, পরন্তু যদি সে তোমাদের শত্রুদলস্থ ও মোসলমান হয় তবে একজন মোসলমানের গ্রীবার বন্ধনমোচন কর্তব্য, এবং যদি সে সেই দলের হয় যে তোমাদের ও তাহাদের মধ্যে অঙ্গীকার আছে তবে হত্যার মূল্য তাহার পরিবারের প্রতি সমর্পণীয়, এবং একজন মোসলমানের গ্রীবা বন্ধন মুক্ত করিতে হয়; পরন্তু যে ব্যক্তি তাহা প্রাপ্ত না হয় ঈশ্বরের দিক হইতে (তাহার) প্রায়শ্চিত্ত দুইমাস অবিচ্ছিন্ন রোজাপালন, ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ।
আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং যে ব্যক্তি জ্ঞাতসারে মোসলমানকে হত্যা করে পরে তাহার জন্য শাস্তি নরক, তথায় চিরাবস্থিতি, এবং তাহার প্রতি ঈশ্বর ক্রোধ করিয়াছেন ও তাহাকে অভিসম্পাত করিয়াছেন, এবং তাহার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করিয়াছেন।
আয়াতঃ ৯৪⇒ হে বিশ্বাসগণ, যখন তোমরা ঈশ্বরের পথে (যুদ্ধে) গমন কর, তখন অনুসন্ধান লইও, যে ব্যক্তি তোমাদের প্রতি সলাম অর্পণ করে তাহাকে বলিও না যে, তুমি মোসলমান নও; তোমরা পার্থিব সামগ্রী চাহিতেছ, পরন্তু ঈশ্বরের নিকটে লুন্ঠনদ্রব্য প্রচুর আছে; এইরুপ তোমরা প্রথমে ছিলে, পরে ঈশ্বর তোমাদের প্রতি হিতসাধন করিয়াছেন, অনুসন্ধান করিও, তোমরা যাহা কর নিশ্চয় ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন।
আয়াতঃ ৯৫⇒ উপবিষ্ট অক্ষত বিশ্বাসীগণ এবং আপন ধন ও আপন জীবনযোগে ঈশ্বরের পথে সংগ্রামকারীগণ তুল্য নহে, পরমেশ্বর আপন ধন ও আপন জীবনযোগে সংগ্রামকারীদিগকে মর্যাদায় উপবেশনকারীদিগের উপর গৌরবান্বিত করিয়াছেন, এবং সকলের সঙ্গে পরমেশ্বর উত্তম অঙ্গীকার করিয়াছেন, পরমেশ্বর উপবেশনকারীদিগের অপেক্ষা সংগ্রামকারীদিগকে উচ্চ পুরষ্কার অধিক দিয়াছেন।
আয়াতঃ ৯৬⇒ আপনার নিকট হইতে তিনি মর্যাদা সকল ও ক্ষমা এবং দয়া (প্রদান করিয়াছেন) এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু হন।
আয়াতঃ ৯৭⇒ নিশ্চয় যাহারা আপন জীবনের উৎপীড়নকারী ছিল তাহাদিগকে দেবগণ গতাসু করিয়া জিজ্ঞাসা করিল যে, “তোমরা কি ভাবে ছিলে?” তাহারা বলিল, “আমরা পৃথিবীতে দুর্দশাপন্ন ছিলাম।“ দেবগণ বলিল, “ঈশ্বরের পৃথিবী কি বিস্তৃত ছিল না যে, তাহাতে স্থানান্তরিত হও?” অনন্তর এই তাহারাই, তাহাদিগের স্থান নরকলোক, এবং তাহা কুৎসিত স্থান।
আয়াতঃ ৯৮⇒ উপায় অবলম্বন করিতে পারে না ও পথ প্রাপ্ত হয় না এমন দুর্বল স্ত্রী, পুরুষ ও শিশুগণ ব্যতিত।
আয়াতঃ ৯৯⇒ অতএব এই তাহারা, ভরসা যে ঈশ্বর তাহদিগকে ক্ষমা করিবেন, ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও মার্জনাকারী হন।
আয়াতঃ ১০০⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের পথে দেশ ত্যাগ করে সে পৃথিবীতে বহু এবং বিস্তৃত স্থান প্রাপ্ত হয়, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরোদ্দেশ্যে ও তাঁহার প্রেরিত পুরুষের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগী হইয়া আপন গৃহ হইতে বহির্গত হয়, তৎপর সে মৃত্যুগ্রস্থ হয়, প্রকৃতপক্ষে তাহার পুরুস্কার ঈশ্বরের নিকট নির্ধারিত, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু হন।
আয়াতঃ ১০১⇒ যখন তোমরা ভূমিতলে পর্যটন কর তখন কাফেরগণ তোমাদিগকে বিপদে ফেলিবে আশঙ্কা হইলে নমাজ সংক্ষেপ করায় তোমাদের সম্বন্ধে অপরাধ নাই, নিশ্চয় কাফেরগণ তোমাদের স্পষ্ট শত্রু হয়।
আয়াতঃ ১০২⇒ এবং যখন তুমি (হে মোহাম্মদ) ইহাদিগের (বিশ্বাসীদিগের) মধ্যে থাক তখন তাহাদের জন্য নমাজ প্রতিষ্ঠিত করিও, পরে উচিত যে, ইহাদের একদল তোমার সামনে দন্ডায়মান হয়, এবং উচিত যে, আপনাদের অস্ত্র গ্রহণ করে, পরিশেষে যখন প্রণত হইবে তখন উচিত যে, তাহারা তোমাদের পশ্চাদবর্তী হয়, এবং উচিত যে, নমাজ পরে নাই এমন অন্য একদল উপস্থিত হইয়া তোমার সঙ্গে পরে নমাজ পরে, অপিচ আপনাদের রক্ষনোপায়ে ও আপনাদের অস্ত্র অবলম্বন করে; কাফেরগণ আকাঙ্ক্ষা করে যদি তোমরা আপনাদের অস্ত্র ও আপনাদের দ্রব্যজাত সম্বন্ধে অসতর্ক হও, তবে তাহারা অকস্মাৎ তোমাদের উপর আক্রমণ করিবে, যদি বৃষ্টিতে তোমাদের কোন ক্লেশ হয় ও তোমরা রোগগ্রস্থ হও তবে আপনাদের অস্ত্র রাখিয়া দিলে তোমাদের প্রতি দোষ নাই; এবং তোমরা আপনাদের রক্ষাকে অবলম্বন করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর কাফেরদিগের জন্য গ্লানিজনক শাস্তি প্রস্তুত করিয়াছেন।
আয়াতঃ ১০৩⇒ অনন্তর যখন তোমাদের নমাজ সম্পন্ন হয় তখন দন্ডায়মান হইয়া ও বসিয়া এবং আপনাদের পার্শ্বে উপবিষ্ট হইয়া ঈশ্বরকে স্মরণ করিও; পরে যখন তোমরা নিরাপদে থাক তখন নমাজকে প্রতিষ্ঠিত করিও, নিশ্চয় বিশ্বাসীদিগের সম্বন্ধে নমাজ সাময়িকরুপে লিখিত।
আয়াতঃ ১০৪⇒ এবং সেই দলের (কাফেরদিগের) অনুসন্ধানে তোমরা শিথিল হইও না, যদি তোমরা পীড়িত হও তবে তাহারাও তোমাদের ন্যায় পীরিত, এবং তাহারা যাহা আশা করে না তোমরা ঈশ্বরের নিকটে তাহা করিতেছ, এবং ঈশ্বর জ্ঞানী ও নিপুণ হন।
আয়াতঃ ১০৫⇒ নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি সত্য গ্রন্থ অবতারন করিয়াছি, যেন ঈশ্বর তোমাকে যাহা দেখাইয়াছেন তাহা তুমি লোকদিগের মধ্যে আদেশ কর, তুমি অহিতকারীদিগের অনুরোধে শত্রু হইও না।
আয়াতঃ ১০৬⇒ এবং ঈশ্বরের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আয়াতঃ ১০৭⇒ এবং যাহারা আপনাদের জীবনের ক্ষতি করে তুমি তাহাদের পক্ষ হইতে বিরোধ করিও না, যে ব্যক্তি ক্ষতিকারী অপকারী হয়, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাকে প্রেম করেন না।
আয়াতঃ ১০৮⇒ তাহারা মনুষ্য হইতে গুপ্ত রাখে, কিন্তু ঈশ্বর হইতে গুপ্ত রাখিতে পারে না, এবং তাহারা যখন রজনীতে (ঈশ্বরের) অনভিপ্রেত কথার পরামর্শ করে তখন তিনি তাহাদের সঙ্গে থাকেন, এবং তাহারা যাহা করে ঈশ্বর তাহা ঘেরিয়া রহিয়াছেন।
আয়াতঃ ১০৯⇒ জানিও তোমরা সেই লোক যে সাংসারিক জীবন বিষয়ে তাহাদের পক্ষ হইতে বিরোধ করিতেছ, অবশেষে কেয়ামতের দিনে কোন ব্যক্তি তাহাদের (ক্ষতিকারীদের) পক্ষে হইতে ঈশ্বরের সঙ্গে বিরোধ করিবে? অথবা কে তাহাদের সম্বন্ধে কার্যসম্পাদক হইবে?
আয়াতঃ ১১০⇒ এবং যে ব্যক্তি কুকর্ম করে অথবা আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করে, অতঃপর ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে ঈশ্বরকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু প্রাপ্ত হয়।
আয়াতঃ ১১১⇒ এবং যে ব্যক্তি পাপ করে সে তাহা আপন জীবনের সম্বন্ধে করে ইহা ভিন্ন নহে, এবং ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ হন।
আয়াতঃ ১১২⇒ যে ব্যক্তি কোন ত্রুটি করে, অথবা পাপ করে, তৎপর নিরপরাধীর প্রতি অপবাদ দেয়, পরে সত্য সে অসত্যকে ও স্পষ্ট অপরাধকে বহন করিয়া থাকে।
আয়াতঃ ১১৩⇒ এবং যদি তোমার প্রতি (হে মোহাম্মদ) ঈশ্বরের কৃপা ও তাহার দয়া না থাকিত নিশ্চয় তাহাদের একদল তো তোমাকে পথভ্রান্ত করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। তাহারা আপন জীবনকে ব্যতিত পথভ্রান্ত করে না, এবং তোমার কিছুই ক্ষতি করে না; ঈশ্বর তোমার প্রতি গ্রন্থ ও বিজ্ঞান অবতারন করিয়াছেন, এবং তুমি যাহার জ্ঞান রাখিতে না তোমাকে তাহা শিক্ষা দিয়াছেন, তোমার প্রতি ঈশ্বরের মহাকৃপা বিদ্যমান।
আয়াতঃ ১১৪⇒ যাহারা দানে অথবা শুভকর্মে কিংবা সন্ধিস্থাপনে লোক দিগের মধ্যে কথা বলে (মন্ত্রণা করে) তদ্ভিন্ন তাহাদের বহুগুপ্ত মন্ত্রণায় কল্যাণ নাই; রবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সন্তোষ অন্বেষণে ইহা করে পরে সত্বর তাহাকে আমি মহাপুরষ্কার দান করিব।
আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং যে ব্যক্তি তাহার সম্বন্ধে পথ প্রদর্শন প্রকাশ হওয়ার প্র প্রেরিতপুরুষের বিরোধী হয়, এবং বিশ্বাসীদিগের বিরুদ্ধ পথের অনুসরণ করে, যে বিষয়ে সে সমুৎসুক হয় আমি তাহাকে তাহাতে প্রবর্তিত করিব, এবং তাহাকে নরকে আনয়ন করিব, এবং (উহা) কুস্থান।
আয়াতঃ ১১৬⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর তাঁহার সঙ্গে অংশীস্থাপন করাকে ক্ষমা করেন না, এতদ্বতীত যাহাকে ইচ্ছা হয় ক্ষমা করেন, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে অংশীস্থাপন করে নিশ্চয় সে দূরতর পথচ্যুতরুপে পথচ্যুত হয়।
আয়াতঃ ১১৭⇒ তাহারা তাহাকে ব্যতিত নারীকে (নারীরুপী প্রতিমাকে) ভিন্ন আহ্বান করে না, এবং অবাধ্য শয়তান ভিন্ন আহ্বান করে না।
আয়াতঃ ১১৮⇒ ঈশ্বর তাহাকে (শয়তানকে) অভিসম্পাত করিয়াছেন, এবং সে বলিয়াছে, “একান্তই আমি তোমার উপাসকগণ হইতে নির্ধারিত অংশ গ্রহণ করিব।
আয়াতঃ ১১৯⇒ একান্তই আমি তাহাদিগকে পথভ্রান্ত করিব ও একান্তই আমি তাহাদিগকে কামনাযুক্ত করিব, এবং একান্তই আমি তাহদিগকে আদেশ করিব যেম পশুর কর্ণচ্ছেদ করে, এবং একান্তই আমি তাহাদিগকে আদেশ করিব যেন ঈশ্বরের সৃষ্টির পরিবর্তন করে; “পরন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া শয়তানকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করে পরে নিশ্চয় সে স্পষ্ট ক্ষতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
আয়াতঃ ১২০⇒ সে তাহাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করে ও তাহাদিগকে কামনাযুক্ত করে, এবং শয়তান তাহাদের সঙ্গে ছলনা ভিন্ন অঙ্গীকার করে না।
আয়াতঃ ১২১⇒ ইহারাই ইহাদিগের আবাস নরক, এবং তাহা হইতে ইহারা উদ্ধার পাইবে না।
আয়াতঃ ১২২⇒ এবং যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে অবশ্য আমি তাহাদিগকে সেই স্বর্গে প্রবেশ করাইব যাহার ভিতর দিয়ে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহাতে তাহারা নিত্যকাল থাকিবে, ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, কোন ব্যক্তি ঈশ্বর অপেক্ষা কথায় অধিকতর সত্যবাদী?
আয়াতঃ ১২৩⇒ তোমাদের বাসনারুপ এবং গ্রন্থধারীদিগের বাসনারুপ (কারয) নহে, যে ব্যক্তি অসৎ কর্ম করিবে তাহাকে তাহার প্রতিফল প্রদত্ত হইবে, সে আপনার জন্য ঈশ্বর ব্যতিত বন্ধু ও সাহায্যকারী পাইবে না।
আয়াতঃ ১২৪⇒ স্ত্রী বা পুরুষ যে ব্যক্তি সৎকর্ম করে ও বিশ্বাসী হয় পরে সেই তাহারই স্বর্গে প্রবেশ করিবে, এবং তাহারা খজ্জর বীজ পরিমানও অত্যাচারিত হইবে না।
আয়াতঃ ১২৫⇒ এবং যে ব্যক্তি আপন আনন ঈশ্বরোদ্দেশ্যে স্থাপন করিয়াছে ধর্ম বিষয়ে তাহা অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ? সেই ব্যক্তি সৎকর্মশীল ও সত্যধর্মে প্রতিষ্ঠিত এব্রাহিমের ধর্মের অনুসরণকারী, পরমেশ্বর এব্রাহিমকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিয়াছিলেন।
আয়াতঃ ১২৬⇒ এবং স্বর্গেতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের, এবং ঈশ্বর সমুদায় বস্তুকে ঘেরিয়া আছেন।
আয়াতঃ ১২৭⇒ এবং নারীগণ সম্বন্ধে (হে মোহাম্মদ) ইহারা তোমার নিকটে ব্যবস্থা জিজ্ঞাসা করিতেছে; বল, তাহাদের সম্বন্ধে পরমেশ্বরই তোমাদিগকে ব্যবস্থা দিয়া থাকেন, এবং নিরাশ্রয়া নারীদিগের বিষয়ে গ্রন্থে তোমাদের প্রতি যাহা পঠিত হইয়া থাকে, – যাহাদিগকে তাহাদের জন্য যাহা লিখিত হইয়াছে তোমরা প্রদান কর না ও যাহাদিগকে বিবাহ করিতে আকাঙ্ক্ষা কর (তাহাদের বিষয়ে) এবং দুর্বল বালকদিগের বিষয়ে তিনি (ব্যবস্থা দিয়া থাকেন) এবং ন্যায়ানুসারে অনাথদিগকে প্রতিষ্ঠিত রাখার (আজ্ঞা আছে) এবং তোমরা যে কিছু সৎকর্ম করিয়া থাকো নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা হন।
আয়াতঃ ১২৮⇒ এবং যদি কোন স্ত্রী আপন স্বামী হইতে অবাধ্যতা ও অবজ্ঞার আশঙ্কা করে তবে উভয়ের পক্ষে দোষ নয় যে, তাহারা কোন সম্মিলনে আপনাদের মধ্যে সম্মিলন সংস্থাপন করে; এবং সম্মিলন কল্যাণ, এবং কৃপণতার প্রতি প্রান স্থাপিত, যদি তোমরা সৎকার্য কর ও ধর্মভীরু হও তবে নিশ্চয় তোমরা যাহা কর ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা আছেন।
আয়াতঃ ১২৯⇒ এবং যদিচ তোমরা ইচ্ছা কর তথাপি নারীগণের সম্বন্ধে ন্যায়াচরন করিতে সুক্ষম হইবে না, অনন্তর সম্পূর্ণ অনুরাগে (প্রিয়তমার প্রতি) অনুরাগ প্রকাশ করিও না, অবশেষে তাহাদিগকে শূন্যে লম্বিত স্ত্রীবৎ ছাড়িয়া দাও, এবং যদি সম্মিলন স্থাপন কর ও ধর্মভীরু হও তবে নিশ্চয় ঈশ্বর দয়ালু ও ক্ষমাশীল আছেন।
আয়াতঃ ১৩০⇒ এবং উভয়ে (স্বামী – স্ত্রী) বিচ্ছিন্ন হইলে ঈশ্বর নিজ উদারতা গুনে প্রত্যেককে নিশ্চিন্ত করিবেন, ঈশ্বর উদার ও নিপুণ হন।
আয়াতঃ ১৩১⇒ এবং স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের; এবং সত্যসত্যই তোমাদের পূর্বে যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদিগকে এবং তোমাদিগকেও আমি এই উপদেশ দিয়াছি যে, ঈশ্বরকে ভয় করিও, যদি কাফের হও তবে (জানিও) নিশ্চয় স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের জন্য ও ঈশ্বর প্রশংসিত ও ঐশ্চর্যবান আছেন।
আয়াতঃ ১৩২⇒ এবং স্বর্গেতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ঈশ্বরের এবং ঈশ্বর যথেষ্ট কার্যসম্পাদক।
আয়াতঃ ১৩৩⇒ হে লোক সকল, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদিগকে দূর করিবেন ও অন্য সকলকে আনয়ন করিবেন, এবগ এ বিষয়ে ঈশ্বর ক্ষমতাবান হন।
আয়াতঃ ১৩৪⇒ যে ব্যক্তি সাংসারিক পুরষ্কার ইচ্ছা করে পরিশেষে পরমেশ্বরের নিকটেই সাংসারিক ও পারত্রিক পুরষ্কার; এবং ঈশ্বর দ্রষ্টা ও শ্রোতা আছেন।
আয়াতঃ ১৩৫⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরের জন্য ন্যায়ানুসারে সাক্ষ্যদাতারুপে তোমরা প্রস্তুত থাক, যদ্যপি তোমাদের নিজের প্রতি অথবা পিতা-মাতার প্রতি আত্মীয়গণের প্রতিও হয়, যদি ধনী অথবা দরিদ্র হয়, তবে এই দুইয়ের প্রতি ঈশ্বর অধিক অনুগ্রহকারী; অবশেষে তোমরা বিচার করিতে (নিজ) ইচ্ছার অনুসরণ করিও না, এবং যদি (জিহ্বাকে) বক্র কর, কিংবা (সাক্ষ্যদানে) বিমুখ হও তোমরা যাহা কর ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা আছেন।
আয়াতঃ ১৩৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর ও তাহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি ও সেই গ্রন্থের প্রতি যাহা তিনি আপন প্রেরিতপুরুষের প্রতি অবতারন করিয়াছেন, এবং সেই গ্রন্থের প্রতি ইতিপূর্বে যাহা অবতারন করিয়াছেন, বিশ্বাস স্থাপন কর; যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি ও তাঁহার দেবগণের প্রতি  এবং গ্রন্থ সকল ও প্রেরিতগণের প্রতি ও পরকালের প্রতি বিদ্রোহ হইয়াছে পরে নিশ্চয় সে দূরতর পথভ্রান্তরুপে পথভ্রান্ত হইয়াছে।
আয়াতঃ ১৩৭⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, তৎপর ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তৎপর বিশ্বাসী হইয়াছে, তৎপর ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, তৎপর অধিকতর ধর্মদ্রোহী হইয়াছে, কখনো ঈশ্বর তাহাদিগকে ক্ষমা করিবেন না, এবং তাহাদিগকে পথপ্রদর্শন করিবেন না।
আয়াতঃ ১৩৮⇒ কপট লোকদিগকে এই সংবাদ দান কর যে, তাহাদের জন্য ক্লেশকর দন্ড আছে।
আয়াতঃ ১৩৯⇒ তাহারা (কপট লোকেরা) বিশ্বাসীদিগকে ছাড়িয়া কাফেরদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করে, তাহাদের নিকটে কি তাহারা সম্মান আকাঙ্ক্ষা করে? পরন্তু নিশ্চয় সমগ্র সম্মান ঈশ্বরের জন্য।
আয়াতঃ ১৪০⇒ এবং নিশ্চয় তোমাদের প্রতি গ্রন্থে অবতারিত হইয়াছে যে, যখন তোমরা ঐশ্বরিক প্রবচন সকল শ্রবন কর তখন তৎপ্রতি অবজ্ঞা ও তৎপ্রতি উপহাস করা হইলে যে পর্যন্ত কথায় তদ্বতীত প্রসঙ্গ না হয় তোমরা তাহাদের (অবজ্ঞাকারী ও উপহাসকারীদিগের) সঙ্গে উপবেশন করিবে না, (তাহা করিলে) তখন নিশ্চয় তোমরা তাহাদিগের সদৃশ, নিশ্চয় ঈশ্বর নরকে কাফের ও কপটদিগের একত্র সংগ্রহকারী।
আয়াতঃ ১৪১⇒ তাহারা তোমাদিগের প্রতিক্ষা করে, পরন্তু ঈশ্বর কর্তৃক যদি তোমাদের জয় হয় তবে তাহারা বলে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?” এবং যদি কাফেরদিগের লাভ হয় তবে বলে, “আমরা কি তোমাদের উপর পরাক্রান্ত ছিলাম না? মোসলমান হইতে কি তোমাদিগকে রক্ষা করি নাই?” অবশেষে নিশ্চয় ঈশ্বর কেয়ামতের দিনে তোমাদিগের মধ্যে বিচার করিবেন, এবং কদাচ ঈশ্বর বিশ্বাসীদিগের উপর কাফেরদিগের জন্য পথ করিবেন না।
আয়াতঃ ১৪২⇒ নিশ্চয় কপট লোকেরা ঈশ্বরকে বঞ্চনা করে, এবং ঈশ্বরও তাহাদিগকে বঞ্চনা করিয়া থাকেন, এবং যখন তাহারা নমাজ উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হয় তখন শৈথিল্যভাবে দন্ডায়মান হইয়া থাকে, তাহারা লোককে প্রদর্শন করে, এবং ঈশ্বরকে অল্প ব্যতিত স্মরণ করে না।
আয়াতঃ ১৪৩⇒ তাহারা ইহার মধ্যে দোলায়মান, তাহারা না ইহাদের দিকে না উহাদের দিকে; এবং ঈশ্বর যাহাকে পথভ্রান্ত করেন পরে তুমি তাহার জন্য পথ পাইবে না।
আয়াতঃ ১৪৪⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা বিশ্বাসীদিগকে ছাড়িয়া ধর্মদ্রোহীদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না, তোমরা কি ইচ্ছা করিতেছ যে, আপনার প্রতি ঈশ্বরের জন্য স্পষ্ট দোষারোপ স্বীকার কর?
আয়াতঃ ১৪৫⇒ নিশ্চয় কপট লোকেরা নরকাগ্নির নিম্নতম প্রদেশবাসী, এবং তুমি তাহাদের জন্য কদাচ সাহায্যকারী পাইবে না।
আয়াতঃ ১৪৬⇒ কিন্তু যাহারা অনুতাপ করিয়াছে, সৎকর্ম করিয়াছে ও ঈশ্বরকে দৃঢ়রুপে অবলম্বন করিয়াছে এবং ঈশ্বরের জন্য ধর্মকে সংশোধন করিয়াছে পরে তাহারাই বিশ্বাসীদিগের সঙ্গী, এবং সত্বর ঈশ্বর বিশবাসীদিগকে মহাপুরষ্কার দান করিবেন।
আয়াতঃ ১৪৭⇒ যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর ও কৃতজ্ঞ হও তবে পরমেশ্বর তোমাদের শাস্তিদানে কি করিবেন? ঈশ্বর জ্ঞাতা ও মর্মজ্ঞ হন।
আয়াতঃ ১৪৮⇒ যে ব্যক্তি অত্যাচারগ্রস্থ হইয়াছে সে ভিন্ন (অন্যের) উচ্চৈস্বরে কুকথা বলাকে ঈশ্বর ভালোবাসেন না, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা আছেন।
আয়াতঃ ১৪৯⇒ যদি তোমরা সৎকর্ম প্রকাশ্যে ও গোপনে কর, কিংবা অপরাধ ক্ষমা কর, তাহা হইলে নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও ক্ষমতাবান হন।
আয়াতঃ ১৫০⇒ নিশ্চয় যাহারা পরমেশ্বর  ও তাঁহার প্রেরিতগণের সঙ্গে বিদ্রোহিতাচরণ করে, এবং ইচ্ছা করে যে ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতগণের মধ্যে বিচ্ছেদ স্থাপন করে, এবং বলে যে, ইহার মধ্যে কোন পথ অবলম্বন করে।
আয়াতঃ ১৫১⇒ এই তাহারা, তাহারাই প্রকৃত কাফের, আমি কাফেরদিগের জন্য গ্লানিজনক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।
আয়াতঃ ১৫২⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরকে ও প্রেরিতগণকে বিশ্বাস করে ও তাহাদের মধ্যে কাহাকেও বিচ্ছিন্ন করে না, এই তাহারা, অবশ্যই আমি তাহাদিগকে তাহাদের পুরষ্কার প্রদান করিব, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু হন।
আয়াতঃ ১৫৩⇒ গ্রন্থধারী লোক সকল (হে মোহাম্মদ) তোমার নিকটে প্রার্থনা করিতেছে যে, তুমি তাহাদের প্রতি স্বর্গ হইতে কোন গ্রন্থ অবতারন কর, পরন্তু নিশ্চয় তাহারা মুসার নিকটে ইহা অপেক্ষা গুরুতর প্রার্থনা করিয়াছিল, তখন বলিয়াছিল তুমি, “স্পষ্টরুপে আমাদিগকে ঈশ্বরকে দেখাও”। পরে তাহাদের অপরাধের কারনে তাহাদিগকে বিদ্যুত আক্রমণ করে, তৎপর তাহাদের নিকটে অলৌকিক নিদর্শন উপস্থিত হইলেও তাহারা গোবৎসকে গ্রহণ করিয়াছিল, পরে আমি তাহা ক্ষমা করিয়াছি, এবং মুসাকে স্পষ্ট বিক্রম দান করিয়াছি।
আয়াতঃ ১৫৪⇒ এবং আমি তাহাদিগের অঙ্গীকার গ্রহণ করিবার জন্য তাহাদের উপর তুর পর্বতকে উত্থাপন করিয়াছিলাম, এবং তাহদিগকে বলিয়াছিলাম যে, শনিবাসরে সীমা লঙ্ঘন করিও না, এবং তাহাদিগ হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম।
আয়াতঃ ১৫৫⇒ পরিশেষে তাহাদের আপন অঙ্গীকার ভঙ্গ করার জন্য ঐশ্বরিক নিদর্শন সকলের প্রতি বিদ্রোহাচরণ  জন্য ও অন্যায়রুপে প্রেরিতপুরুষদিগকে হত্যা করিবার জন্য, এবং “আমাদের অন্তঃকরন আবৃত” তাহাদের (এই) উক্তির জন্য, (তাহাদিগকে যাহা করিবার আমি করিয়াছি) বরং ঈশ্বর তাহাদের ধর্মদ্রোহিতার জন্য তাহাদের (অন্তরের) উপর মোহর মারিয়াছেন, অনন্তর তাহারা অল্প ব্যতিত বিশ্বাস করে না।
আয়াতঃ ১৫৬⇒ এবং তাহাদের ধর্মদ্রোহিতার জন্য এবং মরিয়মের প্রতি তাহাদের গুরুতর অপলাপ বাক্যের জন্য।
আয়াতঃ ১৫৭⇒ এবং ”নিশ্চয় আমরা মরিয়ম নন্দন ইশ্বরের প্রেরিত ঈসা মসীহকে হত্যা করিয়াছি” তাহাদের (এই) উক্তির জন্য  (যাহা করিবার করিয়াছি) এবং তাহারা তাহাকে বধ করে নাই ও তাহাকে ক্রুশবিদ্ধ করে নাই, কিন্তু তাহাদের জন্য একটি মূতি রচিত হইয়াছিল, নিশ্চয় যাহারা তাঁহার প্রতি নিরুদ্ধাচরন করিয়াছিল, একান্তই তাহার বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে ছিল, কল্পনার অনুসরন ব্যতিত তৎসম্বন্ধে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই, এবং বাস্তবিক তাহাকে বধ করে নাই।
আয়াতঃ ১৫৮⇒ বরং ঈশ্বর তাহাকে আপনার দিকে উত্থাপন করিয়াছেন, এবং ঈশ্বর নিপুন ও পরাক্রান্ত হন।
আয়াতঃ ১৫৯⇒ এবং তাহার মৃত্যুর পূর্বে তাহার সম্বন্ধে একান্ত বিশ্বাসী হইবে ব্যতিত কোন গ্রন্থধারী নাই, এবং কেয়ামতের দিবস সে তাহদের সম্বন্ধে সাক্ষী হইবে।
আয়াতঃ ১৬০⇒ ইহুদীগণ হইতে যে অত্যাচার হইয়াছে তজ্জন্য এবং অনেককে ঈশ্বরের পথ হইতে প্রতিনিবৃত্ত করিবার জন্য তাহাদের সম্বন্ধে বৈধীকৃত শুদ্ধ বস্তুসকলকে আমি তাহাদিগের প্রতি অবৈধ করিয়াছি।
আয়াতঃ ১৬১⇒ এবং তাহাদের সুদ গ্রহণের জন্যও, নিশ্চয় তাহা আমি নিষেধ করিয়াছিলাম, এবং তাহাদের অন্যায়রুপে লোকের ধন গ্রহণের জন্য, (শুদ্ধ বস্তু সকলকে অবৈধ করিয়াছি) এবং আমি তাহদিগের কাফেরদিগের জন্য দুঃখজনক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।
আয়াতঃ ১৬২⇒ কিন্তু তাহাদের মধ্যে জ্ঞানেতে নিপুণ এবং বিশ্বাসী লোকেরা তোমার প্রতি যাহা অবতারিত হইয়াছে ও তোমার পূর্বে যাহা অবতারিত হইয়াছে তৎপ্রতি বিশ্বাস করে, এবং উপাসনার প্রতিষ্ঠাকারী ও জকাতদাতা ও ঈশ্বর এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী তাহারাই, তাহাদিগকে আমি অবশ্য মহা পুরষ্কার দান করিব।
আয়াতঃ ১৬৩⇒ যেমন আমি নুহের প্রতি ও তাহার পরবর্তী প্রেরিতপুরুষগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি তদ্রুপ তোমার প্রতি নিশ্চয় আমি প্রত্যাদেশ করিয়াছি; এবং এব্রাহিম ও এসমাইল ও এসহাক ও ইয়াকুব এবং তাহার সন্ততিগণ ও ঈসা ও আয়ুব ও ইউনুস ও হারুন ও সোলায়মানের প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি, এবং দাউদকে জবুর গ্রন্থ দান করিয়াছি।
আয়াতঃ ১৬৪⇒ এবং কতক প্রেরিতকে (পাঠাইয়াছি), নিশ্চয় পূর্বে তাহাদের বিবরণ তোমার নিকটে বলিয়াছি, এবং কতক প্রেরিতকে (পাঠাইয়াছি) তাহাদের বিবরণ তোমার নিকটে বলি নাই, এবং ঈশ্বর মুসার সঙ্গে কথা বলিয়াছেন।
আয়াতঃ ১৬৫⇒ সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শক কতক প্রেরিত (পাঠাইয়াছি) যেন প্রেরিতদিগের অভাবে ঈশ্বরের প্রতি মনুষ্যের জন্য কোন তর্ক না হয়, ঈশ্বর পরাক্রান্ত নিপুণ।
আয়াতঃ ১৬৬⇒ কিন্তু ঈশ্বর তোমার প্রতি যাহা অবতারন করিয়াছেন, এবং দেবগণ সাক্ষ্য দান করেন, তিনি আপন জ্ঞানে তাহা অবতারন করিয়াছেন, এবং দেবগণ সাক্ষ্যদান করেন, ঈশ্বর যথেষ্ট সাক্ষী।
আয়াতঃ ১৬৭⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) প্রতিনিবৃত্ত করিয়াছে, সত্যই তাহারা দূরতর পথচ্যুতিতে পথচ্যুত হইয়াছে।
আয়াতঃ ১৬৮+১৬৯⇒ নিশ্চয় যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও অত্যাচার করিয়াছে, ঈশ্বর তাহাদিগকে কখনো ক্ষমা করিবার নহেন, এবং তিনি তাহাদিগকে নরকের পথ ব্যতিত অন্য পথ দেখাইবেন না, তাহারা তাহাতে সর্বদা থাকিবে, এবং ঈশ্বরের সম্বন্ধে ইহা সহজ হয়।
আয়াতঃ ১৭০⇒ হে লোক সকল, নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের সন্নিধানে সত্য সহকারে প্রেরিতপুরুষ আগমন করিয়াছে, অতএব বিশ্বাস কর, তোমাদিগের জন্য মঙ্গল হইবে; যদি ধর্মবিদ্রোহী হও তবে নিশ্চয় (জানিও) স্বর্গ ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমুদায় ঈশ্বরের; এবং ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুণ হন।
আয়াতঃ ১৭১⇒ হে গ্রন্থধারী লোক সকল, স্বীয় ধর্মেতে অতিরিক্ত করিও না, ঈশ্বরের সম্বন্ধে সত্য ব্যতিত বলিও না, মরিয়ম নন্দন ঈসা মসীহ ঈশ্বরের প্রেরিত ও তাঁহার আত্মা ভিন্ন নহে, তিনি তাহাকে মরিয়মের প্রতি উৎসর্গ করিয়াছিলেন, এবং সে তাঁহার আত্মা, অতএব ঈশ্বরকে ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষকে বিশ্বাস কর, তিনি জন ঈশ্বর বলিও না, ক্ষান্ত হও, তোমাদের জন্য মঙ্গল হইবে, ঈশ্বরই একমাত্র ঈশ্বর ইহা ব্যতিত নহে, তাঁহার জন্য সন্তান হওয়া বিষয়ে তিনি নির্মুক্ত; স্বর্গে যাহা ও পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা তাঁহারই, এবং ঈশ্বরই কার্যসম্পাদক যথেষ্ট।
আয়াতঃ ১৭২⇒ ঈশ্বরের ভৃত্য হইতে কদাচ ঈশা ও পারিষদ দেবগণ সংকুচিত নহে, যাহারা তাঁহার দাসত্ব করিতে সংকুচিত হয় ও অহংকার করে, পরে তিনি তাহদিগকে একত্র আপনার নিকটে সমুত্থাপিত করিবেন।
আয়াতঃ ১৭৩⇒ পরিশেষে কিন্তু যাহারা বিশ্বাস করিয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, তাহাদিগকে তাহাদের পারিশ্রমিক তিনি পূর্ণ দিবেন ও আপনার কৃপা গুনে তাহাদিগকে অধিক দিবেন, কিন্তু যাহারা সংকুচিত অহংকার করে পরে দুঃখজনক শাস্তিযোগে তাহাদিগকে শাস্তি দিবেন।
আয়াতঃ ১৭৪⇒ তাহারা আপনাদের জন্য পরমেশ্বর ব্যতিত কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী পাইবে না।
আয়াতঃ ১৭৫⇒ হে লোক সকল, নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকটে প্রমান উপস্থিত হইয়াছে, এবং আমি তোমাদের প্রতি উজ্জল জ্যোতি অবতারন করিয়াছি।
আয়াতঃ ১৭৬⇒ পরে কিন্তু যাহারা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও তাঁহাকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করিয়াছে, এবং তাহাদিগকে আপনার দিকে সরল পথ প্রদর্শন করিবেন।
আয়াতঃ ১৭৭⇒ তাহারা (হে মোহাম্মদ) তোমার নিকটে ব্যবস্থা জিজ্ঞাসা করিতেছে, তুমি বল, ঈশ্বর “কলালা” বিষয়ে তোমাদিগকে ব্যবস্থা দান করিতেছেন, যদি এমন কোন পুরুষের মৃত্যু হয় যে তাহার সন্তান নাই, এবং তাহার ভগিনী আছে তবে তাহার জন্য সে যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে উহার অর্ধাংশ হইবে, এবং যদি তাহার (ভগিনীর) সন্তান না থাকে তবে সে (ভ্রাতা) তাহার উত্তরাধিকারী; পরন্তু যদি দুই ভগিনী হয় তবে তাহাদের জন্য (মৃত ব্যক্তি) যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে তাহার দুই তৃতীয়াংশ হইবে; এবং যদি (উত্তরাধিকারীরর) বহু ভ্রাতা-ভগিনী হয় তবে পুরুষের জন্য দুই স্ত্রীর অংশের তুল্য অংশ হইবে, তোমাদিগের জন্য ঈশ্বর (ইহা) ব্যক্ত করিতেছেন যেন তোমরা পথভ্রান্ত না হও, এবং ঈশ্বর সর্বজ্ঞ।