সূরাঃ নূর

অবতীর্ণঃ মদিনা

আয়াতঃ ০১⇒ এই এক সূরা যে, ইহাকে আমি অবতারণ করিয়াছি ও ইহাকে বৈধ করিয়াছি, এবং ইহার মধ্যে উজ্জ্বল নিদর্শন সকল অবতারণ করিয়াছি, সম্ভবতঃ তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ০২⇒ ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী হইলে পর তাহাদের প্রত্যেককে তোমরা এক শত কশাঘাত করিও, যদি তোমরা ঈশ্বর ও পারলৌকিক দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হও, তবে ঐশ্বরিক ধর্মে তাহাদিগের প্রতি তোমাদিগকে অনুগ্রহ আশ্রয় না করুক, এবং তাহাদিগের শাস্তিদানে বিশ্বাসীদিগের এক দল উপস্থিত থাকুক।

আয়াতঃ ০৩⇒ ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী বা অংশীবাদিনী নারীকে ব্যতীত বিবাহ করিবে না, এবং ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী বা অংশীবাদী পুরুষকে ব্যতীত বিবাহ করিবে না, বিশ্বাসীদিগের সম্বন্ধে ইহা অবৈধ করা গিয়াছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং যাহারা সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দান করে, তৎপর চারিজন সাক্ষী আনয়ন করে না, অনন্তর তাহাদিগকে তোমরা অশিতি কশাঘাত করিও, এবং কখনো (কোন বিষয়ে), তাহাদিগের সাক্ষ্য গ্রহণ করিও না, ইহারাই তাহারা যে দুষ্ক্রিয়াশীল।

আয়াতঃ ০৫⇒ কিন্তু যাহারা ইহার পরে প্রত্যাবর্তিত হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহারা নয়, অনন্তর নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়াময়।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যাহারা আপন ভার্যাদিগকে অপবাদ দেয় ও তাহাদিগের জন্য আপন জীবন ভিন্ন সাক্ষী নাই, তবে তাহাদিগের এক জনের সাক্ষ্য দান ঈশ্বরের শপথ যোগে চারি বার হইবে, (তাহা হইলে) নিশ্চয় সে সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং পঞ্চমবার (বলিবে) “যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে ঈশ্বরের অভিসম্পাত তাহার উপর হউক”।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং যদি ঈশ্বরের শপথপূর্বক চারি বার (স্ত্রী) এই সাক্ষ্যদান করে যে, নিশ্চয় সে (স্বামী) মিথ্যাভবাদীদিগের অন্তর্গত, তবে তাহা হইতে (স্ত্রী হইতে) শাস্তি নিবৃত্ত রাখিবে।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং পঞ্চম বার বলিবে যে, যদি সে (স্বামী) সত্যবাদীদিগের অন্তর্গত, তবে তাহার (স্ত্রীর) উপর যেন ঈশ্বরের ক্রোধ হয়।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং যদি ঈশ্বরের প্রসাদ ও তাঁহার দয়া তোমাদের উপর না হইত (কেমন হইত) নিশ্চয় ঈশ্বর অনুতাপ গ্রহণকারী বিজ্ঞানময়।

আয়াতঃ ১১⇒ নিশ্চয় যাহারা (আয়শার সম্বন্ধে) অপবাদ উপস্থিত করিয়াছে; তাহারা তোমাদের এক দল; তাহা আপনাদের নিমিত্ত তোমরা অকল্যাণ মনে করিও না, বরং তোমাদের জন্য তাহা কল্যাণ; (অপবাদ দ্বারা) তাহারা যে পাপ উপার্জন করিয়াছে তাহা তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, এবং তাহাদিগের যে ব্যক্তি উহাকে গুরুতররুপে পরিণত করিয়াছে, তাহার জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১২⇒ যখন তোমরা তাহা শ্রবন করিয়াছিলে তখন (তোমাদের) বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসিনী নারীগণ আপনাদের জীবন সম্বন্ধে কেন কল্যাণ মনে করিতেছিল না? এবং বলিতেছিল না যে, ইহা স্পষ্ট মিথ্যাবাদ।

আয়াতঃ ১৩⇒ চারিজন সাক্ষী তৎপ্রতি  কেন আনয়ন করে নাই? অনন্তর যখন সাক্ষীগণ উপস্থিত করে নাই তখন ঈশ্বরের নিকটে ইহারা তাহারাই যে মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যদি তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রসাদ  ও ইহ-পরলোকে তাঁহার দয়া না থাকিত, তবে যে বিষয়ে তোমরা প্রবৃত্ত হইয়াছ তাহাতে অবশ্য মহাশাস্তি তোমাদের নিকটে উপস্থিত হইত।

আয়াতঃ ১৫⇒ যখন তোমরা আপনাদের রসনায় তাহা উচ্চারণ করিতেছিলে, এবং যৎসম্বন্ধে তোমাদের জ্ঞান নাই তাহা আপন মুখে বলিতেছিলে ও তাহা সহজ মনে করিতেছিলে, কিন্তু তাহা ঈশ্বরের নিকটে গুরুতর ছিল।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং যখন তোমরা তাহা শ্রবন করিতেছিলে তখন কেন বলিতেছিলে না, “আমরা যে ইহা বলিব আমাদের জন্য (উচিত) নয়, (ঈশ্বর) তোমরাই পবিত্রতা, (স্মরণ করিতেছি) ইহা মহা অপলাপ”।

আয়াতঃ ১৭⇒ ঈশ্বর তোমাদিগকে উপদেশ দিতেছেন যে, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে কখনো এই প্রকার আর করিও না।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং ঈশ্বর তোমাদের জন্য আয়াত সকল ব্যক্ত করিতেছেন, ঈশ্বর জ্ঞানময়, কৌশলময়।

আয়াতঃ ১৯⇒ বিশ্বাসীদিগের প্রতি যাহারা কুৎসা রটনা করিতে ভালোবাসে নিশ্চয় তাহাদের জন্য ইহ-পরলোকে দুঃখজনক শাস্তি আছে, এবং ঈশ্বর জ্ঞাত হইতেছেন ও তোমরা অবগত নও।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং যদি তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রসাদ ও তাঁহার দয়া না থাকিত (কেমন হইত) এবং নিশ্চয় ঈশ্বর দয়ালু অনুগ্রহকারী।

আয়াতঃ ২১⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা শয়তানের পদানুসরণ করিও না, এবং যে ব্যক্তি শয়তানের পদের অনুসরণ করে, পরে নিশ্চয় সে তাহাকে নির্লজ্জ ও অবৈধ কার্যে আদেশ করিয়া থাকে, এবং যদি তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রসাদ ও তাঁহার দয়া না থাকিত তবে কখনো তোমাদের মধ্যে কেহ পবিত্র হইত না, কিন্তু ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা হয় পবিত্র করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তোমাদিগের মধ্যে গৌরবান্বিত ও ক্ষমতাবান লোক যেন স্বগণ ও দরিদ্র এবং ঈশ্বরের পথে গৃহত্যাগী লোকদিগকে দান করিতে শপথ না করে, এবং যেন ক্ষমা করে ও দোষ পরিহার করে, তোমরা কি ভালোবাসো না যে, ঈশ্বর তোমাদিগকে ক্ষমা করেন? এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ২৩⇒ নিশ্চয় যাহারা (দুষ্কর্ম) অবিজ্ঞাতা বিশ্বাসিনী সাধ্বী নারীদিগের প্রতি অপবাদ দেয়, ইহ-পরলোকে তাহারা অভিশপ্ত হয়, এবং তাহাদের জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ২৪⇒ যে দিবস তাহাদিগের সম্বন্ধে তাহাদিগের জিহ্বা ও তাহাদিগের হস্ত এবং তাহাদিগের চরণ সকল তাহারা যাহা করিতেছিল তদ্বিষয়ে সাক্ষ্য দান করিবে।

আয়াতঃ ২৫⇒ সেই দিবস পরমেশ্বর তাহাদিগকে তাহাদিগের বিনিময় পূর্ণরূপে প্রদান করিবেন এবং তাহারা জানিবে যে, নিশ্চয় ঈশ্বর (স্বরুপতঃ) স্পষ্ট সত্য।

আয়াতঃ ২৬⇒ অসতী নারীগণ অসৎ পুরুষদিগের ও অসৎ পুরুষগণ অসতী নারীদিগের (উপযুক্ত) এবং সতী নারীগণ সৎপুরুষদিগের ও সৎ পুরুষগণ সতী নারীদিগের (যোগ্য), তাহারা যাহা বলিয়া থাকে তাহা হইতে ইহারা বিমুক্ত, ইহাদের জন্য ক্ষমা ও উত্তম উপজীবিকা আছে।

আয়াতঃ ২৭⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আপন গৃহ ব্যতীত (অন্য) গৃহে যে পর্যন্ত তাহার স্বামীর নিকটে অনুমতি প্রার্থনা ও সলাম (না) কর প্রবেশ করিও না, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণ, সম্ভবতঃ তোমরা উপদেশ লাভ করিবে।

আয়াতঃ ২৮⇒ পরন্তু যদি তন্মধ্যে কাহাকেও প্রাপ্ত না হও, তবে যে পর্যন্ত (না) তোমাদিগকে অনুমতি করে তোমরা তাহাতে প্রবেশ করিও না, এবং যদি তোমাদিগকে বলা হয় যে, ফিরিয়া যাও তবে ফিরিয়া যাইও; তাহা তোমাদের জন্য বিশুদ্ধতর, এবং তোমরা যাহা করিয়া থাক ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ২৯⇒ বসতিবিহীন আবাস সকলে প্রবেশ করিতে তোমাদের সম্বন্ধে দোষ নাই, তথায় তোমাদের জন্য লাভ আছে, এবং যাহা তোমরা প্রকাশ কর ও যাহা গোপন করিয়া থাক ঈশ্বর তাহা জানেন।

আয়াতঃ ৩০⇒ বিশ্বাসী পুরুষদিগকে (হে মোহম্মদ) তুমি বল, যেন তাহারা স্ব-স্ব দৃষ্টি সকল বদ্ধ করে ও স্ব-স্ব গুহ্যেন্দ্রিয় সকলকে সংযত রাখে, ইহা তাহাদের জন্য বিশুদ্ধতর, তোমরা যাহা করিয়া থাক নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং বিশ্বাসিনী নারীদিগকে বল, যেন তাহারা স্ব-স্ব দৃষ্টি সকলকে বদ্ধ করে ও স্ব-স্ব গুহ্যেন্দ্রিয় সকলকে সংযত রাখে ও স্ব-স্ব ভূষন যাহা তাহা হইতে ব্যক্ত হইয়া থাকে তদ্বতীত প্রকাশ না করে, এবং যেন তাহার আপন কন্ঠদেশে স্বীয় বস্ত্রালয় ঝুলাইয়া রাখে, আপন স্বামী বা আপন পিতা বা আপন শ্বশুর বা আপন পুত্র (এবং পৌত্র) বা আপন স্বামীর পুত্র (সপত্নীজাত পুত্র) বা আপন ভ্রাতা বা আপন ভ্রাতুষ্পুত্র বা আপন ভাগিনেয় বা আপন (ধর্মাবলম্বিনী) নারিগন বা তাহাদের দক্ষিন হস্ত যাহাদের উপর স্বত্ব লাভ করিয়াছে সেই (দাসিগণ) বা নিষ্কাম অনুগামী পুরুষগণ এই সকলের ও যাহারা নারীগণের লজ্জাজনক ইন্দ্রিয় সম্বন্ধে জ্ঞান রাখে না সেই শিশুদিগের নিমিত্ত ভিন্ন তাহারা আপন আভরণ যেন প্রকাশ না করে, এবং তাহারা যেন আপন শব্দায়ন (ভূষনযুক্ত) চরণ বিক্ষেপ না করে, তাহা করিলে তাহারা আপন ভূষন যাহা গোপন করিয়া থাকে (লোকে) তাহা জানিতে পাইবে, এবং হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা একযোগে ঈশ্বরের দিকে ফিরিয়া আইস, সম্ভবতঃ তোমরা মুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং আপন (দলের) ভর্তৃহীন নারীদিগকে এবং আপন উপযুক্ত দাসদিগকে ও আপন দাসীদিগকে তোমরা বিবাহ দিও, তাহারা নির্ধন হইলে ঈশ্বর স্বীয় কৃপায় তাহাদিগকে সম্পন্ন করিবেন, এবং ঈশ্বর উদার দাতা জ্ঞানময়।

আয়াতঃ ৩৩⇒ যাহারা বৈবাহিক (সম্পত্তি) প্রাপ্ত হয় নাই, যে পর্যন্ত (না) ঈশ্বর আপন করুণায় তাহাদিগকে ধন-সম্পন্ন করেন সে পর্যন্ত যেন তাহারা বিশুদ্ধ থাকে, তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে তাহাদের যাহারা মুক্তিপত্র প্রার্থনা করে, অনন্তর তোমরা যদি তাহাদের সম্বন্ধে ভাল বুঝ তবে তাহাদিগকে তাহা লিখিয়া দেও, এবং ঈশ্বরের ধন হইতে যাহা তিনি তোমাদিগকে দিয়াছেন তোমরা তাহাদিগকে দান করিও, যদি নিবৃত্তি চাহে তবে আপন দাসীদিগের প্রতি দুষ্ক্রিয়ায় বল প্রয়োগ করিও না যে, তদ্দারা তোমরা পার্থিব সম্পত্তি অন্বেষণ করিবে, যে ব্যক্তি তাহাদের প্রতি বল প্রয়োগ করে অবশেষে নিশ্চয় ঈশ্বর বল প্রয়োগের পর (তাহাদের প্রতি) ক্ষমাশীল দয়ালু হন।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমাদের প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শন সকল ও তোমাদের পূর্বে যাহারা গত হইয়াছে তাহাদের দৃষ্টান্ত এবং ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য উপদেশ অবতারণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৫⇒ পরমেশ্বর দ্যুলোক মো ভূলোকের জ্যোতি (দাতা); তাঁহার জ্যোতির উপমা, যথা- (গৃহে) দীপ সংরক্ষণীয় তাক আছে, তন্মধ্যে দীপ আছে, সেই দীপ কাচাধারে, সেই কাচাধার উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য, কল্যাণযুক্ত জয়তুন তরুর তৈলযোগে প্রজ্বলিত হইয়া থাকে, তাহা পূর্ব ও পশ্চিম দেশীয় নহে, তাহার তৈল যদিচ তাহাকে অগ্নি স্পর্শ না করে (তথাপি স্বতঃ) জ্যোতিদানে সমুদ্যত হয়, জ্যোতির উপর জ্যোতি হয়, যাহাকে ইচ্ছা করেন ঈশ্বর আপন জ্যোতি দ্বারা পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর মানবমণ্ডলীর জন্য দৃষ্টান্ত সকল বর্ণন করেন, ঈশ্বর সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৩৬+৩৭⇒ যে সকল আলয়ের প্রতি ঈশ্বর আদেশ করিয়াছেন যে, (তাহাকে) উন্নত করা হয়, এবং তন্মধ্যে তাঁহার নাম উচ্চারণ করা হয় যাহাদিগকে বানিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় ঈশ্বরপ্রসঙ্গ হইতেও উপাসনার প্রতিষ্ঠা এবং জকাত দান হইতে শিথিল করে না ও যাহাতে অন্তর সকল দৃষ্টি সকল বিক্ষিপ্ত হইবে যাহারা সেই দিনকে ভয় করে, সেই পুরুষগণ প্রাতঃ-সন্ধ্যা তথায় তাঁহাকে স্তব করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ তাহাতে তাহারা যে, অত্যুত্তম কাজ করিয়াছে ঈশ্বর তাহার পুরস্কার দিবেন ও তিনি আপন করুণায় তাহাদিগকে অধিক দিবেন, এবং ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে অগণ্য জীবিকা দান করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং যাহারা ধর্মবিদ্বেষী হইয়াছে তাহ্যাদের কর্মসকল প্রান্তরের সেই মৃগতৃষ্ণার ন্যায়, পিপাসু যাহাকে জল মনে করে, এ পর্যন্ত, যখন সে তাহার নিকটে উপস্থিত হয় তাহাকে কোন পদার্থরুপে প্রাপ্ত হয় না, এবং ঈশ্বরকে আপনার নিকটে (শাস্তিদার্তৃরুপে) প্রাপ্ত হয়, অনন্তর ঈশ্বর তাহার (বিচার) পূর্ণ করেন, এবং ঈশ্বর হিসাবে সত্বর।

আয়াতঃ ৪০⇒ অথবা তাহার অবস্থা যেন গভীর সমুদ্রে তিমিররাশি, তরঙ্গের উপর তরঙ্গ তাহাকে গ্রাস করিতেছে, তাহার উপর মেঘ, অন্ধকার পুঞ্জ পরস্পর একে অন্যের উপর, যখন সে আপন হস্ত বাহির করে তাহা যে দেখিবে এমন সুযোগ নাই, যাহাকে ঈশ্বর আলোক দান করেন নাই সে সেই ব্যক্তি, অনন্তর তাহার জন্য কোন আলোক নাই।

আয়াতঃ ৪১⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, দ্যুলোক ও ভূলোকে যে কেহ আছে সে, এবং প্রসারিত পক্ষ পক্ষী ঈশ্বরকে স্তব করিয়া থাকে? সকলে একান্তই তাঁহার উপাসনা ও তাঁহার স্তুতি জ্ঞাত আছে, এবং তাহারা যাহা করিতে থাকে ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং দ্যূলোকের ও ভূলোকের রাজত্ব ঈশ্বরের ও তাঁহার দিকে (সকলের) পুনর্গমন।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর বারিবাহকে সঞ্চারিত করেন, তৎপর তাহার ভিতরে স্তর সকল (পরস্পর) সম্মিলিত করেন, তদনন্তর স্তরে স্তরে স্থাপিত করেন? অনন্তর তুমি দেখিয়া থাক যে, তাহার ভিতর হইতে জলবিন্দু সকল নির্গত হয়, এবং তিনি আকাশ হইতে যন্মধ্যে করকা আছে সেই (মেঘরুপ) পর্বত সকল হইতে (করকা) বর্ষণ করেন, অনন্তর যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহার প্রতি উহা পহুঁছাইয়া থাকেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহা হইতে নিবৃত্ত রাখেন, এবং উহার বিদ্যুতের জ্যোতি দৃষ্টি সকল হরণ করিতে উদ্যত হয়।

আয়াতঃ ৪৪⇒ ঈশ্বর দিবা-রজনীর পরিবর্তন করেন, নিশ্চয় ইহাতে চক্ষুষ্মান লোকদিগের জন্য শিক্ষা আছে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং ঈশ্বর =সমুদায় স্থলচরকে (শুক্ররুপ) জল দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন, অনন্তর তাহাদের কেহ বক্ষোযোগে গমন করে, এবং তাহাদের কেহ পদদ্বয়যোগে বিচরণ করে ও তাহাদের কেহ চতুষ্পদে চলিয়া থাকে, ঈশ্বর যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করিয়া থাকেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৪৬⇒ সত্যসত্যই আমি উজ্জ্বল নিদর্শন সকল অবতারণ করিয়াছি, এবং ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে সরল পথের দিকে আলোক দান করিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং তাহারা বলে যে, “আমরা পরমেশ্বর ও প্রেরিতপুরুষদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, এবং অনুগত হইয়াছি,” অনন্তর তাহাদের একদল ইহার পরে বিমুখ হয়, এবং তাহারা বিশ্বাসী নহে।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং যখন ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের দিকে তাহারা আহূত হয় যেন তিনি তাহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করেন, তখন অকস্মাৎ তাহাদের একদল বিমুখ হয়।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং যদি স্বত্ব তাহাদের হয় তবে তাহারা তাহার (প্রেরিতপুরুষের) দিকে অনুগতভাবে উপস্থিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহাদের অন্তরে কি রোগ আছে, বা তাহারা সন্দেহ করিয়া থাকে, অথবা তাহারা ভয় পায় যে, ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ তাহাদের প্রতি অত্যাচার করিবেন? বরং ইহারাই তাহারা যে অত্যাচারী।

আয়াতঃ ৫১⇒ যখন (বিশ্বাসীগণ) ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের নিকটে আহূত হয় যেন তিনি তাহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করেন, তখন তাহারা বলে, “শ্রবন করিলাম ও আজ্ঞাবহ হইলাম,” বিশ্বাসীদিগের বাক্য এতদ্ভিন্ন হয় না, ইহারাই তাহারা যে মুক্তিলাভকারী।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আজ্ঞাকারী হয় এবং ঈশ্বরকে ভয় করে ও তাঁহার (শাস্তি-বিষয়ে) সাবধান হয়, অনন্তর  ইহারাই তাহারা যে সিদ্ধকাম হইবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং তাহারা আপনাদের দৃঢ় শপথে ঈশ্বরের নামে শপথ করিয়াছে যে, যদি তুমি তাহাদিগকে আদেশ কর, তবে অবশ্য তাহারা (স্বদেশ হইতে) বহির্গত হইবে; তুমি বল, “তোমরা শপথ করিও না, আনুগত্যই মনোনীত হয়, তোমরা যাহা করিয়া থাক নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ৫৪⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “তোমরা ঈশ্বরের অনুগত থাক ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অনুগত থাক;” পরে যদি তোমরা (হে লোক সকল) বিমুখ হও তবে তাহার প্রতি যে ভার অর্পিত ও তোমাদের প্রতি যে ভার অর্পিত হইয়াছে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যদি তোমরা তাহার আজ্ঞাকারী হও তবে পথ প্রাপ্ত হইবে, প্রেরিতপুরুষের প্রতি স্পষ্ট প্রচার করার (ভার) বৈ নহে।

আয়াতঃ ৫৫⇒ ঈশ্বর অঙ্গীকার করিয়াছেন যে, তোমাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে ভূতলে তিনি তাহাদিগকে অবশ্য রাজ্যধিপতি করিবেন, যেমন তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদিগকে রাজ্যাধিপতি করিয়াছেন, এবং তিনি অবশ্য তাহাদের জন্য তাহাদের ধর্মকে যাহা তাহাদের নিমিত্ত মনোনীত হইয়াছে দৃঢ় করিবেন, এবং অবশ্য তাহাদের ভয়ের পরে তাহাদিগকে অভয়ে পরিবর্তিত করিবেন; তাহারা আমাকে অর্চনা করিবে, এবং আমার সঙ্গে কিছুই অংশী স্থাপন করিবে না, এবং যাহারা ইহার পরে ধর্মদ্বেষী হইবে অনন্তর তাহারাই ইহারা যে দুষ্ক্রিয়াশীল।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং তোমরা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ ও জকাত দান কর, এবং প্রেরিতপুরুষের অনুগত থাক, সম্ভবতঃ তোমাদের প্রতি দয়া করা হইবে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তোমরা মনে করিও না যে, পৃথিবীতে ধর্মদ্রোহীগণ (ঈশ্বরের) পরাভবকারী, অগ্নি তাহাদের আশ্রয়ভূমি, এবং (তাহা) কুৎসিত প্রত্যাবর্তনভূমি।

আয়াতঃ ৫৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদিগের দক্ষিন হস্ত যাহাদিগকে অধিকার করিয়াছে (সেই দাস-দাসিগণ) ও তোমাদের মধ্যে যাহারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয় নাই তাহারা প্রাভাতিক নমাজের পূর্বে এবং মধ্যাহ্নে যখন তোমরা স্বীয় বস্ত্র সকল উন্মোচন কর তখন ও নৈশিক উপাসনার অন্তে (গৃহে প্রবেশ) যেন তিন বার অনুমতি প্রার্থনা করে, তোমাদের জন্য এ তিনটি নির্জনতা হয়, ইহার পর (আসিলে) তাহাদের প্রতিও তোমাদের প্রতি কোন দোষ নাই, তাহারা তোমাদের পরস্পর পরস্পরের নিকট গমনাগমনকারী, এই প্রকার পরমেশ্বর তোমাদের জন্য আয়ত সকল বর্ণনা করেন, এবং ঈশ্বর জ্ঞানময় কৌশলময়।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং যখন তোমাদের বালকগণ বয়ঃপ্রাপ্ত হয় তখন উচিত যে, তাহারা তাহাদের পূর্ববর্তী লোকেরা যেমন অনুমতি প্রার্থনা করিত (তদনুরুপ) অনুমতি প্রার্থনা করে, এই প্রকাএ পরমেশ্বর তোমাদের জন্য আপন আয়ত সকল বর্ণন করেন, ঈশ্বর জ্ঞানময় কৌশলময়।

আয়াতঃ ৬০⇒ গৃহবাসিনী নারীদিগের যাহারা (বৃদ্ধত্ব প্রযুক্ত) বিবাহার্থিনী নহে, তখন আভরণ প্রকাশ না করার অবস্থায় আপন (বাহ্যিক) বসন পরিত্যাগ করিলে তাহাদের সম্বন্ধে দোষ নাই, এবং যদি আত্মসংবরণের প্রার্থিনী হয়, (আপনাদিগকে আচ্ছাদিত করে) তবে তাহাদের জন্য মঙ্গল, এবং ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৬১⇒ যদি তোমরা আপন আলয়ের বা আপন পিত্রালয়ের বা স্বীয় মাতৃগৃহের বা স্বীয় ভ্রাতৃভবনের বা স্বীয় পিতৃব্যগৃহের বা পিতৃব্যপত্নীর গৃহের বা স্বীয় মাতৃস্বসৃপতির নিকেতনের বা আপন মাতৃস্বসৃগৃহের অথবা যাহার (ধনাগারের) কুঞ্জিকা তোমরা হস্তগত করিয়াছ তাহাদের কিংবা আপন বন্ধুদিগের (ভবনের খাদ্য) তাহাতে তোমাদের নিজের সম্বন্ধে ভোজন কর কোন দোষ নাই, অন্ধের প্রতি কোন দোষ নাই, খঞ্জের প্রতি কোন দোষ নাই, রোগীর প্রতি কোন দোষ নাই, যদি একযোগে বা পৃথকভাবে ভোজন কর তাহাতে তোমাদের প্রতি কোন দোষ নাই, যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করিবে, তখন স্বজাতির প্রতি ঈশ্বর সন্নিধানে বিশুদ্ধ কল্যাণযুক্ত মঙ্গলাশীর্বাদসূচক সেলাম করিবে, এই প্রকার পরমেশ্বর তোমাদের জন্য নিদর্শন সকল বর্ণনা করেন, সম্ভবতঃ তোমরা বুঝিতে পারিবে।

আয়াতঃ ৬২⇒ যাহারা ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহারা বিশ্বাসী এতদ্ভিন্ন নহে, এবং যখন তাহারা তাহার (প্রেরিতপুরুষের) সঙ্গে কোন কার্যসংগ্রহসাধনে স্থিতি করে, যে পর্যন্ত তাহার নিকটে অনুমতি চাওয়া (না) হয় চলিয়া যায় না; নিশ্চয় যাহারা তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) অনুমতি প্রার্থনা করে ইহারাই তাহারা যে ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে, অনন্তর যখন তাহারা আপনাদের কোন কার্যের নিমিত্ত তোমার নিকটে অনুমতির প্রার্থী হয় তখন তাহাদের যাহাকে ইচ্ছা কর তুমি অনুমতি দান করিও, এবং তাহাদের জন্য ঈশ্বরের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিও, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ৬৩⇒ তোমাদের মধ্যে প্রেরিতপুরুষের প্রার্থনা তোমাদের পরস্পরের প্রার্থনার অনুরুপ গণ্য করিও না, নিশ্চয় তোমাদের যাহারা আশ্রয় গ্রহণের নিমিত্ত হঠাত বাহির হইয়াছে, ঈশ্বর তাহাদিগকে জানেন; অতএব যাহারা তাঁহার আজ্ঞার বিরুদ্ধাচরণ করে তাহাদিগের প্রতি যে বিপদ উপস্থিত হইবে অথবা তাহাদিগকে যে দুঃখজনক শাস্তি আশ্রয় করিবে, উচিত যে তাহারা তাহা হইতে ভীত হয়।

আয়াতঃ ৬৪⇒ জানিও স্বর্গে ও মর্তে যে কিছু আছে তাহা নিশ্চয় ঈশ্বরের, তোমরা যাহাতে (প্রবৃত্ত) আছ একান্তই তিনি তাহা জানেন, এবং যে দিবস তাহারা তাঁহার নিকটে ফিরিয়া আসিবে, তাহারা যাহা করিয়াছে তখন তিনি তাহাদিগকে সংবাদ দিবেন, ঈশ্বর সর্বজ্ঞ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *