সূরাঃ নুহা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ নিশ্চয় আমি নুহাকে তাহার সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করিয়াছিলাম, (বলিয়াছিলাম) যে, তুমি আপন দলকে তাহাদের প্রতি দুঃখকরী শাস্তি উপস্থিত হইবার পূর্বে ভয় প্রদর্শন কর।

আয়াতঃ ০২+০৩⇒ সে বলিয়াছিল, “হে আমার সম্প্রদায়, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিমিত্ত স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক, এই যে তোমরা ঈশ্বরকে অর্চনা করিও ও তাঁহাকে ভয় করিও, এবং আমার অনুগত হইও।

আয়াতঃ ০৪⇒ তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপ সকল ক্ষমা করিবেন, এবং এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তোমাদিগকে (শাস্তি ও মৃত্যু হইতে) অবকাশ দিবেন; নিশ্চয় ঈশ্বরের নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হয়; যদি তোমরা জ্ঞাত থাক তবে (জানিবে) নিবারিত রাখা হয় না”।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ সে বলিয়াছিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি আপন দলকে অহর্নিশি আহ্বান করিতেছি, পরন্তু আমার আহ্বান পলায়ন করা ভিন্ন তাহাদের সম্বন্ধে (কিছুই) বৃদ্ধি করে নাই।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং নিশ্চয় আমি যখন তাহাদিগকে আহ্বান করিলাম যেন তুমি তাহাদিগকে ক্ষমা কর, তাহারা স্বীয় অঙ্গুলি স্বীয় কর্ণে স্থাপন করিল ও স্বীয় বস্ত্র (আপনাদের উপর) পরিবেষ্টন করিল, এবং (বিদ্রোহিতায়) স্থীরতর হইল ও অহংকার করিল।

আয়াতঃ ০৮⇒ তৎপর নিশ্চয় আমি তাহাদিগকে উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করিলাম।

আয়াতঃ ০৯⇒ তদন্তর আমি তাহাদিগকে প্রকাশ করিয়া বলিলাম, এবং তাহাদিগকে গোপনে বলিলাম।

আয়াতঃ ১০⇒ অনন্তর বলিলাম, স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল হন।

আয়াতঃ ১১⇒ তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বারিবর্ষণকারী আকাশ (মেঘ) প্রেরণ করিবেন।

আয়াতঃ ১২⇒ ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততি সম্বন্ধে তিনি তোমাদিগকে সাহায্য দান করিবেন, এবং তোমাদের নিমিত্ত বহু উদ্যান ও তোমাদের নিমিত্ত বহু জলপ্রণালী উৎপাদন করিবেন।

আয়াতঃ ১৩⇒ কি হইয়াছে যে, তোমরা গৌরবান্বিত পরমেশ্বরের প্রতি ভরসা স্থাপন করিতেছ না?

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে বিভিন্ন প্রকার সৃজন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৫⇒ তোমরা কি দেখিতেছ না যে, ঈশ্বর কেমন করিয়া স্তরে স্তরে সপ্ত স্বর্গ সৃষ্টি করিয়াছেন?

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং সেই সকলের মধ্যে চদ্রমাকে প্রদীপ্ত করিয়াছেন ও দিবাকরকে দীপস্বরূপ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং পরমেশ্বর তোমাদিগকে মৃত্তিকা হইতে এক প্রকার উৎপাদনে উৎপাদিত করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ তৎপর তোমাদিগকে তন্মধ্যে ফিরাইয়া লইয়া যাইবেন, এবং তোমাদিগকে এক প্রকার বহিষ্করণে বহিষ্কৃত করিবেন।

আয়াতঃ ১৯+২০⇒ এবং পরমেশ্বর তোমাদের জন্য ধরাতলকে শয্যা করিয়াছেন যেন তোমরা তাহার প্রসারিত পথ সকলে চলিতে থাক।

আয়াতঃ ২১⇒ নুহা বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় তাহারা আমাকে অগ্রাহ্য করিয়াছে এবং যাহাদের সম্পত্তি ও যাহাদের সন্তান-সন্ততি ক্ষতি ভিন্ন তাহাদের পক্ষে বৃদ্ধি করে নাই সেই সকল লোকের অনুসরণ করিয়াছে।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তাহারা মহা প্রবঞ্চনা করিয়াছে।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং পরস্পর বলিয়াছে, তোমরা কখনো স্বীয় উপাস্যদেবদিগকে পরিত্যাগ করিও না, ওদ্দ ও সোওয়া ইয়গুস এবং ইয়উক ও নসরকে ছাড়িও না।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং সত্যসত্যই তাহারা বহুলোককে বিপথগামী করিয়াছে এবং বিপথ গমনে ভিন্ন তুমি অত্যাচারীদিগকে (হে পরমেশ্বর) বর্ধিত করিও না।“

আয়াতঃ ২৫⇒ তাহাদের আপন পাপের জন্য তাহাদিগকে জলে ডুবান হইল, পরে অনলে প্রবেশ করান হইল, অবশেষে আপনাদের জন্য তাহারা পরমেশ্বরকে ব্যতীত সাহায্যকারী পাইল না।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং নুহা বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, ধরাতলে ধর্মদ্রোহীদিগের কোন আলয় পরিত্যাগ করিও না।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় যদি তুমি তাহাদিগকে ছাড়িয়া দাও, তবে তোমার দাসদিগকে তাহারা বিপথগামী করিবে, এবং দুরাচার কাফের ভিন্ন জন্ম দান করিবে না।

আয়াতঃ ২৮⇒ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যে ব্যক্তি আমার আলয়ে বিশ্বাসী হইয়া প্রবেশ করিয়াছে তাহাকে ও (সমুদায়) বিশ্বাসী ও বিশ্বাসিনীদিগকে ক্ষমা কর, এবং অত্যাচারীকে সংহার ভিন্ন বর্ধিত করিও না।“