সূরাঃ নহল

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ ঈশ্বরের আজ্ঞা উপস্থিত, অতএব তাহা সত্বর প্রার্থনা করিও না; তিনি পবিত্র, এবং তাহারা যাহাকে অংশী নির্ধারণ করে তাহা হইতে তিনি উন্নত।

আয়াতঃ ০২⇒ তিনি আত্মসহ দেবতাদিগকে স্বীয় আজ্ঞাক্রমে ভয় প্রদর্শন করিতে আপন দাসদিগের যাহার উপরে ইচ্ছা হয় অবতারণ করেন, যথা, আমি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, অতএব তোমরা আমাকে ভয় করিও।

আয়াতঃ ০৩⇒ তিনি সত্যভাবে স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন, তাহারা যাহাকে অংশী নির্ধারণ করে তাহা অপেক্ষা তিনি উন্নত।

আয়াতঃ ০৪⇒ তিনি শুক্র দ্বারা মনুষ্য সৃজন করিয়াছেন, পরে আকস্মাৎ সে স্পষ্ট বিরোধী হইল।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং তিনি চতুষ্পদদিগকে তোমাদের নিমিত্ত সৃজন করিয়াছেন, তন্মধ্যে (বস্ত্রের জন্য) উষ্ণ রোম ও লাভ সকল আছে, এবং তাহাদের (কোন কোনটি) তোমরা ভক্ষন করিয়া থাক।

আয়াতঃ ০৬⇒ যখন (প্রান্তর হইতে) প্রত্যাগমন কর ও যখন ছাড়িয়া দেও তখন তন্মধ্যে তোমাদের জন্য শোভা আছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং তাহারা তোমাদের ভার কোন নগরের দিকে বহন করিয়া থাকে, (অন্যথা) তোমরা আত্মিক ক্লেশ ব্যতীত কখনো তথায় সমাগত হও না, নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক অনুগ্রহকারী দয়ালু।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং অশ্ব, উষ্ট্র ও গর্দভদিগকে (তিনি সৃজন করিয়াছেন) যেন তোমরা তদুপরি আরোহণ কর ও শোভার নিমিত্ত (সৃজন করিয়াছেন), তোমরা যাহা অবগত নও তিনি তাহা সৃজন করেন।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং ঈশ্বরের প্রতিই সরল পথ পহুঁছে ও তাহার (কোনটি) কুটিল, এবং যদি তিনি ইচ্ছা করিতেন তবে একযোগে তোমাদিগকে পথ-প্রদর্শন করিতেন।

আয়াতঃ ১০⇒ তিনিই যিনি তোমাদের জন্য আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, তাহা হইতে পান করা হয়, এবং তাহা হইতে বৃক্ষ (তৃণাদি) হয়, তাহাতে তোমরা পশুদিগকে চরাইয়া থাক।

আয়াতঃ ১১⇒ তিনি তদ্দারা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র ও জয়তুন ও খোর্মাতরু এবং দ্রাক্ষা এবং সর্ববিধ ফল উৎপাদন করেন, নিশয় যাহারা চিন্তা করে সেই দলের জন্য ইহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং তিনিই তোমাদের জন্য দিবা ও রজনী এবং সূর্য ও চন্দ্র অধিকৃত করিয়াছেন, এবং নক্ষত্রবৃন্দ তাঁহার আজ্ঞাক্রমে অধিকৃত; নিশ্চয় ইহাতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং তিনি তোমাদের জন্য ধরাতলে যাহা বিকীর্ণ করিয়াছেন তাহার বিভিন্ন বর্ণ; উপদেশ গ্রহণকারী দলের জন্য নিশ্চয় ইহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং তিনিই যিনি সমুদ্রকে আয়ত্ব করিয়াছেন, যেন তাহা হইতে তোমরা সদ্য মাংস ভক্ষন করিতে পাও ও আভরণ যাহা পরিধান করিয়া থাক তাহা হইতে বাহির কর; এবং তুমি দেখিতেছ যে, (হে মোহম্মদ) নৌকা সকল তাহাতে চলিয়া থাকে; (তিনি সমুদ্রকে অধিকৃত করিয়াছেন) যেন তোমরা তাঁহার গুনে (জীবিকা) অন্বেষণ করিতে থাক, ভরসা যে, তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তিনি ধরাতলে গিরিশ্রেনী স্থাপন করিয়াছেন যেন তাহা তোমাদিগকে স্থিরতর রাখে, এবং জলস্রোত সকল ও বর্ত্ম সকল (সৃজন করিয়াছেন) ভরসা যে, তোমরা পথ প্রাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং (পথের) নিদর্শন সকল (সৃজন করিয়াছেন) তাহারা নক্ষত্র যোগে পথ প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ১৭⇒ অনন্তর যিনি সৃজন করেন তিনি কি যে সৃজন করে না তাহার তুল্য? পরন্তু তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং যদি তোমরা ঈশ্বরের দান গণনা কর তাহা আয়ত্ব করিতে পারিবে না, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশালী দয়ালু।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং তোমরা যাহা গোপন কর ও যাহা ব্যক্ত করিয়া থাক ঈশ্বর তাহা জানিতেছেন।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং যাহারা ঈশ্বর ব্যতীত (অন্য বস্তু সকলকে) আহ্বান করে, (সেই সকল বস্তু) কিছুই সৃষ্টি করে না ও তাহারা সৃষ্ট হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২১⇒ মৃত সকল জীবিত নহে, তাহারা জানে না যে, কখন সমুত্থাপিত হইবে।

আয়াতঃ ২২⇒ তোমাদের ঈশ্বর, একমাত্র ঈশ্বর, অনন্তর যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাহাদের অন্তর অগ্রাহ্যকারী এবং তাহারা অহংকারী।

আয়াতঃ ২৩⇒ নিঃসন্দেহ যে, তাহারা যাহা গোপন করে ও যাহা ব্যক্ত করিয়া থাকে ঈশ্বর তাহা জ্ঞাত হন, নিশ্চয় তিনি অহংকারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং যখন তাহাদিগকে বলা যায়, “যাহা তোমাদের প্রতিপালক অবতারণ করিয়াছেন তাহা কি?” তখন তাহারা বলে, “পূর্বতন বৃত্তান্ত সকল”।

আয়াতঃ ২৫⇒ তাহাতে তাহারা স্বীয় (পাপের) পূর্ণ ভার ও যাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ তাহাদিগকে পথভ্রান্ত করিতেছে তাহাদিগের কোন ভার কেয়ামতের দিনে বহন করিবে, জানিও, যে কিছু ভার তাহারা বহন করিবে তাহা মন্দ।

আয়াতঃ ২৬⇒ যাহারা ইহাদের পূর্বে ছিল নিশ্চয় তাহারা ছলনা করিয়াছিল, তৎপর তাহাদের অট্টালিকার ভিত্ত্র দিকে ঈশ্বর আগমন করিলেন, অনন্তর তাহাদের ঊর্ধ্ব হইতে তাহাদের উপর ছাদ পতিত হইল, তাহাদের প্রতি সেই দিক দিয়া শাস্তি উপস্থিত হইল যে, তাহারা জানিত না।

আয়াতঃ ২৭⇒ অতঃপর কেয়ামতের দিন তিনি তাহাদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন, এবং বলিবেন, “কোথায় আমার সেই অংশিগণ তোমরা যাহাদের সম্বন্ধে বিরোধ করিতেছিলে?” জ্ঞানবান লোকেরা বলিবে যে, “নিশ্চয় ধর্মদ্রোহীদিগের প্রতি সেই দিবসের লাঞ্ছনা ও অকল্যাণ হয়”।

আয়াতঃ ২৮⇒ আপন জীবনের প্রতি অত্যাচারী (অবস্থায়) দেবগণ যাহাদিগের প্রাণ হরণ করিয়াছিল অনন্তর তাহারা সম্মিলন স্থাপন করে, (বলে) যে, “আমরা মন্দ আচরণ করিতাম না”। (তখন বলা হয়) “হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমরা যাহা করিতেছিলে ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা”।

আয়াতঃ ২৯⇒ অতঃপর তোমরা নরকের দ্বার সকলে প্রবেশ কর, তন্মধ্যে তোমরা নিত্য স্থায়ী হইবে, পরন্তু অহংকারীদিগের স্থান কদর্য।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছিল তাহাদিগকে বলা হইল, “তোমাদের প্রতিপালক যাহা অবতারণ করিয়াছেন তাহা কি?” তাহারা বলিল, “কল্যাণ”; যাহারা এই সংসারে শুভ কার্য করিয়াছে তাহাদের জন্য শুভ হয়, এবং অবশ্য পারলৌকিক আলয় কল্যাণকর এবং অবশ্য ধর্মভীরুদিগের নিকেতন উত্তম।

আয়াতঃ ৩১⇒ নিত্য উদ্যান সকল আছে, তন্মধ্যে তাহারা প্রবেশ করিবে, তাহার নিম্নে জলপ্রনালী প্রবাহিত প্রবাহিত, তাহারা যাহা ইচ্ছা করিবে তাহা তাহাদের জন্য তথায় আছে, এইরুপে পরমেশ্বর ধর্মভীরুদিগকে বিনিময় দান করেন।

আয়াতঃ ৩২⇒ দেবগণ বিশুদ্ধ আছে (এই অবস্থায়) যাহাদিগের প্রাণ হরণ করে তাহাদিগকে বলিয়া থাকে, ‘তোমাদের প্রতি সলাম, তোমরা যাহা করিতেছিলে তজ্জন্য স্বর্গলোকে প্রবেশ কর”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহাদের (কাফেরদিগের) নিকটে দেবগণ উপস্থিত হওয়া, অথবা তোমার প্রতিপালকের আদেশ সমাগত হওয়া ব্যতীত তাহারা প্রতীক্ষা করে না, তাহাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও এই প্রকার করিয়াছিল, ঈশ্বর তাহাদের প্রতি অত্যাচার করেন নাই, কিন্তু তাহারাই স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছিল।

আয়াতঃ ৩৪⇒ অনন্তর তাহারা যাহা বলিয়াছিল তাহার অশুভ সকল তাহাদের প্রতি উপস্থিত হইয়াছে ও তাহারা যে বিষয়ে উপহাস করিতেছিল তাহা তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং অংশীবাদিগণ বলে, “যদি ঈশ্বর চাহিতেন আমরা তাঁহাকে ভিন্ন অন্য কোন বস্তুকে অর্চনা করিতাম না ও আমাদের পিতৃপুরুষগণ (অর্চনা করিত না) এবং আমরা তাঁহার (আজ্ঞা) ব্যতীত কোন বস্তুকে অবৈধ স্থির করিতাম না;” যাহারা তাহাদের পূর্বে ছিল তাহারাও এই প্রকার বলিয়াছে; অনন্তর প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি স্পষ্ট প্রচার করা বৈ নহে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি প্রত্যেক মণ্ডলীর প্রতি প্রেরিতপুরুষ প্রেরণ করিয়াছি, (বলিয়াছি) যে, তোমরা ঈশ্বরের অর্চনা করিও, এবং প্রতিমা সকল হইতে নিবৃত্ত থাকিও; অনন্তর তাহাদের মধ্যে কেহ ছিল যে, তাঁহার প্রতি পথভ্রান্তি স্থিরীকৃত হইয়াছে, অবশেষে তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করিতে থাক, পশ্চাৎ দেখ যে, মিথ্যাবাদীদিগের পরিণাম কি হইল।

আয়াতঃ ৩৭⇒ যদি তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগের পথ প্রদর্শনে উৎসুক হও তবে (জানিও) যাহারা (লোকদিগকে) পথভ্রান্ত করে নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করেন না, এবং তাহাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৩৮⇒ তাহারা ঈশ্বর সম্বন্ধে স্বীয় দৃঢ় শপথে শপথ করিয়াছে যে, যে-ব্যক্তি প্রাণত্যাগ করে ঈশ্বর তাঁহাকে উত্থাপন করিবেন না; হ্যাঁ (উত্থাপন করিবেন) অঙ্গীকার করা তাঁহার সম্বন্ধে সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোক অবগত নহে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ (তিনি উত্থাপন করিবেন) এ বিষয়ে যাহারা বিরোধ করিতেছে তাহাদিগের জন্য তাহাতে ব্যক্ত করিবেন, এবং তাহাতে ধর্মদ্রোহিগণ জানিবে যে, নিশ্চয় তাহারা মিথ্যাবাদী ছিল।

আয়াতঃ ৪০⇒ কোন বিষয়ের নিমিত্ত আমার ইহা ভিন্ন কথা নহে যে, যখন আমি তাহা (সৃষ্টির) ইচ্ছা করি, তজ্জন্য “হউক” বলি, তাহাতেই হয়।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং যাহারা অত্যাচারিত হওয়ার পর ঈশ্বরোদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করিয়াছে আমি অবশ্য তাহাদিগকে পৃথিবীতে উত্তমরুপে স্থানদান করিব, এবং নিশ্চয় পারলৌকিক পুরস্কার শ্রেষ্ঠ, হায়! যদি তাহারা জানিত।

আয়াতঃ ৪২⇒ যাহারা ধৈর্যধারন করিয়াছে ও স্বীয় প্রতিপালকের উপর নির্ভর করিয়াছে (তাহাদিগকে উত্তমরুপে স্থান দান করিব)।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং আমি যাহাদের প্রতি প্রত্যাদেশ করিতেছিলাম তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) সেই পুরুষদিগকে ব্যতীত প্রেরণ করি নাই, অনন্তর যদি তোমরা (হে কোরেশগণ) অজ্ঞাত থাক তবে স্মরণকারীদিগকে প্রশ্ন কর।

আয়াতঃ ৪৪⇒ প্রমাণ সকল ও গ্রন্থ সকলসহ (তাহাদিগকে প্রেরণ করিয়াছিলাম) এবং তোমার প্রতি উপদেশ অবতারণ করিয়াছি যেন তুমি লোকদিগকে তাহাদের সম্বন্ধে যাহা অবতারিত হইয়াছে তাঁহার বর্ণনা কর, ভরসা যে, তাহারা চিন্তা করিবে।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ অনন্তর যাহারা কুৎসিত ছলনা করিয়াছে ঈশ্বর যে তাহাদিগকে ভূমিতে প্রোথিত করিবেন না অজ্ঞাত স্থান দিয়া যে তাহাদের প্রতি শাস্তি উপস্থিত হইবে, কিংবা তাহাদের গমনাগমনে তাহাদিগকে যে আক্রমণ করিবেন (এ বিষয়ে) তাহারা কি নির্ভর হইয়াছে? পরন্তু তাহারা (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নহে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ অথবা ভয় দ্বারা তাহাদিগকে আক্রমণ করা (বিষয়ে কি নির্ভর হিয়াছে)? পরন্তু নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক অনুগ্রহকারী দয়ালু।

আয়াতঃ ৪৮⇒ ঈশ্বর যে বস্তু সৃজন করিয়াছেন তৎপ্রতি কি তাহারা দৃষ্টি করে নাই? ঈশ্বরোদ্দেশ্যে নমস্কার করতঃ তাহার ছায়া সকল বামে ও দক্ষিনে ঘুরিয়া থাকে, এবং সে সকল হীনাবস্থাসম্পন্ন।

আয়াতঃ ৪৯⇒ জীব ও দেবতা এবং যাহা কিছু স্বর্গে ও যাহা কিছু পৃথিবীতে আছে তাহারা ঈশ্বরকে প্রণিপাত করে ও তাহারা অহংকার করে না।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহারা আপনাদের উপরে (পরাক্রান্ত) আপনাদের প্রতিপালককে ভয় করে, এবং যাহাতে আদিষ্ট হয় তাহা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং ঈশ্বর বলিয়াছেন, “তোমরা দুই ঈশ্বর গ্রহণ করিও না, তিনিই একমাত্র ঈশ্বর, এতদ্ভিন্ন নহে; অতঃপর আমা হইতে ভীত হও।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং স্বর্গে ও পৃথিবীতে যাহা আছে তাহা তাঁহারই, এবং তাঁহারই জন্য সাধনা সমুচিত হইয়াছে, পরন্তু তোমরা কি ঈশ্বর ব্যতীত অন্যকে ভয় কর?

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং যে কিছু সম্পদ তোমাদের সঙ্গে আছে তাহা ঈশ্বর হইতে হইয়াছে, অতঃপর যখন তোমাদিগের প্রতি দুঃখ উপস্থিত হয় তখন তাঁহার উদ্দেশ্যে আর্তনাদ করিয়া থাক।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অতঃপর যখন তিনি তোমাদিগ হইতে দুঃখ দূর করেন তখন অকস্মাৎ তোমাদের এক দল আপন প্রতিপালকের সম্বন্ধে অংশী স্থাপন করে।

আয়াতঃ ৫৫⇒ তাহাতে আমি যাহা তাহাদিগকে দান করিয়াছি তাহারা তৎসম্বন্ধে অধর্ম করে; পরে তোমরা ফলভোগ করিতে থাক, অবশেষে সত্বর জানিতে পাইবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং আমি তাহাদিগকে যে উপজীবিকা দান করিয়াছি, তাহারা যাহাকে জ্ঞাত নহে তাঁহার জন্য উহার অংশ নির্ধারণ করে; ঈশ্বরের শপথ, তোমরা যে (অসত্য) বন্ধন করিতেছিলে তদ্বিষয়ে অবশ্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরের জন্য কন্যা সকল নির্ধারিত করে, পবিত্রতা তাঁহারই; এবং তাহারা যাহা ইচ্ছা করে তাহা তাহাদের নিমিত্ত হয়।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যদি তাহাদের এক ব্যক্তিকে কন্যা (উৎপত্তির) সুসংবাদ দেওয়া যায় তবে তাহার মুখ মলিন ও সে বিষাদপূর্ণ হয়।

আয়াতঃ ৫৯⇒ তাহাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হইয়াছে সেই দুঃখহেতু দল হইতে সে লুক্কায়িত হয়, (ভাবে) যে তাহাকে কি দূরবস্থায় রাখিবে, অথবা কি তাহাকে মৃত্তিকাতে প্রোথিত করিবে; জানিও তাহারা যাহা আদেশ করে তাহা অশুভ।

আয়াতঃ ৬০⇒ যাহারা পরলোকে বিশ্বাস স্থাপন করে নাই তাহাদের ভাব মন্দ, এবং ঈশ্বরের ভাব উন্নত ও তিনি পরাক্রান্ত  নিপুন।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যদি পরমেশ্বর লোকদিগকে তাহাদের অত্যাচারের জন্য ধৃত করেন তবে পৃথিবীতে কোন জীব মুক্তি পায় না, কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাহাদিগকে অবকাশ দান করেন, অনন্তর যখন তাহাদের সময় উপস্থিত হইবে তখন তাহারা এক ঘণ্টা পশ্চাতে থাকিবে না ও অগ্রসর হইবে না।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং তাহারা যাহা অবজ্ঞা করে তাহা ঈশ্বরের জন্য নিরুপন করিয়া থাকে ও তাহাদের রসনা অসত্য বর্ণন করে, এই যে, তাহাদের নিমিত্ত কল্যাণ আছে; নিঃসন্দেহ এই যে, তাহাদের নিমিত্ত আছে ও এই যে, তাহারা (নরকে) প্রথম প্রেরিত।

আয়াতঃ ৬৩⇒ ঈশ্বরের শপথ, সত্যসত্যই আমি তোমার পূর্বে মণ্ডলী সকলের প্রতি (তত্ত্ববাহকদিগকে) প্রেরণ করিয়াছিলাম, অনন্তর শয়তান তাহাদের নিমিত্ত তাহাদের কার্যকে সজ্জিত করিয়াছিল, অতঃপর অদ্যও সে-ই তাহাদের বন্ধু, তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং তাহারা যাহা বিপরীত করিয়াছে সে বিষয়ে তাহাদিগের নিমিত্ত বর্ণন করিতে ও বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের নিমিত্ত পথ-প্রদর্শন এবং দয়া করিতে বৈ আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) গ্রন্থ অবতারণ করি নাই।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং ঈশ্বর আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়াছেন, তৎপর তদ্দারা ভূমিকে তাহার মৃত্যুর অন্তে জীবিত করিয়াছেন, নিশ্চয় ইহাতে শ্রোতৃদলের জন্য নিদর্শন আছে।

আয়াতঃ ৬৬⇒ এবং নিশ্চয় তোমাদিগের নিমিত্ত পশুদিগের মধ্যে উপদেশ আছে, তাহাদের উদরে যাহা আছে তাহা হইতে আমি তোমাদিগকে পান করাইয়া থাকি, মল ও শোণিতের ভিতর হইতে পানকারীদিগের জন্য বিশুদ্ধ সুস্বাদু দুগ্ধ হয়।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং খোর্মাতরু ও দ্রাক্ষালতার ফল হইতে তোমরা মাদক দ্রব্য ও উত্তম উপজীবিকা গ্রহণ করিয়া থাকে, নিশ্চয় ইহাতে জ্ঞানীমণ্ডলীর জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) মধুমক্ষিকার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছেন যে, “তুমি পর্বত সকলের ও বৃক্ষ সকলের মধ্যে এবং (মনুষ্য) যে (গৃহ) উন্নমিত করে তাহাতে গৃহ সকল প্রস্তুত কর।

আয়াতঃ ৬৯⇒ তৎপর তুমি প্রত্যেক ফল ভক্ষন কর, অনন্তর বিনীতভাবে তোমার প্রতিপালকের পথে চলতে থাকে;” তাহার উদর হইতে বিবিধ বর্ণের পেয় দ্রব্য যাহাতে লোকের আরোগ্য হয় বাহির হইয়া থাকে, নিশ্চয় ইহাতে চিন্তাশীল দলের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৭০⇒ এবং ঈশ্বর তোমাদিগকে সৃজন করিয়াছেন, তৎপর তোমাদিগের প্রাণ হরণ করিবেন, এবং তোমাদের মধ্যে কেহ আছে যে, নিকৃষ্টতর জীবনের দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে, তাহাতে জ্ঞান লাভের পর কিছুই জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে না, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানী ও ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং পরমেশ্বর তোমাদের একজনকে অন্যজনের উপরে জীবিকা সম্বন্ধে উন্নতি দান করিয়াছেন, অনন্তর যাহারা উন্নত হইয়াছে তাহারা স্বীয় জীবিকা আপন অধীনস্থ দাসদিগের প্রতি প্রত্যার্পণ করে, (এমন) নহে যে, পরে তাহারা সে বিষয়ে তুল্য হইবে, অবশেষে তাহারা কি ঈশ্বরের দানকে অগ্রাহ্য করে?

আয়াতঃ ৭২⇒ এবং পরমেশ্বর তোমাদের নিমিত্ত তোমাদের জাতি হইতে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তোমাদের নিমিত্ত তোমাদিগের স্ত্রীগণ হইতে পুত্রগণকে ও পৌত্রগণকে সৃজন করিয়াছেন, এবং বিশুদ্ধ বস্তু সকল হইতে তোমাদিগকে উপজীবিকা দিয়াছেন, অনন্তর তাহারা কি অসত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে, এবং তাহারা ঈশ্বরের দান সম্বন্ধে অধর্ম করিতেছে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া সেই বস্তুর অর্চনা করে যে তাহাদিগকে আকাশ ও ভূমি হইতে কিছুই জীবিকা দানে অধিকারী নহে, এবং ক্ষমতা রাখে না।

আয়াতঃ ৭৪⇒ অনন্তর ঈশ্বর সম্বন্ধে উপন্যাস সকল বলিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর অবগত আছেন ও তোমরা অবগত নহ।

আয়াতঃ ৭৫⇒ ঈশ্বর এক কৃতদাসের আখ্যায়িকা ব্যক্ত করিলেন যে, সে কোন বিষয়ে ক্ষমতা রাখে না, এবং যে ব্যক্তিকে আমি উত্তম উপজীবিকা দান করিয়াছি, পরে সে তাহা হইতে প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যয় করে, তাহারা কি তুল্য হয়? ঈশ্বরেরি সম্যক প্রশংসা, বরং তাহাদের অনেকেই জ্ঞাত নহে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ এবং ঈশ্বর দুই ব্যক্তির আখ্যায়িকা ব্যক্ত করিলেন, তাহাদের একজন মূক, সে কোন বিষয়ে ক্ষমতা রাখে না, এবং সে তাহার প্রভুর উপর ভারস্বরূপ, তাহাকে যে স্থানে প্রেরণ করা হয় সে তথা হইতে কোন কল্যাণ আনয়ন করে না, সে ও যে ব্যক্তি ন্যায়ানুসারে আদেশ করে সে, (এই দুইয়ে) কি তুল্য? সে সরল পথে আছে।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং স্বর্গ ও মর্তের গুপ্ত (তত্ত্ব) ঈশ্বরেরই ও কেয়ামতের কার্য চক্ষুর নিমেষ ভিন্ন নহে, অথবা নিকটতম, নিশ্চয় ঈশ্বরই সমুদায় বিষয়ের উপরে ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং ঈশ্বরই তোমাদিগকে তোমাদের মাতৃগণের গর্ভ হইতে বাহির করেন, তোমরা কিছুই জানিতে না, তিনি তোমাদের জন্য চক্ষু ও কর্ণ ও অন্তর সকল সৃষ্টি করিয়াছেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও।

আয়াতঃ ৭৯⇒ তাহারা কি আকাশমণ্ডলে বিধৃত পক্ষীদিগের প্রতি দৃষ্টি করিতেছে না? ঈশ্বর ভিন্ন অন্য (কেহ) তাহাদিগকে ধারন করে না, যাহারা বিশ্বাস করে সেই দলের জন্য নিশ্চয় ইহাতে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং ঈশ্বরই তোমাদের গৃহ সকল দ্বারা তোমাদের জন্য বাসস্থান করিয়াছেন, এবং তোমাদের জন্য পণ্ডচর্ম দ্বারা আলয়সকল করিয়াছেন, স্বীয় পর্যটনের দিনে ও স্বীয় অবস্থিতির দিনে তোমরা তাহা লঘু বোধ করিয়া থাক, এবং তিনি উষ্ট্র, মেঘ ও ছাগরোম দ্বারা সাময়িক গৃহ সামগ্রী ও বানিজ্য দ্রব্য করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং ঈশ্বর যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা হইতে তিনি তোমাদের জন্য ছায়া সকল উৎপাদন করিয়াছেন ও তোমাদের জন্য পর্বতের গহ্বর সকল করিয়াছেন, এবং উষ্ণতা হইতে তোমাদিগকে রক্ষা করিতে তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ সকল করিয়াছেন ও (যুদ্ধের) কষ্ট হইতে তোমাদিগকে রক্ষা করিতে তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ সকল করিয়াছেন, এই প্রকারে তোমাদিগের সম্বন্ধে তিনি আপন দান পূর্ণ করিয়াছেন যেন তোমরা অনুগত হও।

আয়াতঃ ৮২⇒ অনন্তর যদি তাহারা বিমুখ হয় তবে (হে মোহম্মদ) তোমার প্রতি স্পষ্ট প্রচার করা বৈ নহে।

আয়াতঃ ৮৩⇒ তাহারা ঈশ্বরের দান বুঝিতেছে, অতঃপর তাহা অগ্রাহ্য করিতেছে, তাহাদের অধিকাংশই ধর্মদ্রোহী।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এবং যে দিন আমি প্রত্যেক মণ্ডলী হইতে সাক্ষী সমুত্থাপণ করিব, তৎপর সেই দিন যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগকে অনুমতি দেওয়া যাইবে না এবং তাহারা (ঈশ্বরের প্রসন্নতাতে) প্রত্যাবর্তিত হইবে না।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং যখন অত্যাচারিগণ শাস্তি দেখিবে তখন তাহাদিগ হইতে (তাহা) খর্ব করা যাইবে না, এবং তাহারা অবকাশ প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং যাহারা অংশী স্থাপন করিয়াছে তাহারা যখন স্বীয় অংশীদিগকে দেখিবে তখন বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, তোমাকে ছাড়িয়া আমরা যাহাদিগকে আহ্বান করিতেছিলাম ইহারাই আমাদের সেই অংশী;” পরে উহারা তাহাদের প্রতি এই বাক্য স্থাপন করিবে যে, “নিশ্চয় তোমরা মিথ্যাবাদী”।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং তাহারা সেই দিন ঈশবরোদ্দেশ্যে সম্মিলন স্থাপন করিবে ও তাহারা যাহা বন্ধন (অংশীস্থাপনাদি) করিতেছিল তাহাদিগ হইতে তাহা হারাইয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও (লোকদিগকে) ঈশ্বরের পথ হইতে নিবৃত্ত করিয়াছে তাহারা যে অত্যাচার করিতেছিল তজ্জন্য আমি তাহাদিগকে শাস্তির উপর অধিক শাস্তি দান করিব।

আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং যে দিন আমি প্রত্যেক মণ্ডলীর মধ্যে তাহাদের প্রতি তাহাদের জাতি হইতে সাক্ষী দন্ডায়মান করিব, এবং সেইদিন তোমাকেও উহাদের উপরে সাক্ষীরুপে আনয়ন করিব; প্রত্যেক বিষয় বর্ণনার জন্য এবং মোসলমানদিগের নিমিত্ত সুসংবাদ দান ও দয়া ও পথ-প্রদর্শনের জন্য তোমার প্রতি আমি গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ৯০⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর স্বগণের প্রতি দান, উপকার ও ন্যায়াচরণ করিতে আদেশ করিতেছেন, এবং নির্লজ্জতা ও অবৈধ কর্ম ও অবাধ্যতা সম্বন্ধে নিষেধ করিয়া থাকেন, তিনি তোমাদিগকে উপদেশ দান করেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

আয়াতঃ ৯১⇒ এবং যখন তোমরা অঙ্গীকার কর তখন ঈশ্বর সম্বন্ধীয় অঙ্গীকার পূর্ণ করিও ও শপথকে তাহা দৃঢ় করিবার পর ভঙ্গ করিও না, নিশ্চয় তোমরা পরমেশ্বরকে আপনাদের সম্বন্ধে প্রতিভূ করিয়াছ, তোমরা যাহা করিতেছ নিশ্চয়ই ঈশ্বর তাহা অবগত হন।

আয়াতঃ ৯২⇒ এবং সেই (নারীর) সদৃশ হইও না যে, আপনার সূত্রকে তাহা দৃঢ় হওয়ার পর খন্ড খন্ড করিয়াছে, তোমরা আপনাদের শপথকে আপনাদের মধ্যে প্রবেশ করাইতেছ যাহাতে তোমরা (এমন) এক মণ্ডলী হও যে, তাহা (অন্য) মণ্ডলী হইতে বৃহৎ হয়, ঈশ্বর তোমাদিগকে এতদ্দারা পরীক্ষা করেন বৈ নহে, এবং তোমরা যে বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিতেছ অবশ্য কেয়ামতের দিনে তিনি তাহা বর্ণন করিবেন।

আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করিতেন তবে অবশ্য তিনি তোমাদিগকে একমাত্র মণ্ডলী করিতেন, কিন্তু তিনি যাহাকে ইচ্ছা হয় পথভ্রান্ত করেন ও যাহাকে ইচ্ছা হয় পথ-প্রদর্শন করিয়া থাকেন, তোমরা যাহা করিতেছিল অবশ্য তদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ৯৪⇒ এবং তোমরা আপনাদের শপথকে পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করাইও না, অনন্তর তাহা দৃঢ় হওয়ার পর পদস্ফলন হইবে, এবং তোমরা যে (লোকদিগকে) ঈশ্বরের পথ হইতে নিবৃত্ত করিয়াছ তজ্জন্য শাস্তি ভোগ করিবে ও তোমাদের জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ৯৫⇒ এবং তোমরা ঈশ্বরের অঙ্গীকারের বিনিময়ে অল্প মূল্য (পার্থিব বস্তু) গ্রহণ করিও না, যদি জান তবে নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটে যাহা আছে তাহা তোমাদের জন্য কল্যাণ।

আয়াতঃ ৯৬⇒ তোমাদের নিকটে যাহা আছে তাহা বিনাশ পাইবে ও ঈশ্বরের নিকটে যাহা আছে তাহা অবিনশ্বর এবং যাহারা ধৈর্য ধারন করিয়াছে অবশ্য আমি তাহাদিগকে তাহারা যাহা করিতেছিল তাহাদের সেই কল্যাণের অনুরুপ বিনিময় পুরস্কার দিব।

আয়াতঃ ৯৭⇒ যে ব্যক্তি সৎকর্ম করিয়াছে সে পুরুষ হউক বা নারী হউক সে বিশ্বাসী, অনন্তর অবশ্য আমি তাহাকে বিশুদ্ধ জীবনে জীবিত করিব, এবং অবশ্য আমি তাহাদিগকে তাহারা যাহা করিতেছিল সেই কল্যাণের অনুরুপ বিনিময় পুরস্কার দিব।

আয়াতঃ ৯৮⇒ অনন্তর যখন তুমি কোরআন পাঠ কর তখন নিস্তারিত শয়তান হইতে ঈশ্বরের নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করিও।

আয়াতঃ ৯৯⇒ যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি নির্ভর করিতেছে তাহাদের উপরে নিশ্চয় তাহার পরাক্রম নাই।

আয়াতঃ ১০০⇒ যাহারা তাহাকে প্রেম করে ও সেই যাহারা তাঁহার (ঈশ্বরের) সঙ্গে অংশী নির্ধারণ করে তাহাদের প্রতি ভিন্ন তাহার পরাক্রম নাই।

আয়াতঃ ১০১⇒ এবং যখন আমি কোন আয়াতের স্থানে কোন পরিবর্তন করি, তখন তাহারা বলে, তুমি (হে মোহম্মদ) রচনাকারী, এতদ্ভিন্ন নহ; যাহা অবতারণ করেন ঈশ্বর তদ্বিষয়ে উত্তম জ্ঞাত, বরং তাহাদের অধিকাংশি জানে না।

আয়াতঃ ১০২⇒ বল, যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাদিগকে দৃঢ় করিতে ও মোসলমানদিগের জন্য সুসংবাদ ও পথ-প্রদর্শন করিতে পবিত্রাত্মা তোমার প্রতিপালক হইতে সত্যভাবে তাহা অবতারণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১০৩⇒ এবং সত্য সত্যই আমি জানি, তাহারা বলিয়া থাকি যে, তাহাকে মনুষ্যে শিক্ষা দান করে, এতদ্ভিন্ন নহে; যাহার প্রতি তাহারা আরোপ করে তাহার ভাষা আজমী এবং এই ভাষা স্পষ্ট আরবী।

আয়াতঃ ১০৪⇒ নিশ্চয় যহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলে বিশ্বাস করে না ঈশ্বর তাহাদিগকে পথ প্রদর্শন করেন না, এবং তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১০৫⇒ ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের প্রতি যাহারা বিশ্বাস করে না তাহারা অসত্য বন্ধন করে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং এই তাহারাই মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ ১০৬⇒ যে ব্যক্তি উৎপীড়িত ও যাহার অন্তর বিশ্বাসেতে বিশ্রাম প্রাপ্ত, সে ব্যতীত নযে জন স্বীয় বিশ্বাস লাভের পর ঈশ্বর সম্বন্ধে বিদ্রোহী হয় (সে কাফের থাকে) কিন্তু যাহারা ধর্মদ্রোহিতায় বক্ষঃস্থল প্রসারিত করে, পরে তাহাদের প্রতি ঈশ্বরের ক্রোধ হয়, এবং তাহাদের জন্য মহা শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১০৭⇒ ইহা এজন্য যে, তাহারা পরলোক অপেক্ষা পার্থিব জীবনকে প্রেম করিয়াছে, নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মদ্রোহী দলকে পথ-প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ১০৮⇒ ইহারাই তাহারা, ঈশ্বর তাহাদিগের অন্তরে, তাহাদের কর্ণে, তাহাদের নেত্রে মোহর (আবরণ স্থাপন) করিয়াছেন, এবং ইহারাই তাহারা যে অজ্ঞান।

আয়াতঃ ১০৯⇒ নিঃসন্দেহ যে তাহারা পরলোকে ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ ১১০⇒ অতঃপর উৎপীড়িত হওয়ার পরে যাহারা দেশ ত্যাগ করিয়াছে, অতঃপর ধর্মযুদ্ধ ও ধৈর্য ধারন করিয়াছে। নিশ্চয় (হে মোহম্মদ) তোমার প্রতিপালক তাহাদেরি, এবং নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক ইহার পরে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

আয়াতঃ ১১১⇒ সেই দিনে যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের জীবন সম্বন্ধে বিবাদ করতঃ উপস্থিত হইবে, এবং যাহা তাহারা অনুষ্ঠান করিয়াছে সকল ব্যক্তিকেই তাহার পূর্ণ (বিনিময়) দেওয়া যাইবে ও তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ১১২⇒ এবং ঈশ্বর এক গ্রামের বৃত্তান্ত বর্ণন করিলেন, তাহা সুখ-শান্তিযুক্ত ছিল, তাহার উপজীবিকা সচ্ছলরুপে সকল স্থান হইতে তথায় আসিত, অনন্তর (সেই গ্রাম) ঈশ্বরের দান সকল সম্বন্ধে অধর্মাচরণ করিল, সে যাহা করিতেছিল তজ্জন্য পরে পরমেশ্বর তাহাকে ক্ষুধা ও ভীতিরুপ পরিচ্ছদের স্বাদ গ্রহণ করাইলেন।

আয়াতঃ ১১৩⇒ এবং সত্যসত্যই তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকটে প্রেরিতপুরুষ উপস্থিত হইয়াছে, অনন্তর তাহারা তাহার প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে, পরে শাস্তি তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছে ও তাহারা অত্যাচারী হইয়াছিল।

আয়াতঃ ১১৪⇒ অনন্তর ঈশ্বর যে বৈধ ও শুদ্ধ সামগ্রী তোমাদিগকে জীবিকা দান করিয়াছেন তোমরা তাহা ভক্ষন কর, এবং যদি তোমরা তাঁহাকে অর্চনা করিতেছ, তবে ঈশ্বরের দানের কৃতজ্ঞতা দান কর।

আয়াতঃ ১১৫⇒ তোমাদের সম্বন্ধে শব, শোনিত, বরাহ-মাংশ এবং যাহার উপর ঈশ্বর ভিন্ন (অন্য দেবতার) নাম গৃহীত হইয়াছে, এতদ্ভিন্ন অবৈধ নহে; পরন্তু যে ব্যক্তি (ক্ষুধায়) কাতর হইয়া পড়ে, অমিতাচারী ও অত্যাচারী নয় (তাহার পক্ষে সে সকল বৈধ) অপিচ নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং তোমরা ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিতে তোমাদের রসনা যাহা মিথ্যা বর্ণন করে যে ইহা বৈধ ও ইহা অবৈধ, তাহা বলিও না; যাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিয়া থাকে তাহারা মুক্তি লাভ করে না।

আয়াতঃ ১১৭⇒ লাভ অল্প ও তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১১৮⇒ এবং তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) আমি যাহা বর্ণন করিলাম পূর্বে তাহা ইহুদীদিগের প্রতি অবৈধ করিয়াছিলাম, আমি তাহাদিগের প্রতি অত্যাচার করি নাই, কিন্তু তাহারা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছিল।

আয়াতঃ ১১৯⇒ যাহারা অজ্ঞানতাবশতঃ দুষ্কর্ম করিয়াছে তাহার পর পুনঃ প্রত্যাবর্তিত হইয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে, অবশেষে নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তাহাদিগেরই, সত্যই তোমার প্রতিপালক তদনন্তর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ১২০⇒ নিশ্চয় এব্রাহিম ঈশ্বরের অগ্রনী সেবক, সে সত্যধর্মে প্রতিষ্ঠিত ছিল, এবং অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত ছিল না।

আয়াতঃ ১২১⇒ সে তাঁহার দানে কৃতজ্ঞ ছিল, তিনি তাঁহাকে গ্রহণ করিয়াছিলেন, এবং সরল পথের দিকে তাহাকে পথ প্রদর্শন করিয়াছিলেন।

আয়াতঃ ১২২⇒ এবং তাহাকে আমি পৃথিবীতে কল্যাণ দান করিয়াছি ও নিশ্চয় সে পরলোকে সাধুদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ১২৩⇒ তৎপর আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি যে, তুমি সত্যধর্মে প্রতিষ্ঠিত এব্রাহিমের ধর্মের অনুসরণ কর, এবং সে অংশিবাদীদিগের অন্তর্গত ছিল না।

আয়াতঃ ১২৪⇒ শনিবাসর, যাহারা তদ্বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে তাহাদের প্রতি নির্ধারিত, এতদ্ভিন্ন নহে, এবং তাহারা যে বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিতেছিল তজ্জন্য নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক কেয়ামতের দিনে তাহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করিবেন।

আয়াতঃ ১২৫⇒ তুমি তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে বিশুদ্ধ জ্ঞান ও উত্তম উপদেশানুসারে (লোকদিগকে) আহ্বান কর, এবং যাহা উত্তম তদনুসারে তাহাদের সঙ্গে বিতর্ক কর। যে ব্যক্তি তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত হইয়াছে নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক তাহাকে উত্তম জ্ঞাত, তিনি সৎপথাশ্রিতদিগকেও উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ১২৬⇒ এবং যদি তোমরা প্রতিশোধ লও, তবে যেরুপ তোমরা উৎপীড়িত হইয়াছ তদনুরুপ প্রতিশোধ লইও, এবং যদি তোমরা ধৈর্য ধারন কর তবে উহা ধৈর্যশীলদের জন্য কল্যাণ।

আয়াতঃ ১২৭⇒ এবং তুমি সহিষ্ণু হও, তোমার সহিষ্ণুতা ঈশ্বরের (সাহায্য) ব্যতীত নহে ও তাহাদের সম্বন্ধে দুঃখ করিও না, তাহারা যে প্রতারনা করিতেছে তজ্জন্য ক্ষুব্ধ থাকিও না।

আয়াতঃ ১২৮⇒ যাহারা ধর্মভীরু হয় ও যাহারা সৎকর্মশীল, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহাদের সঙ্গে থাকেন।