সূরাঃ নমল

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ তাসা। এই আয়াত সকল কোরআনের ও উজ্জ্বল গ্রন্থের।

আয়াতঃ ০২⇒ বিশ্বাসীদিগের জন্য উপদেশ ও সুসংবাদ হয়।

আয়াতঃ ০৩⇒ যাহারা উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে ও জকাত দান করে, বস্তুতঃ তাহারা পরলোকে বিশ্বাস করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় যাহারা পরলোকে বিশ্বাস করে না তাহাদের জন্য আমি তাহাদের ক্রিয়া সকলকে সজ্জিত রাখিয়াছি, অনন্তর তাহারা ঘূর্ণায়মান হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৫⇒ ইহারাই তাহারা যে ইহাদের জন্য কঠিন শাস্তি আছে, এবং ইহারাই তাহারা যে পরলোকে ক্ষতিকারক।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং নিশ্চয় কৌশলময় (ঈশ্বরের) নিকট হইতে তোমাকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া যাইতেছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ (স্মরণ কর) যখন মুসা আপন পরিজনকে বলিল যে, “নিশ্চয় আমি অনল দেখিতেছি, শীঘ্র তাহা হইতে তোমাদের নিকটে কোন (পথিকের) সংবাদ আনয়ন করিব, অথবা জ্বলন্ত অগ্নিখন্ড তোমাদের নিকটে লইয়া আসিব, সম্ভবতঃ তোমরা উত্তাপ লাভ করিবে”।

আয়াতঃ ০৮⇒ অনন্তর যখন সে তাহার নিকটে উপস্থিত হইল তখন ধ্বনি হইল যে, “যে ব্যক্তি অগ্নিতে ও যে  ব্যক্তি তাহার পার্শ্বে আছে তাহারা ধন্য, এবং (বল) বিশ্বপালক পরমেশ্বর পবিত্র।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে মুসা, ইহা নিশ্চয় যে, আমি পরমেশ্বর পরাক্রমশালী কৌশলময়।

আয়াতঃ ১০+১১⇒ এবং তুমি আপন যষ্টি নিক্ষেপ কর, “অনন্তর যখন তাহাকে দেখিল যে, নড়িতেছে যেন উহা সর্প, সে পশ্চাদ্ভাগে মুখ ফিরাইল ও ফিরিল না, (আমি বলিলাম) “হে মুসা, ভয় করিও না, নিশ্চয় আমি আছি, আমার নিকট অত্যাচারী লোক ভিন্ন প্রেরিতপুরুষগণ ভয় পায় না, তৎপর (অত্যাচারী) অকল্যাণের সঙ্গে কল্যাণ বিনিময় করে, অনন্তর নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং তুমি স্বীয় হস্তকে স্বীয় গ্রীবাদেশে লইয়া যাও, তাহাতে উহা কলঙ্কশূন্য শুভ্র হইয়া বাহির হইবে, ফেরওন ও তাহার দলের নিকটে নব অলৌকিক ক্রিয়ার মধ্যে (এই দুই অলৌকিক ক্রিয়া) নিশ্চয় তাহারা দুর্বৃত্ত দল হয়”।

আয়াতঃ ১৩⇒ অনন্তর যখন তাহাদের নিকটে আমার উজ্জ্বল নিদর্শন সকল উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিল, “ইহা স্পষ্ট ইন্দ্রজাল”।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং তাহাদের অন্তঃকরণ তাহা বিশ্বাস করা সত্ত্বে অত্যাচার ও অহংকারবশতঃ তাহারা তাহা অস্বীকার করিল, অনন্তর দেখ উপদ্রবকারীদিগের পরিণাম কেমন হয়।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি দাউদ ও সোলয়মানকে জ্ঞান দান করিয়াছিলাম, এবং তাহারা বলিয়াছিল যে, “সেই ঈশ্বরেরই প্রশংসা, যিনি স্বীয় বিশ্বাসী দাসদিগের অধিকাংশের উপর আমাদিগকে শ্রেষ্ঠ করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং দাউদের উত্তরাধিকারী সোলয়মান হইয়াছিল ও সে বলিয়াছিল, “হে লোক সকল, আমি পক্ষীর ভাষায় শিক্ষিত হইয়াছি ও আমাকে সকল বস্তু প্রদত্ত হইয়াছে, ইহা অবশ্য স্পষ্ট উন্নতি।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং সোলয়মানের জন্য তাহার সৈন্য দানব ও মানব এবং বিহঙ্গম হইতে সংগৃহীত হইয়াছিল, অনন্তর তাহারা নিবারিত হইত।

আয়াতঃ ১৮⇒ এ পর্যন্ত, যখন তাহারা পিপীলিকার প্রান্তরে উপস্থিত হইল, তখন এক পিপীলিকা বলিল, “হে পিপীলিকাগণ, আপন আলয়ে তোমরা প্রবেশ কর, তাহা হইলে সোলয়মান ও তাহার সৈন্যগণ তোমাদিগকে বিদলিত করিবে না, বস্তুতঃ তাহারা জানিতেছে না”।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর (সোলয়মান) তাহার বাক্যে হাস্য করিল, এবং বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার প্রতি এবং আমার আমার পিতা-মাতার প্রতি যে দান করিয়াছ তোমার সেই দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে তুমি আমাকে সাহায্য কর, এবং যাহা তুমি মনোনীত করিবে এমন সৎকর্ম করিতে আমাকে (সাহায্য দান কর) এবং তুমি স্বীয় সাধু দাসদিগের মধ্যে আমাকে লইয়া যাও”।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং সে পক্ষীদিগকে অনুসন্ধান করিল, অনন্তর বলিল, “আমার কি হইল যে, আমি হোদহোদকে দেখিতেছি না, সে কি লুক্কায়িত হইল?

আয়াতঃ ২১⇒ অবশ্য আমি তাহাকে কঠিন শাস্তিতে শাস্তি দান করিব, অথবা তাহাকে বলিদান করিব, কিংবা সে আমার নিকটে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করিবে”।

আয়াতঃ ২২⇒ অনন্তর সে অল্প বিলম্ব করিল, পরে সে আসিয়া বলিল, “তুমি যাহা ধরিতে পাও নাই, আমি তাহা ধরিয়াছি, এবং তোমার নিকটে সবা নগর হইতে এক নিশ্চয় সংবাদ আনয়ন করিয়াছি।

আয়াতঃ ২৩⇒ নিশ্চয় আমি এক নারীকে প্রাপ্ত হইয়াছি যে, তাহাদের মধ্যে রাজত্ব করে, এবং তাহাকে সমুদায় বস্তু প্রদত্ত হইয়াছে ও তাহার এক মহা সিংহাসন আছে।

আয়াতঃ ২৪+২৫+২৬⇒ ঈশ্বরকে ছাড়িয়া সূর্যের উদ্দেশ্যে প্রণাম করিতে আমি তাহাকে ও তাহার দলকে প্রাপ্ত হইয়াছি, এবং শয়তান তাহাদের ক্রিয়াকে তাহাদের জন্য শোভিত করিয়াছে, অনন্তর সে তাহাদিগকে পথ হইতে নিবৃত্ত রাখিয়াছে, পরিশেষে তাহারা (সে দিকে) পথ প্রাপ্ত হইতেছে না যে, সেই ঈশ্বরকে প্রণাম করে, যিনি স্বর্গের ও মর্তের গুপ্ত বিষয় বাহির করেন, এবং তোমরা যাহা গুপ্ত রাখ ও যাহা প্রকাশ করিয়া থাক তাহা জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ২৭⇒ সেই ঈশ্বর তিনি ভিন্ন উপাস্য নাই, তিনি মহা সিংহাসনের অধিপতি”।

আয়াতঃ ২৮⇒ সে (সোলয়মান) বলিল, “আমি এক্ষন দেখিব যে, তুমি সত্য বলিয়াছ, না তুমি মিথ্যাবাদীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ২৯⇒ তুমি আমার এই পত্র লইয়া যাও, পরে দেখ তাহারা কি উত্তর দান করে”।

আয়াতঃ ৩০⇒ সে (বলকিস) বলিল, “হে সম্ভ্রান্ত পুরুষগণ, নিশ্চয় আমার প্রতি এক মাননীয় পত্র নিক্ষিপ্ত হইয়াছে, একান্তই ইহা সোলয়মানের, নিশ্চয় ইহা ‘বেসমোল্লা আর রহমান আর রহিম’ (বচন) যুক্ত”।

আয়াতঃ ৩১⇒ এই মর্ম যে, আমার সম্বন্ধে তোমরা গর্ব করিও না, এবং মোসলমান (বিশ্বাসী) হইয়া আমার নিকটে উপস্থিত হও”।

আয়াতঃ ৩২⇒ সে বলিল, “হে প্রধান পুরুষগণ, আমার কার্যবিষয়ে আমাকে উত্তর দান কর, যে পর্যন্ত (না) তোমরা আমার নিকটে উপস্থিত হও আমি কোন কার্য নিষ্পত্তি করি না”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহারা বলিল, “আমরা শক্তিশালী ও কঠিন যোদ্ধা, কার্য তোমার প্রতি (অর্পিত), অনন্তর দেখ যে, কি আজ্ঞা কর”।

আয়াতঃ ৩৪⇒ সে বলিল, “নিশ্চয় যখন রাজাগণ কোন স্থানে উপস্থিত হয়, তখন তাহা উচ্ছিন্ন করে, এবং তাহার সম্মানিত নিবাসিগণকে দুর্দশাপন্ন করিয়া থাকে ও তাহারা এই প্রকারই করে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং নিশ্চয় আমি তাহাদের নিকটে উপঢৌকনসহ দূতের প্রেয়য়িত্রী, অনন্তর দূতগণ কি লইয়া ফিরিয়া আইসে তাহার দৃষ্টিকারিণী”।

আয়াতঃ ৩৬⇒ পরে যখন দূত সোলয়মানের নিকটে উপস্থিত হইল, তখন (সোলয়মান) বলিল, “ধন দ্বারা তোমরা কি আমার সাহায্য করিতেছ? ঈশ্বর যাহা তোমাদিগকে দান করিয়াছেন তদপেক্ষা আমাকে অধিক দিয়াছেন, বরং তোমরা আপন উপঢৌকনে সন্তুষ্ট থাক।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তুমি তাহাদের নিকটে যাও, যাহার সম্মুখীন হওয়া তাহাদের ঘটিবে না, নিশ্চয় আমি সেই সৈন্যবৃন্দ তাহাদের উপর আনয়ন করিব, আমরা তথা হইতে তাহাদিগকে দুর্দশাপন্নরুপে বাহির করিব, এবং তাহারা অধম হইবে”।

আয়াতঃ ৩৮⇒ সে (সোলয়মান) বলিল, “হে প্রধান পুরুশগণ, তাহারা মোসলমান হইয়া আমার নিকটে আসিবার পূর্বে তোমাদের কে তাহার সিংহাসন আমার সন্নিধানে আনয়ন করিবে”?

আয়াতঃ ৩৯⇒ দৈত্যদিগের এক দৈত্য বলিল, “তোমরা আপন স্থান হইতে উঠিবার পূর্বে আমি তাহা তোমার নিকটে আনয়ন করিব, নিশ্চয় আমি তৎসম্বন্ধে বিশ্বস্ত ক্ষমতাশীল”।

আয়াতঃ ৪০⇒ যাহার গ্রন্থে জ্ঞান ছিল এমন এক ব্যক্তি বলিল, “তোমার দৃষ্টি তোমার দিকে ফিরিয়া আসিবার পূর্বে আমি তাহা তোমার নিকটে লইয়া আসিব,” অনন্তর যখন সে (সোলয়মান) আপনার নিকটে তাহাকে স্থীর দেখিল, তখন বলিল, “ইহা আমার প্রতিপালকের দয়াতেই হয় যে, আমাকে তিনি পরীক্ষা করিতেছেন, কৃতজ্ঞ না কৃতঘ্ন হই, এবং যে ব্যক্তি কৃতঘ্ন হয় তবে নিশ্চয় আমার প্রতিপালক নিষ্কাম অনুগ্রহকারী”।

আয়াতঃ ৪১⇒ সে বলিল, তাহার (বলকিসের) জন্য তাহার সিংহাসনকে অপরিচিত কর, দেখি সে পথ প্রাপ্ত হয় কি-না, অথবা যাহারা পথ প্রাপ্ত হয় না, সে তাহাদের অন্তর্গত হয়।

আয়াতঃ ৪২⇒ অনন্তর যখন (বলকিস) আগমন করিল, তখন বলা হইল, “এইরুপ তোমার সিংহাসন”? সে বলিল, “যেন এ তাহাই, এবং আমাদিগকে ইহার পূর্বেই (সোলয়মানের সম্বন্ধে) জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে ও আমরা মোসলমান আছি”।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং ঈশ্বরকে ছাড়িয়া সে যাহার অর্চনা করিতেছিল তাহা হইতে (সোলয়মান) তাহাকে নিবৃত্ত করিল, নিশ্চয় সে ধর্মদ্বেষীদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ৪৪⇒ তাহাকে বলা হইল, “এ প্রাসাদে তুমি প্রবেশ কর”, অনন্তর যখন সে তাহা দেখিল তাহাকে ক্ষুদ্র সরোবর মনে করিল, এবং আপন পদদ্বয় হইতে বস্ত্র তুলিয়া লইল, (সোলয়মান) বলিল, “নিশ্চয় ইহা কাচখচিত প্রাসাদ;” সে (বলকিস) বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, একান্তই আমি নিজের প্রতি অত্যাচার করিয়াছি, এবং আমি সোলয়মানের সঙ্গে বিশ্বপালক পরমেশ্বরের অনুগত হইলাম।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি সমুদ জাতির প্রতি তাহাদের ভ্রাতা সালেহকে প্রেরণ করিয়াছিলাম, বলিয়াছিলাম যে, তোমরা ঈশ্বরকে অর্চনা কর, অনন্তর হঠাত তাহারা দুই দল হইয়া পরস্পর বিবাদ করিতে লাগিল।

আয়াতঃ ৪৬⇒ সে বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, কেন কল্যাণের পূর্বে তোমরা অকল্যাণে সত্বর হইতেছ? কেন ঈশ্বরের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না? সম্ভবতঃ তোমরা দয়া প্রাপ্ত হইবে”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ তাহারা বলিল, আমরা তোমার ও তোমার সঙ্গীদিগের সম্বন্ধে মন্দভাব ধারন করিয়াছি,” সে বলিল, “তোমাদের মন্দভাব ঈশ্বরের সম্বন্ধে হয়, বরং তোমরা এমন এক দল হও যে, পরীক্ষিত হইতেছ”।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং সেই নগরে নয় জন লোক ছিল যে, পৃথিবীতে উৎপাত করিত ও সদাচরণ করিত না।

আয়াতঃ ৪৯⇒ তাহারা পরস্পর ঈশ্বরের নামে শপথ করিয়া বলিল যে, “অবশ্য আমরা তাহাকে ও তাহার পরিজনকে নিশায় আক্রমণ করিয়া বিনাশ করিব, তৎপর অবশ্য তাহার উত্তরাধিকারীকে বলিব যে, তাহার স্বগণের হত্যার সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম না, এবং নিশ্চয় আমরা সত্যবাদী”।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং তাহারা প্রবঞ্চনারুপে এক প্রবঞ্চনা করিল ও আমিও বঞ্চনারুপে বঞ্চনা করিলাম, এবং তাহারা বুঝিতেছিল না।

আয়াতঃ ৫১⇒ অনন্তর দেখ তাহার প্রবঞ্চনার পরিণাম কেমন ছিল, নিশ্চয় আমি তাহাদিগকে ও তাহাদের দলকে একযোগে সংহার করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৫২⇒ পরিশেষে তাহারা যে অত্যাচার করিয়াছিল তজ্জন্য এই তাহাদের গৃহ সকল শূন্য পড়িয়া রহিয়াছে, যে সকল লোক জ্ঞান রাখে তাহাদের জন্য নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন আছে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল আমি তাহাদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলাম ও তাহারা ধর্মভীরু ছিল।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং লুতকে (পাঠাইয়াছিলাম) (স্মরণ কর) সে যখন আপন দলকে বলিল, “তোমরা কি নির্লজ্জ কার্য করিতেছ ও তোমরা দেখিতেছ?

আয়াতঃ ৫৫⇒ তোমরা কি স্ত্রীগণকে ছাড়িয়া কামভাবে পুরুষের নিকটে আসিয়া থাক বরং তোমরা (এমন) এক দল যে মূর্খতা করিতেছ”।

আয়াতঃ ৫৬⇒ “অনন্তর লুতের পরিবারকে আপনাদের গ্রাম হইতে বহিষ্কৃত কর, নিশ্চয় তাহারা এরুপ লোক যে পবিত্রতা প্রকাশ করে;” পরস্পর ইহা বলা ভিন্ন তাহার দলের অন্য উত্তর ছিল না।

আয়াতঃ ৫৭⇒ অবশেষে আমি তাহাকে ও তাহার ভার্যা ব্যতীত তাহার পরিজনকে উদ্ধার করিলাম, তাহাকে (ভার্যাকে) পশ্চাদ্বর্তীগণের মধ্যে নিরূপণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং তাহাদের প্রতি আমি বৃষ্টি বর্ষণ করিলাম, পরে ভয়প্রাপ্ত লোকদিগের জন্য (উহা) কুবৃষ্টি হয়।

আয়াতঃ ৫৯⇒ তুমি বল, “ঈশ্বরের সম্যক প্রশংসা, এবং যাহারা গৃহীত হইয়াছে তাঁহার সেই দাসদিগের প্রতি আশীর্বাদ, ঈশ্বর কি শ্রেষ্ঠ? না তাহারা যাহাকে অংশী করে তাহা (শ্রেষ্ঠ)?

আয়াতঃ ৬০⇒ কে দ্যুলোক ও ভূলোক সৃজন করিয়াছেন, এবং তোমাদের জন্য আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়াছেন? অনন্তর আমি তদ্দারা উদ্যান সকলকে সরসভাবে উৎপাদন করিয়াছি, তোমাদের (ক্ষমতা) নাই যে, তোমরা তাহার বৃক্ষকে সমুৎপাদন কর, সেই ঈশ্বরের সঙ্গে কি কোন উপাস্য আছে? বরং ইহারা এক দল যে, বক্রভাবে চলিতে থাকে।

আয়াতঃ ৬১⇒ কে ধরাতলকে স্থীর রাখিয়াছেন ও তাহার ভিতর হইতে নির্ঝর সকল উৎপাদন করিয়াছেন? এবং তাহার জন্য পর্বত সকল সৃষ্টি করিয়াছেন ও দুই সাগরের মধ্যে আবরণ রাখিয়াছেন? সেই ঈশ্বরের সঙ্গে কি (অন্য) উপাস্য আছে? বরং তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৬২⇒ ব্যাকুল ব্যক্তি যখন তাঁহাকে প্রার্থনা করে কে গ্রাহ্য করিয়া থাকেন, এবং অকল্যাণ দূর করেন ও তোমাদিগকে পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী করেন? সেই ঈশ্বরের সঙ্গে কি (অন্য) উপাস্য আছে? তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করিয়া থাক।

আয়াতঃ ৬৩⇒ কে তিমিরাচ্ছন্ন প্রান্তরে ও সাগরে তোমাদিগকে পথ প্রদর্শন করেন, এবং (বৃষ্টিরুপ) আপন অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদরুপে সমীরণ সকলকে প্রেরণ করিয়া থাকেন? সেই ঈশ্বরের সঙ্গে কি (অন্য) উপাস্য আছে? তাহারা যাহাদিগকে অংশী করে পরমেশ্বর তাহা অপেক্ষা উন্নত।

আয়াতঃ ৬৪⇒ কে প্রথম সৃষ্টি করেন, তৎপর তাহা দ্বিতীয় বার করেন, এবং কে আকাশ ও ভূতল হইতে তোমাদিগকে উপজীবিকা দিয়া থাকেন, সেই ঈশ্বরের সঙ্গে কি (অন্য) উপাস্য আছে? তুমি বল (হে মোহম্মদ) যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তুমি বল, স্বর্গে ও পৃথিবীতে ঈশ্বর ব্যতীত কেহ গুপ্ততত্ত্ব জানে না, এবং কখন (কবর হইতে লোক) সমুত্থাপিত হইবে জ্ঞাত নহে।

আয়াতঃ ৬৬⇒ বরং পরলোক সম্বন্ধে তাহাদের জ্ঞান বিভিন্ন হইয়াছে, বরং তাহারা তদ্বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে আছে, বরং তাহারা তদ্বিষয়ে অন্ধ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং ধর্মদ্রোহীগণ বলিয়াছে, “যখন আমাদের পিতৃপুরুষগণ ও আমরা মৃত্তিকা হইয়া যাইব, তখন কি আমরা (কবর হইতে) বহিষ্কৃত হইব?

আয়াতঃ ৬৮⇒ সত্যসত্যই আমাদিগের প্রতি ও ইতিপূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষগণের প্রতি এই অঙ্গীকার করা হইয়াছে, ইহা পূর্বতন উপন্যাসাবলী ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ৬৯⇒ তুমি বল, “তোমরা পৃথিবীতে বিচরণ করিতে থাক, অনন্তর দেখ অপরাধীদিগের পরিণাম কেমন হয়”।

আয়াতঃ ৭০⇒ তাহাদের সম্বন্ধে তুমি শোক করিও না ও তাহারা যে প্রবঞ্চনা করিয়া থাকে তাহাতে ক্ষুন্ন থাকিও না।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং তাহারা বলিয়া থাকে, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে (বল) কবে এই অঙ্গীকার (পূর্ণ) হইবে”?

আয়াতঃ ৭২⇒ তুমি বলিও, “তোমরা যাহা শীঘ্র চাহিতেছ তাহার কিছু সত্বরই তোমাদের পৃষ্ঠে সংলগ্ন হইবে”।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) মানবমণ্ডলীর প্রতি বদান্য, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞ হইতেছে না।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা আপন অন্তরে যাহা গোপনে করে ও যাহা প্রকাশ করিয়া থাকে তোমার প্রতিপালক জ্ঞাত হন।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং উজ্জ্বল গ্রন্থে লিখিত ভিন্ন স্বর্গে ও পৃথিবীতে কোন বিষয় প্রচ্ছন্ন নাই।

আয়াতঃ ৭৬⇒ নিশ্চয় এই কোরআন বনি-এস্রায়েলের নিকটে তাহারা যে বিষয়ে বিরোধ করিয়া থাকে তাহার অধিকাংশ বর্ণন করে।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং নিশ্চয় ইহা বিশ্বাসীদিগের জন্য উপদেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ।

আয়াতঃ ৭৮⇒ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক আপন আজ্ঞানুসারে তাহাদের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবেন, এবং তিনি পরাক্রমশালী জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর তুমি পরমেশ্বরের প্রতি নির্ভর কর, নিশ্চয় তুমি স্পষ্ট সত্য (ধর্মে) আছ।

আয়াতঃ ৮০⇒ যখন তাহারা পৃষ্ঠ দিয়া ফিরিয়া যায়, তখন নিশ্চয় তুমি সেই মৃতকে আহ্বান ধ্বনি শুনাইতে পারিবে না ও বধিরকে শুনাইতে পারিবে না।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং তুমি অন্ধদিগের তাহাদের পথভ্রান্তির পথপ্রদর্শক নও, যাহারা আপন নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস করিতেছে তুমি তাহাদিগকে বৈ শুনাইতেছ না, অনন্তর তাহারা মোসলমান।

আয়াতঃ ৮২⇒ যখন তাহাদের প্রতি (শাস্তির) কথা উপস্থিত হইবে, তখন আমি তাহাদের জন্য এক পশু ভূগর্ভ হইতে বাহির করিব, সে তাহাদের সম্বন্ধে কথা কহিবে যে, এই সকল লোক ছিল যে, আমার নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে নাই।

আয়াতঃ ৮৩⇒ অনন্তর যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি অসত্যারোপ করিতেছিল, যেদিন আমি প্রত্যেক মণ্ডলী হইতে (তাহাদের প্রধান লোকের) দল সমুত্থাপন করিব, তখন তাহারা (সকলের আগমন প্রতীক্ষায়) একত্রীভূত থাকিবে।

আয়াতঃ ৮৪⇒ এ পর্যন্ত যখন তাহারা উপস্থিত হইবে, তখন (ঈশ্বর) বলিবেন, “তোমরা কি আমার নিদর্শন সকলকে মিথ্যা বলিয়াছ, এবং জ্ঞানযোগে তাহা ধারন করিতে পার নাই, তোমরা কি করিতেছিলে”?

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং তাহারা যে অত্যাচার করিয়াছিল,  তজ্জন্য তাহাদের প্রতি (অঙ্গীকারের) উক্তি প্রমানিত হইবে, অনন্তর তাহারা কথা কহিতে পারিবে না।

আয়াতঃ ৮৬⇒ তাহারা কি দেখে নাই যে, আমি রজনীকে সৃষ্টি করিয়াছি যেন তাহাতে বিশ্রাম লাভ করে, এবং আলোকযুক্ত দিবসকে (সৃষ্টি করিয়াছি) নিশ্চয় বিশ্বাসী দলের জন্য ইহার মধ্যে নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং যে দিবস সুরে ফুঁৎকার করা হইবে, তখন যাহারা  স্বর্গে ও পৃথিবীতে থাকিবে, ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করিয়াছেন সে ব্যতীত (সকলে) অস্থির হইবে, এবং সকলেই তাঁহার নিকটে লাঞ্ছিতভাবে আগমন করিবে।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং তুমি পর্বত সকলকে দেখিবে, যেন তাহা স্থীর আছে মনে করিবে, বস্তুতঃ জলদগতিতে চলিতেছে, সেই ঈশ্বরেরই শিল্পনৈপুন্য, যিনি প্রত্যেক পদার্থকে দৃঢ় করিয়াছেন, তোমরা যাহা করিয়া থাক, নিশ্চয় তিনি তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৮৯⇒ যাহারা কল্যাণ আনয়ন করিবে, অনন্তর তাহাদের জন্য তদপেক্ষা (অধিক) কল্যাণ হইবে, এবং তাহারা সেই দিবসের ভয় হইতে নিরাপদ থাকিবে।

আয়াতঃ ৯০⇒ এবং যাহারা অশুভ আনয়ন করিবে, অনন্তর তাহাদের মুখ মণ্ডল অগ্নিমধ্যে বিসর্জিত হইবে, তোমরা যাহা করিতেছিলে তাহা ব্যতীত কি তোমাদিগকে কি বিনিময় প্রদত্ত হইবে?

আয়াতঃ ৯১⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, এ নগরের প্রভুকে যিনি ইহাকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন, অর্চনা করিব এতদ্ভিন্ন নহে এবং সমুদায় পদার্থ তাঁহারই ও আমি আদিষ্ট হইয়াছি যে, মোসলমানদিগের অন্তর্গত হইব।

আয়াতঃ ৯২⇒ এবং (আদিষ্ট হইয়াছি) যে, কোরআন পাঠ করিব, অনন্তর যে ব্যক্তি পথ প্রাপ্ত হইয়াছে, সে আপন জীবনের (কল্যাণের) জন্য পথ পাইতেছে বৈ নহে, এবং যে বিপথগামী হইয়াছে, পরে (তাহাকে) তুমি বল যে, “আমি ভয় প্রদর্শকদিগের অন্তর্গত এতদ্ভিন্ন নহি।

আয়াতঃ ৯৩⇒ এবং তুমি বল, ঈশ্বরেরই সম্যক গুণানুবাদ, অবশ্য তিনি তোমাদিগকে আপন নিদর্শন  সকল প্রদর্শন করিবেন, অনন্তর তোমরা তাহা চিনিবে, এবং তোমরা যাহা করিতেছ ঈশ্বর তদ্বিষয়ে অজ্ঞাত নহেন।