সূরাঃ নজ্বম

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ নক্ষত্রের শপথ, যখন পতিত হয়।

আয়াতঃ ০২⇒ তোমাদের সহচর (মোহম্মদ) বিপথগামী হয় নাই, এবং পথ হারায় নাই।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং সে প্রবৃত্তি অনুসারে কথা কহে না।

আয়াতঃ ০৪⇒ (তাহার প্রতি) যাহা প্রেরিত হয় তাহা প্রত্যাদেশ ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ দৃঢ়শক্তি বলবান (জ্বেব্রিল) তাহাকে শিক্ষা দিয়াছে, পরে সে (জ্বেব্রিল) দন্ডায়মান হইয়াছিল।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং সে উন্নত গগনপ্রান্তে ছিল।

আয়াতঃ ০৮⇒ তৎপর নিকটে আসিল, পরে নামিয়া আসিল।

আয়াতঃ ০৯⇒ অনন্তর দুই ধনু পরিমাণ অথবা তদপেক্ষা নিকটতর হইল।

আয়াতঃ ১০⇒ পরে তাঁহার দাসের প্রতি তিনি যে প্রত্যাদেশ করিয়াছেন, সে (জ্বেব্রিল) সেই প্রত্যাদেশ পহুঁছাইল।

আয়াতঃ ১১⇒ (প্রেরিতপুরুষের) অন্তর যাহা দর্শন করিল তাহা মিথ্যা গণ্য করিল না।

আয়াতঃ ১২⇒ অনন্তর তোমরা কি (হে লোক সকল) সে যাহা দেখিয়াছে তৎসম্বন্ধে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিতেছ?

আয়াতঃ ১৩+১৪+১৫⇒ এবং সত্যসত্যই সে তাহাকে দ্বিতীয় বার সেদরতোল মন্তহার নিকটে দেখিয়াছিল, যাহার নিকটে আশ্রয়ভূমি স্বর্গোদ্যান।

আয়াতঃ ১৬+১৭⇒ যখন সেদরাকে যে কিছু আচ্ছাদন করিল সেই আচ্ছাদন ছিল তখন (প্রেরিতপুরুষের) দৃষ্টি বক্র হইল না, এবং (লক্ষ্যকে) অতিক্রম করিল না।

আয়াতঃ ১৮⇒ সত্যসত্যই সে আপন প্রতিপালকের কোন মহা নিদর্শন দেখিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৯+২০⇒ অনন্তর তোমরা কি লাত ও ঘোররা এবং অপর তৃতীয় মনাতকে দেখিয়াছ?

আয়াতঃ ২১⇒ তোমাদের জন্য কি পুত্র ও তাঁহার জন্য কন্যা হয়?

আয়াতঃ ২২⇒ এই বিভাগ সেই সময় অনুচিত হয়।

আয়াতঃ ২৩⇒ ইহা সেই কতক নাম ভিন্ন নহে, তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষগণ যে নামকরণ করিয়াছে, পরমেশ্বর এতৎসম্বন্ধে কোন প্রমাণ ও প্রেরণ করেন নাই; তাহারা কল্পনা ও তাহাদের মন যাহা ইচ্ছা করে তাহার অনুসরণ ভিন্ন করিতেছ না, এবং সত্যসত্যই তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রতিপালক হইতে ধর্মালোক উপস্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ২৪⇒ মানুষের জন্য কি সে যাহা ইচ্ছা করে তাহাই হয়?

আয়াতঃ ২৫⇒ অনন্তর ঈশ্বরেরই ইহলোক ও পরলোক।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং অনুমতি প্রদানের পর যাহার প্রতি পরমেশ্বর ইচ্ছা করেন ও সম্মত হন সে ব্যতীত (অন্যের) ও স্বর্গে অনেক দেবতা আছে যে, তাহাদের শফাঅতে কোন ফল বিধান করে না।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় যাহারা পরলোক বিশ্বাস করে না তাহারা দেবতাদিগকে কন্যার নামে নামকরণ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তৎসম্বন্ধে তাহাদের কোন জ্ঞান নাই, তাহারা কল্পনাকে ভিন্ন অনুসরণ করিতেছে না, এবং নিশ্চয় কল্পনা সত্য সম্বন্ধে কিছুই ফল বিধান করে না।

আয়াতঃ ২৯⇒ অনন্তর যে আমার প্রসঙ্গ হইতে মুখ ফিরাইয়াছে, এবং পার্থিব জীবন ভিন্ন আকাঙ্ক্ষা করে নাই, তাহা হইতে তুমি (হে মোহম্মদ) বিমুখ হও।

আয়াতঃ ৩০⇒ জ্ঞান স্মবন্ধে ইহাই তাহাদের সীমা, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, যে ব্যক্তি তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত হইয়াছে তাহাকে উত্তম জানেন, এবং যে ব্যক্তি পথ প্রাপ্ত হইয়াছে তাহাকে তিনি উত্তম জানেন।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং স্বর্গলোকে যে কিছু আছে ও ভূলোকে যে কিছু আছে তাহা ঈশ্বরেরই, যাহারা দুষ্কর্ম করিয়াছে, যেরুপ কার্য করিয়াছে তদনুরুপ তিনি তাহাদিগকে বিনিময় দান করিবেন এবং যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে ও তাহাদিগকে শুভ বিনিময় দান করিবেন।

আয়াতঃ ৩২⇒ যাহারা সামান্য পাপ ভিন্ন মহা পাপ ও দুশ্চরিত্রতা হইতে নিবৃত্ত হইয়াছে (তাহারাই সৎকর্মশীল) নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক প্রচুর ক্ষমাশীল; তিনি তোমাদিগকে উত্তম জানেন, যখন তিনি তোমাদিগকে মৃত্তিকা হইতে সৃজন করিয়াছেন ও যখন তোমরা আপন মাতৃগর্ভে ভ্রুনরুপে ছিলে, তখন তোমরা আপনাদের জীবনকে নির্বিকার বলিও না, যে ব্যক্তি বৈরাগ্যাবলম্বন করিয়াছে তিনি তাহাকে উত্তম জানেন।

আয়াতঃ ৩৩+৩৪⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি ফিরিয়া গিয়াছে ও অল্প দান করিয়াছে, এবং কৃপণ হইয়াছে তুমি কি (হে মোহম্মদ) তাহাকে দেখিয়াছ?

আয়াতঃ ৩৫⇒ তাহার নিকটে কি গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞান আছে, অনন্তর সে (সমুদায়) দেখিতেছে?

আয়াতঃ ৩৬+৩৭⇒ মুসার ও যে (প্রতিজ্ঞা) পূর্ণ করিয়াছে সেই এব্রাহিমের পুস্তিকা সকলে যাহা আছে তাহার সংবাদ কি প্রদত্ত হয় নাই?

আয়াতঃ ৩৮⇒ এই যে কোন ভারবাহী অন্যের ভার উত্তোলন করে না।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং এই যে যাহা চেষ্টা করে তদ্ভিন্ন মনুষ্যের জন্য নহে।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং সে আপন চেষ্টাকে (চেষ্টার ফলকে) অবশ্য (কেয়ামতে) দেখিবে।

আয়াতঃ ৪১⇒ তৎপর তাহাকে পূর্ণ বিনিময় প্রদত্ত হইবে।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং এই যে তোমার প্রতিপালকের দিকে সীমা।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং এই যে তিনি হাসান ও কাঁদান।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এই যে তিনি মারেন ও বাঁচান।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ এবং এই যে তিনি দ্বিবিধ পুরুষ ও নারী (জরায়ুতে) নিক্ষিপ্ত শুক্র দ্বারা সৃজন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং এই যে তাঁহার দিকেই দ্বিতীয় বার উৎপত্তি।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং এই যে তিনিই ধনী করেন ও মূলধন প্রদান করেন।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং এই যে তিনিই শেওরা নক্ষত্রের সৃষ্টিকর্তা।

আয়াতঃ ৫০+৫১⇒ এবং এই যে তিনি প্রথমে আদ ও সমুদজাতিকে সংহার করিয়াছেন, অনন্তর অবশিষ্ট রাখেন নাই।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং পূর্বে তিনি নুহীয় সম্প্রদায়কে (সংহার করিয়াছেন) নিশ্চয় তাহারা সমধিক অত্যাচারী ও সমধিক সীমালঙ্ঘনকারী ছিল।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং (জেব্রিল) মওতফেক্কা নগরকে ভূতলশায়ী করিয়াছিল।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অনন্তর তাহাকে যাহা আচ্ছাদনে আচ্ছাদন করিয়াছিল।

আয়াতঃ ৫৫⇒ অনন্তর তোমার প্রতিপালকের কোন সম্পদে তুমি (হে মনুষ্য) সন্দেহ করিতেছ?

আয়াতঃ ৫৬⇒ এই (প্রেরিতপুরুষ) পূর্বতন ভয়প্রদর্শক শ্রেণীর ভয়প্রদর্শক।

আয়াতঃ ৫৭⇒ নিকটে আগমনকারী (কেয়ামত) নিকটস্থ হইয়াছে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ পরমেশ্বর ব্যতীত তাহার প্রকাশক নাই।

আয়াতঃ ৫৯⇒ অনন্তর তোমরা কি এই কথায় বিস্মিত হইতেছ?

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং হাস্য করিতেছ ও রোদন করিতেছ না?

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং তোমরা আমোদ করিতেছ।

আয়াতঃ ৬২⇒ অনন্তর ঈশ্বরকে তোমরা প্রণাম কর ও তাঁহাকে অর্চনা করিতে থাক।