সূরাঃ দোখান

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম

আয়াতঃ ০২⇒ দীপ্যমান গ্রন্থের শপথ।

আয়াতঃ ০৩⇒ নিশ্চয় আমি তাহাকে শুভরজনীতে অবতারণ করিয়াছি, নিশ্চয় আমি ভয়প্রদর্শক ছিলাম।

আয়াতঃ ০৪⇒ তাহাতে (সেই রাত্রিতে) প্রত্যেক দৃঢ় কার্য নিষ্পত্তি করা হয়।

আয়াতঃ ০৫⇒ আমি আপন সন্নিধান হইতে (সেই রজনীতে) আদেশ (অবতারণ করিয়াছি) নিশ্চয় আমি (তোমার) প্রেরক হই।

আয়াতঃ ০৬⇒ তোমার প্রতিপালকের দয়াবশতঃ (তাহা অবতারিত হইয়াছে) নিশ্চয় তিনি শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০৭⇒ যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে (জানিও) তিনি স্বর্গ-মর্তের ও উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে, তাহার প্রতিপালক।

আয়াতঃ ০৮⇒ তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই তিনিই বাঁচান ও মারেন, তিনি তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদিগের প্রতিপালক।

আয়াতঃ ০৯⇒ বরং তাহারা সন্দেহের মধ্যে ক্রীড়া করিতেছে।

আয়াতঃ ১০+১১⇒ অনন্তর যে দিবস আকাশ স্পষ্ট ধূম আনয়ন করিবে, মানবমণ্ডলীকে আবৃত করিবে, তুমি তাহার পরীক্ষা করিতে থাক, উহাই দুঃখজনক শাস্তি।

আয়াতঃ ১২⇒ (তাহারা বলিবে) “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদিগ হইতে শাস্তি উন্মোচন কর, নিশ্চয় আমরা বিশ্বাসী হই”।

আয়াতঃ ১৩⇒ তাহাদের উপদেশ গ্রহণ কিরুপ? এবং সত্যই তাহাদের নিকটে দীপ্যমান প্রেরিতপুরুষ আসিয়াছিল।

আয়াতঃ ১৪⇒ তৎপর তাহা হইতে তাহারা মুখ ফিরাইল, এবং বলিল, “সে শিক্ষিত ক্ষিপ্ত”।

আয়াতঃ ১৫+১৬⇒ নিশ্চয় আমি অল্প শাস্তির উন্মোচনকারী হই, নিশ্চয় তোমরা (ধর্মদ্রোহীতায়) প্রত্যাবর্তনকারী হও।

আয়াতঃ ১৭⇒ যে দিবস আমি মহা আক্রমণে আক্রমণ করিব, নিশ্চয় তখন আমি প্রতিশোধকারী হইব।

আয়াতঃ ১৮+১৯⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাদের পূর্বে ফেরওনের দলকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম, এবং তাহাদের নিকটে গৌরবান্বিত প্রেরিতপুরুষ আসিয়া এইরুপ বলিয়াছিল যে, “ঈশ্বরের দাসদিগকে তোমরা আমার প্রতি অর্পণ কর, নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত প্রেরিতপুরুষ।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং ঈশ্বরের সম্বন্ধে ঔদ্ধত্য করিও না, নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকটে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করিব।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তোমরা যে আমাকে চূর্ণ করিবে (তজ্জন্য) নিশ্চয় আমি স্বীয় প্রতিপালকের ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যদি আমাকে তোমরা বিশ্বাস না কর আমা হইতে সরিয়া যাও”।

আয়াতঃ ২৩⇒ পরে সে স্বীয় প্রতিপালকের নিকটে প্রার্থনা করিয়া বলিল যে, “ইহারা অপরাধী দল”।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর (আমি বলিলাম) “আমার দাসগণসহ তুমি রাত্রিতে চলিয়া যাও, নিশ্চয় তোমরা অনুসৃত হইবে।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং সুখে সাগর সমুত্তীর্ণ হও, নিশ্চয় তাহারা এমন এক সৈন্যদল যে নিমগ্ন হইবে।

আয়াতঃ ২৬+২৭⇒ তাহারা বহু উপবন ও প্রস্রবন এবং শস্যক্ষেত ও ধন-সম্পত্তি ও উৎকৃষ্ট গৃহনিচয় যথায় তাহারা আমোদ করিতেছিল পরিত্যাগ করিল।

আয়াতঃ ২৮⇒ এইরুপে আমি অন্য দলকে (বনি-এস্রায়িলকে) তাহার উত্তরাধিকারী করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ২৯⇒ অনন্তর তাহাদের প্রতি স্বর্গ ও পৃথিবী রোদন করে নাই, এবং তাহারা অবকাশ প্রাপ্ত হয় নাই।

আয়াতঃ ৩০+৩১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি এস্রায়িল বংশকে ফেরওনের দুর্গতিজনক শাস্তি হইতে উদ্ধার করিয়াছি, নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারীদিগের মধ্যে উদ্ধত ছিল।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং সত্যসত্যই আমি জ্ঞানেতে তাহাদিগকে নিখিল জগতের উপর স্বীকার করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তাহাদিগকে কতক নিদর্শন দান করিয়াছি, তন্মধ্যে যাহা স্পষ্ট পরীক্ষা ছিল (দিয়াছি)।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় ইহারা বলিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ “আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত ইহা (পরিণাম) নহে, এবং আমরা পুনরুত্থানকারী নহি।

আয়াতঃ ৩৬⇒ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে আনয়ন কর”।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহারা (কোরেশগণ) কি শ্রেষ্ঠ, না তোব্বায় সম্প্রদায় ও যাহারা তাহাদের পূর্বে ছিল তাহারা? তাহাদিগকে আমি ধ্বংস করিয়াছি, নিশ্চয় তাহারা অপরাধী ছিল।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং আমি স্বর্গ ও মর্ত উভয়ের মধ্যে যাহা কিছু আছে ক্রীড়াচ্ছলে সৃজন করি নাই।

আয়াতঃ ৩৯⇒ সত্যভাবে ব্যতীত আমি উভয়কে সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৪০⇒ নিশ্চয় সেই বিচারের দিন তাহাদের একত্র হওয়ার সময়।

আয়াতঃ ৪১+৪২⇒ যে দিন কোন বন্ধু বন্ধু হইতে কিছু ফল লাভ করিবে না, এবং যাহাকে ঈশ্বর অনুগ্রহ করিয়াছেন সে ব্যতীত তাঁহার সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না, নিশ্চয় তিনি সেই পরাক্রান্ত দয়ালু।

আয়াতঃ ৪৩⇒ নিশ্চয় জকুমতরু।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অপরাধীদিগের খাদ্য।

আয়াতঃ ৪৫+৪৬⇒ তাহা উদরে দ্রবীভূত তাম্রের ন্যায় ও উষ্ণোদকের ন্যায় উচ্ছসিত হইবে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ (আমি স্বর্গীয় দূতদিগকে বলিব) “তাহাকে ধর, পরে নরকের ভিতরের দিকে আকর্ষণ কর।

আয়াতঃ ৪৮⇒ তৎপর তাহার মস্তকের উপর উষ্ণোদকের শাস্তি সিঞ্চন কর।

আয়াতঃ ৪৯⇒ (বলিব) আস্বাদন কর, নিশ্চয় তুমি (স্বীয় কল্পনায়) পরাক্রান্ত গৌরবান্বিত।

আয়াতঃ ৫০⇒ নিশ্চয় যাহার প্রতি তুমি সন্দেহ করিতেছিলে এই তাহা।

আয়াতঃ ৫১+৫২⇒ নিশ্চয় ধার্মিক লোকেরা নিরাপদ স্থানে, উদ্যানে ও প্রস্রবন সকলের মধ্যে থাকিবে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ পরস্পর সম্মুখীন হইয়া সন্দোস ও আস্তরক (উৎকৃষ্ট কৌষেয় বস্ত্রবিশেষ) পরিধান করিবে।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এইরুপ হইবে, এবং আমি তাহাদিগকে সুলোচনা (দিব্যাঙ্গনার) সঙ্গে বিবাহিত করিব।

আয়াতঃ ৫৫⇒ তথায় নিরাপদে তাহারা প্রত্যেক ফলের প্রার্থী হইবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ প্রথম মৃত্যু ভিন্ন তথায় তাহারা মৃত্যু আস্বাদন করিবে না, এবং তিনি তাহাদিগকে নরকদন্ড হইতে রক্ষা করিবেন।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তোমার প্রতিপালকের কৃপানুসারে ইহা সেই মহা কৃতার্থতা।

আয়াতঃ ৫৮⇒ অনন্তর তোমার রসনাযোগে আমি তাহাকে (কোরআনকে) সহজ করিয়াছি এতদ্ভিন্ন নহে, সম্ভবতঃ তাহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে। আয়াতঃ ৫৯⇒ অবশেষে তুমি প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় তাহারও প্রতীক্ষাকারী।