সূরাঃ দহর

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ কালের মধ্যে কি এমন কোন এক সময় মনুষ্যের প্রতি উপস্থিত হইয়াছিল যে, কোন বস্তু উল্লিখিত হয় নাই?

আয়াতঃ ০২⇒ নিশ্চয় আমি মনুষ্যকে মিশ্রিত (স্ত্রী-পুরুষের) শুক্রযোগে সৃষ্টি করিয়াছি যেন তাহাকে পরীক্ষা করি, পরে তাহাকে শ্রোতা ও দ্রষ্টা করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৩⇒ নিশ্চয় আমি তাহাকে পথ প্রদর্শন করিয়াছি, সে হয় কৃতজ্ঞ অথবা কৃতঘ্ন হইতেছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় আমি ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য গলবন্ধন ও শৃঙ্খলপুঞ্জ এবং প্রজ্বলিত বহ্নি প্রস্তুত রাখিয়াছি।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ নিশ্চয় সাধুলোকেরা (পরলোকে) সেই পানপাত্র হইতে পান করিবে, যাহা কর্পূর প্রস্রবণের মিশ্রন হয়, ঈশ্বরের ভৃত্যগণ তাহা হইতে পান করিবে, তাহারা (সেই প্রস্রবণকে) সঞ্চালনে (ইতস্ততঃ) সঞ্চালিত করিবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ তাহারা সঙ্কল্প পূর্ণ করে ও যাহার অকল্যাণ পরিব্যাপক হয় সেই দিবসকে ভয় করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং তাহারা দরিদ্রকে ও অনাথকে এবং বন্দীকে ভোজ্য উহার স্বীয় প্রয়োজন সত্ত্বে ভোজন করাইয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৯⇒ (বলে) “ঈশ্বরের আনন উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদিগকে আহার করাইতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, তোমাদিগ হইতে কোন বিনিময় ও কৃতজ্ঞতা ইচ্ছা করি না।

আয়াতঃ ১০⇒ নিশ্চয় আমরা সেই দুরুহ বিরস দিনে স্বীয় প্রতিপালক হইতে ভীত আছি”।

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর পরমেশ্বর এই দিনের কাঠিন্য হইতে তাহাদিগকে রক্ষা করিলেন ও তাহাদের প্রতি আনন্দ ও স্ফূর্তি সংযোজিত করিলেন।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং তাহারা যে ধৈর্য ধারণ করিয়াছে তজ্জন্য স্বর্গোদ্যান ও কৌষেয় বস্ত্র তাহাদের বিনিময় হইবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ তথায় তাহারা সিংহাসন সকলের উপর উপাধানে প্রিষ্ঠ স্থাপন করিয়া থাকিবে, তথায় আতপ ও কঠিন শীত দেখিবে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ (সেই উপবনের) ছায়া তাহাদের সম্বন্ধে সন্নিহিত ও তাহার ফলপুঞ্জ বাধ্যতায় বাধ্য থাকিবে।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তাহাদের প্রতি রৌপ্যময় তৈজসপাত্র ও যে সকল সোরাহী কাচবৎ হয়, পরিবেশিত হইবে।

আয়াতঃ ১৬⇒ রজতের কাচ, (পানপাত্র দাতৃগণ) তাহা পরিমাণে পরিমিত করিয়াছে।

আয়াতঃ ১৭+১৮⇒ এবং তথায় পানপাত্র পান করান হইবে তন্মধ্যে সলসাবিল নামাভিহিত শুষ্ঠির প্রস্রবণের মিশ্রন হয়।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং তাহাদের নিকটে বালক (ভৃত্য) গণ সর্বদা ঘুরিয়া বেড়াইবে, এবং যখন তোমরা তাহাদিগকে দেখিবে তখন তাহাদিগকে বিক্ষিপ্ত মুক্তাফল মনে করিবে।

আয়াতঃ ২০⇒ যখন তুমি দৃষ্টি করিবে তৎপর ঐশ্চর্য ও মহারাজত্ব দর্শন করিতে পাইবে।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহাদের উপর হরিদ্বর্ণ সোন্দোস ও আস্তবরক বসনাবলী ও তাহারা রজতকঙ্কণে অলঙ্কৃত হইবে, এবং তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে নির্মল সুরা পান করাইবেন।

আয়াতঃ ২২⇒ (বলা হইবে) “নিশ্চয় এই তোমাদের জন্য বিনিময় হইল, তোমাদের যত্ন আদৃত হইল”।

আয়াতঃ ২৩⇒ নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) কোরআন ক্রমশঃ অবতারণে অবতারণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর স্বীয় প্রতিপালকের আজ্ঞার নিমিত্ত ধৈর্য ধারন কর, এবং তাহাদিগের অন্তর্গত পাপী বা ধর্মবিদ্রোহী লোকদিগের অনুগত হইও না।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং প্রাতঃসন্ধ্যা আপন প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং পরে রজনীর কিয়দংশ তাঁহাকে নমস্কার কর ও দীর্ঘ রজনী তাঁহাকে স্তব কর।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় ইহারা সংসারকে প্রেম করে, এবং আপন পশ্চাদ্ভাগে গুরুতর দিবসকে পরিত্যাগ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ২৮⇒ আমি তাহাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি ও তাহাদের দেহগ্রন্থিকে দৃঢ় করিয়াছি, এবং যখন আমি ইচ্ছা করিব তখন তাহাদের সদৃশ (এক দল তাহাদের স্থলে) পরিবর্তনে পরিবর্তিত করিব।

আয়াতঃ ২৯⇒ নিশ্চয় ইহা (কোরআন) উপদেশ হয়, অনন্তর যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে স্বীয় প্ররতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যতীত তোমরা ইচ্ছা করিতেছ না, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানময় কৌশলময়। আয়াতঃ ৩১⇒ তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে আনয়ন করিয়া থাকেন, এবং অত্যাচারীগণের জন্য ক্লেশকরী শাস্তি প্রস্তুত আছে।