সূরাঃ তুর

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ তুর পর্বতের শপথ।

আয়াতঃ ০২+০৩⇒ উন্মুক্ত পত্রে লিখিত গ্রন্থের শপথ।

আয়াতঃ ০৪⇒ কাবামন্দিরের শপথ।

আয়াতঃ ০৫⇒ উন্নত ছাদের (গগনমণ্ডলের) শপথ।

আয়াতঃ ০৬⇒ পরিপূর্ণ সাগরের শপথ।

আয়াতঃ ০৭⇒ নিশ্চয় (হে মোহম্মদ) তোমার প্রতিপালকের শাস্তি সম্ভবনীয়।

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহার কোন নিবারণকারী নাই।

আয়াতঃ ০৯⇒ যে দিবস আকাশ বিকম্পনে বিকম্পিত হইবে।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং গিরিশ্রেনী বিচলনে বিচলিত হইবে।

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর সেই দিবস সেই মিথ্যাবাদীদিগের প্রতি আক্ষেপ।

আয়াতঃ ১২⇒ যাহারা কল্পিত বাক্যে আমোদ করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ১৩⇒ যে দিবস তাহারা নরকাগ্নির দিকে আহ্বানে আহূত হইবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ (বলা হইবে) “এই সেই অগ্নি যৎসম্বন্ধে তোমরা অসত্যারোপ করিতেছিল।

আয়াতঃ ১৫⇒ অনন্তর ইহা কি কুহক, অথবা তোমরা দেখিতেছ না?

আয়াতঃ ১৬⇒ ইহার মধ্যে প্রবেশ কর, পরে ধৈর্য ধারন কর, বা ধৈর্যাবলম্বন না কর তোমাদের পক্ষে সমান, তোমরা যাহা করিতেছিলে তাহার বিনিময় তোমাদিগকে প্রদত্ত হইবে, এতদ্ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ১৭+১৮⇒ নিশ্চয় ধর্মভীরুগণ উদ্যান ও সম্পদের মধ্যে তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তজ্জন্য তাহারা আনন্দে থাকিবে, এবং তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে নরকদন্ড হইতে রক্ষা করিবেন।

আয়াতঃ ১৯+২০⇒ (বলিবেন) “তোমরা যে (সৎকর্ম) করিতেছিলে তজ্জন্য সিংহাসন সকলের উপর শ্রেণীবদ্ধভাবে ভর দিয়া বসিয়া উপাদেয় পান-ভোজন করিতে থাক;” এবং বিশালাক্ষী দিব্যঙ্গনাদিগকে আমি তাহাদিগের পত্নী করিব।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে ও যাহাদের সন্তানগণ বিশ্বাসানুসারে তাহাদের অনুসরণ করিয়াছে, আমি তাহাদের সহিত তাহাদের সন্তানগণকে (স্বর্গলোকে) সম্মিলিত করিব ও তাহাদের কার্যের কিছুই ক্ষতি করিব না, প্রত্যেক মনুষ্য যাহা করিয়াছে তাহা সংরক্ষিত আছে।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং আমি ফল ও মাংস যাহা তাহারা ইচ্ছা করে তাহাদিগকে তদ্দারা সাহায্য দান করিব।

আয়াতঃ ২৩⇒ তথায় তাহারা পরস্পর পানপাত্র আকর্ষণ করিবে, তন্মধ্যে প্রলাপ বাক্য ও পাপাচার হইবে না।

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তাহাদের পার্শ্বে তাহাদের দাসগণ ঘুরিয়া বেড়াইবে, তাহারা যেন প্রচ্ছন্ন মুক্তাস্বরূপ।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং তাহারা পরস্পর পরস্পরের নিকটে প্রশ্ন করতঃ সমাগত হইবে।

আয়াতঃ ২৬⇒ তাহারা বলিবে, “নিশ্চয় আমারা ইতিপূর্বে স্বীয় পরিজনের মধ্যে (শাস্তির ভয়ে) ভীত ছিলাম।

আয়াতঃ ২৭⇒ অনন্তর ঈশ্বর আমাদের প্রতি উপকার করিলেন, (নরকের) উষ্ণ বায়ুর দন্ড হইতে আমাদিগকে রক্ষা করিলেন।

আয়াতঃ ২৮⇒ নিশ্চয় আমরা পূর্বে তাঁহাকে আহ্বান করিতেছিলাম, নিশ্চয় তিনি সৎ ও দয়ালু”।

আয়াতঃ ২৯⇒ অনন্তর তুমি (হে মোহম্মদ) উপদেশ দান করিতে থাক, পরন্তু তুমি স্বীয় প্রতিপালকের প্রসঙ্গে ভবিষ্যদ্বক্তা নও, এবং ক্ষিপ্ত নও।

আয়াতঃ ৩০⇒ বরং তাহারা বলিয়া থাকে, “সে কবি, আমরা তাহার সম্বন্ধে কালের দুর্ঘটনা প্রতীক্ষা করিতেছি”।

আয়াতঃ ৩১⇒ তুমি বল, “প্রতীক্ষা কর, অনন্তর নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারীদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ ৩২⇒ তাহাদের বুদ্ধি কি তাহাদিগকে ইহা আদেশ করে? তাহারা কি দুর্দান্ত দল?

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহারা কি বলিয়া থাকে যে, তাহাকে (কোরআনকে) সে রচনা করিয়াছে? বরং তাহারা বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ৩৪⇒ অনন্তর যদি তাহারা সত্যবাদী হয়, তবে উচিত যে এতৎসদৃশ বাক্য উপস্থিত করে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তাহারা কি কোন পদার্থ কর্তৃক ব্যতীত সৃষ্ট হইয়াছে? তাহারা কি সৃষ্টিকর্তা?

আয়াতঃ ৩৬⇒ তাহারা কি স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছে? বরং তাহারা বিশ্বাস করিতেছে না।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহাদের নিকটে কি তোমার প্রতিপালকের ভান্ডার? তাহারা কি পরাক্রান্ত?

আয়াতঃ ৩৮⇒ তাহাদের জন্য কি (স্বর্গের) সোপান আছে যে, তদুপরি (আরোহণ করিয়া) (ঈশ্বরবাণী) শ্রবন করিয়া থাকে? তবে উচিত যে, তাহাদের শ্রোতা উজ্জ্বল প্রমাণ আনয়ন করে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ তাঁহার জন্য কি কন্যা সকল, তোমাদের জন্য পুত্রগণ আছে?

আয়াতঃ ৪০⇒ তুমি কি তাহাদের নিকটে কোন পারিশ্রমিক প্রার্থনা কর? অনন্তর তাহারা বিনিময়ে ভারাক্রান্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৪১⇒ তাহাদের নিকটে কি গুপ্তবাক্য আছে? অনন্তর তাহারা লিখিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪২⇒ তাহারা কি প্রবঞ্চনা ইচ্ছা করিয়া থাকে? অনন্তর যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহারাই প্রবঞ্চিত।

আয়াতঃ ৪৩⇒ ঈশ্বর ব্যতীত তাহাদের জন্য কি উপাস্য আছে? তাহারা যাহাকে অংশী নিরূপণ করিয়া থাকে তাহা অপেক্ষা ঈশ্বর পবিত্র।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং তাহারা আকাশের এক খন্ড পতিত দেখিলে বলিবে, “(ইহা) সংবদ্ধ মেঘ”।

আয়াতঃ ৪৫⇒ অনন্তর যে পর্যন্ত না তাহারা আপনাদের সেই দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যাহাতে তাহারা মূর্ছিত হইয়া পড়িবে, সে পর্যন্ত তাহাদিগকে ছাড়িয়া দাও।

আয়াতঃ ৪৬⇒ যে দিবস তাহাদিগের প্রতারণা কিছুই তাহাদিগের ফল বিধান করিবে না, এবং তাহারা সাহায্য প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং নিশ্চয় যাহারা অত্যাচার করিয়াছে তাহাদের জন্য এতদ্ভিন্ন শাস্তি আছে, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ লোক বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৪৮+৪৯⇒ এবং তুমি স্বীয় প্রতিপালকের আজ্ঞার জন্য ধৈর্য ধারন কর, অনন্তর নিশ্চয় তুমি আমার চক্ষুর নিকটে আছ, এবং (প্রাতঃকালে) গাত্রোত্থানের সময়ে স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব কর, এবং রজনীর কিয়ৎকাল পরে তাঁহার স্তব কর ও তারকাবলী পশ্চাদগমন করিলে (স্তব কর)।