সূরাঃ তাহা

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ প্রার্থী ও পথপ্রদর্শক।

আয়াতঃ ০২⇒ আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) (এজন্য) কোরআন অবতারণ করি নাই যে, তুমি ক্লেশ প্রাপ্ত হও।

আয়াতঃ ০৩+০৪⇒ কিন্তু যে ব্যক্তি ভীত হয় তাহাকে উপদেশ দান করিতে যিনি পৃথিবী ও উন্নত স্বর্গ সকল সৃজন করিয়াছেন তাঁহা হইতে (ইহার) অবতরণ হইয়াছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ পরমেশ্বর স্বর্গের উপর স্থিতি করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৬⇒ পৃথিবীতে যাহা ও স্বর্গলোক সকলে যাহা উভয়ের মধ্যে যাহা এবং আর্দ্র ভূমির নিম্নে (তহতঃ-সরাতে) যাহা আছে উহা তাঁহারই।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং যদি কথা ব্যক্ত কর (ভাল) পরন্তু নিশ্চয় তিনি গুপ্ত ও গুপ্ততম (বিষয়) জানেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ সেই পরমেশ্বর তিনি ভিন্ন উপাস্য নাই, তাঁহার উত্তম নাম সকল আছে।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং তোমার নিকটে কি মুসার বৃত্তান্ত উপস্থিত হইয়াছে?

আয়াতঃ ১০⇒ যখন সে অগ্নি দর্শন করিল তখন আপন পরিজনকে বলিল, “তোমরা বিলম্ব কর, নিশ্চয় আমি অগ্নি দর্শন করিয়াছি, হয়তো তাহা হইতে তোমাদের নিকটে অনলখন্ড আনয়ন করিব, অথবা অগ্নির নিকটে কোন পথপ্রদর্শক প্রাপ্ত হইব।

আয়াতঃ ১১+১২⇒ অনন্তর যখন সে তাহার নিকটে উপস্থিত হইল, আমি ডাকিলাম, “হে মুসা, নিশ্চয় আমি তোমার প্রতিপালক, অতপর তোমার পাদুকাদ্বয় উন্মোচন কর, নিশ্চয় তুমি তুর নামক পবিত্র প্রান্তরে আছ।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং আমি তোমাকে মনোনীত করিলাম, অনন্তর যাহা প্রত্যাদেশ করা যাইতেছে তুমি শ্রবন কর।

আয়াতঃ ১৪⇒ নিশ্চয় আমি পরমেশ্বর, আমি ব্যতীত উপাস্য নাই, অতএব আমাকে অর্চনা কর ও আমাকে স্মরণ করিবার জন্য উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখ।

আয়াতঃ ১৫⇒ নিশ্চয় কেয়ামত উপস্থিত হইবে, আমি তাহার (সময়) গোপন রাখিতে সমুদ্যত, যেন প্রত্যেক ব্যক্তি যাহা করিতেছে তাহাকে তাহার অনুরুপ ফল দেওয়া যায়।

আয়াতঃ ১৬⇒ অনন্তর তাহাতে যে ব্যক্তি অবিশ্বাসী হইয়াছে ও স্বীয় কামনার অনুসরণ করিয়াছে, স যেন তাহা হইতে (বিশ্বাস হইতে) তোমাকে নিবৃত্ত না করে, তাহা হইলে তুমি বিনাশ পাইবে।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং “হে মুসা, তোমার দক্ষিন হস্তে ইহা কি?”

আয়াতঃ ১৮⇒ সে বলিল, “ইহা আমার যষ্টি, আমি ইহার উপর ভর করিয়া থাকি ও এতদ্দারা স্বীয় পশুপালের প্রতি বৃক্ষপত্র নিক্ষেপ করি, এবং ইহাতে আমার অন্য কার্যও আছে।“

আয়াতঃ ১৯⇒ তিনি বলিলেন, “হে মুসা, তাহা নিক্ষেপ কর”।

আয়াতঃ ২০⇒ অনন্তর সে তাহা ফেলিয়া দিল, পরে অকস্মাৎ উহা ধাবমান অজগর হইল।

আয়াতঃ ২১⇒ তিনি বলিলেন, “ইহাকে গ্রহণ কর, এবং ভয় করিও না; অবিলম্বেই আমি ইহাকে পূর্ব প্রকৃতিতে পরিবর্তিত করিব।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তুমি স্বীয় হস্তকে আপন কক্ষতলে সংলগ্ন কর, তাহা নির্দোষ শুভ্র অন্য নিদর্শনরুপে বাহির হইবে।

আয়াতঃ ২৩⇒ তবে আমি তোমাকে স্বীয় মহা নিদর্শন সকল হইতে (কোন নিদর্শন) প্রদর্শন করিব।

আয়াতঃ ২৪⇒ তুমি ফেরওনের নিকটে চলিয়া যাও, নিশ্চয় সে অবাধ্যতাচরণ করিয়াছে।“

আয়াতঃ ২৫⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার জন্য আমার হৃদয়কে প্রশস্ত কর।

আয়াতঃ ২৬⇒ এবং আমার জন্য আমার কার্যকে সহজ কর।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং আমার জিহবা হইতে গ্রন্থি উন্মোচন কর।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহা হইলে আমার কথা তাহারা বুঝিতে পারিবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং আমার জন্য আমার পরিবার হইতে কোন সহকারী নিযুক্ত কর।

আয়াতঃ ৩০⇒ হারুন আমার ভ্রাতা।

আয়াতঃ ৩১⇒ তদ্দারা তুমি আমার বল দৃঢ় কর।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং আমার কার্যে তাহাকে অংশী কর।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তাহা হইলে আমরা তোমাকে বহু স্তব করিব।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং তোমাকে বহু স্মরণ করিব।

আয়াতঃ ৩৫⇒ নিশ্চয় তুমি আমার সম্বন্ধে দর্শক আছ।“

আয়াতঃ ৩৬⇒ তিনি বলিলেন, “হে মুসা, নিশ্চয় তোমাকে তোমার প্রার্থনীয় প্রদত্ত হইল।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমার প্রতি দ্বিতীয়বার উপকার করিলাম।

আয়াতঃ ৩৮⇒ (স্মরণ কর) যখন তোমার মাতার প্রতি যে প্রত্যাদেশ করা হয়, আমি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৩৯⇒ যথা- তাহাকে তুমি সিন্ধুকে নিক্ষপ কর, পশ্চাৎ নদীতে তাহা বিসর্জন কর; “অনন্তর তাহাকে নদীকূলে নিক্ষেপ করিল, তাহার শত্রু ও আমার শত্রু (ফেরওন) তাহাকে গ্রহণ করিল;” এবং আমি আপনা হইতে তোমার প্রতি প্রেম ঢালিয়া দিলাম, এবং (চাহিলাম) যে, আমার চক্ষুর সম্মুখে তুমি প্রতিপালিত হও।

আয়াতঃ ৪০⇒ যখন তোমার ভগিনী যাইতেছিল তখন সে বলিতেছিল, “যে ইহাকে প্রতিপালন করিবে তাহার প্রতি কি তোমাদিগকে পথ দেখাইব?” অনন্তর আমি তোমাকে তোমার জননীর নিকটে ফিরাইয়া আনিলাম যেন তাহার চক্ষু শান্ত হয় ও সে শোকার্ত না থাকে, এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করিলে, অনন্তর আমি তোমাকে দুঃখ হইতে মুক্তি দান করিলাম, এবং পরীক্ষাতে তোমাকে পরীক্ষিত করিলাম, পরে তুমি মদয়নবাসীদিগের মধ্যে অনেক বৎসর বাস করিলে, তৎপর তুমি হে মুসা, ভাগ্যক্রমে আসিয়াছ।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য মনোনীত করিয়াছি।

আয়াতঃ ৪২⇒ আমার নিদর্শন সকল সহ তুমি যাও ও তোমার ভ্রাতা (যাউক) এবং আমাকে স্মরণে তোমরা শৈথিল্য করিও না।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তোমরা উভয়ে ফেরওনের নিকটে যাও, নিশ্চয় সে দুর্দান্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অনন্তর তোমরা তাহাকে কোমল কথা বলিবে, হয় তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে, অথবা ভয় পাইবে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ তাহারা বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, নিশ্চয় আমরা শঙ্কিত আছি যে, সে আমাদের উপর আক্রমণ করিবে, অথবা অবাধ্যতা করিবে”।

আয়াতঃ ৪৬⇒ তিনি বলিলেন, “তোমরা ভয় করিও না, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি দেখিতেছি ও শুনিতেছি।

আয়াতঃ ৪৭⇒ অনন্তর তোমরা তাহার নিকটে যাইবে, পরে বলিবে যে, নিশ্চয় আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত, অতএব আমাদের সঙ্গে বলি-এস্রায়েলকে প্রেরণ কর, এবং তাহাদিগকে ক্লেশ দিও না, সত্যই আমরা তোমার প্রতিপালকের নিদর্শন সকল সহ উপস্থিত হইয়াছি, এবং যে ব্যক্তি উপদেশের অনুসরণ করে তাহার প্রতি আশীর্বাদ।

আয়াতঃ ৪৮⇒ নিশ্চয় আমাদের প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছে যে, যে ব্যক্তি অসত্যারোপ করে ও অগ্রাহ্য করে “তাহার প্রতি শাস্তি হয়।

আয়াতঃ ৪৯⇒ সে জিজ্ঞাসা করিল, “হে মুসা, অনন্তর কে তোমাদের প্রতিপালক?”

আয়াতঃ ৫০⇒ সে বলিল, “যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তাহার প্রকৃতি দান করিয়াছেন, তৎপর পথ দেখাইয়াছেন তিনি আমাদের প্রতিপালক”।

আয়াতঃ ৫১⇒ সে জিজ্ঞাসা করিল, “অনন্তর পূর্বতন শতাব্দী সকলের অবস্থা কি?”

আয়াতঃ ৫২⇒ সে (মুসা) বলিল, “তাহার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের গ্রন্থতে আছে, আমার প্রতিপালক বিস্মৃত ও বিভ্রান্ত হন না।

আয়াতঃ ৫৩⇒ যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে শয্যা করিয়াছেন ও তন্মধ্যে বর্ত্ম সকল চালিত করিয়াছেন, এবং আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করিয়াছেন তিনি, অনন্তর তদ্দারা আমি নানাবিধ উদ্ভিদ পদার্থ বাহির করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫৪⇒ (বলিয়াছিলাম) তোমরা ভক্ষন কর ও স্বীয় পশুদলকে চরাও, নিশ্চয় ইহাতে বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৫৫⇒ আমি তাহা হইতে (মৃত্তিকা হইতে) তোমাদিগকে সৃজন করিয়াছি, এবং তন্মধ্যে তোমাদিগকে পুনরানয়ন করিব ও তাহা হইতে পুনর্বার তোমাদিগকে বাহির করিব।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তাহাকে (ফেরওনকে) আপন নিদর্শন সকলের সমগ্র প্রদর্শন করিয়াছি, অনন্তর সে অসত্যারোপ ও অগ্রাহ্য করিয়াছে”।

আয়াতঃ ৫৭⇒ সে বলিয়াছিল, “হে মুসা, তুমি কি আমাদের নিকটে আসিয়াছ যে, আপন ইন্দ্রজাল দ্বারা আমাদিগের দেশ হইতে আমাদিগকে বহিষ্কৃত করিবে?

আয়াতঃ ৫৮⇒ অনন্তর নিশ্চয় আমি ইহার সদৃশ যাদু তোমার নিকটে উপস্থিত করিব, অবশেষে তোমার ও আমাদের মধ্যে অঙ্গীকার কাল নির্ধারণ কর, সমতল ক্ষেত্র নির্ধারণ কর, আমরা সমতল ক্ষেত্রে তাহার বিপরীতাচরণ করিব না”।

আয়াতঃ ৫৯⇒ সে বলিল, “তোমাদিগের অঙ্গীকারের সময় শোভা (সম্পাদনের) দিন, যথায় মধ্যাহ্নকালে লোক সকল একত্রিত হইবে”।

আয়াতঃ ৬০⇒ অনন্তর ফেরওন ফিরিয়া গেল, পরে নিজের প্রবঞ্চনা সংযোজনা করিল, তৎপর আসিল।

আয়াতঃ ৬১⇒ মুসা তাহাদিগকে বলিল, “তোমাদের প্রতি ধিক, তোমরা ঈশ্বরের প্রতি অসত্য যোজনা করিও না, পরে তিনি তোমাদিগকে শাস্তি দ্বারা বিনাশ করিবেন, নিশ্চয় যাহারা (অসত্য) যোজনা করিয়াছে তাহারা অকৃতকার্য হইয়াছে।

আয়াতঃ ৬২⇒ অনন্তর তাহারা আপনাদের মধ্যে আপনাদের কার্য সম্বন্ধে পরস্পর বাগবিতণ্ডা করিল ও ষড়যন্ত্র গোপন করিল।

আয়াতঃ ৬৩⇒ তাহারা বলিল, “নিশ্চয় এই দুই জন ঐন্দ্রজালিক আপন ইন্দ্রজাল দ্বারা তোমাদের দেশ হইতে তোমাদিগকে বহিষ্কৃত করিতে ইচ্ছা করে, এবং তোমাদের উত্তম ধর্মপথকে দূর করিতে চাহে।

আয়াতঃ ৬৪⇒ অতএব চক্রান্তের যোজনা কর, তৎপর শ্রেনীবদ্ধরুপে উপস্থিত হও, এবং নিশ্চয় অদ্য যে ব্যক্তি প্রবল হইল সে-ই মুক্ত হইল”।

আয়াতঃ ৬৫⇒ তাহারা বলিল, “হে মুসা, ইহা কি হইবে যে, তুমি (যষ্টি) নিক্ষেপ করিবে, অথবা এই যে ব্যক্তি প্রথম নিক্ষেপ করিবে সে আমরা হইব?”

আয়াতঃ ৬৬⇒ সে বলিল, “বরং তোমরা নিক্ষেপ কর;” অনন্তর অকস্মাৎ তাহাদের যষ্টি ও তাহাদের রজ্জু সকল তাহাদের ইন্দ্রজালে তাহার দিকে লক্ষ্য করিতে ছিল, যেন সেই সকল দৌড়িতেছিল।

আয়াতঃ ৬৭⇒ পরে মুসা আপন অন্তরে ভয় পাইল।

আয়াতঃ ৬৮⇒ আমি বলিলাম, “তুমি ভয় করিও না, নিশ্চয় তুমি প্রবলতর।

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং তোমার দক্ষিন হস্তে যাহা আছে তাহা নিক্ষেপ কর, তাহারা যাহা প্রস্তুত করিয়াছে তাহা গ্রাস করিবে, নিশ্চয় তাহারা যাহা নির্মাণ করিয়াছে তাহা ঐন্দ্রজালিক বঞ্চনা, এবং ঐন্দ্রজালিকগণ যে স্থানে যাইবে তথায় মুক্তি পাইবে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ অনন্তর নমস্কারপূর্বক ঐন্দ্রজালিকগণ নিপতিত হইল।

আয়াতঃ ৭১⇒ সে বলিল, “তোমাদিগকে আমি আদেশ করার পূর্বে তোমরা কি তাহাকে বিশ্বাস করিলে? নিশ্চয় সে (মুসা) তোমাদের প্রধান, যেহেতু সে তোমাদিগকে ইন্দ্রজাল শিক্ষা দিয়েছে, অনন্তর অবশ্য আমি তোমাদের হস্ত ও পদ বিপরীতভাবে ছেদন করিব ও খোর্মাতরু কান্ডে তোমাদিগকে শূলে চড়াইব, এবং অবশ্য তোমরা জানিবে যে, আমাদের মধ্যে কে শাস্তি দান অনুসারে সুকঠিন ও অটল”।

আয়াতঃ ৭২⇒ তাহারা বলিল, “উজ্জল নিদর্শন সকলের যাহা আমাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছে তদুপুরি এবং যিনি আমাদিগকে সৃজন করিয়াছেন (তাহার উপর) কখনো তোমাকে আমরা শ্রেষ্ঠতা দান করিব না, অনন্তর তুমি যাহার আজ্ঞাকর্তা সেই আজ্ঞা কর, তুমি এই পার্থিব জীবনে আজ্ঞা করিবে এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ নিশ্চয় আমরা আপন প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, তাহাতে তিনি আমাদের জন্য আমাদের অপরাধ এবং ইন্দ্রজাল সম্বন্ধীয় বিষয়ে তুমি যে আমাদিগের প্রতি বল করিয়াছ তাহা মার্জনা করিবেন, ঈশ্বর কল্যাণ ও নিত্য।

আয়াতঃ ৭৪⇒ নিশ্চয় যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের নিকট অপরাধীরুপে উপস্থিত হয়, পরে একান্তই তাহার জন্য নরক আছে, তথায় সে মরিবে না, এবং বাঁচিবেও না।

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং যে ব্যক্তি তাঁহার নিকটে বিশ্বাসীরুপে উপস্থিত হয়, নিশ্চয় সে সাধুকার্য করে, অনন্তর ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য উন্নত পদ সকল আছে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ অক্ষয় উদ্যাননিবহ যাহার নিম্ন দিয়া জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, তথায় তাহারা নিত্যাবস্থানকারী, যে ব্যক্তি পবিত্র হইয়াছে তাহার ইহাই বিনিময়।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি যে, আমার দাসগণসহ (রজনীতে) প্রস্থান কর, অনন্তর তাহাদের জন্য সাগরে শুষ্ক পথে চলিতে থাক, (শত্রুর) ধরিবার ভয় করিও না, এবং (জলমগ্ন হইবার) শঙ্কা করিও না।

আয়াতঃ ৭৮⇒ পরিশেষে ফেরওন আপন সেনাদলসহ তাহাদের অনুসরণ করিল, পরে তাহাদিগকে আচ্ছাদন করিল, নদীর যাহা (তরঙ্গ) তাহাদিগকে ঢাকিল।

আয়াতঃ ৭৯⇒ এবং ফেরওন আপন দলকে পথভ্রান্ত করিল ও পথপ্রদর্শন করিল না।

আয়াতঃ ৮০⇒ (আমি বলিলাম) “হে বনি-এস্রায়েল, নিশ্চয় তোমাদের শত্রু হইতে আমি তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছি, এবং তুর গিরির দক্ষিন দিকে (তওরাত গ্রন্থ অবতারণ বিষয়ে) তোমাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছি ও তোমাদের প্রতি “মন্না” ও “সলওয়া” বর্ষণ করিয়াছি।

আয়াতঃ ৮১⇒ এবং (বলিয়াছি) তোমাদিগকে যে বিশুদ্ধ উপজীবিকা দান করিয়াছি তোমরা তাহা ভক্ষন কর, এবং এ-বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করিও না, তবে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ অবতীর্ণ হইবে, এবং যাহার প্রতি আমার ক্রোধ অবতীর্ণ হয় অনন্তর সে নিশ্চয় নিপাত হইবে।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং যে ব্যক্তি ফিরিয়া আইসে ও বিশ্বাস স্থাপন এবং সৎকর্ম করিয়াছে, নিশ্চয় আমি তাহার সম্বন্ধে ক্ষমাকারী হইয়াছি, তৎপর সে সৎপথ প্রাপ্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এবং হে মুসা, তোমার মণ্ডলী হইতে তোমাকে কিসে সত্বর আনয়ন করিল”?

আয়াতঃ ৮৪⇒ সে বলিল, “ঐ তাহারা (অনুবর্তিগণ) আমার পদচিহ্নানুসারে (আসিতেছে) হে আমার প্রতিপালক, আমি সত্বর তোমার অভিমুখী হইলাম যেন তুমি প্রসন্ন হও”।

আয়াতঃ ৮৫⇒ তিনি বলিলেন, “অনন্তর নিশ্চয় আমি তোমার (আগমনের) পর তোমার দলকে পরীক্ষা করিয়াছি, এবং সামরী তাহাদিগকে পথভ্রান্ত করিয়াছে”।

আয়াতঃ ৮৬⇒ অবশেষে মুসা আপন সম্প্রদায়ের অভিমুখে ক্রুদ্ধ ও বিষন্নভাবে প্রত্যাগমন করিয়া বলিল, “হে আমার মণ্ডলী, তোমাদের প্রতিপালক কি উত্তম অঙ্গীকার করেন নাই? অনন্তর তোমাদের প্রতি কি সময় দীর্ঘ হইয়াছে, অথবা তোমার কি ইচ্ছা করিয়াছ যে, তোমাদিগের প্রতিপালক হইতে তোমাদের প্রতি আক্রোশ উপস্থিত হয়? পরিশেষে তোমরা আমার অঙ্গীকারের অন্যথাচরণ করিলে”।

আয়াতঃ ৮৭⇒ তাহারা বলিল, “আমরা আপন সাধ্যানুসারে তোমার অঙ্গীকারের অন্যথাচরণ করি নাই, কিন্তু আমরা (কিবতি) জাতির আভরণের ভার বহন করিয়াছিলাম, অনন্তর তাহা নিক্ষেপ করিয়াছি, পরে তদ্রূপ সামরীও নিক্ষেপ করিয়াছে”।

আয়াতঃ ৮৮⇒ অবশেষে সে (সামরী) তাহাদের জন্য এক গোবৎস মূর্তি বাহির করিল, তাহার শব্দ ছিল, অনন্তর তাহারা (সামরী ও তাহার অনুচরগণ) বলিল, ‘ইহাই তোমাদের ঈশ্বর ও মুসার ঈশ্বর, তৎপর সে ভুলিয়া গেল।

আয়াতঃ ৮৯⇒ অনন্তর তাহারা কি দেখিতেছে না যে, সে (গোবৎস) তাহাদের প্রতি কোন উক্তি প্রত্যানয়ন করে না, (কথা বলে না) এবং তাহাদের জন্য ক্ষতি-বৃদ্ধিও করিতে সমর্থ নহে?

আয়াতঃ ৯০⇒ এবং সত্যসত্যই পূর্বে হারুন বলিয়াছিল যে, “হে আমার মণ্ডলী, এতদ্বারা তোমরা পরীক্ষিত হইলে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক পরমেশ্বর; অনন্তর তোমরা আমার অনুসরণ কর ও আমার আজ্ঞা মান্য কর”।

আয়াতঃ ৯১⇒ তাহারা বলিল, “যে পর্যন্ত মুসা আমাদের নিকটে ফিরিয়া না আইসে সে পর্যন্ত আমরা ইহার নিকটে সাধনানুসারে নিরন্তর বাস করিব”।

আয়াতঃ ৯২+৯৩⇒ সে (মুসা) বলিল, “হে হারুন, যখন তুমি তাহাদিগকে বিপথগামী হইল দেখিলে তখন আমার অনুসরণ করিতে কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করিল? অনন্তর তুমি কি আমার আজ্ঞা অমান্য করিয়াছ”?

আয়াতঃ ৯৪⇒ সে বলিল, “হে আমার মাতৃনন্দন, তুমি বনি এস্রায়েলের মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন করিয়াছ, এবং আমার কথা পালন কর নাই”।

আয়াতঃ ৯৫⇒ সে (মুসা) বলিল, “হে সামরী, অনন্তর তোমার কি অবস্থা?”

আয়াতঃ ৯৬⇒ সে বলিল, “যাহা তাহারা দেখে নাই আমি তাহা দেখিয়াছি, অনন্তর আমি প্রেরিতপুরুষের (অশ্বের) পদাঙ্কের এক মুষ্টি (মৃত্তিকা) গ্রহণ করণান্তর উহাতে (গোবৎসে) নিক্ষেপ করিয়াছি, এবং এইরুপে আমার চিত্ত আমাকে উৎকৃষ্ট দেখাইয়াছে।

আয়াতঃ ৯৭⇒ সে বলিল, “অনন্তর তুমি চলিয়া যাও, অবশেষে নিশ্চয় জীবদ্দশাতে তোমার জন্য (শাস্তি) এই যে, তুমি বলিবে, “অস্পৃশ্য” এবং নিশ্চয় তোমার জন্য এক অঙ্গীকার আছে, তাহার অন্যথা হইবে না ও যাহার নিকটে তুমি সাধকের ভাবে বাস করিয়াছিলে তোমার সেই উপাস্যের প্রতি দৃষ্টি কর, অবশ্য আমি তাহাকে দগ্ধ করিব, তৎপর অবশ্য নদীতে তাহাকে বিকীর্ণভাবে বিকিরণ করিব।

আয়াতঃ ৯৮⇒ তোমাদের উপাস্য সেই ঈশ্বর এতদ্ভিন্ন নহে, যিনি তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, তিনি জ্ঞানযোগে সমুদায় বস্তুতে প্রবেশ করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এইরুপে (হে মোহম্মদ) পূর্বে নিশ্চয় যাহা ঘটিয়াছে আমি তাহার বিবরণ তোমার নিকটে বিবৃত করিলাম, এবং নিশ্চয় আপন সন্নিধান হইতে উপদেশ তোমাকে দান করিলাম।

আয়াতঃ ১০০⇒ যে ব্যক্তি তাহা হইতে বিমুখ হইয়াছে নিশ্চয় সে কেয়ামতের দিনে ভার বহন করিবে।

আয়াতঃ ১০১⇒ তাহারা তাহাতে (সেই ভারেতে) সর্বদা থাকিবে, এবং কেয়মাতের দিনে তাহাদের বহনীয় কুৎসিত (ভার) হইবে।

আয়াতঃ ১০২⇒ যে দিবস সুরে ফুঁৎকার করা হইবে সেই দিবস নীলাক্ষ অপরাধীদিগকে আমি সমুত্থাপন করিব।

আয়াতঃ ১০৩⇒ তাহারা আপনাদের মধ্যে পরস্পর গোপনে বলিবে যে, দশ দিবস ভিন্ন তোমরা বিলম্ব কর নাই।

আয়াতঃ ১০৪⇒ তাহারা যাহা বলিতেছে যখন ধর্মজ্ঞানানুসারে তাহাদের শ্রেষ্ঠ (ব্যক্তি) বলিবে, একদিন ভিন্ন তোমরা বিলম্ব কর নাই, তাহা আমি উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ১০৫⇒ এবং তোমাকে (হে মোহম্মদ) পর্বত সকলের বিষয় তাহারা প্রশ্ন করিতেছে, অনন্তর তুমি বল, আমার প্রতিপালক তাহা বিকীর্ণরুপে বিকীর্ণ করিবেন।

আয়াতঃ ১০৬⇒ পরে তিনি সমতল প্রান্তররুপে তাহাকে পরিত্যাগ করিবেন।

আয়াতঃ ১০৭⇒ তুমি তথায় বক্রতা ও উচ্চতা দেখিতে পাইবে না।

আয়াতঃ ১০৮⇒ সেইদিন তাহারা আহ্বানকারীর পশ্চাদ্বর্তী হইবে, তাহার জন্য কোন বক্রতা হইবে না, পরমেশ্বরের জন্য শব্দ সকল ক্ষীন হইবে, অনন্তর ক্ষীন শব্দ ব্যতীত তুমি শুনিতে পাইবে না।

আয়াতঃ ১০৯⇒ যাহাকে ঈশ্বর অনুমতি দান করিয়াছেন, এবং তিনি যাহার বাক্যে প্রসন্ন হইয়াছেন সেই দিন সে ব্যতীত (অন্যের) “শফাঅত” (লোকের সদগতির জন্য অনুরোধ) উপকারে আসিবে না।

আয়াতঃ ১১০⇒ তাহাদের যাহা সম্মুখে ও যাহা পশ্চাতে আছে তিনি তাহা জ্ঞাত আছেন, এবং জ্ঞানযোগে তাহারা তাঁহাকে আবেষ্টন করিতে পারে না।

আয়াতঃ ১১১⇒ এবং (তাহাদের) আনন জীবন্ত বিদ্যমান (ঈশ্বরের) জন্য অবনত হইবে, এবং যে ব্যক্তি অত্যাচার (অংশীবাদিতা) বহন করিয়াছে, নিশ্চয় সে অসিদ্ধকাম হইয়াছে।

আয়াতঃ ১১২⇒ এবং যে ব্যক্তি সৎকর্ম সকল করে ও যে বিশ্বাসী হয় পরে সে কোন অত্যাচার ও ক্ষতিকে ভয় করে না।

আয়াতঃ ১১৩⇒ এই প্রকারে আমি ইহাকে (এই গ্রন্থকে) আরব্য কোরআনরুপে অবতারণ করিয়াছি, এবং তন্মধ্যে (শাস্তির) ভয়ের বিষয় বর্ণন করিয়াছি, হয় তো তাহারা ধর্মভীরু হইবে, অথবা তাহা তাহাদের সম্বন্ধে কোন উপদেশ উৎপাদন করিবে।

আয়াতঃ ১১৪⇒ অনন্তর সত্যাধিপতি পরমেশ্বর সমুন্নত, এবং কোরআনে তাঁহার প্রত্যাদেশ তোমার প্রতি তাহা পহুঁছাইবার পূর্বে তুমি সত্বর হইও না, এবং তুমি বল, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে অধিক জ্ঞান দান কর।

আয়াতঃ ১১৫⇒ এবং সত্যসত্যই পূর্বে আমি আদমের সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছিলাম, অনন্তর সে ভুলিয়া গেল, এবং আমি তাহার দৃঢ়তা প্রাপ্ত হই নাই।

আয়াতঃ ১১৬⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি দেবতাদিগকে বলিলাম যে, “তোমরা আদমকে প্রণাম কর”, তখন শয়তান ব্যতিরেকে তাহারা নমস্কার করিল, সে অগ্রাহ্য করিল।

আয়াতঃ ১১৭⇒ অনন্তর আমি বলিলাম, “হে আদম, নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার ভার্যার শত্রু, অবশেষে এ তোমাদিগকে যেন সে স্বর্গ হইতে বাহির না করে, তবে তুমি দুর্দশাপন্ন হইবে।

আয়াতঃ ১১৮⇒ নিশ্চয় তোমার জন্য ইহা যে, তথায় তুমি ক্ষুধিত ও বিবস্ত্র থাকিবে না।

আয়াতঃ ১১৯⇒ এবং নিশ্চয় তুমি তথায় তৃষিত ও আতপতাপিত হইবে না।

আয়াতঃ ১২০⇒ পরিশেষে শয়তান তাহার প্রতি কুমন্ত্রণা প্রয়োগ করিল, সে বলিল, “হে আদম, তোমাকে কি অবিনশ্বর বৃক্ষ ও চির নূতন রাজত্বের দিকে পথ প্রদর্শন করিব?

আয়াতঃ ১২১⇒ অনন্তর তাহারা তাহার (ফল) ভক্ষন করিল, পরে তাহাদের জন্য তাহাদের লজ্জাজনক অঙ্গ প্রকাশ পাইয়া পড়িল ও তাহারা স্বর্গীয় বৃক্ষপত্র আপনাদের জননেন্দ্রিয়ে সংলগ্ন করিতে আরম্ভ করিল, এবং আদম স্বীয় প্রতিপালকের বিরুদ্ধাচারী হইল, অবশেষে পথভ্রান্ত হইয়া গেল।

আয়াতঃ ১২২⇒ তৎপর তাহার প্রতিপালক তাহাকে গ্রহণ করিলেন, পরে তিনি তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন ও পথ দেখাইলেন।

আয়াতঃ ১২৩⇒ তিনি বলিলেন, “তোমরা উভয়ে এ স্থান হইতে অবতরণ কর, তোমরা একে অন্যের শত্রু, অনন্তর যদি আমার উপদেশের অনুসরণ করিবে, পরে সে পথভ্রান্ত হইবে না ও দুর্গতি ভোগ করিবে না।

আয়াতঃ ১২৪⇒ এবং যে ব্যক্তি আমার স্মরণে বিমুখ হইয়াছে, অনন্তর নিশ্চয় তাহার জন্য জীবিকা সঙ্কোচ হয়, এবং আমি কেয়ামতের দিনে তাহাকে অন্ধ (করিয়া) সমুত্থাপণ করিব”।

আয়াতঃ ১২৫⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, কেন আমাকে অন্ধ (করিয়া) উত্থাপন করিবে? নিশ্চয় আমি অবলোকনকারী ছিলাম”।

আয়াতঃ ১২৬⇒ তিনি বলিলেন, “আমার নিদর্শন সকল তোমার নিকটে এইরুপে আসিয়াছে, পরে তুমি তাহা ভুলিয়া গিয়াছ, ও এইরুপে তুমি অদ্য ভ্রান্ত হইলে।

আয়াতঃ ১২৭⇒ এবং যে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করিয়াছে ও আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস করে নাই, এইরুপে আমি তাহাদিগকে প্রতিফল দান করি, এবং নিশ্চয় পারলৌকিক শাস্তি অত্যন্ত কঠিন ও স্থায়ী।

আয়াতঃ ১২৮⇒ অনন্তর তাহাদিগকে কি পথ দেখায় নাই যে, আমি তাহাদের পূর্বে তাহারা যাহাদের দেশে বিচরণ করিতেছে সেই মণ্ডলী সকলের কত (লোককে) বিনাশ করিয়াছি, নিশ্চয় ইহাতে জ্ঞানবান লোকদিগের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ১২৯⇒ এবং যদি তোমার প্রতিপালক হইতে এক বাক্য পূর্বে প্রচার না হইত, তবে অবশ্য (শাস্তি) সমুচিত ও কাল নির্ধারিত হইত।

আয়াতঃ ১৩০⇒ অনন্তর তাহারা যাহা বলিতেছে তৎপ্রতি তুমি ধৈর্য ধারন কর, এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও তাহার অস্তগমনের পূর্বে ও নিশার কতিপয় ঘণ্টা স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব কর ও তাহার অস্তগমনের পূর্বে ও নিশার কতিপয় ঘণ্টা স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব কর ও অবশেষে দিবসের বিভাগ সকলে স্তব কর, সম্ভবতঃ তুমি সন্তুষ্ট থাকিবে।

আয়াতঃ ১৩১⇒ এবং তাহাদের দল সকলকে যাহা দ্বারা আমি ফলশালী করিয়াছি তৎপ্রতি তুমি কখনো আপন দৃষ্টি প্রসারণ করিও না, উহা পার্থিব জীবনের শোভা, যেহেতু তাহাতে আমি তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়া থাকি, এবং তোমার প্রতিপালকের (প্রদত্ত) উপজীব্য কল্যাণ ও বহুস্থায়ী।

আয়াতঃ ১৩২⇒ এবং আপন লোকদিগকে তুমি নমাজে আদেশ কর, তৎপ্রতি ধৈর্য ধারন কর, তোমার নিকটে আমি উপজীবিকার প্রার্থনা করিতেছি না, আমিই তোমাকে জীবিকা দান করিয়া থাকি, এবং ধর্মভীরুদিগের জন্য পরিণাম (কল্যাণ)।

আয়াতঃ ১৩৩⇒ এবং তাহারা বলিল, “সে কেন আমাদের নিকটে আপন প্রতিপালকের কোন (অলৌকিক) নিদর্শন আনয়ন করিতেছে না?” পূর্বতন গ্রন্থ সকলে যাহা আছে সেই (জাতীয়) উজ্জ্বল প্রমাণ কি তাহাদের নিকটে উপস্থিত হয় নাই।

আয়াতঃ ১৩৪⇒ এবং তাহার (প্রেরিতপুরুষের প্রেরনের) পূর্বে যদি আমি তাহাদিগকে শাস্তিযোগে বিনাশ করিতাম, তবে অবশ্য তাহারা বলিত, “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি কেন আমাদের নিকটে কোন প্রেরিতপুরুষ পাঠাও নাই? তাহা হইলে আমরা অপমানিত ও দুর্দশাপন্ন হওয়ার পূর্বে তোমার নিদর্শন সকলের অনুসরণ করিতাম”।

আয়াতঃ ১৩৫⇒ তুমি বল, প্রত্যেকে প্রতীক্ষাকারী, অনন্তর তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক, অবশেষে তোমরা অবশ্য জানিতে পাইবে যে, কাহারা সরল পথে পান্থ ও কাহারা পথ প্রাপ্ত হইয়াছে।