সূরাঃ তহরিম

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে সংবাদবাহক, ঈশ্বর তোমার জন্য যাহা বৈধ করিয়াছেন স্বীয় ভার্যাদিগের সন্তোষ প্রয়াস করতঃ তাহা কেন অবৈধ করিতেছ? এবং পরমেশ্বর ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ০২⇒ সত্যই ঈশ্বর তোমাদের শপথ উন্মোচন তোমাদের জন্য বিধি দিয়াছেন, এবং পরমেশ্বর তোমাদের বন্ধু এবং তিনি জ্ঞাতা বিজ্ঞাতা।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন সংবাদবাহক স্বীয় ভার্যাদিগের কাহার নিকটে কোনও কথা গোপনে বলিল, পরে যখন তাহা সেই স্ত্রী জ্ঞাপন করিল, এবং পরমেশ্বর তাহার (প্রেরিতের) নিকটে উহা প্রকাশ করিলেন, (প্রেরিতপুরুষ) তাহার কোনটি (হফসাকে) জানাইল ও তাহার কোনটি হইতে নিবৃত্ত হইল, অনন্তর যখন তাহাকে তাহা জানাইল তখন সে জিজ্ঞাসা করিল, “কে তোমাকে ইহা জানাইয়াছে?” সে বলিল, “জ্ঞাতা তত্বজ্ঞ (ঈশ্বর) আমাকে সংবাদ দিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ তোমরা দুই জনে (হে পেগম্বরের, দুই ভার্যা) যদি ঈশ্বরের দিকে ফিরিয়া আইস, (ভাল হয়) অনন্তর নিশ্চয় তোমাদের অন্তর কুটিল হইয়াছে, এবং যদি তাহার প্রতি (তাহাকে ক্লেশদানে) তোমরা পরস্পর অনুকূল হও তবে নিশ্চয় (জানিও) সেই ঈশ্বর ও জ্বেব্রিল এবং সাধু বিশ্বাসীগণ তাহার বন্ধু আছেন, অতঃপর দেবগণ সাহায্যকারী হয়।

আয়াতঃ ০৫⇒ যদি সে তোমাদিগকে বর্জন করে তবে তাহার প্রতিপালক তোমাদিগ অপেক্ষা উত্তম মোসলমান বিশ্বাসিনী সাধনপরায়না পাপ হইতে প্রতিনিবৃত্তা অর্চনাকারিনী উপবাসব্রতধারিণী বিবাহিতা ও কুমারী নারীদিগকে তাহাকে বিনিময় দান করিতে সমুদ্যত।

আয়াতঃ ০৬⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা আপনাদের জীবনকে ও আপনাদের পরিজনকে সেই অগ্নি হইতে রক্ষা কর, যাহার ইন্ধনপুঞ্জ মানবগণ ও (প্রতিমা বা স্বর্ণ-রজতাদি) প্রস্তর-রাশি হয়, তাহার উপর দুর্দম কঠোর দেবগণ (নিযুক্ত) তাহাদিগকে যাহা আদেশ করিয়াছেন তাহারা ঈশ্বরের সেই আজ্ঞা অমান্য করে না, এবং যাহা আজ্ঞা করা হয় তাহা করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ০৭⇒ আমি (বলিব) “হে ধর্মবিরোধীগণ, অদ্য তোমরা আপত্তি করিও না, তোমরা যাহা করিতেছ তদ্রুপ বিনিময় দেওয়া যাইবে এতদ্ভিন্ন নহে”।

আয়াতঃ ০৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরের দিকে তোমরা বিশুদ্ধ প্রত্যাগমনে প্রত্যাগমন কর, তোমাদিগ হইতে তোমাদের দোষ সকল নিরাকরণ করিতে এবং যাহার নিম্ন দিয়া পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয় সেই স্বর্গোদ্যান সকলে, যে দিবস পরমেশ্বর সংবাদ-বাহককে ও তাহার সঙ্গী বিশ্বাসীদিগকে অপকৃষ্ট করেন না সেই দিবস লইয়া যাইতে তোমাদের প্রতিপালক সমুদ্যত আছেন, তাহাদের জ্যোতি তাহাদের সম্মুখভাগে ও তাহাদের দক্ষিন দিকে ধাবিত হইতে থাকিবে, এবং তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের জন্য আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণ কর, এবং আমাদিগকে ক্ষমা কর, নিশ্চয় তুমি সর্বোপরি ক্ষমতাশালী”।

আয়াতঃ ০৯⇒ হে সংবাদ বাহক, তুমি ধর্মদ্রোহী ও কপট লোকদিগের সঙ্গে জ্বেহাদ করিও, এবং তাহাদের প্রতি কঠিন হইও ও তাহাদের আবাস নরকলোক, এবং (উহা) গর্হিত স্থান।

আয়াতঃ ১০⇒ পরমেশ্বর ধর্মদ্রোহীদিগের নিমিত্ত নুহার ভার্যা ও লুতের ভার্যার দৃষ্টান্ত বর্ণন করিয়াছেন, তাহারা আমার ভৃত্যদিগের মধ্যে দুই সাধু ভৃত্যের অধীনে (বিবাহিতা) ছিল, পরে তাহারা উভয়ে আপচয় করিল, অনন্তর তাহারা (নুহা ও লুত) তাহাদিগ হইতে ঈশ্বরের (শাস্তি) কিছুই নিবারণ করিতে পারিল না, এবং বলা হইল, “প্রবেশকারীদিগের সঙ্গে তোমরা দুই জনে নরকাগ্নিতে প্রবেশ কর”।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং পরমেশ্বর বিশ্বাসীদিগের জন্য ফেরওনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত বর্ণন করিলেন এবং (স্মরণ কর) যখন সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য স্বর্গে আপন সন্নিধানে একটি আলয় নির্মাণ কর, এবং আমাকে ফেরওন ও তাহার ক্রিয়া হইতে রক্ষা কর, এবং অত্যাচারীদল হইতে আমাকে উদ্ধার কর”। আয়াতঃ ১২⇒ এবং এমরানের কন্যা মরয়মের (দৃষ্টান্ত) যে স্বীয় জননেন্দ্রিয়কে সংরক্ষণ করিয়াছিল, অনন্তর আমি তন্মধ্যে স্বীয় আত্মা ফুঁৎকার করিয়াছিলাম, এবং সে আপন প্রতিপালকের বাক্যাবলী ও তাঁহার গ্রন্থ সকলকে প্রত্যয় করিয়াছিল, এবং আজ্ঞানুবর্তীদিগের অন্তর্গত ছিল।