সূরাঃ তলাক

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ হে সংবাদবাহক, (তুমি স্বীয় মণ্ডলীকে বল) যখন তোমরা ভার্যাদিগকে বর্জন কর তখন তাহাদিগকে তাহাদের (ঋতুর) গণনায় বর্জন করিবে, এবং তোমরা সেই গণনাকে পরিগণিত করিও, এবং আপন প্রতিপালক ঈশ্বরকে ভয় করিও, তাহাদিগকে তাহাদের গৃহ হইতে বাহির করিও না, এবং তাহারা স্পষ্ট দুষ্কর্ম করিতে ভিন্ন বাহির হইবে না, এবং এই সকল পরমেশ্বরের নির্ধারণ হয়, যে ব্যক্তি তাঁহার নির্ধারণাবলীকে উল্লঙ্ঘন করে পরে সে নিশ্চয় আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করে, (হে বর্জনকারীগণ) তুমি জান না, সম্ভবতঃ পরমেশ্বর ইহার পরে কোন ব্যাপার সংঘটন করিবেন।

আয়াতঃ ০২⇒ অনন্তর যখন তাহারা স্বীয় নির্ধারিত কালে উপস্থিত হয় তখন তাহাদিগকে তোমরা বৈধরুপে গ্রহণ করিও, অথবা বৈধরুপে তাহাদিগকে বিচ্ছিন্ন করিও ও তোমাদের মধ্যে দুই জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী গ্রহণ করিও, এবং ঈশ্বর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য ঠিক রাখিও, ইহাই (আদেশ) যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি ও পরলোকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহাকে এতদ্দারা উপদেশ দেওয়া হইয়া থাকে, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে ভয় করে তিনি তাহার জন্য মুক্তির পথ বিধান করেন।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তিনি তাহাকে যে স্থান হইতে সে মনে করে না সেই স্থান হইতে জীবিকা প্রদান করিয়া থাকেন, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে, পরে তিনিই তাহার পক্ষে যথেষ্ট, নিশ্চয় ঈশ্বর স্বীয় কার্যে উপনীত হইবেন, সত্যই পরমেশ্বর প্রত্যেক বস্তুর পরিমাণ নির্ধারণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ০৪⇒ তোমাদের ভার্যাদিগের মধ্যে যাহারা ঋতু সম্বন্ধে নিরাশ হইয়াছে ও যাহারা ঋতুমতী হয় নাই, যদি তোমরা সন্দেহ কর তবে তাহাদের গণনা তিন মাস, এবং গর্ভবতী নারীগণের গর্ভ স্থাপন (প্রসব করা) পর্যন্ত তাহাদের নির্ধারিত কাল, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে ভয় করে তিনি তাহার জন্য তাহার কার্য সহজ করিয়া দেন।

আয়াতঃ ০৫⇒ ইহাই ঈশ্বরের আজ্ঞা, ইহা তিনি তোমাদের প্রতি অবতারণ করিয়াছেন, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরকে ভয় করে তিনি তাহা হইতে তাহার অপরাধ সকল দূর করিবেন ও তাহার পুরস্কার বৃদ্ধি করিবেন।

আয়াতঃ ০৬⇒ তোমরা যে স্বীয় আয়ত্ব স্থানে বাস কর তথায় তাহাদিগকে (বর্জিতা ভার্যাদিগকে) রাখিয়া দিও, এবং তোমরা তাহাদিগকে (এমন) যন্ত্রনা দিও না যে, তাহাদের প্রতি সঙ্কট আনয়ন করিবে, যদি তাহারা গর্ভবতী হয় তবে যে পর্যন্ত না তাহারা আপন গর্ভ স্থাপন করে সে পর্যন্ত তোমরা তাহাদিগকে ভরণ-পোষণ করিতে থাকিবে, অনন্তর যদি তাহারা তোমাদের (সন্তানের) জন্য স্তন্য দান করে তবে তাহাদিগকে তাহাদের পারিশ্রমিক প্রদান করিবে, এবং বৈধরুপে পরস্পরের মধ্যে তোমরা কাজ করিতে থাক, এবং যদি তোমরা ক্লেশ দান কর তবে তাহাকে অন্য নারী স্তন্য দান করিবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ সচ্ছল ব্যক্তি আপন সচ্ছলতা অনুসারে যেন ব্যয় করে, এবং যাহার প্রতি তাহার উপজীবিকা সঙ্কোচ করা হইয়াছে, পরে ঈশ্বর তাহাকে যাহা দিয়াছেন তাহা হইতে সে যেন ব্যয় করিতে থাকে, পরমেশ্বর কোন ব্যক্তিকে তাহাকে যেমন (শক্তি) দান করিয়াছেন তদনুরুপ ব্যতীত ক্লেশ দান করেন না, শীঘ্রই পরমেশ্বর অসচ্ছলতার পর সচ্ছলতা বিধান করিবেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং অনেক গ্রাম (গ্রামবাসী) আপন প্রতিপালকের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের আজ্ঞা উল্লঙ্ঘন করিয়াছে, অনন্তর আমি কঠিন হিসাবানুসারে তাহাদের হিসাব লইয়াছি, এবং গুরুতর শাস্তিতে তাহাদিগকে শাস্তি দান করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৯⇒ পরে তাহারা স্বীয় কার্যের অপকারিতা আস্বাদন করিয়াছে, এবং তাহাদের কার্যের পরিণাম ক্ষতি হইয়াছে।

আয়াতঃ ১০⇒ পরমেশ্বর তাহাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছেন, অবশেষে হে বুদ্ধিমান বিশ্বাসী লোক সকল, তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক, সত্যই পরমেশ্বর তোমাদের প্রতি এক উপদেশ (কোরআন) অবতারণ করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১১⇒ এক প্রেরিতপুরুষ (পাঠাইয়াছেন) সে তোমাদের নিকটে ঈশ্বরের উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী পাঠ করিয়া থাকে, যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে যেন তাহাদিগকে তমঃপুঞ্জ হইতে আলোকের দিকে বাহির করে, এবং যাহারা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করিয়া থাকে তিনি তাহাদিগকে স্বর্গোদ্যানে লইয়া যাইবেন যাহার নিম্ন দিয়া জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, তথায় তাহারা নিত্যনিবাসী হইবে, নিশ্চয় পরমেশ্বর তাহাদের জন্য অত্যুত্তম জীবিকা বিধান করিবেন। আয়াতঃ ১২⇒ সেই পরমেশ্বর যিনি সপ্তস্বর্গ ও তৎসদৃশ পৃথিবী সৃজন করিয়াছেন, উভয়ের মধ্যে আদেশ অবতারণ করেন যেন তোমরা জানিতে পার যে, ঈশ্বর সর্ববিষয়ে শক্তিশালী, অপিচ নিশ্চয় পরমেশ্বর জ্ঞানানুসারে সমুদয় আয়ত্ব করিয়াছেন।