সূরাঃ তওবা

অবতীর্ণঃ মদীনা

আয়াতঃ ০১⇒ অংশীবাদীগণের যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা অঙ্গীকার বন্ধন করিয়াছ, ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি তাহাদের বিরাগ।

আয়াতঃ ০২⇒ অনন্তর তোমরা (হে অংশীবাদীগণ) চারি মাস পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, জানিও যে, তোমরা ঈশ্বরের পরাভবকারী নহ, এবং ঈশ্বর ধর্মদ্রোহীদিগের নির্যাতনকারী।

আয়াতঃ ০৩⇒ মহা হজ্বের দিন ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের পক্ষ হইতে মানবমণ্ডলীর প্রতি বিজ্ঞাপন যে, ঈশ্বর এবং তাঁহার প্রেরিতপুরুষ অংশীবাদীদিগের প্রতি অপ্রসন্ন, পরন্তু যদি তোমরা (বিদ্রোহিতা হইতে) প্রতিনিবৃত্ত হও, তবে তাহা তোমাদের জন্য মঙ্গলকর, এবং যদি অগ্রাহ্য কর, তবে জানিও যে, তোমরা ঈশ্বরের পরাভবকারী নহ, যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে তাহাদিগকে (হে মোহাম্মদ) তুমি দুঃখকর শাস্তি-সম্বন্ধে সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ০৪⇒ অংশীবাদীগণের যাহাদিগের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকার বন্ধন করিয়াছ, তৎপর যাহারা কোন বিষয়ে তোমাদের সঙ্গে ত্রুটি করে নাই, এবং তোমাদের উপরে (বিপক্ষে) কাহাকেও সাহায্য দান করে নাই, তাহারা ব্যতীত; অতঃপর তোমরা তাহাদের প্রতি তাহাদের অঙ্গীকারকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত পূর্ণ কর, নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মভীরুদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ০৫⇒ অনন্তর যখন হজ্বক্রিয়ার মাস সকল অতীত হয়, তখন যে স্থানে অংশীবাদীদিগকে প্রাপ্ত হও, সেই সাথেই তাহাদিগকে সংহার করিও, তাহাদিগকে ধর, এবং আবেষ্টন কর ও তাহাদের জন্য প্রত্যেক গম্যস্থানে উপবিষ্ট হও, পরে যদি প্রতিনিবৃত্ত হয় ও উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে, এবং জকাত দান করে, তবে তাহাদের পথ ছাড়িয়া দেও, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং যদি অংশীবাদীদিগের কোন ব্যক্তি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে ঈশ্বরের বাক্য যে পর্যন্ত শ্রবন করে, তাহাকে আশ্রয় দেও, তৎপর তাহার তাহার আশ্রয়ভূমিতে তাহাকে প্রেরন কর। ইহা এজন্য যে ইহারা এমন এক দল যে জ্ঞান রাখে না।

আয়াতঃ ০৭⇒ যাহাদের সঙ্গে তোমরা মসজেদোল হরামের নিকটে অঙ্গীকার বন্ধন করিয়াছ, তাহারা ব্যতীত অন্য অংশীবাদীদিগের নিমিত্ত অঙ্গীকার ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের নিকটে কিরুপে হয়? অনন্তর যে পর্যন্ত তাহারা তোমাদের জন্য (অঙ্গীকারে) স্থির থাকে, তোমরাও সে পর্যন্ত তাহাদের জন্য স্থীর থাক, নিশ্চয় ঈশ্বর ধর্মভীরু লোকদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ কেমন করিয়া হয়? এবং যদি তোমাদের উপর তাহারা জয় লাভ করে, তাহাদের সম্বন্ধে স্বগণত্ব ও অঙ্গীকার তাহারা রক্ষা করিবে না, তাহারা নিজ মুখে তোমাদিগকে সন্তুষ্ট করিতেছে, এবং তাহাদের অন্তর অস্বীকার করিতেছে, তাহাদের অধিকাংশই দুর্বৃত্ত।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহারা ঐশ্বরিক নিদর্শনের বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করিয়াছে, পরে তাঁহার পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখিয়াছে, নিশ্চয় তাহারা যাহা করিতেছিল, তাহা মন্দ।

আয়াতঃ ১০⇒ তাহারা কোন বিশ্বাসীর সম্বন্ধে স্বগণত্ব ও অঙ্গীকার পালন করিতেছে না, ইহারাই তাহারা যে সীমালঙ্ঘনকারী।

আয়াতঃ ১১⇒ পরন্তু যদি তাহারা পাপ হইতে নিবৃত্ত হয় ও উপাসনাকে প্রতিষ্টিত রাখে, এবং জকাত দান করে, তবে তাহারা ধর্ম সম্বন্ধে তোমাদের ভ্রাতা, এবং যাহারা জ্ঞান রাখে, সেই দলের জন্য আমি নিদর্শন সকল বিস্তারিত বর্ণন করিতেছি।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং যদি তাহারা আপন অঙ্গীকারবন্ধনের পর আপন শপথ ভঙ্গ করে, এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি ব্যঙ্গ  করে, তবে সেই ধর্মদ্রোহীতায় অগ্রগামীদের সঙ্গে তোমরা যুদ্ধ কর, নিশ্চয় তাহারাই যে, তাহাদের জন্য শপথ নাই, ভরসা যে, তাহারা নিবৃত্ত হইবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ যাহারা আপন শপথ ভঙ্গ করিয়াছে, এবং প্রেরিতপুরুষকে নির্বাসন করিতে সচেষ্ট হইয়াছে, সেই দলের সঙ্গে কি তোমরা সংগ্রাম করিবে না? এবং তাহারা প্রথমবারে তোমাদের সঙ্গে আরম্ভ করিয়াছে, তোমরা কি তাহাদিগকে ভয় করিতেছ? পরন্তু যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তবে ঈশ্বরই উপযুক্ত যে তাঁহাকে ভয় কর।

আয়াতঃ ১৪⇒ তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, তোমাদের হস্তে ঈশ্বর তাহাদিগকে শাস্তি দিবেন, এবং বড়ম্বিত করিবেন ও তাহাদের উপর তোমাদিগকে বিজয়ী করিবেন, এবং বিশ্বাসীদলের অন্তরকে সুস্থ করিবেন।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তিনি তাহাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করিবেন, যাহার প্রতি ইচ্ছা হয়, ঈশ্বর তাঁহার প্রতি প্রত্যাবর্তন করেন, এবং ঈশ্বর জ্ঞানবান নিপুন।

আয়াতঃ ১৬⇒ তোমরা কি মনে করিয়াছ যে, পরিত্যাক্ত হইবে? ও তোমাদের মধ্যে যাহারা ধর্মযুদ্ধ করে, তাহারা ঈশ্বর ব্যতীত ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ এবং বিশ্বাসীগণ ব্যতীত গুপ্তবন্ধু রাখে না, এ পর্যন্ত ঈশ্বর তাহাদিগকে জানেন না? এবং তোমরা যাহা করিতেছ, ঈশ্বর তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ১৭⇒ আপন জীবনে ধর্মদ্রোহীতার বিষয়ে সাক্ষ্যদাতা হইয়া যে ঈশ্বরের মন্দির সকলের স্থিতিরক্ষা করিবে, অংশীবাদীদিগের জন্য তাহা নয়, এই তাহারাই তাহাদের ক্রিয়া সকল ব্যর্থ হইয়াছে, এবং তাহারা নরকাগ্নির চিরনিবাসী।

আয়াতঃ ১৮⇒ যে ব্যক্তি ঈশ্বরে ও অন্তিম দিবসে বিশ্বাস করে, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত রাখে ও জকাত দান করে,  এবং ঈশ্বর ব্যতীত (অন্য কাহাকে) ভয় করে না, সে ঈশ্বরের মন্দির সকলের স্থিতিরক্ষা করে, তদ্ব্যতীত নহে; ইহারাই, যে সত্বর পথপ্রাপ্তদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ১৯⇒ যে ঈশ্বরে ও অন্তিম দিবসে বিশ্বাস স্থাপন ও ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করিয়াছে, তোমরা কি তাহার ন্যায় হাজীদিগকে জলপান করাইয়াছ, এবং মসজেদোলহরামের স্থিতিরক্ষা করিয়াছ? ঈশ্বরের নিকটে (সকলে) তুল্য নয়, এবং ঈশ্বর অত্যাচারী দলকে পথপ্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ২০⇒ যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে ও দেশত্যাগ করিয়াছে, এবং ঈশ্বরের পথে আপন ধন ও আপন জীবন দ্বারা সংগ্রাম করিয়াছে, ঈশ্বরের নিকটে তাহাদের সর্বোচ্চপদ, এবং ইহারাই তাহারা যে পূর্ণ মনোরথ হইবে।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে স্বীয় দয়া ও সন্তোষ এবং তাহাদের জন্য যাহাতে নিত্য সম্পদ হয়, এমন স্বর্গোদ্যান বিষয়ে সুসংবাদ দান করেন।

আয়াতঃ ২২⇒ তাহারা তথায় নিত্যকাল অবস্থিতি করিবে, নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটে মহাপুরস্কার।

আয়াতঃ ২৩⇒ হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের পিতৃগণকে ও ভ্রাতৃগণকে, যদি তাহারা বিশ্বাসের অধিক বিদ্রোহিতাকে প্রেম করে, তোমরা বন্ধুরুপে গ্রহণ করিও না, এবং তোমাদের যে ব্যক্তি তাহাদিগের সঙ্গে বন্ধুতা করে, পরে ইহারাই তাহারা যে অত্যাচারী।

আয়াতঃ ২৪⇒ বল, (হে মোহাম্মদ) যদি তোমাদের পিতৃগণ, তোমাদের পুত্রগণ ও তোমাদের ভ্রাতৃগণ ও তোমাদের ভার্যা সকল এবং তোমাদের কুটুম্বগণ এবং সম্পত্তি সকল যাহা তোমরা উপার্জন করিয়াছ, এবং বানিজ্য যে তাহার অপ্রচলনকে তোমরা ভয় কর, এবং আলয় সকল, যাহা তোমরা মনোনীত কর, এসকল যদি তোমাদের নিকটে ঈশ্বর ও তাঁহার পেরিতপুরুষ এবং ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম অপেক্ষা প্রিয়তর হয়, তবে ঈশ্বর আপন আজ্ঞা উপস্থিত করা পর্যন্ত তোমরা প্রতীক্ষা কর, এবং পরমেশ্বর দুরাচারদলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ২৫⇒ সত্যসত্যই পরমেশ্বর বহু স্থানে তোমাদিগকে সাহায্য দান করিয়াছেন, এবং হোনয়নের দিবসে যখন তোমাদের লোকাধিক্য তোমাদিগকে প্রফুল্ল করিয়াছিল, তখন তাহা তোমাদিগের কিছুই উপকার করে নাই, বিস্তৃতিস্বত্বে ভূমি তোমাদের পক্ষে সঙ্কীর্ণ হইয়াছিল। তৎপর তোমরা পৃষ্ঠভঙ্গ দিয়া প্রস্থান করিয়াছিলে।

আয়াতঃ ২৬⇒ অতঃপর ঈশ্বর তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি ও বিশবাসীদিগের প্রতি আপন সান্তনা প্রেরন করিলেন ও সৈন্য পাঠাইলেন, তোমরা তাহা দেখ নাই, এবং কাফেরদিগকে শাস্তি দান করিলেন, ঈশ্বরদ্রোহীদিগের ইহাই বিনিময়।

আয়াতঃ ২৭⇒ তদনন্তর ইহার পর ঈশ্বর যাহার প্রতি ইচ্ছা হয়, প্রত্যাবর্তন করিবেন, এবং ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ২৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, অংশীবাদীরা অপবিত্র, তদ্ব্যতীত নহে, অবশেষে তাহাদের এতদ্বৎসরের অন্তে তাহারা মসজেদোলহরামের নিকটবর্তী হইতে পারিবে না, এবং যদি তোমরা দরিদ্রতাকে ভয় কর, তবে ইচ্ছা করিলে ঈশ্বর তোমাদিগকে আপন কৃপাগুনে সত্বর ধনী করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর জ্ঞানী ও নিপুন।

আয়াতঃ ২৯⇒ যাহারা ঈশ্বরের প্রতি ও অন্তিম দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, এবং ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ যাহা অবৈধ করিয়াছেন তাহা অবৈধ মনে করে না, এবং যাহাদিগকে গ্রন্থ প্রদত্ত হইয়াছে তাহাদিগ হইতে সত্যধর্ম গ্রহণ করে না, যে পর্যন্ত তাহারা নিকৃষ্ট হইয়া স্বহস্তে জজিয়া প্রদান না করে তাহাদের সঙ্গে তোমরা সংগ্রাম কর।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং ইহুদীগণ বলে, ওজয়িজ ঈশ্বরের পুত্র, এবং ঈসায়ীগণ বলে, ঈসা ঈশ্বরের পুত্র, ইহা তাহাদের আপন মুখের উক্তি, যাহারা পূর্ব হইতে কাফের হইয়াছে তাহাদের কথায় পরস্পর সাদৃশ্য আছে, ঈশ্বর তাহাদিগকে বিনাশ করুন, তাহারা কোথা হইতে (সত্যপথ হইতে) ফিরিয়া যাইতেছে।

আয়াতঃ ৩১⇒ তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া আপনাদের জ্ঞানীলোকদিগকে ও আপনাদের তপস্বীদিগকে এবং মরিয়মের পুত্র ঈসাকে প্রতিপালকরুপে গ্রহণ করিয়াছে, এবং মরিয়মের পুত্র ঈসা এবং তাহারা একমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা করা ব্যতীত আদিষ্ট হয় নাই, তিনি ভিন্ন ঈশ্বর নাই, তাহারা যাহাকে অংশী নির্ণয় করে তাহা অপেক্ষা তিনি পবিত্র।

আয়াতঃ ৩২⇒ তাহারা আপন মুখে ঈশ্বরের জ্যোতিকে নির্বাণ করিতে ইচ্ছা করে, এবং যদিচ ধর্মদ্রোহীগণ অসন্তুষ্ট হয় তথাপি ঈশ্বর স্বীয় জ্যোতিঃ পূর্ণ করা ব্যতীত কিছুই গ্রাহ্য করেন না।

আয়াতঃ ৩৩⇒ তিনিই যিনি আপন প্রেরিতপুরুষকে যদিচ অংশীবাদীগণ অসন্তুষ্ট তথাপি ধর্মালোক ও সত্যধর্ম সহ সমুদায় ধর্মের উপর বিজয়ী করিতে প্রেরন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ৩৪⇒ হে বিশ্বাসীগণ, নিশ্চয়ই অধিকাংশ জ্ঞানী ও তপস্বী অন্যায়রুপে লোকের ধন ভোগ করিয়া থাকে ও ঈশ্বরের পথ হইতে (লোকদিগকে) নিবৃত্ত রাখে, এবং যাহারা স্বর্ণ-রৌপ্য সঞ্চয় করিয়া ঈশ্বরের পথে তাহা ব্যয় করে না, (হে মোহাম্মদ) তুমি তাহাদিগকে দুঃখজনক শাস্তির সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ৩৫⇒ যে দিবস নরকাগ্নিতে তাহার উপর উষ্ণ করা হইবে, পরে তদ্দারা তাহাদের ললাটে ও তাহাদের পার্শ্বদেশে এবং তাহাদের পৃষ্ঠে চিহ্নিত করা হইবে, সেই দিবস (বলা হইবে) ইহা তাহা যাহা তোমরা নিজের জন্য সঞ্চয় করিয়াছ, অতএব যাহা সঞ্চয় করিতেছিলে, তাহার স্বাদ গ্রহণ কর।

আয়াতঃ ৩৬⇒ নিশ্চয় ঈশ্বরের নিকটে ঐশ্বরিক গ্রন্থে মাস সকলের গণনা দ্বাদশ মাস হয়, সে দিবস তিনি স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন (সেদিন হইতে) তাহার চারিটি অবৈধ, ইহাই সত্যধর্ম; অতএব তাহাতে তোমরা আত্মজীবন সম্বন্ধে অত্যাচার করিও না, এবং অংশীবাদীদের সকলের সঙ্গে তাহারা যেমন তোমাদের সকলের সঙ্গে সংগ্রাম করে সংগ্রাম কর, জানিও যে পরমেশ্বর ধর্মভীরুদিগের সঙ্গে আছেন।

আয়াতঃ ৩৭⇒  ধর্মদ্রোহিতায় ভুল অধিক, এতদ্ভিন্ন নহে, তদ্দারা ধর্মদ্রোহীগণ বিভ্রান্তীকৃত হয়, তাহারা এক বৎসর তাহাকে (সেই মাসকে) বৈধ এবং এক বৎসর তাহাকে অবৈধ গণনা করে, তাহাতে ঈশ্বর যাহা অবৈধ করিয়াছেন তাহারা তাহা বৈধ করে, তাহাদের জন্য তাহাদের অসৎকর্ম সজ্জিত হইয়াছে, এবং ঈশ্বর ধর্মদ্রোহীদলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমাদিগকে বলা হয় যে, ঈশ্বরের পথে বাহির হও, তখন তোমাদের জন্য কি হয় যে, তোমরা পৃথিবীর দিকে ঝুঁকিয়া পর, তোমরা কি পরলোক অপেক্ষা পার্থিব জীবনকে মনোনীত করিয়াছ? পরন্তু পরলোকের সম্বন্ধে পার্থিব জীবন ক্ষুদ্র বিষয় ব্যতীত  নহে।

আয়াতঃ ৩৯⇒ যদি বাহির না হও তবে (ঈশ্বর) দুঃখজনক শাস্তিতে তোমাদিগকে শাস্তিদান করিবেন, এবং তোমরা ব্যতীত (অপর) এক জাতিকে তিনি বিনিময়রুপে গ্রহণ করিবেন, এবং তাহাকে তোমরা কিছুই ক্লেশ দান করিবে না, ঈশ্বর সর্বোপরি ক্ষমতাশালী।

আয়াতঃ ৪০⇒ যদি তোমরা তাহাকে (প্রেরিতপুরুষকে) সাহায্য দান না কর তবে নিশ্চয় (জানিও) যখন কাফেরগণ তাহাকে দুইয়ের দ্বিতীয়রুপে বাহির করিয়াছিল তখন ঈশ্বর তাহাকে সাহায্য দান করিয়াছেন, যখন তাহারা উভয়ে গর্তমধ্যে ছিল, যখন সে আপন সঙ্গীকে বলিতেছিল যে, নিশ্চয় ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন, তখন ঈশ্বর তাহার প্রতি আপনার সান্ত্বনা প্রেরন করিয়াছিলেন, এবং সৈন্য দ্বারা তাহার সহায়তা করিয়াছিলেন, তাহা তোমরা দর্শন কর নাই, এবং তিনি কাফেরগণের অসত্য বাক্যকে নীচ করিয়াছিলেন, ঈশ্বরের সেই বাক্য উচ্চ, ঈশ্বর পরাক্রান্ত ও নিপুন।

আয়াতঃ ৪১⇒ লঘু ও গুরু ভাররুপে তোমরা সকলে বাহির হও ও আপন ধন ও আপন জীবনযোগে ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম কর, যদি তোমরা জ্ঞান রাখ তবে ইহাই তোমাদের জন্য কল্যাণ।

আয়াতঃ ৪২⇒ যদি নিকট সম্পত্তি ও বিদেশযাত্রা মধ্যম প্রকার হইত তবে অবশ্য তাহারা তোমার অনুসরণ করিত, কিন্তু দীর্ঘ পথ তাহাদের নিকটে দূর বোধ হইল; সত্বর তাহারা ঈশ্বরযোগে শপথ করিয়া বলিবে যে, যদি আমাদের সাধ্য থাকিত আমরা তোমাদের সঙ্গে অবশ্য বাহির হইতাম; তাহারা আপন জীবনকে বিনাশ করে, ঈশ্বর জানেন যে, অবশ্য তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ⇒ ৪৩

ঈশ্বর তোমাকে (হে মোহাম্মদ) ক্ষমা করুন, যাহারা সত্যবাদী, যে পর্যন্ত না তাহারা তোমার জন্য প্রকাশিত হয় ও তুমি মিথ্যাবাদীদিগকে জ্ঞাত হও সে পর্যন্ত কেন তাহাদিগকে অনুমতি দান করিলে?

আয়াতঃ⇒ ৪৪

যাহারা ঈশ্বরে ও অন্তিম দিবসে বিশ্বাস করে তাহারা আপন সম্পত্তি ও আপন জীবনযোগে সংগ্রাম করিয়া থাকে, তাহারা (পশ্চাদ্বর্তী হইবার জন্য) তোমার নিকটে অনুমতি প্রার্থনা করে না, ঈশ্বর ধর্মভীরুদিগকে জ্ঞাত আছেন।

আয়াতঃ⇒ ৪৫

যাহারা ঈশ্বরের প্রতি ও অন্তিম দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না তাহারা তোমার নিকটে অনুমতি প্রার্থনা করে এতদ্ভিন্ন নহে, এবং তাহাদের অন্তঃকরণ সন্দেহপ্রবণ, পরে তাহারা স্বীয় সন্দেহের মধ্যে ঘূর্ণায়মান হয়।

আয়াতঃ⇒ ৪৬

এবং যদি তাহারা বাহির হওয়ার ইচ্ছা করিত, তবে তাহার আয়োজনের উদ্যোগ করিত, কিন্তু ঈশ্বর তাহাদিগের সমুত্থানকে মনোনীত করেন নাই, অতএব তাহাদিগকে নিবৃত্ত রাখিয়াছেন, এবং বলা হইয়াছে যে, উপবিষ্ট লোকদিগের সঙ্গে বসিয়া যাও।

আয়াতঃ⇒ ৪৭

যদি তাহারা তোমাদিগের সঙ্গে বাহির হইত উপদ্রব করা ভিন্ন তোমাদের (কিছুই) বৃদ্ধি করিত না, এবং তোমাদিগের ভেতরে তোমাদিগের প্রতি উপদ্রব অন্বেষণ করিয়া অশ্ব চালাইত; এবং তোমাদের মধ্যে তাহাদের জন্য গুপচর সকল আছে, এবং ঈশ্বর অত্যাচারীদিগকে জ্ঞাত।

আয়াতঃ⇒ ৪৮

সত্যসত্যই পূর্ব হইতে তাহারা উৎপাত অন্বেষণ করিয়াছে ও যে পর্যন্ত না সত্য উপস্থিত হইয়াছে, এবং ঈশ্বরের আজ্ঞা প্রতিভাত হইয়াছে তাহারা কারয সকল তোমার জন্য বিপর্যস্ত করিয়াছে, এবং তাহারা বীতরাগ ছিল।

আয়াতঃ⇒ ৪৯

এবং তাহাদের মধ্যে কেহ বলিতেছে যে, আমাকে অনুমতি দান কর ও বিপাকে ফেলিও না; জানিও বিপাকে তাহারা পতিত আছে, এবং নিশ্চয় ধর্মদ্রোহীগণকে নরক ঘেরিয়া আছে।

আয়াতঃ⇒ ৫০

যদি কল্যাণ তোমাকে প্রাপ্ত হয় তবে তাহাদিগকে অসুখী করে, এবং যদি বিপদ তোমাকে প্রাপ্ত হয় তবে তাহারা বলে, “নিশ্চয় পূর্ব হইতে আমরা নিজের কারয গ্রহণ করিয়াছি;” এবং তাহারা আনন্দে ফিরিয়া যায়।

আয়াতঃ⇒ ৫১

তুমি বলিও, ঈশ্বর যাহা আমাদিগের জন্য লিপি করিয়াছেন কখনো তাহা ভিন্ন আমাদের নিকটে উপস্থিত হয় না, তিনি আমাদের প্রভু, অতএব বিশ্বাসীগণ যেন ঈশ্বরের প্রতি নির্ভর করে।

আয়াতঃ⇒ ৫২

তুমি বলিও, তোমরা দুইটি কল্যাণের একটি ব্যতীত আমাদের সম্বন্ধে প্রতীক্ষা করিতেছ না, এবং আমরা তোমাদের সম্বন্ধে প্রতীক্ষা করিতেছি যে, ঈশ্বর আপনার নিকট হইতে অথবা আমাদের হস্ত দ্বারা শাস্তি তোমাদের প্রতি প্রেরন করিবেন, অপিচ তোমরা প্রতীক্ষা করিতে থাক, নিশ্চয় আমরাও তোমাদিগের সঙ্গে প্রতীক্ষাকারী।

আয়াতঃ⇒ ৫৩

তুমি বলিও (হে কপটগণ) তোমরা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দান করিতে থাক, তিনি তোমাদিগ হইতে তাহা কখনো গ্রহণ করিবেন না, নিশ্চয় তোমরা দুর্বৃত্ত দল হও।

আয়াতঃ⇒ ৫৪

তাহাদিগ হইতে তাহাদিগের দান গ্রহণ করিতে তাহাদিগকে ইহা ভিন্ন নিবারন করে নাই যেহেতু তাহারা ঈশ্বরের প্রতি ও তাঁহার প্রেরিত পুরুষের প্রতি বিদ্রোহিতা করিয়াছে ও তাহারা শৈথিল্য করিয়া ভিন্ন নমাজে উপস্থিত হয় না, এবং তাহারা অনিচ্ছায় ভিন্ন দান করে না।

আয়াতঃ⇒ ৫৫

অনন্তর তাহাদের ধন ও তাহাদের সন্তানগণ তোমাকে আশ্চর্যানিত করিবে না, তাহাদিগকে ইহা দ্বারা পার্থিব জীবনে শাস্তি দান করেন, ঈশ্বর ইহা ব্যতীত ইচ্ছা করেন না, এবং তাহাদিগের প্রাণ বহির্গত হইবে ও তাহারা কাফের থাকিবে।

আয়াতঃ⇒ ৫৬

এবং তাহারা ঈশ্বরযোগে শপথ করিবে যে, নিশ্চয় তাহারা একান্ত তোমাদিগেরই হয়, কিন্তু তাহারা (এমন) একদল যে, (যুদ্ধে) ভয় পায়।

আয়াতঃ⇒ ৫৭

যদি তাহারা কোন আশ্রয়স্থান অথবা কোন গর্ত কিংবা প্রবেশস্থান প্রাপ্ত হয় তবে তাহার দিকে তাহারা অবশ্য প্রস্থান করিতে ধাবিত হয়।

আয়াতঃ⇒ ৫৮

এবং তাহাদের মধ্যে কেহ আছে যে, তোমাকে দাতব্য বন্টনে দোষী করিতেছে, পরন্তু যদি তাহা হইতে দান কর তবে তাহারা সন্তুষ্ট হয়; এবং যদি তাহা হইতে (তাহাদিগকে) দান না কর তাহারা অকস্মাৎ ক্রুদ্ধ হয়।

আয়াতঃ⇒ ৫৯

এবং ঈশ্বর ও তাহার প্রেরিতপুরুষ তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন যদি তাহারা তাহাতে সন্তুষ্ট হইত, এবং বলিত পরমেশ্বরই আমাদের পক্ষে যথেষ্ট, পরমেশ্বর আপন গুনে ও তাহার প্রেরিতপুরুষ অবশ্য আমাদিগকে দান করিবেন, নিশ্চয় আমরা ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগী (তাহা হইলে ভালো ছিল)।

আয়াতঃ⇒ ৬০

সেদকা দরিদ্রদিগের জন্য ও নিরুপায়দিগের জন্য ও তৎসম্বন্ধে কর্মচারীদিগের জন্য ও যাহাদের অন্তরকে অনুরক্ত করা যাইতেছে তাহাদের জন্য এবং গ্রীবামুক্তি বিষয়ে ও ঋণগ্রস্থের প্রতি ও ঈশ্বরের পথে ধর্মযুদ্ধে এবং পথিকদিগের প্রতি ইহা ব্যতীত নহে, ঈশ্বরের নিকট হইতে বিধি হয়, এবং ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ⇒ ৬১

তাহাদিগের মধ্যে উহারা হয় যে, তত্ত্ববাহককে ক্লেশ দান করে, এবং বলে যে, তিনি শ্রোতা; বল, শ্রোতা হওয়াতে তোমাদের জন্য কল্যাণ হয়, সে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস করে ও বিশ্বাসীদিগকে বিশ্বাস করে এবং তোমাদের যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদের জন্য (ইহা) অনুগ্রহ; যাহারা ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষকে ক্লেশ দান করে তাহাদের জন্য দুঃখকর শাস্তি আছে।

আয়াতঃ⇒ ৬২

তাহারা তোমাদিগকে প্রসন্ন করিতে তোমাদের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরের যোগে শপথ করে; এবং যদি তাহারা বিশ্বাসী হয় তবে তাহাদিগকে সন্তুষ্ট করা ঈশ্বর ও প্রেরিতপুরুষের সম্যক কর্তব্য।

আয়াতঃ⇒ ৬৩

তাহারা কি ইহা জ্ঞাত হয় নাই যে, যে ব্যক্তি ও ঈশ্বর ও তাহার প্রেরিত পুরুষের বিরোধী হয় পরে নিশ্চয় তাহার জন্য নরকাগ্নি আছে, তথায় সে নিত্যবাসী হইবে, ইহাই মহা দুর্গতি।

আয়াতঃ⇒ ৬৪

কপট লোকেরা ভয় পায় যে, তাহাদের প্রতি বা এমন কোন সূরা অবতারিত হয় যে, তাহাদের অন্তরে যাহা আছে তাহার সংবাদ তাহাদিগকে দান করে, বল, তোমরা উপহাস করিতে থাক, তোমরা যাহাতে ভয় পাইতেছ নিশ্চয় ঈশ্বর তাহার প্রকাশক।

আয়াতঃ⇒ ৬৫

এবং যদি তুমি তাহাদিগকে প্রশ্ন কর তাহারা অবশ্য বলিবে যে, আমরা উপহাস ও ক্রীড়া করি ইহা ব্যতীত নহে, তুমি বলিও, ঈশ্বরের প্রতি ও নিদর্শন সকলের প্রতি ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি তোমরা উপহাস করিতেছ।

আয়াতঃ⇒ ৬৬

তোমরা ছলনা করিও না, নিশ্চয় তোমরা বিশ্বাস লাভের পর কাফের হইয়াছ, যদি আমি তোমাদের এক দলকে ক্ষমা করি, এক দলকে শাস্তি দেব, যেহেতু তাহারা অপরাধী হইয়াছে।

আয়াতঃ⇒ ৬৭

কপট পুরুষ ও কপট নারীগণ তাহারা এক অন্যের অন্তর্গত, তাহারা অবৈধ কারযে (লোকদিগকে) আদেশ করে  ও বৈধ কারয হইতে নিবৃত্ত করিয়া থাকে, এবং স্বীয় হস্তকে (দানে) বদ্ধ রাখে; তাহারা ঈশ্বরকে বিস্মৃত হইয়াছে, অতএব তিনিও তাহাদিগকে বিস্মৃত হইয়াছেন, নিশ্চয় সেই কপটেরা দুর্বৃত্ত।

আয়াতঃ⇒ ৬৮

ঈশ্বর কপট পুরুষ ও কপট নারীগণের এবং কাফেরদিগের সম্বন্ধে নরকাগ্নি অস্বীকার করিয়াছেন, তাহারা তথাকার চিরনিবাসী, ইহা তাহাদিগের জন্য যথেষ্ট, এবং ঈশ্বর তাহাদিগকে অভিসম্পাত করিয়াছেন, এবং তাহাদিগের জন্য নিত্য শাস্তি আছে।

আয়াতঃ⇒ ৬৯

যেমন তোমাদের পূর্বে যাহারা ছিল, তাহারা শক্তিতে তোমাদিগ অপেক্ষা দৃঢ়তর ছিল ও ধন ও সন্তান বিষয়ে অধিকতর ছিল, পরে তাহারা আপন লভ্য দ্বারা (সংসার দ্বারা) ফলভোগী হইয়াছিল; অতএব যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা স্বীয় লভ্য দ্বারা ফলভোগী হইয়াছে তোমরাও স্বীয় লভ্য দ্বারা ফলভোগী হও, এবং তাহারা যেমন অযথা উক্তি করিয়াছে; তোমরাও সেইরুপ অযথা উক্তি করিয়াছ; ইহারাই, ইহাদের কারয ইহলোকে ও পরলোকে বিনষ্ট হইয়াছে; ইহারাই যে, ইহারা ক্ষতিগ্রস্থ।

আয়াতঃ⇒ ৭০

তাহাদের পূর্বে নুহীয় ও আদীয় ও সমুদীয় সম্প্রদায় যাহারা ছিল তাহাদের এবং এব্রাহিমের সম্প্রদায়ের ও মদয়ন ও মূতফেকাতনিবাসীদিগের সংবাদ কি তাহাদের নিকটে উপস্থিত হয় নাই? তাহাদের নিকটে তাহাদের প্রেরিতপুরুষ স্পষ্ট নিদর্শন সকলসহ উপস্থিত হইয়াছিল, পরন্তু ঈশ্বর (এরুপ) ছিলেন না যে, তাহাদিগের প্রতি অত্যাচার করেন, কিন্তু তাহারা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করিতেছিল।

আয়াতঃ⇒ ৭১

এবং বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশবাসিনী নারীগণ পরস্পর পরস্পরের বন্ধু তাহারা বৈধ বিষয়ে আদেশ করে ও অবৈধ বিষয়ে নিষেধ করিয়া থাকে, এবং উপাসনাকে প্রতিষ্টিত রাখে, জকাত দান করে, অপিচ ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিত পুরুষের অনুগত হয়, তাহারাই, সত্ত্বর ঈশ্বর তাহাদিগকে কৃপা করিবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর বিজয়ী ও নিপুন।

আয়াতঃ⇒ ৭২

বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশবাসিনী নারীদিগের সম্বন্ধে ঈশ্বর স্বর্গদ্যান সকল অঙ্গীকার করিয়াছেন, তাহার নিম্ন দিয়া জলপ্রনালী প্রবাহিত হয়, তথায় তাহারা চিরনিবাসী হইবে, এবং নিত্য স্বর্গদ্যানে পবিত্র বাসস্থান সকল ও ঈশ্বরের মহা প্রসন্নতা সকল আছে, ইহাই সেই মহা চরিতার্থতা হয়।

আয়াতঃ⇒ ৭৩

হে তত্ত্ববাহক, ধর্মদ্রোহী ও কপট লোকদিগের সঙ্গে সংগ্রাম করিও, এবং তাহাদের প্রতি কঠিন ব্যবহার করিও, তাহাদের স্থান নরক, এবং (উহা) কুৎসিত স্থান।

আয়াতঃ⇒ ৭৪

তাহারা ঈশ্বরের যোগে (নামে) শপথ করে যে, তাহা বলে নাই, এবং সত্যসত্যই তাহারা ধর্মদ্রোহীতার বাক্য বলিয়াছে ও স্বীয় এসলাম ধর্মের পর কাফের হইয়াছে, এবং যাহা প্রাপ্ত হয় নাই তৎপ্রতি উদ্যোগ করিয়াছে, ঈশ্বর ও তাহার প্রেরিত পুরুষ আপন গুনে তাহাদিগকে যে সম্পদশালী করিয়াছিলেন তাহারা তাহা ভিন্ন অগ্রাহ্য করে নাই, অনন্তর যদি তাহারা প্রত্যাবর্তিত হয় তবে তাহাদের জন্য কল্যাণ হইবে এবং যদি (প্রত্যাবর্তন হইতে) প্রতিনিবৃত্ত হয় তবে ঈশ্বর ইহলোকে ও পরলোকে তাহাদিগকে দুঃখজনক দন্ডে দন্ডিত করিবেন, এবং পৃথিবীতে তাহাদের জন্য কোন বন্ধু ও সহায় নাই।

আয়াতঃ⇒ ৭৫

তাহাদিগের মধ্যে কেহ আছে যে ঈশ্বরের সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছে যে, “যদি তিনি স্বীয় কৃপা গুনে আমাদিগকে দান করেন তবে অবশ্য আমরা সেদকা দিব, এবং অবশ্য সাধু হইব।“

আয়াতঃ⇒ ৭৬

অনন্তর যখন তিনি তাহাদিগকে আপন গুনেদান করিলেন তখন তাহারা তদ্বিষয়ে কৃপণতা করিল ও ফিরিয়া গেল, এবং তাহারা অগ্রাহ্যকারী হয়।

আয়াতঃ⇒ ৭৭

অনন্তর তাহার সঙ্গে যে দিবস তাহারা সাক্ষাৎ করিবে সে পর্যন্ত তিনি তাহাদের অন্তরে ঈর্ষাকে তাহাদের পরিণাম নিদর্শন করিলেন, তাহারা ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁহার সম্বন্ধে যে অঙ্গীকার করিয়াছিল তদ্বিষয়ে যে বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে এবং যে অসত্য বলিতেছিল তজ্জন্য (ইহা হইল)।

আয়াতঃ⇒ ৭৮

ঈশ্বর যে তাহাদের গুপ্ত বিষয় ও তাহাদের গূঢ় মন্ত্রণা জানিতেছেন, এবং ঈশ্বর যে গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞাতা তাহারা কি জানিতেছে না?

আয়াতঃ⇒ ৭৯

সেদকাতে অনুরাগী এমন বিশ্বাসীদিগের ও যাহারা স্বীয় পরিশ্রম ব্যতীত (কিছুই) প্রাপ্ত হয় না যাহারা তাহাদের দোষ ধরে পরে তাহাদিগকে উপহাস করে, ঈশ্বরও তাহাদিগকে উপহাস করেন, এবং তাহাদের জন্য দুঃখজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ⇒ ৮০

তুমি তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর, যদি সত্বর বারও তাহাদের নিমিত্ত ক্ষমা প্রার্থনা কর তথাপি কখনো ঈশ্বর তাহাদিগকে ক্ষমা করিবেন না, ইহা এজন্য যে, তাহারা ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের বিদ্রোহী হইয়াছে, ঈশ্বর দুর্বৃত্তদলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ⇒ ৮১

পশ্চাতে পরিত্যক্ত লোকেরা ঈশ্বরপ্রেরিতের বিরুদ্ধে আপনাদের উপবেশনে সন্তুষ্ট হইল, এবং ঈশ্বরের পথে আপন সম্পত্তি ও আপন জীবন যোগে সংগ্রাম করিতে অসন্তুষ্ট হইল, এবং পরস্পর বলিল, “তোমরা উষ্ণতার মধ্যে বাহির হইও না;” তুমি বল, নরকাগ্নি অধিকতর উষ্ণ; যদি তাহারা বুঝিত (এরুপ করিত না)।

আয়াতঃ⇒ ৮২

অতএব উচিত যে তাহারা অল্প হাস্য করে ও অধিক ক্রন্দন করে, তাহারা যাহা করিতেছিল তাহার বিনিময় আছে।

আয়াতঃ⇒ ৮৩

অনন্তর যদি ঈশ্বর তোমাকে (হে মোহাম্মদ) তাহাদের কোন দলের নিকটে পুনর্বার আনয়ন করেন, তবে বাহির হইবার জন্য তাহারা তোমার নিকটে অনুমতি প্রার্থনা করিবে, তখন তুমি বলিও, তোমরা আমার সঙ্গে কখনো বহির্গত হইবে না, এবং আমার সমভিব্যাহারে কখনো কোন শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করিবে না, নিশ্চয় তোমরা বসিয়া থাকিতে প্রথম বারে সম্মত হইয়াছে, অতএব পশ্চাৎবর্তীদিগের সঙ্গে বসিয়া থাক।

আয়াতঃ⇒ ৮৪

মরিলে তাহাদের কাহারও উপর (হে মোহাম্মদ) তুমি কখনো নমাজ পড়িও না, এবং তাহাদের সমাধির উপরে দন্ডায়মান হইও না; নিশ্চয় তাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সম্বন্ধে বিরোধী হইয়াছে, এবং তাহারা দুর্বৃত্ত অবস্থায় প্রাণত্যাগ করিল।

আয়াতঃ⇒ ৮৫

এবং তাহাদের সম্পত্তি ও তাহাদের সন্তানগণ তোমাকে বিস্মিত যেন না করে, ঈশ্বর ইচ্ছা করিয়া থাকেন যে, এতদ্দারা পৃথিবীতে তাহাদিগকে শাস্তি দান করেন, ইহা ব্যতীত নহে; তাহাদের প্রাণ বহির্গত হইবে অথচ তাহারা কাফের থাকিবে।

আয়াতঃ⇒ ৮৬

এবং যখন (এমন) কোন সূরা অবতারিত হয় যে, তোমরা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের যোগে সংগ্রাম কর তখন তাহাদের ধনবান লোকেরা তোমার নিকটে অনুমতি প্রার্থনা করে, এবং বলে আমাদিগকে ছাড়িয়া দেও যেন আমরা উপবিষ্ট লোকদিগের সঙ্গী হই।

আয়াতঃ⇒ ৮৭

তাহারা পশ্চাদ্বর্তী নারীদিগের সঙ্গে থাকিতে সম্মত, এবং তাহাদের মনের উপর মোহর করা হইয়াছে; পরন্তু তাহারা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ⇒ ৮৮

কিন্তু প্রেরিতপুরুষ এবং যাহারা তাঁহার সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছে তাহারা আপন সম্পত্তি ও আপন জীবনযোগে সংগ্রাম করিয়াছে, ইহারাই, ইহাদের জন্যই কল্যাণ, এবং তাহারাই ইহারা, যে মুক্তি পাইবে।

আয়াতঃ⇒ ৮৯

পরমেশ্বর তাহাদের জন্য স্বর্গদ্যান প্রস্তুত রাখিয়াছেন, যাহার নিম্ন দিয়া জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তাহাতে তাহারা সর্বদা থাকিবে; ইহাই মহা কৃতার্থতা।

আয়াতঃ⇒ ৯০

এবং ত্রুটি স্বীকারকারী আরাবী লোকেরা তাহাদের নিমিত্ত অনুমতি দেওয়া হয় এজন্য আসিয়াছে, এবং যাহারা ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে তাহারা বসিয়া আছে, তাহাদের মধ্যে যাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে অবশ্য তাহাদের প্রতি দুঃখকর শাস্তি উপস্থিত হইবে।

আয়াতঃ⇒ ৯১

যদি ঈশ্বরের জন্য ও তাঁহার প্রেরিত পুরুষের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষা করিয়া থাকে তবে অশক্ত লোকদিগের প্রতি ও রোগীদিগের প্রতি এবং যাহা কিছু ব্যয় করিবে তাহা প্রাপ্ত হয় নাই তাহাদের প্রতি কোন সঙ্কট নাই, এবং হিতকারী লোকদিগের প্রতি কোন (আক্রোশের) পথ নাই, ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ৯২

এবং তুমি বাহন দিবে বলিয়া যখন তাহারা তোমার নিকটে উপস্থিত হয়, তুমি বল, যাহার উপরে তোমাদিগকে আরোহন করাইব তাহা প্রাপ্ত হয় নাই, (তাহাতে) তাহারা ফিরিয়া যায়, এবং এই দুঃখহেতু তাহাদের চক্ষু অশ্রুপ্লাবিত হয় যে, কিছুই (তাহাদের) হস্তগত নাই যে ব্যয় করে, তাহাদের প্রতি (আক্রোশের) পথ নাই।

আয়াতঃ⇒ ৯৩

যাহারা তোমার নিকটে (নিবৃত্ত থাকিবার) অনুমতি প্রার্থনা করে, এবং যাহারা ধনবান, পশ্চাৎস্থিত নারীদিগের সঙ্গে বাস করিতে সম্মত, তাহাদের প্রতি (আক্রোশের) পথ, এবং ঈশ্বর তাহাদের মনের উপর মোহর করিয়াছেন, অতএব তাহারা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ⇒ ৯৪

যখন তোমরা তাহাদের নিকটে (যুদ্ধক্ষেত্র হইতে) ফিরিয়া আসিবে তখন তাহারা তোমাদের নিকটে ছলান্বেষণ করিবে, তুমি বলিও ছলান্বেষণ করিও না, তোমাদিগকে আমরা বিশ্বাস করি না, নিশ্চয় ঈশ্বর তোমাদের কোন কোন সংবাদ আমাদিগকে জানাইয়াছেন, এক্ষন ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ তোমাদের কার্য দেখিবেন, অতঃপর তোমরা অন্তর্বহির্বিজ্ঞাতার নিকটে ফিরিয়া যাইবে, পরে তিনি তোমরা যাহা করিতেছিলে তাহার সংবাদ দিবেন।

আয়াতঃ⇒ ৯৫

যখন তাহাদের নিকটে তোমরা উপস্থিত হইবে তাহারা ঈশ্বরযোগে তোমাদের জন্য শপথ করিবে যেন তোমরা তাহাদিগ হইতে ফিরিয়া যাও, অতএব তোমরা তাহাদিগ হইতে মুখ ফিরাও, নিশ্চয় তাহারা অপবিত্র এবং তাহাদের স্থান নরকলোক, তাহারা যাহা করিতেছে তাহার প্রতিশোধ আছে।

আয়াতঃ⇒ ৯৬

তাহারা তোমাদের জন্য শপথ করিবে যেন তোমরা তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, পরন্তু যদি তোমরা তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাক্ তবে নিশ্চয় ঈশ্বর পাষন্ডদলের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকিবেন।

আয়াতঃ⇒ ৯৭

আরাবী লোকেরা অত্যন্ত ধর্মবিদ্রোহী ও কপট, ঈশ্বর আপন প্রেরিতপুরুষের প্রতি যাহা অবতারন করিয়াছেন তাহার সীমা সকল (বিধি সকল) তাহাদের না জানাই সমুচিত, এবং ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ⇒ ৯৮

আরাবীদিগের এমন কেহ আছে যে, সে যাহা ব্যয় (দান) করে তাহা দন্ড মনে করিয়া থাকে, এবং তোমাদের সম্বন্ধে কালচক্র, ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ⇒ ৯৯

এবং আরাবীদিগের এমন কেহ আছে যে, ঈশ্বরে ও অন্তিম দিবসে বিশ্বাসী হইয়াছে, এবং যাহা ব্যয় করে তাহাকে পরমেশ্বরের সান্নিধ্য ও প্রেরিতপুরুষের শুভাশীর্বাদের (কারন) মনে করে; জানিও তাহাদের জন্য উহা সান্নিধ্য বটে, অবশ্য পরমেশ্বর তাহাদিগকে স্বীয় দয়ার মধ্যে প্রবেশ করাইবেন, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১০০

এবং পূর্ববর্তী প্রথম মোহাজ্বের ও আনসারগণ এবং যাহারা সৎকার্যে তাহাদের অনুসরণ করিয়াছে, ঈশ্বর তাহাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাহার প্রতি সন্তুষ্ট, তিনি তাহাদের নিমিত্ত স্বর্গদ্যান সকল প্রস্তুত করিয়াছেন, যাহার নিম্নে জলপ্রনালী সকল প্রবাহিত, তথায় তাহারা নিত্যস্থায়ী হইবে, ইহাই মহা কৃতার্থতা।

আয়াতঃ⇒ ১০১

এবং যাহারা তোমাদের প্রতিবেশী তাহাদের মধ্যে কপট আরাবী আছে, এবং মদীনানিবাসীও আছে, যে কপটতাতেও সংলিপ্ত, তুমি তাহাদিগকে জান না, আমি তাহাদিগকে জ্ঞাত আছি, সত্বর আমি তাহাদিগকে দুই বার শাস্তি দান করিব, তৎপর তাহারা মহাশাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আয়াতঃ⇒ ১০২

অপর লোক আছে যে স্বীয় অপরাধ স্বীকার করিয়াছে, তাহারা ভাল কর্ম ও অন্য মন্দকে পরস্পর মিশ্রিত করিয়াছে, ঈশ্বর তাহাদের প্রতি প্রত্যাবর্তন করিতে সমুদ্যত, নিশ্চয় ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১০৩

তাহাদের সম্পত্তি হইতে তুমি দাতব্য গ্রহণ কর, তাহাতে তদ্দারা তুমি তাহাদিগকে (বাহ্যে) পবিত্র করিবে ও (অন্তরে) তাহাদিগকে শুদ্ধ করিবে, এবং তাহাদের প্রতি শুভ প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তোমরা শুভ প্রার্থনা তাহাদের জন্য শান্তির (কারন) ঈশ্বর শ্রোতা ও জ্ঞাতা।

আয়াতঃ⇒ ১০৪

তাহারা কি জানে না যে, ঈশ্বর সেই যিনি স্বীয় দাসদিগের প্রত্যাবর্তন গ্রাহ্য করিয়া থাকেন ও সেদকা সকল গ্রহণ করেন, এবং পরমেশ্বর সেই, যিনি প্রত্যাবর্তনকারী ও দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১০৫

তুমি বল, তোমরা অনুষ্ঠান কর, পরে ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষ এবং বিশ্বাসীগণ তোমাদের অনুষ্ঠান সকল অবশ্য দেখিবেন; এবং অবশ্য তোমরা অন্তর্বহির্বিজ্ঞাতার দিকে ফিরিয়া আসিবে, পরে যাহা করিতেছিলে তিনি তোমাদিগকে তাহা জ্ঞাপন করিবেন।

আয়াতঃ⇒ ১০৬

অন্য লোকেরা ঈশ্বরের আজ্ঞায় নিমিত্ত অবকাশ পাইবে, হয় তাহাদিগকে তিনি শাস্তি দান করিবেন কিংবা তাহাদিগকের প্রতি প্রত্যাবর্তিত হইবেন, এবং ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ⇒ ১০৭

এবং যাহারা পীড়ন ও ধর্মবিদ্রোহীচরণ এবং বিশ্বাসীদিগের মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন নিমিত্ত, এবং যাহারা পূর্বে ঈশ্বর ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়াছে তাহাদের গুপ্ত আক্রমণস্থানের জন্য মসজেদ নির্মাণ করিয়াছে, তাহারা অবশ্য শপথ করিবে যে, আমরা অকল্যাণ ব্যতীত আকাঙ্ক্ষা করি নাই, এবং ঈশ্বর সাক্ষ্যদান করিতেছেন যে, নিশ্চয় তাহারা মিথ্যাবাদী।

আয়াতঃ⇒ ১০৮

তুমি কখনো (হে মোহাম্মদ) তন্মধ্যে দন্ডায়মান হইও না, প্রথম দিবসে ধর্মভাবে যে মন্দির নির্মিত হইয়াছে অবশ্য তাহাই উপযুক্ত যে তাহার মধ্যে তুমি দন্ডায়মান হও, তত্রস্থিত পুরুষগণ নির্মল হইতে ভালোবাসে, এবং ঈশ্বর নির্মল লোকদিগকে প্রেম করেন।

আয়াতঃ⇒ ১০৯

পুনশ্চ যে ব্যক্তি ঈশ্বরভয় ও (তাঁহার) প্রসন্নতার উপরে স্বীয় অট্রলিকার ভিত্তি স্থাপন করিল, সে? এবং ঈশ্বর অত্যাচারী দলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ⇒ ১১০

তাহাদের সেই অট্রালিকা, যাহা সন্দেহরুপে আপনাদের অন্তরে তাহারা নির্মাণ করিয়াছে, তাহাদের অন্তঃকরণ খন্ড খন্ড না হওয়া পর্যন্ত উহা সর্বদা থাকিবে, ঈশ্বর জ্ঞাতা ও নিপুন।

আয়াতঃ⇒ ১১১

নিশ্চয় ঈশ্বর বিশ্বাসীগণ হইতে তাহাদের জীবন ও তাহাদের সম্পত্তি ক্রয় করিয়াছেন, কেন না তাহাদের জন্য স্বর্গলোক হয়, তাহারা ঈশ্বরের পথে সংগ্রাম করে, অতএব তাহারা হত্যা করিবে ও নিহত হইবে, তওরাতে ও ইঞ্জিলে এবং কোরআনে তাহাদের সম্বন্ধে সত্য অঙ্গীকার আছে, এবং কোন ব্যক্তি ঈশ্বর অপেক্ষা স্বীয় অঙ্গীকার অধিক পূর্ণকারী? অন্ততর তাঁহার প্রতি তোমরা যাহা বিক্রয় করিয়াছ আপনাদের সেই বিক্রয়ে সন্তুষ্ট থাক, এবং ইহাই সেই মহাচরিতার্থতা।

আয়াতঃ⇒ ১১২

ইহারা প্রত্যাবর্তনকারী (পাপ হইতে নিবৃত্ত ব্যক্তি) তাপস স্তাবক (ধর্মপথে) পর্যটক রকুকারক নমস্কারকারক বৈধকার্যের অনুজ্ঞাদাতা অবৈধ কার্যের নিষেধকারী এবং ঐশ্বরিক বিধি সকলের রক্ষক হয়, এবং তুমি বিশ্বাসীদিগকে (এই) সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ⇒ ১১৩

তাহারা (অংশীবাদীগণ) নরকলোকনিবাসী, (ইহা) তাহাদের (বিশ্বাসীদের জন্য প্রকাশিত হওয়ার পর যদ্যপি স্বগণও হয় তথাপি অংশীবাদীদিগের নিমিত্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা তত্ত্ববাহক ও বিশ্বাসীদিগের পক্ষে কর্তব্য নয়।

আয়াতঃ⇒ ১১৪

এবং স্বীয় পিতার জন্য তাহার সঙ্গে যে অঙ্গীকার করা হইয়াছিল সেই অঙ্গীকারের কারন ব্যতীত এব্রাহিমের ক্ষমা প্রার্থনা ছিল না, পরে যখন তাহার প্রতি প্রকাশিত হইল যে, সে ঈশ্বরের শত্রু, তখন সে তাহা হইতে পরাঙ্মুখ হইল, নিশ্চয় এব্রাহিম সহিষ্ণু ও দুঃখিত ছিল।

আয়াতঃ⇒ ১১৫

এবং ঈশ্বর এরুপ নহেন যে, কোন জাতিকে তাঁহার প্রতি পথ প্রদর্শন করার পর পথভ্রান্ত করেন, এতদূর যে যাহা হইতে নিবৃত্ত হইতে হইবে তাহাদের জন্য তিনি তাহা ব্যক্ত করিয়া থাকেন, নিশ্চয় ঈশ্বর সর্ববিষয়ে জ্ঞানী।

আয়াতঃ⇒ ১১৬

নিশ্চয় পরমেশ্বরের জন্যই স্বর্গ ও পৃথিবী রাজ্য, তিনি প্রাণ দান ও প্রাণ হরণ করেন, এবং ঈশ্বর ব্যতীত তোমাদের নিমিত্ত কোন বন্ধু ও সহায় নাই।

আয়াতঃ⇒ ১১৭

সত্যসত্যি ঈশ্বর তত্ত্ববাহকের প্রতি মোহাজ্বের ও আনসারদিগের মধ্যে যাহারা সঙ্কটের সময়ে তাহাদের এক দলের অন্তর স্ফলিত হওয়ার উপক্রমের পর তাহার অনুসরণ করিয়াছে তাহাদের প্রতি প্রত্যাগত, পুনর্বার তাহাদের প্রতি প্রত্যাগত, নিশ্চয় তিনি তাহাদের সম্বন্ধে অনুগ্রহকারী ও দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১১৮

এবং যাহারা (যুদ্ধ) হইতে পশ্চাদবর্তী হইয়াছিল যখন বিস্তৃতিস্বত্বে পৃথিবী তাহাদের প্রতি সঙ্কীর্ণ পর্যন্ত হইল, এবং তাহাদের প্রতি তাহাদের জীবন সঙ্কীর্ণ হইল ও সেই তিন ব্যক্তি মনে করিল যে ঈশ্বর হইতে তাঁহার প্রতি (গমন) ব্যতীত অন্য আশ্রয় নাই, তখন তিনি তাহাদের প্রতি ফিরিয়া আসিলেন যেন তাহারা ফিরিয়া আইসে, নিশ্চয় ঈশ্বর প্রত্যাবর্তনকারী দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১১৯

হে বিশ্বাসীগণ, ঈশ্বরকে ভয় করিও, এবং সত্যবাদীদিগের সঙ্গে থাকিও।

আয়াতঃ⇒ ১২০

মদীনাবাসীদিগের ও তাহাদের প্রতিবেশী আরাবীদিগের জন্য (উচিত) ছিল না যে, ঈশ্বরের প্রেরিতপুরুষ হইতে পশ্চাদগমন করে ও তাঁহার জীবন অপেক্ষা আপন জীবনের প্রতি অধিক অনুরাগী হয়, মিহা এজন্য হইয়াছে যে ঈশ্বরের পথে তৃষ্ণা এবং ক্লেশ ও ক্ষুধা যেন তাহাদিগকে প্রাপ্ত না হয়, অপিচ সেই স্থানে যাইতে না হয় যথায় কাফেরদিগকে প্রকোপিত করিতে হয়, তাহাদের জন্য সদনুষ্ঠানের লিপি হওয়া ব্যতীত শত্রু হইতে যেন কোন প্রাপ্য (দুঃখ-ক্লেশ) তাহারা প্রাপ্ত না হয়, নিশ্চয় পরমেশ্বর সৎকর্মশীলদিগের পুরস্কার বিনষ্ট করেন না।

আয়াতঃ⇒ ১২১

এবং তাহারা এমন কোন অল্প ও অধিক দান (যুদ্ধে সাহায্য দান) করে না, এবং এমন কোন অরন্য অতিক্রম করে না যাহা তাহাদের জন্য লিপি হয় না, তাহাতে ঈশ্বর তাহারা যাহা করিতেছে তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট তাহাদিগকে দান করিবেন।

আয়াতঃ⇒ ১২২

বিশ্বাসীগণ সকলে (সমর্থ) ছিল না যে, (যুদ্ধে) বহির্গত হয়, কিন্তু প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে তাহাদের এক দল কোন বহির্গত হইল না? তাহারা যেন ধর্মেতে জ্ঞানবান হয়, যেন আপন দলকে ভয় প্রদর্শন করিতে পারে, যখন তাহারা (যুদ্ধ হইতে) তাহাদের নিকটে ফিরিয়া আসিবে হয়তো তাহারা নিবৃত্ত থাকিবে।

আয়াতঃ⇒ ১২৩

হে বিশ্বাসীগণ, কাফেরদিগের যাহারা তোমাদের নিকটে উপস্থিত হয় ও তোমাদিগের মধ্যে সঙ্কট উপস্থিত হইতে চাহে, তোমরা তাহাদের সঙ্গে সংগ্রাম কর, এবং জানিও যে ঈশ্বর ধর্মভীরুদিগের সঙ্গে আছেন।

আয়াতঃ⇒ ১২৪

এবং যখন কোন সূরা অবতারিত হয় তখন তাহাদের মধ্যে কেহ বলে ইহা তোমাদের কাহার সম্বন্ধে ধর্ম বৃদ্ধি করিয়াছে? কিন্তু যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদের ধর্ম বৃদ্ধি করিয়াছে, এবং তাহারা আনন্দিত আছে।

আয়াতঃ⇒ ১২৫

কিন্তু তাহাদের অন্তরে রোগ, পরে তাহা তাহাদের সম্বন্ধে তাহাদিগের বিকারের উপর বিকার বৃদ্ধি করিয়াছে, এবং তাহারা ধর্মদ্রোহী অবস্থায় প্রাণত্যাগ করিয়াছে।

আয়াতঃ⇒ ১২৬

তাহারা কি দেখিতেছে না যে, তাহারা প্রতি বৎসর একবার বা দুইবার বিপন্ন হয়? পরে (পাপ হইতে) প্রতিনিবৃত্ত হয় না, এবং তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে না।

আয়াতঃ⇒ ১২৭

এবং যখন কোন সূরা অবতারিত হয়, তখন তাহারা (লজ্জাপ্রযুক্ত) পরস্পর পরস্পরের দিকে দৃষ্টি করিয়া বলে, কেহ কি তোমাদিগকে দেখিতেছে? তৎপর চলিয়া যায়, ঈশ্বর তাহাদের অন্তরকে ফিরাইয়াছেন,যেহেতু তাহারা নির্বোধ দল।

আয়াতঃ⇒ ১২৮

সত্যসত্যই (হে মোসলমান) তোমাদের জাতি হইতে তোমাদের নিকটে প্রেরিতপুরুষ আসিয়াছে, তোমাদিগের ক্লেশ তাহার সম্বন্ধে দুঃসহ, সে তোমাদের প্রতি অনুরাগী, বিশ্বাসীদিগের সম্বন্ধে কৃপাযুক্ত দয়ালু।

আয়াতঃ⇒ ১২৯

অনন্তর যদি তাহারা ফিরিয়া আইসে তবে তুমি বলিও আমার জন্য ঈশ্বরই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, তাঁহার প্রতি আমি নির্ভর করিয়াছি, এবং তিনি মহা-সিংহাসনের প্রভু।