সূরাঃ জ্বেন্ন

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ করা হইয়াছে দৈত্যদিগের একদল তাহা শ্রবণ করিয়াছে, পরে তাহারা বলিয়াছে যে, “নিশ্চয় আমরা আশ্চর্য কোরআন শুনিয়াছি।

আয়াতঃ ০২⇒ উহা সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করিয়া থাকে, অনন্তর আমরা তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি, এবং স্বীয় প্রতিপালকের সঙ্গে আমরা কখনো কাহাকে অংশী করিব না।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং এই যে আমাদের প্রতিপালকের মহোচ্চতর মহিমা, তিনি কোন ভার্যা ও কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং এই যে আমাদের নির্বোধ লোকেরা ঈশ্বর সম্বন্ধে অতিরিক্ত বলিতেছিল।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং এই যে আমরা মনে করিতেছিলাম যে, মনুষ্য ও দৈত্য ঈশ্বরের প্রতি কখনো অসত্য বলে না।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং এই যে মানবমণ্ডলীর কয়েক ব্যক্তি করিয়াছে দানবকুলের কয়েক জনের আশ্রয় লইতেছিল, পরে তাহাদের সম্বন্ধে উহা অবাধ্যতা বৃদ্ধি করিয়াছে।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং এই যে তাহারা মনে করিয়াছে যেমন তোমরা মনে করিয়াছ যে, ঈশ্বর কখনো কাহাকে প্রেরণ করিবেন না।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং এই যে আমরা আকাশকে ধরিলাম, পরে তাহাকে দৃঢ় প্রহরী ও দীপ্ত তারকাবলী দ্বারা পূর্ণ পাইলাম।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং এই যে আমরা (ঈশ্বরবাণী) শ্রবনের জন্য তাহার স্থানে স্থানে বসিতেছিলাম, পরে যে ব্যক্তি শ্রবণ করে এক্ষন সে আপনার জন্য লক্ষীকৃত দীপ্ত তারা (উল্কাপিন্ড) প্রাপ্ত হয়।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং এই যে আমরা বুঝিতেছি না যাহারা পৃথিবীতে আছে অমঙ্গল তাহাদিগকে পাইতে ইচ্ছা করিয়াছে, না, তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের প্রতি শুভ ইচ্ছা করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং আমাদের মধ্যে কতিপয় সাধু আছে ও আমাদের মধ্যে কতিপয় এতদ্ভিন্ন; আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায় হই।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং এই যে, আমরা বুঝিয়াছি যে পৃথিবীতে কখনো ঈশ্বরকে পরাভূত করিতে পারিব না, এবং পলায়ন দ্বারা তাহাকে কখনো পরাভূত করিব না।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং এই যে আমরা যখন উপদেশ শ্রবণ করিলাম তখন তৎপ্রতি বিশ্বাসী হইলাম, অনন্তর যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, পরে সে কোন ক্ষতি ও কোন অত্যাচারকে ভয় করে না।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং এই যে আমাদের মধ্যে কতক মোসলমান ও আমাদের মধ্যে কতক অত্যাচারী, অনন্তর যে সকল ব্যক্তি মোসলমান হইয়াছে, পরে ইহারাই সরল পথের চেষ্টা করিয়াছে।

আয়াতঃ ১৫⇒ কিন্তু অত্যাচারীগণ, পরে তাহারা নরকের জন্য ইন্ধন হয়।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং (বল, হে মোহম্মদ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হইয়াছে যে মনুষ্য) যদি পথে দন্ডায়মান হয় তবে আমি তাহাকে প্রচুর জল পান করাইয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহাতে আমি তাহাদিগকে তদ্বিষয়ে পরীক্ষা করি, এবং যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের প্রসঙ্গ হইতে বিমুখ হয়, তিনি তাহার কঠিন শাস্তি আনয়ন করেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং এই যে ঈশ্বরেরই জন্য মন্দির, পরে (তথায়) ঈশ্বরের সঙ্গে তোমরা (অন্য) কাহাকে আহ্বান করিও না।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং এই যে যখন ঈশ্বরের দাস (মোহম্মদ) তাহাকে আহ্বান করিতে দন্ডায়মান হয় তখন (দৈত্যগণ) ভিড় করিয়া তাহার উপর পড়িতে উদ্যত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ২০⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমি আপন প্রতিপালককে আহ্বান করিতেছি এতদ্ভিন্ন নহে, এবং তাঁহার সঙ্গে কাহাকেও অংশী করে না।

আয়াতঃ ২১⇒ বল, নিশ্চয় আমি তোমাদিগকে ক্লেশ দিতে ও (তোমাদের) কল্যাণ সাধন করিতে ক্ষমতা রাখি না।

আয়াতঃ ২২⇒ বল, নিশ্চয় আমাকে ঈশ্বরের (শাস্তি) হইতে কেহ কখনো আশ্রয় দান করিবে না, এবং আমি তাঁহাকে ছাড়িয়া কোন আশ্রয় কখনো প্রাপ্ত হইব না।

আয়াতঃ ২৩⇒ কিন্তু ঈশ্বর হইতে (সংবাদ) প্রচার ও তাঁহার সংবাদ আনয়ন ভিন্ন (আমার কার্য) নহে, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ও তাঁহার প্রেরিতপুরুষের অবাধ্যতাচরণ করে নিশ্চয় তাহার জন্য নরকাগ্নি আছে, সে তথায় নিত্যবাসী হইবে।

আয়াতঃ ২৪⇒ এ পর্যন্ত যে, তাহাদিগকে যাহা অঙ্গীকার করা যাইতেছে যখন তাহারা তাহা দেখিবে তখন অবশ্য জানিবে যে, সহায় অনুসারে কে সমধিক দুর্বল এবং গণনায় অল্পতর?

আয়াতঃ ২৫⇒ তুমি বল, তোমাদিগকে যে (শাস্তির) অঙ্গীকার করা যাইতেছে তাহা কি নিকটে, অথবা তজ্জন্য আমার প্রতিপালক কিছু সময় নির্ধারিত করিবেন আমি তাহা জানি না।

আয়াতঃ ২৬+২৭⇒ তিনি রহস্যবিৎ, অনন্তর তিনি স্বীয় রহস্যবিষয়ে প্রেরিতপুরুষদিগের যাহাকে মনোনীত করেন তাঁহাকে ব্যতীত (অন্য) কাহাকেও জ্ঞাপন করেন না, পরে নিশ্চয় তিনি সেই (প্রেরিতপুরুষের) সম্মুখভাগে ও তাহার পশ্চাদ্ভাগে রক্ষক প্রেরণ করেন।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহাতে তিনি জানেন যে, সত্যই তাহারা আপন প্রতিপালকের সংবাদাবলী পহুঁছাইয়াছে, এবং যে কিছু তাহাদের নিকটে আছে তিনি তাহা ঘেরিয়া আছেন, এবং প্রত্যেক বস্তু গণনায় আয়ত্ব করিয়াছেন।