সূরাঃ জোমর

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ পরাক্রান্ত কৌশলময় পরমেশ্বর হইতে (কোরআন) গ্রন্থের অবতরণ।

আয়াতঃ ০২⇒ আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) সত্যতঃ, গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছি, অনন্তর তুমি পরমেশ্বরকে তাঁহার উদ্দেশ্যে পূজাকে বিশুদ্ধ করতঃ অর্চনা করিতে থাক।

আয়াতঃ ০৩⇒ জানিও ঈশ্বরের জন্যই বিশুদ্ধ পূজা, এবং যাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া (অন্য) বন্ধু সকল (উপাস্য সকল) গ্রহণ করিয়াছে তাহারা (বলে) ঈশ্বরের সান্নিধ্য পদে সন্নিহিত করিবে তজ্জন্য ব্যতীত আমরা তাহাদিগকে অর্চনা করি না, নিশ্চয় ঈশ্বর তাহারা যে বিষয়ে বিরুদ্ধাচরণ করিতেছে তদ্বিষয়ে তাহাদের মধ্যে আজ্ঞা প্রচার করিবেন, যে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী ধর্মদ্রোহী একান্তই ঈশ্বর তাহাকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ০৪⇒ যদি ঈশ্বর সন্তান গ্রহণ করিতে চাহিতেন তাহা হইলে তিনি যাহা সৃষ্টি করেন তাহা হইতে যাহাকে ইচ্ছা হইত অবশ্য গ্রহণ করিতেন, পবিত্রতা তাঁহার, তিনি একমাত্র পরাক্রান্ত ঈশ্বর।

আয়াতঃ ০৫⇒ তিনি সত্যতঃ ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল সৃজন করিয়াছেন, তিনি রজনীকে দিবার মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট ও দিবাকে রজনীর ভিতরে অনুপ্রবিষ্ট করেন, এবং সূর্য-চন্দ্রমাকে বাধ্য করিয়াছেন, প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময়ে সঞ্চারণ করেন, জানিও, তিনি ক্ষমাশীল পরাক্রান্ত।

আয়াতঃ ০৬⇒ তোমাদিগকে (হে লোকসকল) তিনি এক ব্যক্তি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন, তৎপর তাহা হইতে (সেই ব্যক্তি হইতে) তাহার ভার্যা সৃজন করিয়াছেন, এবং তোমাদের জন্য আট জোড়া (পুং-স্ত্রী) পশু অবতারণ করিয়াছেন, অন্ধকার (আবরণ) ত্রয়ের মধ্যে সৃষ্টির পর তিনি তোমাদিগকে তোমাদের জননীর গর্ভে এক প্রকার সৃজনে সৃজন করিয়াছেন; এই ঈশ্বরই তোমাদের প্রতিপালক, তাঁহারই রাজত্ব, তিনি ব্যতীত কোন ঈশ্বর নাই, অনন্তর কোথায় তোমরা ফিরিয়া যাইতেছ।

আয়াতঃ ০৭⇒ যদি তোমরা ধর্মদ্রোহী হও তবে নিশ্চয় পরমেশ্বর তোমাদিগের প্রতি বীতানুরাগ থাকিবেন, এবং তিনি স্বীয় ধর্মদ্রোহী দাসদিগের প্রতি প্রসন্ন নহেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তবে তিনি তাহা (কৃতজ্ঞতা) তোমাদের জন্য মনোনীত করিবেন, কোন ভারবাহক অন্যের ভার বহন করে না, তৎপর আপন প্রতিপালকের নিকটে তোমাদের প্রতিগমন, অনন্তর তোমরা যাহা করিতেছ তদ্বিষয়ে তিনি তোমাদিগকে সংবাদ দিবেন, নিশ্চয় তিনি অন্তরের তত্ত্বজ্ঞ।

আয়াতঃ ০৮⇒ যখন মনুষ্যকে কোন দুঃখ আশ্রয় করে, তখন সে আপন প্রতিপালককে তাঁহার দিকে উন্মুক্ত হওতঃ ডাকিয়া থাকে, তৎপর যখন তিনি আপনা হইতে কোন সম্পদ তাহাকে দান করেন, তাঁহার নিকটে সে পূর্বে যে প্রার্থনা করিতেছিল তাহা ভুলিয়া যায়, এবং ঈশ্বরের জন্য অংশী নির্ধারিত করে, যেন তাঁহার পথ হইতে তাহাকে বিভ্রান্ত করে; তুমি বল, (হে মোহম্মদ) কিছুকাল তুমি আপন ধর্মদ্রোহিতার ফলভোগ করিতে থাক, নিশ্চয় তুমি নরকাগ্নি নিবাসীদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ০৯⇒ যে ব্যক্তি নিশাকালে প্রণত ও দন্ডায়মান হওতঃ সাধনাকারী, পরলোককে ভয় করে, এবং স্বীয় প্রতিপালকের দয়া আশা করিয়া থাকে সে কি (ধর্মদ্রোহীর তুল্য)? তুমি জিজ্ঞাসা কর, যাহারা জ্ঞান রাখে ও যাহারা জ্ঞান রাখে না তাহারা কি তুল্য? বুদ্ধিমান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১০⇒ তুমি (আমার পক্ষ হইতে) বল (হে মোহম্মদ) যাহারা বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছ হে আমার সেই দাস সকল, তোমরা আপন প্রতিপালককে ভয় করিতে থাক, যাহারা এই সংসারে শুভ কর্ম করিয়াছে তাহাদের জন্যই শুভ, এবং ঈশ্বরের পৃথিবী বিস্তীর্ণ, সহিষ্ণুদিগকে অগণ্যভাবে তাহাদের পুরস্কার পূর্ণ দেওয়া যাইবে এতদ্ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ১১⇒ তুমি বল, নিশ্চয় আমি পরমেশ্বরকে তাঁহার উদ্দেশ্যে ধর্ম বিশুদ্ধ করতঃ অর্চনা করিতে আদিষ্ট হইয়াছি।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং আদিষ্ট হইয়াছে যে, মোসলমানদিগের প্রথম হইব।

আয়াতঃ ১৩⇒ তুমি বল যে, নিশ্চয় যদি আমি স্বীয় প্রতিপালককে অগ্রাহ্য করি তবে মহাদিনের শাস্তিকে ভয় করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৪⇒ বল, আমি ঈশ্বরকে তাঁহার উদ্দেশ্যে স্বীয় ধর্ম বিশুদ্ধ করতঃ অর্চনা করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৫⇒ পরে তাঁহাকে ছাড়িয়া যাহাকে ইচ্ছা কর তোমরা অর্চনা করিতে থাক, তুমি বল, যাহারা আপন জীবনের ও আপন পরিজনের ক্ষতি করিয়াছে, নিশ্চয় তাহারাই কেয়ামতের দইনে ক্ষতিগ্রস্থ; জানিও ইহা সেই স্পষ্ট ক্ষতি।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহাদের জন্যই তাহাদের উপর অগ্নির চন্দ্রাতপ ও নিম্নে চন্দ্রাতপ হইবে, ইহা (এই শাস্তি) ইহা দ্বারা পরমেশ্বর স্বীয় দাসদিগকে ভয় দেখাইয়া থাকেন, হে আমার কিঙ্করগণ, অতএব আমাকে ভয় কর।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং যাহারা প্রতিমা হইতে – তাহারা যে তাহার পূজা করিবে তাহা হইতে প্রতিনিবৃত্ত হয়, এবং ঈশ্বরের দিকে উন্মুখ হয় তাহাদের জন্য সুসংবাদ আছে, অনন্তর তুমি আমার দাসদিগকে সুসংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ১৮⇒ যাহারা কথা শ্রবন করে, পরে তাহার কল্যাণের অনুসরণ করিয়া থাকে, ইহারাই তাহারা, যাহাদিগকে ঈশ্বর পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং ইহারাই তাহারা যে বুদ্ধিমান।

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর সেই ব্যক্তিকে কি যাহার উপর শাস্তির বাক্য নির্ধারিত হইয়াছে, পরে যে ব্যক্তি অগ্নিতে আছে তাহাকে কি তুমি উদ্ধার করিবে?

আয়াতঃ ২০⇒ কিন্তু যাহারা আপন প্রতিপালককে ভয় করে তাহাদের জন্য (স্বর্গে) প্রাসাদ সকল আছে, তাহার উপরেও বিনির্মিত প্রাসাদ সকল আছে, তাহার নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হয়, ঈশ্বরের অঙ্গীকার আছে, পরমেশ্বর অঙ্গীকারের অন্যথা করেন না।

আয়াতঃ ২১⇒ তুমি কি দেখ নাই যে, ঈশ্বর আকাশ হইতে বারিবর্ষণ করিয়াছেন, পরে তাহা ধরাতলে প্রস্রবনযোগে সঞ্চালিত করিয়াছেন, তৎপর তাহা দ্বারা শস্যক্ষেত্র বাহির করেন, তাহার বর্ণ বিভিন্ন, তৎপর উহা শুষ্ক হয়, পরে তুমি তাহাকে পীতবর্ণ দর্শন করিয়া থাক, তৎপর তিনি তাহা বিচূর্ণ করেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে বুদ্ধিমান লোকদিগের জন্য উপদেশ আছে।

আয়াতঃ ২২⇒ অনন্তর পরমেশ্বর যাহার হৃদয়কে এসলাম ধর্মের জন্য প্রসারিত করিয়াছেন সে কি (যাহার হৃদয় সংকুচিত তাহার তুল্য) পরন্তু সে স্বীয় প্রতিপালকের আলোকের উপর আছে; অনন্তর ঈশ্বর-স্মরণ বিষয়ে যাহাদের অন্তর কঠিন, তাহাদের প্রতি আক্ষেপ, ইহারাই স্পষ্ট পথভ্রান্তিতে আছে।

আয়াতঃ ২৩⇒ পরমেশ্বর অত্যুত্তম বচন প্রেরণ করিয়াছেন, এমন এক গ্রন্থ যে দুই পরস্পর সদৃশ, যাহারা স্বীয় প্রতিপালককে ভয় করিয়া থাকে তাহাদের ত্বক তাহাতে শিহরিয়া উঠে, তৎপর তাহাদের চর্ম ও তাহাদের অন্তর ঈশ্বর প্রসঙ্গের দিকে বিনম্র হয়, ইহাই ঈশ্বরের পথ প্রদর্শন, তিনি যাহাকে ইচ্ছা করেন এতদ্দারা পথ দেখাইয়া থাকেন, এবং ঈশ্বর যাহাকে (চাহেন) পথভ্রান্ত করেন, পরে তাহার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নাই।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় আননকে কেয়ামত দিনের বিগর্হিত শাস্তি হইতে নিবারিত করে (সে কি শাস্তিগ্রস্থ লোকদিগের ন্যায়) এবং অত্যাচারীদিগকে বলা হইবে যে, যাহা তোমরা করিতেছিলে তাহার স্বাদ গ্রহণ কর।

আয়াতঃ ২৫⇒ তাহাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও অসত্যারোপ করিয়াছে, পরে অজ্ঞাত স্থান হইতে তাহাদের প্রতি শাস্তি উপস্থিত হইয়াছে।

আয়াতঃ ২৬⇒ অবশেষে পরমেশ্বর তাহাদিগকে সাংসারিক জীবনে দুর্গতি ভোগ করাইয়াছেন, এবং অবশ্য পারত্রিক শাস্তি গুরুতর, হায়! যদি তাহারা জানিত (ভাল ছিল)।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মানবমণ্ডলীর জন্য এই কোরআনে বিবিধ দৃষ্টান্ত বর্ণন করিয়াছি, যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

আয়াতঃ ২৮⇒ আরব্য কোরআন অক্ষুন্ন, সম্ভবতঃ তাহারা (তন্মর্মবোধে) ধর্মভীরু হইবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ পরমেশ্বর এক ব্যক্তির এক দাসের দৃষ্টান্ত বর্ণন করিলেন, তাহার সম্বন্ধে অনেক দুশ্চরিত্র অংশী প্রভু ছিল, এবং একজনের জন্য এক ব্যক্তি ছিল, দৃষ্টান্ত কি পরস্পর তুল্য? ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা, বরং তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় তুমি মরিবে, নিশ্চয় তাহারা মরিবে।

আয়াতঃ ৩১⇒ তৎপর নিশ্চয় তোমরা পুনরুত্থানের দিনে আপন প্রতিপালকের নিকটে পরস্পর বিরোধ করিবে।

আয়াতঃ ৩২⇒ অনন্তর যে ব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে ও সত্যের প্রতি যখন তাহার নিকটে উপস্থিত হইয়াছে অসত্যারোপ করিয়াছে তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? কাফেরদিগের জন্য কি নরকলোকে স্থান নাই?

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং যে ব্যক্তি সত্য (ধর্ম) সহ আগমন করিয়াছে ও যে ব্যক্তি তাহা বিশ্বাস করিয়াছে ইহারাই তাহারা যে ধর্মভীরু।

আয়াতঃ ৩৪⇒ তাহারা আপন প্রতিপালকের নিকটে যাহা ইচ্ছা করে তাহাদের জন্য তাহা আছে, ইহাই হিতকারী লোকদিগের বিনিময়।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তাহাতে ঈশ্বর তাহাদিগ হইতে সেই অকল্যাণ নিবারিত করেন যাহা তাহারা করিয়াছে, এবং যাহা (সে সৎকর্ম) তাহারা করিতেছিল তিনি উত্তমরুপে তাহাদিগের সেই পুরস্কার তাহাদিগকে বিনিময়স্বরূপ দিয়া থাকেন।

আয়াতঃ ৩৬⇒ ঈশ্বর কি আপন দাসের কার্যসম্পাদক নহেন? এবং যাহা তদ্ভিন্ন হয় সেই (প্রতিমা) সম্বন্ধে তাহারা তোমাকে ভয় দেখাইয়া থাকে, এবং ঈশ্বর যাহাকে বিপথগামী করেন অনন্তর তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং ঈশ্বর যাহাকে পথপ্রদর্শন করেন অনন্তর তাহার কোন পথভ্রান্তকারী নাই, ঈশ্বর কি পরাক্রান্ত প্রতিফলদাতা নহেন?

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং যদি তুমি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল কে সৃজন করিয়াছে? তাহারা অবশ্য বলিবে, পরমেশ্বর; তুমি বলিও, অনন্তর তোমরা কি দেখিয়াছ যে, ঈশ্বর ব্যতীত যাহাদিগকে তোমরা আহ্বান করিয়া থাক যদি ঈশ্বর আমাকে দুঃখ দিতে চাহেন তাহারা কি তাঁহার (প্রদেয়) দুঃখের নিবারক হইবে? অথবা যদি আমার প্রতি তিনি অনুগ্রহ করিতে চাহেন, তাহারা কি তাঁহার অনুগ্রহের অবরোধক হইবে? তুমি বল, ঈশ্বরই আমার পক্ষে প্রচুর, নির্ভরকারী লোকেরা তাঁহার প্রতিই নির্ভর করিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৩৯+৪০⇒ তুমি বল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বীয় ভূমিতে কার্য করিতে থাক, নিশ্চয় আমিও কার্যকারক, পরে অচিরে তোমরা জানিতে পাইবে যে, (তোমাদের ও আমাদের মধ্যে) কাহার প্রতি তাহাকে নির্যাতিত করে এমন শাস্তি উপস্থিত হয় ও কাহার প্রতি চিরশাস্তি অবতরণ করে।

আয়াতঃ ৪১⇒ নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) মানবমণ্ডলীর জন্য গ্রন্থ সত্যভাবে অবতারণ করিয়াছি, অনন্তর যে ব্যক্তি পথ প্রাপ্ত হইয়াছে সে আপন জীবনের জন্যই (পাইয়াছে) এবং যে ব্যক্তি বিপথগামী হইয়াছে (আপনার) প্রতি সে বিপথগামী হয় এতদ্ভিন্ন নহে, এবং তুমি তাহাদের সম্বন্ধে রক্ষক নও।

আয়াতঃ ৪২⇒ পরমেশ্বর প্রাণকে তাহার মৃত্যুকালে হরণ করেন, এবং যাহা (যে প্রাণ) মরে নাই তাহাকে নিদ্রাবস্থায় (হরণ করেন) অনন্তর যাহার প্রতি মৃত্যুর আদেশ হইয়াছে তাহাকে বদ্ধ রাখেন ও অপর (আত্মাকে) নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত প্রেরণ করেন, নিশ্চয় ইহাতে চিন্তা করে এমন জাতির জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তাহারা কি ঈশ্বরকে ছাড়িয়া শফাঅতকারী সকল গ্রহণ করিয়াছে? তুমি বল (হে মোহম্মদ) যদিচ গ্রহণ করিয়াছে তথাপি তাহারা কিছুই ক্ষমতা রাখে না ও জ্ঞান রাখে না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ বল, সমগ্র শফাঅত  ঈশ্বরেরই, স্বর্গ ও মর্তের রাজত্ব তাঁহারই, তৎপর তাঁহার দিকেই তোমরা পুনর্মিলিত হইবে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং যখন ঈশ্বর একমাত্র, (এই বাক্য) উচ্চারণ করা যায়, তখন পরলোকে অবিশ্বাসীদিগের অন্তর বীতরাগ হয়, এবং যখন তিনি ব্যতীত যাহা তাহার (নাম) উচ্চারণ করা যায়, তখন অকস্মাৎ তাহারা আহ্লাদিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ তুমি বল, “হে দ্যুলোক ও ভূলোকের স্রষ্টা অন্তর্বাহ্যবিৎ পরমেশ্বর, তাহারা যে বিষয়ে বিরোধ করিতেছে তুমি সে বিষয়ে স্বীয় দাসমণ্ডলীর মধ্যে বিচার করিবে”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং যাহারা অত্যাচার করিয়াছে পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে যদি সমগ্র তাহাদের হয় ও তৎসদৃশ তাহার সঙ্গে হয়, তবে অবশ্য তাহারা তাহা কেয়ামতের কঠিন শাস্তির বিনিময়ে দিবে, এবং যাহা তাহারা মনে করিতেছিল না ঈশ্বর হইতে তাহা তাহাদের জন্য প্রকাশ পাইবে।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তাহারা যাহা করিয়াছিল তাহার অকল্যাণ সকল তাহাদের জন্য প্রকাশিত হইবে ও যে বিষয়ে তাহারা উপহাস করিতেছিল উহা তাহাদিগকে ঘেরিবে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ অনন্তর যখন মনুষ্যকে দুঃখ আশ্রয় করে তখন সে আমাকে আহ্বান করিয়া থাকে, তৎপর যখন আমি আপন সন্নিধান হইতে তাহাকে সম্পদ দান করি, তখন সে বলে, “(আমার) জ্ঞান প্রযুক্তই তাহা আমাকে প্রদত্ত হইয়াছে এতদ্ভিন্ন নহে;” বরং ইহা পরীক্ষা, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৫০⇒ তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহারা সত্যই ইহা বলিয়াছে, তাহারা যাহা (যে ধন-সম্পত্তি) অর্জন করিতেছিল উহা তাহাদিগ হইতে (শাস্তি) দূর করে নাই।

আয়াতঃ ৫১⇒ তাহারা যাহা (যে দুষ্কর্ম) অর্জন করিয়াছিল, পরে তাহার অকল্যাণ সকল তাহাদিগের প্রতি পহুঁছিল, এবং তাহাদের মধ্যে যাহারা অত্যাচার করিয়াছে, যাহা করিয়াছে তাহার অকল্যাণ সকল অচিরে তাহাদিগের প্রতি পহুঁছিবে, এবং তাহারা (ঈশ্বরের) পরাভবকারী নহে।

আয়াতঃ ৫২⇒ তাহারা কি জানিতেছে না যে, ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহাকে বিস্তৃত ও সঙ্কুচিত উপজীবিকা দিয়া থাকেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন সকল আছে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ তুমি (আমার পক্ষ হইতে) বল, হে আমার দাসবৃন্দ, যাহারা স্বীয় জীবন সম্বন্ধে অহিতাচরণ করিয়াছে তাহারা যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ হইতে নিরাশ না হয়, নিশ্চয় ঈশ্বর সমগ্র পাপ ক্ষমা করিয়া থাকেন, নিশ্চয় তিনি সেই ক্ষমাশীল দয়ালু।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং তোমরা আপন প্রতিপালকের অভিমুখে প্রত্যাগমন কর, এবং তোমাদের প্রতি শাস্তি পহুঁছিবার পূর্বে তাঁহার অনুগত হও, তৎপর তোমরা আনুকূল্য প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং তোমাদের প্রতি আকস্মিক শাস্তি ও তোমরা জান না (এমন অবস্থায়) উপনীত হইবার পূর্বে তোমাদের প্রতিপালক হইতে যে সুমহৎ কল্যাণ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তাহার অনুসরণ কর।

আয়াতঃ ৫৬+৫৭+৫৮⇒ কোন ব্যক্তি বলিবে যে, “ঈশ্বর সম্বন্ধে আমি যে অপরাধ করিয়াছি তৎপ্রতি হায়! আক্ষেপ, এবং নিশ্চয় আমি উপহাসকারীদিগের অন্তর্গত ছিলাম;” অথবা বলিবে “যদি পরমেশ্বর আমাকে পথ প্রদর্শন করিতেন তবে অবশ্য আমি ধর্মভীরুদিগের অন্তর্গত হইতাম;” কিংবা শাস্তি দর্শনের সময় বলিবে, “যদি আমার (সংসারে) পুনর্গমন হয়, তবে আমি হিতকারীদিগের অন্তর্গত হইব;” (তোমরা তাহার পূর্বে কল্যাণজনক কোরআনের অনুসরণ কর)।

আয়াতঃ ৫৯⇒ (ঈশ্বর বলিবেন) “হ্যাঁ, সত্যই তোমার প্রতি আমার নিদর্শন সকল উপস্থিত হইয়াছিল, পরে তুমি তৎপ্রতি অসত্যারোপ করিয়াছ ও গর্ব করিয়াছ, এবং ধর্ম বিদ্বেষীদিগের অন্তর্গত হইয়াছ”।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছে পুনরুত্থানের দিন তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদের মুখ কলঙ্কিত দেখিবে, নরকে অহংকারী লোকদিগের জন্য কি স্থান নাই?

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যাহারা ধর্মভীরু হইয়াছে পরমেশ্বর তাহাদিগকে তাহাদের অভীষ্ট-সিদ্ধির সহিত উদ্ধার করিবেন, অশুভ তাহাদিগকে স্পর্শ করিবে না ও তাহারা শোকাকুল হইবে না।

আয়াতঃ ৬২⇒ ঈশ্বর সমুদায় পদার্থের স্রষ্টা, এবং তিনি সমুদায় বস্তুর উপরে কার্যসম্পাদক।

আয়াতঃ ৬৩⇒ স্বর্গ ও মর্তের কুঞ্জিকা সকল তাঁহারই, এবং যাহারা ঈশ্বরের নিদর্শন সকল সম্বন্ধে বিদ্রোহাচরণ করিয়াছে ইহারাই তাহারা যে ক্ষতিকারী।

আয়াতঃ ৬৪⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, (হে মোহম্মদ) “অনন্তর তোমরা কি আমাকে আদেশ করিতেছ, হে মূর্খগণ, আমি ঈশ্বর ব্যতীত (অন্যকে) অর্চনা করিব”?

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং সত্যসত্যই তোমার প্রতি ও তোমার পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের প্রতি এরুপ প্রত্যাদেশ করা হইয়াছে যে, যদি তুমি (ঈশ্বরের) অংশী নিরূপণ কর তবে অবশ্য তোমার ক্রিয়া বিনষ্ট হইবে, এবং অবশ্য তুমি ক্ষতিগ্রস্থদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ৬৬⇒ বরং ঈশ্বরকে তুমি অর্চনা কর এবং কৃতজ্ঞদিগের অন্তর্গত হও।

আয়াতঃ ৬৭⇒ এবং তাহারা ঈশ্বরকে তাঁহার যথার্থ মর্যাদায় মর্যাদা করে নাই, এবং পুনরুত্থানের দিনে সমগ্র পৃথিবী তাঁহার মুষ্টিতে ও স্বর্গলোক সকল তাঁহার দক্ষিন হস্তে ওতপ্রোত ভাবে থাকিবে, পবিত্রতা তাঁহারই, তাহারা যাহাকে অংশী স্থাপন করিতেছে তদপেক্ষা তিনি উন্নত।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং সুরবাদ্যে ফুঁৎকার করা হইবে, অনন্তর ঈশ্বর যাহাকে চাহেন তদ্বতীত যে জন স্বর্গে ও যে জন পৃথিবীতে আছে অজ্ঞান হইয়া পড়িবে, তৎপর তাহাতে পুনর্বার, ফুঁৎকার করা হইবে, অনন্তর অকস্মাৎ তাহারা দন্ডায়মান হওতঃ নিরীক্ষন করিতে থাকিবে।

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং ধরাতল তাহার প্রতিপালকের জ্যোতিতে জ্যোতিষ্মান হইবে ও পুস্তক (কার্যলিপি) স্থাপন করা যাইবে, এবং সুসংবাদ ও সাক্ষিগণকে আনয়ন করা হইবে, এবং তাহাদের মধ্যে সত্যভাবে বিচার নিষ্পত্তি হইবে ও তাহারা উৎপীড়িত হইবে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা করিয়াছে তাহার (ফল) পূর্ণ দেওয়া যাইবে, এবং তিনি তাহারা যাহা করিয়া থাকে তাহার জ্ঞাতা।

আয়াতঃ ৭১⇒ এবং দলে দলে ধর্মদ্রোহীদিগকে নরকের দিকে চালনা করা হইবে, এ পর্যন্ত, যখন তাহারা তথায় উপস্থিত হইবে, তখন তাহার দ্বার সকল খোলা যাইবে, এবং তাহার রক্ষকগণ তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিবে, “তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের প্রতি কি প্রেরিতপুরুষগণ আগমন করে নাই যে, তোমাদের নিকটে তোমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন সকল পাঠ করেন এবং তোমাদের নিকটে দিবসের সাক্ষাৎকার বিষয়ে তোমাদিগকে ভয় প্রদর্শন করেন”? তাহারা বলিবে, “হ্যাঁ”, কিন্তু কাফেরদিগের প্রতি শাস্তির বাক্য প্রমানিত হইল।

আয়াতঃ ৭২⇒ বলা হইবে, “তোমরা নরকের দ্বারে প্রবেশ কর, তথায় নিত্য স্থায়ী হইবে, অনন্তর (নরকলোক) অহংকারকারীদিগের গর্হিত স্থান হয়।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং যাহারা আপন প্রতিপালককে ভয় করিয়াছে তাহাদিগকে দলে দলে স্বর্গের দিকে চালনা করা হইবে, এ পর্যন্ত, যখন তাহারা তথায় উপস্থিত হইবে তাহার দ্বার সকল খোলা যাইবে, এবং তাহার রক্ষকগণ তাহাদিগকে বলিবে, “তোমাদের প্রতি সলাম হৌক, তোমরা সুখী, অনন্তর তোমরা তথায় প্রবেশ কর, চিরস্থায়ী হইবে”।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং তাহারা বলিবে, “সেই ঈশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা, যিনি আমাদের সম্বন্ধে স্বীয় অঙ্গীকার সফল করিয়াছেন ও আমাদিগকে (স্বর্গ) ভূমির উত্তরাধিকারী করিয়াছেন, স্বর্গের যে স্থানে ইচ্ছা করি অবস্থিতি করিতেছি, “অনন্তর কর্মীদিগের উত্তম পুরস্কার হয়। আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং তুমি (হে মোহম্মদ) দেবতাদিগকে দেখিবে যে, সিংহাসনের সমন্তাৎ আবেষ্টনপূর্বক আপন প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব করিতেছে ও তাহাদের মধ্যে সত্যভাবে মীমাংসা করা হইবে, এবং বলা হইবে, “বিশ্বপালক পরমেশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা”।