সূরাঃ জোখরোফ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম।

আয়াতঃ ০২⇒ দেদীপ্যমান গ্রন্থের শপথ।

আয়াতঃ ০৩⇒ নিশ্চয় আমি ইহাকে আরব্য কোরআনরুপে সৃষ্টি করিয়াছি যে, তোমরা হৃদয়ঙ্গম করিতেছ।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং নিশ্চয় ইহা মূল গ্রন্থের (স্বর্গে সংরক্ষিত গ্রন্থের) ভিতরে আমার নিকটে আছে, নিশ্চয় (ইহা) সমুন্নত বৈজ্ঞানিক।

আয়াতঃ ০৫⇒ অনন্তর তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দল বলিয়া আমি কি তোমাদিগ হইতে (হে কোরেশগণ) উপদেশকে অপসারিত করিব?

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং পূর্বতন লোকদিগের প্রতি আমি বহু সংবাদবাহক প্রেরণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ০৭⇒ অনন্তর এমন কোন তত্ত্ববাহক তাহাদের নিকটে আসে নাই যে, তাহারা তাহার প্রতি ব্যঙ্গ করে নাই।

আয়াতঃ ০৮⇒ পরে তাহাদিগ অপেক্ষা আক্রমণে প্রবলতর লোকদিগকে আমি বিনাশ করিয়াছি, এবং পূর্ববর্তী লোকদিগের দৃষ্টান্ত (বর্ণিত) হইয়াছে।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যদি তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, “কে ভূলোক ও নিখিল স্বর্গলোক সৃজন করিয়াছেন”? তাহারা অবশ্য বলিবে যে, “পরাক্রান্ত জ্ঞানী (ঈশ্বর) এ সকল সৃজন করিয়াছেন”।

আয়াতঃ ১০⇒ তিনিই যিনি তোমাদের জন্য ধরাকে শয্যা করিয়াছেন ও তন্মধ্যে তোমাদের জন্য বর্ত্ম সকল করিয়াছেন যেন তোমরা পথ প্রাপ্ত হও।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং যিনি আকাশ হইতে পরিমিতরুপে বারিবর্ষণ করিয়াছেন, পরে তদ্দারা আমি মৃত নগরকে (তৃণ-গুল্মাদির উদগমে) জীবিত করিয়াছি, এইরুপ (কবর হইতে) তোমরা বহির্গত হইবে।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং যিনি বহুবিধ (জীবজন্তু) সর্বতোভাবে সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তোমাদের জন্য নৌকা ও পশু সকলকে যাহার উপর তোমরা আরোহণ করিয়া থাক সৃজন করিয়াছেন।

আয়াতঃ ১৩⇒ যেন তাহার পৃষ্ঠোপরি তোমরা আরোহণ কর, তৎপর যখন তদুপরি আরুঢ় হও তখন আপন প্রতিপালকের (প্রদত্ত) সম্পদ স্মরণ করিও, এবং বলিও, “যিনি আমাদের জন্য ইহা অধিকৃত করিয়াছেন, আমরা তৎসম্বন্ধে সমর্থ ছিলাম না, পবিত্রতা তাঁহারাই।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং নিশ্চয় আমরা আপন প্রতিপালকের দিকে পুনর্মিলনকারী।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং তাহারা তাঁহার জন্য তাঁহার দাসমণ্ডলী হইতে অংশ (সন্তান) নিরূপণ করিয়াছে, নিশ্চয় মনুষ্য স্পষ্ট ধর্মদ্রোহী।

আয়াতঃ ১৬⇒ যাহা সৃষ্টি করেন তাহা হইতে কি তিনি কন্যাগণ গ্রহণ করিয়া থাকেন ও তোমাদিগকে পুত্র বলিয়া স্বীকার করেন?

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং ঈশ্বরের জন্য যে সাদৃশ্য বর্ণন করিয়াছে তদ্বিষয়ে (তদ্বিরুদ্ধে) যখন তাহাদের এক ব্যক্তি বিজ্ঞাপিত হয় তখন তাহার মুখ মলিন হইয়া যায়, এবং বিষাদপূর্ণ হয়।

আয়াতঃ ১৮⇒ যে ব্যক্তি বিভূষণে প্রতিপালিত এবং যে কলহে অপ্রকাশিত তাহাকে কি (ঈশ্বর পুত্ররুপে গ্রহণ করিবেন)।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং যাহারা ঈশ্বরের কিঙ্কর সেই দেবতাদিগকে তাহারা নারী স্থির করিয়াছে, তাহাদের সৃষ্টির সময়ে তাহারা কি উপস্থিত ছিল? অবশ্য তাহাদের সাক্ষ্য লেখা যাইবে ও প্রশ্ন করা হইবে।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং তাহারা বলিল, “যদি ঈশ্বর চাহিতেন তবে আমরা তাহাদিগকে অর্চনা করিতাম না,” এ বিষয়ে তাহাদের জ্ঞান নাই, তাহারা অসত্য ভিন্ন বলে না।

আয়াতঃ ২১⇒ তাহাদিগকে আমি তাহার (কোরআনের) পূর্বে কোন গ্রন্থ দান করিয়াছি, পরে তাহারা তাহার অবলম্বনকারী হইয়াছে?

আয়াতঃ ২২⇒ বরং তাহারা বলে যে, নিশ্চয় আমরা আপন পিতৃপুরুষদিগকে এক রীতিতে প্রাপ্ত হইয়াছি, এবং নিশ্চয় আমরা তাহাদের পদচিহ্নেতে পথ প্রাপ্ত।

আয়াতঃ ২৩⇒ এইরুপ তোমার পূর্বে (হে মোহম্মদ) আমি এমন কোন গ্রামে কোন ভয়প্রদর্শককে প্রেরণ করি নাই যে, তাহার সম্পন্ন লোকেরা বলে নাই যে, “নিশ্চয় আমরা আমাদের পদচিহ্নের অনুসরণকারী”।

আয়াতঃ ২৪⇒ (প্রেরিতপুরুষ) বলিয়াছিল, “আপন পিতৃপুরুষদিগকে তোমরা যে বিষয়ে প্রাপ্ত হইয়াছ তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ধর্ম যদিচ তোমাদের নিকটে আনয়ন করিয়াছি (তথাপি কি তোমরা পিতৃপুরুষদিগের অনুসরণ করিতেছ)”? তাহারা বলিয়াছিল, “তোমরা যৎসহ প্রেরিত হইয়াছ তৎসম্বন্ধে নিশ্চয় আমরা বিরোধী”।

আয়াতঃ ২৫⇒ অনন্তর আমি তাহাদিগ হইতে প্রতিশোধ লইয়াছি, পরে দেখ মিথ্যাবাদীদিগের কিরুপ পরিণাম হইয়াছে?

আয়াতঃ ২৬+২৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন এব্রাহিম স্বীয় পিতা ও জ্ঞাতিবর্গকে বলিয়াছিল “আমাকে যিনি সৃজন করিয়াছেন তাঁহাকে ব্যতীত তোমরা যাহাকে অর্চনা করিয়া থাক তৎপ্রতি নিশ্চয় আমি বীতরাগ, পরে একান্তই তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করিবেন।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তিনি তাহাকে (একত্ববাদের বাক্যকে) তাহার সন্তানগণের মধ্যে স্থায়ী বাক্য করিয়াছেন, সম্ভবতঃ তাহারা (কাফেরগণ) ফিরিয়া আসিবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ বরং ইহাদিগকে ও ইহাদের পিতৃপুরুষদিগকে যে পর্যন্ত ইহাদের নিকটে সত্য (ধর্ম) ও দীপ্যমান প্রেরিতপুরুষ উপস্থিত হয় (ধন-সম্পত্তি ও দীর্ঘায়ুযোগে) আমি ফলভোগী করিয়াছি।

আয়াতঃ ৩০⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে সত্য উপস্থিত হইল তখন তাহারা বলিল, “ইহা ভোজবাজি, এবং নিশ্চয় আমরা তৎসম্বন্ধে বিরোধী।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং তাহারা বলিল, এই দুই গ্রামের (মক্কা ও তায়েফের) কোন প্রধান ব্যক্তির প্রতি কেন এই কোরআন অবতারিত হইল না”?

আয়াতঃ ৩২⇒ তোমার প্রতিপালকের কথা (প্রেরিতত্ত্ব) তাহারা কি ভাগ করিতেছে? আমি তাহাদের মধ্যে সাংসারিক জীবনে তাহাদের উপজীবিকা ভাগ করিয়াছি ও তাহাদের এক জনকে অন্য জনের উপর পদানুসারে উন্নত করিয়াছি যেন তাহাদের এক অন্যকে সুদৃঢ়রুপে গ্রহণ করে, তাহারা যাহা সংগ্রহ করিয়া থাকে তাহা অপেক্ষা তোমার প্রতিপালকের কৃপা শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৩৩+৩৪+৩৫⇒ তাহা না হইলে মানবমণ্ডলী (ধন সংগ্রহে) এক দল হইত, ঈশ্বরের সম্বন্ধে যাহারা বিশ্বাসী হইয়াছে তাহাদের জন্য অবশ্য আমি তাহাদের গ্রহের নিমিত্ত রৌপ্যময় ছাদ এবং সোপানাবলী যাহার উপর পদস্থাপন করিয়া (উপরে) উঠে, এবং তাহাদের গৃহের দ্বার সকল ও সিংহাসন সকল যাহার উপর ভর দিয়া বসে প্রস্তুত করিতাম, শোভান্নিত (করিতাম) এ সমুদায় পার্থিব জীবনের ভোগ ভিন্ন নহে, এবং তোমার প্রতিপালের নিকটে ধর্মভীরুদিগের জন্য পরলোক হয়।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বর-স্মরণে শৈথিল্য করে, আমি তাহার জন্য পাপ-পুরুষ নির্ধারণ করি, পরে সে তাহার পারিষদ হয়।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং নিশ্চয় তাহারা (পাপ-পুরুষগণ) তাহাদিগকে পথ হইতে নিবৃত্ত করে, এবং (মনুষ্য) মনে করে যে, তাহারা পথপ্রাপ্ত।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এতদূর পর্যন্ত যে, যখন আমার নিকটে উপস্থিত হইবে তখন (শয়তানকে পাপী) বলিবে যে, “যদি তোমার ও আমার মধ্যে পূর্ব-পশ্চিমের ন্যায় দূরতা থাকিত (ভাল ছিল) অপিচ তুমি অসৎ সঙ্গী হও”।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং (আমি বলিব) অদ্য কখনো তোমাদিগকে ফল দর্শাইবে না, যখন তোমরা অত্যাচার করিয়াছে তখন তোমরা শান্তির মধ্যে পরস্পর অংশী হও।

আয়াতঃ ৪০⇒ অনন্তর তুমি কি (হে মোহম্মদ) বধিরকে শুনাইতেছ, বা অন্ধকে এবং সেই ব্যক্তিকে যে স্পষ্ট পথভ্রান্তিতে আছে পথ প্রদর্শন করিতেছ।

আয়াতঃ ৪১⇒ অনন্তর যদি আমি তোমাকে (এই পৃথিবী হইতে পূর্বে) লইয়াও যাই পরে নিশ্চয় আমি তাহাদের প্রতিশোধকারী হইব।

আয়াতঃ ৪২⇒ অথবা তাহাদের প্রতি যাহা অঙ্গীকার করিয়াছি তোমাকে দেখাইব, পরিশেষে নিশ্চয় আমি তাহাদের উপর ক্ষমতাশালী হই।

আয়াতঃ ৪৩⇒ অবশেষে তোমার প্রতি যাহা প্রত্যাদেশ করা হইয়াছে তুমি তাহা অবলম্বন কর, নিশ্চয় তুমি সরল পথে আছ।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং নিশ্চয় (কোরআন) তোমার জন্য ও তোমার দলের জন্য উপদেশ হয়, এবং অবশ্য তুমি (কেয়ামতে) জিজ্ঞাসিত হইবে।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং আমি তোমার পূর্বে যাহাদিগকে প্রেরণ করিয়াছি সেই আমার প্রেরিতপুরুষদিগের (বিষয়) জিজ্ঞাসা কর, ঈশ্বর ব্যতীত (অন্য) উপাস্য কি আমি নির্ধারণ করিয়াছিলাম যে, পূজিত হইবে?

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মুসাকে আপন নিদর্শনাবলীসহ ফেরওন ও তাহার প্রধান পুরুষদিগের নিকটে প্রেরণ করিয়াছিলাম, পরে সে বলিয়াছিল যে, “নিশ্চয় আমি অখিল জগতের প্রতিপালকের প্রেরিত”।

আয়াতঃ ৪৭⇒ অনন্তর যখন সে আমার নিদর্শনাবলীসহ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইল, অকস্মাৎ তাহারা তৎসম্বন্ধে হাস্য করিতে লাগিল।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং আমি তাহাদিগকে এমন কোন নিদর্শন প্রদর্শন করি নাই যে, তাহা তাহার সদৃশ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিল না, শাস্তি দ্বারা তাহাদিগকে আক্রমণ করিয়াছিলাম যেন তাহারা ফিরিয়া আইসে।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং তাহারা বলিয়াছিল, “হে জাদুকর, তুমি আপন প্রতিপালকের নিকটে তিনি তোমার নিকট যাহা অঙ্গীকার করিয়াছেন তাহা আমাদের জন্য প্রার্থনা কর; নিশ্চয় আমরা পথপ্রাপ্ত।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর যখন আমি তাহাদিগ হইতে শাস্তি দূর করিলাম তখন অকস্মাৎ তাহারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করিল।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং ফেরওন আপন দলকে ডাকিয়া বলিল, “হে আমার সম্প্রদায়, আমার জন্য কি মেসরের রাজত্ব নয়? এই পয়ঃপ্রনালী সকল আমার (প্রাসাদের) নিম্ন দিয়া কি প্রবাহিত হইতেছে না? অনন্তর তোমরা কি দেখিতেছ না”?

আয়াতঃ ৫২⇒ ভাল, সে নিকৃষ্ট তাহা অপেক্ষা আমি শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং সে স্পষ্ট কথা কহিতে সমর্থ নয়।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অনন্তর কেন তাহার প্রতি সুবর্ণ কেয়ুর নিক্ষিপ্ত হয় নাই, অথবা তাহার সঙ্গে সম্মিলিত দেবগণ আগমন করে নাই?

আয়াতঃ ৫৫⇒ অবশেষে সে আপন দলকে হতবুদ্ধি করিল, পরে তাহারা তাহার অনুগত হইল, নিশ্চয় তাহারা পাষন্ড দল ছিল।

আয়াতঃ ৫৬⇒ অনন্তর যখন তাহারা আমাকে ক্রোধান্বিত করিল, তখন আমি তাহাদিগ হইতে প্রতিশোধ লইলাম, পরে তাহাদিগকে যুগপৎ জলমগ্ন করিলাম।

আয়াতঃ ৫৭⇒ অবশেষে আমি তাহাদিগকে ভবিষ্যৎ লোকদিগের জন্য দৃষ্টান্ত ও অগ্রণী করিলাম।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং যখন মরয়মের পুত্র (ঈসার) দৃষ্টান্ত প্রদত্ত হইল তখন অকস্মাৎ তোমার জ্ঞাতিগণ (হে মোহম্মদ) তাহাতে উচ্চধ্বনি করিল।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং বলিল, “আমাদের উপাস্য দেবগণ শ্রেষ্ঠ, না সে”? তাহারা বাদানুবাচ্ছলে ভিন্ন উহা তোমার জন্য ব্যক্ত করে নাই, বরং তাহারা বিবাদকারী দল।

আয়াতঃ ৬০⇒ সে (ঈসা) ভৃত্য ভিন্ন নহে, তাহাকে আমি সম্পদ দান করিয়াছি, এবং বনি-এস্রায়িলের জন্য তাহাকে দৃষ্টান্ত করিয়াছি।

আয়াতঃ ৬১⇒ এবং যদি আমি ইচ্ছা করিতাম তবে অবশ্য তোমাদিগের পরিবর্তে দেবগণ সৃজন করিতাম যেন তাহারা ধরাতলে স্থলাভিষিক্ত হয়।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং নিশ্চয় সে (ঈসা) কেয়মতের নিদর্শনস্বরূপ, অতএব তৎসম্বন্ধে তোমরা সন্দেহ করিও না, এবং তুমি বল (হে মোহম্মদ) তোমরা আমার অনুসরণ কর, ইহাই সরল পথ।

আয়াতঃ ৬৩⇒ এবং শয়তান তোমাদিগকে নিবৃত্ত না করুক, নিশ্চয় সে তোমাদের স্পষ্ট শত্রু।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং যখন ঈসা অলৌকিকতাসহ আগমন করিয়াছিল তখন বলিয়াছিল, “নিশ্চয় আমি তোমাদের নিকটে (হে লোক সকল) প্রকৃষ্ট জ্ঞানসহ উপস্থিত হইয়াছি, তোমরা যে কোন একটি বিষয়ে পরস্পর বিরোধ করিয়া থাক তাহা তোমাদের জন্য বর্ণন করিব, পরন্তু তোমরা ঈশ্বরকে ভয় করিতে থাক ও আমার অনুসরণ কর।

আয়াতঃ ৬৫⇒ নিশ্চয় সেই ঈশ্বরই আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক, অনন্তর তোমরা তাঁহাকে অর্চনা কর, ইহাই সরল পথ”।

আয়াতঃ ৬৬⇒ পরে সম্প্রদায় সকল আপনাদের মধ্যে পরস্পর বিরোধ করিল, যাহারা অত্যাচার করিয়াছে দুঃখজনক দিনের শাস্তিবশতঃ তাহাদের জন্য আক্ষেপ।

আয়াতঃ ৬৭⇒ কেয়ামত যে অকস্মাৎ তাহাদের প্রতি উপস্থিত হইবে তদ্ভিন্ন তাহারা প্রতীক্ষা করিতেছে না, এবং তাহারা বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ সেই দিবস ধর্মভীরুগণ ব্যতীত অন্য বন্ধুগণ তাহাদের এক অন্যের পরস্পর শত্রু।

আয়াতঃ ৬৯⇒ হে আমার দাসগণ, অদ্য তোমাদের প্রতি ভয় হয় নাই, এবং তোমরা শোকগ্রস্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৭০⇒ যাহারা আমার নিদর্শন সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল, এবং মোসলমান ছিল।

আয়াতঃ ৭১⇒ (তাহাদিগকে বলা হইবে) “তোমরা ও তোমাদের ভার্যাগণ সানন্দে স্বর্গে প্রবেশ কর”।

আয়াতঃ ৭২⇒ তাহাদের প্রতি বৃহৎ সুবর্ণপাত্র ও সোরাহী সকল পরিবেশন করা হইবে, তন্মধ্যে প্রাণ যাহা অভিলাষ করে, তাহা থাকিবে, এবং (বলা হইবে) চক্ষুও স্বাদ গ্রহণ করিবে, এবং তোমরা তথায় নিত্য নিবাসী হইবে।

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং ইহাই সেই স্বর্গ, তোমরা যাহা (যে সৎকর্ম) করিয়াছ তজ্জন্য তোমাদিগকে তাহার উত্তরাধিকারী করা হইয়াছে।

আয়াতঃ ৭৪⇒ তোমাদের জন্য এ স্থানে প্রচুর ফল আছে, তাহা হইতে তোমরা ভক্ষন করিতেছ।

আয়াতঃ ৭৫⇒ নিশ্চয় পাপীগণ নরকদন্ডের মধ্যে নিত্য নিবাসী।

আয়াতঃ ৭৬⇒ তাহাদিগ হইতে (শাস্তি) শিথিল করা হইবে না, তাহাতে তাহারা তথায় নিরাশ হইয়া থাকিবে।

আয়াতঃ ৭৭⇒ এবং আমি তাহাদের প্রতি অত্যাচার করি নাই, কিন্তু তাহারা অত্যাচারী ছিল।

আয়াতঃ ৭৮⇒ এবং তাহারা (নরকাধ্যক্ষকে) ডাকিয়া বলিবে, “হে প্রভু, উচিত যে, আমাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক মৃত্যুর আদেশ করেন,” সে বলিবে, “নিশ্চয় তোমরা (এ স্থলে) স্থায়ী”।

আয়াতঃ ৭৯⇒ সত্যসত্যই তোমাদের নিকটে আমি সত্য আনয়ন করিয়াছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যের উদ্দেশ্যে অসন্তুষ্ট।

আয়াতঃ ৮০⇒ তাহারা কি কোন কার্যে সুচেষ্টিত হইয়াছে? অনন্তর নিশ্চয় আমি (তাহাদের কার্যের বিরুদ্ধে) সুচেষ্টিত।

আয়াতঃ ৮১⇒ তাহারা কি মনে করিতেছে যে, আমি তাহাদের রহস্য ও তাহাদের গুপ্ত বাক্য শ্রবন করি না? হ্যাঁ (শ্রবন করি) বরং আমার প্রেরিতগণ তাহাদের নিকটে (বসিয়া) লিখিয়া থাকে।

আয়াতঃ ৮২⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) “যদি ঈশ্বরের কোন সন্তান হইত তবে আমি (তাহার) সম্মানকারীদিগের মধ্যে প্রথম হইতাম।

আয়াতঃ ৮৩⇒ তাহারা যাহা বর্ণন করে তদপেক্ষা স্বর্গমর্তের প্রতিপালক সিংহাসনাধিপতির পবিত্রতা (অধিক)।

আয়াতঃ ৮৪⇒ পরে তাহাদিগকে ছাড়িয়া দাও, তর্ক করুক ও যাহা অঙ্গীকৃত হইতেছে সেই দিনের সাক্ষাৎকার পর্যন্ত ক্রীড়ামোদ করিতে থাকুক।

আয়াতঃ ৮৫⇒ এবং তিনিই যিনি স্বর্গে উপাস্য ও পৃথিবীতে উপাস্য এবং তিনি কৌশলময় জ্ঞানী।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং স্বর্গমর্তের ও উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে তাহার রাজত্ব যাহার, তিনি মহোন্নত ও তাঁহার নিকটে কেয়ামতের জ্ঞাআন, এবং তাঁহার দিকে তোমরা ফিরিয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং যে ব্যক্তি সত্যেতে সাক্ষ্য দান করিয়াছে সে ব্যতীত তাহারা ঈশ্বরকে ছাড়িয়া যাহাদিগকে আহ্বান করিয়া থাকে তাহারা শফাঅতের ক্ষমতা রাখে না, এবং তাহারা জানিতেছে।

আয়াতঃ ৮৮⇒ এবং যদি তুমি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর যে, কে তাহাদিগকে সৃজন করিয়াছে? তবে অবশ্য তাহারা বলিবে, পরমেশ্বর; অনন্তর কোথা হইতে তাহারা ফিরিয়া যাইতেছে? আয়াতঃ ৮৯⇒ এবং (প্রেরিতপুরুষ কর্তৃক) অনেক বলা হইয়া থাকে যে, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় ইহারা এমন এক দল যে, বিশ্বাস করিতেছে না”। (আমি বলিয়াছি) অনন্তর তুমি তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও, এবং সলাম বল, পরে অবশ্য তাহারা জানিতে পাইবে।