সূরাঃ জাসিয়া

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ হাম।

আয়াতঃ ০২⇒ বিজ্ঞানময় পরাক্রান্ত (পরমেশ্বর) হইতে গ্রন্থের অবতরণ।

আয়াতঃ ০৩⇒ নিশ্চয় বিশ্বাসীদিগের জন্য দ্যুলোক ও ভূলোক নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং তোমাদের হইতে ও স্থলচর ইতর জীবগণ হইতে যাহা (যে বিবিধ আকৃতি) বিকীর্ণ হয় তাহার সৃষ্টিতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ এবং দিবা রজনীর পরিবর্তনে ও ঈশ্বর আকাশ হইতে যে জীবিকা (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন, পরে তদ্দারা ভূমিকে তাহার মৃত্যুর পর জীবিত করেন যাহাতে, এবং বায়ুর সঞ্চরণে জ্ঞানিগণের জন্য নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ০৬⇒ ঈশ্বরের এই নিদর্শনাবলী, (কোরআনের আয়ত সকল) আমি তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) সত্যভাবে পাঠ করিতেছি, অনন্তর ঈশ্বরের (উপদেশ) ও তাঁহার নিদর্শনাবলীর পরে কোন কথাকে তাহারা বিশ্বাস করিতেছে?

আয়াতঃ ০৭⇒ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপীদিগের জন্য আক্ষেপ।

আয়াতঃ ০৮⇒ তাহার নিকটে ঐশ্বরিক নিদর্শন সকল পঠিত হয়, সে (হারেসের পুত্র নজর) শ্রবন করে, তৎপর গর্বিতভাবে দৃঢ় থাকে, যেন তাহা শ্রবন করে নাই, অনন্তর তুমি তাহাকে দুঃখকর দন্ডের সংবাদ দান কর।

আয়াতঃ ০৯⇒ এবং যখন সে আমার নিদর্শনাবলীর কিছু অবগত হয় তখন তাহাকে ব্যঙ্গ করে, তাহারাই যে, তাহাদের জন্য দুর্গতিজনক শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১০⇒ তাহাদের পশ্চাতে নরক আছে এবং তাহারা যাহা উপার্জন করিয়াছে তাহা ও ঈশ্বর ব্যতীত যাহাদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিয়াছে তাহারা তাহাদিগ হইতে (বিপদ) কিছুই নিবারণ করিবে না, এবং তাহাদের জন্য মহাশাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১১⇒ এই (কোরআন) আলোকস্বরূপ, এবং যাহারা আপন প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী সম্বন্ধে বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে, তাহাদের জন্য দুঃখকরী শাস্তির শাস্তি আছে।

আয়াতঃ ১২⇒ সেই পরমেশ্বর যিনি তোমাদের জন্য সাগরকে বাধ্য করিয়াছেন, তাহাতে তন্মধ্যে পোত সকল তাঁহার আদেশক্রমে সঞ্চালিত হয়, এবং তাহাতে তোমরা তাঁহার গুণে (জীবিকা) অন্বেষণ কর, সম্ভবতঃ তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং স্বর্গে যে কিছু আছে ও পৃথিবীতে যে কিছু আছে তৎসমুদায় তিনি স্বতঃ তোমাদের জন্য বাধ্য করিয়াছেন, নিশ্চয় ইহার মধ্যে চিন্তাশীল দলের জন্য নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ১৪⇒ বিশ্বাসীদিগকে তুমি (হে মোহম্মদ) বল, যাহারা ঐশ্বরিক দিন সকলের প্রত্যাশা রাখে না তাহাদিগকে যেন তাহারা উপেক্ষা করে, তখন তিনি এক দলকে তাহারা যাহা করিতেছিল তজ্জন্য বিনিময় দান করিবেন।

আয়াতঃ ১৫⇒ যে ব্যক্তি সৎকর্ম করিয়াছে পরে (তাহা) তাহার জীবনের জন্য হয়, এবং যে ব্যক্তি দুষ্কর্ম করিয়াছে পরে তাহার প্রতি (উহা) হয়, তৎপর আপন প্রতিপালকের দিকে তোমরা পুনর্গমন করিবে।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি এস্রায়িল বংশকে গ্রন্থ ও প্রজ্ঞান এবং প্রেরিতত্ব দান করিয়াছে, এবং বিশুদ্ধ বস্তু হইতে উপজীবিকা দিয়াছি, সমুদায় জগতের উপর তাহাদিগকে উন্নত করিয়াছি।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং আমি তাহাদিগকে (ধর্ম) বিষয়ের উজ্জ্বল প্রমাণ সকল দান করিয়াছি, তাহাদের নিকটে (ধর্ম) জ্ঞান উপস্থিত হওয়ার পর আপনাদের মধ্যে পরস্পর বিদ্রোহিতাবশতঃ ভিন্ন তাহারা বিরোধ করে নাই, অনন্তর তাহারা যে বিষয়ে বিরোধ করিতেছিল, তদ্বিষয়ে পুনরুত্থানের দিনে তোমার প্রতিপালক তাহাদের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করিবেন।

আয়াতঃ ১৮⇒ তৎপর আমি তোমাকে ধর্ম বিধির উপর স্থাপন করিয়াছি, অতএব তুমি তাহার অনুসরণ কর, এবং অজ্ঞানীদিগের বাসনার অনুবর্তন করিও না।

আয়াতঃ ১৯⇒ নিশ্চয় তাহারা তোমা হইতে ঈশ্বরের (শাস্তির) কিছুই নিরসন করিবে না, এবং নিশ্চিত অত্যাচারিগণ পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, এবং ঈশ্বর ধর্মভীরুদিগের বন্ধু।

আয়াতঃ ২০⇒ মানবমণ্ডলীর জন্য এই প্রমানাবলী এবং বিশ্বাসীদলের জন্য ধর্মালোক ও অনুগ্রহ হয়।

আয়াতঃ ২১⇒ দুষ্ক্রিয়াশীল লোক কি ভাবিয়াছে যে, আমি তাহাদিগকে যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে তাহাদের অনুরুপ করিব? তাহাদের জীবন ও তাহাদের মৃত্যু তুল্য, তাহারা যাহা আদেশ করিয়া থাকে তাহা মন্দ।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং সত্যভাবে পরমেশ্বর স্বর্গ ও মর্ত সৃজন করিয়াছেন ও তাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহারা যাহা উপার্জন করিয়াছে তজ্জন্য বিনিময় দেওয়া যাইবে, এবং তাহারা অত্যাচারিত হইবে না।

আয়াতঃ ২৩⇒ অনন্তর তুমি কি (হে মোহম্মদ) সেই ব্যক্তিকে দেখ নাই যে, স্বীয় প্রবৃত্তিকে স্বীয় উপাস্য করিয়াছে, এবং জ্ঞান সম্বন্ধে পরমেশ্বর তাহাকে পথভ্রান্ত করিয়াছেন ও তাহার কর্ণ ও তাহার মনের উপর দৃঢ় বন্ধন এবং তাহার চক্ষুর উপর আবরণ রাখিয়াছেন? পরে ঈশ্বরাভাবে কে তাহাকে পথ প্রদর্শন করিবে? অনন্তর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করিতেছ না?

আয়াতঃ ২৪⇒ এবং তাহারা বলিয়াছে যে, “আমাদিগের এই (জীবন) পার্থিব জীবন ভিন্ন নহে, আমরা মরি ও বাঁচি, এবং কাল ব্যতীত আমাদিগকে বিনাশ করে না, “এ সম্বন্ধে তাহাদিগের কোন জ্ঞান নাই, তাহারা কল্পনা ভিন্ন করিতেছে না।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে আমার উজ্জ্বল বচনাবলী পঠিত হয় তখন, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আমাদের পিতৃপুরুষদিগকে আনয়ন কর” বলা ভিন্ন তাহাদের বিতর্ক হয় না।

আয়াতঃ ২৬⇒ তুমি বল, “পরমেশ্বর তোমাদিগকে জীবিত রাখেন, তৎপর তমাদিগের প্রাণ হরণ করেন, তৎপর কেয়ামাতের দিনে তোমাদিগকে একত্র করিবেন, তাহাতে নিঃসন্দেহে, কিন্তু অধিকাংশ মনুষ্য বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং ঈশ্বরেরই স্বর্গ ও পৃথিবীর রাজত্ব, এবং  যে দিবস কেয়ামত স্থিতি করিবে সেই দিবস অসত্যবাদিগণ ক্ষতিগ্রস্থ হইবে।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তুমি প্রত্যেক মণ্ডলীকে (সভয়ে) জানুপরি উপবিষ্ট, প্রত্যেক মণ্ডলীকে স্বীয় পুস্তক (কার্যলিপির) দিকে আহূত দেখিতে পাইবে, (আমি বলিব) “তোমরা যাহা করিতেছিলে অদ্য তাহার ফল দেওয়যাইবে”।

আয়াতঃ ২৯⇒ আমার এই পুস্তক (কার্যলিপি) সত্যতঃ তোমাদের নিকটে বলিতেছে যে, তোমরা যাহা করিতেছিলে নিশ্চয় আমি তাহা লিখিতেছিলাম।

আয়াতঃ ৩০⇒ অনন্তর যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম সকল করিয়াছে, পরে তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে স্বীয় অনুগ্রহের মধ্যে আনয়ন করিবেন, ইহাই সেই স্পষ্ট কামনাসিদ্ধি।

আয়াতঃ ৩১⇒ কিন্তু যাহারা অধর্মাচরণ করিয়াছে তাহাদিগকে (বলিব) “অনন্তর তোমাদের নিকটে কি আমার নিদর্শন সকল পঠিত হয় নাই? পরে তোমরা গর্ব করিয়াছ, এবং তোমরা অপরাধী দল ছিলে”।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং যখন বলা হয় যে, “নিশ্চয় ঈশ্বরের অঙ্গীকার এবং কেয়ামত সত্য, তাহাতে সন্দেহ নাই,” তোমরা বল, “আমরা জানি না কেয়ামত কি? ও আমরা (ইহা তোমাদের) কল্পনা ভিন্ন কল্পনা করি না, এবং আমরা প্রত্যয়কারক নহি”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এবং তাহারা যাহা করিয়াছে তাহার অকল্যাণ সকল তাহাদের জন্য প্রকাশিত হইবে ও তাহারা যে বিষয়ে উপহাস করিতেছিল তাহা তাহাদিগকে ঘেরিবে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং বলা হইবে, “তোমরা যেমন তোমাদের এই দিনের সাক্ষাৎকারকে ভুলিয়া গিয়াছ তদ্রূপ অদ্য আমিও তোমাদিগকে ভুলিয়াছি, এবং তোমাদের স্থান অগ্নি ও তোমাদের কোন সাহায্যকারী নাই।

আয়াতঃ ৩৫⇒ ইহা সেজন্য যে, তোমরা ঈশ্বরের নিদর্শনাবলীর প্রতি ব্যঙ্গ করিয়াছ এবং পার্থিব জীবন তোমাদিগকে প্রতারণা করিয়াছে,” অনন্তর অদ্য তাহা হইতে (নরক হইতে) তাহারা বহিষ্কৃত হইবে না ও তাহাদের আপত্তি গৃহীত হইবে না।

আয়াতঃ ৩৬⇒ অনন্তর দ্যুলোক সকলের প্রতিপালক ও ভূলোকের প্রতিপালক ও নিখিল জগতের প্রতিপালক পরমেশ্বরেরই সম্যক প্রশংসা।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং দ্যুলোক ও ভূলোকে তাঁহারই মহত্ত্ব, এবং তিনি পরাক্রান্ত কৌশলময়।