সূরাঃ জারেয়াত

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ বিকিরণরুপে ধূলি বিকীর্ণকারী (বায়ুর) শপথ।

আয়াতঃ ০২⇒ অনন্তর ভারবহনকারী বায়ুর শপথ।

আয়াতঃ ০৩⇒ অনন্তর ধীরে (নৌকা) সঞ্চালনকারী (বায়ুর শপথ)।

আয়াতঃ ০৪⇒ অনন্তর কার্যবিভাগকারী (বায়ুর শপথ)।

আয়াতঃ ০৫⇒ নিশ্চয় তোমাদিগের প্রতি যাহা অঙ্গীকার করা যাইতেছে তাহা সত্য।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং নিশ্চয় বিচার সম্ভবনীয়।

আয়াতঃ ০৭⇒ বর্ত্মাবলীসংযুক্ত দ্যুলোকের শপথ।

আয়াতঃ ০৮⇒ নিশ্চয় তোমরা কথার মধ্যে বিরোধকারী।

আয়াতঃ ০৯⇒ যে ব্যক্তি (কল্যাণ হইতে) নিবারিত হইয়াছে সে তাহা হইতে (কোরআন হইতে) নিবারিত হইয়া থাকে।

আয়াতঃ ১০⇒ মিথ্যাবাদীগণ নিহত হইয়াছে।

আয়াতঃ ১১⇒ তাহারাই (মিথ্যাবাদী) যাহারা মায়াতে বিস্মৃত।

আয়াতঃ ১২⇒ তাহারা জিজ্ঞাসা করিতেছে যে, কখন বিচারের দিন হইবে?

আয়াতঃ ১৩⇒ যে দিবস তাহারা অগ্নিতে দন্ডিত হইবে।

আয়াতঃ ১৪⇒ (আমি বলিব) তোমরা আওন শাস্তি ভোগ করিতে থাক, তোমরা যে বিষয়ে ব্যগ্র হইতেছিলে উহা তাহা।

আয়াতঃ ১৫⇒ নিশ্চয় ধার্মিক লোকেরা স্বর্গোদ্যান ও প্রস্রবন সকলের মধ্যে থাকিবে।

আয়াতঃ ১৬⇒ তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে যাহা দান করিয়াছেন তাহারা তাহার গ্রহণকারী হইবে, নিশ্চয় তাহারা ইতিপূর্বে হিতকারক ছিল।

আয়াতঃ ১৭⇒ তাহারা রজনীর অল্পক্ষন শয়ন করিত।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং প্রাতঃকালে তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিত।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং তাহাদের সম্পত্তিতে প্রার্থীদিগের ও দরিদ্রদিগের স্বত্ব ছিল।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং পৃথিবীতে বিশ্বাসীদিগের জন্য নিদর্শনাবলী আছে।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং তোমাদের জীবনের মধ্যে (নিদর্শনাবলী আছে) অনন্তর তোমরা কি দেখিতেছ না?

আয়াতঃ ২২⇒ এবং তোমাদের উপজীবিকা ও তোমাদের প্রতি অঙ্গীকৃত হইয়াছে, তাহা আকাশে আছে।

আয়াতঃ ২৩⇒ অনন্তর স্বর্গ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ, যেমন তোমরা এই যে কথা বলিতেছ, তদ্রূপ নিশ্চয় ইহা সত্য।

আয়াতঃ ২৪⇒ তোমার নিকটে কি (হে মোহম্মদ) এব্রাহিমের গৌরবান্বিত অভ্যাগতদিগের বৃত্তান্ত সমুপস্থিত হইয়াছে?

আয়াতঃ ২৫⇒ (স্মরণ কর) যখন তাহার নিকটে তাহা প্রবেশ করিল তখন বলিল, “সলাম”; সে কহিল, “সলাম”, (মনে মনে কহিল ইহারা) অপরিচিত দল।

আয়াতঃ ২৬⇒ অনন্তর সে আপন পরিজনের নিকটে চলিয়া গেল, পরে স্থুল গোবৎস (কবাব) আনয়ন করিল।

আয়াতঃ ২৭⇒ অবশেষে তাহাদের নিকটে তাহা উপস্থিত করিয়া বলিল, “তোমরা কি ভক্ষন কর না”?

আয়াতঃ ২৮⇒ অনন্তর (তাহারা ভক্ষন না করিলে) সে তাহাদিগ হইতে অন্তরে ভয় পাইল, তাহারা বলিল, “তুমি ভয় করিও না;” এবং তাহারা তাহাকে জ্ঞানবান পুত্র সম্বন্ধে সুসংবাদ দান করিল।

আয়াতঃ ২৯⇒ পরে তাহার ভার্যা (বিস্ময়সূচক) শব্দে উপস্থিত হইল, অনন্তর আপন কপোলে (সবিস্ময়ে) চপেটাঘাত করিল, “এবং বলিল, “বৃদ্ধা বন্ধ্যা (কি প্রসব করিবে?)”

আয়াতঃ ৩০⇒ তাহারা কহিল, “সেই এরুপই, (কিন্তু) তোমার প্রতিপালক যে, নিশ্চয় জ্ঞানময় কৌশলময়।

আয়াতঃ ৩১⇒ সে (এবাহিম) জিজ্ঞাসা করিল, “হে প্রেরিতপুরুষগণ, অনন্তর তোমাদের কি লক্ষ্য”?

আয়াতঃ ৩২⇒ তাহারা কহিল, “নিশ্চয় আমরা এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি।

আয়াতঃ ৩৩+৩৪⇒ যেহেতু সীমালঙ্ঘনকারীদিগের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকটে প্রস্তরে পরিণত চিহ্নিত মৃত্তিকা আছে, তাহাদের প্রতি আমরা (তাহা) বর্ষণ করিব”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ অনন্তর তথায় বিশ্বাসীদিগের যে কেহ ছিল, তাহাদিগকে আমি বাহির করিলাম।

আয়াতঃ ৩৬⇒ পরে আমি বিশ্বাসীদিগের এক গৃহ ভিন্ন তথায় প্রাপ্ত হই নাই।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং যাহারা দুঃখকর শাস্তিকে ভয় করিয়া থাকে তাহাদের জন্য তথায় নিদর্শন রাখিলাম।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং মুসাতে (নিদর্শন আছে) (স্মরণ কর) যখন আমি তাহাকে ফেরওনের নিকটে উজ্জ্বল নিদর্শনসহ প্রেরণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৩৯⇒ অনন্তর (ফেরওন) আপন বলে ফিরিয়া গেল, এবং উন্মত্ত বা ঐন্দ্রজালিক বলিল।

আয়াতঃ ৪০⇒ পরে আমি তাহাকে ও তাহার সৈন্যবৃন্দকে আক্রমণ করিলাম, অবশেষে তাহাদিগকে নদীতে নিক্ষেপ করিলাম, এবং সে নিন্দিত হইল।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং আদজাতিতে (নিদর্শন আছে) (স্মরণ কর) যখন তাহাদের প্রতি নিষ্ফল বাত্যা প্রেরণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৪২⇒ তৎপ্রতি উপস্থিত হইয়াছে এমন কিছুতেই ছাড়িল না যে, তাহাকে জীর্ণ অস্থি তুল্য করে নাই।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং সমুদজাতিতে (নিদর্শন আছে) (স্মরণ কর) যখন তাহাদিগকে বলা হইল যে, “কিয়ৎকাল পর্যন্ত তোমরা ফল ভোগ করিতে থাক”।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অনন্তর তাহারা আপন প্রতিপালকের আদেশের অবাধ্য হইল, পরে তাহাদিগকে বজ্রধ্বনি আক্রমণ করিল, এবং তাহারা (উহা) দেখিতেছিল।

আয়াতঃ ৪৫⇒ পরে তাহারা দন্ডায়মান থাকিতে সমর্থ হইল না, এবং প্রতিফলদাতা হইল না।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং পূর্বে আমি নুহীয় সম্প্রদায়কে সংহার করিয়াছিলাম, নিশ্চয় তাহারা কুক্রিয়াশীল দল ছিল।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং স্বর্গ, তাহাকে আমি নিজ হস্তে নির্মাণ করিয়াছি, এবং নিশ্চয় আমি ক্ষমতাবান।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং পৃথিবী, তাহাকে আমি প্রসারিত করিয়াছি, অনন্তর আমি উত্তম প্রসারণকারী।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং আমি প্রত্যেক পদার্থ দ্বিবিধ সৃজন করিয়াছি, ভরসা যে, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ৫০⇒ (প্রেরিতপুরুষ বলিয়াছে) “পরিশেষে তোমরা ঈশ্বরের দিকে পলায়ন কর, নিশ্চয় আমি তাঁহার নিকট হইতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক হই।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং সেই ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য ঈশ্বর নির্ধারণ করিও না,  নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁহা হইতে স্পষ্ট ভয়প্রদর্শক হই”।

আয়াতঃ ৫২⇒ এইরুপ তাহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহাদের নিকটে কোন প্রেরিতপুরুষ আগমন করে নাই যে, তাহারা ঐন্দ্রজালিক বা ক্ষিপ্ত বলে নাই।

আয়াতঃ ৫৩⇒ তাহারা কি এ-বিষয়ে পরস্পর নির্দেশ করিয়াছে? বরং তাহারা দুর্দান্ত দল।

আয়াতঃ ৫৪⇒ অনন্তর তুমি তাহাদিগ হইতে মুখ ফিরাইও, পরিশেষে তুমি তিরস্কৃত নও।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং তুমি উপদেশ দান করিতে থাক, পরে নিশ্চয় উপদেশ বিশ্বাসীদিগকে ফল বিধান করিবে।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং আমাকে অর্চনা করিবে, এ উদ্দেশ্যে ব্যতীত আমি মানব ও দানবকে সৃজন করি নাই।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং তাহাদের নিকটে আমি কোন উপজীবিকা ইচ্ছা করি না, এবং ইচ্ছা করি না যে, আমাকে তাহারা অন্ন দান করে।

আয়াতঃ ৫৮⇒ নিশ্চয় ঈশ্বর, তিনিই জীবিকাদাতা দৃঢ় শক্তিশালী।

আয়াতঃ ৫৯⇒ নিশ্চয় যাহারা অত্যাচার করিয়াছে তাহাদের জন্য তাহাদের (পূর্ববর্তী) বন্ধুদিগের দন্ডাংশের ন্যায় দন্ডাংশ আছে; অনন্তর তাহারা যেন (তজ্জন্য) ব্যগ্র না হয়।

আয়াতঃ ৬০⇒ অবশেষে তাহারা আপনাদের দিন সম্বন্ধে যাহা তাহাদের প্রতি অঙ্গীকার করা হইয়াছে অবিশ্বাস করিয়াছে, তাহাদের প্রতি ধিক।