সূরাঃ কা

অবতীর্ণঃমক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ কা, মহৎ কোরআনের শপথ।

আয়াতঃ ০২⇒ বরং তাহারা আশ্চর্যান্বিত হইয়াছে, যেহেতু তাহাদের মধ্য হইতে ভয় প্রদর্শক তাহাদের নিকটে আগমন করিয়াছে, পরে ধর্মদ্রোহীগণ বলিল, “ইহা আশ্চর্য বিষয়।

আয়াতঃ ০৩⇒ কি আমরা যখন মরিব ও মৃত্তিকা হইয়া যাইব তখন (পুনরুত্থিত হইব?) এই পুনরুত্থান অসম্ভব”।

আয়াতঃ ০৪⇒ সত্যই মৃত্তিকা তাহাদিগের যাহা (যে অস্থি-মাংস) বিনষ্ট করে, তাহা আমি জ্ঞাত আছি, এবং আমার নিকটে স্মারক গ্রন্থ আছে।

আয়াতঃ ০৫⇒ বরং তাহারা সত্যের প্রতি যখন তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইয়াছে অসত্যারোপ করিয়াছে, অনন্তর তাহারা এক বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়।

আয়াতঃ ০৬⇒ পরিশেষে কি তাহারা তাহাদের উপরিস্থিত নভোমণ্ডলের দিকে দৃষ্টি করিতেছে না? আমি তাহাকে কেমন নির্মাণ করিয়াছি ও তাহাকে শোভিত করিয়াছি, এবং তাহার কোন ছিদ্র নাই।

আয়াতঃ ০৭+০৮⇒ এবং তাহারা পৃথিবীর দিকে (কি দৃষ্টি করিতেছে না?) তাহাকে আমি প্রসারিত করিয়াছি ও তন্মধ্যে পর্বত সকল স্থাপন করিয়াছি, এবং তাহার মধ্যে সর্ববিধ আনন্দজনক (উদ্ভিদ) প্রত্যেক পুনর্মিলনকারী দাসের দর্শন ও উপদেশের জন্য উৎপাদন করিয়াছি।

আয়াতঃ ০৯+১০+১১⇒ এবং আমি আকাশ হইতে শুভকর বারি বর্ষণ করিয়াছি, পরে তদ্দারা উদ্যান সকল ও কর্তিত হওয়ার শস্যকণা এবং উন্নত খোর্মাতরু যাহার স্তরে স্তরে ফল হয় দাসদিগের উপজীবিকা স্বরূপ উৎপাদন করিয়াছি, এবং তদ্বারা মৃত নগরকে জীবিত করিয়াছি, এইরুপে (কবর হইতে) বহির্গমন হয়।

আয়াতঃ ১২+১৩+১৪⇒ তাহাদের পূর্বে নুহীয় সম্প্রদায় ও রসায়নবাসিগণ এবং সমুদ ও আদজাতি এবং ফেরওন ও লুতের ভ্রাতৃবর্গ এবং আয়কানিবাসিগণ ও তোব্বার সম্প্রদায় অসত্যারোপ বলিয়াছিল, প্রত্যেক প্রেরিতপুরুষদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, অনন্তর শাস্তির অঙ্গীকার প্রমানিত হইয়াছিল।

আয়াতঃ ১৫⇒ পরন্তু আমি কি প্রথম সৃষ্টিতে কাতর হইয়াছিলাম, বরং তাহারা অভিনব সৃষ্টিবিষয়ে সন্দেহের মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মনুষ্যকে সৃজন করিয়াছি ও তাহার মন তাহাকে যে মন্ত্রণা দান করে আমি তাহা জ্ঞাত হই, আমি প্রাণের শিরা অপেক্ষা তাহার পক্ষে নিকটতর।

আয়াতঃ ১৭⇒ (স্মরণ কর) যখন দুই উপবিষ্ট গ্রহণকারী দক্ষিন ও বাম দিক হইতে (বাক্যাদি) গ্রহণ করিতে থাকে।

আয়াতঃ ১৮⇒ সে (মনুষ্য) এমন কোন বাক্য উচ্চারণ করে না তাহার নিকটে যে রক্ষক সমুপস্থিত সে (তাহা লিপি করে না)।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং মৃত্যুর মূর্ছা সত্যতঃ আসিবে, (তাহাকে বলিবে) ইহা তাহাকে যাহা হইতে তুমি অপসৃত হইতেছিলে।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং সুরবাদ্যে ফুঁৎকার করা হইবে; (দেবগণ বলিবে) ইহাই শাস্তির অঙ্গীকারের দিন”।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করিবে, তাহার সঙ্গে পরিচালক ও সাক্ষী (আগমন করিবে)।

আয়াতঃ ২২⇒ (আমি বলিব) “সত্যসত্যই তুমি এ-বিষয়ে নিশ্চিন্ত ছিলে, অনন্তর আমি তোমা হইতে তোমার আবরণ উন্মোচন করিলাম, পরে অদ্য তোমার চক্ষু তীক্ষ্ণ হইল”।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং তাহার সহচর (দেবতা) বলিবে, “এই তাহা যাহা (যে কার্যলিপি) আমার নিকটে উপস্থিত আছে”।

আয়াতঃ ২৪+২৫+২৬⇒ (আমি সেই দুই স্বর্গীয় দূতকে বলিব), “প্রত্যেক দুর্দান্ত কল্যাণের বিরোধী সীমালঙ্ঘনকারী সন্দেহপ্রবণ যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য ঈশ্বর নির্ধারণ করে সেই কাফেরকে নরকে নিক্ষেপ কর, অনন্তর কঠিন শাস্তির মধ্যে তাহাকে নিক্ষেপ কর”।

আয়াতঃ ২৭⇒ তাহার সহচর বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমি তাহাকে বিপথগামী করি নাই, কিন্তু সে নিজেই দূরতর পথভ্রান্তির মধ্যে ছিল”।

আয়াতঃ ২৮⇒ (তিনি বলিবেন) “আমার নিকটে তোমরা বিরোধ করিও না, এবং বস্তুতঃ আমি তোমাদের প্রতি পূর্বেই শাস্তির অঙ্গীকার করিয়াছি।

আয়াতঃ ২৯⇒ আমার নিকটে বাক্য পরিবর্তিত করা হয় না, এবং আমি দাসদিগের প্রতি অত্যাচারী নহি”।

আয়াতঃ ৩০⇒ (স্মরণ কর) যে দিন আমি নরকলোককে বলিব, “তুমি কি (পাপী দ্বারা) পূর্ণ হইয়াছ”? এবং সে কহিবে, “কিছু অধিক আছে কি”?

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং ধার্মিক লোকদিগের জন্য স্বর্গলোক অদূরে সন্নিহিত করা হইবে।

আয়াতঃ ৩২⇒ (আমি বলিব) “ইহা সেই যাহা প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারী (ঈশ্বরের আজ্ঞা) প্রতিপালনকারীর জন্য অঙ্গীকৃত হইয়াছে”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ যে ব্যক্তি অন্তরে ঈশ্বরকে ভয় করে, পুনর্মিলনকারী অন্তরের সহিত উপস্থিত হয়।

আয়াতঃ ৩৪⇒ (আমি তাহাকে বলিব) “তোমরা সুখে ইহাতে প্রবেশ কর, ইহাই নিত্যবাসের দিন”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তাহারা যাহা ইচ্ছা করে তথায় তাহাদের জন্য তাহা থাকিবে, এবং আমার নিকটে অধিক থাকিবে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং তাহাদের পূর্বে আমি বহু মণ্ডলীকে বিনাশ করিয়াছি, তাহারা তাহাদিগ অপেক্ষা বীরত্বে প্রবল ছিল, পরে নগর সকলের দিকে তাহারা পথ অনুসন্ধান করিয়াছিল, (তাহাদের) কোন পলায়নের স্থান কি ছিল?

আয়াতঃ ৩৭⇒ নিশ্চয় ইহাতে যাহার অন্তর আছে সেই ব্যক্তির জন্য, অথবা যে কর্ণকে স্থাপন করে এবং যে উপস্থিত থাকে তাহার জন্য উপদেশ আছে।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং সত্যসত্যই আমি ষষ্ঠ দিবসে স্বর্গ ও মর্ত এবং উভয়ের মধ্যে যে কিছু আছে সৃজন করিয়াছি, এবং কোন ক্লান্তি আমাকে আশ্রয় করে নাই।

আয়াতঃ ৩৯+৪০⇒ অনন্তর তাহারা যাহা বলিয়া থাকে তৎপ্রতি তুমি (হে মোহম্মদ) ধৈর্য ধারন কর, এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও অস্তগমনের পূর্বে ও রজনীতে আপন প্রতিপালকের প্রশংসার স্তব কর, পরে সায়ং উপাসনান্তে তাঁহার স্তুতি কর, এবং প্রণাম সমূহের পরও (স্তুতি কর)।

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং সেই দিন ঘোষনাকারী নিকটবর্তী স্থান হইতে যে ঘোষনা করিবে তুমি তাহা শ্রবন করিও।

আয়াতঃ ৪২⇒ সেই দিন তাহারা সত্যতঃ মহাধ্বনি শ্রবন করিবে, উহাই (কবর হইতে) বাহির হইবার দিন।

আয়াতঃ ৪৩⇒ নিশ্চয় আমি প্রাণ দান ও প্রাণ হরণ করিয়া থাকি, এবং (মৃত্যুর পর) আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন।

আয়াতঃ ৪৪⇒ সেই দিন তাহাদের উপর হইতে পৃথিবী বিদীর্ণ হইবে, তাহারা সত্বর (বাহির হইবে) এই পুনরুত্থান বিধান আমার সম্বন্ধে সহজ। আয়াতঃ ৪৫⇒ তাহারা যাহা বলিয়া থাকে আমি তাহা জানিতেছি, এবং তুমি তাহাদের সম্বন্ধে বল প্রয়োগকারী নও, অনন্তর যে ব্যক্তি শাস্তির অঙ্গীকারকে ভয় করে, তুমি কোরআন দ্বারা তাহাদিগকে উপদেশ দান করিতে থাক।