সূরাঃ কহফ

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ সম্যক গুনানুবাদ সেই ঈশ্বরেরই, যিনি আপন দাসের প্রতি গ্রন্থ অবতারণ করিয়াছেন, এবং তাহার জন্য কোন বক্রতা করেন নাই।

আয়াতঃ ০২⇒ (তাহাকে) দন্ডায়মান রাখিয়াছেন যেন সে ঈশ্বরের নিকট হইতে কঠিন শাস্তি (আসিবার) ভয় প্রদর্শন করে ও যাহারা সৎকর্ম করিয়া থাকে সেই বিশ্বাসীদিগকে (এই) সুসংবাদ দান করে যে, তাঁহাদের জন্য উত্তম পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ০৩⇒ তন্মধ্যে তাহারা নিত্যস্থায়ী।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং যাহারা বলে ঈশ্বর পুত্র গ্রহণ করিয়াছেন, তাহাদিগকে যেন সে ভয় প্রদর্শন করে।

আয়াতঃ ০৫⇒ তৎসম্বন্ধে তাঁহাদের পিতৃপুরুষদিগের কোন জ্ঞান নাই, তাহাদের মুখ হইতে গুরুতর কথা নির্গত হয়, তাহারা অসত্য বৈ বলে না।

আয়াতঃ ০৬⇒ যদি তাহারা এই কাহিনীতে (কোরআনে) বিশ্বাস স্থাপন না করে পরে হয় তো তুমি শোকবশতঃ তাহাদের পশ্চাতে স্বীয় প্রাণের হত্যাকারী হইবে।

আয়াতঃ ০৭⇒ পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে নিশ্চয় আমি (তদ্দারা) তাহার শোভা করিয়াছি, তাহাতে আমি তাহাদিগকে পরীক্ষা করি যে, তাহাদের মধ্যে কে কার্যানুসারে সর্বোত্তম।

আয়াতঃ ০৮⇒ এবং তাহার উপরে যাহা কিছু আছে তাহাকে নিশ্চয় আমি তৃণহীন সমতলভূমি করিব।

আয়াতঃ ০৯⇒ তুমি কি মনে করিয়াছ যে, গহ্বর ও রকিম নিবাসিগণ আমার নিদর্শন সকলের মধ্যে আশ্চর্য ছিল?

আয়াতঃ ১০⇒ যখন যুবকগণ গর্তের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করিল তখন তাহারা বলিল, “হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আপন সন্নিধান হইতে আমাদিগকে কৃপা বিতরণ কর, এবং আমাদের নিমিত্ত আমাদের কার্য হইতে শুভ ফল প্রস্তুত কর।“

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর আমি নির্ধারিত কতক বৎসর গর্ত মধ্যে তাহাদিগের কর্ণে আবরণ স্থাপন করিলাম।

আয়াতঃ ১২⇒ তৎপর আমি তাহাদিগকে সমুত্থাপণ করিলাম যেন জ্ঞাপন করি যে, কতক্ষণ বিলম্ব করা হইয়াছে, দুই দলের মধ্যে কে ইহার অধিক স্মরণকারী।

আয়াতঃ ১৩⇒ আমি তোমার নিকটে (হে মোহম্মদ) তাহাদের বৃত্তান্ত সত্যভাবে বর্ণন করিতেছি, নিশ্চয় তাহারা কয়েক যুবক ছিল, স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করিয়াছিল, এবং আমি তাহাদিগকে অধিক ধর্মজ্ঞান দান করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং আমি তাহাদের অন্তরে বন্ধন (দৃঢ়তা) রাখিয়াছিলাম, যখন তাহারা দন্ডায়মান হইল তখন বলিল, “স্বর্গ ও মর্তের প্রতিপালক আমাদের প্রতিপালক, কখনো আমরা তাঁহাকে ব্যতীত অন্য কোন ঈশ্বরকে করিব না, (তবে) সত্যসত্যই আমরা তখন অতিরিক্ত বলিব।

আয়াতঃ ১৫⇒ এই আমাদের জাতি তাঁহাকে ছাড়িয়া (অন্য) উপাস্য গ্রহণ করিয়াছে, কেন তাহারা তাহাদের নিকটে উজ্জল প্রমাণ উপস্থিত করিতেছ না? অনন্তর যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সম্বন্ধে অসত্য যোগ করিয়াছে তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী”।

আয়াতঃ ১৬⇒ এবং যখন তোমরা (হে বন্ধুগণ) তাহাদিগ হইতে ও তাহারা ঈশ্বর ভিন্ন যাহাকে অর্চনা করে তাহা হইতে বিচ্ছিন্ন হইবে, তখন গহ্বরের দিকে আশ্রয় লইও, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য স্বীয় দয়া প্রসারিত করিবেন, এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কার্যকে সহজরুপে প্রস্তুত করিবেন।

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং দেখ, সূর্য যখন উদিত হয় তখন তাহাদের গহ্বরের দক্ষিন দিকে ঝুঁকিয়া থাকে ও যখন অস্তমিত হয় তখন তাহাদের বাম দিক অতিক্রম করে, এবং তাহারা তাহার প্রশস্ত ভূমিতে আছে; ইহা ঈশ্বরের নিদর্শন সকলের অন্তর্গত, ঈশ্বর যাহাকে পথ প্রদর্শন করেন অনন্তর সে-ই পথ প্রাপ্ত হয়, এবং তিনি যাহাকে পথভ্রান্ত করেন, পরে তুমি তাহার জন্য কখন পথপ্রদর্শক বন্ধু পাইবে না।

আয়াতঃ ১৮⇒ এবং তুমি (হে দর্শক) তাহাদিগকে জাগ্রত মনে করিতেছ, ফলতঃ তাহারা নিদ্রিত, এবং তাহাদিগকে আমি দক্ষিন পার্শ্বে ও বাম পার্শ্বে ফিরাইতেছিলাম ও তাহাদের কুকুর আপন দুই হস্ত গর্তমুখে বিস্তার করিয়াছিল, যদি তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদের সম্বন্ধে জ্ঞাত হইতে তবে অবশ্য পলায়নস্বরূপ তাহাদিগ হইতে বিমুখ হইতে, এবং তাহাদিগ হইতে অবশ্য ভয়ে পূর্ণ হইতে।

আয়াতঃ ১৯⇒ এবং এইরুপে আমি তাহাদিগকে সমুত্থাপিত করিলাম, যেন তাহারা আপনাদের মধ্যে প্রশ্ন করে, তাহাদের একজন বক্তা প্রশ্ন করিল, “তোমরা কত বিলম্ব করিয়াছি,” (পরে) তাহারা বলিল, “তোমরা যতকাল বিলম্ব করিয়াছ তোমাদের প্রতিপালক তাহা উত্তম জ্ঞাত;” অনন্তর তোমাদের এক জনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ নগরের দিকে প্রেরণ কর, পরিশেষে দৃষ্টি করা উচিত যে, কোন খাদ্য বিশুদ্ধ, পরে তাহা হইতে জীবিকা তোমাদের নিকট তাহার আনয়ন করা উচিত, এবং মৃদুতা আবশ্যক ও তোমাদের (অবস্থা) সম্বন্ধে তোমরা কাহাকেও জ্ঞাপন করিবে না।

আয়াতঃ ২০⇒ নিশ্চয় তাহারা (কাফেরগণ) যদি তোমাদিগের প্রতি ক্ষমতা লাভ করে, তবে তোমাদিগকে তাহারা চূর্ণ করিবে, অথবা তোমাদিগকে আপন ধর্মেতে প্রত্যানয়ন করিবে, এবং তোমরা তখন কখনো মুক্তি পাইবে না।

আয়াতঃ ২১⇒ এবং এই প্রকার আমি তাহাদের প্রতি জ্ঞাপন করিলাম যেন তাহারা অবগত হয় যে, ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য ও কেয়ামত (সত্য) তাহাতে সন্দেহ নাই, যখন তাহারা আপনাদের ব্যাপারে আপনাদের মধ্যে পরস্পর বিবাদ করিতেছিল তখন বলিল, “ইহাদের উপর অট্টালিকা নির্মাণ কর,” তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের সম্বন্ধে উত্তম জ্ঞাত, যাহারা তাহাদের ব্যাপারে প্রবল হইয়াছিল তাহারা বলিল, “অবশ্য ইহাদের উপর আমরা মন্দির নির্মাণ করিব”।

আয়াতঃ ২২⇒ অবশ্য (ইহুদীরা) বলিবে যে, তিন ব্যক্তি, তাহাদের চতুর্থ তাহাদের কুকুর; এবং (ঈসায়ী লোক) বলিবে, পাঁচ ব্যক্তি, তাহাদের ষষ্ঠ তাহাদের কুকুর; অগোচরে (বাক্যের) নিক্ষেপ, এবং (মোসলমানেরা) বলিবে সাতজন, তাহাদের অষ্টম তাহাদের কুকুর; তুমি বল, (হে মোহম্মদ) আমার প্রতিপালক তাহাদের গণনা সম্বন্ধে সুবিজ্ঞাত, তাহারা তাহাদিগকে অল্প বৈ জানে না, অতএব তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদের সম্বন্ধে বাহ্য তর্ক-বিতর্ক করিও না ও তাহাদের সম্বন্ধে তাহাদিগের (কাফেরদিগের) কাহাকেও প্রশ্ন করিও না।

আয়াতঃ ২৩+২৪⇒ এবং “ঈশ্বরের ইচ্ছা হইলে” (বলা) ব্যতীত তুমি কোন বিষয়ে কখনো বলিও না যে, নিশ্চয় আমি কল্য ইহা করিব, ভুলিয়া গেলে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করিও, এবং বলিও ভরসা যে, আমার প্রতিপালক আমাকে নৈকট্যের জন্য পথপ্রদর্শন করিবেন, ইহা দ্বারাই সৎপথে গমন হয়।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং তাহারা আপন গর্তে তিন শত বৎসর বিলম্ব করিয়াছিল এবং নয় বৎসর অধিক ছিল।

আয়াতঃ ২৬⇒ তুমি বলিও, তাহারা কি পর্যন্ত বিলম্ব করিয়াছিল ঈশ্বর তাহা উত্তম জ্ঞাত; স্বর্গ ও মর্তের নিগূঢ় (তত্ত্ব) তাঁহারই জন্য, তিনি তাহার বিচিত্র দ্রষ্টা ও শ্রোতা, তাহাদের জন্য তিনি ব্যতীত কোন সহায় নাই, এবং তিনি কোন ব্যক্তিকে স্বীয় কর্তৃত্ব সম্বন্ধে অংশী করেন না।

আয়াতঃ ২৭⇒ এবং তোমার প্রতিপালকের গ্রন্থে তোমার প্রতি (হে মোহম্মদ) যাহা প্রত্যাদেশ করা হইয়াছে তুমি তাহা পাঠ কর, তাঁহার বাক্যের পরিবর্তনকারী নাই, এবং তাঁহাকে ব্যতীত তুমি কোন আশ্রয় পাইবে না।

আয়াতঃ ২৮⇒ যাহারা আপন প্রতিপালককে প্রাতঃসন্ধ্যা আহ্বান করে, এবং তাঁহার আনন আকাঙ্ক্ষা করিয়া থাকে তাহাদের সঙ্গে তুমি আপন জীবনকে বদ্ধ করিও, এবং তাহাদিগ হইতে তোমার দৃষ্টি যেন ফিরিয়া না যায়, তুমি পার্থিব জীবনের শোভা চাহিতেছ, আমি যাহার অন্তর আমার প্রসঙ্গ হইতে শিথিল করিয়াছি ও যে স্বীয় ইচ্ছার অনুসরণ করিয়াছে তুমি তাহার অনুগত হইও না, এবং তাহার কার্য সীমার বহির্ভূত হয়।

আয়াতঃ ২৯⇒ এবং তুমি বলিও, তোমাদের প্রতিপালক হইতেই সত্য সমাগত হয়, অনন্তর যে ইচ্ছা করিবে পরে সে বিশ্বাসী হইবে ও যে ব্যক্তি ইচ্ছা করিবে পরে সে কাফের হইবে, নিশ্চয় আমি অত্যাচারীদিগের জন্য অগ্নি প্রস্তুত রাখিয়াছি, তাহার আচ্ছাদন তাহাদিগকে আবেষ্টন করিবে; এবং যদি তাহারা (জল) প্রার্থনা করে, তবে মুখ দগ্ধ করে (এমন) দ্রবীভূত তাম্র সদৃশ জল দ্বারা প্রার্থনা পূরণ করা হইবে, উহা কদর্য পানীয়, (নরক) মন্দ নিবাস।

আয়াতঃ ৩০⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, একান্তই আমি যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদিগের পুরস্কার বিনষ্ট করিব না।

আয়াতঃ ৩১⇒ তাহারাই, তাহাদের জন্য নিত্য উদ্যান, তাহার নিম্নে পয়ঃপ্রনালী সকল প্রবাহিত হইবে, তথায় তাহারা স্বর্ণময় বলয় দ্বারা অলঙ্কৃত হইবে, এবং তথায় সিংহাসন সকলে ভর করিয়া সোন্দোস ও আস্তবরক নামক হরিদ্বর্ণ বস্ত্র সকল পরিধান করিবে, উৎকৃষ্ট পুরস্কার ও (স্বর্গ) উত্তম নিবাস।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং তাহাদের জন্য তুমি দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত বর্ণন কর, আমি তাহাদের এক জনের জন্য দুইটি দ্রাক্ষার উদ্যান নিরূপণ করিয়াছিলাম ও খোর্মা তরু দ্বারা উহা উহা ঘেরিয়াছিলাম, এবং উভয় উদ্যানের মধ্যে শস্যক্ষেত্র নিরূপণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৩৩⇒ প্রত্যেক উদ্যান স্বীয় ফল উপস্থিত করিল ও তাহার কিছুই ত্রুটি হইল না, এবং উভয়ের ভিতরে আমি জলস্রোত প্রবাহিত করিলাম।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং তাহার জন্য ফল (সকল) ছিল, অনন্তর সে আপন সঙ্গীকে বলিল ও সে তাহার সঙ্গে কথোপকথন করিতে লাগিল যে, “আমি তোমা অপেক্ষা ধনে শ্রেষ্ঠ ও জনে গৌরবান্বিত।“

আয়াতঃ ৩৫⇒ এবং সে আপন উদ্যানে প্রবেশ করিল ও সে স্বীয় জীবন সম্বন্ধে অত্যাচারী ছিল, বলিল, “আমি মনে করি না যে, ইহা কখনো বিনাশ পাইবে।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং আমি মনে করি না যে, প্রলয় সঙ্ঘটনীয়, এবং যদি আমি স্বীয় প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তিত হই, নিশ্চয় ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনভূমি (উদ্যান) লাভ করিব”।

আয়াতঃ ৩৭⇒ তাহাকে তাহার সঙ্গী বলিল ও সে তাহার সঙ্গে কথোপকথন করিতে লাগিল, “যিনি তোমাকে মৃত্তিকা দ্বারা তৎপর শুক্র দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, তদনন্তর তোমাকে এক পুরুষ গঠন করিয়াছেন, তাঁহার সম্বন্ধে কি তুমি বিদ্রোহীতা করিতেছ?

আয়াতঃ ৩৮⇒ কিন্তু সেই ঈশ্বরই আমার প্রতিপালক, এবং আপন প্রতিপালকের সম্বন্ধে আমি কাহাকেও অংশী স্থাপন করি না”।

আয়াতঃ ৩৯+৪০⇒ এবং যখন তুমি স্বীয় উদ্যানে প্রবেশ করিলে তখন যাহা ঈশ্বর করিয়াছেন কেন বলিলে না, ঈশ্বরের বৈ (কাহারো) ক্ষমতা নাই, যদি তুমি সন্তান ও সম্পত্তি অনুসারে তোমা অপেক্ষা আমাকে নিকৃষ্টতর দেখিতেছ, তবে সত্বরই আমার প্রতিপালক তোমার উদ্যান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর আমাকে দান করিবেন, এবং তৎপ্রতি আকাশ হইতে শাস্তি পাঠাইবেন, অনন্তর তাহা তৃণহীন ভূমি হইয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৪১⇒ অথবা তাহার জল শুষ্ক হইবে পরে কখনো তুমি তাহা আকাঙ্ক্ষা করিতে সক্ষম হইবে না।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং তাহার ফল (শাস্তি দ্বারা) আক্রান্ত হইল, অনন্তর সে তাহাতে যাহা ব্যয় করিয়াছিল তৎসম্বন্ধে আপন করে কর (আক্ষেপে) মর্দন করিতে করিতে প্রাতঃকাল করিল, এবং তাহা (অট্টালিকা) আপন (নিপতিত) ছাদের উপরে পড়িয়া গিয়াছিল, এবং সে বলিতে লাগিল, হায়! যদি আমি স্বীয় প্রতিপালকের সম্বন্ধে কাহাকেও অংশী স্থাপন না করিতাম।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং ঈশ্বর ভিন্ন কোন সম্প্রদায় তাহার জন্য ছিল না যে, তাহাকে সাহায্য করে ও সে (ঈশ্বরের) প্রতিফল দাতা ছিল না।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এ স্থানে ঈশ্বরের জন্যই কর্তৃত্ব সত্য, তিনি পুরস্কার দানানুসারে শ্রেষ্ঠ, শাস্তিদানানুসারে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং তুমি তাহাদের জন্য সাংসারিক জীবনের দৃষ্টান্ত ব্যক্ত কর, উহা সেই বারি সদৃশ, আমি যাহাকে আকাশ হইতে বর্ষণ করিলাম, অনন্তর তৎসহ পৃথিবীর উদ্ভিদ মিলিত হইল, পরিশেষে ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া গেল, বায়ু তাহাকে উড়াইতেছিল; এবং ঈশ্বর প্রত্যেক বস্তুর উপরে ক্ষমতাশালী হন।

আয়াতঃ ৪৬⇒ সম্পত্তি ও সন্তান সকল সাংসারিক জীবনের শোভা, অবিনশ্বর সাধুতা সকল তোমার প্রতিপালকের নিকটে পুরস্কারনুসারে শ্রেষ্ঠ ও আশানুসারে শ্রেষ্ঠ।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিন আমি পর্বত সকলকে বিচালিত করিব ও পৃথিবীকে তুমি (পর্বতের নিম্ন হইতে) প্রকাশিত দেখিবে, এবং আমি তাহাদিগকে সমুত্থাপণ করিব, পরে তাহাদের একজনকেও পরিত্যাগ করিব না।

আয়াতঃ ৪৮⇒ এবং তোমার প্রতিপালকের নিকটে শ্রেনীবদ্ধরুপে তাহাদিগকে সম্মুখস্থ করা হইবে, (ঈশ্বর বলিবেন) তোমাদিগকে আমি যেরুপ প্রথম বারে সৃজন করিয়াছি, সত্যসত্যই তোমরা আমার নিকটে সেরুপ আসিয়াছ, বরং তোমরা মনে করিতেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য অঙ্গীকারভূমি (বিচার স্থান) করিব না।

আয়াতঃ ৪৯⇒ এবং পুস্তক (কার্যলিপি) স্থাপিত হইবে, অনন্তর তুমি অপরাধীদিগকে দেখিবে যে তন্মধ্যে যাহা (লিখিত) আছে তাহা হইতে তাহারা ভয়াকুল, এবং বলিবে, “হায়!” আমাদের প্রতি আক্ষেপ, কি অবস্থা যে, না ক্ষুদ্র না বৃহৎ, (পাপের কথা) তাহা পরিগণিত করা ব্যতীত এই পুস্তক পরিত্যাগ করিতেছে না,” এবং তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা সাক্ষাৎ প্রাপ্ত হইবে, তোমার প্রতিপালক কাহাকেও উৎপীড়ন করিবেন না।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন আমি দেবতাদিগকে বলিলাম যে, “তোমরা আদমকে প্রণাম কর;” তখন শয়তান ব্যতীত তাহারা প্রণাম করিল, সে দৈত্যের অন্তর্গত ছিল, অতএব স্বীয় প্রতিপালকের আজ্ঞার অবাধ্য হইল, অনন্তর আমাকে ব্যতীত তোমরা কি তাহাকে ও তাহার সন্তানগণকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিবে? তাহারা তোমাদের জন্য শত্রু, অত্যাচারীদিগের জন্য মন্দ বিনিময় হয়।

আয়াতঃ ৫১⇒ স্বর্গ ও মর্তের সৃজনে আমি তাহাদিগকে উপস্থিত করি নাই ও তাহাদের জীবনের সৃজনেও নয়, এবং আমি পথভ্রান্তিকারীদিগের হস্ত ধারন করিব না।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিন তিনি বলিবেন, “তোমরা যাহাদিগকে অংশী মনে করিতেছ আমার সেই অংশীদিগকে ডাক, পরে তাহারা তাহাদিগকে ডাকিবে, অনন্তর তাহারা তাহাদিগকে উত্তর দান করিবে না, এবং আমি তাহাদের মধ্যে মৃত্যুভূমি স্থাপন করিব।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং অপরাধিগণ অগ্নি দর্শন করিবে, পরে মনে করিবে যে, তাহারা তাহাতে পতনোন্মুখ, এবং তাহা হইতে প্রত্যাবর্তন স্থান প্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৫৪⇒ এবং সত্যসত্যই আমি মানবমণ্ডলীর জন্য এই কোরআনে বিবিধ দৃষ্টান্ত পুনঃ পুনঃ বর্ণন করিয়াছি, এবং মনুষ্য বিরোধ বিষয়ে সর্বাপেক্ষা প্রবল হয়।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে উপদেশ উপস্থিত হয় তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতে ও আপন প্রতিপালকের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করিতে তাহাদের নিকটে পূর্ববর্তী লোকদিগের পদ্ধতি উপস্থিত হওয়া কিংবা সম্মুখীন শাস্তি সমাগত হওয়া প্রতীক্ষা করা ব্যতীত সেই লোকদিগকে বারন রাখে নাই।

আয়াতঃ ৫৬⇒ এবং সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শকরুপে ব্যতীত আমি প্রেরিতপুরুষদিগকে প্রেরণ করি নাই, ধর্মদ্রোহী লোকেরা অসত্য-যোগে বিবাদ করিয়া থাকে যেন তদ্দারা সত্যকে বিচালিত করে, এবং আমার নিদর্শন সকলের প্রতি ও যাহা দ্বারা ভয় প্রদর্শন করা গিয়াছে তৎপ্রতি বিদ্রুপ করে।

আয়াতঃ ৫৭⇒ এবং যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের নিদর্শন সকল দ্বারা উপদিষ্ট হইয়া পরে তাহা হইতে বিমুখ হইয়াছে ও তাহার হস্ত যাহা পূর্বে প্রেরণ করিয়াছে ভুলিয়া গিয়াছে, তাহা অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? নিশ্চয় আমি তাহাদের অন্তরে আবরণ রাখিয়া দিয়াছি যে, তাহা (কোরআন) বুঝিবে (না) তাহাদের কর্ণে গুরুভার (রাখিয়াছি) এবং যদি তুমি তাহাদিগকে পথ প্রদর্শনের দিকে আহ্বান কর, তবে কখনো তাহারা পথপ্রাপ্ত হইবে না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) ক্ষমাশীল ও দয়াবান, তাহারা যে আচরণ করিয়াছে যদি তিনি তজ্জন্য ধরিতেন, তবে তাহাদের নিমিত্ত সত্বর শাস্তি পাঠাইতেন, বরং তাহাদের অঙ্গীকারভূমি (কেয়ামতে) আছে, তাঁহাকে ব্যতীত তাহারা কোন আশ্রয় পাইবে না।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং যখন অত্যাচার করিল, তখন আমি এই গ্রাম সকলকে বিনাশ করিলাম, এবং তাহাদের সংহারের জন্য অস্বীকারভূমি স্থাপন করিলাম।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং (স্মরণ কর) যখন মুসা আপন (সঙ্গী) নব যুবককে বলিল, “যে পর্যন্ত আমি দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে উপস্থিত (না) হই, সে পর্যন্ত নিরন্তর চলিতে থাকিব, অথবা বহু বৎসর চলিব।

আয়াতঃ ৬১⇒ অনন্তর যখন তাহারা উভয় (সাগরের) সঙ্গমস্থলে পহুঁছিল, তখন আপনাদের মৎস্য ভুলিয়া গেল, অবশেষে সে (মৎস) সাগরেতে সুরঙ্গবৎ স্বীয় পথ অবলম্বন করিল।

আয়াতঃ ৬২⇒ পরে যখন তাহারা (সঙ্গমস্থান হইতে) চলিয়া গেল, তখন সে আপন নব যুবককে বলিল যে, “আমাদের পৌর্বাহ্ণিক ভোজ্য উপস্থিত কর, সত্যসত্যই আমাদের এই পর্যটনে আমরা ক্লান্তি লাভ করিয়াছি”।

আয়াতঃ ৬৩⇒ সে বলিল, “তুমি কি দেখিয়াছ, যখন প্রান্তরের দিকে আশ্রয় লইয়াছিলাম, তখন নিশ্চয় আমি মৎস্যকে ভুলিয়া গিয়াছি, এবং আমার তাহা স্মরণ করিতে শয়তান ব্যতীত (অন্য কেহ) আমাকে বিস্মরণ করায় নাই, এবং সে সমুদ্রে আপন পথ গ্রহণ করিয়াছে, আশ্চর্য”।

আয়াতঃ ৬৪⇒ সে (মুসা) বলিল, “‘ইহাই যাহা আমরা অন্বেষণ করিতেছিলাম,” অনন্তর উভয়ে আপনাদের পদচিহ্নানুসারে অনুসরণ করতঃ প্রত্যাবর্তিত হইল।

আয়াতঃ ৬৫⇒ অবশেষে সে আমার দাসদিগের এমন এক দাসকে প্রাপ্ত হইল যাহাকে আমি আপন সন্নিধান হইতে কৃপা বিতরণ করিয়াছি ও যাহাকে আমি আপন সন্নিধান হইতে জ্ঞান শিক্ষা দিয়াছি।

আয়াতঃ ৬৬⇒ তাহাকে মুসা বলিল, “তুমি যে ধর্ম জ্ঞান শিক্ষা করিয়াছ তাহা আমাকে তুমি শিক্ষা দিবে বলিয়া আমি কি তোমার অনুসরণ করিব?”

আয়াতঃ ৬৭⇒ সে বলিল, “নিশ্চয় তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্যধারনে সমর্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং তুমি জ্ঞানযোগে যাহা আয়ত্ত্ব কর নাই তৎপ্রতি কেমন করিয়া ধৈর্য ধারন করিবে?”

আয়াতঃ ৬৯⇒ সে বলিল, “যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করেন তবে তুমি আমাকে ধৈর্যশালী পাইবে, এবং আমি তোমার সম্বন্ধে আদেশমতে অবাধ্যতাচরণ করিব না”।

আয়াতঃ ৭০⇒ সে বলিল, “অনন্তর যদি তুমি আমার অনুসরণ কর তবে কোন বিষয়ে যে পর্যন্ত আমি তোমার জন্য তাহার কোন প্রসঙ্গ উপস্থিত (না) করি সে পর্যন্ত আমাকে প্রশ্ন করিবে না”।

আয়াতঃ ৭১⇒ পরে যে পর্যন্ত না নৌকায় আরোহণ করিল সে পর্যন্ত উভয়ে চলিল, সে (খেজর) তাহা বিদীর্ণ করিল, সে (মুসা) বলিল, “কি তুমি তাহা বিদীর্ণ করিলে যেন তাহার আরোহী জলমগ্ন হয়? সত্যসত্যই তুমি এক গুরুতর বিষয় উপস্থিত করিলে”।

আয়াতঃ ৭২⇒ সে বলিল, “আমি কি বলি নাই যে, নিশ্চয় তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধারন করিতে পারিবে না?

আয়াতঃ ৭৩⇒ সে বলিল, “আমি যাহা ভুলিয়াছি তৎসম্বন্ধে তুমি আমাকে ধরিও না এবং আমার ব্যাপারে তুমি আমার উপরে সঙ্কট ফেলিও না”। অনন্তর উভয়ে যে পর্যন্ত না এক বালকের সঙ্গে তাহাদের সাক্ষাৎ হইল সে পর্যন্ত চলিল, সে (খেজর) তাহাকে হত্যা করিল, সে বলিল, “কোন ব্যক্তির (হত্যা- বিনিময়) ব্যতীত তুমি কি এক নির্দোষ ব্যক্তিকে বধ করিলে? সত্যসত্যই তুমি মন্দ বিষয় উপস্থিত করিলে”।

আয়াতঃ ৭৪⇒ সে বলিল, “আমি কি তোমাকে বলি নাই যে, নিশ্চয় তুমি আমার সম্বন্ধে কখনো ধৈর্য ধারন করিতে পারিবে না?”

আয়াতঃ ৭৫⇒ সে বলিল, “যদি ইহার পরে কোন বিষয়ে আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি তবে আমার সঙ্গে সহবাস করিবে না, নিশ্চয় তুমি আমার নিকট হইতে মার্জনা পাইবে”।

আয়াতঃ ৭৬⇒ অনন্তর উভয়ে চলিল, যখন তাহারা এক গ্রামের অধিবাসীদের নিকটে উপস্থিত হইল তখন তাহার অধিবাসীদের নিকট খাদ্য প্রার্থনা করিল, তখন তাহারা তাহাদের আতিথ্য সৎকারে অসম্মত হইল, পরে তাহারা (মুসা ও খেজর) তথায় পতনোন্মুখ এক প্রাচীর প্রাপ্ত হইল, সে (খজর) তাহার জীর্ণ সংস্কার করিল, সে (মুসা) বলিল, “যদি তুমি ইচ্ছা করিতে নিশ্চয় এ সম্বন্ধে পারিশ্রমিক গ্রহণ করিতে”।

আয়াতঃ ৭৭⇒ সে বলিল, “তোমার ও আমার মধ্যে এই বিচ্ছেদ, যে-যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারনে সুক্ষম হও নাই, এক্ষনে আমি তোমাকে তাহার তত্ত্ব জানাইব।

আয়াতঃ ৭৮⇒ কিন্তু নৌকা, (নৌকার বিষয়) পরন্তু উহা কয়েকজন দরিদ্রের ছিল, তাহারা সমুদ্রে কার্য করিতেছিল, অনন্তর আমি ইচ্ছা করিলাম যে, তাহাকে দোষমুক্ত করি, যেহেতু তাহাদের পশ্চাতে এক রাজা ছিল; সে বলপূর্বক সমুদায় নৌকা গ্রহণ করিত।

আয়াতঃ ৭৯⇒ এবং কিন্তু বালক (বালকের বিষয়), পরন্তু তাহার পিতা-মাতা ধার্মিক ছিল, পরে ভীত হইলাম যে, সে বা তাহাদের উপর অধর্ম ও অবাধ্যতায় প্রবল হইয়া উঠে।

আয়াতঃ ৮০⇒ অনন্তর ইচ্ছা করিলাম যেন তাহাদের প্রতিপালক শুদ্ধতা অনুসারে তাহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও পিতা-মাতার প্রতি করুণা অনুসারে সমধিক নিকটবর্তী (সন্তান) তাহাদিগকে বিনিময় দান করেন।

আয়াতঃ ৮১⇒ কিন্তু প্রাচীর, (প্রাচীরের বিষয়) পরন্তু তাহা নগরস্থ দুই অনাথ বালকের ছিল, এবং তাহার নিম্নে তাহাদের ধন ছিল ও তাহাদের পিতা সাধু ছিল, পরে তোমার প্রতিপালক চাহিলেন যে, তাহারা উপযুক্ত বয়ঃপ্রাপ্ত হয় ও আপনাদের ধন বাহির করে, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, আমি আপন মতে তাহা করি নাই, তুমি যাহাতে ধৈর্য ধারন করিতে পার নাই তাহার এই তত্ত্ব।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং তোমাকে (হে মোহম্মদ) জোলকরণয়নের বিষয় তাহারা জিজ্ঞাসা করিতেছে, তুমি বল, সত্বর তোমাদের নিকটে তাহার প্রসঙ্গ পাঠ করিব।

আয়াতঃ ৮৩⇒ নিশ্চয় আমি তাহাকে পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করিয়াছিলাম, এবং তাহাকে প্রত্যেক বিষয়ের এক সম্বল দিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৮৪⇒ অনন্তর সে কোন সম্বলের অনুসরণ করিল।

আয়াতঃ ৮৫⇒ সে যখন সূর্যের অস্তগমন স্থান পর্যন্ত পহুঁছিল, তখন কর্দমময় জলপ্রনালী মধ্যে মগ্ন হইতেছে (অবস্থায়) তাহাকে পাইল, এবং তাহার নিকটে এক দল প্রাপ্ত হইল।

আয়াতঃ ৮৬⇒ আমি বলিয়াছিলাম, “হে জোলকরণয়ন, হয় তুমি শাস্তি দিবে, এবং হয় ইহাদিগের প্রতি হিতানুষ্ঠান অবলম্বন করিবে”।

আয়াতঃ ৮৭⇒ সে বলিল, “কিন্তু যে ব্যক্তি অত্যাচার (অধর্ম) করিয়াছে, পরে সত্বর আমি তাহাকে শাস্তি দান করিব, তৎপর সে স্বীয় প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে, অবশেষে তিনি তাহাকে কঠিন শাস্তি দিবেন।

আয়াতঃ ৮৮⇒ কিন্তু যে ব্যক্তি বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে, পরে তাহার জন্য শুভ বিনিময় আছে, এবং শীঘ্র স্বীয় আদেশানুসারে আমি তাহার জন্য সহজ (কার্য) বলিব।

আয়াতঃ ৮৯⇒ তৎপর সে কোন সম্বলের অনুসরণ করিল।

আয়াতঃ ৯০⇒ সে যখন সূর্যের উদয়ভূমি পর্যন্ত পহুঁছিল তখন তাহাকে এক সম্প্রদায়ের উপরে প্রকাশ পাইতেছে (অবস্থায়) প্রাপ্ত হইল, আমি তাহা (সূর্য) ব্যতীত তাহাদের জন্য কোন আবরণ করি নাই।

আয়াতঃ ৯১⇒ এইরুপ (বিবরণ ছিল) এবং নিশ্চয় তাহার নিকটে যাহা ছিল তাহার তত্ত্ব আমি ধারন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৯২⇒ তৎপর সে কোন সম্বলের অনুসরণ করিল।

আয়াতঃ ৯৩⇒ যখন সে দুই প্রাচীরের (পর্বতের) মধ্যে পর্যন্ত পহুঁছিল, সে তখন উভয় প্রাচীরের নিকটে এক সম্প্রদায়কে প্রাপ্ত হইল; সে তাহাদের কোন কথা হৃদয়ঙ্গম করিবার নিকটবর্তী (উপযুক্ত) ছিল না।

আয়াতঃ ৯৪⇒ তাহারা বলিল, “হে জোলকরণয়ন, নিশ্চয় ইয়াজুজ ও মাজুজ ভূমণ্ডলে বিল্পবকারী, অনন্তর তুমি আমাদের মধ্যে ও তাহাদের মধ্যে প্রাচীর স্থাপন করিবে, এই (অঙ্গীকারে) আমরা তোমার জন্য কি কর নির্ধারণ করিব”।

আয়াতঃ ৯৫⇒ সে বলিল, “আমার প্রতিপালক তদ্বিষয়ে আমাকে যে ক্ষমতা দান করিয়াছেন তাহা উত্তম, অনন্তর তোমরা শক্তি দ্বারা আমার সহায়তা কর, আমি তোমাদের ও তাহাদের মধ্যে দৃঢ় আবরণ স্থাপন করিব।

আয়াতঃ ৯৬⇒ যে পর্যন্ত সেই দুই পর্বতের তুল্য হয়, তোমরা আমার নিকটে সে পর্যন্ত লৌহ খন্ড সকল উপস্থিত কর”। সে বলিল, “যে পর্যন্ত তাহাকে অগ্নিতে পরিণত করা হয় তোমরা সে পর্যন্ত ফুঁৎকার করিতে থাক, “সে বলিল, “আমার নিকটে (তাহা) আনয়ন কর, আমি তাহার উপর দ্রবীভূত তাম্র নিক্ষেপ করিব”।

আয়াতঃ ৯৭⇒ অনন্তর তাহারা (ইয়াজুজ ও মাজুজ) তাহার উপর উঠিতে সমর্থ হইল না, এবং তাহাকে ভেদ করিও সমর্থ হইল না।

আয়াতঃ ৯৮⇒ সে (জোলকরণয়ন) বলিল, “আমার প্রতিপালকের এই অনুগ্রহ, অনন্তর যখন আমার প্রতিপালকের অঙ্গীকার উপস্থিত হইবে, তখন তাহাকে সমভূমি করিবেন, যেহেতু আমার প্রতিপালকের অঙ্গীকার সত্য।

আয়াতঃ ৯৯⇒ এবং সেদিন আমি তাহাদের এক দলকে অন্যদলে মিলিত হইতে ছাড়িয়া দিব এবং সুরবাদ্যে ফুঁৎকার করা হইবে, অনন্তর আমি তাহাদিগকে একত্র সম্মিলিত করিব।

আয়াতঃ ১০০+১০১⇒ এবং সেই দিন আমার স্মরণ করা হইতে যাহাদের চক্ষু আচ্ছাদনের ভিতরে আছে ও যাহারা শ্রবন করিতে সুক্ষম নহে সেই ধর্মদ্রোহীদিগের জন্য নরক সম্মুখস্ত করিব।

আয়াতঃ ১০২⇒ অনন্তর ধর্মদ্রোহীগণ কি মনে করিয়াছে যে, আমাকে ছাড়িয়া আমার দাসদিগকে বন্ধুরুপে গ্রহণ করিবে? নিশ্চয় আমি ধর্মদ্রোহীদিগের নিমিত্ত নরককে আতিথ্য ভূমি করিয়াছি।

আয়াতঃ ১০৩+১০৪⇒ তুমি বল, পার্থিব জীবনে যাহাদিগের চেষ্টা বিফল হইয়াছে, এবং যাহারা মনে করিতেছিল যে, তাহারা কার্য উত্তম করিতেছে, আমি তোমাদিগকে কি কার্যতঃ সেই ক্ষতিগ্রস্থদিগের সংবাদ জানাইব?

আয়াতঃ ১০৫⇒ তাহারাই যাহারা আপন প্রতিপালকের নিদর্শন সকল ও তাঁহার সাক্ষাৎকার সম্বন্ধে অধর্ম করিয়াছে, অনন্তর তাহাদের কর্ম সকল বিনষ্ট হইয়াছে, পরে আমি তাহাদের জন্য কেয়ামতের দিনে পরিমাণ স্থাপন করিব না।

আয়াতঃ ১০৬⇒ যেহেতু তাহারা ধর্মদ্রোহী হইয়াছে ও আমার নিদর্শন সকলকে এবং প্রেরিতগণকে বিদ্রুপ করিয়াছে, তন্নিমিত্ত এই তাহাদের বিনিময়স্বরূপ নরক।

আয়াতঃ ১০৭⇒ নিশ্চয় যাহারা বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে তাহাদের জন্য স্বর্গের উদ্যান সকল আতিথ্য ভূমি হয়।

আয়াতঃ ১০৮⇒ তাহারা তথায় নিত্যস্থায়ী হইবে, তথা হইতে প্রত্যাগমন প্রার্থনা করিবে না।

আয়াতঃ ১০৯⇒ তুমি বল যে, আমার প্রতিপালকের রচনাবলী (লিপির) জন্য যদি সাগর মসী হয়, এবং যদিচ আমরা তৎসদৃশ সাহায্য আনয়ন করি, আমার প্রতিপালকের রচনাবলী সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে অবশ্য সমুদ্র সমাপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ১১০⇒ তুমি বল, আমি তোমাদের ন্যায় মনুষ্য এতদ্ভিন্ন নহি, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ প্রেরিত হয় যে, তোমাদের ঈশ্বর সে-ই একমাত্র উপাস্য, অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সাক্ষাৎকারের আশা রাখে তাহার উচিত যে, সৎকর্ম করে ও আপন প্রতিপালকের উপাসনায় কাহাকেও অংশী স্থাপন না করে।