সূরাঃ কসস

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ তাসম্মা

আয়াতঃ ০২⇒ এই আয়াত সকল উজ্জ্বল গ্রন্থের হয়।

আয়াতঃ ০৩⇒ তোমার  নিকটে (হে মোহম্মদ) বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের নিমিত্ত আমি মুসা ও ফেরওনের কোন বৃত্তান্ত যথাযথ পাঠ করিতেছি।

আয়াতঃ ০৪⇒ নিশ্চয় ফেরওন পৃথিবীতে গর্বিত হইয়াছিল ও তাহার অধিবাসীদিগকে দলে দলে বিভক্ত করিয়াছিল, সে তাহাদের এক দলকে দুর্বল জানিত, তাহাদিগের পুত্র-সন্তানদিগকে বধ করিত ও তাহাদের কন্যাগণকে জীবিত রাখিত, নিশ্চয় সে উপপ্লবকারীদিগের অন্তর্গত ছিল।

আয়াতঃ ০৫⇒ যাহাদিগকে পৃথিবীতে হীনবল করা হইয়াছিল আমি তাহাদিগের সম্বন্ধে উপকার করিব ও তাহাদিগকে অগ্রণী করিব, এবং তাহাদিগকে ধরাতলে ক্ষমতা দান করিব এই ইচ্ছা করিতেছিলাম।

আয়াতঃ ০৬⇒ এবং তাহাদিগকে ধরাতলে ক্ষমতা দান করিব ও ফেরওন ও (মন্ত্রী) হামান এবং উভয়ের সেই সৈন্যদলকে যাহাদিগ হইতে তাহারা ভয় পাইতেছিল প্রদর্শন করিব (এই ইচ্ছা করিতেছিলাম)।

আয়াতঃ ০৭⇒ এবং আমি মুসার জননীর প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম যে, তুমি ইহাকে স্তন্য দান কর, অনন্তর যখন তুমি তাহার সম্বন্ধে ভয় পাইবে, তখন তুমি তাহাকে নদীতে নিক্ষেপ করিও, এবং ভয় করিও না ও দুঃখ করিও না, নিশ্চয় আমি তাহাকে তোমার নিকটে পুনঃ প্রেরণ করিব, এবং তাহাকে প্রেরিতপুরুষদিগের অন্তর্গত করিব।

আয়াতঃ ০৮⇒ অনন্তর ফেরওনের স্বগণ তাহাকে উঠাইয়া লইল যেন সে তাহাদের জন্য পরিণামে শত্রু ও শোকজনক হয়, নিশ্চয় ফেরওন ও হামান এবং তাহাদের সেনাদল দোষ করিতেছিল।

আয়াতঃ ০৯⇒ ফেরওনের স্ত্রী বলিল, (এই বালক) তোমার ও আমার নয়নের তৃপ্তিকর, ইহাকে তুমি হত্যা করিও না, সম্ভবতঃ এ আমাদের উপকার করিবে, অথবা আমরা ইহাকে পুত্ররুপে গ্রহণ করিব, এবং তাহারা (প্রকৃত অবস্থা) জানিতেছিল না।

আয়াতঃ ১০⇒ এবং মুসা-জননীর অন্তর (ধৈর্য) শূন্য হইয়া গেল, নিশ্চয় সে তাহা প্রকাশ করিতে উদ্যত ছিল, যদি আমি তাহার অন্তরে বন্ধন না রাখিতাম যে,  সে বিশ্বাসীদিগের অন্তর্গত হয়, তবে সে (প্রকাশ করিত)।

আয়াতঃ ১১⇒ এবং সে তাহার (মুসার) ভগিনীকে বলিল, “তুমি তাহার পশ্চাতে যাও,” অনন্তর দূর হইতে সে তাহাকে দেখিতেছিল, এবং তাহারা (ইহা) জানিতেছিল না।

আয়াতঃ ১২⇒ ইতিপূর্বে তাহার সম্বন্ধে আমি স্তন্যদাত্রীদিগকে নিষেধ করিয়াছিলাম, অনন্তর সে (মুসার ভহিনী) বলিল, “তোমাদের জন্য ইহার তত্ত্বাবধান করে এমন গৃহস্থের প্রতি কি তোমাদিগকে আমি পথ দেখাইব? এবং তাহারা তাহার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়।

আয়াতঃ ১৩⇒ পরে তাহাকে আমি তাহার মাতার প্রতি প্রত্যানয়ন করিলাম যেন তাহার চক্ষু শীতল হয় ও সে শোক না করে, এবং যেন জানে যে, ঈশ্বরের অঙ্গীকার সত্য, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই অগবত নহে।

আয়াতঃ ১৪⇒ এবং যখন সে আপন যৌবন-সীমায় উপস্থিত হইল ও সুগঠিত হইয়া উঠিল, তখন আমি তাহাকে জ্ঞান ও কৌশল দান করিলাম, এইরুপে আমি হিতকারীদিগকে পুরস্কার দান করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং (একদা) সে নগরে তাহার অধিবাসীদিগের অনবধানতার সময়ে প্রবেশ করিল, তখন সে তথায় দুই ব্যক্তিকে পরস্পর বিবাদ করার অবস্থায় প্রাপ্ত হইল, এই এক জন তাহার দলের, এই অন্য জন শত্রুদিগের অন্তর্গত ছিল, অনন্তর যে ব্যক্তি তাহার দলের ছিল সে, যে ব্যক্তি তাহার শত্রুপক্ষের ছিল তাহার সম্বন্ধে তাহার (মুসার) নিকটে অভিযোগ করিল, পরে মুসা তাহাকে মুষ্টি প্রহার করিল, অনন্তর তাহার সম্বন্ধে (জীবন) শেষ করিল, সে বলিল, “ইহা শয়তানের ক্রিয়ার অন্তর্গত, নিশ্চয় সে স্পষ্ট বিপথগামী শত্রু”।

আয়াতঃ ১৬⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি আপন জীবনের প্রতি অত্যাচার করিয়াছি, অনন্তর আমাকে ক্ষমা কর;” পরে তিনি তাহাকে ক্ষমা করিলেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

আয়াতঃ ১৭⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার প্রতি যে দান করিয়াছ, তদনুরোধে অনন্তর আমি কখনো অপরাধীদিগের সাহায্যকারী হইব না”।

আয়াতঃ ১৮⇒ পরে সে সভয়ে তত্ত্বানুসন্ধান করতঃ নগরে রাত্রি প্রভাত করিল, অনন্তর যে ব্যক্তি গতকল্য তাহার নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করিয়াছিল হঠাত সে (পুনর্বার) তাহাকে ডাকিতে লাগিল। মুসা তাহাকে বলিল, “নিশ্চয় তুমি স্পষ্ট বিপথগামী”।

আয়াতঃ ১৯⇒ পরিশেষে যখন সে ইচ্ছা করিল, যে ব্যক্তি তাহাদের দুই জনের শত্রু তাহাকে আক্রমণ করে, তখন সে (শত্রু) বলিল, “হে মুসা, গতকল্য যেমন তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছ তদ্রূপ কি আমাকেও হত্যা করিতে ইচ্ছা কর? তুমি পৃথিবীতে উৎপীড়ক হইবে ব্যতীত ইচ্ছা কর না, এবং তুমি ইচ্ছা করিতেছ না যে, সদ্ভাব সংস্থাপকদিগের অন্তর্গত হও”।

আয়াতঃ ২০⇒ এবং নগরের প্রান্ত হইতে এক ব্যক্তি দৌড়িয়া উপস্থিত হইল, সে বলিল, “হে মুসা, নিশ্চয় প্রধান পুরুষগণ তোমার সম্বন্ধে পরামর্শ করিতেছে যে, তোমাকে বধ করিবে, অতএব তুমি বাহিরে চলিয়া যাও, একান্তই আমি তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীদিগের অন্তর্গত”।

আয়াতঃ ২১⇒ অনন্তর সে তথা হইতে তত্ত্বানুসন্ধান করতঃ সভয়ে বহির্গত হইল, সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, অত্যাচারী দল হইতে আমাকে তুমি রক্ষা কর”।

আয়াতঃ ২২⇒ এবং যখন সে মদয়ন নগরের দিকে যাত্রা করিল তখন বলিল, “আশা করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করিবেন”।

আয়াতঃ ২৩⇒ এবং যখন সে মদয়নের জলের নিকটে উপস্থিত হইল, তখন তদুপরি একদল লোক প্রাপ্ত হইল যে, তাহারা (পশুযূথকে) জলপান করাইতেছে, সে জিজ্ঞাসা করিল, “তোমাদের কি অবস্থা? তাহারা বলিল, “যে পর্যন্ত (না) পশুপালকগণ পশুদিগকে ফিরাইয়া লইয়া যায় সে পর্যন্ত আমরা জলপান করাই না, এবং আমাদিগের পিতা মহাবৃদ্ধ”।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর সে তাহাদের অনুরোধে (তাহাদের পশুযূথকে) জলপান করাইল, তৎপর ছায়ার দিকে ফিরিয়া আসিল, পরে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমার প্রতি যাহা কিছু কল্যাণ প্রেরণ করিয়াছ, নিশ্চয় আমি তাহারই ভিক্ষুক”।

আয়াতঃ ২৫⇒ অবশেষে তাহাদের একজন সলজ্জগতিতে তাহার নিকটে উপস্থিত হইয়া বলিল, “তুমি যে আমাদের অনুরোধে জলপান করাইয়াছ, তোমাকে তাহার পুরস্কার দান করিতে নিশ্চয় আমার পিতা তোমাকে ডাকিতেছেন”। অনন্তর সে যখন তাহার (শোঅবের) নিকটে আসিল ও তাহার নিকটে বৃত্তান্ত বর্ণন করিল, তখন সে বলিল, “ভয় করিও না, তুমি অত্যাচারী দল হইতে উদ্ধার পাইয়াছ”।

আয়াতঃ ২৬⇒ কন্যাদ্বয়ের একজন বলিল, “হে আমার পিতঃ, তাহাকে তুমি ভৃত্য করিয়া রাখ, নিশ্চয় তুমি যে ব্যক্তিকে ভৃত্য নিযুক্ত করিবে, সে উত্তম বলবান বিশ্বস্ত পুরুষ”।

আয়াতঃ ২৭⇒ সে বলিল, “একান্তই আমি ইচ্ছা করি যে, আমার এই দুই কন্যার এক জনকে এই অঙ্গীকারে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিব যে, তুমি আট বৎসর আমার দাসত্ব করিবে, অনন্তর যদি তুমি দশ বৎসর পূর্ণ কর তবে তোমার নিকট হইতে (প্রচুর) হইল, এবং আমি ইচ্ছা করি না যে, তোমাকে ক্লেশ দান করি, ঈশ্বর ইচ্ছা করিলে অবশ্য তুমি আমাকে সাধুদিগের অন্তর্গত প্রাপ্ত হইবে”।

আয়াতঃ ২৮⇒ সে বলিল, “তোমার ও আমার মধ্যে এই (অঙ্গীকার) হইল, আমি এই দুই নির্দিষ্ট কালের যে কোন একটি পূর্ণ করিব, পরে আমার প্রতি অতিরিক্ত থাকিবে না, এবং আমরা যাহা বলিতেছি ঈশ্বর তৎসম্বন্ধে সহায়।

আয়াতঃ ২৯⇒ অনন্তর যখন মুসা নির্দিষ্টকাল পূর্ণ করিয়া আপন পরিজনসহ যাত্রা করিল, তখন তুর গিরির দিকে অগ্নি দর্শন করিল; সে আপন পরিজনকে বলিল, “তোমরা বিলম্ব কর, নিশ্চয় আমি অনল দর্শন করিতেছি, ভরসা করি যে, আমি তথা হইতে তোমাদের নিকটে কোন (পথিকের) সংবাদ অথবা জ্বলন্ত অগ্নিখন্ড আনয়ন করিব, হয়তো তোমরা উত্তাপ লাভ করিবে।

আয়াতঃ ৩০⇒ অনন্তর যখন সে তাহার নিকটে উপস্থিত হইল। তখন দক্ষিন প্রান্তরের দক্ষিন প্রান্ত হইতে কল্যাণযুক্ত ভূমিস্থিত বৃক্ষ হইতে ধ্বনি হইল যে, “হে মুসা, নিশ্চয় আমি বিশ্বপালক পরমেশ্বর।

আয়াতঃ ৩১⇒ এবং এই যে, তুমি আপন যষ্টি নিক্ষেপ কর;” অনন্তর যখন সে তাহাকে দেখিল যে, নড়িতেছে যেন উহা সর্প, সে পশ্চাদ্ভাগে মুখ ফিরাইল ও ফিরিল না; (আমি বলিলাম), “হে মুসা, অগ্রসর হও, ভয় করিও না, নিশ্চয় তুমি বিশ্বস্ত পুরুষদিগের অন্তর্গত।

আয়াতঃ ৩২⇒ তুমি স্বীয় হস্তকে স্বীয় গ্রীবাদেশে লইয়া যাও, উহা কলঙ্কশূণ্য শুভ্র হইয়া বাহির হইবে, এবং সঙ্কোচভাবে আপন বাহুকে তুমি নিজের দিকে (বক্ষে) সংযুক্ত কর, অনন্তর  ফেরওন ও তাহার প্রধান পুরুষদিগের নিকটে তোমার প্রতিপালকের এই দুই নিদর্শন হয়;” নিশ্চয় তাহারা দুর্বৃত্ত দল ছিল।

আয়াতঃ ৩৩⇒ সে বলিল, “হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয় আমি তাহাদের একজনকে হত্যা করিয়াছি, পরে ভয় পাইতেছি যে, আমাকে তাহারা বধ করিবে।

আয়াতঃ ৩৪⇒ এবং আমার ভ্রাতা হারুন হয়, সে বাগিন্দ্রিয় অনুসারে আমা অপেক্ষা অধিক মিষ্টভাষী, ইতেব তাহাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারীরুপে প্রেরণ কর, সে আমার সত্যতা প্রতিপাদন করিবে, নিশ্চয় আমি ভয় পাইতেছি যে, তাহারা আমার প্রতি অসত্যারোপ করিবে”।

আয়াতঃ ৩৫⇒ তিনি বলিলেন, “অবশ্য আমি তোমার বাহুকে তোমার ভ্রাতা দ্বারা দৃঢ় করিব, এবং তোমাদের দুই জনকে বিজয় দান করিব, অনন্তর তাহারা আমার নিদর্শন সকলের জন্য তোমাদের দিকে পহুঁছিতে পারিবে না, তোমরা দুই জন ও যাহারা তোমাদের অনুসরণ করিবে তাহারা বিজয়ী হইবে”।

আয়াতঃ ৩৬⇒ অবশেষে যখন মুসা আমার উজ্জ্বল নিদর্শন সকলসহ তাহাদের নিকটে উপস্থিত হইল, তখন তাহারা বলিল, “ইহা রচিত ইন্দ্রজাল ভিন্ন নহে, আমরা আপন পূর্বতন পিতৃপুরুষদিগের সময়ে ইহা শুনিতে পাই নাই”।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং মুসা বলিল, “আমার প্রতিপালক যে ব্যক্তি তাঁহার নিকট হইতে উপদেশ আনয়ন করিয়াছে এবং পারলৌকিক আলয় যাহার জন্য হইবে, তাহাকে বিশেষ জানেন, নিশ্চয় অত্যাচারী লোকেরা উদ্ধার পায় না।

আয়াতঃ ৩৮⇒ ফেরওন বলিল, “হে প্রধান পুরুষগণ, আমি জানি না যে, আমি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য আছে, অনন্তর হে হামান, মৃত্তিকার উপর আমার জন্য উদ্দীপ্ন কর, পরে আমার জন্য এক প্রাসাদ নির্মাণ কর, ভরসা যে, আমি মুসার উপাস্যের দিকে আরোহণ করিব, নিশ্চয় আমি তাহাকে মিথ্যাবাদীদিগের অন্তর্গত মনে করি”।

আয়াতঃ ৩৯⇒ এবং সে ও তাহার সেনাদল পৃথিবীতে অন্যায়রুপে অহংকার করিল ও মনে করিল যে, আমাদের দিকে ইহাদের ফিরিয়া আসা হইবে না।

আয়াতঃ ৪০⇒ অনন্তর আমি তাহাকে ও তাহার সৈন্যদলকে আক্রমণ করিলাম, পরে তাহাদিগকে নদীতে ফেলিয়া দিলাম, অবশেষে দেখ অত্যাচারীদিগের পরিণাম কেমন হইল?

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং তাহাদিগকে আমি অগ্রণী (বিপথগামী) করিয়াছিলাম, তাহারা নরকাগ্নির দিকে (লোকদিগকে) আহ্বান করিতেছিল, কেয়ামতের দিনে তাহাদিগকে সাহায্য দান করা হইবে না।

আয়াতঃ ৪২⇒ এবং এই সংসারে আমি তাহাদের পশ্চাতে অভিসম্পাত আনয়ন করিয়াছিলাম ও কেয়ামতের দিনে তাহারা নিকৃষ্টদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ৪৩⇒ এবং পূর্বতন যুগের অধিবাসীদিগকে বিনাশ করিলে পর সত্যসত্যই আমি মুসাকে গ্রন্থ দান করিয়াছি, উহা লোকদিগের জন্য প্রমাণাবলী ও উপদেশ এবং অনুগ্রহস্বরূপ হইয়াছে, ভরসা যে, তাহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ৪৪⇒ এবং যখন আমি মুসার প্রতি প্রত্যাদেশ সম্পাদন করিয়াছিলাম, তখন তুমি (হে মোহম্মদ) পশ্চিম প্রদেশে ছিলে না, এবং তুমি সাক্ষীদিগের অন্তর্গত ছিলে না।

আয়াতঃ ৪৫⇒ কিন্তু আমি (মুসার পরে) অনেক সম্প্রদায় সৃষ্টি করিয়াছি, অনন্তর তাহাদের সম্বন্ধে জীবন দীর্ঘ হইয়াছে, এবং তুমি মদয়নবাসীদিগের মধ্যে অধিবাসী ছিলে না যে, তাহাদের নিকটে আমার নিদর্শন সকল পাঠ করিতে, কিন্তু আমি (বার্তাবাহকের) প্রেরক ছিলাম।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং যখন আমি ডাকিয়াছিয়াম, তখন তুমি তুর পর্বতের দিকে ছিলে না, কিন্তু তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহক্রমে (সমাগত প্রত্যাদেশে) তোমার পূর্বে যাহাদের নিকটে কোন ভয়প্রদর্শক উপস্থিত হয় নাই তুমি সেই দলকে যেন ভয় প্রদর্শন কর, হয় তো তাহারা উপদেশ গ্রহণ করিবে।

আয়াতঃ ৪৭⇒ এবং যদি ইহা না হইত যে, তাহাদের হস্ত পূর্বে যাহা প্রেরণ করিয়াছে তজ্জন্য তাহাদের প্রতি কোন বিপদ উপস্থিত হয়, (তাহা হইলে তাহারা কোন কথা কহিত না) অবশেষে তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, কেন তুমি আমাদের নিকটে কোন প্রেরিতপুরুষ প্রেরণ কর নাই? তাহা হইলে আমরা তোমার নিদর্শন সকলের অনুসরণ করিতাম, এবং বিশ্বাসীদিগের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।

আয়াতঃ ৪৮⇒ অনন্তর যখন আমার নিকট হইতে তাহাদের প্রতি সত্য উপস্থিত হইল তখন তাহারা বলিল, “মুসাকে যাহা দেওয়া হইয়াছে, তদ্রূপ কেন (এই প্রেরিতপুরুষকে) দেওয়া হইল না?” পূর্বে যাহা মুসার প্রতি প্রদত্ত হইয়াছে তৎসম্বন্ধে কি তাহারা বিদ্রোহী হয় নাই? তাহারা বলিয়াছিল, “নিশ্চয় আমরা প্রত্যেকের সম্বন্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী”।

আয়াতঃ ৪৯⇒ তুমি বল, (হে মোহম্মদ) অনন্তর তোমরা ঈশ্বরের নিকট হইতে এমন এক গ্রন্থ উপস্থিত কর যাহা সেই দুইজন অপেক্ষা অধিকতর পথপ্রদর্শক হইবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে আমি তাহার (সেই গ্রন্থের) অনুসরণ করিব।

আয়াতঃ ৫০⇒ পরিশেষে যদি তাহারা তোমাকে গ্রাহ্য না করে তবে জানিও তাহারা আপন প্রবৃত্তি সকলের অনুসরণ করে এতদ্ভিন্ন নহে, যে ব্যক্তি ঈশ্বরের পথ প্রদর্শন ব্যতীত আপন প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাহা অপেক্ষা অধিক বিপথগামী কে আছে? নিশ্চয় পরমেশ্বর অত্যাচারী দলকে পথ প্রদর্শন করেন না।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং সত্যসত্যই তাহাদের জন্য আমি ক্রমশঃ বচন (কোরআন) উপস্থিত করিয়াছি যেন তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

আয়াতঃ ৫২⇒ ইহার (কোরআনের) পূর্বে যাহাদিগকে আমি গ্রন্থ দান করিয়াছি, তাহারা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিতেছে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং যখন তাহাদের নিকটে পাঠ হয় তাহারা বলে, আমরা ইহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিলাম, নিশ্চয় ইহা আমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে (আগত) সত্য, নিশ্চয় আমরা ইহার (অবতরণের) পূর্বেই মোসলমান ছিলাম”।

আয়াতঃ ৫৪⇒ ইহারাই যে ধৈর্য ধারন করিয়াছে ও শুভ দ্বারা অশুভকে দূর করিতেছে, এবং আমি তাহাদিগকে যে উপজীবিকা দান করিয়াছি তাহা ব্যয় করিয়া থাকে, তজ্জন্য তাহাদিগকে দুইবার পুরস্কার দেওয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৫৫⇒ এবং তাহারা যখন অনর্থ বিষয় শ্রবন করে তখন তাহা হইতে বিমুখ হয়, এবং বলে, “আমাদের জন্য আমাদের ক্রিয়া সকল এবং তোমাদের জন্য তোমাদের ক্রিয়া সকল রহিয়াছে, তোমাদের প্রতি সলাম হউক, আমরা মূর্খদিগকে চাহি না”।

আয়াতঃ ৫৬⇒ নিশ্চয় তুমি যাহাকে প্রেম করিয়া থাক, তাহাকে পথ প্রদর্শন কর না, কিন্তু ঈশ্বর যাহাকে ইচ্ছা করেন পথ প্রদর্শন করিয়া থাকেন, এবং তিনি পথপ্রাপ্তদিগকে উত্তম জ্ঞাত।

আয়াতঃ ৫৭⇒ তাহারা বলিয়াছে, “যদি আমরা তোমার সঙ্গে উপদেশের অনুসরণ করি তবে আমরা স্বস্থান হইতে ভ্রষ্ট হইব;” আমি কি তাহাদিগকে সেই শান্তিযুক্ত মক্কায় স্থান দান করি নাই, যথায় আমার নিকট হইতে সর্ববিধ ফলপুঞ্জ উপজীবিকারুপে প্রেরিত হইয়া থাকে? কিন্তু তাহাদের অধিকাংশই বুঝিতেছে না।

আয়াতঃ ৫৮⇒ এবং আপন জীবিকা বিষয়ে অমিতাচারী হইয়াছে এমন গ্রামবাসীদিগের অনেককে আমি বিনাশ করিয়াছি, পরে এই তাহাদিগের বাসস্থান, তাহাদের পরে (এ স্থানে) অল্প লোক ব্যতীত বসতি করে নাই, এবং আমি উত্তরাধিকারী হইয়াছি।

আয়াতঃ ৫৯⇒ এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) সে পর্যন্ত কোন গ্রামের বিনাশকারী হন নাই, যে পর্যন্ত (না) তিনি তাহার প্রধান নগরে তাহাদের (নগরবাসীদিগের) নিকটে আপন নিদর্শন সকল পাঠ করিতে প্রেরিতপুরুষ প্রেরণ করিয়াছেন, এবং তাহার অধিবাসীগণ অত্যাচারী হওয়ার অবস্থা ব্যতীত আমি কোন গ্রামের সংহারক হই নাই।

আয়াতঃ ৬০⇒ এবং যে কিছু বস্তু তোমাদিগকে প্রদত্ত হইয়াছে তাহা পার্থিব জীবনের ফলভোগ ও তাহারই শোভা, এবং যাহা ঈশ্বরের নিকটে উহা শুভ ও নিত্য, অনন্তর তোমরা কি বুঝিতেছ না?

আয়াতঃ ৬১⇒ অনন্তর যাহার সঙ্গে আমি উত্তম অঙ্গীকারে অঙ্গীকার করিয়াছি তাহার ন্যায় উহা লাভ করিবে? তৎপর কেয়ামতের দিনে সে সমুপস্থিত লোকদিগের অন্তর্গত হইবে।

আয়াতঃ ৬২⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিবস তাহাদিগকে তিনি ডাকিবেন, পরে বলিবেন, “তোমরা যাহাদিগকে মনে করিতেছিলে আমার সেই অংশি কোথায়”?

আয়াতঃ ৬৩⇒ যাহাদিগের প্রতি (শাস্তির) বাক্য নির্ধারিত হইয়াছে তাহারা বলিবে, “হে আমাদের প্রতিপালক, ইহারাই যাহাদিগকে আমরা বিপথগামী করিয়াছি, আপনারা যেমন পথভ্রান্ত হইয়াছি তদ্রূপ ইহাদিগকেও পথভ্রান্ত করিয়াছি, এক্ষন তোমার অভিমুখে (ইহাদিগ হইতে) বিমুখ হইতেছি, ইহারা আমাদিগকে অর্চনা করিত না।

আয়াতঃ ৬৪⇒ এবং বলা হইবে যে, “আপন অংশীদিগকে তোমরা আহ্বান কর;” অনন্তর তাহাদিগকে তাহারা ডাকিবে, পরে তাহাদিগের (আহ্বান) তাহারা গ্রাহ্য করিবে না, এবং শাস্তি দর্শন করিবে, হায়! তাহারা যদি পথপ্রাপ্ত হইত।

আয়াতঃ ৬৫⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিবস তিনি তাহাদিগকে ডাকিবেন, পরে বলিবেন, “তোমরা প্রেরিতপুরুষদিগকে কি উত্তর দান করিয়াছ”?

আয়াতঃ ৬৬⇒ অনন্তর সে দিবস তাহাদের সম্বন্ধে তত্ত্ব সকল তমসাচ্ছন্ন হইবে, পরে তাহারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করিবে না।

আয়াতঃ ৬৭⇒ অবশেষে ইহারা অনুতাপ করিয়াছে, এবং বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্ম করিয়াছে আশা যে, পরে তাহারা বিমুক্ত হইবে।

আয়াতঃ ৬৮⇒ এবং তোমার প্রতিপালক (হে মোহম্মদ) যাহা ইচ্ছা হয় সৃষ্টি করেন ও গ্রহণ করিয়া থাকেন, তাহাদের জন্য ক্ষমতা নাই; পরমেশ্বররই পবিত্রতা, এবং তাহারা যাহাকে অংশী করে তিনি তাহা অপেক্ষা উন্নত।

আয়াতঃ ৬৯⇒ এবং তোমার প্রতিপালক তাহাদের অন্তর যাহা গোপন করে ও যাহা প্রকাশ করিয়া থাকে তাহা জানেন।

আয়াতঃ ৭০⇒ এবং তিনিই পরমেশ্বর, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, ইহ-পরলোকে তাঁহারই কর্তৃত্ব ও তাঁহার দিকেই তোমরা প্রতিগমন করিবে।

আয়াতঃ ৭১⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, তোমরা কি দেখিয়াছ, যদি ঈশ্বর তোমাদের সম্বন্ধে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত রজনী স্থায়ী করেন, ঈশ্বর ব্যতীত কোন উপাস্য আছে যে, তোমাদের নিকটে জ্যোতি উপস্থিত করে? অনন্তর তোমরা কি শ্রবন কর না?

আয়াতঃ ৭২⇒ তুমি জিজ্ঞাসা কর, তোমরা কি দেখিয়াছ, যদি ঈশ্বর তোমাদের সম্বন্ধে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত দিবাকে স্থায়ী করেন, ঈশ্বর ব্যতীত কোন উপাস্য আছে যে, তোমাদের নিকটে রজনী আনয়ন করে যে, তাহাতে তোমরা বিশ্রাম লাভ করিবে? অনন্তর তোমরা কি দেখিতেছ না?

আয়াতঃ ৭৩⇒ এবং তিনি আপন কৃপানিসারে তোমাদের জন্য রজনী ও দিবা সৃজন করিয়াছেন যেন তোমরা তাহাতে বিশ্রাম কর ও যেন তাঁহার প্রসাদে জীবিকা অন্বেষণ কর, এবং সম্ভবতঃ তোমরা কৃতজ্ঞ হইবে।

আয়াতঃ ৭৪⇒ এবং (স্মরণ কর) যে দিবস তিনি তাহাদিগকে ডাকিবেন ও পরে বলিবেন, “যাহাদিগকে তোমরা মনে করিতেছিলে আমার সেই অংশীগণ কোথায়?

আয়াতঃ ৭৫⇒ এবং প্রত্যেক মণ্ডলী হইতে আমি সাক্ষী বাহির করিয়া লইব, পরে বলিল, “তোমরা স্বীয় প্রমাণ উপস্থিত কর,” অনন্তর তাহারা জানিবে যে, ঈশ্বরের পক্ষেই সত্য আছে, এবং তাহারা যাহা (যে অসত্য) কল্পনা করিতেছিল উহা তাহাদিগ হইতে বিলুপ্ত হইবে।

আয়াতঃ ৭৬⇒ নিশ্চয় কারুন মুসার সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ছিল, পরে সে তাহাদের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল, এবং তাহাকে আমি এই পরিমাণ ধনপুঞ্জ দান করিয়াছিলাম যে, তাহার কুঞ্জিকা সকল একদল বলবান লোকের ভারবহ হইত, (স্মরণ কর) যখন তাহার সম্প্রদায় তাহাকে বলিল, “তুমি আমোদ করিও না, নিশ্চয় ঈশ্বর আমোদকারীদিগকে প্রেম করেন না।

আয়াতঃ ৭৭⇒ পরমেশ্বর পারলৌকিক গৃহের যাহা তোমাকে দান করিয়াছেন তুমি তাহাতে (কল্যাণ) অন্বেষণ করিতে থাক ও সংসারের আপন অংশ তুমি ভুলিও না, এবং ঈশ্বর তোমার প্রতি যেমন হিতসাধন করিয়াছেন তুমি তদ্রূপ হিতসাধন কর ও জগতে উপপ্লব অন্বেষণ করিও না, নিশ্চয় ঈসব্র উপপ্লবকারীদিগক পেম করেন না”।

আয়াতঃ ৭৮⇒ সে বলিল, “আমার সন্নিধানে যে জ্ঞান আছে তজ্জন্য এই (ধন) আমাকে দেওয়া হইয়াছে ইহা ভিন্ন নহে”; সে কি জানে না যে, পরমেশ্বর তাহার পূর্বে অনেক দলকে যে তাহারা শক্তি অনুসারে তাহা অপেক্ষা প্রবলতর ও জনতা অনুসারে অধিকতর ছিল নিশ্চয় বিনাশ করিয়াছেন, এবং অপরাধীগণ আপন অপরাধ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হইবে না।

আয়াতঃ ৭৯⇒ অনন্তর সে আপন সজ্জাতে স্বজাতির নিকটে বাহির হইল, যাহারা পার্থিব জীবন আকাঙ্ক্ষা করিতেছিল তাহারা বলিল, “হায়! কারুনকে যাহা প্রদত্ত হইয়াছে তদ্রূপ যদি আমাদের হইত! নিশ্চয় সে মহাভাগ্যশীল”।

আয়াতঃ ৮০⇒ এবং যাহাদিগকে জ্ঞান প্রদত্ত হইয়াছে তাহারা বলিল, “তোমাদের প্রতি আক্ষেপ, যে ব্যক্তি বিশ্বাস স্থাপন ও শুভ কর্ম করিয়াছে তাহার জন্যই ঈশ্বরের উত্তম পুরস্কার হয়, এবং সহিষ্ণু লোকদিগকে ভিন্ন তাহাতে সংযোগ করা হয় না”।

আয়াতঃ ৮১⇒ অনন্তর আমি তাহাকে ও তাহার গৃহকে ভূমিতে প্রোথিত করিলাম, পরে ঈশ্বর ব্যতীত তাহার জন্য কোন দল ছিল না যে, তাহাকে সাহায্য দান করে, এবং সে প্রতিশোধকারীদিগের অন্তর্গত ছিল না।

আয়াতঃ ৮২⇒ এবং যাহারা তাহার পদ কামনা করিতেছিল, তাহারা পরদিন প্রত্যুষে (আগমন করিল) বলিতে লাগিল, “আশ্চর্য যে ঈশ্বর আপন দাসদিগের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা করেন তাহার প্রতি জীবিকা উন্মুক্ত ও সংকুচিত করিয়া থাকেন, যদি আমাদের সম্বন্ধে ঈশ্বর হইত সাধন না করিতেন, তবে নিশ্চয় তিনি আমাদিগকে প্রোথিত করিতেন, আশ্চর্য যে, ধর্মবিদ্বেষগণ উদ্ধার পাইবে না”।

আয়াতঃ ৮৩⇒ এই পারলৌকিক আলয়, যাহারা পৃথিবীতে উচ্চতা ও উপপ্লব আকাঙ্ক্ষা করে না আমি তাহাদের জন্য ইহা নির্ধারণ করিতেছি, এবং ধর্মভীরুদিগের জন্যই (শুভ) পরিণাম।

আয়াতঃ ৮৪⇒ যে ব্যক্তি শুভ আনয়ন করে পরে তাহার জন্য তদপেক্ষা অধিক মঙ্গল হয়, এবং যাহারা অশুভ আনয়ন করে, অনন্তর সেই অশুভকারীদিগকে তাহারা যাহা করিতেছিল তদনুরুপ ভিন্ন বিনিময় দেওয়া যাইবে না।

আয়াতঃ ৮৫⇒ নিশ্চয় যিনি তোমার প্রতি কোরআন নির্ধারণ করিয়াছেন, অবশ্য তিনি তোমাকে প্রত্যাবর্তন ভূমির দিকে ফিরাইয়া লইয়া যাইবেন, যে ব্যক্তি ধর্মালোকসহ আসিয়াছে ও যে জন স্পষ্ট পথভ্রান্তির মধ্যে আছে, তুমি বল, আমার প্রতিপালক তাহাদিগকে উত্তম জানেন।

আয়াতঃ ৮৬⇒ এবং তোমার প্রতিপালকের কৃপা ব্যতীত তোমার প্রতি যে গ্রন্থ অবতারিত হইবে তুমি আশা করিতেছিলে না, অনন্তর তুমি কখনো কাফেরদিগের সাহায্যকারী হইও না।

আয়াতঃ ৮৭⇒ এবং তোমার প্রতি অবতারিত হওয়ার পর ঈশ্বরের নিদর্শন সকল হইতে তোমাকে তাহারা নিবৃত্ত করিতে পারিবে না, এবং আপন প্রতিপালকের দিকে তুমি (লোকদিগকে) আহ্বান করিতে থাক ও তুমি অংশীবাদীদিগের অন্তর্গত হইও না।

আয়াতঃ ৮৮⇒ ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য উপাস্যকে কখনো ডাকিও না, তিনি ব্যতীত উপাস্য নাই, তাঁহার স্বরূপ ভিন্ন সমুদায় বস্তুই বিনশ্বর, তাঁহারই কর্তৃত্ব ও তাঁহার দিকেই তোমরা প্রতিগমন করিবে।