সূরাঃ কলম

 

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ ন, লেখনীর ও যাহা লিখিত হয় তাহার শপথ।

আয়াতঃ ০২⇒ তুমি (হে মোহম্মদ) স্বীয় প্রতিপালকের দান সম্বন্ধে ক্ষিপ্ত নও।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং নিশ্চয় তোমার জন্য অখন্ড পুরস্কার আছে।

আয়াতঃ ০৪⇒ এবং নিশ্চয় তুমি মহা চরিত্রবান।

আয়াতঃ ০৫+০৬⇒ অনন্তর তুমি অচিরে দেখিবে ও তাহারা দেখিবে যে, তোমাদের মধ্যে কাহার সঙ্কটাবস্থা হয়।

আয়াতঃ ০৭⇒ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, যে ব্যক্তি তাহার পথ হইতে হারাইয়া গিয়াছে তাহাকে উত্তম জানেন, এবং তিনি পথপ্রাপ্তদিগকে বিশেষ জানেন।

আয়াতঃ ০৮⇒ অনন্তর তুমি মিথ্যাবাদীদিগের অনুগত হইও না।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহারা ভালোবাসে যে, যদি তুমি কোমল ব্যবহার কর, তবে তাহারাও কোমল ব্যবহার করিবে।

আয়াতঃ ১০+১১+১২+১৩+১৪⇒ এবং তুমি প্রত্যেক নীচ শপথকারী নিন্দাকারী কথার ছিদ্রান্বেষণে গমনকারী কল্যাণের প্রতিরোধকারী সীমালঙ্ঘনকারী অপরাধী উদ্ধতদিগের অতঃপর জারজের, সে ধনশালী ও বহু পুত্রবান বলিয়া অনুগত হইও না।

আয়াতঃ ১৫⇒ যখন তাহার নিকটে আমার আয়াত সকল পঠিত হয় তখন সে বলে, “ইহা পূর্বতন উপাখ্যানাবলী”।

আয়াতঃ ১৬⇒ সত্বরই আমি নাসিকার উপর তাহাকে চিহ্নিত করিব।

আয়াতঃ ১৭+১৮⇒ নিশ্চয় যেরুপ উদ্যানস্বামীদিগকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম, আমি তাহাদিগকে সেরুপ পরীক্ষা করিয়াছি, (স্মরণ কর) যখন তাহারা শপথ করিয়াছিল যে, অবশ্য প্রাতঃকালে তাহা উচ্ছিন্ন করিবে, এবং “এনশায় আল্লা” (যদি ঈশ্বর ইচ্ছা করেন) বলিতেছিল না

আয়াতঃ ১৯⇒ অনন্তর তোমার প্রতিপালক হইতে এক ঘূর্ণমান বায়ু (শাস্তিবিশেষ) সেই (উদ্যানের) উপর ঘুরিয়াছিল, এবং তাহারা নিদ্রিত ছিল।

আয়াতঃ ২০⇒ পরে প্রাতঃকালে তাহা উচ্ছিন্ন হইল।

আয়াতঃ ২১⇒ অবশেষে প্রভাত হইলে তাহারা পরস্পরকে ডাকিতেছিল।

আয়াতঃ ২২⇒ “যদি তোমরা কর্তনকারী হও তবে প্রভাতে স্বীয় ক্ষেত্রে গমন কর”।

আয়াতঃ ২৩+২৪⇒ অনন্তর চলিয়া গেল ও তাহারা পরস্পর গোপনে বলিতেছিল যে, “অদ্য তোমাদের নিকটে কোন দরিদ্র তথায় প্রবেশ করিবে না”।

আয়াতঃ ২৫⇒ এবং প্রত্যূষে ক্ষমতাশালী (আপনাদিগকে মনে করতঃ) সেই সঙ্কল্পের উদ্দেশ্যে চলিল।

আয়াতঃ ২৬⇒ অনন্তর যখন তাহারা তাহা দেখিল, বলিল, “নিশ্চয় আমরা বিভ্রান্ত।

আয়াতঃ ২৭⇒ বরং আমরা বঞ্চিত”।

আয়াতঃ ২৮⇒ তাহাদের মধ্যস্থ ব্যক্তি বলিল, “আমি তোমাদিগকে কি বলি নাই যে, কেন তোমরা স্তব করিতেছ না”?

আয়াতঃ ২৯⇒ তাহারা বলিল, “আমাদের প্রতিপালকেরই পবিত্রতা, নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী হইয়াছি”।

আয়াতঃ ৩০⇒ অবশেষে তাহাদের একজন অন্যজনের নিকটে পরস্পর তিরস্কার করতঃ অগ্রসর হইল।

আয়াতঃ ৩১⇒ তাহারা বলিল, “হায়, আমাদের প্রতি আক্ষেপ, নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী হইয়াছি।

আয়াতঃ ৩২⇒ ভরসা যে, আমাদের প্রতিপালক এতদপেক্ষা উত্তম (উদ্যান) আমাদিগকে বিনিময় দান করিবেন, নিশ্চয় আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকে সমুৎসুক”।

আয়াতঃ ৩৩⇒ এই প্রকার শাস্তি; এবং নিশ্চয় পারলৌকিক শাস্তি (ইহা অপেক্ষা) গুরুতর, যদি তাহারা জানিত (ভাল ছিল)।

আয়াতঃ ৩৪⇒ নিশ্চয় ধর্মভীরু লোকদিগের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকটে সম্পদের উদ্যান সকল আছে।

আয়াতঃ ৩৫⇒ অনন্তর আমি কি মোসলমানদিগকে পাপীদিগের তুল্য করিব?

আয়াতঃ ৩৬⇒ তোমাদের কি হইয়াছে (হে কাফেরগণ) তোমরা কেমন আজ্ঞা করিতেছ?

আয়াতঃ ৩৭+৩৮⇒ তোমাদের নিকটে কি গ্রন্থ আছে, তন্মধ্যে তোমরা পাঠ করিয়া থাক? নিশ্চয় তাহাতে যাহা মনোনীত কর তাহা তোমাদের জন্য হয়।

আয়াতঃ ৩৯⇒ আমার সম্বন্ধে তোমাদের কি প্রতিজ্ঞা সকল আছে যে, কেয়ামতের দিন পর্যন্ত পহুঁছিবে? নিশ্চয় যাহা তোমরা নির্ধারণ করিয়া থাক তাহা তোমাদের জন্য হয়।

আয়াতঃ ৪০⇒ তুমি তাহাদিগকে (হে মোহম্মদ) জিজ্ঞাসা কর, তাহাদের কে এ-বিষয়ে প্রতিভূ।

আয়াতঃ ৪১⇒ তাহাদের জন্য কি অংশী সকল আছে? অনন্তর উচিত যে, যদি তাহারা সত্যবাদী হয় তবে আপনাদের অংশীদিগকে উপস্থিত করে।

আয়াতঃ ৪২⇒ যে দিবস পদ হইতে আবরণ উন্মোচন করা যাইবে ও তাহারা যে প্রণামের দিকে আহূত হইবে তখন সমর্থ হইবে না।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তাহাদের চক্ষে কাতরতা হইবে, দুর্গতি তাহাদিগকে ঘেরিয়া লইবে এবং সত্যই প্রকৃত অবস্থায় তাহারা প্রণামের দিকে আহূত হইতেছিল।

আয়াতঃ ৪৪⇒ অনন্তর আমাকে ও যাহারা এই বাক্যকে অসত্য বলে তাহাদিগকে ছাড়িয়া দাও, যে স্থান হইতে জানিতেছে না তথা হইতে সত্বরই অল্পে অল্পে আমি তাহাদিগকে টানিয়া লইব।

আয়াতঃ ৪৫⇒ এবং তাহাদিগকে অবকাশ দিব, নিশ্চয় আমার কৌশল দৃঢ়।

আয়াতঃ ৪৬⇒ তুমি কি তাহাদিগ হইতে পারিশ্রমিক চাহিতেছ? অনন্তর তাহারা গুরুতর দণ্ডার্হ।

আয়াতঃ ৪৭⇒ তাহাদের নিকটে কি গুপ্ততত্ত্ব আছে, পরে তাহারা (তাহা) লিখিয়া থাকে?

আয়াতঃ ৪৮⇒ অনন্তর তুমি স্বীয় প্রতিপালকের আজ্ঞার জন্য ধৈর্য ধারন কর, এবং মৎস্যাধিষ্ঠিত ব্যক্তির ন্যায় হইও না, যখন সে প্রার্থনা করিয়াছিল তখন বিষাদপূর্ণ ছিল।

আয়াতঃ ৪৯⇒ যদি তাহার এই জ্ঞান না থাকিত যে তাহার প্রতিপালকের কৃপা আছে তবে অবশ্য মরুভূমিতে সে নিক্ষিপ্ত হইত, এবং সে লাঞ্ছিত হইত।

আয়াতঃ ৫০⇒ অনন্তর তাহার প্রতিপালক তাহাকে গ্রহণ করিলেন, পরে তাহাকে সাধুদিগের অন্তর্গত করিয়া লইলেন।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং নিশ্চয় যে, তোমাকে স্বীয় দৃষ্টিতে পদস্ফলিত করিতে কাফেরগণ সমুদ্যত, যখন তাহারা কোরআন শ্রবণ করে বলিয়া থাকে যে, “নিশ্চয় সে ক্ষিপ্ত”।

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং উহা জগদ্বাসীদিগের জন্য উপদেশ ভিন্ন নহে।