সূরাঃ কমর

অবতীর্ণঃ মক্কা

আয়াতঃ ০১⇒ কেয়ামত নিকটবর্তী হইয়াছে ও চন্দ্রমা বিভক্ত হইয়াছে।

আয়াতঃ ০২⇒ এবং যদি তাহারা কোন নিদর্শন দর্শন করে তবে মুখ ফিরায় ও বলে (ইহা) প্রচলিত যাদু।

আয়াতঃ ০৩⇒ এবং তাহারা অসত্যারোপ করে ও স্বেচ্ছার অনুসরণ করিয়া থাকে, এবং প্রত্যেক বিষয় নির্ধারিত আছে।

আয়াতঃ ০৪+০৫⇒ এবং সত্যসত্যই (পূর্বতন) সংবাদ সকলের যন্মধ্যে যাহা নিষেধ ও উচ্চ বিজ্ঞান ছিল তাহা তাহাদের নিকটে পহুঁছিয়াছে, অনন্তর ভয়প্রদর্শন ফল প্রদান করে না।

আয়াতঃ ০৬⇒ অবশেষে তুমি (হে মোহম্মদ) তাহাদিগ হইতে বিমুখ হও, সেই দিবস আহ্বানকারী (এস্রাফিল) কোন গর্হিত বিষয়ের দিকে (তাহাদিগকে) আহ্বান করিবে।

আয়াতঃ ০৭+০৮⇒ তাহাদের চক্ষু ভয়ে বিহ্বল হইবে, তাহারা কবর সকল হইতে বাহির হইয়া আসিবে, যেন তাহারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল, আহ্বানকারীর দিকে ধাবিত, ধর্মদ্রোহীগন বলিবে, “ইহাই কঠোর দিন”।

আয়াতঃ ০৯⇒ তাহাদের পূর্বে নুহীয় সম্প্রদায় (পুনরুত্থান বিষয়ে) অসত্যারোপ করিয়াছিল, অনন্তর তাহারা আমার দাস (নুহার) প্রতি অসত্যারোপ করিয়া বলিয়াছিল, “সে ক্ষিপ্ত,” এবং তাহাকে নিবারিত করিয়াছিল।

আয়াতঃ ১০⇒ পরে সে প্রতিপালককে ডাকিয়া বলিল, “নিশ্চয় আমি পরাভূত, অতএব তুমি প্রতিফল দান কর”।

আয়াতঃ ১১⇒ অনন্তর আমি বর্ষণকারী বারিযুক্ত আকাশের দ্বার সকল উন্মুক্ত করিলাম।

আয়াতঃ ১২⇒ এবং ভূতল হইতে প্রস্রবন সকল সঞ্চারিত করিলাম, অবশেষে জল নির্ধারিত কার্য সাধনে একত্রিত হইল।

আয়াতঃ ১৩⇒ এবং তাহাকে আমি কীলক ও কাষ্ঠফলক সংযুক্ত নৌকার উপর চড়াইলাম।

আয়াতঃ ১৪⇒ যে জন কাফের হইয়াছে তাহার প্রতিফলস্বরূপ আমার চক্ষুর সম্মুখে তাহা চলিল।

আয়াতঃ ১৫⇒ এবং সত্যসত্যই আমি ইহাকে নিদর্শন করিয়াছি, অনন্তর কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ১৬⇒ অবশেষে আমার শাস্তি ও আমার ভয় প্রদর্শন কেমন ছিল?

আয়াতঃ ১৭⇒ এবং সত্যসত্যই আমি কোরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করিয়াছি, অনন্তর কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ১৮⇒ আদজাতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, অনন্তর আমার শাস্তি ও আমার ভয়প্রদর্শন কেমন হইয়াছিল?

আয়াতঃ ১৯⇒ নিশ্চয় আমি তাহাদের প্রতি স্থিরীকৃত দুর্দিনে প্রচন্ড বায়ু প্রেরন করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ২০⇒ উহা লোকদিগের প্রতি উৎপাত উপস্থিত করিল, যেন তাহারা উন্মুলিত খোর্মাতরু ছিল।

আয়াতঃ ২১⇒ অনন্তর আমার শাস্তি ও আমার ভয়প্রদর্শন কেমন ছিল?

আয়াতঃ ২২⇒ এবং সত্য-সত্যই আমি উপদেশের জন্য কোরআনকে সহজ করিয়াছি, অনন্তর কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ২৩⇒ সমুদজাতি ভয়প্রদর্শকদিগের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ২৪⇒ অনন্তর তাহারা বলিয়াছিল যে, “আমরা কি আপনাদের অন্তর্গত এক ব্যক্তির অনুসরণ করিব? নিশ্চয় আমরা তখন উন্মত্ততা ও পথভ্রান্তির মধ্যে থাকিব।

আয়াতঃ ২৫⇒ আমাদের মধ্যে কি তাহার প্রতি উপদেশ অবতারিত হইয়াছে? বরং সে মিথ্যাবাদী আত্মপ্রিয়”।

আয়াতঃ ২৬⇒ কে মিথ্যাবাদী আত্মপ্রিয়? তাহারা কল্য জানিবে।

আয়াতঃ ২৭⇒ নিশ্চয় আমি তাহাদের পরীক্ষাস্বরূপ এক উষ্ট্রীর প্রেরনকারী ছিলাম, অনন্তর (বলিলাম হে সালেহ) তুমি তাহাদিগকে প্রতীক্ষা কর ও ধৈর্য-ধারন করিতে থাক।

আয়াতঃ ২৮⇒ এবং তাহাদিগকে জ্ঞাপন কর যে, তাহাদের মধ্যে (কূপের) জল বিভাগ করা হইয়াছে, জলের প্রত্যেক (অংশ) (তাহার অধিকারীর প্রতি) উপস্থিত করা হইবে।

আয়াতঃ ২৯⇒ অনন্তর তাহারা আপন সঙ্গীকে ডাকিল, পরে আক্রমণ করিল, অবশেষে পদ ছিন্ন করিল।

আয়াতঃ ৩০⇒ অনন্তর আমার শাস্তি ও আমার ভয়প্রদর্শন কেমন ছিল?

আয়াতঃ ৩১⇒ নিশ্চয় আমি তাহাদের প্রতি একমাত্র নিনাদ প্রেরন করিয়াছিলাম, পরে (সেই ধ্বনিতে) তাহারা তৃণের ন্যায় খন্ড খন্ড হইয়াছিল।

আয়াতঃ ৩২⇒ এবং সত্যসত্যই আমি কোরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করিয়াছি, অনন্তর কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ৩৩⇒ লুতীয় সম্প্রদায় ভয়প্রদর্শকগণের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ৩৪+৩৫⇒ নিশ্চয় আমি লুতের পরিজনকে ত্যাগ করিয়া তাহাদের প্রতি প্রস্তরবৃষ্টি প্রেরন করিয়াছিলাম, তাহাদিগকে (লুতের পরিজনকে) প্রাতঃকালে আপন সন্নিধানের কৃপা দ্বারা উদ্ধার করিয়াছিলাম, যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিয়াছে তাহাকে এইরুপে আমি বিনিময় দান করিয়া থাকি।

আয়াতঃ ৩৬⇒ এবং সত্যসত্যই আমার আক্রমণ তাহাদিগকে ভয় দেখাইয়াছিল, অনন্তর ভয়প্রদর্শনের প্রতি তাহারা সন্দেহ করিয়াছিল।

আয়াতঃ ৩৭⇒ এবং সত্য-সত্যই তাহারা তাহাকে তাহার অতিথির মধ্য হইতে ডাকিয়াছিল, অনন্তর আমি তাহাদের চক্ষু বিলোপ করিয়াছিলাম, পরে (বলিয়াছিলাম) আমার শাস্তি ও আমার ভয়-প্রদর্শন আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৩৮⇒ এবং সত্যসত্যই প্রাতঃকালে স্থায়ী শাস্তি তাহাদের প্রতি উপস্থিত হইল।

আয়াতঃ ৩৯⇒ অনন্তর (আমি বলিলাম) আমার শাস্তি ও আনার ভয়প্রদর্শন আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৪০⇒ এবং সত্যসত্যই উপদেশের জন্য আমি কোরআনকে সহজ করিয়াছি, পরে কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ৪১⇒ এবং সত্যসত্যই ফেরওনের পরিজনের প্রতি ভয়প্রদর্শকগণ উপস্থিত হইয়াছিল।

আয়াতঃ ৪২⇒ তাহারা আমার সমগ্র নিদর্শনের প্রতি অসত্যারোপ করিয়াছিল, অনন্তর আমি তাহাদিগকে প্রবল পরাক্রমের আক্রমণে আক্রমণ করিয়াছিলাম।

আয়াতঃ ৪৩⇒ তোমাদের কাফেরগণ কি (হে কোরেশকুল) ইহাদিগ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ? তোমাদের জন্য ধর্মপুস্তিকা সকলে কি উদ্ধারের (বিধি) আছে?

আয়াতঃ ৪৪⇒ তাহারা কি বলিয়া থাকে যে, আমরা এক প্রতিহিংসাকারী দল?

আয়াতঃ ৪৫⇒ শীঘ্র এক দলকে পরাস্ত করা যাইবে, এবং পৃষ্ঠ ভঙ্গ করিয়া দেওয়া যাইবে।

আয়াতঃ ৪৬⇒ এবং কেয়ামত তাহাদের অঙ্গীকারভূমি এবং কেয়ামত সুকঠিন ও সুতিক্ত।

আয়াতঃ ৪৭⇒ নিশ্চয় অপরাধীগণ পথভ্রান্তি ও ঈষার মধ্যে আছে।

আয়াতঃ ৪৮⇒ (স্মরণ কর) যে দিবস অনলে তাহারা অধোমুখে আকৃষ্ট হইবে (আমি বলিব) নরকের সংস্পর্শ আস্বাদন কর।

আয়াতঃ ৪৯⇒ নিশ্চয় আমি নির্ধারিতরুপে সমুদায় বস্তু সৃজন করিয়াছি।

আয়াতঃ ৫০⇒ এবং আমার আজ্ঞা চক্ষুর পলক সদৃশ এক বার ভিন্ন নহে।

আয়াতঃ ৫১⇒ এবং সত্যসত্যই আমি তোমাদের সহধর্মী দলকে সংহার করিয়াছি, অনন্তর কোন উপদেশ গ্রহীতা কি আছে?

আয়াতঃ ৫২⇒ এবং তাহারা যাহা করিয়াছে তাহার প্রত্যেক বিষয় (কার্যলিপি) পুস্তিকায় (লিখিত) আছে।

আয়াতঃ ৫৩⇒ এবং প্রত্যেক ক্ষুদ্র ও বৃহৎ লিখিত আছে। আয়াতঃ ৫৪+৫৫⇒ নিশ্চয় ধর্মভীরুগণ জলপ্রনালী ও উদ্যান সকলের মধ্যে শক্তিমান রাজার নিকটে সত্যের বাসস্থানে থাকিবে।